#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১২৭
[কপি করা/চুরি করা/নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ,দয়া করে এগুলো করবেন না। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন]
“ কিরে, তোর নাকি বিয়ের ফুল ফুটে গিয়েছে? এত তাড়াতাড়ি? কই জানলাম না তো! জন্মের পর থেকে দেখে দেখে রাখলাম অথচ আমার লাগানো চারা গাছে ফুল ফুটে তা ছেঁড়ারও উপযোগী হয়ে গেলো আর আমিই টের পেলাম না, বাহ্ কি দারুন না? যেন উজানে ভেসে আসা কোন অনিচ্ছুক কেউ আমি?"
গড়গড় করে বলে যাচ্ছে তাইফ,আর ওপর প্রান্তে থাকা শান্ত,নরম নাজিফা শুনেই যাচ্ছে।তার নিরবতা তাইফের রাগের অগ্নিকুণ্ডে ঘি ঢাললো।তাইফ আরও বলতে থাকলো,
“ এ্যাই শোন নাজিফা, তুই যদি ভাবিস আমাকে ফাঁকি দিবি আই সয়্যার আমি তোর মার্ডার করবো।নট অনলি ইয়্যু! অলসো দ্যাট ইডিয়ট হু উইল ডেয়ার টু স্ন্যাচড ইয়্যু ফ্রম মি।বাহ্, জন্মের পর থেকেই চোখে চোখে রেখেছি,একটা মশা পড়তে দেয়নি গায়ে।গোসলের সময় সবার সামনে নিজেকে জোকার বানিয়ে তোকে হাসিয়েছি, ডায়পার বদল থেকে ন্যাপকিন সবটার জন্য খোঁজ রেখেছি যাতে বেস্টটা তোকে দেওয়া হয়,ঐ.. তোর স্কুল থেকে কলেজ সব জায়গাতেই ঈগলের দৃষ্টি ফেলে রেখেছি যাতে কেউ চোখ তুলেও তাকাতে না পারে। তোর কি মনে হয় এগুলো এমনি এমনি করেছি?তোর ডায়পার বদলের সময় আমি ছাড়া কাউকে এলাও করিনি সেই তোর কাপড় অন্য কাউকে খুলবে আর আমি তাকে ছেড়ে দিবো?অত সহজ সবটা!
তোকে কাপড় পরাবোও আমি ,খুলবোও আমি।তোর মা'কে গিয়ে বলবি তুই কোন ভূমি কর্মকর্তাকে বিয়ে করছিস না।কি বলেছি শুনেছিস? কানে ঢুকেছে আমার কথা?"
ধমকে ধমকে কথাগুলো বলছে। ঐদিকে নাজিফা বিষয় পুরোটা না বুঝলেও এতটুকু বুঝতে পেরেছে এইদিকে তার বিয়ে নিয়ে কোন একটি কথা হচ্ছে।যেটা এই মাথা মোটা পাগল উন্মাদ লোকটার কানে গিয়েছে এবং হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে যা নয় তাই বকে যাচ্ছে।পরে দেখা যাবে নিজের কান্ডে নিজেই লজ্জিত হবে,ভুল শুধরাতে আবার নাজিফার পায়ের সামনে বসতেও দ্বিধা করবে না।আজব এক পাগলের পাল্লায় জন্মের পর থেকে পড়েছে।
নাজিফা নিজের মায়ের কাছে শুনেছে ছোট থেকেই এই লোক নিজে কাঁদিয়ে আবার নিজেই পাগলামি করে হাসাতো।
“ কি রে ভূমি কর্মকর্তার ভুঁড়িতে ডুবে গেলি নাকি?"
“ তুমি এসব কি বলছো তাইফ ভাইয়া? "
“ ঐ ... কে তোর ভাই? কোন জন্মে আমি তোকে বোন বানিয়েছি?আমাকে ভাই ডাকার অধিকার তোকে কে দিয়েছে?লিসেন গেইম খেলবি না আমার সাথে! একদম না,ভুলেও ঐ সাহস করবি না।
আমার যথেষ্ট বোন আছে,আমার মায়ের পেটের দুটো বোন আছে,মামাতো বোন আছে একটা,খালতো বোন আছে দুটো, পাঁচটা চাচাতো বোন...
