#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_মধ্যাহৃআংশ
শুভ মধ্যাহ্ন!
[কপি করা/চুরি করা,নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ।দয়া করে এগুলো করবেন না কেউ। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন
ধন্যবাদ সবাইকে]
পরপরই কয়েটা বার্তা একসাথে ঢুকলো। একটা তীরওয়ালা হার্ট সঙ্গে হাত দিয়ে লাভ সিম্বলের দুটো ইমোজি সেট করা,আইডির নাম বেবস!ঘনঘন আলাপের চিত্র জ্বলজ্বল করছে।তাইফের দৃষ্টি কঠোর হলো। নাইফ এদের থেকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো।তার এসব ভালো লাগে না।অযথা বাচ্চা মেয়েটার পিছনে পড়ে থাকাই চাই তাইফের।সে কি আর ওদের মতো বাচ্চামো করতে পারে? আদৌও মানায় তাকে? সে সবার বড়,তুহির চৌদ্দ পনেরো বছরের বড়।তাইফের জন্য ঠিক আছে।
তাইফ বার্তাগুলো পড়লো। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে আসলো। এরপর আরও বেশ কয়েকটি মেয়েদের নামের আইডি। সেগুলোতেও ঢুকতে না চাইলেও আগেরটার জন্য ঢুকতে বাধ্য হলো। পরপর কয়েকটা গল্পের গ্রুপ।যা বুঝলো বোন তার মডারেটর কয়েকটি গ্রুপের।একটা পেইজও আছে।সেটার এডমিন, সম্ভবত।নাবীহা তাইফের উপর চেঁচিয়ে বললো,
“ হয়েছে, দে।বড় ভাইয়েরা এত ঘাঁটে না ছোট বোনের ফোন!"
“ দাঁড়াও বুবুন,না ঘাঁটলে বুঝবো কি করে বোন কত বড় হয়ে গিয়েছে।"
কথাটা তাইফ তুহির দিকে শক্ত চোখে তাকিয়ে বললো।তুহি ভাইয়ের দৃষ্টি দেখে বড় বোনের পিছু গিয়ে লুকায়।নাইফ মুখ ফিরিয়ে বিরক্ত হয়ে তাইফকে কিছু বলবে তার আগেই তাইফ তার হাতের মুঠোয় ফোন ধরিয়ে দেয়,
“ নাও তোমার বোনের বড় হবার নমুনা!"
নাইফ তাইফের কথায় কিছু আঁচ করলো।সে তুহির দিকে চেয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও দেখতে লাগলো। এবং প্রথম আইডির নামটা দেখেই ভ্রু কুঁচকে ফেললো,তুহির দিকে তাকিয়ে তুহির ভীত চাহনি দেখে আবারও সবটা ভালো করে দেখতে দেখতেই তুহিকে জিজ্ঞেস করলো,
“ ছেলেটা কে?"
তুহি উত্তর দিলো না। এদিকে নাবীহার চোখ বড় বড় হয়ে গেছে।ছেলে মানে? পিছনে থাকা তুহির দিকে ফিরে তাকানোর চেষ্টা করলো।নাইফ ফোনের পাওয়ারে চাপ দিয়ে বন্ধ করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
“ এদিকে আসো!"
নাইফের কন্ঠ গম্ভীর ছিলো। চাহনিতেও তেজ! তুহি ভীত পায়ে সামনে দাঁড়াতেই নাইফ আবার আগের মতো করেই জিজ্ঞেস করলো,
“ বলো ছেলেটা কে?"
তাইফ হাত মুঠ করে দাঁড়িয়ে আছে যেন উল্টাপাল্টা কিছু বললেই এখানে গেঁড়ে দিবে।নাবীহাও হতবম্বলিত মুখশ্রী বানিয়ে বোনকে দেখছে। এতটুকু বাচ্চা মেয়ের সাথে কোন ছেলের সম্পর্ক! তাও কি-না তার বোন? বিশ্বাস তো হচ্ছেই না,মানতেও কষ্ট হচ্ছে।তার মনে হচ্ছে বড় সড় একটি ঝড় তো উঠবে বলে আজ ঘরে।সে কেবলি আল্লাহ করছে তার দুই ভাইয়ের মেজাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য।নয়তো মান সম্মান সব ধুলোয় যাবে।
“ কি হলো কিছু জিজ্ঞেস করছি আমি, ছেলেটা কে?"
তুহি ভীত নত মস্তকেই কাঁপা কাঁপা কন্ঠে উত্তর করলো,
“ ব.ব.বন্ধু!"
