এক আধেলা দুঃখের ভেলা | পর্বসংখ্যা_০৩

 #এক_আধেলা_দুঃখের_ভেলা

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_৩



[ নকলবাজি থেকে সতর্ক করা হল, দয়া করে আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করবেন, মেনশন দিবেন। ]


তিনদিন পেরিয়ে গেল দুরন্ত ইন্তেখাব ইসলাম এবং প্রত্যাশা মাহবুবের বিচ্ছেদের। বিচ্ছেদ না চেয়েও পাওয়ায় উভয়পক্ষের মনেই খানিকটা নড়চড় হয়েছে। তবে স্বাভাবিক থাকার কসরত‌ও অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলছে। যোগাযোগ না রেখেও একে অপরের খবর ঠিক‌ই পেয়ে যাচ্ছে।

ঠিক যেমন প্রত্যাশার কানে পৌঁছে গেল, তাদের তালাক চুড়ান্ত করার জন্য তার প্রাক্তন শ্বাশুড়ির ছলনার বুক ব্যথা। যেই ব্যথার দোহাই দিয়ে তার প্রেমের সংসারে আগুন ধরিয়েছিল।


_ প্রত্যাশা আপু, আম্মু ডাকে তোমায়!


জানালার গ্রিলে কপাল ঠেকিয়ে সামনের বিল্ডিংয়ের কার্নিশে একটা চড়ুইয়ের নতুন বাসা গড়ার কর্মযজ্ঞ প্রাণভরে দেখছিল প্রত্যাশা। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল তাচ্ছিল্যের হাসি‌ বিড়বিড় করে বলল,


_ সেই তো ভেঙ্গেই যাবে, তবে গড়ার এত প্রয়াস কেন!


প্রত্যাশাকে বিড়বিড় করতে দেখে পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরী মৌরি জিজ্ঞেস করে উঠল,


_ আপু, কিছু বলছ?


_ না!


বলেই প্রত্যাশা সোজা হয়ে দাঁড়াল, ঘুরে তাকিয়ে মৌরির উদ্দেশ্য করে বলল,


_ আমাকে কেন ডাকছেন?


_ জানি না, আমাকে বলল তোমাকে ডেকে নিয়ে যেতে, তাই আমি আসলাম।


_ ওহ্, আচ্ছা চল।


অপরদিকে,


দুরন্ত খুব তড়িঘড়ি করে শার্টের হাতার বোতামগুলো লাগাচ্ছে। সরকারি চাকরির পরীক্ষা রয়েছে। গত তিন দিন ভালো করে জীবন অনুভব করতে ভুলে গেলেও কাল রাত থেকে এই চাকরির পরীক্ষার কথা স্মরণে আসতেই সব বিরহ ভেসে গেল পরীক্ষার চিন্তায়। রাত জেগে রিভিশন দিয়েছে সব আবশ্যক প্রশ্নগুলো। অতঃপর ভোরে ঘুমের ঘাটতি পূরণ করার জন্য ঘন্টা তিনেক মাত্র ঘুমিয়েছে, কিছুক্ষণ আগে নীহারিকার মিষ্টি স্বরের ডাকে সেই ঘুম ভাঙ্গে, অতঃপর গা গোসল দিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে।


_ নাস্তা কি এখানে দিয়ে যাব, একটু খেয়েই না হয় যান।


প্রশ্নটা করেই নীহারিকা দরজার সামনে লজ্জারত বদন শির নত করে দাঁড়িয়ে রয়েছে, অনবরত হাত কচলাচ্ছে। দুরন্ত দর্পণের মাঝবরাবর ঐ অপূর্ব সুন্দরী তরুণীর প্রতিবিম্ব দেখল নিটল ললাটে, পরমুহূর্তেই টানটান ললাটের মধ্যিখান বরাবর কয়েক পরদ ভাঁজ ফেলে চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে বলল,


_ ব‌উগিরী কম দেখাবা। যাও এখান থেকে!


দুরন্তের চাপা ধমকে কেঁপে উঠল নীহারিকা। কম্পিত নজর তুলে ঘৃণায় ডোবা পুরুষালি চাহনিতে এক ঝলক দৃষ্টি মিলিয়ে পরমুহূর্তেই নামিয়ে নিল, অতঃপর তড়িৎ গতিতে স্থান ত্যাগ করল। ওর চলে যাওয়া দেখে দুরন্ত ফোঁস করে শ্বাস ফেলে নিজেকে পূণরায় আয়নায় দেখে নিল। সবকিছু ঠিকঠাক দেখে টেবিলের উপর গুছিয়ে রাখা ফাইলটি হাতে নিয়ে মোবাইল, বাইকের চাবি সব গুছিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে দরজা চেপে নিজের ঘর থেকে বের হতেই মুখোমুখি হল দুরদানা সিদ্দিকীর।


_ তুমি সবসময় ওর সাথে এমন মিসবিহেভ কর কেন? কি করেছে ও যার জন্য...


