#চড়ুইভাতি
#রিমা_আক্তার
#পর্ব_০৪
[নকল/চুরি করা নিষিদ্ধ।চাইলে মেনশন করুন অথবা শেয়ার করতে পারেন।]
লিলি ভাত চড়িয়ে তাদের গতকালের কাপড়গুলো ধোয়ার জন্য গুছিয়ে নিয়ে বাথরুমে ঢুকতেই মনে পড়লো সাবানের গুঁড়ো আনা হয়নি।আর সে তৌকিরকে লিস্ট করেও দেয়নি।এখন ; এখন তবে ধোয়া সম্ভব নয়।সে বাথরুমে থাকা স্ট্যান্ডে কাপড়গুলো রেখে পিঁয়াজ রসুন কাটতে বসলো।মসলা বাটতে হবে ভেবে আদাও নিলো।মনে মনে ভাবলো ফোন দিয়ে যে বলবে তাও সম্ভব নয় কেন না তার কাছে এখনও তৌকির সাহেবের নাম্বার নেই। আর তাছাড়াও তার তো নিজের ফোনই নেই। ভাবতে ভাবতেই সব নিয়ে বসলো, ধীরে ধীরে কাটতে থাকলো।
তৌকির পথিমধ্যে রিক্সা থামিয়ে দশটা পুড়ি নিলো। রান্না করতে ঢের সময় লাগবে,এর মধ্যে নিশ্চয় লিলির ক্ষুধা লেগে যাবে।তার দু হাত ভর্তি বাজার আর তৈজসপত্র।পুড়ি কেনার সময় হোটেলের পাশে থাকা মুদি দোকান দেখেই মনে পড়লো সাবানের গুঁড়ো কেনা হয়নি।সে তড়িৎ গতিতে দু কেজি সাবান আর দু কেজি আটা কিনলো।একটা ঠান্ডা পানীয় কিনে সব বাজারগুলো বড় প্লাস্টিকের ড্রামে ঢুকালো এরপর আবারও রিকশায় চড়ে বাড়ির সামনে এসে নামে।
লিলি ভাত নামিয়ে ডাল চড়িয়ে দিয়েছে ততক্ষণে, পিঁয়াজ কেটে পাশে রেখে রসুনের পাতলা খোসা ছাড়াচ্ছিল ঠিক তখনই কলিং বেল বেজে উঠলো।চট করে উঠে গিয়ে দরজা খোলার জন্য বের হতেই দেখলো তার আগেই ভাবী পৌঁছে গিয়েছে। তৌকিরের হাতে এত বড় জিনিস দেখে তিনি সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যেতে চাইলেই তৌকির নিষেধ করে,
“ না ভাবী,পারবো সমস্যা নেই।"
বললেও আসলে তৌকিরের সমস্যা হচ্ছে।এত ভারি আর বড় জিনিস দু'টো হাতে কতক্ষন ধরে রাখা যায়! তাছাড়াও ভেতরে ডিম আছে,যা যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে। লিলি তৌকিরের তামাটে চেহারার পোড়া ভাব দেখে তড়িৎ গতিতে এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে ড্রামটা ধরতেই তৌকির বললো,
“ ডিমের প্যাকেটটা ধরো।"
লিলি তাই করলো। এরপর নিজেদের ঘরে ঢুকে একে একে সব বের করে নিলো। তৌকির বাথরুমে ঢুকে হাত মুখ ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে বের হলো গামছা দিয়ে মুখ মুছে গামছাটা জানালার শিকে মেলে দিয়ে লিলির দিকে ফিরে বললো,
“ তোমাকে কিভাবে সাহায্য করবো বলো?"
“ আপনাকে সাহায্য করতে হবে না।আপনি জিরান!"
“ না তুমি এত কিছু একা পারবে না।আমি করি কিছু একটা!"
বলেই লিলির সামনে পা ভাঁজ করে বাবু সেজে বসলো।লিলি তৌকিরের সদ্য ভেজা বদনখানি আড়চোখে দেখলো।রোদে পোড়া তামাটে চেহারায় থাকা বিন্দু বিন্দু পানি চিককিক করছে তার চোখে।ভেজা দাঁড়ি আর গোঁফ আর বেশি ঔজ্জ্বল্যতা ছড়াচ্ছে। তৌকিরের চেহারাটা ভীষণ আভিজাত পূর্ণ। কেমন রাজকীয় একটা ভাব আছে। তৌকির পুড়ির ঠোঙ্গাটা ধরে লিলির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
“ আগে এটা খাও।"
লিলি সম্বিতে এসে জিজ্ঞেস করে,
“ কি এটা?"
“ ধরে দেখো,পুড়ি!"
“ পুড়ি?"
“ হ্যাঁ খাও,ভালো লাগবে!"
