#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১২৬
[কপি করা/চুরি করা/নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষিদ্ধ। দয়া করে এগুলো করবেন না। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন!]
“ তোমার শ্বাশুড়ি মা কেমন নূর?"
কৌতূহলী সিমিন,নূরের চাচাতো বোন।নূরের বাড়ি বেড়াতে এসেছে।ঘরে বসে টুকটাক আলাপের মাঝেই নিজেদের সংসারি আলাপ করছিলো। ঠিক সেই তালেই প্রশ্নটা করা।সিমিনের স্বামী খুলনা জেলার ম্যাজিস্ট্রেট। সিমিনও সেখানেই থাকে।এক কন্যা সন্তানের জননী। সম্পর্কে চাচাতো বোন নূরের শ্বশুর বাড়ি নিয়ে শুরু থেকেই কৌতুহলী সে। যেহেতু এতিম নূর,আবার বিয়েও হয়েছে সৎ শ্বাশুড়ির ঘরে।তাই একটু অহেতুক চিন্তাও পোষন করে। এসেছে আজ দুইদিন হলো,নূরের ফুপি শ্বাশুড়ি এসেছে শুনেই দেখা করতে এসেছে।
“ শ্বাশুড়িরা যেমন হয় তেমনি!"
“ মানে?"
“ মানে আবার কি? তোমার মাদার ইন ল যেমন আমারটাও তেমনি।"
“ আমাদেরটা সেইম কিভাবে হয়? তোমার জিজু আমার শ্বাশুড়ির একমাত্র পুত্র সন্তান আর তোমার স্বামী তোমার শ্বাশুড়ির সৎ সন্তান। তো ? এক কি করে হয়?"
“ জানি না।তবে খুব একটা খোঁচা খুঁচি করে না। যা করে তা হলো ছেলেকে হাতের মুঠোয় রাখে।
অবশ্য শুধু ছেলেকে নয়,মেয়েকেও। বিবাহিত মেয়ে, শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দিবে, তা না করে পড়ার বাহনা দিয়ে এই বাড়ি এনে রাখছে। মোদ্দে কথা সব কোলে নিয়ে বসে থাকবে।"
“ ওসব দেখানো। নয়তো বুড়ো বেটাকে হাতে রাখবে কিভাবে! বুঝো না,শুনেছি বিয়েই হয়েছে এই সন্তানদের জন্য। বিয়ের সময় নাকি তোমার শ্বশুরের শর্ত ছিলো কোন সন্তান জন্ম দিতে পারবে না।বন্ধ্যা ছিলো নাকি। কিন্তু কিভাবে জানি পরে বাচ্চা হলো।"
নূর এই কথা আগেও শুনেছে।বিয়ের আগেও শুনেছে।বিয়ের পর এই বাড়িতে এসেও শুনেছে।তাই বিশেষ ভাবান্তর হলো না এখন।সে ভাঁজ করে রাখা হাঁটুদ্বয় মেলে দিলো।পরনের সুতি শাড়ীটা গুছিয়ে পা অবধি ঢেকে নিয়ে ডান পাশে বালিশ পেতে কাত হয়ে শুয়ে বললো,
“ আপা তুমি আজকে বলবা নাইফকে।আমি চাই ও ঐ জবটা করুক।নয়তো আজীবন এই বাড়িতে কেয়ারটেকার হয়েই থাকতে হবে।"
“ সমস্যা কি? বাড়ির বড় ছেলে,সব দায়দায়িত্ব তার হাতে। মানে সব হিসাব নিকাশ তারই হাতে।আমার মনে হয় এতে তোমারই সুবিধা বেশি।একটু বোঝাও যাতে নিজের ভালোটা বুঝে। আজীবন তো একা থাকবে না।আজ হোক কিংবা কাল, একদিন তো সংখ্যা বাড়বে। সঙ্গে খরচ বাড়বে। সুতরাং এখন থেকেই যদি সবটা গুছিয়ে না নেয় যতই বাপের থাকুক, দিনশেষে ভাগের বেলায় বোঝা যাবে কার ঝুলিতে কতটা পড়লো?"
