সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১২০

#সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১২০



{ কপি পেস্ট কিংবা চুরি করা থেকে বিরত থাকুন, নিজেদের প্রোফাইলেও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন,আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন করে এই সাধারণ উপন্যাসটা তাকেও উপভোগ করতে বলেন।}


বিয়েতে কখনো কুইজ প্রতিযোগিতা হয় শুনেছেন? শোনেননি! তবে এবার শুনুন,জি মানে পড়ুন। গাজী পরিবারের বড় পুত্র নাইফ ওয়াসীত্ব গাজীর বিয়ের হলুদের প্রোগ্রামে তার ছোট ভাই নিজ বন্ধুদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।এই আয়োজনে বিজিতাকে দেওয়া হবে মহামূল্যবান ‌ব‌ই,ঘড়ি এবং দুর্লভ কিছু গাছ।

হয়তো হাস্যকর তবে আসলেই পুরষ্কার হিসেবে এগুলো যে কতটা উপকারী তা সত্যিকারের জ্ঞানীরা ঠিক‌ই বুঝে নিবেন।


মোট চারটি টিমে ভাগ হয়েছে ছেলে মেয়ের দলেরা। ‘ এ’ দল একটা, ঠিক এক‌ইভাবে ‘ বি’ , ‘ সি’, এবং ‘ডি ' দলে বিভক্ত চারটি টিম সাজানো ছাদের এক পাশে চার কোনাকুনি হয়ে আসন পেতে বসেছে।

অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন শুরু হবে কোরআন শরীফের ছোট কোন আয়াতের অংশ তেলাওয়াত দিয়ে অতঃপর পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় থাকবে নাইফের এক বন্ধু যে কিনা অত্র এলাকার‌ই এবং নাইফের বাল্যকালের খুব একটা কাছাকাছি না হলেও মোটামুটি ভালো সম্পর্কিত বন্ধু এবং সে এখন একটা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে।


তাইফ বড় ভাইয়ের সমতূল্য ভাইয়ের বন্ধু নিখিলের হাতে পুরো আয়োজনের বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়ে নিজেও একটা দলের সদস্য হিসেবে ডান পাশে বসেছে।এখান থেকেই নাইফকে সোজাসুজি দেখা যায় এবং নাইফ‌ও আয়োজনটা খুব উপভোগ করছে।

দলে রয়েছে তাবিহা ওয়াসিয়া তুহি‌ ও তার মুষ্টিমেয় কাজিনরা।তাইফ যথেষ্ট সচেতন ভঙ্গিতে বোনকে সাবধানে রাখার চেষ্টা করছে তার সঙ্গে কঠোর নজরে নিজের আশেপাশের এবং বোনের আশেপাশের ছেলেদের দিকে নজর রাখছে যাতে তার বোনের কোন সমস্যা না হয়।তার সতর্ক দৃষ্টি থেকে বাদ নেই নাজিফা‌ও।

নাজিফা আর তুহিকে খেলায় নিতে চায়নি কিন্তু নাইফ আর নাসিফের কথায় রেখেছে।

ঐদিকে বড় পর্দায় দেখার ব্যবস্থা করেছে,আর এই পর্দা রয়েছে নিচে গার্ডেনে একটা এবং ডান মাথায় একটা যেটার দৃশ্য সরাসরি মাঝ বরাবর বাম দিকে পিঠ রেখে মুখ ফিরিয়ে বসা নাইফের দিকে পড়ছে।নাবীহা ছোট ভাই বোনদের খেয়াল রাখার তাগিদে বড় ভাইয়ের পাশ ঘেঁষে বসে আছে।

তার হাতে আধুনিক মুঠোফোন যেটায় অবিরত ভিডিয়ো কল চলছে।স্বামীকে বড় ভাইয়ের বিয়েতে সরাসরি রাখতে না পারলেও আধুনিক মাধ্যমে সচেষ্ট আছে।মু'য়ায‌ও স্ত্রীর বড় ভাইয়ের বিয়েতে এমনভাবে উপস্থিত থাকায় আনন্দিত হচ্ছে।


সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি-না দেখে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে মাউথ স্পিকারটা তুলে নিখিল ইমতিয়াজ বলতে আরম্ভ করলো,


“ আসসালামু আলাইকুম এভ্রিওয়ান,হাও আ্যা ইয়্যু অল! আই থিংক ইয়্যু অল ইজ ভেরি গুড এন্ড ফাইন।

