#চড়ুইভাতি
#রিমা_আক্তার
#পর্ব_০৭
[নকল/চুরি করা থেকে বিরত থাকুন!]
জনশ্রুতি আছে ব্রিটিশ রাজার ধারাবাহিকতায় ভাওয়ালের রাজাদের পোষা হাতি রাখা হত পিলখানায়। সেই সময় গোসল করার জন্য এসব হাতি ঝিলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করতো এখনকার এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল এলাকা। হাতিদের আনাগোনার কারণেই এলাকার নামের সঙ্গে 'হাতি' শব্দটি যুক্ত হয়ে গেছে। আর হাতি গোসল করানোর কারনে ঝিলের নাম হয় হাতিরঝিল, তাছাড়াও বলা হয়ে থাকে শাহবাজ খান সহ তৎকালীন অনেক শাসক,ভাওয়াল রাজা এ পথ দিয়ে যাতায়াত কালে এই ঝিলে তাদের পোষ্য হাতিকে গোসল করাতেন এবং নিজেরা বিশ্রাম নিতেন।
এছাড়াও অনেক ঐতিহাসিকের মতে অত্র এলাকা হাতির চারণভূমি ছিলো।তাতেও এই এলাকা হাতিরঝিল নামে পরিচিত হয়ে উঠে বলে ধারণা করা হয়।
তবে বর্তমানে অত্র এলাকা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় শহুরের ভ্রমন পিপাসুদের ক্লান্তি, অবসাদ,বৈকালিন কিছু আনন্দঘন মূহূর্ত কাটানোর জন্য এক অন্যান্য মনোরম পরিবেশের জন্য।
মেহমান বিদায় দিয়ে তৌকির নিজের নবপত্নীকে নিয়ে আজ এখানেই এসেছে। লিলি বোরকা পরিহিত,কালো বোরকায় পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে রেখেছে নিজেকে। তৌকির বাটার কালারের মধ্যে জংলি ছাপার কার্তুজ (ফতুয়ার মতো) সঙ্গে ব্লু ব্ল্যাক জিন্স প্যান্ট পরেছে।হাতে তার চামড়ার বেল্টের বড় ডায়ালের ঘড়ি।
তারা একটা খালি বেঞ্চ খুঁজে নিয়ে বসলো।
মুখোমুখি,তবে লিলির চোখ ঘুরে ঘুরে এদিকে ওদিকে দেখছে আর তৌকির দেখছে তার সহধর্মিণীকে। যার চোখে একরাশ কৌতূহল।তবে ভীষণ চুপচাপ।লিলি মুগ্ধ হয়ে দেখছে চারদিক। জীবনে এই নিয়ে সে দ্বিতীয় বার সে ঢাকা শহরে এসেছে। প্রথমবার এসেছিল বাবার সাথে পারিবারিক কাজে, দ্বিতীয়বার স্বামীর সঙ্গে যার সাথে বিয়ের আজ প্রায় দু সপ্তাহ হতে চললো।
যানজটের শহর ঢাকা,ইট পাথরের শহর ঢাকা,নানা ভেলকিবাজির শহর ঢাকা,রঙের শহর ঢাকা, নিত্যনতুন তামাশার শহর ঢাকা।ঢাকায় টাকা উড়ে সহ নানা জনশ্রুতি শোনা যায় এই ঢাকা সম্পর্কে।ঢাকার বাইরে থাকে অথচ ঢাকা নিয়ে কৌতুহল জাগে না, একবার আসার প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগে না এমন একজন নাগরিক হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না সমগ্র বাংলার গ্রাম, পল্লিতে।
ঢাকা সবার স্বপ্নের শহর,ঢাকা সবার স্বপ্নের নগর।ঢাকা সবার প্রয়োজনের বন্ধু।
লিলি এক সময় ভীষণ কৌতুহলি হয়ে থাকতো এই রঙীন ইটপাথরের শহর নিয়ে। তার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করতেই সে ঢাকায় বাস করা শহুরে বাবুকে বিয়ে করতে রাজী হয়েছিল।তার এই অর্থহীন স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে।সে খুশি। কিন্তু সুখি কি?