_ আমার দেরি হচ্ছে, আম্মা! আসি!


দুরদানা ছেলের বিক্ষিপ্ত মুখশ্রী দেখে চুপ করে গেলেন। ছেলের মাথায় হাত বুলাতে যাবেন তার আগেই দুরন্ত উনাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। দুরন্তের চলার ক্ষিপ্ত গতির দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে বিড়বিড় করে উচ্চারণ করলেন,


_ ফি আমানিল্লাহ্।


__________________________________________


নিজের বাবা মায়ের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে স্টেইনলেস স্টিলের দরজায় টোকা দিয়ে ভেতরে গম্ভীর চোখমুখ করে বসে থাকা নারীটির দৃষ্টি কাড়ার প্রয়াস করল। নারীটিও তাতে সাড়া দিয়ে দরজা সম্মূখে তাকিয়ে দণ্ডায়মান প্রত্যাশার উদ্দেশ্য করে বললেন,


_ প্রত্যাশা, আসো আসো! এই ঘরে ঢোকার জন্য তোমার অনুমতি নেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই তো।


_ আমাকে ডেকেছিলেন, আন্টি!


_ হ্যাঁ হ্যাঁ, বস প্লিজ।

তোমার কী শরীর অসুস্থ নাকি?


প্রত্যাশা পুরানো খাটের এক কোণায় আলগোছে বসল। অতঃপর নিজের ডার্ক সার্কেলে হারিয়ে যাওয়া বড় বড় পাপড়ির আবডালে লুকিয়ে থাকা ডাগর চোখ মেলে সামনের অতীব সুন্দরী নারীটির পানে চাইল এবং এক‌ই সঙ্গে ধীর ও শান্ত শব্দে বলল,


_ না তো, আমি ঠিক আছি।


_ তবে সারাক্ষণ ঘরে ঝিম মেরে বসে থাক কেন? দেখ...


বলেই তিনি একটু এগিয়ে আসলেন প্রত্যাশার দিকে, অতঃপর প্রত্যাশার ডান হাতটি নিজের দু'হাতে মুঠোয় নিয়ে বললেন,


_ দেখ, প্রত্যাশা তুমি যেমন আমাকে পুরোপুরি মায়ের স্থানে বসাতে পার নি। আবার সৎ মা বলে অসম্মান‌ও কখনো করনি। তেমনি আমিও, তোমাকে নিজের মেয়ের মতো নিজের কাছে রেখে অধিকার খাটিয়ে তোমার লালন পালন করিনি, তেমনি কখনো দুঃস্বপ্নেও তোমার অকল্যাণ কামনা করিনি। হয়তো আমাদের সম্পর্ক অন্য পাঁচটা সৎ মা মেয়ের মতো নয়, আবার আপনের মতোও না। কিন্তু তাই বলে আমরা কিন্তু কেউ কাউকে ছোট‌ও করিনা কখনো।


_ জি আন্টি, তা তো আমি জানি। কিন্তু হঠাৎ আপনি..


_ দেখ, তোমাকে যা বলব তোমার ভালোর জন্য‌ই বলছি। এটা আমি তোমাকে আগেও বলতে চাইতাম কিন্তু...সৎ মা তো। তাই অনেক কিছু ভেবে বলিনি। তাছাড়াও তোমার বিষয়ে তোমার ব্যক্তিগত মতামত‌ই সব। তোমার মামাদের‌কেও দেখেছি তোমার মতের বাইরে জোর খাটায় না‌। তোমার বাবা তো নিজেকে তা করার যোগ্য‌ই মনে করেন না। তিনি...


_ ছিহ ছিহ আন্টি, এসব কি বলছেন? তিনি আমার বাবা। জন্মদাতা পিতা, আমার বিষয়ে তার কোন মতামত দেওয়ার জন্য যোগ্যতা যাচাই ... প্লিজ আব্বুকে এভাবে ভাবতে নিষেধ করবেন। তাছাড়া, দেখুন আন্টি, মামা বাড়ির সবাই আমাকে একটু বেশিই আদর করে। কারণ, আমার নানা বাড়িতে আর কোন মেয়ে ছিল না। মা ছিলেন তাদের একমাত্র বোন। সেই একমাত্র বোনের রেখে যাওয়া আমানত মনে করেই তারা আমাকে এত আস্কারা দেন। সুতরাং তাদের.... যাই হোক। আমি এমন কোন কিছু কখনো নিজের ব্যবহারে জাহির করে থাকলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।

আপনার সাথে আমার সম্পর্কের নাম যেমনি হোক, আমি তার মধ্যে কোনরকম তিক্ততা রাখতে চাই না।


_ শুনে ভালো লাগল। বলছিলাম, কিছু ভাবলে?