লিলি একবারে গ্রামের মেয়ে।এসব দেখে অভ্যস্ত নয়।সে কখনো বাড়ি থেকে বিদ্যাপীঠ, অথবা কখনো সখনো আত্নীয় বাড়ি ছাড়া বিশেষ কোথাও যেতে পারেনি।তাই এই সামান্য পুড়িই তার কাছে অনেক কিছু।সে ভীষণ আপ্লুত হলো,আসলেই তার খানিকটা ক্ষুধা ক্ষুধা অনুভব হচ্ছে।সকালে ঘুমের কমতির কারণে নাস্তা পেট ভরে খেতে পারেনি।আর এখন কোনভাবেই সে তৌকিরকে বলতে পারতো না তার জন্য কিছু একটা নিয়ে আসতে। কিন্তু তৌকির ঠিক বুঝে নিয়ে এসেছে।বিয়ের এই সাত দিনে লিলি তৌকিরের ওভালাকৃতির তামাটে চেহারার প্রেমে না পড়তে পারলেও তার এই গুরুগম্ভীর ভরাট ভারিক্কি স্বর আর চুপচাপ যতনের মায়ায় ঠিকই পড়েছে। লিলির মনে হচ্ছে খুব শিগগিরই এই ওভালাকৃতির তামাটে বর্ণের সুঠামদেহী ভুঁড়িওয়ালা লোকটার প্রেমেও সে ডুববে। বোধহয় সে তার নিজের তৈরি নিয়মের জাল ছিন্ন করে সব হিরোকে ভুলে নিজের জীবনের এই তামিল হিরোকে ভালোবেসেই ফেলবে।
“ কি ভাবছো এতো? যা ভাবার পরে ভাবো আমার দেরি হয়ে গেলে এই পুড়িও জুটবে না আর কপালে!"
লিলি তৌকিরের রাশভারী কন্ঠে চমকে গিয়ে ভাবনার সাগর থেকে উতরে এলো।চট করে দাঁড়িয়ে পরে বললো,
“ প্লেটে করে নেই।"
খুব বেশি থালাবাটি তো কিনতে পারেনি তৌকির।যত টুকু প্রয়োজন ততটুকুই আপাতত এনে রেখেছিল সে।তাই আপাতত তা দিয়েই কাজ চালাচ্ছে তারা।দশটা পুড়ি দেখে লিলি বললো,
“ এতগুলো খাবো আমরা?"
“ তুমি খাও আর ভাবী আর খালাম্মাকে দিয়ে এসো।আর এক কাজ করো.."
বলেই উঠে গিয়ে খুলে রাখা শার্টের পকেট হাতরে দুটো প্রান ডেইরি মিল্ক বের করে বললো,
“ তুমি একটা রাখো আর বাবুটাকে দিয়ে আসো।"
লিলি চকোলেট দেখে আরো বেশি খুশি হলো।সে খানিকটা উত্তেজিত কন্ঠে শুধালো,
“ আরে বাহ্,প্রান ডেইরি মিল্ক।আপনি কি করে জানলেন এটা আমার পছন্দ?"
লিলির যে এটা পছন্দ তা তৌকির জানে না। কিন্তু লিলির খুশি দেখে তার ভেতরে ভালো লাগায় ছেয়ে গেলো।সে তো আটা নেওয়ার সময় চকোলেট দেখে ভেবেছিলো পুড়ি বড়দের খাবার,বাচ্চাটার জন্য কিছু নেওয়া দরকার। যেহেতু তারা একই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা আর একসাথে থাকা মানেই একে অপরের আপনজন। তাছাড়াও সকাল থেকে ভদ্র মহিলারা ভীষণ আন্তরিক ব্যবহার করছে সুতরাং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা একান্ত আবশ্যক। তাই সে চকোলেট কেনার সময় দু'টো কিনেছিলো,লিলির জন্য এমনিতেই নিয়ে আসলো।তবে লিলির যে চকোলেট বিশেষ করে এই চকোলেট এত পছন্দ তা তার জানা ছিলো না। অবশ্য সে তেমন কিছুই জানে না। জিজ্ঞেসই করেনি, ভেবেছিল বিয়ের পর তো সব এমনিতেই জানা যাবে।তা আর বড় কি বিষয়! কিন্তু এখন মনে হচ্ছে না জানা উচিত, অন্তত ছোট ছোট উপায়ে যদি স্ত্রীর মন ভালো করার কারণ গড়া যায় তবে তাতে তারই লাভ। দিনশেষে তাকে তো এই মানুষটিকে নিয়েই থাকতে হবে। তৌকির মৃদু হাসলো কিন্তু তার গম্ভীর মুখভঙ্গির দরুন তা দৃশ্যমান হলো না।লিলি নিজেদের জন্য রেখে তাদেরকে দিতে চলে গেলো।
তৌকির তার পকেটে থাকা প্যাকেটটা বের করে হাতে নিয়ে ভাবছে কোথায় রাখবে, ঠিক তখনই লিলি চলে আসে। তৌকিরের হাতে প্যাকেট দেখে জিজ্ঞেস করে,
“ কি এটা?"