“ ফুফাতো বোন তো নেই!"
নাজিফা মাঝে ফোড়ন কেটে উক্ত বাক্যটা আওড়াতেই আরো ফেটে পড়লো তাইফ, দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
“ কানের নিচে এমন চড় দিবো ইহজীবনে মৃত্যু অবধি স্বামী স্বামী বলে পায়ের নিচে গড়াগড়ি খাবি। বেয়াদব,সাহস কি করে হয় আমার কথা কাটার? আমার কথার মাঝে ফোড়ন কাটার দুঃসাহস তোকে কে দিয়েছে রে?"
আগুনের তাপ আন্দাজ করে নিজের ভুল স্বীকার করে মাফ চাইলো, অনুনয় করে বললো,
“ আচ্ছা স্যরি মাফ করে দেও।আর বলবো না, দুষ্টুমি করেও না।"
“ মাথায় রাখবি,এমন গার্বেজ মার্কা ফান নেক্সট টাইম করলে কপালে শনি...যা এখন গিয়ে বলবি তুই আপাতত কোন বিয়ে, আপাতত কি,
বলবি দশ বছরের আগে কোন বিয়ে করবি না।দশ বছরের আগে যদি তোকে বিয়ের কথা বলে তুই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাবি।যা গিয়ে বল।"
“ আচ্ছা আমি যে গিয়ে বলবো আমি এখন বিয়ে করবো না কিন্তু আম্মু তো তখন জিজ্ঞেস করবে আমি কিভাবে জানলাম আমার বিয়ের কথা হচ্ছে? আম্মু তো আমাকে বলেনি এখনো। তাহলে?"
রাগের মাথায় উল্টো বকার পর এই মুহূর্তে তাইফের মাথা খুললো।আসলেই তো।সেই তো একটু আগেই শুনলো এই কথা।এখনও তো নিশ্চয়ই ফুফু ফুফাকেও বলেনি তাহলে নাজিফা কি করে জানবে? কিন্তু মেইল ইগো ওয়ালা তাইফ আপাতত ভুল স্বীকার করলো না। উল্টো তাপ দেখিয়ে বললো,
“ যখন বলবে তখন বলবি।এখন থাক।আর শোন.."
“ হুম বলো।"
“ খবরদার তোর স্বপ্নেও যেন আমি ছাড়া অন্য কেউ না আসে!"
“ হুম!"
“ কি হুম! শব্দ নাই? বাক্য গঠন শিখিসনি?"
“ আচ্ছা রাখি,পাপা অপেক্ষা করছে!"
“ দ্যাখ নাজু!"
“ প্লিজ!"
“ আচ্ছা যা।আর হ্যাঁ...না থাক।তোকে কিছু করতে হবে না।আমিই করবো যা করার!"
নাজিফার সাথে কথা শেষ করে দোলনার সাথে হেলে দাঁড়িয়ে হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনটা দিয়ে অবিরত ঠোঁটের উপর আঘাত করছে আর ভাবছে কিছু সময় আগে শোনা বাক্যালাপ গুলো,
“ বাবা,ওরা আমার ফোনে আমাদের বিয়ের ছবি দেখার সময় নাজিফাকে দেখেছে। পছন্দও করেছে।তাই ওরা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আনার আগে আমাকে বললো আপনার সাথে আলাপ করতে।যদি ফুফু আগ্রহী হয় তবে উনাদের বলতে পারি। ছেলে খুবই ভালো। দেখতেও বেশ!"