বলতেই নাবীহা চট করে হালকা করে একটা চড় দিলো।ধমকে বললো,
“ লজ্জা করে না বড় ভাইদের সামনে বলতে, বন্ধু! ফাজিল, বেয়াদব মেয়ে। মেয়ে মানুষের আবার ছেলে বন্ধু কিসের? আমার কোন বন্ধু দেখছিস কোনদিন?কত বড় সাহস বড় ভাই বোনের সামনে দাঁড়িয়ে! এই তোর ফোন..."
এই অবধি বলেই থামলো।নাইফ চোখ রাঙানি দিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।তুহিকে আঘাত করাটা কোনভাবেই নাইফ হজম করতে পারে না। যদিও নাবীহার চড় কেবল নামের চড় ছিলো তাও বড় ভাইদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কিন্তু তাতে তুহির কি? তার কি সেই বোধ আছে?সে গালে হাত দিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।শেষ অবদি বুবুনও মারলো তাও কখন? তার আঠারো বছর পূর্তিতে।সে আজই বড় হয়ে গেলো আর আজই মার খেলো। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে নিজের কষ্ট প্রচার করছে।নাইফ নাবীহার থেকে চোখ সরিয়ে খুবই শীতল ভাবে তুহিকে বললো,
“ তোমার আপাতত ফোন ব্যবহার বন্ধ। পড়াশোনায় মন দাও। রেজাল্ট খুব খারাপ করছো!"
” এই জন্যই তো ফোন নিয়ে পড়ে থাকে।আর ফেইল মারে।বদ মেয়ে লোক!"
তাইফ শেষ করতেই,
“ এ্যাঁ এ্যাঁ...."
তুহির গলার স্বর উঁচু হলো।নাসিফ দৌড়ে এদিকে এলো।সে ঘরেই রেস্ট নিচ্ছিলো।পরনে লুঙ্গি, হালকা গোলাপি ফতুয়া।
উৎকণ্ঠিত স্বরে জিজ্ঞাসা করলো,
“ কি করেছো তুমি তাইফ,আমার মেয়ে কাঁদছে কেন?"
“ আপনার মেয়ে কেন কাঁদছে সেটা বললে এখন আপনিও কাঁদবেন তাই সেটা জানতে না চেয়ে শুনে রাখেন আপনার মেয়ের আপাতত ফোন ব্যবহার বন্ধ।আর তাড়াতাড়ি বিয়ের ব্যবস্থা করেন।আপদ যত তাড়াতাড়ি কাটে।"
নাসিফ চোখ রাঙানি দিয়ে চেঁচিয়ে বলতে থাকলো,
“ সে তোমাকে বলতে হবে না।সময় হলে আমার মেয়ের বিষয় আমিই দেখে নিবো। গাঁয়ে পড়ে পরামর্শ লাগবে না। যতদিন আছো আমার মেয়ের আশেপাশে অযথা থাকবে না তাকে জ্বালাবে না। তুমি ভীষণ বিরক্ত করো।"
তাইফ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বাবার দিকে চোখ কুঁচকে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বললো,
“ আপনার মেয়েকে জ্বালানোর মতো অত আজাইরা সময় নাই আমার কাছে।আর হ্যাঁ আপনার মেয়ে আপনারাই নাক কাটবে আমার কি? আমি তো অতিথি,আজ আছি কাল নাই। শুধু শুভাকাঙ্ক্ষী বলেই একটু জানালাম যে আপনার মেয়ের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে।আজকে কিন্তু আঠারো ডান!"
এটা বলতেই নাসিফ নিজের পায়ের স্যান্ডেল তুলে তাইফের দিকে ছুঁড়ে মারার মতো ভঙ্গিমা করতেই তাইফ দৌড় দিলো।
“ তোমাকে তো!"
থেমে গেলো নাসিফ।তুহি কলিজা হাতে নিয়ে স্থির নয়নে দাঁড়িয়ে আছে।বড় ভাইয়া বিশেষ কিছু বললো না কিন্তু বলবে যে না তাও না।তাইফ আপাতত যতই শান্ত থাকুক সেও ভেতরে যে রাগের অগ্নিকুণ্ড দমিয়ে রাখছে তা তো স্পষ্ট।বুবুনের চাহনিও সন্দিগ্ন।সে বুবুনের চোখেও তাকাতে পারছে না।নাসিফ মেয়েদের উদ্দেশ্য করে জানতে চাইলো,
“ কি করেছে ঐ দু'টো?"
নাবীহা বোনের দিকে ভ্রু কুটি করে বাবাকে উত্তর দিলো,
“ আমি জানি না। তোমার ছোট মেয়েকে জিজ্ঞাসা করো।"
“ হু্!"