তৌকির লিলিকে দেখে লজ্জা পায়, বিব্রত হয়।তবে মুহূর্তেই সেটা কাটিয়ে প্যাকেটটা লিলির হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,
“ গুছিয়ে রাখো,রাতে লাগবে!"
“ কিন্তু কি এটা?"
বলেই সে প্যাকেট খুলে ফেললো।খুলতেই যা দেখলো তাতে ভীষণ লজ্জা পেলো। বিয়ের সাতদিন হলেই বা কি! আজ অবধি এটা সে দেখেনি। বলাবাহুল্য তৌকির সাহেব তা ব্যবহার করেনি। তৌকির সাহেব প্রথম রাতেই বলেছিল সে এসব ব্যবহার করতে পারবে না।তার চেয়ে বরং লিলিকে ব্যবস্থা নিতে।লিলি তার বিপরীতে কিছু বলার মতো অবস্থায় তখন ছিলো না।তাই চুপ করেই ছিলো।পরের দিন সকালে লিলির ঝা মানে তৌকিরের মেজো ভাবী ডেকে জিজ্ঞেস করেছিল,
“ এ্যাই এইদিকে আসো।"
নিজ ঘরের দ্বোরে দাঁড়িয়ে থাকা লিলি এগিয়ে গেলো খাবার ঘরের টেবিলের সামনে। মেজো ঝা ভীষণ সুন্দরী। লম্বায় তাকে ছাড়িয়ে। বাঙালিয়ানা সুতি ছাপা শাড়ি পরিহিত, চুলগুলো গ্রাম্য ভাবে খোঁপা করা। চোখের কাজল লেপ্টে চারদিকে ছড়িয়ে মোটা হয়ে আছে।তবুও চকচকা ফোলাফোলা গাল চিকচিক করছে,ঠোঁট রাঙা করেছে পানের রঙে।তখনও তার মুখে পান পুরে রাখা।সেই পান চিবুতে চিবুতে রসালো ঠোঁটে তাকে জিজ্ঞেস করলো,
“ এ্যাই রাতে কি সব ঠিকঠাক হয়েছে?"
লিলি বিয়ের আগে শুনেছিল তার শ্বশুর বাড়ির সবাই বেশ শিক্ষিত,তবে বউরা কেউ কেউ উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে,এর বেশি পড়াশোনাওয়ালা বউ তার শ্বাশুড়ি আনতে চায়নি।পাছে বউরা ছেলেদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরায়! তবে প্রত্যেকেই খাঁটি শুদ্ধ ভাষায় কথা বলে,সে যেমনি হোক তার পড়ালেখার দৌড়।তাই বলেই তো লিলি এই বাড়ির বউ এখন। নয়তো উচ্চ মাধ্যমিকে এক বিষয়ে ফেইল মেয়েকে বিয়ে করে? কেইবা নিজেদের মেধাবী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ ছেলের বউ করে আনে? কিন্তু লিলিকে এনেছে।এমন গম্ভীর,তেজী, মেধাবী আর বুদ্ধিদীপ্ত লোকের জন্য লিলির মতো স্নিগ্ধ, চঞ্চলা,গ্রাম্য আর বোকাসোকা ফেল্টুকে এনেছে। অথচ লিলির কত নখরামি! লিলি মনে মনে ভাবছে গত এক সপ্তাহ ধরেই। তৌকির চাইলেই যেকোন শহুরে মেয়েকে বিয়ে করে আনতে পারতো।তবে কেন তার মতো গ্রাম্য ফেল্টুকে বিয়ে করলো ? সত্যি বলতে লিলির রুপ ছাড়া কিছুই নেই তৌকিরের বরাবর দাঁড়ানোর জন্য।রুপ ছাড়া লিলি কিছুই না তৌকিরের পাশে।যদি কখনো লিলির রুপে ভাটা পড়ে তবে তৌকিরের পাশে সে একেবারেই বেমানান থাকবে। কিন্তু লিলি জানে রুপ কারো যোগ্যতা না।যোগ্যতা যা মানুষ কষ্টে অর্জন করে নেয়, সৌন্দর্য তো স্রষ্টার দান। সেখানে কারো অর্জন নেই স্রষ্টা ছাড়া।লিলি ভাবছে সেও যোগ্যতা অর্জন করবে,না কারো পাশে দাঁড়ানোর জন্য না। নিজেকে যোগ্য করে তোলার জন্য যেন তার পাশে দাঁড়াতেও মানুষকে তার মতো করেই ভাবতে হয়। কিন্তু লিলি কি করবে? সে তো পড়তে খুব একটা ভালোবাসে না। অবশ্য পড়ালেখাও তাকে যে খুব ভালোবাসে তেমনটাও না। নয়তো সে তো পড়েও পারে না অথচ তারই বান্ধবী না পড়েও ঠিক পার পেয়ে যায়। অবশ্য তারা টুকলি করে যা লিলি করে না। সেদিক দিয়ে লিলি ভীষণ, ভীষণই ভালো আর ভদ্র মেয়ে। কিন্তু তাকে এবার কিছু একটা করতে হবে যাতে কেউ তার যোগ্যতা নিয়ে কখনো হীনমন্যতায় না ভুগাতে পারে তাকে।
লিলির মেঝো ঝা জোনাকি,দেবরের বউকে হালকা ধাক্কা দিয়ে রসালো গলায় বললো,
“ ওমা দেওরসাব কি রাতে ঘুমাতে দেয় নি যে তুমি এখনও সজাগ থেকেও তা স্বপ্ন দেখতাছো?"
