#অলীক_সুখ
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্ব_০১
“শার্টটা দারুণ হয়েছে, ধন্যবাদ তোমাকে।”
নিখিল কথাটি বলে নতুন কিনে আনা শার্টের কলারে লাগানো স্টিকার টেনে তুলে ফেলল। শার্টের দিকে একাগ্রতা দেখে গাল ফুলিয়ে নিখিলের পরনের টি শার্টের কলার টেনে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে বলল,
“স্বামীর টাকায় শার্ট কিনে দিয়েছি শুকনো ধন্যবাদ পেতে?"
নিখিল মাধুরীর ফোলা রঞ্জক মাখা ঠোঁটের পরতে আঁটকে থাকা আবেদনকে কুর্নিশ করে বাঁকা হেসে বলল,
“বিনিময়ে কী চাই?"
“বোঝো না বুঝি? চল, খুলে বুঝিয়ে বলছি।"
বলেই সে নিখিলের টি শার্টের ভেতর হাত গলিয়ে দিল। নিখিলের এডামসের উপর আঁকিবুঁকি করতে করতে চট করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল বিছানার উপর।
নরম তুলতুলে বিছানায় পড়তেই পিন বলের মতো লাফিয়ে উঠল নিখিল। পরমুহূর্তেই বিছানায় পড়ে মাথার নিচে হাত রেখে ঘাড় উঁচিয়ে মাদকীয় চোখে গিলতে লাগল মাধুরীর বস্ত্র খোলার পূর্ব মুহূর্তের সৌন্দর্যটুকু। যেই সৌন্দর্য তাঁকে মাতোয়ারা করেছিল। যেই সৌন্দর্যের ঘোরে ডুবে সে ভুলে গিয়েছে ঠিক-বেঠিক!
মাধুরী শাড়ির শেষ অংশটুকু আঙ্গুল পেঁচিয়ে পুরো শাড়ি একটা দলা পাকিয়ে তা ছুঁড়ে মারল বিছানা থেকে দূরে। পরনের পেটিকোট আর খাপে খাপে ফিটিং ব্লাউজের উপর দিয়ে উপচে পড়ছে নারীত্ব। চুলের খোঁপাটা খুলে দিতেই এক গোছা লালচে চুল ছড়িয়ে পড়ল কাঁধে। পেটিকোটের কাপড় হাঁটুর উপর তুলে বিছানায় আধ শোয়া নিখিলের দিকে চেয়ে কামুকে আহ্বানে হেসে নিজেই গিয়ে চড়ে বসল নিখিলের কোলে।
নিখিল আধ শোয়া অবস্থায় মাধুরীর ভারী কোমরের চারপাশে হাত বুলাতে বুলাতে নিজের সঙ্গে চেপে ধরল। অতঃপর মুখ ডুবাল মাধুরীর কোমল মসৃণ অঙ্গ বিশেষে। চুম্বনের তালে তালে কামড়ে ধরে মাংসপিণ্ড। নিখিলের এই জাহেলি ছোঁয়া মাধুরীকে আরো উতলা করে তুলল। সে টেনে নিখিলের গায়ের পোশাক খুলে ফেলল। অধৈর্য হয়ে নিখিলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে নিখিলের পাশে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল। মাধুরীর এই ছটফটানি নিখিল উপভোগ করে। ছত্রিশ বছর বয়সী একজন নারীর এত ছটফটানি তাকে আনন্দ দেয়। নিজের পৌরুষের উপর গর্ববোধ হয়। নিজেকে যোগ্য পুরুষ মনে হয়।
এত আবেদনময়ী কামুকে নারীর ক্ষুধা মেটানোর পৌরশক্তি তার আছে এটা ভাবতেই সে নিজেকে বাহবা দেয়। মাথার নিচে হাত রেখে আধ শোয়া অবস্থায় মাধুরীর ভারী শরীরের ছটফটানি দেখছে।
দ্রুত গতির শ্বাস-প্রশ্বাসে মাধুরীর সাড়া শরীরে দোল খাচ্ছে। ভারী কোমর, মেদ জমা পেট, চল্লিশ সাইজের অন্তর্বাস! সবকিছু এক তরঙ্গে ঢেউ খাচ্ছে। আধ বোজা চোখে মাধুরীর আকুতি, নিখিল আনন্দ পায় এতে। পৌরষালি সুখ বুঝি এভাবেই পূর্ণ হয়।
মাধুরী নিখিলের প্রতি বিরক্ত হয়। নিখিলকে টেনে নিজের উপর এনে রোপ ঝেড়ে বলল,
“কী হচ্ছে কী? আই কান্ট কন্ট্রোল। ডু ইট ফাস্ট!"
“আই ইনজয় ইউর দিস এটিটিউড, ডু ইউ নো না! উমম!"
বলেই সে মাধুরীর গলায় মুখ ডুবাল। লেহন থেকে চুম্বন, চুম্বন থেকে কামড়। হাত ছুটছে মাধুরীর নরম প্রত্যঙ্গ জুড়ে। যেই ছোঁয়ায় মাধুরী আরো উন্মাদ হয়ে উঠে।
নিখিল মুখ তুলে ঠোঁটের দিকে তাকাল। রক্তরাঙা লিপস্টিক মাখা ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে অন্য হাতে মাধুরীর অন্তর্বাস এর হুক খুলে সেটা ছুড়ে মারল বিছানার বাইরে। অতঃপর শেষ বস্ত্রটুকুর জায়গাও সেথায় হল, যেথায় সে ছুড়ে মারল না দেখেই।
প্রায় দেড় ঘন্টার সংগ্রাম শেষে বিজয়ী বেশে বিছানায় নিখিলের বুকের উপর শুয়ে আছে মাধুরী।
নিখিল মাধুরীকে ঠেলে বুক থেকে নামাতে নামাতে বলল,
“কাল বাড়ি যাব, সপ্তাহ খানেক থাকব। এই কয়েকদিন মাহিরকে একটু পড়াতে বসিও। নয়তো ছেলেটা পিছিয়ে যাবে।"
“সপ্তাহ কেন?"
মাধুরী চুলে খোঁপা বাঁধতে বাঁধতে জিজ্ঞেস করল। নিখিল প্যান্টে পা ঢুকাতে ঢুকাতে বলল,
“আম্মা মেয়ে দেখছে, যদি পছন্দ হয় তবে একেবারে কাজ শেষ করেই আসব।”
“তবে আর আসার দরকার নেই।"
মাধুরী বিছানা থেকে নামল। তার সারা শরীর বস্ত্রহীন। একটা সুতাও নেই। সে নিজেকে ঢাকতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে পড়ে থাকা শাড়ি তুলে হাতে নিতেই নিখিল পিছনে এসে দাঁড়াল। কপাল কুঁচকে বলল,
“কেন?"
“কারণ আমি অন্যের ব্যবহৃত কিছু ব্যবহার করি না। আর এটা তো আস্ত জলজ্যান্ত মানুষ।"
নিখিল এই কথায় ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসল। তিরষ্কার করে বলল,
“আর তুমি যে এক বাচ্চার মা! সেই বিষয়ে? ঐটা কী ব্যবহার ছাড়াই হয়েছ নাকি?"
“নিখিল!"
ধমকে উঠল মাধুরী। নিখিল ঠোঁটে সেই তিরষ্কারের হাসিটুকু ধরে রেখে তাকিয়ে আছে। যা মাধুরীর গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। সে শাড়ির আঁচল কাঁধে রেখে কোমরে বাকী অংশ গুঁজতে গুঁজতে বলল,
“আমার সঙ্গে তোমার এভাবে কথা বলার অধিকার নেই। আমি তোমাকে ভালোবাসি, তাই সব ভুলে নিজেকে তুলে দেই। আর তুমি? তুমি কী বুঝেছ আমি তোমার উদ্দেশ্যে বুঝি না? তুমি আমাকে কোন ভালোটালো বাসো না। সেটা আমি বেশ ভালো করে জানি। তুমি শুধু আমার এই শরীর আরো এই যে কচকচে নোট দেই! এগুলাকেই ভালোবেসে আমার কাছে আসো। নয়তো...