“ কিভাবে বুঝাবো বলো তো? এই বাড়ির মধ্যে থাকলে আমার কথা কানেই যাবে না।যতই বলি দিনশেষে ঐ আম্মাই সব। এত মা ন্যাওটা আমি জীবনে দেখিনি।মানে তাও যদি হতো আপন মা! কোথাও দেখেছো সৎ মায়ের প্রতি এত দুর্বলতা কারো থাকে?"
“ দেখলাম তো।প্রতি শব্দে আম্মু।এ্যাই তোমার শ্বাশুড়ি তো দেখলাম বেশ ধার্মিক,আবার তাবিজ তুমার করে না-তো?"
“ এটা তো ভেবে দেখিনি। আসলেই..প্রায়ই দেখি নামাজ পড়ে সবার গায়ের ফু দিয়ে দিতে। কিসের দোয়া পড়ে? আল্লাহ মালুম!"
_______________________________________
নাফিসার যতনে ত্রুটি নূর রাখছে না।ফুফু শ্বাশুড়ির কখন কি লাগবে সেদিকে তার সচেষ্ট দৃষ্টি। ভাতিজা বধূর সেবায় নাফিসাও খুব খুশি। টুকটাক প্রায়ই বেরিয়ে যাচ্ছে এদিকে ওদিকে, শপিং করছে।
তুহি তার মাদ্রাসায় গিয়েছে।ছুটি পেলে আসবে।তাইফ নিজের ছুটি ঘরে বসে আর বাবার ব্যাবসায় টুকটাক সহযোগিতা করে কাটাচ্ছে।নাবীহা কোন বেলা শ্বশুর বাড়িতে তো কোন বেলা বাপের বাড়িতে কাটাচ্ছে।নাইফের জীবনও আগের মতোই। আফিয়া ইদানিং তাবলীগে যাতায়াত করছে। বৃদ্ধা শ্বাশুড়ির দেখভালেও যথেষ্ট সময় দেয়।
সংসারের হাল আপাতত নূরের কাঁধেই।সে যা করছে তাই আফিয়া উপভোগ করছে। বলাবাহুল্য নতুন নতুন শ্বাশুড়ি মা হয়ে সে বেশ উপভোগ করছে এই নতুন সম্পর্কটা।যখন তখন নাতী নাতনির জন্য স্বপ্ন বুনছে। নিজের সুন্দর সুন্দর নতুন নতুন সুতি শাড়ি ছিঁড়ে কাঁথা সেলাই করতে বসে যায়।
স্ত্রীর এই বাচ্চামোপনা নাসিফ এত বছর ধরেই দেখছে।সহ্য করছে। তাই নতুন করে অনুভূতি জাগে না।সে এখন নিরব শ্রোতা তাই নিরব হয়ে দেখেই যায় সবটা।
পুরুষ সদস্যরা যার যার কাজে বাইরে চলে যায়।আফিয়া বিছানায় পা মেলে বসে কাঁথা নিয়ে বসেছে।শীতের দিনে মৃদু উষ্ণ হাওয়া জানালার
গ্রিল গলিয়ে তার গা ছুঁয়ে দিচ্ছে। তার মধ্যেই গাঁয়ে পাতলা একটা চাদর মেলে বসে বহুবছর পর নিজের লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভার ব্যবহার করে সে নিজের ভবিষ্যৎ নাতি নাতনির জন্য কাঁথা সেলাই করবে বলে পণ করে বসেছে। ঠিক তখনই নূর এলো খুব উচ্ছাস নিয়ে।এসেই,
“ আম্মা!"
আফিয়ার ধ্যান ভগ্ন হলো,ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি , তর্জনী,মধ্যমা থেকে গেলো সুঁচের গোড়ায়,চোখ উঁচিয়ে চশমার মোটা গ্লাসের আড়াল থেকেই পুত্র বধূ্র পানে চেয়ে ডাকে সাড়া দিয়ে বললো,
“ হ্যাঁ বলো মা!"
“ আম্মা বলছিলাম আমি একটু বাইরে যাবো!"
“ বাইরে যাবে বলতে?"
“ ঐ যে আপাকে নিয়ে একটু শপিংয়ে যাবো।আপা তো চলে যাবে তাই বলছিলাম বাচ্চাদের জন্য কিছু গিফট কিনে দিবো আর কি!"
