#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১১৯
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
নাফিস ওয়াসীত্ব গাজী, আপাতত এইচএসসি ফলাফল প্রত্যাশী। ছুটিকালীন সময়ে বড় ভাইয়ের বিয়েটা উপভোগ করছে।তার জন্যই বিয়েটা এত তাড়াতাড়ি আয়োজিত করলো দুই পরিবার।কারণ সামনে ভর্তি পরীক্ষা এবং তার সুযোগ যেকোন জায়গায় হতে পারে। আর্মির জন্য সে নিজেকে বারবার ঝালাই করছে।তবে এখন এই কয়দিন শুধুই পরিবারের, বাকী সব অন্যদিকে।
এদিকে আফিয়া, নাসিফের মনটা নাবীহার চেয়েও বেশি খারাপ কারণ বড় ছেলের বিয়েতে বড় জামাইয়ের অনুপস্থিতি।মু'য়ায কথা বলার সময়ে তার দুঃখ ভারাক্রান্ত আভাস লুকাতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু মজার বিষয় তার বউয়ের চেয়েও বেশি মন খারাপ তার শ্বশুর বাবা আর শ্বাশুড়ি মায়ের। বারবার ফোন করে নিজেদের মন খারাপকে ডাকতে মু'য়াযকে শান্তনা দিচ্ছে। প্রথমে প্রথমে মু'য়ায বিয়ষটিতে বিব্রত হলেও এখন বেশ মজা পাচ্ছে তার সঙ্গে খুব অনুভব করছে তার প্রতি তার শ্বশুর শ্বাশুড়ির টান।যেটাকে বলে অত্যাধিক পরিমাণ।
“ নাফিস!"
বলেই ডাক দিলো নাফিসের (তাইফের) ব্যাচমেট। বলাবাহুল্য পরিবারের বাইরে সে সবার কাছে নাফিস ওয়াসীত্ব গাজী। পরিবারের মধ্যে এবং সন্নিকাটাত্নীয় বর্গের কাছে তার পরিচয় নাফিস ওয়াসীত্ব গাজী বলেই।মাদ্রাসা,স্কুল,কলেজ সব জায়গাতেই তাকে নাফিস বলে চিনে।
বড় বোনের বিয়ের সময় বোনদের পর্দার নিরাপত্তার জন্য সে নিজের বন্ধু মহলের কাউকে খুব একটা দাওয়াত করেনি।যারা এসেছিল তারা সকলে শুধু মেইন ভ্যেনুর ডাইনিং এড়িয়া অবধিই ছিল।তবে এবার তাদের প্রবেশাধিকার বাড়ির ছাদ অবধি হয়েছে যেহেতু হলুদ প্রোগ্রাম হচ্ছে।আর মেয়েদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া ভাইয়াকে হলুদ লাগিয়ে চুপচাপ নিচে চলে যাওয়া,নয়তো তাদের জন্য নির্ধারিত এড়িয়ায় গিয়ে আনন্দ করা।
বাড়ির মেইন গেইটের ভেতরের দিকে দাঁড়িয়ে খুলে যাওয়া মরিচ বাতির তার'টা ঠিক করছিল লোকদের দিয়ে তখনই তার বন্ধু জুনায়েদ সদর দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই তাকে ডাক দিলো।নাফিস ওরফে তাইফ হাস্যোজ্জ্বল মুখে এগিয়ে বুকে বুক লাগিয়ে মোসাবাহ করলো, অতঃপর ঠোঁটে হাসি বজায় রেখে শুধালো,
“ কোন সমস্যা হয়েছিল আসতে?"
“ আলহামদুলিল্লাহ, একেবারেই না। ভাইয়া কোথায়?"
“ ছাদে আছে,এখন মেয়েরা হলুদ লাগাবে অতঃপর আমরা ছেলেরা যাবো।"
“ তোদের বাড়িটা তো অনেক সুন্দর করে সাজিয়েছে আজ!"
“ হ্যা,বুবুনের পছন্দে সবটা হয়েছে।"
“ ওহ,দ্যাটস হুয়াই ইটস লুকস ভেরি বিউটিফুল এন্ড
শাইনি!"
“ শুকরান, জাযাকাল্লাহ্ খাইরন।"
“ সেইম টু ইয়্যু!"