মাধুরীকে ক্ষেপতে দেখে নিখিল সতর্ক হয়ে গেল। সোনার ডিম পাড়া হাস মাধুরী। তাকে হারিয়ে ফেললে নিজের পকেট ফাকা থাকবে। অনার্স সম্পন্ন করেও আজ অবধি চাকরি জুটাতে পারেনি।
তিনটা টিউশনি দিয়ে কোনরকম চলছিল। এরকম মুহূর্তে মাহিরকে পড়ানোর দায়িত্ব জুটেছিল। মাস দেড়েক পাড় হতেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে মাহিরকে পড়ানোর পর মাহিরের মায়ের সঙ্গে খেলাধুলার সৌভাগ্য হয়। যার ফলাফলে প্রতিবারই বেশ মোটা এমাউন্ট নিয়ে এখান থেকে যেতে পারে।
নয়তো কী ছাব্বিশ বছর বয়সী একজন পুরুষ হয়ে ছত্রিশের নারীতে মজে?
মাধুরীর তুলে রাখা আঁচল ফেলে দিল নিখিল। কোমরে গুজে ফেলা কাপড় টুকু টেনে খুলে মাধুরীকে আয়নার সঙ্গে চেপে ধরে বলল,
“কী বললে? আমি তোমাকে ভালোবাসি না? এটা তুমি বলতে পারলে?"
মাধুরী নিখিলের উদাম গায়ে আঙুল ঠেকিয়ে মৃদু ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করে বলল,
“না!"
নিখিল তার বুকের উপর বাঁধা দিয়ে রাখা মাধুরীর আঙ্গুল নিজের হাতের মুঠোয় পুরে মাধুরীকে ঘুরিয়ে টেবিলের সঙ্গে আঁটকে নিয়ে নিজেও ওর সঙ্গে মিলে দাঁড়িয়ে বলল,
“কী করলে বিশ্বাস করবে?"
“বাড়ি যেও না। বিয়ে করো না।"
এইটুকু বলেই নিখিলকে ঠেলে সরিয়ে নিজে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিখিলের কাঁধে হাত রেখে ওকে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে জড়িয়ে ধরে বলল,
“এক কাজ করো, চলো কক্সবাজার যাই। তুমি আর আমি?"
নিখিলের চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। প্রস্তাব পছন্দ হয়েছে। গ্রামে সে যাচ্ছিল এমনিতেই। বিয়ের কথা বলে তার প্রতি মাধুরীর দূর্বলতা মাপল শুধু। যা তাঁকে তৃপ্তি দেয়।
সে মাধুরীর নিতম্বে হাত বুলিয়ে নিজের গায়ে সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে মাধুরীর ডান পা খানিকটা উপরে তুলে ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল,
“কবে?"
“কালই!"
“মাহির?"
“ওকে ওর নানী বাড়ি রেখে যাব। সমস্যা হবে না।"
“আর তোমার স্বামী!"
“তাকেও ম্যানেজ করে ফেলব!"
“তোমার শ্বশুর বাড়িতে কী বলবে?"
“এত কিছু তোমাকে ভাবতে হবে না। তুমি শুধু ভাব, আমাকে কীভাবে খুশি করবে!"
“সে তো ভাবাই। এভাবে, যেভাবে করি।"
বলেই পূণরায় মাধুরীকে পেঁচিয়ে ধরে বিছানায় নিয়ে ফেলল। অতঃপর মাধুরীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
---------------------------
“কক্সবাজার? একা কীভাবে যাবে?"
“একা কেন যাব? স্কুলের কিছু বান্ধবীরা মিলে যাব। বাচ্চাদের নিব না। বোঝোই তো, সবাই সংসার থেকে একটা দিনের ছুটি নিচ্ছে। তোমরা চাকরি করো তোমাদের ছুটি আছে, আমাদের কী সংসার থেকে একদিনের ছুটিও নেওয়ার অধিকার নেই?"
“কেন থাকবে না, অবশ্যই আছে। তাছাড়াও, সংসার তোমার। সেথায় তুমিই বস। তোমাকে নিষেধ করবে কে বল? আর আমি তো সেথা অতিথি কেবল।"
“ধুর, বাজে বকো না তো। তুমি ছাড়া আমি কি! কিছুই না।”
“Did you really miss me that much?”
“অবশ্যই! তুমি আমার স্বামী; তোমার মিস করব না তো কাকে করব?"
“I also missed you so much! I wanna bite your soft cheeks and your soft lips and..
“ Stop stop! দূর থেকে মিস করেই যাও। কাছে আসা আর লাগবে না। আমার মরার পর এসো একবারে।"
“এসব বলো না সোনা। দূরে কী ইচ্ছে করে থাকছি? তোমাদের জন্যই তো। ছেলেটা বড় হচ্ছে। ওর নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তো..
“আর আমাদের? আমাদের যে একটা সুন্দর দাম্পত্য হল না সেই বেলায়? এই সময় ফুরিয়ে গেলে আর পাবো?"
"কে বলেছে আমাদের দাম্পত্য হয়নি? দাম্পত্য না হলে তুমি মা হলে কীভাবে? আমরা এই যে সারারাত পাড় করে দেই বৈধ প্রেমের আলাপে তা কীভাবে হত? সোনা, আমি বুঝি তোমার কষ্ট হচ্ছে। কষ্ট কী আমার হচ্ছে না, বলো? আমিও তো মানুষ! পুরুষ মানুষ! আমার দহন একটু বোঝ! তুমি এত ছটফট করছ, অথচ আমি কাছে থেকে আদর করতে পারছি না এই দহন কীভাবে নেভাই, তা তুমি বোঝ?
আর একটু ধৈর্য ধর। তোমার সাধের ডুপ্লেক্স এর টাকাটা ব্যাংকে জমা হোক। এরপরই তোমার কাছে চলে আসব। তখন খুব আদর করব। আরে আমরা স্বামী স্ত্রী, আমাদের আদরের আবার বয়স কী!"
“হইছে। এত স্বপ্ন দেখানো লাগবে না। এসে সোজা কাজে প্রমাণ দিও তখন দেখব কত পারো।"
“আচ্ছা তাই? আচ্ছা তাহলে এখন একটুও ভিডিও কলে আসো। দেখি দূরে থেকেই কতটা প্রমাণ দিতে পারি।"
“ধুর, কীসব বলো!"
“আরেহ আসো। আচ্ছা আমি ভিডিও কল দিচ্ছি।"
“না এখন না। "
মাধুরী মৃদু স্বরে চেঁচিয়ে উঠল। অপরপ্রান্তে থাকা খালেক খানিকটা বিব্রত হল। স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ভিডিও কল দিতে চাইছে অথচ সে না করছে। খালেক কারণ জিজ্ঞেস করবে তার আগেই মাধুরী বলল,
“এখন ছেলের টিচার আসবে। এখন না।"
“ছেলের টিচার এখন কেন আসবে? সে না বিকেলে আসে? ছেলে আজ স্কুলে যায়নি?"
মুখ ফসকে কথাটি বলে ফেলেছে। কী করেছে বুঝতে পেরে মাধুরী নিজের কালে হালকা চড় মারল। অতঃপর থতমত খেয়ে বলল,
“না মানে বিকেলেই আসে। আজ গ্রামে যাবে তো তাই কিছু নোট লিখে দিয়ে যাচ্ছে মাহিরের জন্য। সেগুলোই দিতে আসছে।"
“ওহ, আচ্ছা। আচ্ছা শোন সাবধানে থেকো। এসব ছেলেপুলে সুবিধার হয় না"
“মানে?"