নাসিফ বড় মেয়ের দিকে বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থাকলো।নাবীহা নিজের কথা শেষ হতেই তুহিকে একা রেখেই চলে গেলো।বাবাকে দেখে তুহির উচ্চ আওয়াজ হিচকিতে রুপ নিয়েছে।নাসিফ মেয়ের মাথায় হাত রেখে আদর করতে করতে বললো,
“ আহ্ কেঁদো না আম্মা।এভাবে কাঁদলে বুকে চাপ লাগবে। ব্যথা করবে।কি হয়েছে আমাকে বলো? ছোট ভাইয়া বকছে? আজ কেউ কাঁদে!"
তুহির স্বাধীনতায় চুড়ান্ত পেরেক সেদিনই ঠুকা হয়।তার ঐ বার্তা বক্সের ছেলেটা একজন বন্ধু হলেও সেই তরফ থেকে তাকে বারবার প্রস্তাব করা হচ্ছিল প্রেমের।যেটা সে না এড়িয়ে যাচ্ছে আর না মেনে নিচ্ছে।ঐদিকে বান্ধবীদের সাথে নানা দুষ্টু কথা।বিশেষত্ব বিয়ে নিয়ে নানা আলাপ। উপন্যাসের চরিত্র নিয়ে নানা কল্পনা। স্বপ্নের দেশে ভাসছে সে।যা ঘোর যিনাহর সামিল।এসব দেখেই নাইফ,তাইফের মাথা হ্যাং হয়ে যায়। তাদের কাছে বাবুই পাখির মতো ছোট থাকা বোন শুধু বয়সেই না , মস্তিষ্কেও কতখানি বড় হয়ে গেছে। ফেসবুকের পাতা সয়লাব তার নানা কর্মকান্ডে। পড়াশোনার ক্ষতি হয়ই তো এসবের জন্য।আবার ঐ ছেলের হয়ে তরফদারি করা বান্ধবীও অনেক।গ্রুপ গুলোতে ছেলেদের সাথে নানা কৌতুক, দুষ্টু, ছলনাময়ী কথাবার্তা। একজন বড় ভাই হিসেবে ছোট বোনের এহেন কর্মকান্ডে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখানোটা স্বাভাবিক।
সেবার তাইফ চলে গেলো দু'দিন থেকেই। মোবাইল ছাড়া তুহি অসহায় হয়ে পড়ে থাকে একাকী।ভাইরা বাবাকে কিছু না বললেও মা'কে আঁচ পাইয়ে দিয়েছে।যার দরুন মা এখন তার আশেপাশেই থাকে সারাদিন।পাছে মেয়ে একাকী কিছু একটা না ঘটিয়ে ফেলে।বিপথে যাওয়া মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে হবে যে।
পিসির মধ্যে যা কাজ একান্ত পড়াশোনার জন্য। নয়তো তাতেও বেশি সময় দেওয়া যায় না।তুহির মনে মনে দুঃখ হয় এই ভেবে অতিরিক্ত শিক্ষিত পরিবারের এই এক সমস্যা।সবাই শিক্ষিত, কাউকে ধোঁকা দেওয়া যায় না। সবাই সব বুঝে।এই যে মা,আঠারো বছর বয়সী মেয়ের ঘরে পড়ে থাকে সারাদিন,তার সামনেই পিসিতে কাজ করা লাগে।একটা বান্ধবীর সাথে কথা বলতে গেলেও আম্মুর ফোনে যোগাযোগ করতে হয়। তাও আবার রেকর্ড হয়ে থাকে।এসব পন্ডিতি বুদ্ধি তার ছোট ভাইয়ের।
কয়েক দিন কারাবাসের ন্যায় কাটানোর পর একদিন তার প্রতি দয়া হলো। দুলাভাই সবার বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে একটি মুঠোফোন দিলো তাও একরকম যুদ্ধ করে। সঙ্গে জুড়ে দিলো শর্ত,কি? তার ছোট ভায়রা তারা পছন্দ করে আনবে।সে যেন মোবাইলে আবার জুটিয়ে না বসে। সঙ্গে ওসব উল্টাপাল্টা বিষয়ে কথা বলা বন্ধ করতে হবে।
সব শর্ত মেনেই হাতে পায় একটি নতুন মডেলের ফোন।তাইফ ফোনে টিটকারী মেরে বলেছিলো,
“ হ্যা এবার দেখ,কোন মুচিওয়ালাকে বেবস বানাতে পারিস কি-না?"
তুহি প্রত্যুত্তর করতে পারেনি। লজ্জা আর ভয়ে সিটিয়ে থেকেছিলো।
বেশ কয়েক মাস পর...
