সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১২১

 #সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১২১



[ কপি পেস্ট/চুরি করা, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন, আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন। যথার্থ লাগলে গঠনমূলক/সমালোচনামূলক মন্তব্য করুন, নয়তো অন্যত্র সমলোচনা করে অযথা নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না।আমি সবরকম চোরামি থেকে সতর্ক করছি।]


আমাদের সমাজের নানা কুৎসিত দৃষ্টি ভঙ্গির মধ্যে অন্যতম একটা প্রখর প্রভাবশালী ভঙ্গি হচ্ছে সৎ মা মানেই খারাপ।সৎ মানেই বিষ! সৎ সম্পর্কিত প্রতিটি জিনিসে মানুষ দ্বিধান্বিত হয়, বিভেদ খোঁজে, সন্দেহের চোখে দেখে।


সমস্যাটা শুরু সৃষ্টি থেকেই,আদিকাল থেকে বর্তমান, শতশত নোংরা, কুৎসিত, ভয়ানক, লোমহর্ষক করুন কাহিনীর অন্তরালে থাকে সৎ সম্পর্কিত মানুষগুলোর মাঝে থাকা তিক্ততা যার কারণে এই শব্দটাই এখন বিষাক্ত পদার্থের ন্যায় সর্বত্র ছড়িয়ে থাকে, বিষিয়ে তোলে,তিলে তিলে নিঃস্ব করে দেয়।তাই বোধহয় কখনো সখনো আধো একটু ভালো, হুটহাট করে প্রকাশিত কিছু মধুর সম্পর্ক‌ও লোকের নিকট সন্দেহের শিকার হয়।


সৎ মায়ের যেই ঘৃণিত লোমহর্ষক চিত্র আমাদের সমাজে উপস্থিত তার ঐ বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়াস অনেক নারীই করে থাকেন।

সৎ মায়ের অসৎ ছায়ার কায়া থেকে অনেক শুভ্র মনের রমনী নিজেদের আলগা করে অন্যান্য রুপে গুছিয়ে রাখে।তবে সমস্ত হয় যখন সে সমাজের বাঁকে পড়ে।যখন সে নিজের মাতৃত্বের মমতাকে সৎ অসৎ এর দোলাচল থেকে আলাদা করে একান্তভাবেই সেটা আপন করে নিয়ে বাঁচার জন্য নতুনত্ব খোঁজে তখন!


আমিরার ছেলে বলেই পরিচিত নামিরার শ্বশুরালয়ে বৈবাহিক সম্পর্কের শুরুতেই নাইফ হোঁচট খায় যখন তাকে বিয়ের আসরেই প্রশ্ন করা হয় ‘ তোমার মায়ের নাম আমিরা না ,তবে কেন বিয়ের সময় আফিয়া বললে? '


জন্মদাত্রী মায়ের শিক্ষা সম্পূর্ণ না পেলেও মমতাময়ী, স্নেহময়ী মা আফিয়ার শিক্ষায় দিক্ষিত নাইফ ওয়াসীত্ব গাজী বেশি শব্দে উপস্থিত অবস্থায় কোন প্রত্যুত্তর করার সময় বা ইচ্ছা প্রয়াস করেনি।সে মুচকি হাসি দিয়ে অল্প শব্দে বলেছিল,


“ কারণ আফিয়াও আমার‌ই মা।"


নাইফ জানে না তার এই উত্তর উক্ত সময়ে অনেকেই ভালো মনে নেয়নি, নিতে পারেনি।অনেকের গতরেই লাভার কুন্ড উস্কে দিয়েছিলো।তা জানলেও অবশ্য নাইফের কিংবা গাজী পরিবারের কারো কিছু আসে যায় না।


বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে আরো অনেক দিন কেটে যায়। বৈবাহিক জীবনের আরম্ভ নাইফের দারুন কাটে।যদিও পর্যাপ্ত ছুটির অভাবে মধুচন্দ্রিমায় তাদের যাওয়া হয়ে উঠেনি। তাছাড়াও ছেলের বিয়ের ঝক্কি ঝামেলা সামলাতে গিয়ে আফিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে যার দরুন নাসিফ নিজ স্ত্রীকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রেসার বাড়িয়ে সেও বিছানায় পড়ে যায়।

