সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১১৭

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_১১৭



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


আলমারি থেকে পুরানো এক কাঠের বাক্স খুলে বসেছে গয়নার পসরা মেলে।বেশ ভারি ভারি গয়নাগুলো। একটা সীতাহার তুলে হাতের পাতায় মেলে রেখে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। চমৎকার কারুশৈলী খচিত গহনাগুলো সব নাইফের আম্মার,আসল মা,আমিরার।

আফিয়া বিয়ে হয়ে ব‌উ হয়ে আসার বহুদিন পর একদিন বিকেল বেলা সালমা ফাওযিয়া ঘরে ডেকে নিলেন, আফিয়া নম্র কদমে দরজার সামনে দাড়াতেই ভেতর থেকে গমগমে কন্ঠে ডেকে উঠলো,


“ এসো ব‌উমা এসো, ভেতরে এসো।"


আফিয়া নজর উঁচিয়ে ঘরের ভেতর সতর্ক চোখে বিছানায় পা মেলে বড় একটা কাঠের বাক্স দু হাতে আঁকড়ে বসে থাকা শ্বাশুড়ির পানে চেয়ে র‌ইলো।সালমা ফাওযিয়া নির্ভয় দেওয়ার মতো করেই বলল,


“ তোমাদের আব্বা না থাকলে আমাদের ঘরে আসতে তোমার অনুমতির দরকার নেই।

_ বসো এখানে!"


তিনি হাতের ইশারায় নিজের পাশে বসার জন্য স্থান দেখালেন।আফিয়াও গুটি গুটি পায়ে বিছানায় নিতম্ব রেখে আলগোছে গা হেলিয়ে পা ঝুলিয়ে বসলো। শান্ত কন্ঠে শুধালো,


“ আব্বা কোথায় আম্মা?"


“ তোমার আব্বা তো গেলেন কেরানীগঞ্জ।ঐ যে তোমার জমির পাশেই তো আমাদের আরেকটা জমি আছে।সেখানে দোকান তুলে ভাড়া দিবে বলে বাপ ছেলে মিলে ভেবেছিল বহু আগেই।তার‌ই হিসাব পত্তর করতেই গেল। কতটুকু মাটি সিমেন্ট রড লাগবে এই আর কি!

ওহ ব‌উমা, তোমার অংশে কিন্তু বেশ কয়েকটি দোকান আছে। সেগুলোর ভাড়াও কিন্তু তুমিই পাবে এখন থেকে। ঐ দোকানিদের সাথে কথা বলিয়েছে তোমাকে নাসিফ?"


“ জি না আম্মা।"


“ কেন? এখনো পরিচয় করায়নি কেন? এই তো মাস শেষ হয়ে এলো বলে।কখন পরিচয় করাবে?"


“ সমস্যা নেই আম্মা! আমার পরিচিত হয়ে কাজ নেই। আপনার ছেলে আছে তো।তাতেই হবে।আমি অযথা..."


“ না না। এসব বলবে না।ঐটা তোমার হক। তুমি দানে পাও নি।স্বামী হিসেবে এটা সে তোমাকে উপহার দিয়েছে। এটা তার তরফ থেকে তোমাকে দেওয়া অর্থ উপার্জনের মাধ্যম। দেনমোহরের অংশ এটা। মোটেই হাত ছাড়া করবে না। মনে রাখবে দিন শেষে এই অর্থ‌ই তোমার সবচেয়ে আপন। নিজের প্রয়োজনে যদি হাতে পয়সা না থাকে তবেই চেনা যায় প্রকৃত আপনজনদের।সেখানে স্বামী বাপ ভাই যেই হোক। অর্থ না থাকলে জন্মদাত্রী মা‌ও আপন না সোনা।

তোমাকে লিখে দিয়েছে মানে এটা তোমার নামেই এখন।তার থেকে কানাকড়িও ছাড়বে না।সোজা স্পষ্টভাবে বলবে তার সবটা তোমাকে বুঝিয়ে দিতে।মাস শেষে টাকাগুলো যেন তোমার একাউন্টেই ঢুকে।

