#এক_আধেলা_দুঃখের_ভেলা
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৬
মাসটা জুন, আবহাওয়া মিক্সড। এই বৃষ্টি এই রোদ। ভ্যাঁপসা গরমে মানবজীবন অতিষ্ঠ। সবচেয়ে কষ্ট হয় পথবাসীদের। অর্থাৎ যারা গৃহহীন, উদ্বাস্তু। ফুলার রোডের মাথায় কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাস্তার অপরপাশে থাকা তেমনি একটি পরিবারকে দেখছে দুরন্ত। মূলত অপেক্ষায় রয়েছে, একজন ফ্রেন্ড আসবে তার।
পথের ঐধারে থাকা ভাসমান পরিবারের বোধহয় চারজন সদস্য। স্বামী, স্ত্রী ও দু'টো বাচ্চা। স্ত্রী নারীটি ছোট বাচ্চাটিকে খাইয়ে দিচ্ছে। আর পুরুষ লোকটা নিজের পাত থেকে তুলে স্ত্রীকে খাইয়ে দিচ্ছে। পাশেই বড় বাচ্চাটি খেলায় মশগুল। চমৎকার না! কি মনোমুগ্ধকর একটি দৃশ্য। একটি প্রকৃত সুখী পরিবারের দৃশ্য। দুরন্ত অনুভব করতে চাইছে ওদের সুখের পরিমাণটুকু। থাকার জন্য ঘর নেই। মাথার উপর ছাদ নেই, চারপাশে মজবুত দেওয়াল নেই। নিশ্চিত খাবারের ব্যবস্থা নেই, নেই চিকিৎসা, বস্ত্রের সুনিশ্চয়তা। অথচ তাও তারা কত সুখে আছে। দুরন্তের চোখ আটকাল নারীটির চোখের দিকে। লজ্জায় ডোবা চোখ জোড়া নামিয়ে স্বামীর মুখের সামনে ধরে রাখা লোকমাগুলো একের পর মুখে পুড়ছে, পাশাপাশি নিজেও ছেলের গালে ঠুসে দিচ্ছে। লোকটা নিজে এক লোকমা গালে তুলে পরের লোকমা সুন্দর করে সাজায় বউকে দেওয়ার জন্য।
বসেছে পেভার ব্লকের তৈরি ফুটের উপর পেপার মেলে। পাশেই তাদের ছোট্ট কুটির খানা। মোটা পলিথিনের ছাঁদ, চারদিকে পলিথিন, বস্তা, কাপড় দিয়ে দেওয়াল তৈরি। পাশেই এলোমেলো নোংরা কিছু হাঁড়িপাতিল, তার পাশেই ইট দিয়ে বানানো চুলা, তার পাশে অবশিষ্ট লাড়কির আঁটি। চারদিক ইট, সুড়কি, পেভার ব্লকের খন্ডিত অংশ, নানারকম কাগজের টুকরা, সিগারেটের ফিল্টার সহ কত কি! এত নোংরা পরিবেশেও কি মজা করে খেয়ে যাচ্ছে। না কোন চিন্তা না কোন ভাবনা।
দুরন্ত চেয়েই রইল, নারীটির দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে তার চোখে ভাসল প্রত্যাশার মুখটা। প্রত্যাশাও তার হাতে খাওয়ার জন্য নানা টালবাহানা করতো। কখনো না খেয়ে থাকার অভিনয়, কখনো হুমকি আবার কখন....
_ কি দেখছিস?
দুরন্তের ভাবনার মধ্যেই ঢুকে পড়ল তার বন্ধু আফনান। দুরন্ত কাঁধে আওয়াজ তুলে ফাঁকা চাপড় মেরে প্রশ্নটি করে। দুরন্ত ভাবনার লেশ কাটিয়ে আফনানের দিকে ফিরে ছোট করে উত্তর দেয়,
_ কিছু না। তোর এত দেরি হল যে!