মাধুরী কপালে ভাঁজ ফেলে জিজ্ঞেস করল। খালেক রসিকতার সুরে বলল,
“মানে এদের চোখ পরের সুন্দরী বউ, জি'য়ের দিকে থাকে। আর আমি চাই না আমার বউকে অন্য কেউ....
“ধুর! ফালতু ক্যাটাগরির মজা করবা না তো। ছেলেটা অত্যন্ত ভালো ও নিরীহ। জানো কত ছোট আমাদের। মাত্র পঁচিশ শেষে ছাব্বিশ হল আর তুমি...
“আচ্ছা ঠিক আছে। আমি মজা করছিলাম। এত সিরিয়াস হওয়ার কিছু নেই। তুমি যেহেতু পছন্দ করো তার মানে সে অবশ্যই ভালো।"
“আচ্ছা রাখছি। কাজ আছে অনেক। আর হ্যাঁ, প্লিজ তোমার আব্বা আম্মাকে একটু ম্যানেজ করো। আমি মাহিরকে ওর নানা বাড়িতে রেখে যাচ্ছি। সেখান থেকেই স্কুলে যাওয়া আসা করবে। আর, টাকা পাঠিও। বোঝোই তো, বান্ধবীদের সাথে যাচ্ছি। পয়সার ঘাটতি দেখলে সবাই মজা নিবে!"
“আমাকে কেন বলা হচ্ছে? ব্যাংকে তো বলাই আছে। তুমি গেলেই... যাওয়াও তো লাগবে না। ঘরে বসেই টাকা উত্তোলন করতে পারছ। সুতরাং যা লাগে নিজের মতো নিয়ে নাও। যা আমার তাই তোমার।"
“পরে তো বলবা আমি তোমার সব শেষ করে দিচ্ছি!"
“আমার সব তুমি আর আমাদের সন্তান। তোমরা খুশি আছ মানে আমার সব ঠিক আছে। সুতরাং এসব বলে নিজেকে ছোট করবে না। যাও, বান্ধবীদের সাথে গিয়ে মজা করো। আমাকে ছবি পাঠিও। দেখব আমার সুন্দরী বউয়ের সুন্দর বান্ধবীদের।"
“একদম চোখ গেলে দিব!"
“আচ্ছা ঠিক আছে দেখব না। শুধু আমার বউকেই দেখব, সেটাই দিও।"
“হুম, ভালো থেকো। নিজের যত্ন নিও। রাখছি!"
কল কেটে শাড়ির আঁচলটা বুক থেকে একটু নিচ নামিয়ে আয়নার দিকে ঝুঁকে একটা মিরর সেলফি তুলল। যার দরুন ক্লিভেজের খাঁজ অবধি দেখা যাচ্ছে। ছবিটা মাই ম্যান নামের হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্টে সেন্ড করার পাশাপাশি সুইট বয় একাউন্টেও সেন্ড করে মোবাইলটা ছুঁড়ে মারল বিছানায়।
পর্ব_০২
কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে একজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করে হয়েছে।”
এরকম খবর রোজই কানে আসে।
মাহবুব আলম চ্যানেল ঘুরিয়ে দিলেন। তখনি পাশ থেকে উনার পুত্র বধূ ফারজানা বলল,
“আপাকে একটা ফোন দেই। বান্ধবীর অসুস্থতা দেখতে গেল, কিছু তো জানাল না।"
মাহবুব আলম পুত্র বধূর দিকে না তাকিয়েই বললেন,
“হ্যাঁ হ্যাঁ ফোন করো।"
“মামী, আম্মুর সাথে কথা বলব।"
মাহির কাঁধ থেকে ব্যাগটা সোফায় রাখতে রাখতে বলল। ফারজানা ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখেই বলল,
“কল দিচ্ছি, কথা বলে নিও। তার আগে ব্যাগটা ঘরে রেখে আসো।"
“তুমি রাখো।"
বলেই মাহির সোফায় গা এলিয়ে দিল। ফারজানা তা দেখে নাক কুঁচকে বলল,
“আগে ফ্রেশ হও মাহির। তারপর রেস্ট নাও। সব এলোমেলো অভ্যাস তোমার!"
“আগে ফোন দাও, আম্মুর সাথে কথা বলব; তারপর যাব!"
মাহিরের জেদের কাছে হার মেনে চুপ হয়ে গেল ফারজানা। মাহবুব আলম নাতির জেদে গা ভিজিয়ে পুত্রবধূকে বললেন,
“দাও দাও, বাচ্চা মানুষ। মায়ের সাথে কথা বললে মন ভালো থাকবে।"
ফারজানা নাম্বার তুলে রাখলেও তখনো কল দেয়নি। এবার কল দিল এবং হতাশ চোখে মাহিরের দিকে তাকিয়ে বলল,
“মোবাইল বন্ধ বলছে!"
“ওর মোবাইল কখনো বন্ধ থাকে না। সবসময় ফোনটা হাতে থাকে। তবে এবার কী হল?"
মাহবুব আলমের কথার পিঠে ফারজানা বলল,
“হয়তো যেখানে গেছে সেখানে বিদ্যুৎ নাই, চার্জ দিতে পারে নাই।"
“হতে পারে!"
মায়ের ফোন বন্ধ শুনে বারো বছরের মাহির উদাস মনে ব্যাগটা কাঁধে তুলে তার জন্য বরাদ্দকৃত রুমে গেল।
সারাদিন পেরিয়ে গেল। ফারজানা মাহিরের তাড়নায় পড়ে আরো কয়েকবার কল দিল। একই ভাবে বারবার হতাশ হল।
দিন পেরিয়ে রাত ঘনিয়ে এলেওয়একই অবস্থা বজায় রইল। মাহির ধৈর্য্য হারা হল। অবশেষে রাত বারোটার পর বাবার কাছে কল দিল নানার মুঠোফোন থেকে।
“হ্যালো বাবা!"
“হ্যাঁ, বাবা বলো। কেমন আছে আব্বা?"
মাহির কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,
“আমি ভালো। তুমি কেমন আছো?"
“আমি এই তো, আমার আব্বা কাঁদছে কেন? কে বকেছে? এত সাহস কার?"
“আম্মুর ফোন বন্ধ বলে।"
“আম্মুর ফোন বন্ধ বলে; তাতে কান্নার কী আছে? হয়তো চার্জ নাই।"
“না সকাল থেকে ফোন বন্ধ। তুমি আম্মুকে ফোন দাও।"
খালেক ছেলের কান্নায় অস্থির হয়ে উঠল। তার নিজেরও চিন্তা হচ্ছে।
কাল সন্ধ্যা পর কথা হয়েছিল শেষ বার। তখন বলেছিল রাতে বারবার কল না দিতে, বান্ধবীরা মজা করে। তাই সে আজ সারাদিন কল দেয়নি। অবশ্য মাধুরী কল না দেওয়ায় খানিকটা দুঃখ লাগছিল বৈকি তাও সে আজ কল দেয়নি। সঙ্গ দিতে পারে না। নিজে কোথাও নিয়ে যেতে পারে না। যদি নিজে একা কোথাও গিয়ে দুদন্ড সুখ খুঁজে, তাতে দোষ কিসে!