জামাই.... মানে দুরন্ত আর যোগাযোগ করেছিল?


প্রশ্নটা করেই তিনি প্রত্যাশার চোখের দিকে তাকালেন। শ্যাম বর্ণের পরিষ্কার ত্বকের মেয়েটার চোখে তিনি কখনোই কালো ছাপ পড়তে দেখেননি। বলাবাহুল্য, প্রত্যাশার জীবনে মাতৃবিয়োগ বৈ অন্য কোন দুঃখের ছাপ তার মাতৃকুল পড়তে দেয়নি। মেয়েটাকে তারা হাতের তালুতে রেখে লালন পালন করেছেন। অতি আদর আর আহ্লাদে বড় হ‌ওয়ায় খানিকটা একগুঁয়েমি রয়েছে ঠিক, তবে ভীষণ আন্তরিক আর খোলামন‌ও রয়েছে মেয়েটার মধ্যে। মা বলে কোনদিন ডাক না দিলেও অসম্মান কখনো করেনি। বরঞ্চ প্রত্যাশার সামনে কেউ কটুক্তি করলে মেয়েটা প্রতিবাদ করে, তিনি নিজেই তার সাক্ষী আড়ালে আবডালে বহুবার হয়েছেন।

এই সরল, চঞ্চল মেয়েটার জীবনে কত বড় একটা দাগ লেগে গেল। মেয়েটার জন্য মেয়েটার মামা বাড়িতে মাতম চলছে। তাই তো মাহবুব সাহেব কিছুদিনের জন্য রাখার কথা বলতেই তারা রাজী হয়ে যান।


মিসেস মলি, প্রত্যাশার সৎ মা। যিনি অধীর আগ্রহে প্রত্যাশার দিকে চেয়ে রয়েছেন উত্তরের আশায়।

প্রত্যাশা দুদিকে মাথা দুলিয়ে মৃদু স্বরে বলল,


_ না!


মলি প্রত্যাশার হাত দুটো মৃদু শক্ত চাপে ধরে বুঝ দেওয়ার মতো করে বললে লাগলেন,


_ ঠিক আছে, যা হয়ে গিয়েছে তা হওয়ার ছিল তাই হয়েছে। দুঃখ জিইয়ে রেখ না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালো কিছু রেখেছেন তার পিছনের উদ্দেশ্য। তবে তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।


_ জি বলুন।


_ তোমার বিয়ের আগেই আমি ভেবেছিলাম বিষয়টি, কিন্তু সবাই অন্য ভাবে নিবে ভেবে আর তোমাকে অথবা কাউকে জানাইনি।


_ কোন বিষয়ে?


_ তোমার প্রাক্তন শ্বাশুড়ি, ভদ্রমহিলাকে আমার কখনোই সহজ মনে হয়নি। আমার তখনি মনে হয়েছিল তুমি উনার সাথে মানিয়ে চলতে পারবে না। কি রকম যেন কথার ধরন!


মলির কথায় প্রত্যাশা উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল,


_ উনি আপনাকে কিছু বলেছেন?


_ না, আমাকে কিছু বলেন নি। তবে যেদিন তোমাদের বিয়ের কথা চুড়ান্ত করতে আসল সেদিন পরিচয় পর্বেই উনাকে আমার যুতের লাগে নি। তখন ভেবেছিলাম সেটা আমার ভুল ধারণা, তাছাড়াও দুরন্তের মতো একটা ছেলে যেহেতু আছে সেখানে.... আমি ভাবতেই পারিনি ওরকম নিপাট ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ছেলেটাও মাম্মাস বয় বের হবে! হুহ্!


মলি শেষ কথাটা বলেই একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। প্রত্যাশা নিজের দৃষ্টি স্থির রেখেছে লাল সুড়কির ফ্লোরে। সত্যিই তো, দুরন্তের মতো ছেলেও মাম্মাস বয় হয়? আসলেই কি তাই? নাকি সমস্যা অন্য কোথাও?


