#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১৪২
[কপি করা/চুরি করা,নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ। দয়া করে এগুলো করবেন না কেউ। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন। ধন্যবাদ সবাইকে।]
হলুদের সন্ধ্যার ঝলমলে আলোয় আঁধার নেমে এলো পাত্রপক্ষের তরফ থেকে পাওয়া এক জঘন্য বার্তায়। পাত্র প্রবাসী থাকা অবস্থাতেই এক মেয়ের সাথে মুঠোফোনে সম্পর্কে আবদ্ধ হয় এবং সেটা গড়ায় বিয়ে অবধি।যা পাত্রের পরিবারের অজানাই ছিলো।পাত্রের সেই বউ এখন বাড়ি এসে উপস্থিত হয়েছে তাও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় প্রশাসনের লোক নিয়ে। সুতরাং কোনভাবেই ঐ মেয়েকে অস্বীকার করার দুঃসাহস পাত্র পরিবারের কারো নেই।
নাইফ,তাইফ দুই ভাই তখন বাইরে খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত ছিলো।রেজওয়ান দুই ছেলের হাতে সব দায়-দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে মুরব্বিদের সঙ্গে আলাপ করছিলো।
আফিয়া বোনজির পাশেই বসে তার ভয় কাটাচ্ছে আর সাফিয়্যা নিজের মহিলা অতিথিদের দেখভাল করছে।ওকে সহযোগিতা করছে ওর ফুফুরা। ঠিক ঐ সময়েই ঘটকের মাধ্যমে বার্তা এদিকে আসে।বাতাসের মতোই দ্রুত ছড়িয়ে গেলো এই বিষাদ মাখা খবরটা।নাইফ ক্যাটারিং বয়ের সাথে মাংসের মশলার হিসাব কষছিলো।তখনই উপর থেকে নাবীহা দৌড়ে নিচে নেমে সোজা বাড়ির গ্যারেজে রান্নার বন্দোবস্ত করা স্থানে এসে উপস্থিত হয়।
মু'য়ায সিঁড়ি দিয়ে নাবীহার নামার গতি দেখেই আতংকিত হয়ে উঠে। সোজা নাইফের পাশে গিয়ে নিচু কন্ঠে বলতে গেলেও উঁচু হয়েই যায় উত্তেজনায়।
“ ভাই, অঘটন ঘটে গিয়েছে।উপরে আসো তাড়াতাড়ি!"
“ কি হয়েছে?"
“ আসো আগে।"
নাইফ বোনের অপ্রকৃতিস্থের মতো আচরণে বিভ্রান্ত হয়ে গেলো। নিজের মনেও কিছু একটা খচখচানি অনুভব করলো।ক্যাটারিং এর লোককে একটু অপেক্ষা করতে বলে সেও উপরে উঠে যায়।
উপরে উঠতেই সাফিয়া নাইফের বুকে হামলে পড়ে কাঁদত আরম্ভ করলো। কাঁদার কারণে নাইফ কিছু বুঝতে পারছে না।তাই নাবীহাকে জিজ্ঞেস করতেই শুনতে পায় কথাটা।কথাটা শোনার কয়েক মুহূর্ত পর্যন্ত যেন সে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না।তার চোখে ভাসছে কাঁচা হলুদ রঙের শাড়িতে মুড়ানো ফর্সা সুশ্রী মুখের ঐ মেয়েটার কথা।মাথায় গোলাপ আর গাদার টগর পরা।পুরো গাঁয়ে ফুলের অলংকারে মুড়িয়ে লজ্জায় নত দৃষ্টি আর মৃদু হাসি ঠোঁটে চেপে নিজের খুশি জানান দিচ্ছে।সে যতবার স্টেজে গিয়েছে তার দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে ছিলো। নাইফের কাছে ফেরা,রিফা কখনোই নাবীহা তুহির চেয়ে কম আপন মনে হয়নি।ওর কাছে সবসময় মনে হয় ওর পাঁচটা বোন।নাবীহা,ফেরা, নাজিফা,তুহি আর রিফা। এদের ছোট ছোট আবদার,জেদ সবকিছুই সে খুব ভালোবেসে বুকের মাঝে আগলে রাখে।তার এই পাঁচটা বোনের সবার কষ্টতেই তার বুকে দহন হয়। তেমনি এদেরও সব কষ্টের ওষুধও তাদের ভাইয়ারা।ফেরা,রিফার কাছে ভাই মানেই তো তারা দুই ভাই।
তাইফ ফেরার হলুদ স্টেজের আশেপাশেই ঘুরঘুর করে পাছে কিছু জরুরী দরকার হয়।সে তখনও সেখানেই ছিলো। নিজের মুঠোফোনটা বেজে উঠলো, সেটা বের করে বড় ভাইয়ের নাম্বার দেখে রিসিভ করে হ্যালো বলার আগেই নাইফের গলার আওয়াজে কিছু ঠাওর করে থেমে যায়।
“ আসছি।"
নাইফ আফিয়াকে নিয়ে নিচে নামতে বলায় তাইফ মায়ের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বললো,
“ আম্মু নিচে চলো। দরকার আছে।"
আফিয়া ছেলের চোখ দেখে কিছু একটা হয়েছে ভেবে এখানে উপস্থিত তার ননদকে,ননদের মেয়ে এবং নিজের ছোট মেয়েকে বললো,
“ দেখো,আমি আসছি।"
তাইফ মায়ের হাত ধরে উঠতে সহযোগিতা করে বললো,
“ ধীরে ধীরে হাটো আম্মু, ব্যথা পাবে কোথাও লেগে।"
“ পাবো না ইনশাআল্লাহ।
_ কি হয়েছে বলো তো!"
