সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১১৮

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_১১৮



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


চৌদ্দ হাত কাপড়ে শাড়ী হয়।সেখানে আফিয়া শাড়ী বানিয়েছে সাড়ে চৌদ্দ হাত যাতে কুঁচি একটু বেশি পড়ে। আঁচল থেকে কোমর অবধি আড়াই গজ কাপড় জামদানি,বাকী সাড়ে চার গজ মসলিনের। সিঁদুর মেরুন লাল রঙের এই কাস্টমাইজড শাড়ীটা পুরোটায় লাল রেশমি সিল্ক সুতা দিয়ে জিরো সাইজের কাশ্মীরি আড়ি স্টিচে শাপলা ঝাড় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।তার উপর কুচি থেকে কোমরে গোঁজা মসলিনের অংশে থ্রি ডি হ্যান্ড পেইন্টে সাদা লাল শাপলা সহ পাতা,হালকা সবুজাভ কলি, ডাঁটা আঁকা! বুকের উপর শাপলা ঝাড়ের প্যাটার্নে বড় একটা ম্যান্ডেলা আঁকা, আঁচলের মধ্যি ভাগে পিরামিডাকৃতির অর্ধ ম্যান্ডেলা, আঁচলের দুই কোনায় বড় বড় দু'টো অর্ধ ঝাড় আঁকা। হ্যান্ড পেইন্টের ফুলের চারদিকে জিরো সাইজের সাদা পার্ল দিয়ে আউটলাইন করে ভেতরে ম্যাট গোল্ডেন জারদৌসির পেটা কাজ করা।কিছু কিছু লাল ফুলের মাঝে মাঝে জিরো সাইজের লাল চুমকি। পাতা,ডাটায় সবুজ চুমকি ব্যবহার করা হয়েছে।উপর, নিচ, আঁচলের চারদিকের বর্ডারে মোটা করে সিলভার, ম্যাট গোল্ডেন মিক্সড জারদৌসির চিকন পাড় দেওয়া।তাতে নিম্নমুখী ছোট ছোট করে শাপলা কলি জারদৌসি দিয়ে বানানো হয়েছে।

অল‌-অভার আড়ি কাজের মাঝে মাঝে জিরো সাইজের লাল চুমকি দেওয়া।ব্লাউজের বডি অংশ সাদা মসলিন যাতে অল‌-অভার সাদা রেশমি সুতার আড়ি কাজের মাঝে মাঝে সাদা জিরো চুমকি দেওয়া এবং হাতের অংশ লাল জামদানি এবং তাতেও রয়েছে এক‌ইভাবে লাল আড়ির মাঝে লাল চুমকির কাজ। ব্লাউজের পিছনে পুরোটা জুড়ে বুকের উপর থাকা শাপলা ঝাড়ের মতোই কাজ,ডান হাতেও একইভাবে কাজ করা।

চমৎকার কারচুপি এবং হ্যান্ডপেইন্ট মিশেলে তৈরি এই কাস্টমাইজড শাড়ীটা আফিয়া নিজ পুত্র বধূর জন্য তৈরি করিয়ে আনিয়েছে। নিজেই ডিজাইন একে দিয়েছে বহু আগে নিজের সেই চাকরি করা প্রতিষ্ঠানের বর্তমানের সবচেয়ে ঝানু কারিগরকে।


এক‌ই রঙের মটকা সিল্ক কাপড় দিয়ে ছেলের জন্য বানিয়েছে পাঞ্জাবি। সিঁদুর লালের উপর লাল সুতার আড়িকাজ তার মধ্যে জিরো সাইজের চুমকি দেওয়া,বাম বাহু থেকে কনুই অবধি এবং পাঞ্জাবির নিচে ডান পাশের কোনা জুড়ে শাড়ীর সাথে ম্যাচিং করে শাপলা ঝাড় করা।গলায় শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে এক‌ই রকম বর্ডার দেওয়া দু রঙের জারদৌসি দিয়ে।তাতে আবার আসল রুবির বোতাম লাগানো। সঙ্গে থাকবে সাদা লম্বা ব্লেজার কোর্ট এবং সাদা পাজামা।মাথায় সাদা লালের তসর সিল্কের পাগড়ি।


সব কিছু দেখে নিলো, বারবার পরখ করলো। উল্টেপাল্টে দেখছে আর বোঝার চেষ্টা করছে কোথায় কোন খুঁত আছে কি না?


“ এটা সুতি সুতা দিয়ে সেলাই করেছেন না?"


