চড়ুইভাতি । পর্ব_০৮

 #চড়ুইভাতি

#রিমা_আক্তার

#পর্ব_০৮



[নকল/চুরি নিষিদ্ধ]


“ লিলি তুমি সেদিন জানতে চেয়েছিলে না কেন আমার মতো একজন শিক্ষিত, আধুনিক চিন্তাশীল মানুষ তোমাকে বিয়ে করেছি।"


তৌকির খোসা ছাড়ানো বাদামের উপর ফু দিয়ে খয়েরি পাতলা আবরণটা উড়িয়ে দিয়ে লিলির হাতের মুঠোয় ঢেলে দিলো বাদাম গুলো।লিলি সেগুলো মুঠোবন্দী করে তৌকিরের পানে গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকলো। তৌকির একটা বাদামের খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে বলতে আরম্ভ করলো,


“ আমি তখন ভার্সিটির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস করতাম। বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দিতাম।এর মধ্যে একটা ছোট কাজ আরম্ভ করলাম।এক বন্ধুকে নিয়ে অনলাইনে বেডশিট বিক্রি করতে শুরু করলাম।

__ পড়ালেখার পাশাপাশি টুকটাক আয়! ভালো চলছিলো সব।এর মধ্যেই পরিচয় হলো কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের এক মেয়ের সাথে।

ভীষণ সুন্দরী সে।যেন, চোখে ধাঁধা লেগে যায় তার দিকে তাকালে।পান পাতার মতো চ্যাপ্টা মুখে বড় বড় ভাসা ভাসা চোখ,চেরির মতো লাল একজোড়া ঠোঁট,আলতা দুধে তার গাত্রবরণ। লম্বা,পাতলা কোমরের এক অপ্সরা।

সবসময় থ্রি পিসের সাথে মাথায় হিজাব বেঁধে ওড়না এক পাশে ফেলে রাখতো।চালচলনে ওকে কখনো উশৃঙ্খল হতে দেখিনি।গেটাপে তার রুচির পরিচয় পাওয়া যেতো।

প্রথম দর্শনে দৃষ্টি কাড়ার করার ক্ষমতা তো ছিলোই বাচনে তা আরো নিগূঢ়তম হতো।মেয়েটা কথা বললে শুনতেই ইচ্ছা করতো।যেন বীণা বাজাচ্ছে কেউ। বিরতিহীন বলে যেতো,তাও না তার মুখে ক্লান্তির ছাপ পড়তো আর না আমাদের কানের শ্রবণশক্তিতে বিরক্তি আসতো।

বন্ধু মহল বরাতে পরিচয় হয়।প্রথম দেখাতেই আমার চোখে আঁটকে যায়। কিন্তু...আমি ছোট থেকেই বেশ বুঝদার ছিলাম। হুট করেই আবেগি হ‌ওয়া আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত নয়।তাই প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলাটেলা আমার সাথে গেলো না।তবে মুগ্ধ হলাম।ধীরে ধীরে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব গাঢ় হলো। ওর প্রতি হ‌ওয়া অনুভূতিও বাড়তে থাকলো।একটা সময় মনে হলো ওকে প্রপোজ করি। তেমন‌ই প্রস্তুতি নিয়ে একদিন ক্যাম্পাসে গেলাম।ভাগ্য সেদিন প্রসন্ন ছিলো বোধহয় তাই অপমানিত হবার আগেই রক্ষা পেয়েছিলাম।"


তৌকির এই অবধি বলে থামলো,লিলি চেয়ে আছে আগের মতো করেই, তবে তার ভেতরে কিছু একটা হচ্ছে।যেটা সে অনুভব করতে পারছে কিন্তু বোঝাতে পারছে না। নিজের স্বামীর মুখে অন্য নারীর এত ভূয়সি প্রশংসা শুনে কোন স্ত্রীর ভালো লাগে কি-না লিলির জানা নেই, তবে তার যে মোটেই ভালো লাগছে না তা সে অকপটে স্বীকার করতে পারবে। ভীষণ হিংসে, ভীষণ রাগ হচ্ছে।কেন তার সামনে তার স্বামী অন্য নারীকে নিয়ে এমন ভাবে ভাববে। আচ্ছা এটা কি শুধু ভাবনা অবদিই সীমাবদ্ধ নাকি এখনও তার সাথে যোগাযোগ আছে?