তো আমি সবার কুশলাদির বিনিময়ে বলতে চাইছি,এই স্বর্নালী সন্ধ্যায় গাজী পরিবারের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বৈবাহিক আয়োজনে উপস্থিত সকলকে জানাই সাদর সম্ভাষণ এবং প্রাণঢালা ভালোবাসা।

বাল্য বন্ধু, কৈশোর বন্ধু নাইফ ওয়াসীত্ব গাজীর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের এই শুভারম্ভে আপনাদের উপস্থিতি সত্যিই খুবই আনন্দদায়ক আর উৎসবমুখর করে তুলেছে।সত্যি বলতে বিয়ের অনেক অনুষ্ঠানেই তো যাই, অংশগ্রহণ করি কিন্তু এমন ভিন্ন ধর্মী আয়োজন কেবল এবার‌ই দেখলাম এবং অংশগ্রহণ করতে পেরেও আমি বেশ আনন্দিত হচ্ছি। ছোট ছোট বাচ্চাদের এই আয়োজন ঠিক যখন চারিদিকে বিয়ে মানেই নাচগানের ধুম,রাত ভরে ডিজে নেচে উল্টোপাল্টা জিনিস খেয়ে বিভোর হয়ে পরের দিন দুপুর বেলা উঠা বাঙালি মুসলিম বিয়ের যেই আমেজ তা যেন এতেই উবে যায়, এমন ক্ষণে এসে এই কলেজ পড়ুয়া বাচ্চাদের ভিন্ন ধর্মী আয়োজন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিনোদন দেওয়ার জন্য কিংবা বিনোদিত হ‌ওয়ার জন্য কেবল ভিন্ন ধর্মের রীতিনীতি‌ই অনুসরণ করা জরুরি না। আমাদের সম্ভ্রান্ত মুসলিম ধর্মের রিসার্চ করলে অজস্র পদ্ধতি রয়েছে যা দিয়ে যেকোন পরিবেশ মাতিয়ে তোলা সম্ভব।

বিয়েতে নাচ গান হয়,কখনো ভেবেছেন কুইজ, গজল গাওয়া কিংবা ধর্মীয় আলোচনা‌ও হতে পারে একটা মুসলিম পরিবারের বিয়েতে অন্যতম বিনোদনের উৎস? জি,একটু গভীর ভাবে ভাবলেই দেখা যায় এটাও হতে পারে আপনার পরিবারের যেকোন আনন্দের সবচেয়ে মজাদার এবং উপকারি একটা আয়োজন।

আজকে ছোট ভাইরা আমাকে দারুন কিছু চমৎকারভাবে উপহার দিলো,তার জন্য তোমাদের সবাইকে শুকরিয়া আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ হলাম এই নতুন মজার এবং দারুন জিনিসটা শিখে।

আশাকরি আজকের এই আয়োজন থেকে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ নতুন নতুন অনেক তথ্য পাবে!

আমি উপস্থিত অতিথিদের অনুমতি আশা করছি আজকের এই প্রোগ্রাম আরম্ভ করার জন্য।"


সমস্বরে চিৎকার দিয়ে সবাই বলতে থাকলো,


“ শুরু করুন!"


নিখিল মাথা সামনে ঝুঁকিয়ে চোখের ইশারায় সবাইকে অভিবাদন জানিয়ে প্রতীকি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে মেহমানদের শান্ত করলো, তারপর অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য বললো,


“ যারা যারা কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ করবেন তারা তারা নিজ নিজ দলের সঙ্গে বসুন। অতঃপর টপিকের হেডলাইন ভালো করে রপ্ত করে মানসিক প্রস্তুতি নিন।প্রজেক্টরের পর্দায় প্রশ্ন ভেসে উঠার ঠিক ষাট সেকেন্ডের মধ্যে হাত তুলবেন, তবে কোন শব্দ উচ্চারণ করবেন না।সামনে মাউথ স্পিকার রয়েছে সেটা তুলে নিবেন এবং আমি বলতে বললেই আপনি আপনার উত্তর দিবেন।প্রতি উত্তরের জন্য সময় পাবেন তিরিশ সেকেন্ড।

আশাকরি সবাই রুলস বুঝেছেন?"


সবাই বললো,জি বুঝতে পেরেছি। অতঃপর নিখিল উপস্থিত গেস্টদের চুপ থাকার জন্য অনুরোধ করে প্রথম প্রশ্ন করলো,


“ সর্বপ্রথম নারী যিনি শেষ নবী আগমনের বার্তা পেয়েছিলেন তিনি কে?"