“ ওহ,প্লিজ ইয়্যু সুড কাম ইন সাইড এন্ড অবিয়াসলি মিট মাই প্যারেন্ট!"
“ ইয়াহ,প্লিজ লেট ডু দিস।"
“ আপনি এটাকে ভালো করে আঁটকে দিন যাতে সেকেন্ড টাইম না খুলে পড়ে, গেস্ট আসছে। অনেকের সাথেই বাচ্চা থাকবে! আশাকরি বুঝতে পারছেন বিষয়টা!"
“ জ্বী ভাইয়া!"
আলোকসজ্জায় কাজ করা ছেলেটাকে উক্ত কথাগুলো বলেই তাইফ নিজের বন্ধুকে নিয়ে ভেতর দিকে গেল।
“ শুনেন আপনার উচিত ছিল উপরে গিয়ে বাচ্চাদের ইন্সট্রাকশন দেওয়া, ওরা কি এগুলো বোঝে? কখনো করেছে?"
“ সমস্যা নেই ভাবী,আমি যাচ্ছি।
_ ওহ ভাইয়া, তুমি একবার ময়রাকে ফোন দাও।সকাল সকাল মিষ্টি এনে যেন দরজায় দাঁড়িয়ে না থাকে, মিষ্টি আসবে দুপুরের খাবার আগে আগে অবশ্যই গরম গরম!"
“ হ্যাঁ হ্যাঁ বলে দিয়েছি বাবা, কতবার এক কথা বলাও তোমরা!"
পাঞ্জাবির পকেটে হাত ঢুকিয়ে বিরক্তি নিংড়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল দরজা পেরিয়ে।আফিয়া ভ্রু কুঁচকে ননদের দিকে চেয়ে বললো,
“ আশ্চর্য,কাজের কথা বললেই ছ্যাত ছ্যাত করে উঠে তোমার ভাই। মানে সে হচ্ছে অর্ডার দিয়ে বসে থাকবে, এরপর কি আসলো না আসলো তা দেখার দরকার নেই তার!"
“ বাদ দেও,মন খারাপ।বড় জামাই আসছে না,আবার মেয়েটাকেও নিয়ে যাবে শোনার পর থেকেই এমন মুখ মরা হয়ে ঘুরছে।"
এই কথাটায় আফিয়ার মুখেও আষাঢ় ঘনিয়ে আঁধার নেমে আসলো। মেয়েদের দূরে দিবে না বলেই তো প্রবাসে উচ্চ পর্যায়ের কত কত ভালো প্রস্তাব নাকোচ করেছে তারা।অথচ এখন কি-না মেয়েটা সেই দূরেই থাকবে!
________________________________________________
“ বাবা!"
নাসিফ দরজার পাশেই বানানো সাময়িক প্যান্ডেলের বেঞ্চিতে বসে ফোনে কথা বলছে,তখনই তাইফ পিছন থেকে ডাক দিয়ে বাবার মনোযোগ নিজের তরফ নিয়ে বন্ধুকে সামনে দাঁড় করিয়ে বললো,
“ বাবা ও জুনায়েদ কিবরিয়া, আমার বন্ধু!"
“ আসসালামু আলাইকুম আংকেল!"
খুবই আদবের সহিত হাত উঁচিয়ে নাক বরাবর এনে ইশারায় ইঙ্গিত করে শব্দ তুলেই বললো।নাসিফ ফোনের ঐ পাশে থাকা ব্যক্তির কথায় কান সজাগ রেখে ইশারায় মুখ নাচিয়ে প্রত্যুত্তরে বললো,
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম বাবা।"
এতটুকু বলেই জুনায়েদের কাঁধে নিজের এক হাত রেখে ফোনের কথোপকথন চালিয়ে গেল।তাইফ, জুনায়েদ দুজনই মাথা নত করে পিছনে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে রইলো চুপচাপ।
“ কেমন আছো বাবা?"
কথা শেষে ফোন কাটতে কাটতে প্রশ্ন করলো। জুনায়েদ মুখ ভরা হাসি নিয়ে ছোট শব্দে মিষ্টি করে উত্তর দিলো,
“ আলহামদুলিল্লাহ!আপনি?"
