চুড়ি‌ওয়ালা । পর্বসংখ্যা_০৪

 #চুড়ি‌ওয়ালা

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_০৪



[নকল/চুরি নিষিদ্ধ]


রাতে তাওশির গাঁ কাঁপিয়ে জ্বর এলো।সে অতিমাত্রায় ভয় পেয়েছিল তার সঙ্গে লজ্জায় ঐ মুহুর্তে তার চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছিল। লোকটা যখন ওকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে উপরে তুলতে লাগলো তার মনে হচ্ছিল সে বোধহয় এ জনমের তরে আর চোখ মেলে তাকাতে পারবে না।


ফার্মেসির সামনেও লোকটাকে অনেক লোকের জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল।যা তাওশির কানেও ঢুকেছে।সে কি লজ্জা কি লজ্জা! অচেনা, ভিনদেশী এক যুবক তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সমাজের লোকের তোপে পড়তে হয়েছে তাও কি-না তার জন্য।লোকটা যদিও সব সুন্দর করে মিটিয়ে নিতে পেরেছে, তাও! সে কিভাবে ঐ লোকের এমন গভীর ছোঁয়া মিটাবে।তার তো দেহ কম মনে বেশি প্রভাব ফেলেছে ঐ ছোঁয়া।যা তাওশি এখন‌ও,এত জ্বরের ঘোরেও টের পাচ্ছে। তাওশির বন্ধ চোখের কোটরে ভেসে উঠছে মিনহাজের সেই গাঢ়, অর্ন্তভেদী কৃষ্ণকায় চাহনি।যা তার নারী সত্ত্বার গহিনে বিঁধে আঁছড়ে পড়েছে সমগ্র অন্ত পুরে।


গা কাঁপানো জ্বরের ঘোরে তাওশি সকালের ঘটনা কল্পনা করছে।তার সঙ্গে অতি মাত্রায় দৈহিক উষ্ণতায় ছটফট করছে। ঠিক তখনই সে অনুভব করছে তার দেহে জুড়ে অন্যরকম ছোঁয়া যা তাকে ভীষণ অস্থির করে তুলছে।


“ উমম!"


অস্বস্তিতে তাওশি ছটফট করে উঠলো,সেই মুহূর্তে অন্ধকার ঘর আলোকিত হয়ে যায়।তাওশিও চোখ মেলে তাকাতেই যা দেখলো তা তার ভয়, লজ্জাকে আরো বাড়িয়ে দিলো কয়েকগুণ।


মুনিয়া আজ তিনদিন ধরে একা একাই কলেজে যাওয়া আসা করছে।কারণ সেদিন পানিতে পড়ার পর সে রাত থেকেই তাওশির জ্বর।সে অবশ্য একবার গিয়ে দেখে আসতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। কেননা,তার ঐ বাড়িতে ঢোকা নিষেধ। মুনিয়াও পারেনা নিজের জবানকে লাগাম দিতে।নয়তো কি যেতো না।দেখা যাবে সে গেলো অসুস্থ তাওশিকে দেখতে। কিন্তু তাকে দেখেই ঐ বদমাশ নুরুল উদ্দিন আর বদ মহিলা মলি, দু'টো বদ মিলে তাওশির বদনাম করতে আরম্ভ করলো। অতঃপর মুনিয়াও চুপ থাকতে না পেরে সেও দু'টোকে দু চারটা কটু কথা বলে দিবে। এরপর কি হবে? কি আর হবে! তার ঝাল তাওশির উপর মিটাবে।যা মুনিয়া একদম চায় না।


মুনিয়া বুঝতে পারে না,কোন মা কেন এমন হবে? কোন মা যে নিজের সন্তানের সাথে এহেন জাহেলিপনা করতে পারে তা মুনিয়া ঐ মলিকে না দেখলে বুঝতেই পারতো না। মাঝে মাঝে মুনিয়ার মনে হয় মলিও তাওশির আপন মা না। নচেৎ এমন বর্বরতা কেউ নিজ সন্তানের সাথে করে না। নুরুল উদ্দিনকে নিয়ে আর কি বলবে? সে তো সৎ বাবা। যেখানে আজকাল মেয়েরা আপন বাবার কাছেই নিরাপদ নয়, সেখানে সৎ বাবার থেকে কি আশা করা যায়?