_ শোন প্রত্যাশা, মন খারাপ কর না। তোমার মতো চঞ্চল মেয়েকে এমন মৃত তরুর মতো নেতিয়ে থাকা মানায় না‌। তুমি যথেষ্ট এফোর্ড দিয়েছ এই বিয়েটা টিকিয়ে রাখার জন্য। দেড় বছর দূরে থেকেও স্ত্রী হবার সব চেষ্টাই করেছ, এরপরেও যদি কেউ তোমার চেয়ে অন্য কাউকে অধিক গুরুত্ব দেয় তবে তার জন্য নিজেকে শেষ করে লাভ নেই। আমি বলি কি, তুমি নিজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসো। এক কাজ কর, তুমি চাইলে আমাদের গ্রামে মানে আমার বাবার বাড়ি ঘুরে আসতে পার। তুমি তো এখনো মৌরির নানা বাড়িতে বেড়াতে যাওনি। ঐখানে গেলে তোমার খুব ভালো লাগবে‌। চমৎকার সব ভিউ। তোমার ফটোগ্রাফীর জন্য দারুণ সব ব্যাকগ্রাউন্ড পেয়ে যাবে। আমার কিছু কাজিনের উঠতি বয়সী ছেলে মেয়ে আছে, তারাও দেখবে তোমাকে দারুণ কম্পানি দিবে।

মৌরি, মাশুককে সাথে নিয়ে যাও, তিন ভাইবোনের একটি সুন্দর স্মৃতি গেঁথে ফেল।


মলি হাওলাদার, প্রত্যাশার পানে মমতামাখা নয়নে চেয়ে কথাগুলো বলল প্রত্যাশার উদ্দেশ্যে। প্রত্যাশা এই রূপবতী মধ্যবয়স্কা নারীর পানে বিস্মিত চোখে চেয়ে রইল। গর্ভধারিনী মায়ের স্মৃতি তার মনে নেই। থাকার‌ও কথা না। শিশুকালেই তিনি প্রত্যাশার কাধে দুধের ঋণ চাপিয়ে জগত সংসারের মায়া ত্যাগ করেছেন। মায়ের সঙ্গ প্রত্যাশা বুঝেছে তার মা তূল্য মামীর কাছ থেকে। যিনি প্রত্যাশাকে পরম আদরে, স্নেহে, আহ্লাদে লালনপালন করেছেন। যার কাছে প্রত্যাশা তার‌ই মেয়ে। প্রত্যাশাও যাকে ভালোবাসে মামনি বলে ডাকে।


প্রত্যাশার জন্মের বছর দেড়েক মধ্যেই জরায়ু ক্যান্সারে ভুগে জগত সংসারের পাঠ চুকিয়ে পরলোকের আপন নিবাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চলে গেলেন স্বপ্না জামান। তার ঠিক বছর চারেকের মাথায় ব্যস্ত জীবনে এক টুকরো শান্তি খুঁজতেই দ্বিতীয়বার ন‌ওশা সাজেন জামালপুরের শিক্ষক ও বিখ্যাত ব্যাবসায়ী মাহবুব হোসেন। জামালপুর সদরে বাস করা মাহবুব বংশীয় ভাবে ব্যাবসায়িক হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি তার তিনটে, অনার্স ও ডাবল মাস্টার্স। সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে অনার্স করে মাস্টার্স‌ও তা নিয়ে সম্পন্ন করেন অতঃপর নিজের শখ মেটাতেই আবার‌ও দ্বিতীয়বার ল নিয়ে মাস্টার্স করেন।

বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি আইন কলেজের শিক্ষকতার পাশাপাশি পারিবারিক কাপড়ের ব্যাবসা সামলাচ্ছেন। অর্থ বিত্তে কম নেই। অল্প বয়সেই স্ত্রী রূপি প্রেমিকা হারিয়ে শিশু কন্যাকে নিয়ে অকুল পাথারেই পড়েছিলেন বটে। তবে আবেগের চেয়ে বাস্তবিক জ্ঞান বেশি যে তাই শোকের মাতম শিগগিরই কাটিয়ে উঠেন। মেয়েকে বুকে আগলে অনেক দিন বাঁচার প্রত্যয়ে নিজেকে সামলে নেন। কিন্তু বছর পেরুনোর আগেই তার মায়ের আহাজারি বাড়ির দেওয়ালে প্রতিধ্বনি তুলতে শুরু করল। বংশের বড় ছেলে, বংশের প্রথম বাতি, তা কি এভাবে নিভু নিভু জ্বলতে পারে? তার আলোতে যদি বাড়ির প্রাঙ্গন উজ্জ্বল না হয়, তবে কীভাবে বাড়ির অন্ধকার কাটবে? কীভাবে আলোকিত হবে ঘরদ্বোর!