লিলির চোখেমুখে উপচে পড়ছে আতংক, কৌতুহল,ভয়।সব মিলেমিশে ফর্সা মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে উঠেছে।নিকাব'টা উঠিয়ে কপালের উপর রাখা। চোখগুলো লাল হয়ে গেছে।যেন কান্না আটকানোর প্রয়াসে সে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু মুখে রা কাটছে না।

তৌকির বাদামের লাল আবরণ উড়িয়ে দিয়ে আরো এক মুঠো বাদাম লিলির হাতের মুঠোয় দিলো। এরপর আবারও বাদাম ছুঁলতে ছুঁলতেই বলতে থাকলো,


“ আমি তাকে ক্যান্টিনে খুঁজছিলাম, খুঁজতে খুঁজতে দেখলাম এক কর্ণারে বসে তার ক্লাসমেটদের সাথে গল্প করছে।মেয়েলি গল্প,তার মধ্যে কিভাবে যেন উঠে আসে আমার কথা।তখন তাদের মধ্য থেকে একজন তার কাছে জানতে চায় আমার প্রতি তার অনুভূতি কেমন? তার উত্তরে সে যা বলেছিল তা আমার মন ভেঙ্গে যাওয়ার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম, তার আমাকে নিয়ে করা কটুক্তিতে।সে আমাকে পছন্দ নাই করতে পারে তাই বলে, আমার গাঁয়ের রঙ নিয়ে মজা করবে তা মানতে পারছিলাম না।

___গায়ের রঙ, উচ্চতা মানুষের হাতে তৈরি নয়,যদি হতো তবে নিশ্চয়ই মানুষ নিজেকে সবার চেয়ে বেশি ফর্সা বানানোর চেষ্টা করতো। এগুলো আল্লাহর দান। আল্লাহ যাকে যেমন ইচ্ছা তেমন বানান।তা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পোষন করা কাউকে আমি ভালোবাসতে পারলাম না। তাছাড়াও আমার গ্রাম্য চলনেও তার বিশাল অরুচি ছিলো। আমার পারিবারিক মাছের ব্যবসা,তা নিয়েও সে হাসাহাসি করতো।যা স্পষ্ট আমার অস্তিত্বকে অপমান করা।আর সে এগুলো স‌ব‌ই করতো রুপবতী হবার দরুন।

বন্ধু মহলের সবচেয়ে সুদর্শন ছেলের প্রতি তার দুর্বলতা কাজ করেছিলো এবং সে প্রপোজ‌ও করেছিলো।চোখের সামনেই দুজন সুন্দর মানুষের সম্পর্ক গড়াতে দেখেছিলাম যদিও তা শেষ অবধি পূর্ণতা পায়নি।তাতে কি? রুপের বিনিময়ে বিচার করা মানুষ যত‌ই সুন্দরী হোক না কেন আমার আত্নমর্যাদা তার চেয়েও কয়েক'শ গুন বেশি প্রখর।আমি নিজের মতো এগিয়ে চললাম। পড়াশোনা শেষ করলাম,চাকরি পেলাম খুব অল্প সময়ের মধ্যেই।তার পাশাপাশি ব্যাবসাটা চালিয়ে যেতে থাকলাম টুক টুক করে।