খালেক ছেলেকে শান্ত করে বলল,
“ঠিক আছে কাইদো না। তোমার আম্মু যেখানে গেছে সেখানে নিশ্চয়ই কারেন্ট নাই। তাই মনে হয় মোবাইলে চার্জ দিতে পারে নাই। চার্জ দিয়ে মোবাইল চালু করলেই দেখবা তোমারে কল দিছে।"
ছেলেকে বুঝ দিয়ে কল কাটল। পরপর নিজে দুইবার কল দিল। লাভ হল না।
এই দুশ্চিন্তা নিয়ে রাত পার হয়ে পরের দিন দুপুর গড়াল। তখনও মাধুরীর কোন খোঁজ নেই। খালেক তার শ্যালকের কাছে কল দিয়ে বলল,
“ওর বান্ধবীদের চিন? হয় তুমি তাগোরে কল দাও, নাইলে আমি দেই।”
“আমার কাছে তাগো নাম্বার নাই। থাকলে তো দিতামই!"
“বউমার কাছে আছে?"
“ওর কাছে কেমনে থাকব? যার বান্ধবী তার কাছেই তো থাকব!"
“তাইলে এক কাজ করো থানায় জিডি করো। আমার মন কু গাইতাছে।"
“আল্লাহ আল্লাহ করেন। আচ্ছা যেই বান্ধবীর বাড়িতে গেছে তার নাম্বার ঠিকানা কিছু দেয় নাই আপনারে!"
“বান্ধবীর বাড়িতে গেছে কে বলল?"
“ঐ তো বলে গেছে।"
“আরেহ না... বান্ধবীর বাসায় যায় নাই। গেছে কক্সবাজার। বান্ধবীগো লগে। ছেলে কাঁদব তাই মিছা বলছে।"
“কি কন!"
“সত্যিই কই! তুমি গিয়া থানায় একটা নিখোঁজ রিপোর্ট করো। আর আমি দেখতেছি ওর বান্ধবীদের নাম্বার ম্যানেজ করতে পারি কিনা!"
খালেক শ্যালক তোফায়েলের সঙ্গে কথা শেষ করে মাধুরীর ফেসবুক একাউন্ট ঘাঁটতে বসল।
প্রায় দেড় ঘন্টার তদন্ত শেষে দুই জন কাছের বান্ধবীর একাউন্ট খুঁজে পেল। অতঃপর ম্যাসেজ করে প্রথমেই পরিচয় দিল।
এদিকে তোফায়েলও একই ভাবে সবকিছু খুঁটিয়ে বের করল তার বোনের কাছের বান্ধবীদের তথ্য। ফারজানাকে দিয়ে কল দেওয়াল,
“আসসালামু আলাইকুম বিন্দিয়া আপু, আমি মাধুরী আপার ভাইয়ের বউ বলছি। আপনার সাথে একদিন রাস্তায় পরিচয় হয়েছিল!"
“জি জি চিনতে পেরেছি। কেমন আছেন?"
“আছি এইতো। আচ্ছা আপু, আপনারা কবে আসবেন কক্সবাজার থেকে?"
“কক্সবাজার থেকে আসব মানে?"
“আসবেন না আর! ঐখানেই থাকার প্ল্যান করেছেন বান্ধবীরা মিলে?"
“থাকতে পারলে তো ভালোই হত। কিন্তু আফসোস আমি এখন ঘরে বসে বেডার লুঙ্গি ধুই!"
“মানে আপনি যান নাই কক্সবাজার!"
“না ভাই। আমি আমার এই পঁয়ত্রিশ বছর জীবনে একবারও কক্সবাজার যাইনি। বাপের বাড়ি যাওয়ার পথে ঐ পদ্মা পড়ে! যার পাড় দেখিয়ে মনকে বুঝ দেই, ‘এই তোর কক্সবাজার' বলে।"
“আহারে! আচ্ছা আপু, আপনাদের বান্ধবীদের মধ্যে যারা কক্সবাজার গিয়েছে তাদের কারো যোগাযোগ নাম্বার দিতে পারবেন? আসলে মাধুরী আপার নাম্বারটা কাল থেকে বন্ধ দেখাচ্ছে। মাহির মানে মাধুরী আপার ছেলেটা খুব কাঁদছে মায়ের জন্য।"
“মাধুরী কক্সবাজার গিয়েছে? কই বলেনি তো! আর আমার জানামতে আমাদের কোন বান্ধবী কক্সবাজার যায়নি। গেলে তো সব ফেসবুক ভাসিয়ে দিত ওদের বাঁদর মুখো সেলফি পোস্ট দিয়ে।"
“কি বলছেন? আপা তো বলল আপনারা স্কুলের সব বান্ধবীরা মিলে কক্সবাজার যাচ্ছেন, তাই ছেলেকে নিবে না। অথচ আপনি বলছেন কেউ যাননি!"
“না ভাই আমরা কেউ কক্সবাজার যাইনি। আজ সকালেও আমাদের বান্ধবী সোনিয়ার সাথে কথা হল। সেও ঘরে বসে স্বামী সেবা করছে। আর অন্যরা গেলে অবশ্যই জানতাম। তার চেয়ে বড় কথা, বিয়ের পর স্বামী সন্তান ছাড়া জাহান্নামে যেতেও রাজী নই, সেখানে কক্সবাজার ছেলে মেয়ে ছাড়া যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।"
“ইয়া আল্লাহ কী বলছেন! তাহলে আপা কোথায় গেল? কাল সকাল থেকে নাম্বার বন্ধ দেখাচ্ছে। আমাদের বলে... আচ্ছা আপা রাখছি। যদি কোন খোঁজ পান একটু জানাবেন প্লিজ!"
“আল্লাহ, এটা তো খুবই চিন্তার বিষয় হয়ে গেল। কোথায় গেল মেয়েটা?"
বিন্দিয়ার সাথে কথা শেষ করল। পাশেই বসেছিল তোফায়েল। চিন্তায় তার ঘাড় চুয়ে ঘাম পিঠ ভিজিয়ে দিয়েছে।
তিনদিন পাড় হল। অবশেষে একটা কল এলো।
আজিমপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে।
পাঁচদিন আগে কক্সবাজার থেকে উদ্ধারকৃত মরদেহটি মাধুরীর বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। খবরটা কানে যেতেই মাহবুব আলম পুত্র বধূ ফারজানা ও পুত্র তোফায়েলকে সাথে নিয়ে ছুটে গেলেন সেথা।
কক্সবাজার থানার বিচক্ষণ অফিসারের চুলচেরা তদন্তে বেরিয়ে আসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত।
ভিকটিম মারা যাবার দুইদিন আগে একজন পুরুষের সঙ্গে উল্লিখিত হোটেলে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে রুম বুক করে। তাদের এক সঙ্গে হোটেলের বিভিন্ন স্থানে বসে আন্তরিক মুহূর্ত কাটাতে দেখা গেছে সিসি ফুটেজে। এ ছাড়াও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, ‘ ভিকটিম মারা যাবার কিছু সময় পূর্বেও তাদের মধ্যে ফিজিক্যাল মুহূর্ত কেটেছে।'
যেদিন লাশ উদ্ধার করা হয় সেদিন ভোর বেলা প্রায় ফজরের আযানের পূর্ব মুহূর্তে পুরুষ লোকটিকে একা বেরিয়ে যেতে দেখা গেলে তাকে আর ফিরে আসতে দেখা যায়নি।
লাশের ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকে আইডেনটিটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এবং সঙ্গের সেই পুরুষের তথ্য যোগাড় করা হয়েছে।
আজিমপুর থানার পুলিশ মাধুরীর সঙ্গে হোটেলে ওঠা লোকের ছবিটা মাহবুব আলম ও বাকীদের দেখালে তারা চিনতে পারেনি। পরে পুলিশ মাহিরকে দেখানোর কথা বলে। ঐদিকে খালেকের কাছে এই খবর পৌঁছাতেই সে থমকায়। তার অগোচরে তার স্ত্রী অন্য কারো স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে উঠেছিল?