মাহবুব সাহেব সদ্য গত হ‌ওয়া স্ত্রীর শোক কাটিয়ে উঠলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমিকার শোক কাটাতে পারলেন না। ভালোবেসে বিয়ে করে লাল টুকটুকে তাঁতের শাড়ি জরানো স্বপ্না জামানকে ব‌উ সাজিয়ে এনেছিলেন, বছর দুইয়ের মাথায় তাদের কোল আলো করে জন্ম নিল গভীর প্রণয়ের প্রথম ফুল প্রত্যাশা মাহবুব। তবে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেওয়া প্রত্যাশার কপালে মাতৃস্নেহ বেশিদিন টিকল না। প্রসবের সার্জারি সময় চিকিৎসকের গাফেলিতর দায়ে রয়ে যাওয়া ভুল চিকিৎসার চিহ্ন ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে তুলে দিল স্বপ্না জামানকে। এই শোক ভুলে কীভাবে মাহবুব হোসেন নতুন কাউকে নিয়ে আগাবে? তাছাড়াও শিশু কন্যার কী হবে? সৎ মা কি শিশুটিকে আদৌও ভালোবাসবে? মাতৃহারা কন্যাকে তিনি পিতৃহারাও করতে চাননি। গোঁ ধরে বসে র‌ইলেন।


এর কিছুদিন পূর্বেই প্রত্যাশার বড় মামার স্ত্রী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। একমাত্র বোন শোকে কাতর স্বপন জামান স‌ওদাগর, বোনের সন্তানকে দেখতে আসেন জামালপুর। এসে দেখেছিলেন মৃত বোনের শ্বাশুড়ি তার বোনের শোকের চেয়েও বেশি নিজের বংশের বাতির শোক করতে থাকে। তা দেখে তিনিও নিজের একমাত্র ছোট বোনের মৃত্যু শোক ভুলে মাতৃহীন ভাগিনীর দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন! তিনি বোন জামাতার কাছে আর্জি করলেন,


_ ওকে আমাকে দিয়ে দাও, তুমি মাওইমার কথায় রাজী হয়ে যাও।


_ কি সব বলছেন ভাইজান। আমি আমার সন্তানকে তার নানা বাড়িতে রেখে নিজের জন্য সুখ খুঁজব? আমাকে কি এত স্বার্থপর মনে হয় আপনাদের?


_ আহ্ আ, স্বার্থপর কেন ভাবব? এটা বাস্তব, তা তোমাকে, আমাদের মানতে হবে। একটা জীবন একা কাটানো যায় না। তুমি আজ অথবা কাল বিয়ে করবে, করা উচিত এবং তোমাক করতেই হবে। তখন কি হবে মেয়েটার? তাছাড়াও তুমি পুরুষ মানুষ, সারাদিন কর্ম ব্যস্ততায় নিজের খেয়াল‌ই রাখতে পারবে না, ওর খেয়াল কি করে রাখবে? মাওইমা বয়স্কা মানুষ, তিনি নিজেই চলতে কষ্ট হয় তার মধ্যে...


উনার কথার মধ্যেই মাহবুব হোসেন বলে উঠলেন,


_ আর আমি মরে গেলেও কি আপনার মনে হয় আমার মেয়ের এক বিন্দু অবহেলা হবে আমার বাড়িতে?


স্ত্রী হারানোয় কাতর, ক্ষুব্ধ পুরুষকে না ক্ষেপিয়ে শান্ত গলায় বোঝানোর চেষ্টা করে স্বপন জামান স‌ওদাগর বলেছিলেন,


_ তোমার বয়স কম। অসুস্থতায় সেবা করার জন্য হলেও একজন দরকার আছে। মাওইমা যা বলেন, তাতে রাজী হয়ে যাও। আর, মেয়ের কথা? ওকে আমার কাছে দেও, কেননা এখন ওর মায়ের যত্ন দরকার। বুকের খাবার দরকার, যা এখন ওর মামীই দিতে পারবে। এটা তো তুমি অথবা তোমার পরিবারের লোকেরা পারবে না।


_ দোকানে অনেক কোয়ালিটিফুল দুধ কিনতে পাওয়া যায়। আমি আমার মেয়েকে কিনে খাওয়াতে পারব।


_ কিন্তু ওর এখন মায়ের বুকের খাবার দরকার, তোমার কেনা দুধে ওর শরীর সুস্থ ভাবে গড়ে উঠবে না। তুমি কি চাইছ, তোমার মেয়ে অস্বাভাবিক ভাবে

বেড়ে উঠুক অতঃপর একদিন আমার বোনের মতোই...


মামা, বাবার কথার মাঝেই গলা ছেড়ে চিৎকার করে উঠেছিল প্রত্যাশা। মা যাবার পর থেকেই মেয়েটা থেকে থেকে এভাবেই গগণবিদারী চিৎকার করে উঠে। তাকে থামাতে বহু শ্রম দিতে হয়। মাহবুব হোসেন মেয়ের শিউরে বসে কোলে তুলে নিল। অতঃপর ঘরের এ কোণ থেকে ঐ কোণ, পায়চারি করছে আর ঠোঁট দিয়ে নানা রকম শব্দের সৃষ্টি করে মেয়ের কান্না থামানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যেই হাজির হয় প্রত্যাশার ছোট ফুপু। ভাইয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে বলেছিল,