লিলি ঘর থেকে এই অবধি আসা পর্যন্ত একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি।অথচ তৌকির ভেবেছিল লিলি নিজের কৌতুহলি মনে জমানো সকল প্রশ্ন আজ উগড়ে দিবে।গ্রামের খোলা পরিবেশে বড় হওয়া লিলি হঠাৎ করেই শহরের চার দেওয়ালে আবদ্ধ হয়ে নিশ্চয়ই ভালো নেই।তা তৌকির বুঝতে পারছে। তাছাড়াও গত তিন-চার দিন ধরেই লিলির অন্যমনস্কতা স্পষ্ট করে তার মনের হালচাল। তাই আজ ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও সে লিলিকে নিয়ে বেরিয়েছে। উদ্দেশ্য লিলির মনের রোগ সাড়ানো।
তৌকির গলা খাঁকারি দিলো,লিলির মনোযোগ পেতে।লিলিও সাড়া দিলো তাতে। দৃষ্টি ঘুরিয়ে স্বামীর পানে চাইলো,তার চোখ জোড়ায় কিছু ভাসছে। তৌকির নিজ দায়িত্বে বুঝে নিলো,সেটা তার সহধর্মিণীর উচ্ছ্বাস।লিলি জিজ্ঞাসু চোখে চেয়েই রইলো। তৌকির বাঁকা থাকে সোজা হয়ে বসলো, গম্ভীর মুখটাকে সহজ করার প্রয়াস করে শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“ ভালো লাগছে।"
লিলি ছোট করে উত্তর ছিলো,
“ জি!"
“ জানো এটা কোন জায়গা?"
লিলি জানে না তি তৌকির নিজেই জানে।তাও শুধালো।লিলি ঘনঘন চোখের পলক নেড়ে দুদিকে মাথা দুলিয়ে নিজের অজ্ঞতা জানালো,সে জানে না। তৌকির কন্ঠ পরিষ্কার করলো শুকনো কাঁশি দিয়ে অতঃপর বললো,
“ এটা হাতিরঝিল। বিকেল বেলা ঘোরার জন্য খুব সুন্দর একটা জায়গা।"
“ হ্যাঁ,জায়গাটা ভীষণ সুন্দর। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর জায়গায় নিয়ে আসার জন্য!"
লিলি নিজের কথার সমাপ্তি করলো মিষ্টি একটা হাসি বিনিময়ে। তৌকির লিলির দিকে গাঢ় নয়নে চেয়ে আছে।লিলি নিজের কথা শেষ করে সেই চাহনিতে চোখ মেলাতেই থমকে গেলো।তার দেহমন লজ্জায় জমে যেতে থাকলো। তৌকির আগের মতো চেয়ারম্যান থেকেই শুধালো,
“ লিলি তুমি ভালো আছো?"
এমন প্রশ্ন! লিলির খানিক সময়ের অনুভূতি দ্রবীভূত হয়ে গেলো চিন্তার লহরে।সে ভ্রু কুঁচকে নিলো।ললাটের ভাঁজে প্রশ্নের অর্থ বোঝার চেষ্টা! তৌকির ফের প্রশ্ন করলো,
“ লিলি আমাদের বিয়ে হয়েছে আজ প্রায় পনেরো দিন হতে চললো।এখনো হয়নি তবে হয়ে যাবে, শিগগিরই।আমি জানতে চাইছি এই পনেরো দিনে তোমার আমাকে নিয়ে মনোভাব কেমন?"
লিলি এখনো আগের মতোই অবুঝের ন্যায় ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল, তৌকির এবার মাঝের দুরত্বটুকু ঘুচিয়ে নিয়ে লিলির সঙ্গে মিশে বসলো।লিলির দুই হাত নিজের শক্ত মুঠোয় পুরে নিলো। এদিকে এমন পরিবেশে তৌকিরের এত ঘনিষ্ঠ হয়ে বসায় লিলি বারবার আশেপাশে তাকাচ্ছে।দম আটকে লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে। তৌকির তা দেখে বললো,
“ লজ্জার কিছু নেই লিলি,এখানে এর চেয়েও ঘনিষ্ঠ হয়ে সময় কাটায় মানুষ তাও অবৈধভাবে , অনৈতিক কাজে!"