“ এইতো বাবা আলহামদুলিল্লাহ,তা তোমার বাবা মা কেমন আছেন?"
“ জি আংকেল সবাই ভালো আছে!"
“ তোমার বাবা তো আর্মিতে তাই না?"
“ জি জি!"
“ কোন ক্যাম্পে?"
“ উনি তো এখন উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বে আছেন।
_ মেজর,জাহিদুল কিবরিয়া বিল্লাহ!"
“ ওহ,নামটা শুনেছি তো। গতবছর ক্যাম্পে যে ঝামেলা হলো তখন নিউজে এসেছিল তোমার বাবার দুর্দান্ত দক্ষতার তথ্য। দারুন একজন মানুষ! বাবার মতো হও ইয়াং ম্যান!"
“ দোয়া করবেন আংকেল।যেন তাই হতে পারি।"
“ উইশ কি? আর্মি নাকি অন্য কিছু?"
“ আর্মি!"
“ দোয়া করি বাবার মতোই সাহসী আর তেজীয়ান হও।দেশকে বুকে আগলে ধরে রাখো!"
“ আমীন!"
তাইফও বললো,
“ আমীন।"
“ যাও যাও ভেতরে যাও। খালাম্মার সাথে দেখা করো, খাওয়া দাওয়া করো। আনন্দ করো নিজেদের মতো করে!"
“ জ্বী আংকেল!আসছি!"
বলেই জুনায়েদ পা ঘুরালো।নাসিফ নিজ পুত্রের পিঠে চাপড় মেরে নির্দেশ সূচক বাক্য প্রণয় করে বললো,
“ যাও যাও নিজের গেস্টের খেয়াল রাখো!"
“ জি বাবা!"
___________________________________________
হইহট্টগোলের মাঝেই আরম্ভ হলো হলুদ আয়োজন।
সবার আগে ছেলের মা লাগাবে।আফিয়া যেহেতু এসব গ্রোগ্রাম পছন্দ করে না তাও বাচ্চাদের খুশির জন্য করেছে তাই সে বেশি কিছু না করে সরাসরি হলুদই ছুঁয়ে দিলে ছেলের গালে,কপালে,গলায়।
সাদা লুঙ্গি,সাদা সেন্টু গেঞ্জি,মাথায় সাদা টুপির মাঝে সিলভার জড়ির মনোমুগ্ধকর কারুকাজ করা। হাতে তার বোনেরা নিজেদের গাছ থেকে ছিঁড়ে বেলীর লহর গেঁথে হাতে বেঁধে দিয়েছে।যেথায় একটা গোলাপও রয়েছে।
আফিয়া মন ভরে দেখছে ছেলেকে। ফর্সা বদন, কন্ঠনালীর নীলাভ রগ দৃশ্যিত হয়ে চেয়ে আছে। কাঁচা হলুদের প্রলেপে তার সৌন্দর্য উপচে পড়ছে। আর্মিকাটে ছাঁট দেওয়া কুচকুচে কৃষ্ণাভ কেশগুলো কি দারুন চমকাচ্ছে। সুসজ্জিত গাল ভর্তি চাপ দাঁড়ি আর গোঁফে পৌরুষের পূর্নাঙ্গতা আঁছড়ে পড়ছে সর্বত্র।নজর না লাগুক।মনে মনে আওড়ালো আফিয়া।বিরবির করে দোয়া পাঠ করে ছেলের গায়ে ফুঁ দিলো। আর্মে হলুদ ঘষতে ঘষতে বলতে লাগলো,
“ এই হলুদের মতোই উজ্জ্বল হোক তোমার সংসারি জীবন। চাঁদ বদন অঙ্গে চাঁদের আভায় মিশে থাকো। স্নিগ্ধ শান্ত মধুর হোক নতুন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত।আম্মা আব্বা সবসময় তোমার পাশে থাকবে। আমৃত্যু তাদের দোয়ায় থাকবে তোমরা।"
নাইফ মায়ের দোয়ায় মিষ্টি হাঁসি বিনিময় দিয়ে গলায় গলা মিলিয়ে জড়িয়ে ধরলো মা'কে।
আফিয়া ছেলের মাথা, ঘাড়ে হাত বুলিয়ে পিঠে হালকা করে নিজের হলুদ মাখা হাতটা রেখে বললো,
“ খুব সুখি হও আব্বা।"
“ তুমি থাকলেই হবো আম্মু!"