ঝা'য়ের কথায় লিলি লজ্জা পেলো।মাথা নুইয়ে নিয়ে মাথায় থাকা সুতি তাঁতের শাড়ি দিয়ে দেওয়া ঘোমটাটা আরো খানিকটা নিচে নামিয়ে নিলো।তা দেখে জোনাকি আরো রসিকতা শুরু করে দিয়ে বললো,
“ আচ্ছা বল তো,কে আগে কারটা খুলেছো?"
লিলি চোখ তুলে একবার বোঝার চেষ্টা করলো জোনাকির কথা, বুঝতে পেরেই আবারও রক্তিম হয়ে নুইয়ে গেলো।জোনাকি মজা পেয়ে একাই হাসছে, অতঃপর আবারও জিজ্ঞেস করলো,
“ আমার দেবর কি তৃপ্তি পেয়েছে? এ্যাই শুনো আমার দেবরকে খুশি করতে না পারলে আমাদের জানিও। পদ্ধতি আছে, শিখিয়ে দিবো নে!তাও সোয়ামিকে নারাজ রেখে ঘুমে ডুব দিও না তাহলে কিন্তু সোয়ামি আবার অন্য নারীর যৌবনে চুব দিবো।"
লিলি চোখ তুলে তাকালো, তার চাহনি ভীত।তা দেখে জোনাকি এবার একটু ভাবসাব বাড়িয়ে ভীষণ গুরুগম্ভীর হয়ে বলতে থাকলো,
“ কথাটা মজায় বললেও এটাই সত্য! বেডা মানুষ এই একটা জিনিসেই আটকায় সোনা পাখি। তুমি যতদিন তার তৃপ্তির কারণ থাকবে ততদিন তার কাছে যতনে থাকবে,যেদিন তোমার রুপ যৌবন ফুরিয়ে যাবে সেদিনই বুঝবে তার ভালোবাসার কত রূপ!শোন,শরীরই হচ্ছে প্রথম তাবিজ স্বামী জাতিকে বেঁধে রাখার। তাই এই শরীরের যতন নিবা,তেমনি খেয়াল রাখবা তার খুশির।সে যখন, যেভাবে তোমাকে চাইবে সেভাবে তার কাছে ধরা দিবে। কখনোই তার কাছে ধরাশায়ী হবে না। হ্যাঁ তবে একেবারে সস্তাও হবে না।তাকেও বোঝাবে তোমার কদর আছে।তবেই দেখবে দু'টো দিকই নিয়ন্ত্রণে থাকছে।আর একটা কথা,চোখে চোখে রাখবা।বেশি গা ছাড়া দিবে না।শহরে থাকে,বহু বন্ধু বান্ধব।তুমি এবার যেয়ে বেছে বেছে বন্ধুবান্ধব রাখবা। বদমাইশ,ফাজিল বন্ধুদের থেকে দূরে সরাবা। তুমি তার বউ , আশাকরি বুঝিয়ে দিতে হবে না কিভাবে কি করতে হবে? আর যদি হয়ও ফোন দিও, শিখিয়ে দিবো।
আচ্ছা সব বাদ দেও এখন বলো,রাতে তোমাদের সব ঠিকঠাক ছিলো?"
