#এক_আধেলা_দুঃখের_ভেলা
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_০২
[ নকলবাজি থেকে সতর্ক করা হল। ভালো লাগলে শেয়ার করুন, মেনশন দিবেন।]
কলিং বেলের শব্দে দরজা খুলে দিল গৃহপরিচারিকা সানজিদা। বসার ঘরে উদগ্রীব চিত্তে বসে থাকা ইন্তেখাব ইসলামও উঠে দাঁড়ালেন। দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলেন দুরদানা সিদ্দিকী, উনার এক হাত ছেলের হাতের মুঠোয়। পেছনেই রয়েছে নীহারিকা। ইন্তেখাব ইসলাম চিন্তিত ভঙ্গিতে প্রশ্ন করলেন,
_ কী অবস্থা?
_ নাথিং সিরিয়াস। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আর কম ঘুমানোর কারণে ভিপি লো হয়ে গিয়েছে তাই বুক ধরফর করেছিল। এ্যালার্ট থাকতে বলেছে। চল, ঘরে দিয়ে আসি আম্মা!
দুরন্তের গলার স্বর টা ভীষণ অদ্ভুত ঠেকল মিসেস দুরদানা সিদ্দিকী ও ইন্তেখাব ইসলামের কাছে। দুরন্ত মায়ের সামান্য আ উ তেই অস্থির হয়ে যাওয়া ছেলে। সে মায়ের সামান্য শারীরিক কষ্ট নিতে পারে না। আজ সারাদিন হাসপাতালে ছুটোছুটি করল মাকে নিয়ে। মায়ের বুকে ব্যথা অনুভব করায়। অথচ
এখন বলছে কিছুই না! তাও এত রূঢ় সুরে! ইন্তেখাব ইসলাম ছেলের নমনিত চাহনিতে চাহনি মেলানোর দুঃসাহস করলেন না। কারণ ছেলের ভঙ্গুর হৃদয়ের ঘা ছেলের অসহায় চাহনিতে ভেসে উঠে। উনি নিজ স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন, দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বললেন,
_ তাহলে আর কি! রুমে গিয়ে রেস্ট নাও। নীহার মা, তোমার খালাম্মাকে নিয়ে যাও তো।
_ জি খালু জান। খালাম্মা আসো।
দুরদানা সিদ্দিকী এক পলক ছেলের শুকিয়ে যাওয়া মুখটা দেখলেন আড়চোখে অতঃপর নীহারের হাত ধরে ধীর পায়ে হেঁটে নিজের ঘরের দিকে গেলেন।
_ আমিও রুমে যাচ্ছি।
_ হুম।
দুরন্ত বাবার থেকে অনুমতি নিয়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা চাপিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে যেন ওর দেহখানা অসাড় হয়ে গেল। কোনমতে শক্তিহীন দেহটি টেনে নিয়ে বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসল। দুদিকে হাত রেখে মাথা ঝুঁকিয়ে বসল, তার স্মৃতিপটে ভেসে উঠল এই ঘরের প্রতিটি দেয়াল জুড়ে লেগে থাকা সুখ দুঃখের মুহূর্তগুলো।
বিয়ের প্রথম রাত থেকে তাদের বিচ্ছেদের আগ মুহূর্ত।
আচ্ছা, আজ তো শেষদিন ছিল। প্রত্যাশা কি গিয়েছিল কাউন্সিলর অফিসে? প্রত্যাশা সই করে দিয়েছে? দুরন্তের থেকে মুক্তি নিয়ে সুখী হবে প্রত্যাশা? আচ্ছা, আজ কী প্রত্যাশা দুরন্তের পথ চেয়ে অপেক্ষায় ছিল? দুরন্ত যায়নি বলে নিশ্চয়ই প্রত্যাশার অভিমান হয়েছে? আচ্ছা প্রত্যাশা কি পারত না সব ভুলে ছুটে আসতে দুরন্তের কাছে। একবার বললে কি হত যে, ‘দুরন্ত, আমি সব ভুলে গিয়েছি। চল আমরা আবার শুরু থেকে শুরু করি।' তবে কি