হঠাৎ করেই বাবা মায়ের একসাথে অসুস্থতা নাইফ সহ তার তিন ভাইবোনকে ভীষণ অসহায় করে তুলে।তারাও নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের সব রকমের আনন্দ,খুশি, দুঃখকে ভুলে যায়।


নাইফ সিদ্ধান্ত নেয় মা বাবাকে নিয়ে খুব শিগগিরই একবার দেশের বাইরে থেকে চেকাপ করিয়ে আনবে। ঐদিকে তুহির মাদ্রাসায় তার পরীক্ষা শুরু,তাইফের ট্রেনিংয়ের জন্য কল চলে আসবে। রেজাল্ট বেরিয়েছে, আল্লাহর রহমতে সে সর্বোচ্চ মার্ক নিয়ে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে।

নাবীহা নিজের শ্বশুর বাড়ির দায়িত্ব, নিজের পড়াশোনা,বয়স্কা অসুস্থ দাদীর খেয়াল রাখায় ব্যস্ত সময় পার করছে।এত কিছুর মধ্যে একা হয়ে পড়েছে নতুন ব‌‌উ ফাতেমা নূর আব্বাস।যা তাকে ভীষণ ভাবে পিরিত করছে।

বিয়ের দুই মাসের মধ্যে তাদের একান্ত জীবন খুব একটা রাত বৈ হয় না।নাইফ নিজেও বিব্রত নিজের পারিবারিক জীবনের এহেন বিপর্যয়ে কিন্তু করার‌ও কিছু নেই। আল্লাহর ইচ্ছা, আল্লাহ যখন খুশি পরীক্ষা নেন, ধৈর্য্য সহনশীলতা আর বন্ধন মজবুত করার পরীক্ষা।


“ কখন তাহলে ফিরবেন?"


“ আটটা কি সোয়া আটটা বাজবে হয়তো!”


নাইফ নিজের মুঠোফোনে ফ্লাইটের টাইম আরেকবার চেইক করে নিলো। ঐদিকে নূর নাইফের ব্লেজারের বাটন আঁটকে দিতে দিতে কথা বলছে। ঠিক সেই মুহূর্তে দরজায় তুহির কন্ঠ শোনা গেলো,


“ ভাইয়া!"


বোনের কন্ঠ শুনে নাইফ মুঠোফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দরজায় তাকালো সচকিত চোখে।নূরের দৃষ্টি‌ও সেদিকে পড়লো।


“ আসো, ভেতরে।"


গুটি গুটি পায়ে দরজায় টাঙ্গানোর ডার্ক ফিরোজা কম্বিনেশনের মোটা ভারী পর্দা ঠেলে ভেতরে পা গলিয়ে দিলো তুহি। কাঁধে চাপানো ভারি ব্যাগটা চেপে ধরে,নিকাবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অশ্রু জোড়া মেলে বললো,


“ তুমি কি যাবে না আমার সাথে?"


নাইফ ভ্রু কুচকালো, কপালে তিন চারটা ভাঁজ পড়লো। প্রশ্নাত্মক চোখে একবার বোনকে দেখে স্ত্রীর দিকে ফিরলো, প্রশ্ন করলো,


“ আমি কি কিছু ভুলে গিয়েছি?"


অতঃপর আবারও বোনের দিকে ফিরে প্রশ্ন করলো,


“ আমার কি আজ তোমার সাথে কোথাও যাওয়ার কথা ছিলো বুড়ি?"


তুহি ভাইয়ের প্রশ্নে ভাবীর দিকে চাইলো, জিজ্ঞাসু চোখে চেয়ে র‌ইলো মিনিট এক, তারপর নিজের থেকে বলতে যাবে ঠিক তখনই নূর বলতে আরম্ভ করলো,


“ ওহহহ,আমি ভুলে গিয়েছি! ইস্ স্যরি তুহি! আমি‌ই ভুলে গিয়েছি তোমার ভাইয়াকে বলতে!"


“ কি বলতে ভুলে গিয়েছো?"