প্রথম প্রশ্নের সেকেন্ড বিশ পেরুতেই হাত তুললো তিনজন।তাইফ,তাইফের বন্ধু জুনাইদ,আর তুহি।সবার প্রথমে হাত তুলেছে তুহি, তারপরও প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ আগে পেলো তাইফ,


“ তাইফ বলো!"


“ মাতা আমিনা!"


“ তুমি বলো?"


জুনাইদকে বললো,


“ এক‌ই উত্তর!"


“ তুহি?"


তুহি মাউথ স্পিকার হাতে তুলে নিয়ে নিচু কন্ঠে বললো,


“ হযরত ওয়ারাকা।তিনি সর্বপ্রথম নারী যাকে মাতা আমিনা নিজ আগমনি সন্তানের সুবার্তা দিয়েছিলেন।যখন আখেরি নবী জন্ম গ্রহণ করেন তখন সবার আগে তিনি‌ই কোলে তুলে নিয়েছিলেন।কারণ তিনি প্রসবকালে মাতা আমিনার পাশে ছিলেন।বলা হয়ে থাকে, তখন এই মহিমান্বিত জননীর বয়স ৯ অথবা ১০ বছর। তার সম্বন্ধে জানা যায়, তিনি খুবই কম কথা বলতেন এবং যোগাত্মক মানসিকতার ছিলেন। সব বিষয় বস্তুর মধ্যেই ভালো কিছু লক্ষ্য করতে চেষ্টা করতেন। হযরত আমিনা বিনতে ওয়াহাব (রা.) যখন অন্ত:সত্ত্বা ছিলেন, তিনি স্বপ্নে দেখেন যে তার পেট থেকে একটি সূর্য বেরিয়ে যাচ্ছে যা আলোকিত করছে সমস্ত মক্কা এবং মক্কা পেরিয়ে সমস্ত ইরাক। সে আলোয় সব কিছু আলোকিত হয়ে যাচ্ছে।

তিনি প্রথম যাকে বলেন তিনি হলেন হযরত ওয়ারাকা (রা.)। হযরত ওয়ারাকা (রা.) হেসে বলেন- ‘স্বর্গ থেকে আসা বার্তা, আপনার সন্তান নিশ্চয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো বান্দা’; সুতারং বলা যায় সে ছিলেন প্রথম বিশ্বাসীও বটে! তাদের মধ্যে আল্লাহ পাকের সম্বন্ধে ধারণা ছিল। তারা জানতেন আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা!

সুতরাং এই বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় নবীর আগমন সম্পর্কে সবার আগে তিনিই ধারণা করেছিলেন।"


“ সুন্দর উত্তর!অতি চমৎকার তথ্যবহুল একটা উত্তর।"


প্রথম প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তুহির উত্তর সবার মনে ধরলো,অত‌এব এই প্রশ্নের উত্তর তুহিরটাই টিকলো।মা তো সন্তান জন্মের খবর জানেই কিন্তু সেই সন্তানদের বৈশিষ্ট্য কিংবা বিশেষ দিক তো সব মা‌ই আগে বোঝে না। সেখানে অন্য কেউ বুঝতেই পারে।এটা স্বাভাবিক!


“ দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতজন বিবি ছিলেন এবং তাদের নাম কি কি?"


এবার‌ও হাত উঠলো বেশ কয়েকটি তার মধ্যে তাইফ,রাব্বী, জান্নাত আর ইনশিরাহ।এত হাত দেখে অনেকেই হেসে দিলো।চার দল থেকে চারজন।


“ আমাদের সকলের প্রিয় রাসুল এবং নবীর বিবির সংখ্যা ছিলো এগারো জন।

খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ

সাওদা বিনতে যাময়া

আয়শা সিদ্দিকা

হাফসা বিনতে ওমর

উম্মুল মাসাকিন যায়নব

উম্মে সালামা

যায়নাব বিনতে জাহাশ

জুয়াইরিয়া বিনতে হারেস মুসতালিকিয়া

উম্মে হাবিবা বিনতে আবুসুফিয়ান

সাফিয়া বিনতে হুয়াই

মায়মুনা বিনতে হারিস হিলালিয়া

উনাদের সবাইকে বিবি খাদিজার মৃত্যুর পর বিবাহ করেন এবং একমাত্র ইব্রাহীম ছাড়া বাকী সব সন্তান খাদিজার গর্ভের।"


জান্নাতের উত্তর ছিলো এটা। দারুন চমৎকার ভাবে উত্তর দেওয়ায় করতালি পেলো সে সবার থেকে।

তারপরের প্রশ্ন,


“ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কততম নবী?"


“ আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী ১ লাখ ২৪ হাজার পয়গম্বর পাঠিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১৫ জন ছিলেন রাসুল আর বাকিরা নবী। যারা রাসুল তারা নবীও, আর যারা নবী তারা শুধু নবী। আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ছিলেন প্রথম প্রেরিত রাসুল এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ প্রেরিত রাসুল।


কোরআনে বর্ণিত ২৬ জন নবী হলেন- ১. হজরত আদম (আ.), ২. নুহ (আ.), ৩. ইদরিস (আ.), ৪. হুদ (আ.), ৫. সালেহ (আ.), ৬. ইবরাহিম (আ.), ৭. লুত (আ.), ৮. ইসমাঈল (আ.), ৯. ইসহাক (আ.), ১০. ইয়াকুব (আ.), ১১. ইউসুফ (আ.), ১২. আইয়ুব (আ.), ১৩. শুয়াইব (আ.), ১৪. মুসা (আ.), ১৫. হারুন (আ.), ১৬. ইউনুস (আ.), ১৭. দাউদ (আ.), ১৮. সুলায়মান (আ.), ১৯. ইলিয়াস (আ.), ২০. আল ইয়াসা (আ.), ২১. জুলকিফল (আ.), ২২. জাকারিয়া (আ.), ২৩. ইয়াহইয়া (আ.), ২৪. ঈসা (আ.), ২৫. ওজায়ের (আ.) ২৬. হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

অন্য ২৪ জন হলেন- ২৭. হজরত শিস (আ.), ২৮. হিজকিল (আ.), ২৯. জারজিস (আ.), ৩০. মাশবিল (আ.), ৩১. মুদরিকা (আ.), ৩২. দানিয়াল (আ.), ৩৩. ইসরাইল (আ.), ৩৪. জারুত (আ.), ৩৫. ইয়াসিন (আ.), ৩৬. আসাফ (আ.), ৩৭. ইউওয়াসুন (আ.), ৩৮. সাতউন (আ.), ৩৯. ইউহানা (আ.), ৪০. শামাল (আ.), ৪১. সাকিল (আ.), ৪২. দায়োবাস (আ.), ৪৩. ইয়ালরুহি (আ.), ৪৪. কাফলিতিস (আ.), ৪৫. ইয়াউক (আ.), ৪৬. ইজাসফাউল (আ.), ৪৭. তাসতাররিহা (আ.), ৪৮. আলসাজার (আ.), ৪৯. মিতনাসি (আ.) এবং ৫০. আইশতা (আ.)।

মাওলানা মুনীরুল ইসলাম (বোখারি শরিফ, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, কাসাসুল কোরআন প্রভৃতি)।

এখন এইভাবে হিসাব করে যদি বলি তবে কোরআনের উল্লেখ অনুযায়ী ইব্রাহিম (আঃ) হচ্ছেন ষষ্ঠ নবী। অর্থাৎ ছয় নাম্বার তিনি।"


ইনশিরাহ দিলো এই উত্তরটা।

উত্তরের পক্ষে এত সুন্দর বর্ণনা পেয়ে অনেকেই বিমোহিত হয়ে উচ্চস্বরে করতালি দিলো।তার ঝংকারে ঝমঝমিয়ে উঠলো চারদিক।নিখিল নিজেও করতালি দিলো।


“ শেষ নবীর কতজন পুত্র ছিলো?"


“ তিনজন,

কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ

ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ!"


“ ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রাঃ) (আঃ)

স্ত্রী এবং সন্তান সংখ্যা কতজন?"


“ আলীর নয়টি স্ত্রী এবং বেশ কিছু উপপত্নীর থেকে চৌদ্দোটি পুত্র ও উনিশটি কন্যা ছিল, তাদের মধ্যে হাসান, হুসাইন এবং মুহাম্মদ ইবনে আল হানাফিয়াহ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে এবং তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজন বংশধর রেখে গেছেন। আলী, মুহাম্মদ(সা)র ছোট মেয়ে ফাতিমার কাছ থেকে চারটি সন্তান ছিলঃ হাসান, হুসাইন, জায়নব এবং উম্মে কুলসুম।"


পরপর দুটো উত্তর দিলো তাইফ।

দারুন বিশ্লেষণমূলক উত্তর হ‌ওয়ায় না জানা অনেক তথ্য‌ই এখন জানতে পারছে উপস্থিত সকলে।তারা আরো বেশি উচ্ছসিত হচ্ছে। পিনপতন নীরবতা ছিন্ন হয় সঠিক উত্তরের পর।


শেষ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আগ্রহী সকলে উন্মুখ হয়ে চেয়ে আছে পর্দায়।


“ এই রাউন্ডের সর্বশেষ এবং ছয় নম্বর প্রশ্ন হচ্ছে, সুরাতুল সিফা বলা হয় কোন সুরাকে!"