দুরন্ত পারত নিজের ইগো ধরে রাখতে? না পারত না। প্রত্যাশার হাসি মুখ দেখার চেয়ে দুরন্তের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। কথাটা ভেবেই দুরন্ত থমকাল। সত্যিই নেই? সত্যিই কি দুরন্তের কাছে প্রত্যাশার এত গুরুত্ব ছিল? তবে কেন দুরন্তর প্রত্যাশা এত তাড়াতাড়ি তার থেকে হারিয়ে গেল? কই বিগত তিন বছরে তো দুরন্ত প্রত্যাশার ভালো থাকা নিয়ে উদ্বেগ দেখায়নি। দুরন্ত প্রত্যাশার হাসি মুখের যত্ন নেয়নি। বরং দুরন্ত নিজেই প্রত্যাশার মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে।
নিরব চাহনিতে পায়ের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো ভাবছে দুরন্ত। কয়েক পলক পর ফুঁপিয়ে উঠল। দুরন্তের মনে হচ্ছে ওর বুকের ভেতর জলন্ত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বীভৎস দহনে জ্বলে যাচ্ছে পুরো অঙ্গ। ও বিছানায় দুহাতের ভরে মাথা ঝুঁকিয়ে বসে কেঁদেই যাচ্ছে। ওর ফুঁপিয়ে করা কান্নার স্বর নিরব কামরা ছাপিয়ে পৌঁছে গেল পরের ঘরে থাকা মায়ের রুমে। দ্রুত সে দু'হাতে নিজের মুখ চেপে ধরল, তার কষ্ট সে তার বাবা মা'কে ছুঁতে দিবে না। নিরবে নিভৃতে কাঁদবে সে, যতনে পুষে রাখবে নিজের বুকের ঘা'কে। বিছানায় গা ছেড়ে দিল। দু দিকে হাত ছড়িয়ে শুয়ে রইল চোখ বন্ধ করে। বন্ধ চোখের পাতায় ভেসে উঠল সাত বছরের প্রেম, তিন বছরের বৈবাহিক জীবনের নানা মুহুর্ত।
প্রত্যাশার সঙ্গে বিয়ের পরের দিনগুলো কত রঙিন ছিল তাদের। তার বন্ধ চোখের পাতায় ভেসে উঠল বিয়ের পরের একদিনের ঘটনা।
প্রত্যাশা শাড়ির বেলাতে সবসময় তাতের শাড়ি পরে। তাঁতের শাড়ির প্রতি ওর অন্যরকম দুর্বলতা ছিল। প্রত্যাশার মা ছিলেন টাঙ্গাইলের মেয়ে। প্রত্যাশার নানার নিজস্ব তাঁতের শাড়ির ব্যবসা ছিল। ছোট থেকেই স্বপ্না জামান তাঁতের শাড়ির বুননের সঙ্গে মিলেমিশে বড় হয়েছেন যে কারণে তাঁতের শাড়ির প্রতি উনার অগাধ ভালোবাসা জন্মে যা উনার মেয়ের মধ্যে চলে আসে। মৃত মায়ের আবেগ থেকেই প্রত্যাশার তাঁত বুনন শাড়ির প্রতি ভালোবাসা জন্মে যা দিনেদিনে গভীর হয়। সেদিন ও বাদামী এবং জাম মিক্সড রঙের একটি তাঁতে শাড়ি পরে চুলে বিনুনী বাধছিল। ঠিক তখনি দুরন্ত এসে ঘরে ঢুকে। হাতে তার এক মুঠো জুঁই। জুঁইয়ের সুবাস নাকে সুড়সুড়ি দিতেই প্রত্যাশা ঘুরে তাকাল।
_ কোথায় পেলে?
জুঁই প্রত্যাশার সবচেয়ে বেশি পছন্দের ফুল। দুরন্ত প্রত্যাশার চোখেমুখে আঁছড়ে পড়া উচ্ছাস দেখে মৃদু হাসল। অতঃপর এক হাতে প্রত্যাশার কোমর আঁকড়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে অন্য হাতে থাকা ফুলগুলো প্রত্যাশার ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে বলল,
_ এনেছি কোথাও থেকে, ভাবলাম এত চমৎকার একটি প্রোগ্রামে যাচ্ছ, একটু বিশেষ কিছু না হলে কেমন ঠেকে!