প্রশ্ন করে নিজেই উল্টে দেখলো। চাওয়া অনুযায়ী হ‌ওয়ায় প্রশান্তির ছাপ পড়লো মুখে। ডিজাইনার নারীটি আই বাড়িয়ে বললো,


“ পুরোটাই সুতি সুতা দিয়ে করেছি।ঐ হ্যান্ড পেইন্টের উপরে কিন্তু গরম পানি দিতে নিষেধ করবেন,নয়তো জানেন‌'ই !"


“ হ্যাঁ তা জানি। কিন্তু কথা হচ্ছে ব্লাউজে ইনার কি কাপড়ের দিলেন দেখি তো!"


“ সুতি দিয়েছি আন্টি!

 _ ঐ যে দেখুন।"


“ হ্যা ঠিক আছে!

_ শাড়ীর ফলস?ফলস কোন কাপড়ের!"


আফিয়া শাড়ীর পাড় উল্টে দেখলো বেশ মজবুত করেই ফলস দেওয়া,সে কাপড় ডাবল করে সুন্দর করে হেম করে দিতে বলেছিল। তেমনটা দেখে প্রসন্ন চিত্তে কিছু বলার আগেই ঐ নারীটি বললো,


“ ব্লাউজের ইনার যেই কাপড় দিয়ে দিয়েছি ঐটা দিয়েই ফলস করে দিয়েছি। যদিও প্রাইজটা একটু বেশি পড়েছে তাতে কিন্তু আমি কোন কম্প্রোমাইজ করিনি কোন কিছুতেই। আশা করি আপনি অভিযোগের সুযোগ পাবেন না।"


“ আল্লাহ ভরসা।ওহ ব্লাউজের মাপে বলেছিলাম এক সুতা দুই সুতা পরিমাণ গ্যাপে তিনটা সেলাই দিতে।"


“ হ্যা দিয়েছি তো দেখুন।"


বলেই ব্লাউজের বডি উল্টে দেখালো।আফিয়া তাও দেখলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে । এরপর দেখলো ব‌উ এবং তার মেয়েদের জন্য অর্ডার দেওয়া দু'টো করে বোরকা আর হিজাবের কাজ।দেখলো বড় মেয়ের জন্য অর্ডার দেওয়া শাড়ির কাজ, ছোট মেয়ে আর ভাগ্নিদের জন্য অর্ডার দেওয়া গ্রাউনের কাজ। ছোট ছেলের জন্য পাঞ্জাবি,কোটিতে কাজ করতে দিয়েছিলো সেগুলোর‌ও খুঁটিনাটি সব দেখে নিচ্ছে।

নাফিসার জন্য সালোয়ার স্যুট অর্ডার দিয়েছে সেগুলো এখনও হয়নি।তাও নিয়ে আলাপ করলো।

বসার ঘরের মাঝের সোফায় বসে আফিয়া এগুলো নিয়ে কথা বলছিলো আর শেষের সোফায় বসে নাইফ নিজের কাজ করছিলো ল্যাপটপে দৃষ্টি রেখে, কিবোর্ডের উপর নিজের দশ আঙুল চাপিয়ে।

আফিয়া একটু গলা উঁচিয়ে ডাক দিলো,


“ বাবু!"


নাইফ ছোট শব্দে সাড়া দিলো,“ হুম!"


বিয়ে উপলক্ষে ছুটি নিবে দেখে ছেলেটা বেশ খাটছে কয়দিন ধরে।অনেকখানি কাজ এগিয়ে রাখতে চাইছে যাতে বিয়ের সময় চিন্তা করতে না হয়।মায়ের ডাকে ছোট্ট করে উত্তর করলেও ফিরে তাকানোর সময় তার হলো না।আফিয়া আবারও ডাক দিলো,


“ বাবু!"


এত বড় ছেলেকে বাবু ডাকছে দেখে পাশেই বসে থাকা নারীটি বেশ আশ্চর্য হলো, হতবাক চাহনিতে চেয়ে জিজ্ঞেস করলো,


“ আপনার বড় ছেলের নাম না নাইফ আপা? তাহলে এই ছেলে!"


ভদ্রমহিলার কথায় আফিয়া হাসলো। মৃদু মুচকি হেসে বললো,


“ এটাই বড় ছেলে।এর নাম‌ই নাইফ।ভালো নাম আর কি,নাইফ ওয়াসীত্ব গাজী।বাবু আমরা ছোট থেকেই ভালোবেসে ডাকি।ঐটাই ডাক নাম রয়ে গেলো।বদলালো না আর।"


“ ছোট জন কিছু বলে না?"


“ ও কি বলবে? ওর এতে কি আসে যায়!