“ সুরা ফাতিহাকে! সুরা ফাতিহাকে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ এবং আরোগ্য লাভের উত্তম উপায় বলে সম্বোধন করা হয়।"


“ দুর্দান্ত উত্তর ছিলো। শুধু তাই নয় সুরাতুল ফাতিহাকে কোরআনের জননী বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।আপনি যেকোন রোগে সুরাতুল ফাতিহা পাঠ করে নিজ গাত্রে ফু দিন কিংবা পানি পান করুন বিশেষ করে জ্বরের মতো উত্তাপি রোগকেও শীতল করে দিবে কুর‌আনুল কারীমের জননী সুরাতুল ফাতিহা।

অবশ্যই তা পাক পবিত্র অবস্থায় এবং নেক বিশ্বাসি নিয়তে।

তো এই চমৎকার সব তথ্যবহুল উত্তরে মধ্য দিয়ে সাওয়াল জবাবের এই পর্বটা শেষ হলো। এরপর আছে ইসলামিক সমাচার যার টপিক হবে বর্তমান জীবন ব্যবস্থায় ধর্মের চর্চা এবং তার প্রতিফলন।"


আধ ঘন্টা সময় নির্ধারণ করা হলো। এর মধ্যেই অংশগ্রহনকারীরা নিজেদের তর্ক বিতর্কের মধ্যে দিয়ে নিজেদের যুক্তিকে সঠিক প্রমাণ করার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলো। এরপর গজল, তেলাওয়াত হামদ নাত আয়োজিত হবে।


শেষ পর্বে রয়েছে র্যাপিড ফায়ার যার টপিক হচ্ছে আজকের বিশ্ব! এখানে প্রশ্ন হবে মোট পাঁচটা,যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিতে পারবে এই পর্বে সেই বিজয়ী বলে ঘোষিত হবে।


প্রথম প্রশ্ন ,

“ বর্তমানে সার্কভুক্ত দেশ কয়টি?”


উত্তরের জন্য হাত তুললো জান্নাত,তাইফ,মিথি।

নিখিল সবার প্রথমে উত্তর দিতে বললো মিথিকে,


_


জান্নাত বলো?


_


“ তাইফ?"


_


এরপরের প্রশ্ন ,

“বর্তমানে বাংলাদেশের জিআই পণ্যের সংখ্যা কত?”


ইস্তিহাক, “


মিশাল,“


তাইফ,“


তৃতীয় প্রশ্ন,

“ বরিশালের পূর্ব নাম কি?”


পরশ, “


ইনশিরাহ,“


তাইফ, “


চতুর্থ প্রশ্ন,

“আয়া সোফিয়া কোথায় অবস্থিত?"


মিথি,“


তুহি,“


তাইফ,“


এই রাউন্ডের শেষ এবং আজকের প্রোগ্রামের শেষ প্রশ্ন,


“ পৃথিবীর প্রথম কাবা বলা হয় কোনটাকে?"


জুনাইদ,“


তুহি,“


তাইফ,“


{ উত্তরগুলো আমার পাঠিকারা দিবেন, সারাদিন খালি উপন্যাস উপন্যাস, পড়াশোনার খবর নাই ! নাহ্!}


আজ রাত এভাবেই কাটবে সবার।


হলুদের রাতের ভিন্ন ধর্মী আয়োজনে অতিথিবৃন্দ বেশ উৎফুল্ল মনেই নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যায়।পরের দিন বিয়ের জন্য আবার আসার প্রস্তুতি সবাইকেই নিতে হবে।বিয়ের ঠিক সময় বাদ জুম্মা।লালমাটিয়ার এক প্রসিদ্ধ মসজিদে বিবাহের আয়োজন করা হয়েছে।পাত্রীকে পর্দায় রেখে বিবাহের কাজ সম্পন্ন হবে।


ব্লেজারের উপর বুকের বাম পাশে লাগানোর জন্য শাপলার একটা ব্রোজ। প্ল্যাটিনাম এবং রুবির এই সুন্দর ব্রোজটা আফিয়া বহু আগেই শখ করে গড়তে দিয়েছিল ছেলের জন্য।