নাইফের কুঞ্চিত ভ্রুদ্বয় আরো কুঁচকে এলো, সিরিয়াস ভঙ্গিতে বাবার দিকে চাইলো।কি উত্তর দেয় সেই আশায়।নূর নিজের কথা শেষ করে স্বামীর দিকে তাকালো। নাইফের চাহনি কঠোর।কিছু একটা দু জোড়া চোখে বিনিময় হলো। নাইফের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে শ্বশুরের দিকে চেয়ে নূর বললো,
“ বাবা যাই হোক আমাকে জানাবেন,আমি শুধু মাধ্যমের কাজটা করছি। সিদ্ধান্ত তো আপনাদেরই হবে।
_ খাবার দিচ্ছি,সবাই আসুন।"
এরপর কথা হয়নি।তাইফ যখন বসার ঘর ত্যাগ করে নিজের ঘরের দিকে যাচ্ছিলো তখন পথি মধ্যে তার স্মরণে আসে সে তার ফোন টি টেবিলের উপর রেখে আসছে। ফোন নেওয়ার জন্য এদিকে আসতেও দোনামোনা করছিলো তখনই তার মনে পড়লো সে বসার ঘরের পর্দার আড়ালে থেকেই বুবুনের সহায়তায় নিজের ফোন নিতে পারে।এতে করে ভাবী মনির মুখোমুখি হওয়া লাগবে না। পর্দার কাছাকাছি আসতেই ঐ কথাগুলো কানে যায়।সে তার বাবা ভাইয়ের উত্তর শোনার আশায় অপেক্ষা করলেও তাকে তার বড় ভাই,বাবা ভীষণ ভাবে নিরাশ করে!
__________________________________
“ তুমি এমন একটি বিষয় কিভাবে বাবার সামনে তুললে? তোমাকে আমি বলেছিলাম না নাজিফা তাইফের বিষয়টা? বাবা হয়তো জানে না,আর এখন তাইফের জন্য উপযুক্ত সময়ও না।তো বাবা যদি রাজি হয়ে ফুফুকে কনভেন্স করে তখন?"
“ ইজি হও,এখানে এত সিরিয়াস হওয়ার কি আছে?
তাইফ নাজিফার বিষয়টা তো তোমরা নিশ্চিত নও!
তাছাড়াও তাইফের বিয়ের এখনো অনেক দেরি। ততদিন কি ফুফু ফুফা নাজিফাকে বসিয়ে রাখবে?"
নূরের কথায় নাইফ মুখ ফিরে তাকালো।ডান ভ্রু উপরে তুলে বাম চোখ বড় করে বললো,
“ তুমি দয়া করে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করো না। বিষয়টা একান্ত আমার ভাইয়ের, আর ওর বিষয়ে আমি কোনরকম ছাড় দিতে রাজি নই।
আমার ভাইয়ের খুশি আমার কাছে সবার আগে। আমার ঐ একটাই ভাই।"
কথাটা শেষ করেই নাইফ নিজের হাত ঝাড়া দিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালো। রাতের মধ্যভাগের প্রথমার্ধে এখন প্রহর! গাঁয়ে তার একটা সাদা সেন্টু গেঞ্জি আর সর্টস।
নূর একটু সময় দূরে রইলো। অতঃপর ধীর পায়ে বিছানা ছেড়ে ওয়াশ রুমে গেলো। মিনিট দশ পর বের হলো।নাইফ ততক্ষণে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে। চোখ বন্ধ করে মাথার নিচে হাত রেখে সোজা হয়ে শুয়ে আছে। নূর ঘরের সব কটা আলোক বাতি বন্ধ করে দিলো। জানালার পর্দা টেনে ঘুটঘুটে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে ফেললো বিশাল কক্ষটা। সুগন্ধির বোতল নিয়ে পুরো রুমে ছিটিয়ে দিলো। গন্ধরাজের সুবাসে মাতোয়ারা হলো নিস্তব্ধ এই চার দেওয়ালের বাক্সখানি।ধীর পায়ে ছন্দহীন তালে হেটে বিছানায় উঠলো,নাইফের গা থেকে কোম্বল সরিয়ে নিজেও ঢুকে পড়লো।