লিলি এত কথা একসাথে শুনে ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে আছে, তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে এত উপদেশ একত্রে।সে কিভাবে তৌকিরকে বন্ধু বান্ধব ছাড়া করবে? সে তো কাল থেকে একবারও চোখ তুলেই দেখেনি।রাতে তাদের মধ্যে কত কি হলো,সেই অন্ধকার সুবাসিত ছন্দহীন আবদ্ধ কক্ষে সে আর ঐ পুরুষ একাকী। তার উপর ঐ লোক আদরের নামে কি ভীষণ যাতনা চালালো।সারাটা রাত তার উপর চড়ে ছিলো।অত ভারি আর শক্তিশালী একটা মরদ যদি তাকে ওভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখে তবে সে কিভাবে কিছু দেখবে আর বলবে? তাছাড়াও সে তো লজ্জাতেই মরিমরি হয়ে যাচ্ছে।যখন লোকটা তার ব্লাউজের বোতামগুলো খুলছিলো সে অনুভব করছিলো লোকটা ভীষণ আকুতি নিয়ে গভীরভাবে তার বক্ষ বিভাজনে লেহন করছে। তার ভেতরে শিরশির করছিলো তখন। অস্থির হয়ে যাচ্ছিল সমগ্র অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। গহিনে চলা ঝড় তার দেহকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিলো।সে ঐ লোকের হাতের কারিশমা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে তারই চুল খামচে ধরেছিলো,তার বুকে পিঠে আঁচড়ে দিচ্ছিলো।লোকটা যখন তাকে চুড়ান্ত ভাবে পাগল বানিয়ে সুখের মহাসাগরে ডুবিয়ে দিলো সে তখন ভীষণ আর্তনাদে বিছানার চাদর খামচে কন্ঠনালীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তার
কারণ লোকটা বারবার তার কানের কাছে বলেছিলো,
“ লিলি শোন, স্বামী স্ত্রীর অন্তর্গত মুহূর্তগুলো বাইরের লোকের কানে যাওয়া সমুচিত নয়।এটা কখনোই করবে না। মনে রাখবে এগুলো একান্তই আমাদের দুজনের। এখানের সবটা আমাদের অনুভূতি,তা অন্যকে বলে খাঁটো করবে না। আমাদের মাঝের খারাপ মুহূর্তের বিষয়ে যেমন কাউকে জানাবে না তেমনি এই বিশেষ মুহূর্তের গল্পও না।"
লিলি লোকটার কথা বুঝেছিলো, লোকটাও লিলির ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে পুরোটা সময় ওকে দমবন্ধ কর অবস্থায় চুপ করিয়ে রেখেছিলো।লিলি চাইলেও কোন শব্দ তুলতে পারতো না। এভাবেই ফজর অবধি তাকে সজাগ রেখে আজানের সময় ছেড়ে বলেছিলো,
“ চলো গোসল দিয়ে নামাজ আদায় করে ফেলি।"
তাই তো লিলির ঘুম থেকে উঠতে এত দেরি হয়ে গেলো। জোনাকি ভাবুক, বোকাসোকা নববধূকে ভালো করে দেখলো,যদিও লিলি আঁচল দিয়ে বেশ ভালো করেই সবটা ঢেকে রেখেছিল তাও তার কন্ঠ নালীর উপরে থাকা এচোড় দৃষ্টি আড়াল হলো না বুদ্ধিমতি , অভিজ্ঞ জোনাকির থেকে।সে মিটিমিটি হেসে বলেছিল,
“ আচ্ছা এখন খালি বলো,দেবরসাব কিছু বলছে? মানে বাচ্চাকাচ্চা কি তাড়াতাড়ি দিবে না সে কিছুর ব্যবস্থা নিয়েছে?"
লিলি এবারও ভীষণ লজ্জিত হলো। দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে আঁচলের কোনা দিয়ে গিঁট পাকাতে থাকলো।জোনাকি লিলির বাহুতে খানিকটা ধাক্কা দিয়ে বিরবির করে বললো,
“ এ বাড়ির ছেলেদের বড় হেডাম আছে,তারা কোন ব্যবস্থা নেয় না।যা নেওয়ার আমাদেরই নিতে হয়।তয় তৌকিরের খবর তো আমরা জানবো না,সে জানো তুমি। এখন বলো,যদি তাড়াতাড়ি বাচ্চা নেওয়ার খোয়াইশ থাকে তবে তাও বলো।আর যদি তেমন কিছু না থাকে তাহলে বলো তৌকির কি বলছে? সে কিছু নিয়েছে রাতে?নাকি তুমি!"
লজ্জায় লিলির গাল গরম হয়ে উঠেছিল।এত খোলাখুলি কথা তো তার বান্ধবী পাকা ফারিয়াও বলে না।অথচ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই তিরিশোর্ধ মহিলা কত অবলীলায় বলে যাচ্ছে।জোনাকি লিলির কন্ঠনালীর সঙ্গে লেগে যাওয়া রক্তিম থুতনিকে উপরে তুলে বললো,
“ লজ্জায় চুপ থাকলে তো হবে না, বলতে হবে ছোট বউ। আমাদের সঙ্গে না বললে কাকে বলবে? বলো,কি সিদ্ধান্ত নিয়েছো নাকি কিছুই নাওনি এখনও। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোমার সোয়ামিও একই রোগে আক্রান্ত।যাই হোক একই পরিবারের ছাওয়াল তো।
আচ্ছা তুমি খালি বলো ও বাচ্চা নেওয়ার বিষয়ে কোন কথা বলছে?"