এর মধ্যেই বছর তিন আগে চিকিৎসার জন্য দুবাই গিয়েছিল,তখন এক দোকানে প্ল্যাটিনামের আংটি পছন্দ হলে নাসিফ কিনে দেয়।সেটা ভেঙ্গে তার সাথে রুবি জুড়িয়ে এই সুন্দর ব্রোজটা গড়ায়। বিয়েতে ছেলের জন্য এটাই তার উপহার।বুকের বাম পাশে লাগিয়ে মাথার সাদা পাগড়ীটা ঠিক করে দিলো।মাথার পাগড়ির উপরে সুন্দর করে একটা ঝকঝকে কারুকাজ করা যেটাতে জ্বলজ্বল করছে সবুজ রুবির একটা নকশা।গায়ের উপর আতর ছড়িয়ে দিয়ে ছলছল চোখে ছেলেকে পরখ করছে।নাইফ সোজা হয়ে নিরব চোখে দেখছে মায়ের ক্লান্তিমাখা চাঁদ বদন খানি। যাতে রয়েছে বেশ কয়েক রাতের নির্ঘুমতার ছাপ।চোখে ভাসছে চিন্তার রেশ। তারপরেও চকচকে হাসি লেপ্টে থাকে ওষ্ঠ জুড়ে।


খয়েরি পাড়ের লাইট গোল্ডেন তাঁতের শাড়ি,তার মধ্যে সবুজ হলুদ মিশেলে গুটি গুটি পাঁচ পাতার ফুল আঁকা।বুক বরাবর ঠেকে আছে।সব কিছু ঠিক আছে কিনা বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেছে।বিরবির করে দোয়া পাঠ করে একটু পরপর গাঁয়ে ফু দিচ্ছে। মায়ের কীর্তিকান্ড দেখে নাইফের হাসিও আসছে আবার দুঃখ‌ও লাগছে।

আজ কদিন থেকেই তার মায়ের এমন আজব ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। পরশু রাতে কি বললো?


“ বিয়ের পর মা'কে ভুলে যাবে?"


নাইফ তখন ল্যাপটপের উপর রেখে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা দেখছিল,হুট করেই এহেন কথায় চমকে যায়। দ্বিধান্বিত হয়ে তাকিয়ে থেকে শুধু জিজ্ঞেস করে,


“ মানে কি আম্মু!”


নিজের অযৌক্তিক প্রশ্নে আফিয়া নিজেই বিব্রত হলো। কোনমতে নিজেকে সামলে ছেলের দিকে হাত বাড়িয়ে বললো,


“ আসো আমার সাথে।"


মায়ের ভাবভঙ্গি বুঝতে অক্ষম নাইফ নিজের কোলের উপর রাখা ল্যাপটপটাকে সরিয়ে রাখলো।খাতার বান্ডেলটা পাশেই রেখে মায়ের ছোট্ট খসখসে হাতের মুঠোয় নিজের বড় নরম শক্তপোক্ত হাতের কব্জি গলিয়ে বাধ্য ছেলের মতো মায়ের পিছু পিছু গেলো।আফিয়া ঘরে ঢুকে বিছানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা গহনার মাঝ থেকে একটা সুন্দর ব্রুজ বের করে ছেলের বুকের বাম পাশে ধরে বললো,


“ তোমার সের‌ওয়ানীর জন্য বানিয়েছি, পছন্দ হয়েছে?"


“ তুমি এনেছো এখানে আবার সন্দেহ থাকবে কেন? আমি জানি আমার মায়ের চয়েস সবসময় বেস্ট!"


“ আচ্ছা তার মানে পছন্দ হয়েছে।

তুমি একটু ঘুরো!"


আফিয়া নাইফের সাথে সাথে কথা বলছে ঠিক'ই কিন্তু নাইফের দিকে তাকাচ্ছে না।কেন জানি তার মনে এখন ছেলেকে দেখতে সাড়া দিচ্ছে না।নাইফ মায়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে খপ করে হাতের কব্জি জড়িয়ে নিজের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে বললো,


“ আম্মু আমার দিকে তাকাও।

কি হয়েছে বলো? তখন তুমি ওমন কথা কেন বললে?"


“ কোন কথা?"


একদম না জানার মতো ভান করে উল্টো প্রশ্ন আফিয়ার।নাইফ মায়ের সবটাই বোঝে,তাই প্রশ্ন ফিরিয়ে না দিয়ে মায়ের মনকে ঠান্ডা করলো যথার্থ উত্তরের মাধ্যমে,


“ আম্মু আমি তোমার ছেলে,তোমার বুকে পিঠে খেলে বড় হয়েছি, তোমার হাতে খেয়েছি, তোমার কোলে বুকে মাথা পেতে শুয়েছি,আমি তোমার স্তন হয়তো পান করিনি কিন্তু তাতেও কিছু খামতি নেই।কখনো মনেই হয়নি আমি বুকের দুধের স্বাদ পাইনি।আমার কোথায় কখনো ফিল হয়নি‌ এই গর্ভে আমি জন্ম নেইনি।তাহলে? কেন? কিসের জন্য তোমার বারবার এমন মনে হয় বিয়ের পর আমি তোমাকে ভুলে যাবো? মা'কে ছেলে কখনো ভুলে যায়? ভুলতে পারে?