_ ঐ, অফিস থেকে বের হতেই বসের সাথে দেখা হল। আর কি? দাড়িয়ে সম্মান দেখাতে গিয়েই ফেঁসে যাই।
_ ওহ্!
_ তোর রেজাল্টের খবর?
_ কিসের রেজাল্ট?
আফনানের প্রশ্নের উত্তরে দুরন্তের উল্টো প্রশ্ন। আফনান বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থাকল কয়েক মুহূর্ত অতঃপর হতাশ সুরে বলল,
_ আজকে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের নিয়োগ পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়ার কথা? তুই পরীক্ষা দিয়েছিলি না?
_ ওহ্, ঐটা! হ্যাঁ দিয়েছে!
_ তো? বললি যে কোন পরীক্ষা!
_ কত পরীক্ষা দেই, কোনটার কথা জিজ্ঞেস করছিস সেটাই, যা... বাদ দে, চল।
_ সিরিয়াস হবি কবে তুই? তোর এই ডোন্ট কেয়ার এটিটিউডের জন্যেই প্রত্যাশাকে হারিয়েছিস! এবার অন্তত শুধরে যা!
_ শুধরে গেলে কি ওকে ফিরে পাব?
আফনান নিশ্চুপ হয়ে গেল, হতাশ হয়ে তাকিয়ে রইল। দুরন্তই বলল পরের কথাটুকু,
_ ওকে ফিরে পাওয়ার জিরো পার্সেন্ট চান্স থাকলেও আমি শুধরাব। তবে আমি নিজেও চাই না ও ফিরে আসুক।
_ তুই পাগল হয়ে যাচ্ছিস, কি বলিস, কি করিস নিজেই ঠাওর করতে পারছিস না। চোখে মুখে স্পষ্ট বিরহ, প্রত্যাশার শূন্যতায় বুক খা খা করছে তার ফুটে থাকে। অথচ মুখে বলিস প্রত্যাশা ফিরুক চাস না! আর ইউ কিডিং উইথ ইয়োর লাইফ?
_ নো বাডি।
এইটুকু আফনানের চোখে চোখ রেখে বলে মাথাটা নুইয়ে ট্রাউজারের পকেটে হাত ঢুকিয়ে পায়ের স্যান্ডেলের দিকে তাকিয়ে সেই স্যান্ডেল দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে দৃষ্টি উপরে তুলে বলতে লাগল,
_ প্রত্যাশা, আমার কাছে ভালো ছিল না দোস্ত। ও আমাকে..... আমার মতো মানুষ ওকে ডিজার্ভ করে না। ও আমার বউ হয়ে আমার ঘরে আসার পর একদিনও মানসিক শান্তি পায়নি। ওর মতো প্রখর আত্নসম্মান বোধ সম্পন্ন মেয়ে প্রতিনিয়ত অপমানিত হয়েছে। ওর প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা আমি ওকে দিতে পারিনি, ব্যর্থ হয়েছি ওকে ভালো রাখতে। সুতরাং, চলে যখন গেছে আর ফিরে না আসাই ভালো, তাছাড়া সেই সুযোগও তো নেই। সো, এসব ভেবে লাভ কি?
শেষ করেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
আফনান অসহায় চোখে সুদর্শন পরিচ্ছন্ন এই যুবকের চাপা যন্ত্রণা দেখছে। মনে মনে ভাবল, ‘ আচ্ছা, ওর মা এখন সুখি? একমাত্র ছেলের এহেন বেহাল দশায় তিনি আনন্দ পাচ্ছেন? কেমন মা তিনি যিনি নিজের একমাত্র সন্তানের সুখকে এভাবে ধ্বংস করে দিল?'
_ চল, আগাই।
বলেই দুরন্ত পায়ের সামনের পড়ে থাকা একটা প্লাস্টিকের বোতলকে লাথি মেরে রোডের পাশে, মুসলিম হলের দেওয়ালের দিকে পাঠাল। ওর গতিবিধি গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আফনান বলল,
_ দোস্ত, তুই কিছু দিনের জন্য আউট অফ সিটি হয়ে যা। দরকার পড়লে আউট অফ কান্ট্রি!