মাধুরী মারা গিয়েছে! তার কাছে সেটার চেয়ে মূখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে তার স্ত্রী অন্য কারো স্ত্রী হয়ে সময় কাটাতে হোটেলে গিয়ে প্রাণ হারাল?
“দেখ তো বাবা, একে চিন কি-না?"
মাহির সি-ক্যামেরার ঘোলাটে রেজুলেশন এর ঝাঁপসা ছবিটা ভালো করে দেখল। অতঃপর কনফিউজড হয়ে বলল,
“স্যারের মতো লাগছে।"
“কোন স্যার?"
“আমাকে পড়ায়, ঐ স্যার!"
“নাম কি?"
”নিখিল! আমাকে গণিত আর সাইন্স পড়ায়!"
“বাড়ি কোথায় বলতে পার?"
“স্যার এখানে কোথায় জানি ম্যাচে থাকত, আর.. গ্রামের বাড়ি আমি জানি না। আম্মু জানে।"
“আচ্ছা ঠিক আছে। আর জানতে হবে না তোমাকে। বাকীটা তোমার আম্মুই বলবে।"
পুলিশ মাধুরীর ফেসবুক একাউন্টের এক্সেস নিল। সেটা ঘেঁটে নিখিলের ফেসবুক একাউন্ট খুঁজে বের করল। সেখান থেকে ফেসবুকে থাকা টিচিং হান্টিং পেইজের স্টুডেন্ট একাউন্টের মাধ্যমে তদন্ত চালায়।
প্রায় দেড় মাস পর নানা শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হল নিখিলকে।
এর মধ্যেই দেশে ফিরে আসে খালেক। যার জন্য ডুপ্লেক্স বাড়ি বানানো ইচ্ছা ছিল তার, সেই তো অন্য কাউকে খুশি করতে গিয়ে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছে। তবে তার আর ডুপ্লেক্স বাড়ি বানিয়ে কি কাজ!
“কতদিনের সম্পর্ক ছিল তোমাদের?"
খালেক নিখিলকে জিজ্ঞেস করল। দু'জন থানায় মুখোমুখি দাঁড়ানো। মাঝে শুধু লোহার শিক দিয়ে বানানো একটা দেওয়াল। নিখিল মাথা নত রেখে উত্তর দিল,
“দেড় বছর!"
দেড় বছর? দেড় বছর ধরে তাকে ঠকিয়ে যাচ্ছে মাধুরী! অথচ সে বুঝতেও পারেনি। কি চমৎকার অভিনয় করত! এত সুনিপুণ অভিনয় বোধহয় জয়া আহসানও করে না। খালেকের পুরুষত্বায় আঘাত লাগল। নিজেকে অপদার্থ মন হল। যে পুরুষ ঘরের বউয়ের চলন বোঝে না সে কীসের পুরুষ!
খালেক লজ্জিত শির নুইয়ে নিয়ে লম্বা করে একটা শ্বাস ফেলল। ফের মাথা তুলে জিজ্ঞেস করল,
“মারলে কেন?"
নিখিল মাথা তুলল। অপরাধীর চোখে, তাকাল তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা, পেটা দেহের গৌড় বর্ণের অধিকারী পুরুষটির পানে। দীর্ঘ সময় সৌদি থাকায় তার চেহারায় সৌদিয়ানা ভাব ফুটে আছে। কানের গোঁড়ার চুল, গোঁফে বেশ পাক ধরেছে। নিখিল আর তাকিয়ে থাকতে পারল এই বিক্ষিপ্ত নজর পানে।
সে চোখ নামিয়ে কল্পনা করতে লাগল।
সময়টা রাত আটটা....
লাল নেট কাপড়ের নাইটি পরিহিতা মাধুরী ঠোঁট ভর্তি লিপস্টিক মেখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলে ব্রাশ করছিল। ঠিক সেই সময় পিছনে গা ঘেঁষে দাঁড়ায় নিখিল। মাধুরীর চুলের ভাঁজে ঠোঁট ডুবিয়ে কোমর চেপে মাধুরীর ভারি কোমরের আশপাশ হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
“ইউ লাইক ওয়াইন। দেখলেই নেশা চড়ে যায়!"
নিখিলের প্রশংসায় মাধুরী ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসে। অতঃপর ব্রাশ রেখে নিখিলের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করল,
“সত্যিই?"
“একদম!"
“তাহলে নেশা করছ না কেন?"
“করতেই তো চাই। চলো..!"
বলেই মাধুরীর কোমর চেপে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে বিছানার দিকে যেতেই মাধুরীর ফোন খানা আওয়াজ করে বেজে উঠল।
রিং টোন কানে যেতেই মাধুরী নিখিলকে সরিয়ে ফোন হাতে নেয়। খালেকের নাম্বার দেখে কপালে চওড়া ভাঁজ ফেলে কয়েক সেকেন্ড চেয়ে থাকে। ততক্ষণে কল কেটে গেছে। এদিকে অধৈর্য্য হয়ে নিখিল পিছন থেকে মাধুরীকে জড়িয়ে ধরে নাইটির ফিতে টেনে সামনের অংশ উন্মুক্ত করে আয়নার দিকে চোখ রেখে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে মাধুরীর ক্লিভেজের সাধ নিতে থাকে।
মাধুরীর ঘাড়ের লেহন করতে করতে হাত দিয়ে ছুয়ে দিতে থাকে মাধুরীর নরম মাংস পিন্ড।
নিখিলের বেসামাল ছোঁয়ায় অস্থির হয়ে ওঠা মাধুরী বাধ্য হয়ে নিখিলকে সরিয়ে খালেকের কল রিসিভ করে। কল রিসিভ করতেই খালেক আহ্লাদি গলায় কথা বলা আরম্ভ করে। কিন্তু তার আহ্লাদকে গলা টিপে মাধুরী তার ঠাট বজায় রেখে বলে,
“কত বার বলছি বারবার কল দিও না। আমি কী পরপুরুষের সঙ্গে ভেঙে আসছি যে বারবার কল দিয়ে খোঁজ নিচ্ছ? আমি বাড়ি যাওয়ার আগে আর ফোন দিবা না।"
কথা শেষ করেই কল কেটে দেয়। নিখিল মাধুরীকে সরাসরি কখনো খালেকের সঙ্গে কথা বলতে দেখেনি। আজ প্রথম দেখল এবং তাও এভাবে!
সে খনিক সময়ের জন্য ভুলে গেল নিজের কাজ। মাধুরীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“তোমার খারাপ লাগে না, যেই মানুষটি তোমাকে এত্ত ভালোবাসে, তাকে চিট করতে?"
“না লাগে না।"
“সত্যিই?"
“মিথ্যা কেন বলব! তাও তোমার সাথে। যার আমার সঙ্গে চিট করতে খারাপ লাগে না তাকে আমি করলে কী দোষ?"
“মানে?"
“মানে খুব সহজ! যার জন্য মায়া লাগার কথা বলছ, সে নিজেই আমাকে এই পথ দেখিয়েছে।"
“কীভাবে?"
নিখিলের প্রশ্নে মাধুরীর চোখে ভেসে উঠল পাঁচ আগের কিছু তেতো সত্য।
সেবার খালেক স্বল্প সময়ের জন্য দেশে এসেছিল। খালেকের ছোট বোন ও ভাইয়ের একসঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য। এই কারণে খালেক এত ব্যস্ত ছিল যে মাধুরীকে দেওয়ার মতো সময় ছিল না তার কাছে। এই নিয়ে মাধুরী এমনিতেই ক্ষ্যাপা ছিল। তার মধ্যে আগুনের ঘি হয়ে ওঠে খালেকের ফোন নিয়ে অতিরিক্ত লুকোচুরি।
সে ফোন কারো হাতে দিতে চাইত না। এমনকি মাধুরীর হাতেও না। বাচ্চা ছেলেটা একটু ধরায় তাকে ইচ্ছা মতো ঝেড়েছে। এসব দেখে মাধুরীর খটকা লাগে। সে সন্দেহ করে নিশ্চয়ই খালেক কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। তাই তো তার ফোন নিয়ে এত লুকোচুরি।
মাধুরী তকে তকে থেকে ফোনের পাসওয়ার্ড জেনে নেয়। অতঃপর....