একা বন্ধু তাওশি,আজ তিনদিন ধরে কলেজ যেতে পারছে না।তাই মুনিয়াও যায়নি। কিন্তু আজ না গেলে একেবারেই নয়।পরে এত দিনের ক্লাস নোট কোথায় থেকে জোগাড় করবে? তাওশিকেও তো দিতে হবে।সব কিছু ভেবে মনের উপর জোর চাপিয়েই আজ সে একা একা কলেজ যাওয়ার জন্য নৌকা ঘাটে এলো।সে যখন উপর থেকে নিচে নামবে তখনই পাশের বেঞ্চে বসা লুঙ্গি,টি-শার্ট পরুয়া এক সৌষ্ঠব দেহের লম্বাটে পুরুষ মৃদু স্বরে সালাম দিলো,


“ আসসালামু আলাইকুম আপু।"


মুনিয়া চমকালো।একে তো ইচ্ছার বিরুদ্ধে কলেজ যেতে হচ্ছে,তার উপর আবার সেই নৌকা ঘাটে। যেখানে সে চুবানি খেয়ে লোক সম্মুখে ভেজা বস্ত্রে পরপুরুষের কোলে চড়েছিলো।সেই বিব্রতকর জায়গায় আবার তাকে আসতে হচ্ছে,এসব ভাবনার মাঝে সে আশেপাশে তাকাতেই ভুলে গিয়েছিল। এর মধ্যেই হুট করেই কারো এহেন অভিবাদনে সে চমকেছে,ভয় পেয়েছে।

মুনিয়া জামার গলা তুলে বুকের দিকে চেয়ে তাড়াতাড়ি করে থুথু ছিটালো।এটা দেখে মিনহাজ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকলো।মুনিয়া মিনহাজকে ভালো করে চিনতে পেরেছে।


“ ওহ্, আপনি? আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।"


“ ক্যান? আমারে দেখতে কি ভয়ংকর লাগে?"


“ না না,এমন কিছু না ভাইয়া। কিন্তু....আপনি হঠাৎ করেই সালাম দিয়েছেন তো তাই আর কি !"


“ ওহ,আপনে মনে হয় অন্য মনস্ক ছিলেন!"


“ হ্যা,তা একটু। আচ্ছা কিছু বলবেন?"


মুনিয়া বেশি কথা বাড়াতে চায় না। কেন না চারদিকে কত মানুষ, এবং তারা পরিচিত মুখ। অচেনা কোন পুরুষের সঙ্গে নদী তীরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে দেখলে সমাজের লোকেরা কথা বানাতে ছাড়বে না। এমনিতেই সেদিন লোকটা সহযোগিতা করেও অনেক কথার সম্মুখিন হয়েছিল যার পূনরাবৃত্তি সে আর ঘটাতে চাচ্ছে না।মুনিয়ার মধুহীন প্রশ্নের বিপরীতে কথা বলার সাহস মিনহাজ হারিয়ে ফেলেছে।তাও সাহস করে বলার চেষ্টা করে বললো,


“ হ্যাঁ বলবো মানে...ইয়ে মানে আসলে! আসলে একটা জিনিস জিজ্ঞেস করার ছিলো!"