শোন মেয়ে আমি জানি তুমি ইনকাম করে তোমার বাবা মায়ের সংসার চালিয়েছো,তাই এটাও বুঝি এখন তাদের কষ্ট হচ্ছে। সুতরাং অযথা স্বামী ভক্তি দেখিয়ে নিজের হক ছেড়ে নিজের দায়দায়িত্ব থেকে পালিও না।যা আসে তার থেকে চেষ্টা করবে মায়ের হাতে দু'টো পয়সা দিতে। তাদের টুকটাক প্রয়োজন মেটাতে। চিন্তা নেই আমি কাউকে বলবো না।আমি এটা আমার মাঝেই রাখবো।অবশ্য বললেও সমস্যা নেই।আমার স্বামী ছেলে মেয়ে কেউ এই বিষয়ে নেগেটিভ না।তারাও তোমাকে এই কথাই বলবে।"


আফিয়া নত শিরে বসেছিল,তার চোখ ভরে উঠলো শ্বাশুড়ির এত মধুর উপদেশে।সে আড়ষ্টতা ভেঙে পারলো না শ্বাশুড়ি গলায় লাগতে।পারলো না বলতে,


“ আপনি মায়ের মতো নয়,আপনিই মা। নতুন করে পাওয়া সত্যিকারের মা।"


হয়তো সালমা ফাওযিয়া পুত্র বধূর অক্ষমতা বুঝলো।তিনি নিজেই সেদিন হাত বাড়িয়ে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বলেছিলেন,


“ আমিও মেয়ে। জন্ম সূত্রে বিত্তশালী পিতার আদরের একমাত্র কন্যা।আমার ভাইদের বিয়ের পর যখন তারা আলাদা আলাদা সংসারে মজে গেল,আম্মা হঠাৎ করেই বিছানায় পড়ে গেলেন তখন‌ই দেখছিলাম পিতার অসহায়ত্ব। পয়সা দিয়ে তিনি কাজের লোক ভুরি ভুরি রাখতেন, সেবা‌ও কাজের লোকের মতোই পেতেন।তাতে না ছিলো আন্তরিকতা আর না ছিলো সহমর্মিতা।

ঐ সময়টা আমি একটা বিষয় খুব ভালো করেই বুঝেছিলাম,পয়সা দিয়েও যদি আমার বাবা মা এত অবেহিলত হয় তবে যাদের পয়সা নেই তারা কিভাবে জীবন গুজার করছে?পয়সার দরকার খুব বেশি। অন্তত কাজের লোকের মতো সেবা পেতে হলেও পয়সার দরকার আছে।"


নিজের কথা শেষ করেই তিনি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন।হয়তো নিজের হারিয়ে ফেলা মা বাবার জীবদ্দশার কিছু মুহূর্ত কল্পনা করছেন।আফিয়া সাহস করে হাত বাড়িয়ে শ্বাশুড়ির হাতের উপর রেখে আলতো করে ছুঁয়ে বলেছিল,


“ আম্মা মন খারাপ করিয়েন না।নানা নানী ভালোই আছেন, আল্লাহর ভরসা।"


“ ফি আমানিল্লাহ্। আল্লাহ জান্নাত নসিব করুক , জান্নাতে আব্বা আম্মার সাথে অন্তত একবার মোলাকাত হোক খুব করে চাই।মাফ চাওয়া বাকি আছে, তাদের সন্তান তো আমিও ছিলাম।আমার‌ও তো তাদের প্রতি দায়দায়িত্ব ছিলো। তাদের হক ছিলো আমার কাছে সেবা যত্ন পাওয়ার কিন্তু আমি দুদিনের সংসারের মায়ায় পড়ে সত্যিকারের সংসারের চাবিকাঠির যত্ন করতেই বেমালুম ভুলে বসেছিলাম।হাহ্,কি করলাম জীবনে।