দুরন্ত কয়েক কদম এগিয়ে গিয়েছিল, বন্ধুর কথায় দাঁড়িয়ে পড়ল। ঘাড়টা হালকা কাত করে পিছনে ঘুরিয়ে হেলে তাকায়। ওর চুলগুলো কপাল হয়ে ঝরঝর করে চোখে ঢেকে দিল। আফনান সেই বিষয়টি লক্ষ্য করে ধীর পায়ে হেঁটে দুরন্তের কাঁধে হাত রেখে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে পা এগুতেই দুরন্ত আফনানের কদমে কদম মিলিয়ে হাঁটতে আরম্ভ করল। আফনান বলল,
_ বাবরি চুলে তোকে দারুণ মানাচ্ছে। দেবদাস চরিত্রের জন্য পারফেক্ট। তবে একটু খানি ঘাটতি আছে। দেবদা পারুর শোকে গৃহ ত্যাগী হয়েছিল, তুই বাড়ি ত্যাগী হ, তবে মাগীবাজ হোস না। যদিও আমি যতটুকু জানি, মানে ধারণা করছি, তোর চন্দ্রাবতী তোর ঘরেই রয়েছে।
_ মানে?
_ মানে, তুইও বুঝিস, আমিও! তোর বিয়ের পর তোদের বাড়িতে যতবার গিয়েছি ততবার খেয়াল করেছি, তোর ঐ কাজিন মেয়েটা কি যেন নাম?
_ নীহারিকা খাতুন!
_ হ্যাঁ, নীহারিকা। আমি খেয়াল করেছি, আন্টি ওকে খুব কদর করে। বলা বাহুল্য, উনি ওকে চোখে হারায়। সবচেয়ে বেশি যেই বিষয়টি চোখে বিধেছে আমার, তা হল প্রত্যাশাকে তাচ্ছিল্য করার সময় ঐ মেয়ের চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠে। ঘরের বউকে অন্য বাইরের মেয়েদের সামনে ওরকম ভাবে কথা শোনানো এবং তাতে সেই মেয়ের খুশি হয়ে যাওয়া! আমার বিষয়টা ভাবতেই খুব খারাপ লাগছে! প্রত্যাশা, যার সামনে স্বয়ং ভিপি পর্যন্ত নরম গলায় কথা বলত, যে কাউকে তোয়াজ করে চলে না, যেই মেয়েটাকে ডিপার্টমেন্টের সব শিক্ষকরা স্নেহ করে, সেই মেয়েটি ওরকম চুপচাপ শ্বাশুড়ির হীন কথা সহ্য করে যাচ্ছিল! বিশ্বাস কর, তোর সংসার যে দেড় বছর সরাসরি টিকেছিল তাই আমার কাছে অনেক মনে হচ্ছে এখন। তবে আমি আশা করেছিলাম ও তোকে নিয়ে আলাদা সংসার করতে চাইবে। হয়তোবা তুই ওকে নিয়ে আলাদ কোথাও.... কিন্তু তুই এটা কি করলি? একেবারেই বিচ্ছেদ টানবি, এটা আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।
আফনান কথা শেষ করে তাকালো দুরন্তের মুখপানে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ছেলেটার গা ভেঙ্গে পড়েছে। মুখটা চিমসে গেছে। চোখগুলো গর্তে ঢুকে গেছে। এত যন্ত্রনা দিচ্ছে নিজেকে, এত কষ্ট বয়ে যাচ্ছে! শুধু মা'কে কিছু বলতে না পারার আক্ষেপ থেকে!