______আম্মার অভ্যাস ছিলো চাকরি পাওয়ার সাথে সাথেই বাড়ির ছেলেদের বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সাড়া।আমার বেলাতেও তাই করতে চাইছিলেন।আমি বাঁধা দিলাম না।প্রয়োজন‌ও ছিলো। প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ আমি।সব ধরনের প্রয়োজন থেকেই আম্মাকে অনুমতি দিলাম। আম্মা আমার অনুমতি পেতেই নিজ ভাগ্নিকে ছেলের ব‌উ বানানোর জন্য খালাকে প্রস্তাব পাঠান।খালার আগেই খালাতো বোন স্পষ্ট জানিয়ে দেয় সে আমার মতো কাউকে বিয়ে করবে না।সেও সুন্দরী!আগুন সুন্দরী যাকে বলে। তার মতো আগুন সুন্দরী, সরকারি ব্যাংকে চাকরি করা সফল একজন মেয়ে কেন আমার মতো একটা টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করবে? সে আরো বেটার ডিজার্ভ করে। কথাগুলো সে আমার মুখের উপর বলেছিলো।আমি আবারও এমন কটুক্তির মুখোমুখি হ‌ই। আত্নীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হবার ভয়ে আম্মাকে বলি আমি কাজিনের মধ্যে বিয়ে করবো না।আর আমার জন্য যেন একজন অল্প বয়সী মেয়ে দেখে। যেন তাকে হাতে ধরিয়ে সংসার শিখাতে পারি। বেশি শিক্ষিত দরকার নেই, সুন্দরী‌ও লাগবে না। শুধু সংসার করার মতো সহজ-সরল হলেই চলবে।আমি সব শিখিয়ে পড়িয়ে নিবো।

আম্মা মেয়ে দেখতে থাকলেন।তেমনি এক পাত্রীর বাড়ি যাবার পথে তোমাকে দেখি। তুমি তোমার বাবার সাথে কোথাও যাচ্ছিলে। পথিমধ্যে ঘটক কাকার সাথে তোমার বাবার দেখা হ‌ওয়ায় তিনি তোমার জন্য পাত্র দেখতে বললেন।কথাটা আমার সামনেই বলেছিলেন। তুমি তখন মাথা ঝুকে দাড়িয়ে থাকায় আমাকে দেখতে পাওনি। কিন্তু আমি তোমাকে দেখেছিলাম।ভীত চোখে মাথা ঝুঁকে একটা কিশোরী মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

_______প্রথম দেখাতেই তোমাকে আমার মনে ধরে গেলো। তোমার বাবার সাথে কথা শেষ করেই ঘটক কাকা যখন সামনে এগিয়ে যেতে থাকলেন আমি পিছু ডেকে তাকে জানালাম আমার মনের কথাটা।সত্যি বলতে ততদিনে আমি উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম প্রথম দেখাতেও ভালোবাসা হতে পারে যদি রবের ইশারা থাকে। যদিও আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা আমাকে ভয়ে রেখেছিল কিন্তু তোমার বাড়ি থেকে পজেটিভ সাড়া পাওয়ার পর আর কিছু ভাবিনি। তোমার পড়াশোনা নিয়েও আমার ভাবনা নেই।আমার বউকে দিয়ে তো আমি চাকরি করিয়ে খাবো না যে তার উচ্চ শিক্ষার সনদ থাকা জরুরী! আমার বাচ্চাদের অ আ শেখানোর জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু হলেই আমি খুশি।আর যদি বলি তোমার গ্রাম্য চালচলন,তবে বলবো আমি এটাই পছন্দ করি বেশি। তোমার সাবলীল কথা বলা, লাজুক চাহনি, অস্থির চলন, ছটফটে কাজকর্ম,হুট করেই আলসেমি করা,সব‌ই আমার ভালো লাগে! বৈ-কি আমি ভালোবাসি!