_ প্রত্যাশা মাহবুব কৃতজ্ঞ জনাব দুরন্ত ইন্তেখাব ইসলামের কাছে।
_ উহু, শুধু কৃতজ্ঞতায় হবে না।
_ তাহলে জনাবের কি চাই?
দুরন্ত ঠোঁট দুটো এগিয়ে দিল। প্রত্যাশার ঠোঁট ছুঁই ছুঁই রেখে বলল,
_ এই ভেজা নরম ঠোঁটের ছোঁয়ায় আমার শুষ্ক ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে দিন প্লিজ!
_ তাতে লাভ কী?
_ ঠোঁট ফাটা বন্ধ হবে!
_ উম! তাহলে এখন থাক, আমি প্রোগ্রাম থেকে আসি।
_ এখন থাকবে কেন?
_ আমি চলে যাওয়ার পর যদি নরম ভেজা পেয়ে অন্য কেউ ঠোঁট ভেজাতে আসে।
_ অসম্ভব, এই ঠোঁট কেবলি এই প্রত্যাশা মাহবুবের নরম কোমল ঠোঁটের সুধায় ভিজতে আগ্রহী।
_ আচ্ছা!
_ হুম, প্লিজ দাও!
_ ছাড় তো। দেরি হয়ে যাবে আমার।
_ এ্যাই প্রত্তু, প্লিজ একবার, একটু দাও! দেখি আমি...
_ না না দুরন্ত আমার লিপস্টিক লেপ্টে যাবে, আমার সাজুগুজু, উমমম!
প্রত্যাশার মুখ বন্ধ হয়ে গেল দুরন্তের সুধার নেশায়। দুরন্ত ছেঁড়ে ছেড়ে কয়েকবারের প্রবল ঘর্ষণে প্রত্যাশার ঠোঁটের সবটুকু লিপস্টিক মুছে দিল। এদিকে প্রত্যাশাও ঘোরে ডুবে দুরন্তের সঙ্গে সমান তালে মেতে উঠেছে। নিজের তৃষ্ণা মিটতেই দুরন্ত প্রত্যাশাকে ছেড়ে দিয়ে হা করে শ্বাস ফেলল। ঠোঁটের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে প্রত্যাশার শাড়ি এলোমেলো হয়ে গেছে, চুলের বিনুনি আবারও ঢিলে হয়ে গেছে। ও নিজের বিক্ষিপ্ত ঠোঁটে হাত বুলিয়ে দুরন্তের বাহুতে প্রত্যাশা চাপড় মেরে বলল,
_ অসভ্য, বর্বর, জেন্টলি করা যায় না! আহ্, আমার ঠোঁট!
দুরন্ত ওকে আবারও চেপে ধরল, দু হাতের আঁজলায় প্রত্যাশার ভাঙ্গা গাল দু'টো ধরে রেখে বলল,
_ জেন্টলি করলে তো ফিল পাবে না। তখন আবার বলবে, দুরন্ত ইন্তেখাব ইসলাম শুধু নামেই দুরন্ত। কাজেকামে সে অষ্টারম্ভা। আর কি বল তো, এসবে ক্রেজিনেস না থাকলে ঠিক জমে না।
_ ধ্যাত। দিনদিনই অসভ্য হয়ে যাচ্ছ। ফুল দাও..
দুরন্ত প্রত্যাশার কথায় বাঁকা হেসে বাহু ঘষতে ঘষতে বলল,
_ সুঁই সুতো দাও, মালা গেঁথে দেই।
প্রত্যাশা সত্যি সত্যিই সুঁই সুতা বের করে দুরন্তের হাতে দিল। দুরন্তও অভিজ্ঞতার প্রমাণ রেখে খুব সুন্দর করে একটা মালা গেঁথে প্রত্যাশার বিনুনীর সঙ্গে পেঁচিয়ে দিল। প্রত্যাশা সবকিছু ঠিকঠাক করে দুরন্তের দিকে ঘুরে দাড়াতেই দু্রন্ত আবারও ওর গাল চেপে ধরে কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে দিল। অতঃপর ছোট ছোট উড়তে থাকা চুলগুলো গুছিয়ে দিয়ে বলল,
_ আমার সকাল-সন্ধ্যা তোমার নামে উৎসর্গিত।
_ আমার গোটা জীবনটাই!