“ বিশাল কিছু! তুমি আগে নিচে নামো।বলছি।"
সে মায়ের স্বাস্থ্যগত বিষয়ে সচেতনতা অবলম্বন করে ধীরে ধীরে বলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছে।
আফিয়া নিচে এসেই সবটা শুনতে পেলো এবং তার প্রতিক্রিয়াও তার বোনের মতোই ভঙ্গুর দেখালো। তাদের সামলাতে অনেকেই দায়িত্ব পালন করছে।নাইফ নূরকে সাবধানে থাকতে বলে তাইফ আর মু'য়াযকে নিয়ে বেরিয়ে যায় পাত্রের বাড়ির উদ্দেশ্যে।তারা ঘটনার বিস্তারিত জানতে নিজেরাই যাচ্ছে। এদিকে সবাইকে শান্ত থাকতে বলে এবং বিশেষ করে ফেরার দিকে নজর রাখতে বলছে।অতি মাত্রায় আবেগী মেয়ে ফেরা।এমন বিষয় সহজে হজম করতে পারবে না। যেকোন দুর্ঘটনা ঘটানো তার পক্ষে সম্ভব।
⚫
এত বড় ঝড় বয়েও গেলেও নাইফ তাইফ দুই ভাই কোনভাবেই নিজের বোনের উপর এই ঝড়ের আঁচ পড়তে দিলো না। সেই বাড়ি থেকে ফেরার পথেই নাইফ বোনের জন্য সুযোগ্য পাত্র খুঁজে বের করে ফেলে।
যা হয় সবটাই আল্লাহর ইচ্ছায় হয়।
তাইফ সেই বাড়িতে গিয়ে যথেষ্ট মাথা গরম করে ফেলে। নিজের ক্ষমতার ব্যবহার দেখিয়ে থানায় গিয়ে প্রতারণা মামলা অবধি করে আসে।যেটার জন্য পাত্রকে সেদিন রাতেই গ্রেফতার করা হয়। এদিকে নাইফ ভাইকে শান্ত করে নিজের মাথা খাটিয়ে সমস্যার সমাধান খুঁজতে থাকে।মু'য়ায তাকে সহযোগিতা করে। অনেক খোঁজাখুঁজি করে, যেকোন উপায়েই আজ বিয়েটা দেওয়ার প্রচেষ্টা তারা করে।আজ বিয়ে ভেঙে গেলে ক্ষতি বিশেষ কিছু হবে না কিন্তু মানসিকভাবে ফেরা ভেঙে যাবে।যেটা সে কোনভাবেই মানতে পারবে না।মু'য়ায নিজের বন্ধু মহলের মাঝে খোঁজ নিয়ে জানলো তার এক ক্লাস ফ্রেন্ড যার ছোট ভাই আপাতত বাগেরহাট জেলায় একটি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে চাকরিরত আছে।তার জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছে এবং এই খবরটা মু'য়ায কিছুদিন আগেই পেয়েছিল।সে নিজের সম্ভব্যানুযায়ী খোঁজ খবর নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবটা জানে এবং নাইফ,তাইফকে জানালে তারা সেই ছেলের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে।
এর মধ্যে সাফিয়ার বাসায় পৌছে যায়।এসে দেখে রেজওয়ানের রক্তচাপ বেড়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে।সাফিয়াও হাত-পা ছড়িয়ে বসে আছে জমিনে।তার পাশেই আফিয়াও একই অবস্থায় বসে আছে।নূর সবাইকে চা করে খাওয়াচ্ছে।
“ আম্মু,খালামনিকে নিয়ে একটু এদিকে আসো তো!"