সে তার মতো। তাছাড়াও আমার ছেলে মেয়েদের মনে এসব ভাবনা আসার সময় নেই। তারা এক জায়গায় হলে উল্লাস করেই কুল পায় না আবার হিংসাহিংসি কখন করবে?"


“ মারহাবা,ভালো লাগলো,বেশ ভালো লাগলো শুনে।"


“ আসসালামু আলাইকুম।

_ বলো আম্মু!"


নাইফ এবার উঠে এসে মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে ভদ্র মহিলার উদ্দেশ্য সালাম দিয়ে মা'কে জিজ্ঞেস করলো।


আফিয়া পাঞ্জাবি, ব্লেজার নিয়ে হাত বাড়িয়ে ধরে বললো,


“ একবার ট্রায়াল দাও আব্বা।দেখো সব ঠিকঠাক আছে কি-না?"


“ ওকে দাও। দিচ্ছি!"


বলে সে নিজের জিনিস হাতে নিয়ে নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো।আফিয়া পিছনে থেকে চেঁচিয়ে বললো,


“ নাবীহাকে বলো ডাকছি।"


“ আচ্ছা আম্মু!"


নাইফ ভেতরে চলে গেল নিজের ঘরের দিকে।সালমা ফাওযিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে এদিকে আসতে আসতে বললেন,


“ সব ঠিক আছে তোমার ছেলে মেয়ের!"


“ জি আম্মা! এই যে দেখুন শাড়ীটা।

_ আপনার কি মনে হয় আম্মা,ওর পছন্দ হবে!"


সালমা ফাওযিয়া পাশের খালি সোফায় বসতে বসতে বললেন,


“ তুমি‌ই হয়তো প্রথমা শ্বাশুড়ি যে এত খেটে ছেলের ব‌উয়ের জন্য পোশাক, অলংকার কিনছে।এখন ব‌‌উ তোমার মনের মতো হলেই চলে।"


“ হবে আম্মা হবে, ইনশাআল্লাহ,দোয়া করেন আপনে!"


শ্বাশুড়ির কথায় লজ্জা পেলেও উপরের বাক্যটা আওড়ালো। এরপর হাত নাড়িয়ে শাড়ীটা খুলে মেলে ধরলো শ্বাশুড়ির সম্মুখে।

সালমা ফাওযিয়া আড়চোখে আফিয়ার উচ্ছ্বসিত, চঞ্চলা, প্রাণোচ্ছ্বল, হাস্যোজ্জ্বল চেহারাটা দেখছে।

মনে মনে দোয়া করলেন,


“ আল্লাহ এই খুশি বজায় রাইখেন। ছেলে ব‌উ নিয়ে যেন আমার মতোই থাকতে পারে সংসারে।এই ভরা সংসার,কলকলানো কোলাহল মুখর ঘরদোর কখনো যেন নির্জীব লোক শূন্য না হয়।এই মেয়েটা এগুলো ডিজার্ভ করে আল্লাহ।ও আমাদের জন্য যথেষ্ট করেছে,এখনো করে।আমি শ্বাশুড়ি হয়েই বলছি ওর মতো পুত্র বধূ পেয়ে আমি সৌভাগ্যবতী,এমন ছেলের ব‌উ পাওয়া ভাগ্যের‌ই বিষয়।ওকেও আপনি আমার মতো সুখী বানাইয়েন আল্লাহ।"


“ আম্মু ডাকছিলে?"


নাবীহা পা সমান লম্বা সুতি খিমার পরে মুখ ঢেকে এখানে এসেছে। অপরিচিত মহিলাদের মাঝেও সে পর্দা ছাড়া বের হয় না।বিয়ের সময় মুখ দেখানোর অনুষ্ঠানেও মুখ দেখাতে দেয়নি মু'য়ায।তার স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে এই বিষয়ে।এই নিয়ে আত্নীয় মহলে বেশ ফিসফিসানি চলেছে বহুদিন তাতেও তারা কেউ কর্ণপাত করেনি।মু'য়ায নাবীহার এত সুন্দর পর্দাকে সম্মান করে এবং কদর করে তাই সেও নিজের অনেক অভ্যাস, স্বভাব ত্যাগ করে নিজেকে শুধরানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।নাবীহার জন্য বাড়ির অনেক নিয়ম-কানুন পরিবর্তন করেছে,ঘরের পরিবেশ নতুন আবহে সাজিয়েছে যাতে নাবীহা অন্তত ঘরে আরাম করে চলাফেরা করতে পারে। নিজের ঘরেও চলতে যেন তাকে ভাবতে না হয়,দ্বিধায় ভুগতে না হয় , বিব্রত হতে না হয়।মার্জিয়া খানম ও মেহবুব তৈয়ব সাহেব‌ও পুত্র বধূকে আড়ালে রাখতে,তার পর্দাকে সম্মান জানাতে অনেক ভাবেই সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

বাপের বাড়িতে যেভাবে নাবীহা পর্দা বজায় রেখে চলাফেরা করতে পারতো ঠিক সেভাবেই আছে তার শ্বশুর বাড়ির আবহ।তাই তার কোথাও কোন সমস্যা হচ্ছে না।


“ এইটা দেখো। আলমারি খুলে বিলটা দাও।খামে ঢুকানোই আছে আম্মা!"