হ্যাঁ যারা মায়ের ঋণকে ভালোবাসা মানতে পারে না,যারা ঐটা শুধু জন্মগত অধিকার বলে ভেবে নিয়ে কেবল দায়িত্ব পালন করার জন্য অর্থ দিয়ে নিজের কর্তব্য শেষ করে তারা হয়তো পারে মা বাবাকে ছেড়ে দিতে, তাদের থেকে দূরে গিয়েও বাঁচতে।আমার পক্ষে সম্ভব নয় আম্মু।

আমার পক্ষে তোমাকে ছাড়া,বাবাকে ছাড়া আমার তিনটা ছোট পাগল ভাইবোনকে ছাড়া একদিন কাটানোও সম্ভব নয়। ভুলে যাওয়া তো দূরের কথা। তুমি কেন এসব ভাবো? কেন বাইরের মানুষের কথায় এত ভীত হয়ে আছো?

তুমি ছেলে বিয়ে দিয়ে নিজের ঘরের সদস্য বাড়াচ্ছো যেটা তুমি সবসময় করতে চাইতে,করতে ভালোবাসো।এখানে নার্ভাস হ‌ওয়ার কি আছে।

আমি আশ্চর্য হচ্ছি! নার্ভাস হবে সেই মেয়ে যে কি-না আমার এই শক্তপোক্ত দাম্ভিক মায়ের ব‌উ হবে,তাকে বুঝে আসতে হবে সে কত গুণী আর শ্রদ্ধাশীল নারীর ছেলের ব‌উ হয়ে আসছে।"


“ চুপ থাকো। উল্টাপাল্টা কথা বলবা না। আমার ব‌উমাও মাশাআল্লাহ অনেক গুণী।আমি অনেক বেছে, যাচাই-বাছাই করে অতঃপর একটা ফুলপরী পছন্দ করেছি আমার ছেলের জন্য। আল্লাহ তোমাকে, তোমাদের অনেক সুখী রাখুক আব্বা।

কখনো ব‌উমার মনে এমন কম্পেয়ার করে কষ্ট দিবে না। তোমার ব্যবহার তাকে আমার শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা দিবে।বুঝেছো.. কখনো একজনের সাথে আরেকজনের প্রতিযোগিতা চলে না।সংসার জীবনে তো নাই'ই।এটা খুবই স্পর্শকাতর একটি স্থান, আবেগের জায়গা।এখানে কারো সাথে কারো প্রতিযোগিতা চলে না।করা‌ও উচিত নয়।একে অপরের সাথে মিলেমিশে থাকা, ভালোবেসে আগলে রাখা, বিপদে আপদে পাশে থাকা,এটাই হচ্ছে সংসার জীবনের মূল দায়িত্ব, প্রতিপাদ্য বিষয়। সংসার সুখি হয়‌'ই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়,কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়।"


“ এইতো আমার আম্মু, আমাদের আম্মা।তাকে সবসময় এভাবে দেখতে চাই।এতটাই স্ট্রং মেন্টালিটির এতটাই পজেটিভ মনোভাবের।এখানে বিন্দুমাত্র খাদ আমার সহ্য হবে না।বুঝেছো?

তোমার ছেলে আজীবন সবার আগে তোমার,আর কারো তোয়াজ সে করবে না যতক্ষণ না সে তোমার গুরুত্ব বুঝে।

বুঝেছো বাচ্চা!"


শেষ বাক্যটা মায়ের দুই গালে নিজের দুই হাত রেখে আহ্লাদের শাসন মিশিয়ে ঠোঁটে হাসির রেশ বজায় রেখে বললো।আফিয়া ছেলের কান্ডে খিলখিল করে হেসে দিয়ে ছেলের বুকে মাথা রাখলো। নাইফ‌ও মা'কে জড়িয়ে মায়ের মাথায় চুলের উপর গভীরভাবে চুমু দিয়ে বললো,


“ Always I love you more than anything, more than this whole world , do you understand!"


“ I also love you Abba!"