“ আসলে আজকে তো তুহির মাদ্রাসায় অভিভাবক সাক্ষাৎকারের তারিখ। বাবা তো যেতে পারছেন না মার্কেট কমিটির মিটিংয়ে যাবে তার জন্য,আর .. আম্মার তো শরীর‌ই চলে না,সে যাবে কি করে? তাই আম্মা বলেছিলো তোমাকে যেতে। কিন্তু আমি এই কথা বলতেই ভুলে গিয়েছি,আ'ম ভেরি স্যরি!"


নূর কথাটা খুবই লজ্জিত ভঙ্গিতে বললেও নাইফের ভালো লাগলো না। কারণে নূর জানে নাইফ আগের দিন রাতে পরের দিনের কার্যক্রম সাজায় সেই অনুযায়ী চলে তার সারাদিন। আজকের প্ল্যান অনুযায়ী সকালের ক্লাসে এটেন্ড করবে, লাঞ্চের আগে গোডাউনে যাবে নতুন লটের মাল আসছে, সেগুলো বায়ারদের হিসাব অনুযায়ী পার্সেল সাজানো, গোডাউনে রাখা সহ সবটা সে দাঁড়িয়ে থেকে শেষ করবে। এরপর বিকেলে এসে বাবা মা'কে নিয়ে র‌ওনা দিবে সিঙ্গাপুর।অনেক চেষ্টার পর এই সময়টা পেয়েছে,তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বাবা মায়ের সু্স্থতা ফিরিয়ে আনা।


কিন্তু এখন কি করবে?এখন তুহির সাথে মাদ্রাসায় যাওয়ার মানেই হলো দুপুরের আগে সেখান থেকে থেকে বের হতে পারবে না অর্থাৎ সারা সকালের সিডিউল ওলটপালট হয়ে যাবে। এদিকে বোনকে একা তো ছাড়ার প্রশ্ন‌ই উঠে না।তাও আজকের দিনে? অসম্ভব!


নূর এই অল্প সময়েই স্বামীকে খুব ভালো করেই রপ্ত করেছে।ভাই বোনদের বেলায় যে নাইফ কতটা উদগ্রীব আর সতর্ক তা সে ভালো মতেই বুঝে নিয়েছে।তাই নিজের ভুলে লজ্জিত মস্তকখানি নত করে বিরবির করে বললো,


“ সত্যিই খেয়াল ছিলো না।আপনি বললে আমিই যাই আজকে ওর সাথে!"


প্রস্তাব খানি মন্দ নয়। পছন্দ হয়েছে কিন্তু তুহির বিষয়ে আপাতত নূরকে ভরসা করতেও পারছে না। কারণ নূরের সাথে বিয়ের বয়স দুই মাস পেরুলেও এমন কোন দায়দায়িত্ব এখনো নূরের কাঁধে পড়েনি।

তাছাড়াও তুহি,তাইফের পড়াশোনা নিয়ে অতিমাত্রায় সচেতন নাইফ একটু খটকা নিয়ে বোনের দিকে অসহায় ভঙ্গিতে চেয়ে বললো,


“ ভাবীমনি গেলে হবে না? ভাইয়া তো জানতাম না,নয়তো!"


“ হবে।"


তুহি খানিকটা মন খারাপ করলো বোধহয়।ভাবি গেলে সে সত্যি খুশি হয়। কিন্তু ভাইয়ার সাথে সবচেয়ে বেশি আনন্দ লাগে তার।

নাইফ স্বপত্নীর দিকে খানিকটা আদেশি ভঙ্গিমায় বললো,


“ সাবধানে যাবে,আর আসার সময় ওকে সাপ্তাহিক খাবার কিনে দিও যা ও চায়।কার্ড, ওয়েট.."


বলেই নাইফ নিজের ওয়ালেট বের করে কতগুলো নোট বের করলো,হাত বাড়িয়ে স্ত্রীর দিকে ধরে বললো,


“ এগুলো নেও!"


নূর নিলো।তুহির দিকে চেয়ে বললো,


“ তোমার ভাইয়ার পর বের হলে সমস্যা হবে?"