_ শোন আর যাই হোক বাবা মা'কে কখনো অবহেলা করো না। তাদের কাছে কখনো ব্যস্ততা দেখাবে না।এই পৃথিবীতে আব্বা আম্মার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই, তাদের জন্য নিজেকে সবসময় মুক্ত রাখবে। আমার তরফ থেকে অনুমতি র‌ইলো।আমার ছেলের তরফ থেকেও।"


“ আপনি অনেক ভালো আম্মা।আমি ধন্যবাদ দিয়ে আপনাকে ছোট করবো না। শুধু বলবো আপনাকে অনেক অনেক সালাম।"


সাহস করে ছুঁয়ে রাখা হাতের বাহুটা শক্ত করে চেপে ধরেই কথাটা বললেছিল আফিয়া।সালমা ফাওযিয়া স্বাভাবিক হয়ে বলে উঠলেন,


“ এই দেখো,তোমাকে ডাকলাম কেন?আর করছি কি?"


আফিয়া মুচকি হেসে নিজের গায়ে জড়ানো তাতের সুতি শাড়ীর আঁচল দিয়ে মাথায় টানা ঘোমটাকে আরো একটু লম্বা করলো,পা তুলে হাঁটু ভাঁজ করে বসে শ্বাশুড়ির দিকে মনোযোগী হয়ে কৌতুহল চেপে না রেখে শুধরেই ফেললো,


“ এটা কি আম্মা?"


“ এটা বহু পুরানো আমলের একটা বাক্স। উত্তরাধিকারী সূত্রে আমি পেয়েছি আমার শ্বাশুড়ির থেকে এরপর আমি আমিরাকে দিয়েছিলাম।আমিরা যেহেতু এগুলো পরতো না তাই আমাকেই এগুলোর যত্ন নিতে হয়েছিল এতদিন কিন্তু এখন তুমি যেহেতু ভাগ্যক্রমে এসেছো এখন এগুলোর দায়িত্ব তোমার।"


তিনি কথা বলতে বলতেই বাক্সটা খুলে ফেলেছিলেন।লাল কাপড়ে কয়েকটি পুটলি বাঁধা। সালমা ফাওযিয়া একটা বড় পুটলি খুলে নিজের কোলের উপর বিছিয়ে নিলেন।সোনার ভারি ভারি বেশ কয়েকটি হাড়,কানের ঝুমকো সহ অনেক কিছু।সেখান থেকে একটা সীতাহার বের করে নিজের বাম হাতের ফোরামের উপর রেখে তার ডান হাত দিয়ে ছুয়ে ছুয়ে বলছিলেন,


“ এটা নাইফের আম্মার।ওকে আমি এটা দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব কনফার্ম করেছিলাম। মেয়েটা বিয়ের দিন এই গহনাটা গলায় জড়িয়েছিলো।কি চমৎকার দেখতে লাগছিলো তখন।পাতলা শরীরের লম্বা খাড়া নাক,লম্বাটে বদনের বড় বড় টানা চোখ, সুমিষ্ট কন্ঠস্বর,চিকন কন্ঠনালীর উপর পড়েছিল এই চমৎকার সীতাহারটি।কি যে চোখ ধাঁধানো সুন্দর লাগছিল,গলায় আরো চারটা হার,মালা ছিল। তাদের সকলের মাঝে এটাই যেন আমিরাকে সবচেয়ে বেশি ফুটিয়ে তুলেছিল সেদিন।"


আফিয়া শুনছে শ্বাশুড়ির মুখে স্বামীর মরহুমার প্রশংসা।সালমা ফাওযিয়া ঐ গহনা রেখে পরপর সব কটা গহনা মেলে মেলে দেখালেন। অতঃপর আরো একটি পুটলি খুলে সুন্দর একটা হার বের করে আফিয়ার সামনে তুলে ধরে বলেছিলেন,


“ এদিকে এসো তো!দেখি এটা!"