বলেই প্রত্যাশা দুরন্তের গালে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল,
_ অফিসে গিয়ে কল দিও। আল্লাহ হাফেজ।
প্রত্যাশা কাঁধে ব্যাগ চেপে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে। ওর পিছু পিছু বের হল দুরন্ত।
বসার ঘরে বসেছিল দুরদানা সিদ্দিকী। প্রত্যাশার পরনের শাড়িটি দেখে নাক ছিটকালেন। বিড়বিড় করে বললেন,
_ রুচির দাফন!
প্রত্যাশা উনার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বিদায় নেওয়ার জন্য বলল,
_ আম্মা, আমি আসি। দোয়া করবেন!
দুরদানা বেগম মুখ তুললেন না, মৃদু শব্দে বললেন,
_ হু!
প্রত্যাশা উনার এহেন আচরণে একটু কষ্ট পেল। বিয়ের মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ও কখনো শ্বাশুড়িকে ওর সাথে ভালো করে কথা বলতে দেখেনি। প্রথম প্রথম একটু কষ্ট পেলেও ভেবেছিল উনি এমনই। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছে উনি এমন শুধু ওর সাথেই। অন্যদের সাথে ভীষণ মিশুক। প্রত্যাশা করুণ চোখে দুরন্তের দিকে তাকাল। দুরন্ত পলক জাপটে ওকে চলে যাওয়ার জন্য বলল। প্রত্যাশা স্বামীর আদেশে আর কথা বাড়াল না। ও শ্বাশুড়িকে সালাম দিয়ে পা বাড়াতেই তিনি বলে উঠলেন,
_ শাড়িটা বদলে যাও।
প্রত্যাশার পা থমকাল। চকিত ভঙ্গিতে ঘা ঘুরিয়ে তাকাল তখনো তার দিকে না তাকিয়ে কথা বলা শ্বাশুড়ির দিকে। তিনি সোফা থেকে উঠতে উঠতে বললেন,
_ কিছু পরার আগে গায়ে জড়িয়ে দেখবে সেটা আদৌও তোমার স্কিন টোনের সাথে যাচ্ছে কি-না? একটা সম্ভ্রান্ত পরিবারের বউ তুমি। যা-তা পরে বেরিয়ে যাও, রুচির তো বালাই নাই দেখছি।
তিনি নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন। প্রত্যাশা থমথমে মুখে সেদিক পানে তাকিয়ে রইল। দুরন্ত নিজেও হতবাক হল তার মায়ের কথায়। প্রত্যাশা মোটেই যা-তা পোশাক পরেনি। এমনকি ও পরেও না। দুরন্ত থমথমে মুখে তাকিয়ে থাকা প্রত্যাশার দিকে তাকাল। প্রত্যাশার চাহনিতে লজ্জা, অনুযোগ। দুরন্ত নিজ মায়ের আচরণে মনোক্ষুণ্ন হল। বিয়ের পর থেকে মা তার সাথেও ঠান্ডা ব্যবহার করছে। কথা ঠিকঠাক বলে না। বললেও তা এভাবেই খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বলে। মায়ের রাগের কারণ সে জানে, অভিমানের ভাষাও বোঝে কিন্তু তাই বলে এভাবে প্রত্যাশাকে বলবে! প্রত্যাশার চলনবলনে মায়ের খারাপ লাগলে সেটা তো সুন্দর করে গুছিয়ে, আদরের সহিতও বলা যায়। তা না করে!
শ্বাশুড়ির খোঁচায় প্রত্যাশার প্রথমে সত্যিই খারাপ লেগেছে, পরক্ষণেই তার মেজাজ পরিবর্তন হয়ে যায়। সে ভ্রু কুটি করে দুরন্তের বরাবর হয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল,
_ আমি সত্যিই কথা শোনানোর মতো পোশাক পরেছি, দুরন্ত?
প্রত্যাশার দুরন্তকে করা প্রশ্নে দুরদানা সিদ্দিকী নিজ ঘরের দরজায় থেমে গেলেন। পিছনে ফিরে দুরন্তের বরাবর দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যাশার দিকে চেয়ে কাঠখোট্টা স্বরে বললেন,
_ ও কি বলবে? ওর কি ভালো মন্দ দেখার চোখ আছে? থাকলে তো আর!... যাই হোক, আমার মনে হয়েছে এটা তোমার সাথে যাচ্ছে না তাই বলেছি। এখন তুমি কি পরবে, কি পরবে না সেটা অবশ্যই তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। রুচিবোধ সবার তো থাকে না। অবশ্য পারিবারিক শিক্ষারও একটা ব্যাপার থাকে।
_ আম্মা..