“ ওহ্, হ্যাঁ তাতো দেওয়াই উচিত। তুমি নাইফকে বলেছো মা? না বলে গেলে আবার চেঁচামেচি করবে!"
“ না আম্মা,বলিনি।ওকে বলে লাভ কি? শেষে তো আপনার অনুমতিই লাগবে।ওকে বললেই বলবে আম্মাকে বলো।যেতে দিলে যাও।"
নূর যে কথাটা ভীষণ তিক্ততা নিয়ে বলেছে তা বুঝতে চুলে পাক ধরা পঞ্চাশে পা দেওয়া আফিয়ার সময় লাগলো না।তাও সে ঠোঁটে স্বভাব সুলভ মৃদু হাসি বজায় রেখে বললো,
“ সে তো তোমার ভালোর জন্যই বলে মা। তুমি এখানে নতুন,কোথাও কিছু চিনো না তাই হারিয়ে যেন না যাও সেই ভয়ে বলে। এখানে অন্য কোন নিয়ত নেই।হয়তো সে বুঝিয়ে বলার সময় পায় না তাই আমার কথা বলে যাতে আমি তোমাকে বুঝতে সাহায্য করি।এই যা।"
“ এখন কি আমি যাবো আম্মা!"
আফিয়ার বাড়তি কথা শোনার সময় নূরের নেই।সে তৎক্ষণাৎ নিজের উত্তর চাইলো।আফিয়াও আর কথা বাড়ালো না। চারজনের মা সে। বাচ্চাদের মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সিলিং সে ভালো বোঝে।তাই হাসি মুখেই অনুমতি দিলো, শুধু বললো,
“ সাবধানে যেও।আর নিজের ফোন হাতেই রেখো যাতে বাবু ফোন দিলে পায়।"
“ জি আচ্ছা, আসসালামু আলাইকুম!"
নূর চলে গেল।আফিয়া পুত্র বধূর গমন পথে চেয়ে সুক্ষ্ম শ্বাস ছেড়ে চশমা ঠিক করে আঁটকে নিলো দৃষ্টিতে।আর মনে মনে ভাবলো,
“ সন্তানের উত্তম জীবনব্যবস্থার জন্য অনেক সময় পিতা-মাতা মিথ্যাচার করে,ছলনার আশ্রয় নেয় যা পরবর্তীতে অন্যের গলায় কাঁটা হয়ে বিঁধে।"
নূরকে যতটা বাধ্য আর শান্ত বলে আফিয়ার সামনে জাহির করা হয়েছে মোটেই নূর ততটাও বাধ্য নয়।মা হারা মেয়ে,বাবার অতিরিক্ত আদর আহ্লাদে বড় হয়েছে ভিন দেশে। অত্যাশ্চর্য ভাবে নূর ঐ কাতার, জার্মান,জাপান ঘুরে বড় হলেও তার মধ্যে বাঙালিপনা ঘুটঘুটে রয়েছে।কোথাও তাকে বৈদিশিক নিরপেক্ষ মুক্ত চারিত্রিক গুণাবলী ছুঁতে পারেনি।ও আগাগোড়া গ্রাম্য নারী। আগাগোড়া বাঙালি।
আত্নীয় অনাত্মী'য়র মাঝে ভেদাভেদ খুব ভালোই জানে।আফিয়া খুব করে খেয়াল করেছে,আফিয়ার বাপের বাড়ির লোকেদের উপস্থিতি নূর খুব একটা ভালোভাবে নেয় না। কোনরকম আপ্যায়ন আর মেকি হাসিই সমাপ্তি টানে তাদের সঙ্গে আলাপের সময়কাল।অথচ এদিকে আফিয়ার শ্বশুর বংশের আত্নীয়ের প্রতি নূরের যত্ন আত্নী দৃষ্টি কাড়ে। কেমন পাগলামো করে তাদের নিয়ে।
এই যে নাফিসা আসছে পর থেকেই তার পছন্দের জন্য কত আয়োজন নূর করে কিন্তু সাফিয়া কিংবা দোয়া আসলে তা হয় না।নামিরা সেই কানাডা রয়েছে।নামিরার জন্যেও তার মন পুড়ে।গত চার মাস আগেই তো নাইফ খালা বাড়িতে বেড়িয়ে আসলো বউ নিয়ে কানাডা গিয়ে।নামিরার প্রতি নূরের আন্তরিকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে তার আনুগত্যতা। অথচ পাশে বসে ঠিকঠাক দু'টো কথাও বলে না আফিয়ার বাপের বাড়ির লোকেদের সাথে। কিন্তু সাফিয়া আর দোয়া যেন নাইফের বউ বলতেই পাগল।