মিনহাজ মিনমিন করছে,সে বুঝতে পারছে না তাওশির বিষয়ে মুনিয়ার কাছে কিছু জিজ্ঞেস করা তার উচিত হবে কি-না? কিন্তু জিজ্ঞেস না করেও বা কতদিন? আজ তিনদিন ধরে সে এই নদী ঘাটে, এই বেলায় বসে থাকে। শুধু এক পলক দেখার জন্য। মিনহাজ জানে এটা উচিত হচ্ছে না। দ্বিতীয় দেখার পর থেকেই তার তাওশির প্রতি যে অনুভূতি অনুভব হচ্ছে তা অনুচিত। কিন্তু সে এটাও মনকে বোঝাতে পারছে না, যে তার এই কাজটা করা অনুচিত।তাই বারবার ছুটে আসে এখানে, অবশ্য মনকে বুঝিয়েছে।এক পলক দেখে,তার খবর নিয়েই সে ফিরে যাবে।কেন না, আকাশের চাঁদ দেখা তার জন্য অনুমতিত হলেও,সেই চাঁদকে ছোঁয়ার অনুমতি তার জন্য নেই। মিনহাজ খবর পেয়েছে,তাওশি অত্র এলাকার গন্যমান্য এক ব্যক্তির একমাত্র কন্যা,তার বাপ দাদারা এই এলাকার পরিচিত মুখ, অর্থ, বৈভবের মালকিন। সেখানে মিনহাজ কি? কিছুই না।মিনহাজের না আছে অর্থ বৈভব,আর না আছে শিক্ষার দৌড়। মিনহাজ তো এতটাই অযোগ্য যে তার একটা ছোট্ট দোকান দেওয়ার মতোও সামর্থ্য নেই।যেটা দিয়ে সে এক জায়গায় বসে ব্যাবসা করবে। বুদ্ধি হবার পর থেকেই সে অন্যের দোকানে, মেলায় মেলায় কামলা খাটছে। সেখানে সে কিভাবে তাওশির মতো রাজকন্যাকে নিয়ে ভাবার দুঃসাহস দেখাবে।


মিনহাজ কি বলতে চাইছে তা মুনিয়া প্রথমেই বুঝতে পেরেছে। তারপরও সে মিনহাজকে বলার জন্য পূনরায় তাড়া দিলো,


“ দেখুন,যা বলার তাড়াতাড়ি বলেন।আমার দেরি হচ্ছে!"


“ হুম!"


বলেও মিনহাজ চুপ রইলো।এবার মুনিয়া খানিকটা কপাল কুঁচকে ফেলে,চোখ মুখ আঁধার বানিয়ে বললো,


“ সে কেমন আছে এই সামান্য কথাই যখন জিজ্ঞেস করতে পারছেন না তাহলে বলবো দূরে থাকেন। আপনার মতো ভীতুর কাছে বান্ধবী দিবো না।আমার বান্ধবীর জন্য একজন সাহসি যোদ্ধা চাই, যে সে ওকে ঐ রাক্ষস পুরী থেকে উদ্ধার করবে। বুঝছেন? অযথা সময় নষ্ট করবেন না আমার।"


বলেই মুনিয়া মিনহাজকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। এদিকে মুনিয়ার বলা সব কথাই মিনহাজের মাথার উপর দিয়ে হাওয়ায় মিশিয়ে গেলো।সে কোনটাই বুঝলো না।


“ এই জাহান্নামের চেয়ে কি ঐ জাহান্নাম বেশি ভয়ংকর! আত্নহত্যা করলে কি আল্লাহ মাফ করবে না? এই জীবন আমার চাই না।"


বলেই অঝোরে কাঁদতে থাকলো তাওশি।

নিজের বন্ধ ঘরের অন্ধকারে এক দম্পতির ফটো বুকে চেপে ধরে নিরবে অশ্রু ঝড়াচ্ছে । জ্বরের প্রকোপ তার গা থেকে আগুন ঝড়ছে। অথচ সেবা তো দূরের কথা, ডাক্তার‌ও তার কপালে জুটছে না।এই জ্বরের মাঝে সে নিজেই উঠে কলের নল ছেঁড়ে তার নিচে বসেছিল।আজ প্রায় চার বেলা কিছু খাওয়া হয়নি। কেউ খাইয়ে দেওয়ার‌ও নেই।যারা একবার খোঁজ‌ই নেয় না সে কেমন আছে তা দেখার জন্য,তারা আবার খাইয়ে দিবে!

কথাটা ভেবেই তাওশি তাচ্ছিল্যের হাঁসি দিলো।এই তাচ্ছিল্যতা তার নিজের জীবনের প্রতি।তাকে জন্ম দেওয়া বাবা-মায়ের প্রতি। কেননা তারাই তাকে এই জীবনে এনেছে,এমন নারকীয় জীবনে ফেলে রেখে নিজেরা নিঃশব্দে চলে গিয়েছে।যাওয়ার আগে একবার বলেও যায়নি তার কি হবে?


“ কুউউউ.কুক কুক।কু উ কু উ!"