_ আমাকে দিন ভাইজান, আসো বুড়ি, ফুফুর কাছে আসো।


মাহবুব হোসেনের ছোট বোন হুসনে আরা, কন্দনরত ভাতিজীক নিয়ে দু পায়ের উপর শুইয়ে বুকের উপর হালকা দু'টো চাপড় মেরে চালের গুঁড়া আর দুধ দিয়ে বানানো ঘন লিকুইড যা সহজে বললে বলতে হয় চালের গুঁড়ার সুজি, তা চামচের আগায় একটুখানি তুলে ফু দিয়ে ঠান্ডা করে ভাতিজীর গালে পুরে দিল।

ছোট্ট প্রত্যাশা প্রথম দু চামচ চেঁচাতে চেঁচাতে গিলে নিলেও পরের চামচ আর নিল না। উল্টো বমি করে সবটা বের করে থুতনি, গলা মেখে ফেলল। হুসনে আরা পাতলা রুমাল দিয়ে সবটা মুছে আবার‌ও একই কায়দায় খাওয়ানোর চেষ্টা করল, আবারও প্রত্যাশা বমি করে দিল এবং এবার সে আগের চেয়েও বেশি উচ্চ স্বরে চেঁচিয়ে উঠল।

স্বপন সবটা দেখে দু আঙ্গুলের মাথা দিয়ে নিজের ভেজা চোখ ঢলে নিলেন। হুসনে আরার বয়স সবে মাত্র পনেরো কি ষোল। বাচ্চা পালার অভিজ্ঞতা তার কোথায় থেকে হবে? মেয়েটা প্রত্যাশার মুখে বারবার খাবার তুলে দিচ্ছে আর সে বারবার‌ই সব জিহ্বা উল্টে বের করে দিচ্ছে। যা দেখে অসহায় চোখে হুসনে আরা তার বড়‌ ভাইয়ের দিকে তাকাল।

মাহবুব হোসেন বোনের অসহায় চাহনি দেখে বললেন,


_ আমার কাছে দে, আমি ট্রাই করি। তুই যা, স্কুলে দেরি হয়ে যাচ্ছে তোর।


হোসনে আরা লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নামল। অতঃপর প্রত্যাশার খাবার মাখা গালে ঠোট চেপে চুমু দিয়ে বলল,


_ তুমি এখন বাবাকে জ্বালা‌ও, ফুফু আসি।


হোসনে আরা চলে গেল, মাহবুব হোসেন নিজের বাম হাতের বাহুতে চিৎ করে শুইয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করলেন, বার কয়েক। তিনিও অকৃতকার্য হয়ে মেয়ের মুখপানে অসহায় চোখে তাকিয়ে র‌ইলেন। এসব দেখে স্বপন জামান নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন শব্দ করে। বোন জামাইয়ের কাঁধে হাত রেখে অনুনয়ের সুরে বললেন,


_ পারবে না। ওর এখন মায়ের সান্নিধ্য চাই, তা কোথায় থেকে পাবে তুমি? শোন আমার কথা, তোমার মেয়ে তোমার‌ই থাকবে, তার তো অস্তিত্ব‌ই তুমি। কিন্তু বাঁচাতে চাইলে এখন ওকে আমার কাছে দাও। একটু বড় হলে যদি আসতে চায়, নিয়ে এসো।

ওর মামীর বুক ভেসে যায় দুধে, আল্লাহর রহমতে আমার ছেলেটা একা খেয়ে শেষ করতে পারে না। আর এখানে মাতৃদুগ্ধের অভাবে আমার বোনের চিহৃ কষ্ট পাবে! মাহবুব, আমি পারব না এই দুঃখ নিয়ে রাতে ঘুমাতে। তুমি এত কঠোর হয়ে থাকলে তোমার ভালোবাসার চিহ্ন বাঁচবে না। একটু ঠান্ডা মাথায় ভাব ভাই, দয়া করে।


সত্যিই মাহবুব হোসেন সেদিন ঠান্ডা মাথায় ভেবেছেন, মা হারানোর কয়েক দিনের মধ্যেই মেয়েটা কাহিল হয়ে পড়েছে মাতৃ শোকে। সারাক্ষণ চিৎকার করে কাঁদে। অবুঝ শিশু কি হারিয়েছে তা না বুঝলেও কিছু হারিয়েছে তা ঠিক‌ই অনুভব করতে পেরেছিল বোধহয়। ছলছল চোখে মেয়ের অসহায় মুখপানে চেয়ে নিজের পিতৃসত্ত্বায় পাথর চেপে সুমন্ধির দায়িত্বে সঁপে দিয়েছিলেন ভালোবাসার অস্তিত্ব। তারপর....