বলেই তিনি নিজেই খানিকটা ঝুকে এগিয়ে এসে আফিয়ার গলায় পরিয়ে দিলেন।মাথার ঘোমটা ফেলে সুন্দর করে হারটা সাজিয়ে ধরে বলছিলেন,


“ মাশাআল্লাহ। একদম রাজরানী লাগছে। আল্লাহ কারো নজর না লাগায়।"


বলে তিনি ঐ হারের দুলটা তুলে নিয়ে আফিয়ার কানের পরিহিত দুল জোড়া খুলে নিজেই আবার নতুন দুল জোড়া পরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন,


“ এটা তোমার!

ঐটা দিয়ে আমিরাকে গ্রহন করেছিলাম ছেলের ব‌‌উ হিসেবে।তোমাকে তো সেদিন এটা দিতে পারিনি।সত্যি বলতে আমি বুঝতেই পারিনি কি দেওয়া যায়। অনেক খুঁজে এটা পেলাম।আজ থেকে এটা তোমার।মনে করবে এটা তোমার শ্বাশুড়ি তোমাকে মুখ দেখায় দিয়েছিল। ভবিষ্যতে তুমি তোমার ছেলের ব‌উকে দিতে পারবে। এগুলো বংশীয় অলংকার।এক জনের থেকে আরেকজন পাচ্ছি।"


আফিয়া এই মৃদু শব্দে মিষ্টি হেসে বলছিলো,


“ জি আম্মা দিবো, ইনশাআল্লাহ!"


“ ইনশাআল্লাহ!"


এরপর তিনি পরপর পুটলি দু'টো বাঁধলেন এরপর বাক্সে থাকা ছোট পুটলিটা বের করে বাক্সের মধ্যে বাইরের পুটলি দু'টো রেখে বাক্সটা টেনে আফিয়ার সামনে রেখে বললো,


“ এখানের সব তোমার এখন থেকে।আমিরার গহনাগুলো ভেবেছিলাম তোমাকে দিবো না।না না,অন্য কিছু ভেবে না।কারো ব্যবহৃত জিনিস তুমি ব্যবহার করবে কি-না তাই ভেবে। কিন্তু মনে হলো কখন মরে যাই বলা তো যায় না।তাই তোমাকে যদি বুঝিয়ে দিয়ে না যাই,তাহলে তুমি কিভাবে জানবে এগুলোর বিষয়ে।

সোনা ঘরে অযথা ফেলে রাখতে নেই।এতে গুনাহ হয়, তাছাড়াও এগুলোর জন্য বছর শেষে ট্যাক্স দিতেই হয়।অযথা কেন দিবো? আমি বুড়ো মহিলা, এগুলো পরার বয়স কোথায়? তুমি ইয়াং মেয়ে মানুষ, এগুলো ব্যবহারের উপযুক্ত সময়। সবসময় সাজগোজ করে থাকলে স্বামীর চোখে গেঁথে থাকা যায়।ঘরের ব‌উ পরিপাটি থাকলে পুরুষ মানুষের মন বাইরে ছোটে কম।তাই সবসময় সাজগোজ করে পরিপাটি থেকে যতক্ষণ ও ঘরে থাকবে ওর আশেপাশে ঘুরঘুর করবে।বুঝেছো।

_ এই যে এটা,এটা হচ্ছে নাইফের আম্মার মানে আমিরার।ওর গহনাগুলো দিলাম,যদি পরতে ইচ্ছে হয় পরো।সব তোমার তবে আমি অনুরোধ করবো নাইফের বিয়ের সময় ওর ব‌উকে এগুলো থেকে কিছু কিছু দিও।আর এই যে এটা, এটা তোমার।এখানের গুলো বেশির ভাগই নতুন।আমি একটু একটু করে জমিয়েছিলাম, যদিও নিয়ত ছিল অন্যটা কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছার কাছে আমাদের নিয়ত কি? আল্লাহর ইচ্ছায় আমার ঘরে আবারও কেউ পুত্র বধূ হয়ে আসলো। এক ছেলের জন্য দুইবার বধূবরণের সুযোগ পেলাম, আলহামদুলিল্লাহ।তাই আমি আমার সঞ্চিত সম্পদকে দুই ভাগ করে এক ভাগ তোমাকে দিলাম যেটা এখন তোমার গায়ে পরে রয়েছে তার মধ্যে ঐটাও একটা।অন্যটা রেখে দিলাম আমার নাফিসার জন্য। মেয়েকেও তো বিয়ে দেওয়ার সময় কিছু দিতে হবে তাই না।সবতো ব‌‌উমাদের দিয়ে দিলে আমার চলবে না।তার‌ও তো মায়ের থেকে পাওয়ার হক আছে।"