“ কি বলছেন!"
লিলি চোখ বড় বড় করে তাকালো,তার চোখেমুখে অবিশ্বাস।তৌকির সেই চাহনি দেখে হালকা ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। মৃদু ছন্দের সেই হাসি লিলি মুগ্ধ হয়ে দেখলো।তৌকিরকে নিজের কথার প্রেক্ষিতে প্রমাণ যোগাড় করতে খুব বেশি কষ্ট করতে হলো না।কারণ তাদের থেকে খানিকটা দূরেই অন্য বেঞ্চে বসা একজোড়া কবুতরের কার্যকলাপ এখান থেকেই স্পষ্ট দেখা এবং বোঝা যাচ্ছে।সে এবার চওড়া করে হেসে লিলির জিজ্ঞাসু মুখটাকে ঘুরিয়ে সেই বেঞ্চের দিকে ফিরিয়ে ধরলো।ট্যালা লিলি তাঐ বুঝতে পারছে না।সে বরং আবারও আগের ন্যায় কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে তার আগেই তৌকির বললো,
“ ঐ যে দেখো ঐখানে, দেখছো ঐ এক জোড়া মানুষ! এরা কে বুঝছো?"
লিলি দৃশ্যটা দেখলো মিনিট খানেক সময়, অতঃপর চোখ খিচে বন্ধ করে তৌকিরের বুকের দিকে মুখ লুকিয়ে ফেললো,বিরবির করে উচ্চারণ করলো,
” ছিহ্,ছিহ্ এসব এখানে, কিভাবে করে এরা? ঘর বাড়ি নেই এদের? আল্লাহ , আল্লাহ!ছিহ্,কি বেশরম!"
তৌকির লিলির প্রতিক্রিয়ায় শব্দ তুলে হাসলো। ঝংকার তোলা ঐ গম্ভীর মুখের হাসিটা লিলির বুকে গিয়ে বিধলো, তবুও সে মুখটা তুলে সেই হাসি দেখার দুঃসাহস করলো না। এমন খোলামেলা পরিবেশে ওসব একান্ত গোপন মুহূর্ত কিভাবে মানুষ! ভাবতেই লিলির সারা দেহ ঝিমঝিমিয়ে উঠছে।অথচ তারা কত সাবলীলভাবে।তৌকির লিলির লজ্জাকে পাত্তা দিলো না, বরং আরো খানিকটা বাড়াতেই বোধহয় লিলিকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো।এমন জায়গায় তৌকিরের এই বাচ্চামোয় লিলি হতভম্ব হয়ে গেলো।সে চোখ তুলে তৌকিরের দিকে চাইলো।তৌকির তার বুকের উপর থুতনি ঠেকিয়ে তার দিকেই লজ্জিত নয়নে চেয়ে থাকা বোকাসোকা নারীর পানে অটল চোখে চেয়ে বললো,
“ এসব এখানের জন্য ডালভাত।কেউ কারো দিকে তাকাবে না,দেখার সময় পাবেনা।
___আর তাছাড়াও, তুমি তোমার স্বামী সঙ্গেই আছো,তাই ভয় লজ্জার কারণ নেই।"
“ তাতে কি? স্বামী হোক কিংবা প্রেমিক,যা গোপনে থাকার কথা তা গোপনেই করলে ভালো হয়। আপনিই তো বলেন স্বামী স্ত্রী একে অপরের ভূষণ, তাদের সবটা গোপনে থাকা জরুরি। তবে এখন সেই কথার...