আফিয়া ছেলেদের দেখে উঠে দাঁড়ালো। এরপর সাফিয়াকে বুঝিয়ে বুঝিয়ে ভেতর ঘরে নিয়ে গেলো।এক ঘন্টার পারিবারিক মিটিং চললো যেখানে উপস্থিত ছিলো বাড়ির মুরব্বি মহিলা আর পুরুষেরা।
নাইফ নিজের খালাকে শুধু জিজ্ঞেস করলো,
“ তুমি কি আমার উপর ভরস করতে পারো? বিশ্বাস করো যাই করবো ফেরার কল্যান ভেবে করবো?"
“ আমি জানি আব্বা। তুমি,তোমরা যাই করবা তা ওদের জন্য উত্তম হবে।"
রেজওয়ানের মাথায় পানি ঢালছিলো তার বোনেরা।রেজওয়ান সেই অবস্থায়ই বললো,
“ আমি আমার মেয়েদের জন্য আল্লাহর পরে যাদের উপর ভরসা করি তারা নিঃসন্দেহে তোমরা দুই ভাই।আর আমার মেয়ের জন্য তার ভাইয়েরা যা সিদ্ধান্ত নিবে তার চেয়ে উত্তম কিছু হবে না। আল্লাহর উপর
ভরসা করে তোমরা কাজে লেগে যাও। দোয়া করি যেন মেয়েটা সুখে থাকে।বাপ হিসেবে এর চেয়ে বেশি চাওয়ার কিছু নেই।"
“ কিন্তু ভাই,ফেরাকে না জানিয়ে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।"
“ পাগল হয়েছিস? এত বড় বিষয় ওকে না জানিয়েই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিবো!যা হবে ওর ইচ্ছাতেই হবে!"
“ ও কি রাজী হবে?"
পাশ থেকে নাবীহার উৎকন্ঠা প্রকাশ।নাইফ আশ্বস্ত করলো,
“ হবে ইনশাআল্লাহ!
_ তুই এক কাজ কর,ওকে গিয়ে একটু নিচে নিয়ে আয়। কিন্তু বলবি না।জাস্ট কিছু একটা বুঝিয়ে আনবি!"
“ আমি যাই।"
তাইফ বড় বোনের পাশাপাশি উঠে গিয়ে ফেরাকে নিয়ে নিচে নামলো।
ওদের পিছু পিছু রিফা,তুহি।নাফিসা,নাজিফা সহ অনেকেই।
ফেরা বিস্ময় নিয়ে বারবার বড় বোন আর ভাইকে জিজ্ঞেস করছে,
“ কি হয়েছে বুবুন? কেন নিচে নিচ্ছো!?"
“ তোকে আজকেই বিদায় করবো তাই,বেয়াদব ছুড়ি!"
“ এ্যাই যা তো টাইপের বাচ্চা। সবসময় কানের পিছনে ঘ্যানঘ্যান করে খালি!"
“ কে যাবে সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে! হাহ্ আসছে ঢং করতে! যাওয়ার জন্য ধেইধেই করে নাচছে আর সে আমাকে বলে যেতে;হুহ্!"
তাইফ ফেরার মনোযোগ তার দিকে ব্যস্ত রেখে ঘর অবধি নিয়ে গেলো। নাইফ সেখানেই উপস্থিত ছিলো,ফেরাকে দেখে হাসার চেষ্টা করলো।ঘরের ভেতর চলা ফিসফিস শব্দে ফেরার মনে সন্দেহ জাগে।তাও সে নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের ঘরে ঢুকলে পায়চারিরত বড় ভাইকে দেখে থমকে দাঁড়ায়, জিজ্ঞেস করে,
“ কি হয়েছে ভাইয়া? তোমাকে এত টেন্সড কেন লাগছে?"
দরজার সামনে মু'য়ায,তাইফ দুজনই দাঁড়ায়।তাইফ ভেতরে ঢুকলেও মু'য়ায বাইরেই থাকে।নাইফ ফেরার দিকে ইশারা করে স্বাভাবিক গলায় বললো,
“ ফেরা বুড়ি এখানে বসো। ভাইয়ার তোমার সাথে কথা আছে!"