“ একদমই না!"


“ আচ্ছা আমি তাহলে রেডি হচ্ছি?"


“ হুম!আমি বাইরে অপেক্ষা করছি"


তুহি যেভাবে এসেছিল সেভাবেই চলে গেল।নাইফ স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে তাড়া দিলো, বললো,


“ তাড়াতাড়ি তৈরি হ‌ও , তোমাদের নামিয়ে দিয়ে যাবো।"


নূর জন্মগত ভীন দেশে বড় হয়েছে।এ দেশ,এ দেশের যাতায়াত মাধ্যম খুব একটা পরিচিত এখনো তার হয়নি। তাছাড়াও শ্বশুরের আহ্লাদি একমাত্র মেয়ে একটু বেশিই আহ্লাদি।উনিশ থেকে বিষ হলে তার বোনদের চেয়েও বেশি নেতিয়ে পড়ে।তাই এদিকেও নাইফ সতর্ক থাকে।


“ ভাইয়া যেতে পারছি না কিন্তু স্যরি বলছি! মন খারাপ করো না,আমরা শিগগিরই চলে আসবো। তোমার পরীক্ষা না থাকলে তোমাকেও সাথে নিয়ে যেতাম।"


মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই নাইফ নিজের ছোট বোনকে বুঝ দিচ্ছে।এত দূর যাবে ঠিক এই সময়েই ওর পরীক্ষার রুটিন পড়ে যায়,যার কারণে সঙ্গে নিতে পারছে না।নয়তো সঙ্গেই নিয়ে যেতো।


“ আমাকে ভিডিয়ো কল করে বাবা মায়ের সাথে কথা বলাবে বলো?"


“ একশো বার।আমি ভাবিমনিকে বলে দিয়েছি যাতে হুজুরানীর সাথে এই বিষয়ে কথা বলে যায়।সে তোমাকে ফোন দিবে, তুমি প্রতি পরীক্ষার পর ফোন দিয়ে বাবা মায়ের সাথে কথা বলো।ভাইয়া এবার তোমার জন্য অনেক গিফট নিয়ে আসবো, ওকে?"


“ ইনশাআল্লাহ, সাবধানে যেও ভাইয়া।"


ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে নিজের মন খারাপকে ঢাকার চেষ্টা করলো।নূর ভাই বোনের মাঝে না ঢুকে পাশেই দাঁড়িয়ে র‌ইলো।


“ কি আশ্চর্য! নাইফের কি বিবেক বোধ সত্যিই লোপ পেয়েছে নাকি? নতুন ব‌উকে একা বাড়ি রেখে কে এই সময়ে এত দূর যায়? এখন সময় দুজনের একটু একাকী সময় কাটানোর।এখন সিঙ্গাপুর যাবে দুজন মধুচন্দ্রিমায়,তা না করে বাপ মা'কে নিয়ে চিকিৎসকের.... মানে কি এগুলো?

নাসিফের‌ও বলিহারি, আজীবন দুনিয়া চড়িয়ে বেড়িয়েছে একা একা,আর এখন কি-না সে সদ্য বিয়ে করা ছেলেকে ছাড়া যেতে পারলো না।এই হলো বাংলাদেশি বাপ মায়েদের রুপ।এরা ছেলে মেয়ে ব‌ড় হলে কামাই খাওয়ার ধান্দা আর ছেলে বিয়ে দিলেই ব‌উকে খাটিয়ে সেবা পাওয়ার ধান্দায় ব্যস্ত থাকে।

শোন নূর,নাইফ ফোন করলে বলবে খালামনিকে ফোন দিতে। আমার ওর সাথে কথা হবে,মন খারাপ করে বসে থেকো না।মন চাইলে একটু এদিক ওদিক বেড়িয়ে আসবে, গাড়ি নিয়ে বের হবে। তুমি শিক্ষিত, যথেষ্ট আধুনিক।অযথা বাংলা সিনেমার পুরানো নায়িকার মতো অবহেলিত আর অসহায় সেজে বসে থেকো না। নিজের মনের কথা জাহির করো নয়তো এভাবেই সবাই ব্যবহার করবে।"