_ প্রত্তু!
দুরন্ত থামিয়ে দিল প্রত্যাশাকে। প্রত্যাশা দুরন্তের দিকে তাকাতেই বলল,
_ তোমার দেরি হয়ে যাচ্ছে না? যাও!
শ্বাশুড়ির কথার পিঠে কথা বলার ইচ্ছে বা শিক্ষা প্রত্যাশার নাই। কিন্তু তিনি যেভাবে ওর পারিবারিক শিক্ষার দিকে ছুটে গেল তাতে চুপ করেও থাকার মেয়ে প্রত্যাশা নয়। অন্তত এই শাড়িটির বিষয়ে তো নয়ই। কেননা এটা প্রত্যাশার মায়ের শাড়ি। মায়ের প্রথম ভাইবার দিন মা পরেছিল এই শাড়ি। প্রত্যাশার মা মারা যাবার সময় তার প্রতিটি জিনিস নিজের মেয়ের নামে বরাদ্দ করে রেখে গিয়েছে। প্রত্যাশা যেকোন জায়গায়, যেকোন কাজের প্রথম দিন মায়ের শাড়িটি পরে যায়। কেননা তাতে সে মায়ের উপস্থিতি অনুভব করতে পারে। দুরন্তের উপর যতই সে চোটপাট করুক, সিরিয়াস মুহূর্তে সে দুরন্তের কথার উপর কথা বলে না। বরং তখন সে দুরন্তকেই ভয় পায়। দুরন্ত যতই সবসময় বালখেল্লায় মজে থাকুক, প্রকৃত পক্ষে দুরন্ত অত্যন্ত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ও কঠোর মনোভাবের। যা সে স্থান ভেদে বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
প্রত্যাশা বেরিয়ে যায়। দু্রদানা ছেলের দিকে রক্তচক্ষু তাকিয়ে রইল কয়েক মুহূর্ত অতঃপর শব্দ করে দরজা লাগিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে বসে পড়ল। দুরন্ত মায়ের ঘরের দরজায় করাঘাত করতে শুরু করল।
_ আম্মা, আমার কথা শোন।প্লিজ! আম্মা!
ছেলের ডাকাডাকিতে দরজা খুলে দিল, অতঃপর বলল,
_ কী চাই?
_ আম্মা! কি হয়েছে তোমার? এমন খিটখিটে আচরণ তো আমার আম্মার না। তবে কি হয়েছে? কী নিয়ে আপসেট তুমি?
_ তুমি জানো না?
মায়ের প্রশ্নে কয়েক মুহূর্ত নিরব থাকল, অতঃপর মায়ের হাত দু'টো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,
_ আম্মা, রাগ করো না। ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড, এই শাড়িটা ওর মায়ের। ও এটাকে ওর লাকি চার্ম মনে করে। ও বিশ্বাস করে এটা ওকে ওর মায়ের উপস্থিতি অনুভব করায়। তুমি...
_ তোমার কি ফিউচার নিয়ে ভাবনা চিন্তা নেই? বিসিএস প্রিপারেশন বাদ দিয়ে সারাক্ষণ বউয়ের আঁচল ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছ। দুজন বিসিএস ক্যাডারের একমাত্র সন্তান তুমি, অথচ লাইফ নিয়ে কোন সিরিয়াসনেস তোমার মাঝে? কেন এত উদাসীন তুমি জীবন নিয়ে?
দুরন্তের কথা শেষ হবার আগেই তাঁর মায়ের প্রশ্ন, প্রশ্ন নয়। এটাকে খোঁচা বলা যেতে পারে। মায়ের প্রশ্নের দুরন্ত মাথা নুইয়ে নিল। দুরদানা ছেলের বাহুতে হাত রেখে বলল,
_ ক্যারিয়ারের দিকে ফোকাসড দাও। যা করছ দিস ইজ নট এ্যা গুড ফিউচার।
_ জি!






0 মন্তব্যসমূহ