নাইফের দেখানো জায়গায় ফের বসে প্রশ্নাত্মক দ্বিধাগ্রস্ত,ভীত চাহনিতে চেয়ে রয়।
“ তুমি বিশ্বাস করো,ভাইয়া তোমাকে কখনোই পর করে দেখে না?"
“ হুম করি তো।জানিও !"
ফেরার চঞ্চল উত্তর। নাইফ হাসলো। অতঃপর খুব ঠান্ডা গলায় বললো,
“ শোন ভাইয়া তোমার জন্য একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি,না শুধু ভাইয়াই না।সবাই মিলে নিয়েছি।এটা তোমার জন্য বেস্ট হবে।"
“ কোন বিষয়ে?"
ফেরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুলাভাই,দরজার সামনে ছোট ভাইয়া, নিজের সামনে বসা বড় ভাইকে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলো। এরপর প্রশ্ন করলো,নাইফ খুব সাবলীলভাবে উত্তর করলো,
“ ঐ ছেলে একটা প্রতারক,ওকে ছোট ভাইয়া যথার্থ পানিশমেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করে আসছে।আর এখন আমরা তোমাকে অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে দিতে যাচ্ছি।ছেলেটা ভালো, স্কুলের শিক্ষক, খুবই সহজ-সরল এবং সৎ মানুষ। কোনরকম নেশা পানি করে না, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায়সহ ইসলামিক সব নিয়মকানুন মানার চেষ্টা করে। হয়তো তোমার ইচ্ছানুযায়ী দেখতে ফিল্মি হিরোদের মতো না।তবে যথেষ্ট আধুনিকমনা এবং সামাজিক। তোমাকে নিজের ঘরের রাণী বানিয়ে রাখবে। ছেলের পরিবারের সদস্য চার জন।মা,বাবা,বড় ভাই আর তার পরিবার এবং ছেলে নিজে। ছেলে একা বাগেরহাট থাকে চাকরিসূত্রে এবং বাবা মা বড় ছেলের সাথে থাকে তাও চাকরিসূত্রে। তুমি ছবি দেখো।আমরা তোমার মতামতের বাইরে যাবো না।এটাও ভাববে না আমরা সামাজিক ভাবে হেনস্থা হওয়ার ভয়ে তোমাকে গর্তে ফেলে দিচ্ছি।আমরা শুধু নিশ্চিত করতে চাই যেন লোক মুখের কথায় তোমার চোখে পানি না আসে সেটা।"
ফেরা ফ্যালফ্যাল চোখে শুনলো সবটা।প্রথমে কিছুই না বুঝলেও শেষে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলো।নিথর চাহনিতে কেবল জানতে চাইলো,
“ কি করেছে উনি?"
ফেরার কন্ঠে কিছু ছিলো।তাইফের ভেতরটাও নড়ে উঠলো।মু'য়াযও দু কদম এগিয়ে আসলো।তাইফ প্রত্ত্যতুরে বললো,
“ নিজের কবর নিজে খুড়েছে।এখন ধিক ধিক করে মরবে! শালার কত বড় কলিজা আমার বোনের সাথে প্রতারণা করে,ওকে তো! যাই হোক তুই সুখি হবি। পৃথিবীর সব সুখ তোর কদমে এনে রাখবে তোর ভাইয়েরা।"
ফেরা তাইফের দিকে চেয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো।নাবীহা তখন দরজার পাশেই ছিলো।সে ভেতরে ঢুকে বোনকে জড়িয়ে ধরলো।ফেরা নাবীহার কাঁধে মাথা রেখে সবটা খুলে বললো, এরপর নাইফ আবারও বুঝিয়ে বলতে থাকলো,
“ ফেরু! ভেবো না ভাইরা অথবা মা বাবা তোমাকে তাড়ানোর জন্য এসব করেছে।আমরা যা করেছি তোমার কল্যাণ ভেবেই করছি।"
সময় অনেক গড়ালো। কিন্তু ফেরার তরফ থেকে উত্তর আসার কোন তাড়া নেই দেখে নাইফ,তাইফ সহ সবাই হতাশ হলো। আবার দোষও দেওয়া যায় না।হাতে একজনের নামের আংটি তখনও জ্বলজ্বল করছে।সেই অবস্থায় আরেকজনকে বিয়ের জন্য মতামত দেওয়া এবং নেওয়া দুটোই বেদনার।