আফিয়াও ছেলেকে এক‌ইভাবে পিঠে আদর দিতে দিতে বললো।

নাইফ কল্পলোকের বাস থেকে বর্তমানে ফিরলো নিজের ছোট বোনের ইঁদুরের মতো কন্ঠস্বরে।


“ আম্মা তাড়াতাড়ি করো,বাবা রাগ করছে।

কত্ত আদর দাও ভাইয়াকে!"


তুহি নিজের কাশ্মীরি আপেলের ন্যায় গাল দু'টো ফুলিয়ে শেষটা বললো।নাইফ হেসে দিলো বোনের বাচ্চামোতে।কাল থেকেই গাল ফুলিয়ে আছে।কারণ? কাল প্রতিযোগিতায় তাইফ দু'টো রাউন্ডে জিতেছে,তাতে সে ব‌ই পেয়েছে অনেকগুলো।সেখান থেকে একটা ব‌ই চাওয়ায় তাইফ দেয়নি। এবং স্পষ্ট করে বলে দিয়েছ কেউ যেন তাকে আদেশ অনুরোধ কোনটাই না করে। এইখান থেকে একটা ব‌ই'ও সে কাউকে দিবে না।

ত্যাড়া জাতের ছোট ছেলের উপর নাসিফ এখন আর কোন চাপ দিতে পারে না। বরং দেয় না বললেই ভালো হয়।

আঠারো মানেই ছেলে এখন সাবালক ,খুব শিগগিরই ডিফেন্সের জন্য চলে যাবে।এই বয়সী ছেলেকে সে কোনভাবেই চাপাচাপি করে মতামত রাখতে পারে না। তাছাড়াও এটা তাদের ভাই বোনদের বিষয়।এখানে হস্তক্ষেপ করাকে সে ঠিক মনে করেনি।তাই বলেছিলো,


“ আমি স্যরি আম্মা, তুমি দেখো যদি কোনভাবে রিকুয়েস্ট করে নিজের ভাইয়ার থেকে নিতে পারো,নয়তো তোমার বড় ভাইয়ের কাছে যাও। সে একটা সমাধান অবশ্যই তোমার জন্য বের করে দিবে।"


তুহি গাল ফুলিয়ে বড় ভাইয়ের কাছেও গিয়েছিল, তাতেও লাভ হয়নি। নাইফ কয়েকবার অনুরোধ অতঃপর চোখ রাঙানি,হুমকি ধামকি সবটা দিয়ে চেষ্টা করেও ফলাফল শূন্য ছিলো।সে দিবে না মানে দিবেই না।তাই নাইফ বলেছিলো,


“ আচ্ছা এটা আমি কিনে দিবো নে। তাছাড়াও তুমি এখন এটা পড়ার জন্য উপযুক্ত বয়সী হ‌ওনি।আগে বয়স হোক তখন ভাইয়া কিনেই দিবো। তাছাড়াও এগুলো তো পড়েই থাকবে,ও চলে যাবে। কয়দিন আর আছে? এমনিতেই এগুলো সব তোমার, এগুলোর একমাত্র উত্তরাধিকারী তো তুমিই!"


এত কথাও তুহির মন গলাতে পারেনি।সে তখন থেকেই এভাবে গালকে কাচুরির মতো ফুলিয়ে রেখেছে,সবার সাথে এভাবেই কথা বলছে।আফিয়া এই অতিরিক্ত আহ্লাদে আটখানা তার ভাষ্যমতে বিগড়ে যাওয়া, নষ্ট হয়ে যাওয়া মেয়ের প্রতি ভীষণ বিরক্ত।সব কিছুই তার মর্জি মতো হতে হয় নচেৎ এহেন ভং ধরে বাড়িময় ঘুরে বেড়ায়।


“আল্লাহর পাক কালামকে সাক্ষী রেখে পনেরো লক্ষ তিরিশ হাজার পাঁচ শত এক টাকা (পরিশোধ যোগ্য) ধার্য করিয়া আপনি নাইফ ওয়াসীত্ব গাজী,পিতা হাজী মোহাম্মদ নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী,মাতা হাজী সামিয়া তাসনিম আফিয়ার বড় পুত্র, নুর মোহাম্মদ আব্বাস ও মৃত ফারহানা সিদ্দিকীর একমাত্র কন্যা ফাতেমা নুর আব্বাসের সহিত এই বিবাহে সম্মতি দিয়েছেন,যদি রাজী হয়ে থাকেন তবে বলুন আলহামদুলিল্লাহ কবুল!"


পরপর তিন কবুল, উভয়পক্ষের মেহমানদের দোয়া আর আল্লাহর কাছে নবদম্পতির জন্য সুখের প্রার্থনায় বৈবাহিক কার্য সম্পন হলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