নাইফ মা'কে উক্ত কথাটা বলে কপালে চুমু দিলো। ঐদিকে মহিলাদের লম্বা সিরিয়াল পড়ে রয়েছে।তার মধ্যেই উপস্থিত কনে বাড়ির লোক,যারা ছেলের গায়ের ছোঁয়া হলুদ নিয়ে মেয়ের গায়ে হলুদ শুরু করবে।এতে নাকি ভালোবাসা বাড়ে!
“ আপা,উঠো। আমরাও দেই!"
“ হ্যাঁ হ্যাঁ সবাই দাও কিন্তু আমার ছেলেকে ভুত বানিয়ে দিও না আবার।"
“ সে দেখা যাবে চাচীমনি।আজকে দিন আমাদের।কারো কথা শুনবো না আমরা।"
রশ্নি জোয়ার্দার, সম্পর্কে নাসিফের মামাতো চাচার নাতনি, মানে চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে।বয়সে তাইফের সমবয়সী। বিয়ে উপলক্ষে বেড়াতে এসেছে।আফিয়া দেওর জির কথায় হালকা হেসে বললো,
“ আচ্ছা শুনতে হবেনা। শুধু উল্টাপাল্টা কিছু যেন না শুনি।"
“ হবে না আম্মু!"
পাশেই দাঁড়ানো গাজী বাড়ির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য,মিস তাবিহা ওয়াসিয়া তুহি। মা'কে আশ্বস্ত করে সে বড় ভাইয়ের গা ঘেঁষে বললো,
“ আম্মু কত টাকা দিয়েছে তোমাকে?"
হলুদ দিয়ে সালামির নিয়ম আছে।আফিয়া জানে তাই ছেলের হাতের মুঠোয় কিছু কাগুজে অর্থ পুরে দিয়েছে।নাইফ চোখ ছোট ছোট করে ছোট বোনের দিকে চেয়ে বিরবির করে বললো,
“ কেন বল তো?"
তুহি আমতা আমতা করে একটু হাসার চেষ্টা করে জোর করেই উচ্চারণ করলো,
“ না ইয়ে মানে বলছিলাম তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো না ভাইয়া?"
এক ভ্রু উঁচিয়ে বোনকে দেখছে,কপালে ভাঁজ ফেলে একটু এগিয়ে গিয়ে ধীমি আওয়াজে শুধালো,
“ সোজা উদ্দেশ্য বলো?"
“ তোমার নেক গুলো আমার কাছে জমা রাখো।আমি হেফাজতে রেখে দিবো, পরে তুমি নিও!"
‘নেক' শব্দটা উচ্চারণ হতেই একটু ভাবলো।কোন নেক রাখার কথা বলছে তার বোন? পরমুহূর্তেই নিজের হাতের মুঠোয় চোখ পড়তেই কচকচে হাজার টাকার নোট চোখে ঝিলিক মারলো, সেই ঝলকানিতেই তার মাথার কোষ সচল হয়ে তরতরিয়ে সবটা পরিষ্কার করে দিলো। চোখ তুলে বোনের দিকে চাইতেই দেখলো তার বোনের চোখও তার হাতের মুঠোয়। মুচকি হাসলো খানিকটা। অতঃপর গম্ভীর মুখে সোজা হয়ে বসে কপালে পরদের পর পরদ জমিয়ে ভরাট কন্ঠে বললো,
“নো থ্যাংকস, এতটুকু পয়সা নাইফ ওয়াসীত্ব গাজী সামলাতে পারে। আপনি হয়তো ভুলে গেছেন মিস তুহি নাইফ ওয়াসীত্ব গাজী একজন ব্যাবসায়ীও!"
“ হ্যাঁ তো তাতে কি? এখন তো তুমি নতুন বর! সবাই তোমাকে হলুদ মাখাবে,মেহেদি পরাবে,কত কি করবে! তখন কি তুমি পারবে তোমার নেক সামলে রাখতে? তাই তো আমি যেচে হেল্প করতে আসলাম আর তুমি ভাব দেখিয়ে অপমান করছো?"