কথাটা বলেই তিনি হেসে দিয়েছিলেন।আফিয়া সাহস করে বলেছিলো,


“ আমিরা আপার গুলো আপনিই রেখে দিন আম্মা,নাইফ বড় হলে ওর ব‌উ বরনের সময় আপনিই দিয়েন।আমারটাও রেখে দিন। আপনার কাছেই যত্নে থাকবে।"


“ না ,তুমিই রাখো। এগুলো এখন তোমার রাখার সময়।যখন তখন বের করে সাজবে,আমার ছেলে খুব সাজগোজ পছন্দ করে। কখনো কখনো ব‌উ সেজে ওকে চমকে দিবে,দেখবে ভীষণ খুশি হবে।আর আমি কেন বরন করবো? ছেলে তোমার, বিয়ে দিবে তুমি নিজে পছন্দ করে। নিজের মনের মতো ব‌উমা আনবে পুত্রকে বিয়ে দিয়ে। নিজের হাতে সাজাবে।দেখবে শান্তি পাবে।মন থেকেই পাবে।"


এরপর আর কোন কথা আফিয়া বলেনি সেদিন।সেদিনের পর থেকে এই অলংকার এবং এই খাজানার বাক্সটা তার।আজ বহুদিন পর বের করলো, নতুন করে পলিস করানো উচিত।নয়তো নতুন ব‌উ পুরানো দেখে পছন্দ নাও করতে পারে।শ্যাকরাকে ডেকেছে।এখন‌ই এলো বলে।


“ আম্মা,আম্মা!"


নাইফ ঘরের দিকে আসতে আসতে মাকে ডাকছে।

আফিয়া বাক্সটার মুখ বন্ধ করে উঠে দাড়িয়ে শব্দ করলো,


“ ঘরে আমি!"


ততক্ষণে নাইফ মায়ের ঘরে ঢুকে পড়েছে।


“ আম্মা বাইরে ঐ লোকটা অপেক্ষা করছে।

কি করছো তুমি?"


“ কিছু না।এক কাজ করো বাবা, তুমি এই বাক্সের এটা.."


আফিয়া একটা পুটলি বের করে হাত বাড়িয়ে ধরে বললো,


“ এগুলো উনাকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করো পলিস করতে কতদিন কত সময় লাগবে?"


“ এগুলো কার আম্মা!"


“ এগুলো তোমার মাম্মার আর কিছু তোমার আম্মার!"


আফিয়া কথাট বললো বাক্স গুছাতে গুছাতে।নাইফ এই কথাটায় চমকালো, ভীষণ ভাবে চমকালো।সে অদ্ভুত এক চাহনিতে চেয়ে মায়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ভাঙ্গা গলায় বললো,


“ আমার মা একজন‌ই।আমি বুদ্ধি হবার পর যাকে পেয়েছি।সেই আমার আম্মা। মাম্মা আর আম্মার মাঝে কোন পার্থক্য নেই।আমি পাইনি।আর কোনদিন এমন কথা উচ্চারণ করবে না বলে দিচ্ছি।যদি ভুলেও করো তবে আমি ঘর ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যাবো বলে দিচ্ছি!"