এই যে গত মাসেই দোয়া একটা কাজে টাঙ্গাইল গিয়েছিল,শখ করে কতগুলো টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ি,গামছা, সালোয়ার কামিজ নিয়ে আসছে।বেছে বেছে দামি আর সবচেয়ে সুন্দর গুলোই নূরকে দিয়েছে কিন্তু নূর আজ অবধি তা একটাও গায়ে পরে দেখায়নি। হয়তোবা ওর পর আর ধরেই নি।পরে রয়েছে আলমারির কোন চিপায়।
কথাগুলো ভাবতেই একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।কেন এই বৈষম্য তা আফিয়ার বোধ হলো না।
_________________________________________
“ নাহ জামাই ফোন দিয়েছিলো, বললো এক মাসের ছুটি আছে,তাই আসছে।শুনে কি যে শান্তি লাগলো আপা।"
বেয়াইনের সাথে আড্ডা দিচ্ছে আফিয়া।মু'য়াযের মা এসেছেন তার পুত্র বধূকে সঙ্গে নিয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যেতে। ঠিক সেই সময় নূর এলো।
“ আসসালামু আলাইকুম আন্টি!"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম বউমা! কেমন আছো তুমি?"
“ জি আলহামদুলিল্লাহ, আংকেল আসেননি বুঝি?"
“ না , আমি তো এসেছি তোমার ননদকে নিয়ে যেতে!"
“ একেবারে নিয়ে যাবেন?"
নূরের প্রশ্নে দু'জনেই অদ্ভুত ভাবে তাকালো। অতঃপর বললো,
“ না তো!"
বেয়াইন পুত্র বধূর কথার মাঝে আফিয়া বললো,
“ তোমার বোন কোথায় বউমা?"
নূরকে একা দেখে প্রশ্ন করলো আফিয়া। নূর নিজের হাতের ভারী হ্যান্ড ব্যাগটা পাশেই রাখলো।নিকাব তুলে নিচু কন্ঠে বললো,
“ আপা একটু মিরপুর গিয়েছে। উনার কোন এক বান্ধবীর বাসায়।আজ হয়তো সেখানে থাকবে।আমাকেও সেধেছিলো কিন্তু আমি যাই নি।"
“ ওহ,আমি তো ভাবলাম।সে যাই হোক, যাও বোরকা খুলে গা গোসল দিয়ে পরিষ্কার হও। সুফিয়াকে নাস্তা দিতে বলবো?"
“ না থাক।আমি পরে নিয়ে খাবো নে।
আন্টি আমি আসি।আপনি কিন্তু যাবেন না। একসাথে চা খাবো।"
“ আছি, তোমার ননদ যতক্ষণ তৈরি হওয়ার, ততক্ষণ। তুমি যাও, পেরেশান হইও না। তোমার শ্বাশুড়ির হাতের ম্যাজিক্যাল চা পান করেছি।"
এই প্রত্যুত্তরে নূর শুকনো হাসলো কেবল।আর কোন উত্তর না দিয়ে চলে গেলো।হাতে তার কম করে হলেও দশটা ব্যাগ।আফিয়া দেখলো আড়ালে। কিছু বললো না। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন বাইরে যাবে আর যখনই যাবে এভাবেই হাত ভর্তি ব্যাগ নিয়ে আসবে।এত কি কিনে তা আফিয়ার বুঝে আসেনা। জিজ্ঞেসও করে না।পাছে বউমা ভুল বুঝে।
__________________________________________
রাতে সবাই বসার ঘরে বসে টুকটাক আলাপ করছে। ঠিক সেই সময় নূর মাথায় ঘোমটা টেনে একটু আড়াল থেকেই বললো,
“ তাইফ একটু ঘরে যাও না। আমার ওখানে কাজ আছে।"