ষোল সতেরো বছরের ছোট বোনের মুখে এমন চটাং চটাং ভাব বিনিময়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেলো নাইফের।সে চোখ বড় বড় করে চেয়ে আছে তাতেও তার বোন নিস্পৃহ ভাব নিয়ে বসে আছে।তার মানে টাকা তার চাই'ই।
“ এ্যাই তুহি সরে বসো,ঐখানে রিফাকে বসা।আর তুমি রিফার পাশে বসো!"
সাফিয়া ভাগ্নিকে আদেশ দিল। কিন্তু তুহি জায়গাটা ছাড়তে নারাজ। অবশ্য ছাড়লে তাকে ভীষণ ঝামেলায় পড়তে হবে যে। ঐদিকে ছোট ভাইয়ারা,বুবুন, আপুরা তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে।যদি যথার্থ পালন করতে না পারে তবে তাকে আর কোন প্ল্যানের অংশ বানাবে না।
সবার বিশ্বাস নাইফ আর যাই হোক তুহির আবদার ফেলতে পারবে না কিন্তু হচ্ছে তো উল্টা।
সামান্য কয়টা পয়সাই তো! এটাই ভাইয়া ছাড়তে পারছে না। কথাটা ভেবেই তুহি ভীষণ দুঃখী হয়ে গেলো। দুঃখ ভরা মনে কাঁদো কাঁদো চেহারায় বড় ভাইয়ের দিকে চাইতেই দেখলো,নাইফ চোখ বন্ধ করে বসে আছে।তার কারণ তার খালা মনি কপালে হলুদ ছোঁয়াচ্ছে। এরপর হলুদ দিবে ফুপি।খালা মনি হলুদ ছুঁইয়েই নাইফের হাতের উপর নিজের হাত রাখলো।নাইফও নিঃশব্দে সেটা মুঠোয় পুরে দুষ্টু হাসি নিয়ে তুহির দিকে তাকালো।তা দেখে তুহি ঠোঁট উল্টে কাঁদো কাঁদো ভাব ধরে তাকিয়ে রইলো।
“ তুহি উঠো তো একটু,নাইফের সাথে বাবুর একটি ছবি তুলি!"
“ নো চাচীমনি,প্লিজ ছবি তুলো না।আমি ছবি তুলে খুশি করতে পারছি না।"
ভাইয়ের হাত থেকে নেক হাতানোর আশা ছেড়েই তুহি মাত্রই আসন ত্যাগ করতে চাইছিলো, ঠিক তখনই নাইফ বোনের হাত ধরে আটকে দিয়ে উক্ত বাক্যটা বলে।চাচীমনি নাইফের কথায় খানিকটা বিরক্ত হলো বোধহয় কিন্তু যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে সেটাকে লুকাতে।
“ এ্যাই নাও,খুশি?"
নিজের হাতে থাকা অর্থ গুলো ছোট বোনের হাতে দিয়ে নিচু কন্ঠে প্রশ্ন করলো।তুহিও বিজয়ী চোখে চেয়ে চওড়া হাসি দিয়ে ভাইকে পাশ থেকে জড়িয়ে ধরে বললো,
“ তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে বেস্ট ভাইয়া।"
এক পাশে তুহি,অন্যপাশে রিফা। তাদের আশেপাশে আরো অনেক বাচ্চারা।কোলে সেই চাচীর সদ্য দাঁত উঠা একটা নাতী।একের পর এক সিরিয়াল মেনে হলুদ দিতে থাকলো। মহিলাদের শেষ হতেই আগমন ঘটলো তাইফ বাবুর। সঙ্গে তার পুরো ব্যাটালিয়ন।
চলমান....
বারবার বলছি আমার পরীক্ষা সামনে তাই আমি নিয়মিত দিতে পারছি না।দয়া করে আমাকে ভুল বুঝবেন না। পরীক্ষা শেষ হলেই ইনশাআল্লাহ নিয়মিত দিবো আবার।
আজকে যতটুকু সময় পেয়েছি পড়াশোনা বাদ রেখে এতটুকু লিখেছি। আশাকরি মার্জনা করবেন আমাকে।







0 মন্তব্যসমূহ