“ ঠিক বলেছো।
যা গোপনে থাকার কথা,তা গোপনেই করতে হয়।
____ ঠিক আছে আমি আর তোমাকে বিরক্ত করবো না তবে দূরে গিয়ে বসো না। কাছাকাছি বসো।"
তৌকির লিলিকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে বসতে সাহায্য করলো।লিলিও এবার দূরত্ব কমিয়ে তৌকিরের গা ঘেঁষে বসলো। তৌকির লিলির বাম হাত নিজের হাতের মুঠোয় রেখে জিজ্ঞেস করলো,
“ বাদাম খাবে?"
“ খেতে পারি কিন্তু আমি খোসা ছাড়াতে পারি না।"
“ পারতে হবে না,আমি আছি!আমিই খোসা ছাড়িয়ে দিবো।"
তৌকির কথাটা ভীষণ মোহময় কন্ঠে বললো।লিলি সেই কন্ঠের ঘোরে ডুবে তৌকিরের দিকে তাকালো।তৌকির হাঁক ছেড়ে খানিকটা দূরে থাকা বাদামওয়ালার থেকে বিশ টাকার বাদাম কিনলো।খোসা ছাড়িয়ে নিজের হাতের মুঠোয় জমা করছে।লিলি মুগ্ধ নয়নে,অপলক চোখে তার ভারী স্বামীকে দেখছে।এইতো কিছু মিনিট আগেও তার মনটা ভীষণ ভার ছিলো।ঐ মেয়ে গুলোর শেষ দিকের সব কথাই সে শুনেছে।সে সহজ-সরল তাই বলে এতটাও নয় যে তাদের কথার অর্থ ধরতে পারেনি।
তৌকির বাদাম ছুঁলে দিচ্ছে,লিলি খাচ্ছে। ফুচকা খেলো,ফ্রুট আইসক্রিম গেলো।সুলতান ডাইনে গিয়ে কাচ্চি খেলো। খাওয়া আর ঘোরার মাঝেই বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো। তৌকির লিলিকে ঘরের জন্য কি কি লাগবে জিজ্ঞেস করতেই লিলি প্রয়োজনীয় কিছু তৈজসপত্রের কথা বললো।তার মধ্যে ছিলো মসলা মিক্সচার।তাই তৌকির লিলিকে নিয়ে ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটের ক্রোকারিজ পর্শনে ঢুকলো। পথিমধ্যে লিলিকে টুকটাক সাজগোজের জিনিস কিনে দিয়েছে।লিলিও স্বামীর হাত ধরে টুকটুক করে হাঁটছে এই জনসমাগম শহরের প্রতিটি রোড। ধানমন্ডির, স্কয়ার হাসপাতাল থেকে হাঁটতে হাঁটতে এলিফ্যান্ট রোড হয়ে নিউ সুপার মার্কেট।পুরোটা পথ তারা একে অপরের হাত ধরে হেঁটে পার করেছে।
তৌকির লিলিকে এক গুচ্ছ টকটকে লাল গোলাপ কিনে দিয়েছে।মাথায় নিকাবের উপর পরিয়ে দিয়েছে একটা কাঠগোলাপের ক্রাউন, হাতে বেলির গাজরা।লুছনি সহ সংসারি টুকটাক জিনিস তারা সুপার মার্কেটের হকার,ফুটস্টল থেকে কিনেছে। বিশ টাকা দিয়ে পাঁচ মিশালি আচাড় কিনে দিয়েছে চাঁদনি চক মার্কেটের গেইটের সামনে থেকে।সেটা হাতের মুঠোয় রেখেই লিলি স্বামীর বাহু আঁকড়ে হাঁটছে আর শব্দহীন হাসছে , তাকে হাসাচ্ছে তার গম্ভীর, রাশভারী দরাজ কন্ঠের স্বামী।যে কি-না তার থেকে পুরো এগারো বছর দুই মাসের বড়।
“ জানো তো মানুষ কেনার চেয়ে বেশি দাম জিজ্ঞেস করে,কেন করে বলো তো?"