আফিয়া খাতুনের মুখ ফিরিয়ে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছেলের গালে হাত রেখে স্নেহ মাখা চোখে চেয়ে র‌ইলো মিনিট খানেক, অতঃপর বললো,


“ আচ্ছা বলবো না।তবে... যাই হোক গহনা গুলো পলিস করে তাড়াতাড়ি দিয়ে যেতে বলবে। এগুলো দিয়ে ব‌উমাকে ঘরে তুলবো আমি।"


“ কিন্তু এগুলো তো সব তোমার আম্মু!"


“ কে বললো সব আমার‌ এখানে তোমার দাদীর,আর তোমার মাম্মার‌ও আছে। যেগুলো তোমার মাম্মা তোমার ব‌উকে দেওয়ার জন্য রেখে গিয়েছে। আমি তো এতদিন শুধু আমানত রেখেছি।এখন সময় যার জিনিস তাকে দিয়ে দেওয়ার।"


মায়ের কথা শেষ হতেই নাইফ বাক্সটা খুললো। একটা ছোট্ট পুঁটলি।তার হাতের পুঁটলির দিকে চেয়ে দেখলো সেটা বেশ বড় এবং ভারি।নাইফ মায়ের দিকে চেয়ে বললো,


“ যদি এগুলো সব বংশীয় হয় তবে সব এখানে কেন? মানে সব আমার ব‌উই কেন পাবে? তাইফের ব‌উও তো পাবে।আফটার আমরা দুই ভাইই এই বংশের উত্তরাধিকার।আর তাছাড়াও এখনো তুহি বাকী।ওকেও দিতে হবে!"


“ সে দেওয়া যাবে। তাদের বিয়ের দিন আসতে আসতে অনেক গহন জোড়ানো যাবে।এখন এগুলো দিয়ে আগে বড় ব‌উ ঘরে আনি।"


“ না আম্মা এটা ঠিক না।দাদির,মাম্মার বলেই যে সব আমাদের দুই ভাই বোনের, বাকিদের তাতে অধিকার থাকবে না এটা কেমন কথা? আমি পারবো না আমার ভাই বোনদের ঠকাতে!"


বলেই নাইফ নিজেই পুঁটলি খুলে বেশ কিছু গহনা নামিয়ে সমান ভাগে তিনটা ভাগ করে মায়ের সামনেই আবার পুঁটলি বেঁধে বললো,


“ এবার ঠিক আছে।সব সমান সমান।"


আফিয়া ছেলেকে দেখছে অপলক চোখে, মুগ্ধতা রেখে।নাইফ মায়ের কাছে এসে মায়ের ডান গালে নিজের বাম হাত রেখে বললো,


“ তুমি শিখিয়েছো বাবা মায়ের ভালোবাসা সবার জন্য সমান সমান।তবে এসবে কেন এমন বৈষম্য থাকবে আম্মা।আমরা সবাই তোমার সন্তান।কারো কথায় তা পরিবর্তন হবে না।আমার ব‌উকে তুমি পাতা দিয়ে বরন করবে,যদি সে থাকে তবে থাকবে।না থাকলে নাই। তোমার চেয়ে, তোমার সিদ্ধান্তের আগে কারো কথা আমি নাইফ কেয়ার করি না। আমার পৃথিবীতে আমার সবার আগে আমার আব্বা আম্মা, আমার তিন ভাই বোন। অতঃপর অন্যদের কথা।"


আফিয়া ছেলের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো।ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদতে থাকলো।নাইফ মাকে আগলে রেখে শান্ত করার চেষ্টা করছে।


চলমান.....


ছুটির পরেও অফিসে বসেই লিখলাম এবং পোস্টও করলাম,অথচ আপনারা চুটকিতেই পড়েও একটা সুন্দর বড় কমেন্ট, রিএ্যাক্ট দিতে চান না।কি কন্জুস আপনেরা।যেন কমেন্ট রিএ্যাক্ট করলেই আপনার বাসায় চলে যাবো।😒


ভুলচুক যা হবে বলবেন, বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ঠিক করে দিবো। ইনশাআল্লাহ বেঁচে থাকলে।সময় পাইনি রিচেকের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