জানালার পাশ থেকে আগত সাংকেতিক শব্দ।জ্বরে লালাভ রঙ ধারণ করা অক্ষিগোলক ঘুরিয়ে সেদিকে তাকালো। শক্তি তার গায়ে একদম নেই। নড়াচড়া করতেও কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কি করার।তাকে তো নড়তে হবেই। নয়তো বাঁচবে কি করে! এই কথাটা ভেবেই তাওশি আবার‌ও নিজের প্রতি তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো।তার বাঁচার জন্য এত কিছু ভাবতে হচ্ছে।অথচ সে গত পরশুও আত্নহননের পথ ধরেছিলো।যদি না তুষার এসে পড়তো তবে কি হতো! আজ তার তিনদিন উপলক্ষে এলাকার মসজিদে মিষ্টি বিতরণ হতো।


তাওশি ফটো ফ্রেমটা টেবিলের উপর রেখে জানালা খুলে দাঁড়ালো।


“ মুনি!"


চাপা কন্ঠে ডাক দিলো। মুনিয়া পাশ থেকে মুখোমুখি হলো। করুন চাহনিতে চেয়ে বললো,


“ ইস্,তোর অবস্থা তো অনেক খারাপ রে। ডাক্তার দেখাসনি?"


তাওশি মৃদু ঠোঁট মেললো যার অর্থ মুনিয়া বুঝে নিলো।সে জানালা শিক ধরে কাছাকাছি এসে ফিসফিস করে বললো,


“ তোরে একটা কথা বলার আছে।"


তাওশি ঘরের দরজার দিকে ফিরে তাকালো।দরজা বন্ধ যদিও তারপরেও। এরপর জানালার সাথে সেঁটে এক‌ই ভাবে জিজ্ঞেস করলো,


“ কি কথা?"


“ ঐদিন তোকে যে উদ্ধার করছিলো না,ঐ লোক!"


“ কি ঐ লোক?"


তাওশির কৌতুহলি মনের প্রশ্ন,মুনিয়া কন্ঠ আরো খাদে নামিয়ে বললো,


“ ঐ লোক রোজ নৌকা ঘাটে বসে থাকে। আমার মনে হয় তোর খোঁজে!"


তাওশি ভ্রু কুঁচকে ফেললো।


“ মানে?"


“ মানে আর কি! আজ আমারে দেইখা জিজ্ঞেস করতে চাইছিলো কিন্তু আমি বুঝতে পারছি,ভয়ে জিজ্ঞেস করেনি।"


“ ধুর! হুদাই উল্টাপাল্টা ভাবিস। হয়তো এমনিতেই বসে থাকে।আমাল জন্য ক্যান থাকবো!"


“ থাকবো ক্যান তা তো জানি না।তয় থাকে তোর জন্য তা বুঝতে পারছি।"


“ তুই উল্টা বুঝছোস।"


“ হ‌,ক‌ইছে তোমারে।চোখ দেখলেই ক‌ওন যায়।ঐ লোকের চোখ কথা কয়!"


ঐ লোকের চোখ কথা কয়। বাক্যটা কিশোরী তাওশির‌ও বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে কিন্তু সেটা শুধু তার জন্য। যেহেতু মুনিয়াও বুঝতে পেরেছে তার মানে ঐ লোকের ঐ চাহনি সার্বজনীন।যা তাওশির চাই না।তাওশি তো চায় শুধু তার জন্যই ঐ চোখ কথা বলবে।যেই চোখ তাওশিকে মুগ্ধ করেছে, যেই চাহনি তাওশির ঘুম কেড়েছে,যা তাওশিকে ডুবিয়েছে, তা শুধু তাওশির জন্য‌ই বরাদ্দকৃত।অন্য কেউ দেখলে তা তাওশি মানবে না।


মুনিয়া জানালার শিকে টোকা দিয়ে তাওশির মনোযোগ ফেরালো,বললো,


“ তুই ঐ লোককে আগে থেকে চিনিস তাও?"


“ কোন লোককে?"


“ আরে যার কথা বলছি।"


“ না,তো। ক্যান জিজ্ঞেস করছিস?"


“ আমার ক্যান জানি মনে হয় তারে চেনা চেনা লাগে। কিন্তু ক‌ই দেখছি তা বুঝতে পারছি না।"


“ মেলায় আসছে হেয়, চুড়িওয়ালা।তোর সেই চুড়ির দোকানের চুড়িওয়ালা!"