ভাই-বোনের শ্বশুরবাড়ির নতুন সদস্যদের নিয়ে একটা পারিবারিক গেট টুগেদার আয়োজন করেছিল খালেক যাওয়ার আগের দিন। তখন পরিবারের সব পুরুষরা মিলে মাছ ধরার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। খালেক সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য খালে যায়। তড়িঘড়িতে যাওয়ার সময় ফোন রেখে যায় ড্রেসিং টেবিলের উপর।
সুযোগের অপেক্ষায় থাকা মাধুরীর লক্ষ ছিল খালেকের ফোন হাতানো। সবাই যেতেই সে ঘরে ঢুকে যখন ড্রেসিং টেবিলের উপর ফোনটা পেল, সময় অপচয় না করে দরজা জানালা চেপে সে ফোন নিয়ে ঘাঁটতে বসে গেল। অতঃপর যা সে আশা করেছিল তা না পেলেও তার চেয়েও জঘন্য জিনিস পেয়েছে।
খালেকের মোবাইলের গ্যালারি ঘেঁটে তার বিভিন্ন ছবি পেয়েছে। যেগুলো সে দিয়েছিল খালেকের সন্তুষ্টির জন্য। এরপর বিভিন্ন ফোল্ডার একটা একটা করে প্রতিটি সার্চ করল। সেখানে একটা ফোল্ডার ভর্তি ছিল খালেকের সঙ্গে বিভিন্ন নারীদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সেইভ করা।
মাধুরী আরো ঘাঁটে। পুরানো কিছু ফাইল পায়। যেগুলোর তারিখ তাদের বিয়েরও পূর্বের। সেখানেও একাধিক মেয়ের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সংগ্রহ করে রাখা।
মাধুরীর মাথা চক্কর দিল। সে বুঝতে পারছে না কি করবে! তার জবান লেগে যায়। শুধু একটা মেয়ে নিয়ে হলে বুঝত তাকে রেখে পরোকিয়া করছে অথবা ঐ মেয়েটাকে ভালো লেগেছে তাই এসব করছে।
কিন্তু এত কিছু দেখার পর এটাকে কী বলবে? এদিকে পুরো বাড়ি ভর্তি আত্নীয় স্বজন। মাধুরী স্তব্ধ হয়ে গেছে। তার বাকশক্তি হারিয়ে গেছে।
সেভাবেই সেই প্রহর কাটল। খালেক সবাইকে নিয়ে মাছ ধরে হইহই করতে করতে বাড়ি পৌঁছে মাধুরীর মুখোমুখি হতেই মাধুরী থমকায়। খালেকের শরীরের দিকে তাকাতে ওর চোখে ভেসে ওঠে মেয়েদের নিয়ে করা খালেকের রাশলীলা। তার ঠোঁট ছুঁই ছুঁই খালেকের পুরু ঠোঁটে একাধিক নারীর ঠোঁটের ছোঁয়া কল্পনা করতেই মুহূর্তে বমি করে ভাসিয়ে দিল মাধুরী।
মাধুরীকে আচানক এমন ভাবে বমি করতে দেখে ভরকাল খালেক। তড়িৎ গতিতে ছুটে গিয়ে মাধুরীকে জিজ্ঞেস করতেই যাবে তার আগেই মাধুরী গায়ের কাপড় দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ছুটে ওয়াশ রুমে পড়ল।
খালেক এসেছে মাস হয়নি। এর মধ্যেই কীভাবে মাধুরী গর্ভবতী হল? এই নিয়ে উঠানে তুমুল আলোচনা।
শ্বাশুড়ি পানের খিলি গালে পুরে বা পাশের মাড়ি দিয়ে চেপে ধরে আটকে আসা গলায় বললেন,
“খুশির খবর হইলে ভালা কিন্তু সেই খুশির তো যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে।”
তার কথার পিঠে ছোট ছেলের পক্ষের নতুন বেয়াইন বললেন,
“আল্লাহর কারিশমা। তিনি চাইলে ম্যালা কিছুই হয়।”
উনার কথা শেষ হতেই মাধুরীর ছোট ননদের বড় ননাস বললেন,
“আগে দেখেন রেজাল্ট কী হয়। বমি করলেই গর্ভবতী হয় না।”
“তাতো ঠিক। কিন্তু বউমার হাবভাব তো…
ছোট ভাইয়ের শ্বাশুড়ি কে থামিয়ে দিয়ে এই পর্যায়ে মাধুরীর ননদের ননাস বললেন,
“আমার মনে হচ্ছে উনার লিভার সংক্রান্ত কোন ঝামেলা আছে। চোখ-মুখ কেমন হলুদ দেখেন না?”
“যাই হোক, আল্লাহ রহম করুক।”
খালেকের মা কথাটি বলেই জলচৌকি ছেড়ে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ান। বারান্দার রেলিং ধরে উঠানে বসে এই বিষয় নিয়ে গল্পে মজে থাকা অতিথিদের দেখে, রেলিং ধরে ধীর পায়ে হেঁটে বারান্দা পেরিয়ে উঠানে নেমে মেয়ের বাড়ির নতুন অতিথিদের উদ্দেশ্য করে বললেন,
“আপনারা খানাদানা শেষ করে নিতেন!”
“সে আমরা তো খাবোই। আপনার বড় বউমার এখন কী খবর? মিষ্টি কিন্তু ছাড়ছি না মাওইমা।”
খালেকের মা মাথার ঘোমটা টেনে আরো লম্বা করে নিয়ে কানের গোঁড়ায় কাপড়ের বর্ধিতাংশ গুজতে গুজতে বললেন,
“সে না হয় খাবেন। আল্লাহ রিজিকে রাখলে শুধু মিষ্টি কেন, কোর্মা পোলাও’ও খাবেন।”
“আপনি কী চান?”
“আমার চাওয়ায় আর কী হবে? চাইতে হবে যাদের ঘটনা তাদের। দিবে আল্লাহ। আমি তো আল্লাহর কাছে যা পাই তাতেই খুশি।”
ডাক্তার বিছানায় কপালে হাত রেখে টানটান হয়ে শুয়ে থাকা মাধুরীকে পর্যবেক্ষণ শেষ করে উঠে দাঁড়াল। খালেক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।
“কী বুঝলেন?”
“সবকিছু ঠিক আছে। চিন্তার কিছু নেই।”
“তাইলে ওমন করে বমি করল কেন? বমি করতে করতে একদম ঢলে পড়ল!”
“প্রেসার একটু কম কিন্তু তাতে এমন কিছু ঘটার কারণ নেই। আমার মনে হয় উনি এমন কিছু খেয়েছেন অথবা দেখেছেন যেটা অ-সূচি। উনি তা হজম করতে পারেনি বলেই সবটা উগড়ে দিয়েছেন।”
“কী বলেন?”
“হ্যাঁ! আচ্ছা আমি এখন আসি।”
“ফি নিয়ে যান!”
ডাক্তার কাজ শেষে বেরিয়ে যেতেই মাধুরী উল্টো পিঠে কাত হয়ে শুয়ে পড়ল। খালেক মাধুরীকে ঐভাবে শুয়ে পড়তে দেখে ওর গায়ের উপর উবু হয়ে ঝুঁকে বসে ওর মুখটা হাতে ধরার প্রয়াস করে খুবই নরম গলায় জিজ্ঞেস করল,
“কী হয়েছে মাধু? যাওয়ার সময় তো ভালো দেখলাম। এর মধ্যেই…
“হাত সরাও!”