সোজা হয়ে শুয়ে থাকা নাইফের উপর সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো।কম্বলের তলে নিজেদের আড়াল করে নরম ঐ শুষ্ক ওষ্ঠের উপর নিজের প্রসাধনী লেপ্টানো কোমল শীতল ওষ্ঠ জোড়া প্রতিস্থাপন করলো।নাইফের পুরুষত্বার কাছে ফিকে হয়ে গেলো তার লালিত রাগ অভিমান ক্ষোভ। নিশ্চল থাকা হাত দুটো উঠে গেল নূরের কোমরের উপরাংশে। খামচে ধরলো নূর নাইফের ঘাড়,নাইফ চেপে নিজের সাথে মিলিয়ে নিলো নূরের পাতলা মেদহীন কোমরটাকে।মেতে উঠলো উঠোন লেপার যুদ্ধে।সুধা পানে পিষতে থাকলো ওষ্ঠের উপর ওষ্ঠ রেখে। গভীর থেকে গভীরতর হলো ছোঁয়া, আকাঙ্ক্ষা সীমান্ত পেরিয়ে গেলো। এলোপাথাড়ি আদর আর উন্মাক্ত ছোঁয়ায় পাগল পাগল হয়ে উঠলো দু'জনেই। নিজেদের মাঝেই নিজেদের মিশিয়ে নিয়ে পবিত্রতার আভায় মিলিত হলো যুগল।গভীর লম্বা দমবন্ধকর নিঃশ্বাসের গতিতে ঘরে সৃষ্টি হলো এক মাতোয়ারা গুনগুন..প্রেমাগুন!
_________________________________
“ আমিতো চলেই যাবো,তুহিকে নিয়ে আসি না আম্মু! কয়দিন না হয় বাড়িতে থেকেই ক্লাস করুক। অন্তত আমাদের সাথে কয়েক ঘন্টা তো কাটবে ওর!"
“ এক কাজ করো বোনকে পড়িও না।ঘরেই বসিয়ে রাখো। তোমাদের ভাইদের যেহেতু বোনদের দূরে রাখতে ইচ্ছে করে না।"
“ পারলে তো সেটা করতামই।তবে তুমি দেখো তুহির বিয়ে আমি আমার আয়ত্তেই দিবো।যেখান থেকে দৌড়ে তুহি আমাদের কাছে আসতে পারবে!"
“ সে যখনকার টা তখন দেখা যাবে।এখন এত ভেবে লাভ নাই। বাঁচি না মরি।"
“ উহুমম!"
তাইফ তার মায়ের সাথে কথা বলছিলো।তাইফ আর এক সপ্তাহ থাকবে।তাই ছোট বোনের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য মায়ের কাছে অনুরোধ করছে যাতে ছুটির আবেদন করে তুহিকে বাড়ি আসার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু আফিয়া রাজী হচ্ছিল না।এই নিয়ে যখন মা ছেলের বিতর্ক চলছে তখন ঠিক সেই সময় নূরের আগমন।তাইফ ভাবীর কন্ঠস্বর পেয়ে মা'কে বলে স্থান পরিত্যাগ করতে অবনত মস্তকে দৃষ্টি জমিনে রেখেই দ্রুত কদমে স্থান ত্যাগ করলো।
“ আম্মা আমার একটা কথা ছিলো।"
“ হ্যা বলো,মা!"
“ বলছিলাম সুফিয়া খালার বিষয়ে,বয়স হয়েছে।কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়।তাই বলছিলাম!"
“ হ্যাঁ বলো।"
“ আমার মনে হয় উনাকে রিটায়ার্ড দিতে হবে।আর আমাদের একজন কম বয়সি সহকর্মী রাখা দরকার।"
“ হুম, বিষয়টা আমিও ভেবেছি।সুফিয়ার যথেষ্ট বয়স হয়েছে।এই বয়সে আমারও কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়, সেখানে সুফিয়ার তো আরও বেশি কাজ করতে হয়। কিন্তু এত বছরের খাদেম সে! তাকে কিভাবে এই বয়সে? আবার যাকে তাকে রাখাও তো যায় না। বিশ্বাস অবিশ্বাসের বিষয় আছে,মান ইজ্জতের ব্যাপার থাকে। কোথায় থেকে কাকে আনবো? সে কেমন হবে?






0 মন্তব্যসমূহ