“এ্যা। কোন দোকানের চুড়ি‌ওয়ালা?"


মুনিয়া মাথা চুলকে মনে করার প্রয়াস করছে,তাওশি আগের মতোই নিশ্চল কন্ঠে বললো,


“মেলার প্রথম দিন যেই দোকানের পোলার লগে ঝগড়া করছিস সে সেই দোকানের চুড়ি‌ওয়ালা।"


“ এ্যা কি কস! সত্যিই?"


“ হুম।এই বার মেলায় চুড়ির দোকান একটাই বসছে। সবচেয়ে বড় দোকান।সব রকমের রেশমি চুড়ি পাওন যায়।"


“ তুই কেমনে জানলি এত খবর?"


“ সেদিন যখন সবাই তারে জেরা করতাছিলো তহন সে এগুলা ক‌ইছে।আমিও শুনছিলাম।"


“ ওরে আল্লাহ,মাইয়া তক মনোযোগ দিয়া সেই ভীনদেশি বাবুর কথা শুনছে।সব মুখস্থ হয়ে গেছে।"


“ মুনি চল মেলায় যাই, গিয়া তারে একটা ধন্যবাদ দিয়া আসি। আশেপাশে কত মানুষ ছিলো। কিন্তু কেউ ঐভাবে ঝাঁপাইয়া পড়ে নাই। মানুষটা নতুন হয়েও কত দরদ।"


“ আইচ্ছা।আগে সুস্থ হ।"


“ না,আইজকা যাই চল।

__ মনে হ‌ইতাছে তারে দেখলেই আমি সুস্থ হয়ে যামু। নয়তো এই দহন কমার নয়।"


“ কিন্তু তুই যাবি কেমনে? তোর ঐ দজ্জাল মা আর বদমাইশ বাপে যাইতে দিবো?"


“ তুষার আছে না!"


এই কথা শুনে মুনিয়া দুষ্টু হাসি দিয়ে বললো,


“ আরে বাহ্! সখির যৌবন গাঙ্গে জোয়ার আসছে,ভীনদেশি চুড়িওয়ালা মাঝি তাতেই নৌকা বাইছে!"


“ যা তো উল্টাপাল্টা বকিস না।এমন কিছু না।আমি খালি শুকরিয়া আদায় ক‌‌ইরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখামু।মানুষটা সেদিন শুধু জান‌‌ই না, ইজ্জত‌ও বাচাইছে নিজের বসন নিয়ে।"


“ বিনিময়ে আমার সখির মনটা নিয়া গ্যাছে!"


“ এমন কিছু না।"


“ বেলা পড়ুক,মেলার মাঝখানে যখন রাধাকৃষ্ণের রাশলীলা দেখুম তখন কমু কেমন কিছু!"


“ মুনি, আল্লাহ আল্লাহ কর যেন লোকটা ভালো হয়!"


“ কি জানি।আমার কাছে কেমন বলদা কিসিমের লাগে।"


“ বলদাই ভালো।বেশি চালাক হ‌ওয়া ঠিক না।"


" এই ডিজাইনের লাল রঙের হবে?"


এক মুঠ চুড়ি হাতে নিয়ে এক মেয়ে মিনহাজের কাছে জিজ্ঞেস করছে।সেই চুড়ির দিকে তাকিয়ে কীয়ৎকাল কিছু একটা ভেবে বললো,


“ না আপা।এইটা এক তিনটা রঙ'ই আছে।আপনি এই লালটা নেন।এটাও সুন্দর!"


বলেই সে অন্য নকশার এক মুঠ চুড়ি বের করলো। এদিকে ওস্তাদের এমন কান্ডে তারেক নিচের ঠোঁট উল্টে ভ্রু নাকে নামিয়ে চেয়ে আছে।এক পলক মিনহাজের পায়ের কাছে থাকা ঝুঁড়ির দিকেও চাইলো।লাল রঙের এক মুঠ চুড়ি সুন্দর করে পড়ে রয়েছে, অথচ ওস্তাদ নিদারুণ মিথ্যা বলে দিলো।কেন?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