আফনান কথার প্রসঙ্গ বদলে নিল, এসব নিয়ে আলোচনা করলে ছেলেটার মানসিক অবস্থা আরো বিগড়ে যায়। কিন্তু বলেও পারে না। এই যে এখন না চাইলেও বলতে বাধ্য হচ্ছে। মাত্রই তো দেখে এলো প্রত্যাশা পলাশী, বাজারের উপর ফ্লোরে একটি ফাস্টফুডের দোকানে বসে এক যুবকের সঙ্গে কিছু নিয়ে কথা বলছে।
_ আপাতত তো কোন পরীক্ষা নেই, তাই বলছিলাম কিছুদিন ঘুরে আয়। এসব দেখে দূর থাকলে একটু শান্তি পাবি। যা হয়ে গেছে তা তো গেছেই, এখন নিজেকে কষ্ট দেওয়ার তো অর্থ নেই, তাই না।
_ হুম, যাবো। ভাবছি!
_ কি? কোথায় যাওয়ার কথা ভাবছিস?
_ ভাবছি, দেশের বাইরে সেটেল হবো। দেখি, সরকারি, বিসিএস ...আর কত? অনেক তো চেষ্টা করলাম, নাও আ'ম টায়ার্ড।
_ আন্টি, আংকেলের সঙ্গে এই নিয়ে...
_ সব গুছিয়ে তারপর বলব। এভাবে বললে, যেতে দিবে না। তাছাড়াও আমি চাইও না তাদের কিছু জানাতে। হুট করেই জানাব।
_ যা করিস কর, কিন্তু নিজের ক্ষতি করিস না।
_ হুহ্
দুপুর দুইটা....
নীলক্ষেত, গাউছুল আজম মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একটি ভাতের হোটেল। স্বল্প মূল্যে ভাত বিক্রির জন্য বিখ্যাত এই হোটেলের নাম, মামা হোটেল। ঢাবি সহ নীলক্ষেত এলাকার আশেপাশের নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী থেকে শুরু করে অত্র এলাকার অন্যান্য সাধারন পেশা, কর্মজীবী, ভাসমান মানুষের কাছে অতি পরিচিত এই ঐতিহাসিক হোটেলটি অত্যন্ত মজাদার ও স্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করে তাও খুবই কম দামে। তাদের বিশেষত্ব আইটেমের মধ্যে অন্যতম আইটেম গুলো হচ্ছে কাঁচা পেঁয়াজ ও শুকনো মরিচের ভাজা গুঁড়ো, সরিষার তেল দিয়ে বানানো ভর্তা যা থাকে না লিমিটেড, ডাল আলুর মিক্সড ভর্তা, টাকি, লইট্টা মাছের ভর্তা, গোরুর মগজ ভুনা, হাসের মাংস, গোরুর মাংস, মুরগির গিলা কলিজা ভুনা, মুরগির মাংস ভুনা, রুই বোয়াল সহ দেশীয় সব ধরনের মাছ ভাজা ও ভুনা, সবজি তরকারি, পাতলা ডাল।
প্রচন্ড ভীর জমে থাকা এই হোটেলটি বন্ধু বান্ধব নিয়ে হইহুল্লোর করতে করতে খাওয়ার জন্য অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় জায়গা। স্বল্প খরচে ভালো পরিবেশে আনন্দ করতে করতে ভালো খাওয়া যায় বলেই সকাল, দুপুর, বিকাল, রাত সব ধরনের মানুষ ছুটে যায় সেখানে।
দুরন্তের ইচ্ছে না থাকলেও আফনানের জোরাজুরিতে আজ এখানে আসতে বাধ্য হয়েছে দুরন্ত। আগে একবার মাত্র আসা হয়েছিল। তাও অবশ্য প্রত্যাশার কারণে। মেয়েটা পথেঘাটে যেখানে যা পেতে তাই পরম আনন্দে চেটেপুটে খেত। কোন বাছবিচার নেই মেয়েটির মধ্যে। তবে দুরন্তের আছে। দুরন্ত ছোট থেকেই বড় হয়েছে মায়ের কড়া নিষেধাজ্ঞার মধ্যে। ঐ নিষেধাজ্ঞা টপকে কেবল প্রেম টুকুই করার দুঃসাহস দেখিয়েছিল। এর বাইরে আর কিছু করার দুঃসাহস দুরন্তের হয়নি। প্রত্যাশার সাথে সেদিন এখান থেকে খেয়ে বাসায় গিয়েছিল বলে রাতে দুপুরে মা বাবার সাথে খেতে পারেনি। মা যখন জোর করে কারণ জিজ্ঞাসা করল, দুরন্ত ভীষণ আনন্দের সঙ্গে বলেছিল,
_ আম্মা, আজকে চমৎকার একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে।
_ তাই? কি সেটা?