বলেই মাধুরী খালেকের হাত ঝটকা মেরে সরিয়ে দিল। আচানক এমন কান্ডে খালেক ভরকাল। মাধুরীর ব্যবহার তাকে হতবাক করল। সে এবার মাধুরীকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ওর গালে মুখ ছুঁয়ে কোমরে হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
“কী হয়েছে তোমার? কোন বিষয়ে কষ্ট পাইছ? আইচ্ছা, আমি এবার সময় দিতে পারিনি বলে দুঃখ লাগছে? আরে বোকা আজকে রাইতও তো আছি।”
“আমার উপর থেকে সরো। অস্বস্তি লাগছে আমার।”
“কিহ!”
মাধুরীর কথায় খালেক আশ্চর্য হল। তার ছোঁয়া অস্বস্তি দিচ্ছে তার বউকে? সে আগের চেয়েও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে গালে চুমু দিল। মাধুরীর নরম অঙ্গে ছুঁয়ে দিতে দিতে বলল,
“কি অস্বস্তি লাগে? এই ছোঁয়া? এই ছোঁয়া পাওয়ার জন্য না কত আকুতি তোমার! তাইলে…
“আল্লাহর দোহাই লাগে খালেক, আমাকে ছাড়। আমার শরীরটা ভালো লাগছে না।”
মাধুরী কোন ভাবেই খালেকের ছোঁয়া সহ্য করতে পারছে না। খালেক ছুঁয়ে দিলেই ওর চোখে ভাসে অন্য মেয়েদেরকে কীভাবে খালেক ছোঁয়। প্রতিটি মেয়ের গোপনাঙ্গগুলোয় খালেকের এই ঠোঁট! উফ্!
খালেক মাধুরীর আচরণে রেগে গেল। ওকে ছেড়ে দিয়ে বিছানা থেকে নেমে লুঙ্গির গিঁট বাঁধতে বাঁধতে বলল,
“এখন ছাড়লাম। রাইতে দেখব এই ছোঁয়া সহ্য কেমনে হয় না।”
শেষ করেই সে গটগট করে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। অতঃপর তার মাকে গিয়ে জানাল সবাই যেমনটা ভাবছে তেমন কিছু না। অতিরিক্ত খাটুনির ফলে শারীরিক দূর্বলতা হয়েছে যার দরুন এমন করে বমি করেছে।
দিন পেরিয়ে রাত নামে। পরেরদিন সন্ধ্যায় খালেকের প্লেন। সকালে রওনা দিবে। মেহমানদের বিদায় জানিয়ে সারাদিনের ক্লান্তি নিশ্চিহ্ন করতে বিছানায় গা গড়িয়ে দেয় সবাই। মাধুরী তার জন্য নির্ধারিত জায়গায় গা পাতে। তীব্র অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভেতরে চেপে রাখা ঘৃণা,রাগ, ক্ষোভকে পাশ করে শুয়ে পড়ল খালেকের পাশেই। খালেক দেশে আসলে মাহির তার দাদা দাদীর ঘরে ঘুমায়।
মাধুরী বিছানায় শুতেই খালেক ওর দিকে হাত বাড়ায়। তা দেখেই মাধুরী দাঁত চিবিয়ে বলল,
“ঘুমাও। সকালে তোমার যাত্রা।”
“তাতে কী হয়েছে? আসো তো তোমাকে একটু…
“তুমিও ঘুমাও, আমাকেও ঘুমাইতে দাও। শরীর ভালো লাগতেছে না।”
মাধুরী কথা শেষ করেই কাঁথা দিয়ে নিজেকে পুরোপুরি ঢেকে নিল। মাধুরীর বারবার ফিরিয়ে দেওয়া খালেকের পুরুষ সত্ত্বায় লাগে। সে আরো কয়েকবার মাধুরীকে কাছে টানার চেষ্টা করে অতঃপর শেষবার সফল হয়। মাধুরীর ঘৃণা, অরূচি মাধুরীকে নির্জীব করে রাখলেও খালেক একাই এই খেলা উপভোগ করে। সম্পূর্ণ বস্ত্রহীন মাধুরীকে উল্টেপাল্টে আদর করে চলে সে। মাধুরী তার উপর চেপে থাকা নিজের স্বামীকে স্বামী রূপে উপভোগ করতে পারল না।তার কাছে নিজেকে এখন সেই মেয়েদের মতো মনে হচ্ছে। যাদের খালেক ওভাবে…. মাধুরী আর ভাবল না। অচেতন হয়ে পড়ে রইল। খালেক নিজের কাজ শেষ করে মাধুরীর ঠোঁটে কামড় দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“এমন পাথর হয়ে আছ কেন? আরেহ বাবা, বলছি তো এক মাসের টা এই রাইতে পুষায় দিব!”
“তোমার শেষ হইলে সরো। ঘুমাব আমি!”
মাধুরী কাঠকাঠ গলায় বলল। খালেক অন্ধকারে মাধুরীর মুখভঙ্গি বুঝতে না পারলেও ওর কণ্ঠের নিস্পৃহা ঠাওর করতে পারে। মেজাজ চটল তার। সে পুরুষত্বের বড়াইয়ে এই অবজ্ঞা নিতে পারল না। পূণরায় মাধুরীকে ধাক্কা মেরে শুয়ে দিয়ে প্রস্তুতি নিতে নিতে বলল,
“না হয় নাই। আইজকা সারা রাইত করবি। এত ঘুম কিসের মাগী মাইনসের!”
মাধুরী প্রত্যুত্তর করল না। সে নিরব থেকে খালেকের ক্ষেতে হাল টানার মতো কসরত করা দেখে গেল।
খালেক চলে গেল সকাল হতেই। মাধুরী খুবই চুপচাপ হয়ে গেছে ইদানিং। খালেকের পরিবারের কারো সঙ্গে কথা বলে না খুব একটা। কেমন জানি অনিহা ভেতর থেকে তাকে একা করে দিয়েছে। সে খালেকের এই সব কীর্তি নিয়ে কার সঙ্গে কথা বলবে বুঝতে পারে না। খালেকের পরিবারের সঙ্গে কীভাবে বলবে? বললেও ঘটনার রেশ কতদূর যাবে? তার সংসার, সন্তান, ভবিষ্যত!
মাধুরী দিনদিনই ভেতরে ভেতরে গুমরে যাচ্ছিল। নিঃসঙ্গতা, খালেক দ্বিচারিতা সবকিছু তার অন্তঃসারশূন্য করে রাখে। এর মধ্যেই সে ফেসবুকের কল্যাণে কয়েকজন প্রবাসীর বউদের সঙ্গে পরিচিত হয়। তাদের সঙ্গে গল্প গুজবে জানতে পারে, অনেক প্রবাসীই এসব করে। এরা পুরুষ মানুষ। দীর্ঘদিন বউ ছেড়ে দূরে থাকে। তখন কী করবে? নিজেদের চাহিদা পূরণে মেসে, বাসায় মেয়ে ভাড়া করে আনে। কেউ কেউ মোবাইলে সম্পর্ক গড়ে। ভিডিও কলে তারা অর্থের বিনিময়ে সময় নষ্ট করে।
মাধুরী গভীর ভাবে সব ভাবে। অতঃপর তার মাথায় যেটা সবার আগে জেঁকে বসল তা হচ্ছে প্রতিশোধ। খালেক যদি সাময়িক খুশির জন্য তার হক নষ্ট করতে পারে, তবে সে কেন পারবে না।
শারীরিক ক্ষুধা কি কেবল পুরুষদের একাই থাকে? নারীদের নেই? পুরুষ যদি দূরে একা থাকার দায় মেটাতে ভিন্ন পথে সুখ খুঁজতে পারে, তবে নারী কেন নয়?