তাইফ বাবা আর ভাইয়ের মাঝে সোফায় বসে নিজের আজকের কাজের হিসাব দিচ্ছে।আজ সে গোডাউনে ছিলো। নতুন লটের মাল এসেছে। যেহেতু ব্যাবসার পুরোটা দায়িত্ব এখন বড় ভাইয়ের কাঁধে তাই সে হিসাবটা বড় ভাইকেই দিচ্ছে। বাধ্য কর্মচারীদের ন্যায় আজকের সবটা হিসাব বুঝিয়ে দিচ্ছে।নাইফ খুব মনোযোগ দিয়ে আজকে বিল,খরচ, পার্সেল লিস্ট পড়তে,দেখছে। ঠিক তখনই নূরের কি কাজ পড়লো তা নিয়ে সবাই ওর দিকে প্রশ্নাত্মক চোখে তাকালো।তাইফ নিজের দৃষ্টি নত রেখেই বড় ভাইয়ের অনুমতির আশায় মাথা নুইয়ে বসে আছে।
সেদিন তুহিকে বকা দেওয়ার পর থেকেই নূরের প্রতি তাইফের একটি নেতিবাচক ধারণা ঢুকে গিয়েছে।এমনকি ফেরার সাথেও যে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে সেটাও। আর্মি অফিসার তাইফ দৃষ্টি না মিলিয়েও ভাবীর পরিবারের অনেকের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া খুব ভালো করেই জানে। বুঝতে পারে অপছন্দ আর পছন্দের কারণগুলো।তাও বড় ভাইয়ের বউ, সম্পর্কে, বয়সে বড় দেখে নিরবে হজম করে নিচ্ছে।
“ হঠাৎ এখানে তোমার কি কাজ? আমরা একটু পরই উঠবো।পরে করলে হয় না।"
“ না ,আসলে বাবার সাথে আমার একটু কথা আছে।তাই বলছিলাম,তাইফ ভাই একটু সময় শুধু!"
“ সমস্যা নাই ভাবী মনি।
_ ভাই , আমি ঘরে যাই। তুমি ভাবী মনি গেলে আমাকে ডাক দিও।আমাকেও ক্যান্টনমেন্ট একটা কল দেওয়ার আছে।"
“ আচ্ছা যা!"
তাইফ চলে গেলো। পাশেই নাবীহা বসে বাপ ভাইয়ের ব্যাবসায়িক আলাপ শুনছে।সে কিছু সময় আগেই নিমন্ত্রণ বাড়ি থেকে ফিরেছে। ক্লান্ত শরীরে বাবার পাশেই বাবার কাঁধে মাথা রেখে বসে ছিলো।ভাবীর আগমনে এখন সোজা হয়ে বসেছে।
“ বলো মা!"
নাসিফ বলতে বললো,নূর স্বামীর পাশে বসলো।নাইফ নিজের হাতের কাগজপত্র গুলো হাঁটুর উপর রেখে স্ত্রীর দিকে ফিরলো, মনোযোগ দিলো।
“ বাবা আসলে...ফুফুকেই বলতাম কিন্তু মনে হলো আগে আপনাকে বলি।আপনি ফুফুকে বললে বেশি ভালো হয়।আমি তো ছোট মানুষ, ভালো শোনায় না।"
“ কোন বিষয়ে আম্মা!"
“ আসলে বাবা,আমার কাজিন সিমিন আপু!"
“ হ্যা,সিমিন ! ঐ যে খুলনায় এখন যে ম্যাজিস্ট্রেট আছে তার ওয়াইফের কথা বলছো?"
“ হ্যাঁ বাবা, সিমিন আপুর দেবর, অবিবাহিত।এবার ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকরি পেয়েছে।এখন ওরা তার বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজছে!"
বিয়ের আলাপ উঠায় সবাই ভাবলো হয়তো তুহির জন্য কথা বলছে।নাইফের ভ্রু কুঁচকে এলো।নাবীহা নিজের বাবার মুখের দিকে তাকালো, অতঃপর বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে দেখলো ইতিমধ্যেই তার ভাইয়ের মুখোভঙ্গি বদলে গিয়েছে।মনে মনে বললো,
“ খবরদার ভাবী মনের ভুলেও বলো না যে তুহির বিষয়ে ...! ভাইয়া তোমার মুখ থেকে দাঁত আলাদা করে দিবে!"






0 মন্তব্যসমূহ