_ আগে বল, রিএ্যাক্ট করবে না!
_ তুমি বল, তারপর বুঝে দেখব।
আম্মার জেদের কাছে দুরন্তের জেদ বরাবরই ঠুনকো। কোন কালেই টেকেনি। এবারও টিকল না।
_ মামার হোটেল ভাত খেয়েছি। এত এত মানুষের মধ্যে এবার প্রথম এভাবে খেয়েছি, আম্মা এত ক্রাউড ছিল, কি বলব? ওদের কলিজা ভুনাটা জাস্ট মুখে লেখে থাকার মতো, তার মধ্যে কি দিয়ে ছিল জান, মরিচ পেঁয়াজের ভর্তা। ঐটা দিয়েই আমি এক প্লেট সাভার করে ফেলছি।
ছেলের চোখের উচ্ছ্বাস এড়িয়ে গিয়ে দুরদানা সিদ্দিকী জিজ্ঞেস করলেন।
_ ঐ মেয়েটার সাথে গিয়েছিল?
দুরন্তের মুখটা চুপসে গেল। জিজ্ঞেস করল,
_ কোন মেয়েটা?
_ বেয়ারা মেয়েটা!
_ আম্মা, এভাবে বল না। প্রত্যাশা...
_ আই ডোন্ট নিড এনি এক্সপ্লেইনেশন।
আজকে খেয়েছ, অভিজ্ঞতা হয়েছে! ব্যস্! আজকের পর ঐসব জায়গায় যাবে না। তুমি ভাসমান নও, না তুমি উদ্বাস্তু, না তোমার বাবা মা তোমাকে এই শহরে একা ফেলে নিজেরা গ্রামে অট্টালিকায় রাজ জীবনযাপন করছে। ওসব ভাতের হোটেল ভাসমান, সস্তায় খাবার পেলে দু'টো পয়সা বাঁচবে, এবং তা দিয়ে অনেক উপকার হবে এমন মানুষদের জন্য। তোমার ঘরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে, অন্তত পাঁচ পদ রান্না হয়, তোমার বাবা, আমি অপেক্ষায় থাকি। আশাকরি তুমি আমাদের সামনে থেকে ভাতের প্লেট ঠেলে উঠতে বাধ্য করবে না। তুমি আমাদের একমাত্র সন্তান, তোমাকে সামনে বসিয়ে খাওয়া দেখতেও আমাদের শান্তি, সুখ সুখ লাগে। এই অসহায়, বৃদ্ধ মা বাবার শেষ বয়সের সুখটুকু তুমি কারো বেয়ারাপনায় ভাসিয়ে দিও না। দরকার হলে তাকেও এই বাড়ি খাবার খাওয়াও তাও তুমি এদিকে ওদিকে যাবে না খাবার সময়ে।
মায়ের শাসন, আবেগের তালে তাল মিলিয়ে দুরন্ত বলেছিল,
_ ওকে আম্মা। আর কোনদিন এদিকে ওদিকে খাব না।
_ এই টেবিলেই বসি আমরা।
পাশের টেবিলের চেয়ার টানতে টানতে কথাটা কেউ বলল। সেই কণ্ঠস্বর কানে যেতেই দুর্দান্ত নিজের চেয়ারের পিছনে তাকাল। থমকাল তার দৃষ্টি।






0 মন্তব্যসমূহ