তাইফের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যায় সবাই। সেখানেই উপস্থিত থাকে সিনিয়র অফিসার মেজর জেনারেল ফরহাদ সিদ্দিকী চৌধুরী।তাইফের অতি সম্মানিত আর শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং আদর্শ।তাইফ নিজের পরিবারের সঙ্গে উনার পরিচয় করিয়ে দেন।
তখন নাসিফের পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা দু'টো মেয়েকে দেখলেন, পরিচয়ে জানতে পারলেন দুজনই তাইফের বোন। একজন বড় বোন যে ইতিমধ্যে বিবাহিত এবং দ্বিতীয় জন এখনই মাত্র বিবাহযোগ্যা হলো।
কালো বোরকায় আগাগোড়া মোড়ানো লম্বায় প্রায় পাঁচ ফুট ছয় ছুই ছুই মেয়েটাকে তার মনে ধরলো।বোরকার পরদের দরুন দৈহিক গড়ন বোঝা যাচ্ছে না তাও নিশ্চিত হলেন অনুমান করেই যে নির্ঘাত সুন্দরী হবে।তিনি নিজের সুদর্শন সদ্য সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পাওয়া ছেলের পাশে কল্পনা করলেন।
খোঁজ খবর নিলেন, জানতে পারলেন মেয়েটা সদ্য অষ্টাদশী হওয়া। খানিকটা হতাশ হলেন।এত ছোট মেয়েকে কিভাবে তার ছেলের জন্য চাইবেন! তাও এই পরিবারের লোকেরা নিশ্চয়ই রাজী হবেন না।
সেদিন থেকে সময় গড়িয়ে আরো এক বছর কাটলো।উনিশে পা দিলো তুহি, ভালো একজন হাফেজার সঙ্গে সে এখন একজন কামিলের শিক্ষার্থী। তাকে তার মা নিয়ে যায় নিয়ে আসে।যদিও তার এখন তাতে বিশেষ দ্বিমত থাকে না।কারণ হয়তো সময়ের পরিবর্তনে বুঝতে পেরেছে সবসময় পাশে মায়ের গুরুত্ব।
একদিন হুট করেই মু'য়ায দেশে ফিরলো।একদম চমক দিয়ে।মূলত সারপ্রাইজ দিতেই এভাবে না বলেই আসছে। ঐদিকে খবর আসলো নূরের দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের।এ বাড়িতে খুশিরা উপচেপড়া ভিড় করতে থাকলো বহুদিন পর। কিন্তু আফিয়া এবার পুত্র বধূ্র খুশির বিষয়টা কারো সাথে ভাগ করলো না।তার মনে হলো গতবার তার অতিরিক্ত খুশিরই নজর লেগেছে নয়তো কেন ওমনটা ঘটলো।তবে জামাই ফিরে আসা উপলক্ষে আত্নীয় স্বজন ডেকে আনলো।এর মাঝেই ফেরার বাগদান সম্পন্ন হলো। আঁকদ আঁটকে আছে তাইফের জন্য। সাফিয়া নিজের বোনপোকে রেখে মোটেই কোন অনুষ্ঠান করতে রাজী হলো না।সব মিলিয়ে ভীষণ ব্যস্ত এ বাড়ির সকলে।
তাইফকে আবেদন করে ছুটি নিতে হলো খালার জন্য।ছুটি নিয়ে সে বেরিয়ে আসার সময় ক্যান্টনমেন্ট গেইটের নিকটে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো ফরহাদ সিদ্দিকী চৌধুরীর সঙ্গে।তিনি তখন গাড়িতে ছিলেন।গাড়ি থেকে হাঁক দিয়ে তাইফকে ডাক দিলেন।তাইফ এগিয়ে যেতেই গাড়িতে উঠার জন্য নির্দেশ পেলো।
⚫
“ খালামনি তুমি একদম ঠিক করোনি! তোমার উচিত ছিল ওর জন্য একটা ভাঙ্গারিওয়াল খুঁজে আনা।তা কিনা আনলে এক বৈদেশি বাবু?"
“ তুমি কেন আনলে না? তোমার তো আনা উচিত ছিলো বাবা, তোমার বোন বলে কথা!"
“ সময় দিলে কখন? বলেছিলাম দিবো,একটু সময় দাও।"
এদের খুনসুটির মাঝে বাঁধা হলো রিফা।সে কোথায় থেকে এক ঝুড়ি গাঁদা ফুল নিয়ে এসে বললো,
“ ভাইয়া সরো,এখানে ফুর বিছাতে হবে।"
“ কেন এখানে এগুলো দিয়ে কি হবে?"
“ এখানে আপুকে গোসল করানো হবে তাই সাজাবো!"
“এ্যাহ্ , এই ভাঙ্গারিওয়ালিকে গোসল করাবি তাও ফুলের মাঝে বসিয়ে! বাপরে! আমার খালা খালুর কত লোকসান হয়ে যাচ্ছে!"






0 মন্তব্যসমূহ