প্রত্যাশাকে নিয়ে যখন তার বড় মামা আর ছোট মামা, মামী টাঙ্গাইল ফিরেন তখন প্রায় রাত। বড় মামী স্বামী, দেবর, জা'য়ের অপেক্ষায় উঠানে পাতা জলচৌকিতে বসে ঝিমুচ্ছিলেন। তার মাত্র সাড়ে তিন মাসের শিশু পুত্র তখন দোলনায় ঘুমে বিভোর ‌।

কাঠের সদর দরজা পেরিয়ে সবাই বাড়ির উঠানে পা

রাখতেই ঘুমন্ত শিশু প্রত্যাশা উচ্চ স্বরে ঠোঁট ভেঙে কেঁদে উঠল। যা শুনে তার বড় মামী দৌড়ে গিয়ে জা'য়ের দিকে হাত বাড়িয়ে বলেছিলেন,


_ আমার কাছে দে।


প্রত্যাশার ছোট মামী, মারুফা। সন্তর্পণে বড় জা'য়ের কোলে দিয়ে বলেছিলেন,


_ কিছু খায় না। শুধু কাঁদে, এভাবে কিভাবে বাঁচবে মেয়েটা, বল তো ভাবী?


_ আল্লাহ বাঁচালে বাঁচবে, নয়তো আমাদের জোর কিসে!


_ দেখ, কিছু খাওয়াতে পার কিনা?


স্বপন জামান স্ত্রীর পানে আকুতি ভরা নয়নে চেয়েছিলেন। মমতাময়ী আশরাফি, স্বামীর চোখে ভাসা ইঙ্গিত বুঝে নিয়ে কোনদিকে না তাকিয়ে প্রত্যাশাকে নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন নিজের ঘরে। খাটের কোণে পা ভাঁজ করে বসে কোলের উপর দেড় বছরের শিশু প্রত্যাশাকে শুইয়ে পরম মমতায় নিজের ডান স্তন তুলে দিয়ে হয়ে যান প্রত্যাশার দুগ্ধমাতা। সেই থেকে আজ অবধি, তিনিই প্রত্যাশার মা। কাগজে কলমে বাবা মায়ের পরিচয় মাহবুব হোসেন ও স্বপ্না জামান হলেও সামাজিক পরিচয়ে প্রত্যাশার বাবা স্বপন জামান স‌ওদাগর ও তার স্ত্রী আশরাফি বেগম মা। প্রত্যাশা তাদের একমাত্র মেয়ে। তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে স্বপন জামান স‌ওদাগরের সুখের সংসার।

প্রত্যাশার ছোট মামার ঘরেও এক কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছে কিন্তু তাতেও প্রত্যাশার আদরে বিন্দুমাত্র ঘাটতি হয়নি‌।


প্রত্যাশার শিশুকাল এভাবেই কাটছিল। মাহবুব হোসেন সুযোগ পেলেই টাঙ্গাইল ছুটে আসতেন মেয়ের টানে। এভাবেই কেটে যায় বছর চারেক। কিন্তু গল্পের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন এলো হঠাৎ করেই। মাহবুব হোসেন একদিন কাজের সূত্রে ময়মনসিংহ যায়, সেখান থেকে ফিরে আসার সময় বাইক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে প্রায় দীর্ঘ চার মাস হাসপাতালে পড়ে থাকেন। সেই সময়টায় অনুভব করেন একজন সামর্থ্যবান পুরুষের জীবনে সঙ্গী কেবল দেহের খোরাকই পূরণ করে না। বরং জীবনের প্রতিটি কদমেই একজন পুরুষের একজন নারী সঙ্গীর দরকার হয়।

বিছানায় অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা ছেলের সেবায় মা মানজুরা খাতুনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন প্রত্যাশার ছোট ফুফুর‌ও বিয়ে হয়ে যায়। মাহবুব হোসেন মা আর একজন গৃহকর্মীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা তাকে ভীষণই পীড়া দিতে থাকল। দিনে দিনে সঙ্গীহীন থাকার কষ্ট আর‌ও তীব্র ভাবে উপলব্ধি হল, অনুভব করলেন কতটা দরকার সঙ্গীনির!