নারীরা লয়ালিটির নামের যৌবন নিঃসঙ্গতায় পার করে বৃদ্ধ বয়সে সেই পুরুষটির অবজ্ঞার স্বীকার হয়। আর তারা? যৌবন, বৃদ্ধ সবকালেই পরমানন্দে পার করে!
মাধুরী পারবে না এত স্বার্থহীন হতে। সে খালেকের দেখানো পথেই হাঁটবে!
স্মৃতির পাতা উল্টে মাধুরী বর্তমানে ফেরে।
নিখিল ওর বাম পাশে শুয়ে গাঁয়ের চাদরটা ভালো করে টেনে নিল। রাতের এখন মধ্যিভাগ। এর মধ্যেই তিনবার তারা করে ফেলেছে।
নিখিল মাধুরীর নারী কায়ায় গুম হয়ে যায় যখনি তারা এমন সময়ে আসে। তার মাথায় ঢুকে না খালেক কীভাবে মাধুরীর মতো বউ দূরে রাখে। সত্যি বলতে তার মাথা নষ্ট হয়ে যায় যখনি সে মাধুরীকে দেখে। এই ছত্রিশ বছর বয়সে এসেও একজন নারী এত কামুকে কীভাবে হতে পারে? কোনরকম আধুনিক কসমেটিকস ছাড়াই মাধুরীর সবকিছু একুশের যুবতীদের মতো। যেমন চির যৌবনা এক নারী।
নিখিল গায়ের উপর থেকে সরতেই মাধুরী তার নাইটি তুলে গায়ে জড়িয়ে নিল। রাতের এখন দেড়টা। ঘড়ির কাঁটা ডং ডং করে বেজে যাচ্ছে। সে ওয়াশ রুমে গিয়ে ঢুকল। নিখিল তখন উবু হয়ে কিছু একটা করছে।
মাধুরীকে ওয়াশ রুমে যেতে দেখে সে সোজা হয়ে বসল। বার কয়েক ওয়াশ রুমের দরজার দিকে তাকিয়ে থেকে এই রুমের বড় এলএডি টিভির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। তখনি তার কল বেজে উঠল। মোবাইলটা রিসিভ করে কানে নিতেই ও পাশ থেকে কিছু একটা বলতেই নিখিল বলল,
“আরো আছে। প্রতি ভিডিয়োর জন্য ওয়ান… আর যদি এমন লাইভ দেখতে চান তাহলে পার লাইভ টু!”
“কিসের লাইভ?”
পিছন থেকে রুদ্ধ কণ্ঠে করা প্রশ্নে নিখিল সতর্ক হয়ে গেল। চকিতে পিছনে ফিরে তাকাতেই মাধুরীর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। ও ক্ষেপে গিয়ে নিখিলের বাহু খামচে ধরে চেঁচিয়ে উঠল।
“কুত্তার বাচ্চা তুই আমাদের এত সময়ের সবকিছু লাইভ করেছিস?”
“না মাধুরী আমার কথা শোন!”
“ দেখি তোর ফোন দে আমার কাছে!”
“আরেহ ফোন কেন দিব? কি থেকে কী শুনেছ!”
“তোরে আমি বিশ্বাস করছিলাম, আর তুই আমার সব কিছু..
“আরে আমি…
মাধুরী নিখিলের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করে দিল। ঐদিকে নিখিলের ফোন থেকে তখনও অপরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে। নিখিল কল কেটে দেয়। মাধুরী তখনও হাতাপাই করে চলেছে। মাধুরীর আচরণ নিখিলের কাছে বাড়াবাড়ি ঠেকে। সে চট করে মাধুরীর গালে সপাটে চড় মেরে বলল,
“মাগী, আমারে কি খালেক পাইছোস যে তোর লাগে মিঞাও মিঞাও করব সবসময়। হ বেচছি তোর ল্যাংটা ছবি। তাতে কি হইছে? কী করবি তুই আমার? আমার বালডাও ফালাইতে পারবি না। হোন, তোর লাগে যে হাডুডু খেলি না? সেইটা বেইচা আমি দশ লাখ কামাইছি। তুই কি ভাবোস তোর লাগে শুই এমনে এমনে?”
ক্রোধের আগুনে দগ্ধ হয়ে নিজের পেট পরিষ্কার করে দিল সত্য উগড়ে। মাধুরী বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে আছে নিখিলের দিকে। ফর্সা গড়নের আলাভোলা চেহারা নিখিলের। ঠিক যেন ভাজা মাছ উলটে খেতে না জানা নাদান বালক। এই দেখেই তো মাধুরী এই ছেলেকে বশে নিয়েছিল। যাতে তার কাজও হয় আর কেউ জানতেও না পারে।
নিখিল আরো কিছু অপ্রত্যাশিত বাক্য বলল,
“আরেহ এমনে তাকায় আছোস কেন? তোরে তো সেলিব্রিটি বানাইয়া দিছি। জানোস সাইটে তোর কত ফলোয়ার? কত পুরুষ তোর ভিডিও দেখে হাত মেরে সুখ পায়? তুই তো অসহায় ক্ষুধার্ত পুরুষের ক্ষুধা মিটিয়ে মানবকল্যাণে ভূমিকা রাখছোস! আমি তোরে মানবতার মা বানায় দিলাম আর তুই…
“জানোয়ার নিষ্পাপ মুখের আড়ালে তুই আমার সর্বনাশ করলি?”
“কার সর্বনাশ করছি? ভুলে যাইস না তুই সাইধা আমার কাছে আসছোস। আমি তোর কাছে যাই নাই। তাছাড়াও তোর…
“আমি তোরে মেরেই ফেলব নিখিল। তুই আমারে বেশ্যাদের কাতারে…
“তুই তো বেশ্যাই। স্বামী ছাইড়া যেই নারী পরপুরুষের লগে ঘুমায় ঐ কি মসজিদের খাদেম? তুই কি ভাবছোস আমি জানি না, তুই আমার আগের মাস্টার্সের লগেও শুইছোস? সে বিয়ে করছে বইলা তারে তাড়াইয়া আমারে আনছোস! তুই জাইনা বুইঝা গরিব ঘরের জুয়ান পোলাগো টিচার হিসেবে নিয়োগ দেস। যাতে তোর পোলার পড়াও হয়, তোর খেলাধুলা করতেও ইজি হয়। নিজেরে তুই যতই ক্লিন রাখার চেষ্টা করোস তুই যে নর্দমা তা কোনভাবেই ঢাকা পড়ে না। খা*কি গো চরিত্রে অভিনয় করার জন্য বেস্ট তুই!”
নিখিল!”
মাধুরী নিখিলের দিকে তেড়ে আসে নিখিল আত্মরক্ষায় মাধুরীর গলা চেপে ধরল এবং ধরেই ওকে বিছানায় ফেলে ওর উপর উবু হয়ে গায়ের সব শক্তি ছেড়ে দিয়ে বলল,
“খা*কি, তোর খাউজ্জানি আজীবনের জন্য মিটিয়ে দিব। নাটক মারাস আমার লগে? দশ বেডার লগে শুইতে পারোস তাতে সমস্যা নাই। খালি আমি দেখাই তাতেই অসুবিধা! আমার লগে শুয়ে থাইকা বেডার লগে পিরিত করোস, তখন মনে থাকে না যে তুই বেশ্যাগিরি করতাছোস?”
নিখিল কথা বলতে বলতে গলার চাপে গায়ের সবটুকু ভর ছেড়ে দেয় যার দরুন অল্পতেই মাধুরী ঢলে পড়ে। অতঃপর….
সমাপ্ত!






0 মন্তব্যসমূহ