মিনিট খরচ করে লিলি ক'টো শব্দ বলেছিলো,
“ তিনি বলেছে আমাকেই ব্যবস্থা নিতে।
বলেই লিলি উল্টো ফিরে তাদের ঘরের দিকে এক রকম দৌড়ে যায়।দরজায় যেতেই তৌকিরের শক্তপোক্ত বুকে গিয়ে ধাক্কা খায়। পিছিয়ে গিয়ে পড়তেই তৌকির পিঠ খামচে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়, তৎক্ষণাৎ লিলির মাথার লম্বাচুলের গোছাটা খুলে যায়, সঙ্গে ঘোমটা পড়ে যায়। তৌকির সদ্য ভাঙ্গা ঘুম ঘুম চোখ মেলে বড় বড় করে তাকিয়ে রইল,লিলিও এবারই যেন প্রথমবার সরাসরি গভীরভাবে পরখ করলো তামাটে বর্ণের ওভালাকৃতির এই সুঠামদেহী ভুঁড়িওয়ালা পুরুষকে।গাল ভর্তি ঘন কুচকুচে কালো ছোট ছাঁটের দাঁড়ি আর গোঁফওয়ালা এক ভীষণ গম্ভীর চাহনির মানবকে।একে অপরকে কতক্ষন লাগিয়ে দেখলো তা বলতে পারলো না কেউই।তবে তাদের ধ্যান ভাঙ্গে তৌকিরের ছোট বোন তাওশির কন্ঠে।
“ ভাইয়া ভাবী, আম্মা খেতে বলছে তাড়াতাড়ি। দুপুর হয়ে যাচ্ছে!"
বলেই সে তড়িৎ গতিতে চলে গেল।ভাই ভাবীর এই মুহূর্তে এখানে থাকায় সেও লজ্জিত হলো। নিজেও লজ্জা পেলো সঙ্গে ভাই ভাবীকেও লজ্জা পেতে হলো।
তৌকির লিলিকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করলো।লিলিও মাথায় ঘোমটা টেনে ভেতরে ঢুকে পড়লো।চুল গুছিয়ে বাইরে যাবে বলে। তৌকিরের গা খালি।পরনে সাদার মধ্যে আকাশি ব্লু,গোলাপি মিশেল চেইক প্রিন্টের লুঙ্গি। সে বাম হাত দিয়ে ডান বোগল চুলকাতে চুলকাতে জিজ্ঞেস করেছিলো,
“ কি বলছিলো মেজো ভাবী যা শুনে এভাবে দৌড়ালে?"
প্রশ্ন শুনে লিলি আমতা করতে থাকলো। তৌকির রাশভারী গলায় একই প্রশ্ন পুনরায় করলো,এবং তার চাহনি ভীষণ দাপুটে।যেন না বললেই লিলিকে চিবিয়ে খাবে।লিলি চুলের গোড়ায় আঙ্গুল চালাতে চালাতে বলেছিলো,
“ ভাবী জিজ্ঞেস করেছিল আমরা কি প্ল্যান করেছি?"
“ কিসের প্ল্যান?"
তৌকির এগিয়ে এসে লিলির বাহু ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে লিলির অবনমিত থুতনি উঁচিয়ে উপরে তুলে বলেছিলো,
“ আমাদের রাতের বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করেছে?"
লিলি উপর নিচ মাথা দোলায়। তৌকির আগের মতো ভারী কন্ঠে জিজ্ঞাসা করেছিল,
“ কি জিজ্ঞেস করেছে?"
“ ইয়ে মানে,আমরা কোন ব্যবস্থা নিয়েছি কি-না আর ...আপনি কি ভাবছেন তাই আর কি!"
“আমরা কি ব্যবস্থা,আমি কি ভাবছি মানে কি? এসব কেমন প্রশ্ন? লিলি স্পষ্ট করে বলো,আমি তোমার স্বামী। আমার সাথে এত লজ্জা পাওয়ার কিছুই নেই।কাল রাতের পর নিশ্চয়ই আমাদের মাঝে কোন কিছুতেই লজ্জার কারণ নেই!"
লিলি কিভাবে বোঝাবে লজ্জার কারণ আছে কি নাই! সে একইভাবে থেকে বলেছিলো,
“ ভাবী জানতে চাইছিলো আপনি রাতে কিছু ব্যবহার করেছেন কি-না নাকি আমি কিছু করবো? কিন্তু আমি করবো?"