“ আচ্ছা আম্মু!"


মায়ের বাড়িয়ে ধরা বিলের স্লিপটা হাত বাড়িয়ে নিয়ে চোখের সামনে ধরে সংখ্যাটা পড়লো। অতঃপর পা বাড়ানোর আগেই আফিয়া বললো,


“ তোমার ড্রেস গুলো নাও।দেখো সব ঠিকঠাক আছে কি-না? আর তুহির গুলো ওর আলমারিতে রেখে দাও।"


নাবীহা মায়ের কথা অনুযায়ী সব করলো।


নাবীহার বিয়ের সময় হলুদ হয়নি। মেয়েকে চেনা অচেনা লোকেরা এসে ছুঁয়ে দিবে তা নাসিফ, আফিয়া মানতে পারেনি। তাছাড়াও নাবীহা বিয়ের এসব অনুষ্ঠানে আগ্রহী নয়। বরং সে এগুলো একদমই পছন্দ করে না।তাই তার বিয়েতে মেহেদি থেকে সোজ বিয়ে হয়েছে আর বাড়তি কোন প্রোগ্রাম হয়নি।

কিন্তু এখন সবার বায়না মেয়ের বিয়েতে কোন আয়োজন না হলেও ছেলের বিয়েতে অবশ্যই হলুদ প্রোগ্রাম করতেই হবে।তবে পরিবারের সদস্যরা এবং একদম নিকটাত্মীয় ছাড়া আর কেউ থাকবে না তাও অন্দর মহলে মহিলারা ছাড়া কারো প্রবেশের অনুমতি নাই।

যেমন কথা তেমনি প্রোগামিং চলছে। ছেলেদের জন্য সাদা পাজামা পাঞ্জাবী মাথায় গামছা।মেয়েরা সব হলুদ জামা,সাদা ওড়না সালোয়ার। আয়োজন হচ্ছে বাড়ির ছাদে,মেইন ভেন্যু ঐ ওয়াক্ত মিস করে, জোহরের ওয়াক্ত হয় কাযা নয় বাদ।আবার পরের দিনের আয়োজনের জন্য প্রস্তুত হতে হতে আছর মাগরিব এশা সব জলে দেয়।


ইবাদত বাদ দিয়ে আনন্দ উল্লাস করতে পারবে না গাজী পরিবারের কেউ।তাই ঠিক করা হলো, যোহরের সালাত আদায় করে সবাই হলুদ প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করবে এবং সেটা শেষ করবে আছরের পূর্ব মুহূর্তের মধ্যে।যাতে কারণে গোসল দিয়ে আবার সবাই আছরের সালাত আদায় করতে পারে। সালাতের পর না হয় আবার নিজেদের মজলিস জমিয়ে নিজেদের মতো আনন্দ করলো।তাতে কে বাঁধা দিবে?


একটা ভালো প্রোগ্রামারকে দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়েছে পুরো বাড়ি,ছাদের প্রতিটা গাছের পাতা সহ।সুখ প্রান্তের মাঝে তোশক ফেলে তাতে নানা রঙের কুশন দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়েছে।নানী রঙের বেলুন আর ফুল দিয়ে সৌন্দর্য আর বৈচিত্র্যে ভরপুর করেছে।

ক্যাটারিং ব্যবস্থা করেছে।তারা বেশ মজাদার সব খাবারের মেনু রেখেছে।

বড়রা থাকবে না বললেও পরিচিত মহলের সব সিনিয়ররাই এসে হাজির হয়েছিল।তবে সমস্যা হয়নি‌।নাসিফ বড় ছেলের বিয়ে উপলক্ষে দু হাতে পানির মতোই খরচ করছে অর্থ।


চলমান.....


হে হে...২৫ তারিখ পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ।🙆 সমস্যা নাই, বকা দিয়েন।হজম শক্তি খারাপ না। একটু আধটু পেট ব্যথা করলেও সমস্যা নাই।

পরীক্ষা আর আমার স্বাস্থ্যের জন্য খালি দোয়া করবেন সবাই ওকে....


যে কোনো সময় আবারও গায়েব হতে পারি।😞

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