লিলি তুমি যেমন আছো তেমনি থেকো।এর পরিবর্তন যেন না ঘটে।আমি তোমাকে এভাবেই ভালোবাসি।বুঝেছো! আমি আমার সহধর্মিণীর মাঝে কোন পরিবর্তন চাই না।আমি তাকে তার স্বরুপেই ভালোবাসি।তার চরিত্রের প্রতিটি বিষয়কে আমি মন থেকে ভালোবাসি।"


লিলির কাজল টানা লালচে ভেজা ডাগর চোখে নিজের চৌকস চোখ রেখে শেষোক্ত কথাগুলো বললো তৌকির হাওলাদার। লিলি অভূতপূর্ব এই মুহুর্তে নিজের সকল অনুরুক্তি, অনুভূতিকে দু'হাতে জড়িয়ে ধরে অপলক চেয়ে আছে তার স্বামীর ঐ গাঢ় কৃষ্ণকায় চোখে।কত সহজে ভালোবাসি বলা যায় তা লিলি জানে না তবে কোনদিন কাউকে এভাবে বলতে সে শোনেনি।স্ত্রীকে কোন স্বামী এভাবে ভালোবাসি বলে তা লিলি এর আগে জানতো না। নাকি এটা শুধু লিলির সাথেই ঘটলো! এটা বিশাল এক ঘটনা। পৃথিবীতে আজকে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে দামি ঘটনা এটা।লিলির স্বামী লিলিকে ভালোবাসে।তাও সে স্বীকৃতি দিয়েছে,স্ব-মুখে!


“ লিলি!"


ঘুমঘুম কন্ঠে কেউ ডাকছে।লিলি বারান্দা থেকে সেই মধুর শব্দ শুনতে পেলো।নিজ ভাবনা থেকে উতড়ে এলো সেই মধুর কন্ঠে ফের দেওয়া ডাকে।


“লিলি!"


লিলি তৌকির দম্পতির বিয়ের আজ এক মাস পেরুলো।আজ তৌকির আবার লিলিকে নিয়ে বের হবে।আজ তারা যাবে নীলক্ষেত ব‌ই মার্কেটে।ব‌ই কিনতে।লিলির পরীক্ষা কয়েক মাস পরেই। তৌকির দুপুরে খেয়েই একটু ঘুমিয়েছিলো। লিলি বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাশেই থাকা সেই বিশাল হাসপাতাল মাঠের পানে চেয়ে কথাগুলো স্মরণ করছিলো যেগুলো তৌকির সেদিন হাতিরঝিলে বসে তাকে বলেছিলো।

তারপর কেটে গেলো আরো সতেরো দিন।


“ শার্ট প্যান্ট দাও।আমি বাথরুম থেকে আসি।"


লিলি একটা ধূসর রঙের কটন সিল্ক শার্ট আর কালো টেট্টন সিল্কের প্যান্ট বের করে রাখলো।


নীলক্ষেত ঘুরে ঘুরে তৌকির লিলির জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের ব‌ই কিনলো,গাইড কিনলো।তার সঙ্গে কিছু অন্যান্য ব‌ই কিনলো।কিছু রোমান্টিক উপন্যাস, সামাজিক ঘরনার আর কিছু ইসলামিক।ব‌ই কিনে লিলির হাত ধরে নীলক্ষেত পেরিয়ে তোরণের গেইট পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসলো।

লিলি দেখছে মাগরিবের পরের ঢাকা। এদিকটা যেন অন্যরকম ভালোলাগা ছেয়ে আছে।শতশত ছেলে মেয়ে এদিকে ওদিকে বসে গল্প করছে, বন্ধুদের মধ্যে আড্ডা দিচ্ছে।হ‌ইহল্লা করছে। কত রকমের আমেজ তাদের সকলের চোখেমুখে।

সে এক অন্যরকম উদ্দিপনা।ভালোলাগা।লিলি নিজের চকচকে চাহনিতে সবকিছু গিলে নিচ্ছে। কিছু অনুচিত আবদার করতে ইচ্ছে করছে তার । সবসময় পড়া থেকে লুকিয়ে বেড়ানো লিলির মন বলে উঠলো, সেও তো চাইলে এখানে থাকতে পারতো! কিন্তু তা কি আর হবে?


লিলিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি ঘুরে রিক্সায় চড়ে বাড়ির পথ ধরে। তৌকির ফেরার পথে দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে নেয়, রাতের জন্য। খাওয়া দাওয়া শেষ করে তৌকির বিছানায় গা পাতে আর লিলি বারান্দায় গিয়ে আকাশ পানে চেয়ে থাকে।বিশাল এক থালার মধ্যে অজস্র ঝোনাকি খেলা করেছে,লিলির কাছে এখন তাই মনে হচ্ছে।সে ঠোঁটটা হালকা ফাঁক করে অপলক দৃষ্টিতে আকাশের কারিশমা দেখছে,না! আকাশ তৈরির কারিগরের খেলা দেখছে।


“ কি দেখছো ঐদিকে লিলি?"


তৌকির স্ত্রীকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার কাঁধে মুখ গুঁজে ভীষণ আবেগি স্বরে প্রশ্নটা করলো।লিলি সন্ধ্যা থেকে নিজের ভেতরে চেপে রাখা উচ্ছাসকে আর লুকিয়ে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করেই বসলো,


“ ওখানে চান্স পেতে হলে অনেক পড়তে হয়,তাই না?"


লিলির চোখে এক অন্যরকম দ্রুতি খেলা করছে। তৌকির লিলির বিউটি বোনের উপর জ্বলজ্বল করা বিউটি স্পটে জিহ্বা দিয়ে গভীর আশ্লেষে চুম্বন করতে ব্যস্ত ছিলো।চট করে সেখান থেকে মুখ সরিয়ে মাথা তুলে লিলির পানে জিজ্ঞাসু চাহনি নিক্ষেপ করে।লিলি ঘুরে দাঁড়িয়ে তৌকিরের কোমর পেঁচিয়ে ধরে আহ্লাদি মুখে তাকালো।তৌকির সেই মুখের উজ্জলতাকে উপেক্ষা করতে পারলো না বোধহয়। ঠান্ডা স্বরে জিজ্ঞাসা করলো,


“ তুমি কি আরো পড়তে চাও লিলি?"


লিলি শব্দ করে উত্তর না দিলেও তার চোখের আকুতি আর ঔজ্জ্বলতাই উত্তর দিয়ে দিলো। তৌকির নিজের কামুকে আকাঙ্ক্ষাকে খানিক সময়ের জন্য ভুলে গিয়ে শীতল কন্ঠে বললো,


“ তুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে চাইছো?"


এবার লিলি বললো,


“ সে কি চাইলেই হবে নাকি? শুনেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পায় দেশের সব মেধাবীরা। সেখানে আমি একটা ফেলটুস, আজীবন টানাটানি করে পাশ করেছি।সেই আমি কিভাবে এত বড় স্বপ্ন দেখবো?"


“ স্বপ্ন বড়টাই দেখতে হয় লিলি।তবে পরিশ্রম‌ও তার সমান করতে হবে।"


লিলি তৌকিরের কোমর থেকে হাত সরিয়ে সামনে আনলো, নিজের ডান হাত দিয়ে বাম হাত কচলাতে কচলাতে বললো,


“ থাক আর পড়া লাগবে না।"


তৌকির ভ্রু কুঁচকে ফেললো,কপালে ভাঁজ ফেলে জিজ্ঞেস করলো,


“ কেন?"


“ না মানে পড়াশোনায় অনেক খরচ।আর আপনি!"


“ তুমি পড়তে চাইলে আমি পড়াব, সেখানে টাকা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। তুমি শুধু আমাকে নিশ্চিত করবে তুমি নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো।"


লিলি তিরিশ সেকেন্ডের ন্যায় কিছু একটা ভেবে গা ঝাড়া দিলো, খুব আত্নবিশ্বাসী গলায় বললো,


“ ইনশাআল্লাহ পারবো।"


“ ওকে,তাহলে কাল থেকেই তোমার জার্নি শুরু।এখন এসো আমাকে ঠান্ডা করো!"


বলেই তৌকির লিলিকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে বিছানায় ফেলে, নিজেও লিলির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের ভুঁড়ির চাপে পিষতে থাকলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