ঘন্টা তিনেক পর ফেরা স্বাভাবিক হলো, এবং সে নিজের বড় বোনকেই জানালো তার পরিবারের সিদ্ধান্তই সব। অতঃপর এভাবেই ফেরার বর বদল হলো।নাইফ,মু'য়ায নিজে গিয়ে ঘটা করেই ফেরার নতুন বর এর জন্য নতুন করে কেনাকাটা করে এবং রাতেই সেই পরিবারকে সবটা বুঝিয়ে বলে ছেলেকে ঢাকা আনায়। তাদের পক্ষ থেকে কোনরকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ফেরার বিয়ে সম্পন্ন হয়।এই বিয়ের এক সপ্তাহ পরই খবর আসে নাবীহাও অন্তঃসত্ত্বা।
সময় কাটলো,নাবীহার,নূরের গর্ভকালীন সময় একত্রে চলতে থাকলো। সঙ্গে নাকানিচুবানি খেলো আফিয়া। একদিকে মেয়ের চিন্তা অন্যদিকে ছেলের বউয়ের।যদিও নূরের সময় ঘনিয়ে আসছিলো এবং নাবীহার মাত্র খবর আসে। সবদিক থেকেই তার চাপ তুঙ্গে।তবে খানিকটা রেহাই দিলেন নাবীহার শ্বাশুড়ি।তিনি নিজ পুত্র বধূর গর্ভকালীন সেবার দায়িত্ব ছাড়তে চাইলেন না। নিজের কাছেই রেখে দিলেন।
মাস কয়েক কাঁটার পর আরো একবার ছুটিতে তাইফ বাড়ি আসে।
আফিয়া চা করে ছেলের সামনে রাখলো,তাইফ চায়ের কাপ নিয়ে তাতে চুমুক দিতে দিতে বললো,
“ বাবা কই আম্মু?"
“ মসজিদে গিয়েছে বোধহয়,আর কই থাকবে!"
“ ওহ, আচ্ছা দাদী কি ঘুমিয়ে পড়েছে নাকি?"
“ গিয়ে দেখো!"
ঠিক তখনই নাইফ আর নাসিফের গলার স্বর পাওয়া গেলো। কিছু একটা বলতে বলতেই এদিকে আসছে।তাইফ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে সেটা নামিয়ে রাখলো। এরপর ঘাড় বেঁকিয়ে দরজার দিকে তাকালো। নাইফ মাত্র অফিস থেকে ফিরেছে।হয়তো বাবার সাথে পথেই দেখা হয়েছে।
“ আসসালামু আলাইকুম।".
তাইফ নিজেই সালাম দিলো, সালামের উত্তর একসাথে দিলো নাসিফ, নাইফ।
আফিয়া বড় ছেলে আর স্বামীকেও চা দিলো। সবাইকে একসাথে দেখে তাইফ বলতে আরম্ভ করলো,
“ ভালো হয়েছে সবাইকে এক সাথে পেয়ে,আমি তাহলে সবার সামনেই বলি!"
ওর কথায় সবাই গুরুগম্ভীর মনোভাব নিয়ে ওর দিকে ফিরে তাকালো।তাইফ মাকেও তার পাশে বসার জন্য অনুরোধ করলো।আফিয়া বসলোও। এরপরে তাইফ ,
“ বাবা তুমি তো আমার স্যার ফরহাদ সিদ্দিকী চৌধুরীকে চেনো! ভাইও তো পরিচিত হয়েছিলে!"
“ হুম!"
“ ভীষণ ভদ্রলোক।"
নাইফের পর নাসিফের মতামত, আফিয়া উৎসুক চোখে দেখছে আর শুনছে।
“ এত ভনিতা না করে সোজাসুজিই বলি,উনি নিজের ছেলের মানে উনার ছোট ছেলের জন্য আমাদের তুহির হাত চাইছে। অনেক দিন ধরে সেই আমার প্রমোশন প্রোগ্রামের পর থেকেই বলে আসছে!"
“ তুহির জন্য?"
নাইফ বিস্মিত হলো,নাসিফ খানিকটা সোজা হয়ে বসে,
“ মানে উনার ছেলে কি করে? আর তুহিকে দেখলো কোথায়?"
“ আমার প্রোগ্রামেই,বোরকা পরা অবস্থায়ই দেখেছেন।আর ছেলে বিমানসেনা অফিসার, সার্জেন্ট সিদ্দিকী ফাহাদ চৌধুরী।"
“ কি বলছো, ছেলের তো অনেক বয়স!"
নাসিফ বললো কথাটা।নাইফ বাবার দিকে তাকিয়ে সম্মতি দিলো।






0 মন্তব্যসমূহ