কথাগুলো ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা নূরের খালা মেহসিনা জিন্নাত বললো।নীরব শ্রোতা নূর কেবল শুনলো আর শেষ বাক্যে হু বলেই এই আলোচনায় সমাপ্তি টানলো।


দরজা ওপাশে দাঁড়িয়ে টোকা দিবে কি দিবে না ভাবুক নাবীহা ইতস্তত ভঙিতে মুঠোফোনে থাকা নিজ খালাকে বললো,


“ ভাবী মনি বোধহয় ঘুমাচ্ছে খালামনি।

সকাল থেকে দেখছিলাম কেমন জানি মনমরা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বোধহয় ভাইয়াকে মিস করছে!"


*****


“ আচ্ছা তুমি ভেবো না।আমি বলবো তোমাকে ফোন দিতে। আচ্ছা খালা মনি তুমি বলেছিলো জিহাদের জন্য কি একটা ইনফরমেশন লাগবে,ঐটা কি জিহাদের পাইলসের জন্য? ওর পাইলসের সমস্যা কি খুব বেড়েছে?"


*****


“ ওহ, আচ্ছা চিন্তা করো না।আমি এখুনি তোমাদের জামাইকে ফোন দিচ্ছি।ও চেষ্টা করবে যতটা সম্ভব!"


*****


“ না,আমার শ্বাশুড়ি আম্মা মানুষ ভালো, আল্লাহর রহমতে, দোয়া করো যেন সবসময় এমন‌ই থাকে।আমি যখনই বললাম এই সময়ে ভাবীকে একা রেখে আমার বাইরে যেতে সমস্যা হয় তখন‌ই বললেন তিনি আসছেন।"


*****


“ হুম, দাদী তো এখন টুকটাক হাঁটাচলা করে।বাবা খুব একটা প্রেসার নিতেই দেয় না দাদীকে। তাছাড়াও ফুপিও ভীষণ সাবধানী করে রেখেছে।

তবে মজার বিষয় কি জানো, তোমাদের জামাইয়ের কথা বেশি শোনে দাদী।"


****


“ আচ্ছা খালামনি, রাখছি।"


****


“ আসসালামু আলাইকুম!"


*****


নাবীহার কন্ঠস্বর খুবই নিচু।সে স্বভাবতই নিচু কন্ঠের অধিকারীনি এবং স্বল্পভাষী।

নিজের কথা শেষ করেই নূর দরজা খুলে বের হতেই দেখলো তার দরজায় দাঁড়িয়েই নাবীহা কারো সাথে খুব নিচু কন্ঠে কথা বলছে যেটা নূরের মতো উচ্চ কন্ঠের রমনীর কাছে ফিসফিস বলে পরিচিত।


“ নাবীহা তুমি এখানে?"


“ ওহ,ভাবি মনি! তুমি খালা মনির ফোন ধরছো না তাই আমাকে ফোন দিয়ে তোমাকে চাইলো।"


নাবীহার খালামনি মানে নূরের মামীমা।যাকে সে ছোট থেকে মামী মা বলেই সম্বোধন করতো। গতকাল রাতে তার সেই মামী মায়ের সাথে খানিকটা মনোমালিন্য হয়েছে, বলা বাহুল্য গতকাল নয়।গত কয়েকদিন ধরেই এসব চলছে।যাই হোক এভাবে তার সন্ধান করায় সে এখন‌ও খানিকটা বিরক্ত বোধ করলো।তার ফোনে এখন না পেলে পরে দিবে।নাবীহাকে ফোন দিয়ে তাকে চাইবে এখন? কেন? তার কি এতটাই গুরুত্ব কমে গেছে যে এভাবে অন্য কারো মাধ্যমে তার সন্ধান চালাচ্ছে।আগে তো চৌদ্দ বার ফোন করে অতঃপর খোঁজ নিতো এখন একবার না পেলেই কখনো নাইফের কাছে, কখনো শ্বাশুড়ি আম্মার কাছে, কখনো নাবীহা কিংবা কখনো ঐ পুঁচকে তাইফকে ফোন দিয়ে বলবে ‘ওকে দাও!'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