লিলি এই প্রশ্নের উত্তর জানবে কেমন করে? সে তো ইহজনমে এর আগে এমনভাবে কেনাকাটা করতে আসেনি।তার তো নিজেরই কেনাকাটা করার অভিজ্ঞতা নেই,তাহলে সে কিভাবে অন্যের না কিনেও দাম জানার আগ্রহের কারণ সম্পর্কে জানবে? তৌকিরও জানে তার পত্নীর অভিজ্ঞতার দৌড় সম্পর্কে।তাই নিজেই উত্তর দিলো,
“ কারণ মানুষ কেনার চেয়ে দাম শোনায় বেশি মজা পায়। এছাড়াও ধারণা করতে পারে সে ঠকলো কি-না!"
“ তাই শুধু শুধু দাম জিজ্ঞেস করে?"
“ হুম,করে তো! দেখছো,কয়জনে কিনছে? খেয়াল করেছো!"
” হুম, আমাদের সাথে দাঁড়ানো সেই আপারা কত কিছুর দাম জিজ্ঞেস করলো। কিন্তু কিছুই নিলো না।"
“ তাহলে বোঝো! এমনই করে বেশিরভাগ লোক।তাই তো দোকানদার'দের মেজাজ এত চটা থাকে।"
“ হু!"
নিজেদের মধ্যে আলাপ করতে করতেই বাড়িও পৌঁছে গেলো। দু'হাত ভর্তি জিনিসপত্র নিয়ে।
এত খাওয়া দাওয়ার পর রাতে আবার খাওয়ার
ইচ্ছা দু'জনের কারোই নেই। তৌকির পোশাক বদলে শুয়ে পড়লো।লিলিও সব কিছু গুছিয়ে গা এলিয়ে দিলো বিছানায়।তখন রাত প্রায় পৌনে বারোটা। প্রচুর হাঁটাহাঁটির কারণে দু'জনই ক্লান্ত।তবে তৌকিরের আজ বোধহয় বেশি ক্লান্ত লাগছে,সে বিছানায় গা পাততেই ঘুমিয়ে গেলো। কিন্তু লিলির এলো না।সে কিছু সময় উল্টো পিঠে শুয়ে থাকলো, অতঃপর পাশ ঘুরিয়ে তৌকিরের দিক হয়ে শুয়ে পড়লো।বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে তৌকির।যার দরুন তার পুটলির মতো ভুঁড়িটা সহ বক্ষ বিভাজন পর্যন্ত বেশ গতিতে উঠানামা করছে। বুকের উপর বাঁধা হাত দু'টো ঘন লোমে আবৃত।বেশ সুঠাম আঙ্গুল,বাম হাতের অনামিকায় তার বাবার পরিয়ে দেওয়া রুবির একটি আংটি। শ্বশুর বাড়ি থেকে তৌকির সাহেব শুধু এই একটি জিনিসই নিয়েছেন। সবুজ রুবির একটি আংটি, যেটা অষ্ট ধাতুর ধাতব পদার্থ দিয়ে আটকানো।
সুচারু নাসিকার নিম্ন অংশে ঘন কুচকুচে কালো বড় বড় গোঁফ,তার নিচে এক জোড়া পুরু ঠোঁট।ঘন দাড়িতে ঢেকে আছে নিচের ঠোঁটটা।লিলি অনুভব করলো এই কৃষ্ণ বর্ণের পুরুষটার এই পুরু গোঁফ দাড়িতে ডুবে থাকা ঠোঁটটা ভীষণ পছন্দের।সে কেমন মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় হয়ে গেলো। মাথাটা উঁচু করে ঘুমন্ত তৌকিরের দিকে চাইলো, নিঃশব্দে লোমশ বুকের উপর নিজের ডান হাতটা রাখলো অতঃপর গভীর আশ্লেষে চুম্বন করলো ঐ পুরু ঠোঁটে।
লিলির চোখে এই লোকটার কোন খুঁত নেই।তবে তারা কেন এত খুঁত পায়।লিলি তো জানে সবার কাছে কাঠখোট্টা এই পুরুষ, তার কাছে কি?






0 মন্তব্যসমূহ