বলেই লিলি চোখ তুলে তাকালো।তৌকিরের ভ্রু দয় কুঁচকে এলো।এসব ব্যক্তিগত প্রশ্ন, একান্তই স্বামী স্ত্রীর মাঝের প্রশ্ন,প্রথম রাতের পর নতুন বউদেরকে এমন অহেতুক বেলাল্লাপনা ধাতের প্রশ্ন করা হয় তা তৌকির জানে। কিন্তু তাও তার এগুলো পছন্দ নয়।সে আশা করেনি তার বাড়ির শিক্ষিত মানুষগুলো এমন অবাঞ্ছিত কাজকাম করবে! তাছাড়াও এত দেরিতে উঠেও সে অথবা লিলি এসবের থেকে রক্ষা পেলো না ভাবতেই গা চিরবিরিয়ে উঠলো।সে ভেবেছিল সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা ব্যবস্থা করে নিবে কিন্তু তার আগেই পুরো পাড়া মহল্লায় ছড়িয়ে গেলো খবরটা।তার মেজো ভাবী মানুষ ভালো,তবে রসিকতার নামে ভীষণ পেট পাতলা মহিলা।দেখা গেলো দেবরের বিয়ের গল্প বলতে বলতে এগুলোও অবলীলায় বলে দিলো যা মোটেই তৌকির চাইছে না।সে তার আর তার সহধর্মিণীর মধ্যকার বিষয়ে কারো হস্তক্ষেপ চাইছে না, মানতে পারবে না।এটা একান্ত তাদের বিষয়। তাদের মধ্যেই থাকবে।
তৌকির লিলির বাহু খামচে ধরে তার দিকে উঁচিয়ে চোখে চোখ রেখে বলেছিলো,
“ স্বামী স্ত্রী একে অপরের ভূষণ। তাদের মাঝের গোপনীয়তা রক্ষা করা আবশ্যকই নয় বরং একান্ত বাধ্যতামূলক। তাদের মাঝের কোন কথাই যেন তৃতীয় ব্যক্তির কান অবধি না যায়। বিশেষ মুহূর্তগুলো যেমন একাকী নির্জনে হয়,তেমনি গোপনে থাকাই উচিত। আশাকরি তুমি কখনোই নিজেদের এই মুহূর্তগুলো গল্পের খোরাক বানাবে না।আর হ্যাঁ আমরা এখনই কোন পরিকল্পনা করছি না, তোমাকে পরীক্ষা দিতে হবে।এর আগে তো নয়ই,তাই! তুমি ভেবো না আমি একটা ব্যবস্থা ঠিক করে নিবো।"
বলেই ছেড়ে দিয়েছিল এরপর আলনায় ঝোলানো ব্যাগ থেকে টি শার্ট বের করে গাঁয়ে জড়াতে জড়াতে বলছিলো,
“ যার সাথে গল্পের ছলে বলে এসেছো গিয়ে দেখো সে হাসতে হাসতে পুরো মহল্লায় বলে বেড়াচ্ছে।"
লিলি চমকালো।ছি ছি এসব কেমন কথা! এগুলো একান্ত গোপনীয় কথাবার্তা। এগুলো কেউ কাউকে কিভাবে বলে বেড়াতে পারে?কই তাদের বাড়িতে তো কাউকে এসব করতে দেখেনি।অথচ লিলি বুঝলো না তাদের বাড়িতে এসব করার জন্য তেমন সম্পর্কিত কেউ নেই'ই!
তৌকির কাপড় পরেই লিলিকে নিয়ে খাবার খেতে চলে যায়।খাবার খাওয়ার সময় আবারও মেজো ভাবীর আগমন ঘটে। তৌকির লজ্জায় সেদিকে তাকায়নি। বরং ভীষণ তাড়াহুড়ো করে খাবার শেষ করে বেরিয়ে যায় উঠানে। এদিকে মেজো ভাবী লিলির সামনে একটা ওষুধের প্যাকেট বাড়িয়ে ধরে বলছিলো,
“ তোমার তো দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়া লাগবে,তার আগে কিছু ঘটিও না।নেও, পুরুষ মানুষ শুইতে পারলেই কিচ্ছা খতম মনে করে।আর কিছু মনে রাখার দরকার মনে করে না।এসব মনে রাখার দায়দায়িত্ব সব আমাদের মহিলাদের।
নাও,এখান থেকে একটা খাও। আর রোজ সকালে উঠে আগেই এটা খাবা,রোজ মানে যে রাতে সোয়ামি সোহাগ করবে সে দিন,বুঝছো? যতদিন না তোমার সাহেব বলে, ‘ লিলি তোমার পেটটা ভারী করা দরকার!' ততদিন,বুঝছো?"
বলেই মেজো ভাবী একাই হাসতে থাকে,একটু পর সেজো ভাবীও যোগ দেয়, সঙ্গে বড় আপা।লিলি লজ্জায় দমবন্ধকর পরিস্থিতিতে ফেঁসে হাপিত্যেশ করতে থাকলো। ওষুধটা খেয়ে পাতাটা সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ঘরে ফিরে যায়।
হাতের প্যাকেট দেখে লিলি বুঝতে পারলো মেজো ভাবী এই বন্দোবস্তের কথাই বলেছিলো,সে চোখ তুলে তার দিকেই গভীর চোখে চেয়ে থাকা তামাটে পুরুষটাকে দেখলো,সে তো বলেছিলো সে এসব ব্যবহার করতে পারবে না।তবে কেন আনলো?