সুস্থ হয়েই তিনি মা বাবার কথায় রাজী হয়ে বিয়ে করেন সদ্য বিএ পাস করা মলিকে হাওলাদারকে।


যদিও তিনি বিয়ের পর মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন এবং তাতে মলির কোন দ্বিমত ছিল না। কিন্তু প্রত্যাশার মামীর ভেজা মুখের দিকে চেয়ে জোর খাটিয়ে নিতে পারেননি। মামা মামীদের অতি আদরে বড় হ‌ওয়া মেয়েটাকে তিনি প্রকৃত মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করতে পারেন নি। তাই প্রত্যাশার স্থায়ী ঠিকানা তার মামা বাড়িই হয়ে গেল।

নতুন সংসার, নতুন জীবন, নতুন মানুষ, নতুন শব্দটির সাথে মিশে চলতে গিয়ে ধীরে ধীরে পুরানো অনেক কিছু থেকে দূরে সরে গেলেন মাহবুব হোসেন।

শখের শিক্ষকতা, ব্যাবসা, নতুন সংসার ও সংসারের মানুষ, দূর্ঘটনার পর নিজের শারীরিক অবক্ষয়, আবার নতুন মানুষের আগমন, সব মিলিয়ে প্রত্যাশার বাবাও প্রত্যাশার থেকে দূরে চলে গেল। উৎসব, অনুষ্ঠান ছাড়া বাবার বাড়ি না প্রত্যাশার আর আসা হয়, আর না প্রত্যাশার বাবার যাওয়া হয়‌।


যদিও মাহবুব হোসেন সবসময় নিজেকে অপরাধী বলে জানান দেয়, তিনি নিজেকে অযোগ্য বাবা বলেই গণ্য করেন। কিন্তু প্রত্যাশার মতো বাস্তববাদী মেয়ের কাছে তা ঠেকে না। ঠেকার‌ও কারণ নেই। কারণ প্রত্যাশা জানে এবং মন থেকে মানে সবটা স্রষ্টার ইচ্ছায় হয়েছে, এখানে মানুষের করণীয় কিছু নেই।

আর প্রত্যাশা তো খারাপ নেই। বরং অনেক বেশিই ভালো আছে। মামাদের আদরের একমাত্র ভাগ্নি, যারা আম্মা ছাড়া ডাক দেয় না। দুই মামার ঘরে পাঁচটি ভাই, যারা প্রত্যাশার গাঁয়ে মশাও বসতে দেয় না। একমাত্র মামাতো বোনের ভরসার সবচেয়ে বড় আশ্রয় প্রত্যাশা আপু। আবার বাবার দিকেও তো প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

সৎ মা মানুষটি মোটেই খারাপ নয়। সৎ ভাই-বোনেরাও প্রত্যাশা বলতেই পাগল। তাদের কাছে সৎ নয়। প্রত্যাশা তাদের বাবার সন্তান, তাদের বড় বোন বলেই সম্মানিত হয়। তাদের যেকোন বিষয়ে প্রত্যাশার মতামত গুরুত্ব পায়। তবে কেন প্রত্যাশা দুঃখ জিইয়ে রাখবে? রাখবে না প্রত্যাশা দুঃখ পুষে। অন্তত এমন মানুষের জন্য তো নয়‌ই যে কিনা অন্যকে খুশি করতে প্রত্যাশাকে বলি দেয়। প্রত্যাশা দুরন্তকে বুঝিয়ে দিবে ওমন একজন দুরন্ত প্রত্যাশার সুখের পথে বাঁধা হতে পারে না। দুরন্তরা মাম্মাস বয় হয়ে তাকে আঘাত করলেও মা'হীন প্রত্যাশারা সেসব ঠুনকো আঘাতে নুইয়ে পড়ে না। তারা লড়াই করে বাঁচতে জানে। প্রত্যাশাদের বাঁচার স্পৃহা তাদের পরিবারের অগাধ ভালোবাসা আর যত্ন।


সময় থেমে নেই। সময় চলতেই থাকে অবিরত। হেমন্ত ছুঁই ছুঁই সময়কাল। মৃদু উষ্ণ গরম আর অল্প বিস্তর শীতল হাওয়ায় অস্বস্তিকর একটি আবহাওয়া জারি রয়েছে। কোচিং সেন্টারে আজ দ্বাদশ শ্রেণির বায়োলজির পরীক্ষা ছিল। মোট পঁচিশ জন্য ছাত্র এই ব্যাচে। দুরন্ত ছাত্রদের পরীক্ষা নেওয়া শেষ করে আজকে আর কোন ক্লাস সে করাবে না, জানিয়ে দিল তার ফ্রেন্ড ফারজাদকে। ফারজাদ আর সে ব্যাচমেট। দু'জন মিলেই এই কোচিং সেন্টারের পরিচালনায় রয়েছে। যদিও প্রধান উদ্যোক্তা সে নিজেই এবং তাকে আগ্রহী করে তোলা মানুষটি, প্রত্যাশা। তার প্রত্যু! দুরন্ত কোচিং সেন্টারের গেইট পেরিয়ে পথের ওপাড়ে গিয়ে দাঁড়াল, দূর থেকে তার কোচিংয়ের সাইনবোর্ডের লেখাটুকু পড়ল।

‘ প্রত্যাশা ' যা, আপনার শেখার আগ্রহকে তীব্র করে তুলে!


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