তৌকির লিলির প্রশ্ন বুঝতে পেরে নিজের থেকেই উত্তর করলো,
“ অতিরিক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলে অনেক সমস্যা হয়।পরে আর বাচ্চাকাচ্চা হয় না,হলেও অনেক সমস্যার পরে হয়।আর আমার অনেকগুলো বাচ্চা চাই।
তুমি মাঝে মধ্যে দুই একটা খেও,আমি চেষ্টা করবো সবসময় প্রটেকশন ব্যবহার করতে।যখন ইচ্ছা করবে না তখন তুমি খেও।”
[গুরুত্বপূর্ণ নোট- নিয়মিত গর্ভনিরোধক বড়ি (যেমন কম্বিনেশন পিল, যেখানে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টিন থাকে) নেওয়ার কিছু সাধারণ এবং কিছু গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। নিচে দুটো ভাগে দিচ্ছি:
১. বমিভাব বা বমি
২. বুকের ব্যথা বা স্তন ফুলে যাওয়া ও ব্যথা
৩. মাথাব্যথা
৪. মেজাজ পরিবর্তন বা অবসাদ
৫. ওজন বেড়ে যাওয়া বা ওজন ওঠানামা
৬. ত্বকে ব্রণের সমস্যা বা উন্নতি
৭. অনিয়মিত রক্তস্রাব বা স্পটিং
৮. লিবিডো (যৌন ইচ্ছা) কমে যাওয়া বা পরিবর্তন
৯. রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া
গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (দুর্লভ হলেও সম্ভব):
১. রক্ত জমাট বাঁধা (DVT – Deep Vein Thrombosis)
২. স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি (বিশেষ করে ধূমপায়ীদের জন্য)
৩. লিভারের টিউমার বা অসুস্থতা (খুবই দুর্লভ)
৪. দৃষ্টিশক্তির সমস্যা (চশমার পাওয়ার হঠাৎ বদল ইত্যাদি) ]
লিলি বাজার বের সব কিছু সামনে নিয়ে বসে ভাবছে সে কি করলে তাড়াতাড়ি রান্না হবে। তৌকির ততক্ষণে তার পাশেই বসেছে। লিলি তৌকিরের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলো,
“ কি কি রান্না করবো?"
তৌকির বললো,
“ ঝোঁকের বশে মাছ গোশত দুটোই এনেছি।এখন যা ইচ্ছা করো।তবে আমার মনে হয় মাছ ভেজে রেখে তুমি গোশত রান্না করতে পারো।নয়তো গোশত নষ্ট হবে!"
লিলি ভীষণ উচ্ছাসিত গলায় বললো,
“ ভাবী তার ফ্রিজে জায়গা করে দিয়ে বলেছে আমরা চাইলে সেখানে রাখতে পারি বাড়তি মাছ গোশত।আপনি কি বলেন গোশত রেখে দিবো? মাছটা না হয় তাজা তাজা খেলেন, তাছাড়াও গোশত পাকাতে বেশ সময় লাগবে ততক্ষণে আপনার দেরি হয়ে যাবে না?"
তৌকির কিছু সময় কিছু একটা ভাবলো অতঃপর বললো,
“ অন্যের ফ্রিজে রাখবে? কেমন দেখায় না?"
লিলি ঠোঁট উল্টে দু কাঁধ উচালো। তৌকির ফোঁস করে দম ছেড়ে বললো,
“ আচ্ছা রাখো,দেখি কত তাড়াতাড়ি তোমাকেও একটা ফ্রিজ এনে দেওয়া যায়।
তবে এখন ইলিশ রাঁধবে এই তো?"
“ হুম,তাই করি।"
“ আচ্ছা তাহলে আমি তোমাকে মাছটা কেটে দেই, তুমি সবজি গুলো নিজের মতো করে কাটো। দু'জন মিলে করলে তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে?"
লিলি চমকিত চাহনিতে চঞ্চলা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“ আপনি মাছ কাটতে পারবেন?"
তৌকির বটির ডগায় নিজের ভারি পায়ের কাফ মাসল ঠেকিয়ে চাপ দিয়ে ধরে ঠোট মেলে মৃদু হাঁসি ছড়িয়ে রেখে বললো,
“ আমি ব্যাচেলর ছিলাম লিলি, দীর্ঘ এগারো বছর!"
এগারো বছর! লিলির মনে পড়লো তার সামনে বসা এই তামাটে বর্ণের পুরুষ তার স্বামী যে কি-না গুনে গুনে তার এগারো বছর দুই মাসের বড়।তার মায়ের কথা মনে পড়লো,মা বলেছিলো বয়সে বড় স্বামী বয়সে ছোট বউকে অনেক যতন করে।তবে তার মায়ের কথা কি সত্য প্রমাণিত হচ্ছে?
তৌকির পটাপট করে মাছটা কাটলো। একদম পেশাদার মাছ কাটুনির মতো করেই।লিলিও এর মধ্যেই লাউ কেটে ডুমু ডুমু পিছ করে ডালের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে এসেছে।সে লাউ ডাল রান্না করবে। মাছ কেটে তৌকির লিলিকে সবজি কাটতে সহযোগিতা করলো।গোল গোল করে তাল বেগুনের পিছ করলো, ঝিঙ্গে পাতলা পাতলা করে কাটলো।
ঝিঙে ভাজা,লাউ ডাল, বেগুন ইলিশ ভাজা সঙ্গে লাউ দিয়ে ইলিশ মাছের ঘাঁটা। তৌকির লিলি দম্পতির সংসারের প্রথম মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন।






0 মন্তব্যসমূহ