#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১২৫
[কপি করা/চুরি করা/নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ। দয়া করে কেউ এগুলো করবেন না। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন।]
“ ছোট মেয়েকে এখানে আসতে বলতে,ও তো একা খেয়ে অভ্যস্ত নয়।দেখা গেলো আধ পেট খেয়ে উঠে যাবে!”
পাশেই বসা সহধর্মিণীর উদ্দেশ্যে কথাটা বললো নাসিফ।আফিয়াও ভাবুক চোখে স্বামীর দিকে চাইলো।বাপ আহ্লাদি মেয়েটা বাবার উপস্থিতি না থাকলে খাবার নিয়ে বেশ নাটক করে। ছোট থেকেই নাসিফ এই মেয়েকে খাইয়ে দিয়ে এই অভ্যাস তৈরি করেছে। তাই তো এত বড় কিশোরী মেয়ে এখনো একা হাতে খেতে গেলেই কিছু না কিছু ঝামেলা পাকাবেই।যদিও তার অবকাশ খুব একটা মিলে না। কারণ বাবা,ভাই,বুবুন কেউ না কেউ থাকেই এই জন্য পাশে।
নাইফ খাবার পরিবেশন করছে। সঙ্গে আছে তাইফ।নাসিফ বড় ছেলেকে অতি ব্যস্ত দেখে ছোট জনকে ডাকলো,
“ তাইফ শোন?"
তাইফ মাছের বাটি নিয়ে তার বড় চাচার পাতে বড় এক টুকরো মাছ তুলে দিয়ে বললো,
“ বড় চাচু, আমাদের পুকুরের শোল,আজ সকালেই ভাইয়া গিয়ে নিয়ে আসছে।"
“ তাইফ!"
নাসিফ আবারও ডাক দিলো।এবার তাইফ শুনলো,বাটি হাতে নিয়েই এগিয়ে গেল পিতার নিকট।নিচু হয়ে কন্ঠ খাদে নামিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ বাবা কিছু বলবা!"
“ তোমাদের যে একটা ছোট বোন আছে যে নিজের হাতে ঠিকঠাক এখনো খেতে পারে না সেটা কি ভুলে গিয়েছো?"
“ ভুলবো কেন? আমি আর ভাইয়া ভেবেছি এদিকে তোমাদের খাওয়া মোটামুটি শেষ হলেই আমরা নিচে গিয়ে ওকে নিয়ে এক সাথে খাবো!"
“ তা দরকার নেই।এখানে এত গুরুজনের সঙ্গে বসেই দুটো খাও দুই ভাই।উনারা সবাই বড়।বয়সে, সম্মানে।এক কাজ করো এই মাছ টুকু বাছা আছে,এই বাটিতে নিয়ে গিয়ে তাকে দাও।আর তোমার বুবুনকে বলো ওকে বসিয়ে তারপর খাইয়ে দিতে। তারপর অন্য কাজ করতে।"
“ আমিই খাইয়ে দিয়ে আসি!"
“ হ্যাঁ সেটাও করতে পারো!"
“ কি হয়েছে?"
নাইফ পিছনে দাঁড়িয়ে থেকে জিজ্ঞেস করলো,তাইফ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পিছু ঘুরে ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললো,
“ বুড়িকে খাওয়াতে হবে না?ও তো রাতে মাংস খাবে না।মাছও বেছে খেতে পারবে না।"
“ তো এখানে সমস্যা কোথায়?আমি যাচ্ছি এখনই ।আগে ওকে খাইয়ে দিয়ে আসি। নয়তো ঘুমিয়ে পড়বে।"
“ তুমি থাকো,আমি তো সবাইকে হ্যান্ডেল করতে পারবো না।আমিই যাই!"
বলেই তাইফ নিজেই এগিয়ে গেলো।নাইফ বাবার পাশেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো কোথায় কার কি দরকার!
“ তুহি দরজা খোল,কি হলো? খাবার রেখে কেন আসছিস? আশ্চর্য তো! তুহি বুবুনের কিন্তু ভীষণ রাগ হচ্ছে!"
তুহি দরজায় খিল এঁটে খাটের উপর বসে নিরবে কাঁদছে।চোখ দিয়ে পানি পড়ছে,সে সেটা বাম হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে ফেলছে আবার পড়ছে।
নাবীহা দুটো ডিম ভাজা এনে টেবিলের সামনে আসতেই তুহিকে না দেখে জিজ্ঞেস করতেই ফেরা বললো,
“ তুহি ঘরে চলে গিয়েছে।ও বোধহয় খাবে না।"
সত্যিটা কেউ বললো না।হয়তো বা ভাবীর অত বড় কথার অর্থ বোঝার ক্ষমতা তাদের হয়নি!নাবীহা রিফার পাতে ডিম তুলে দিয়ে বললো,
“ একা একা খেতে পারবা? নাকি বুবুন খাইয়ে দিবো?"
“ পারবো!"
রিফা যথেষ্ট স্বনির্ভর। বলাবাহুল্য সাফিয়ার চোটপাটেই মেয়ে দুটো নিজেদের কাজ নিজেরাই করতে শিখেছে। রেজওয়ানও মেয়েদের ঐভাবেই বড় করছে।রিফার মাথায় হাত বুলিয়ে টেবিলে ভাবীর হদিস না পেলেও সে নিজের বোনের ঘরের দিকে গেলো।
দরজায় গিয়ে ডাক দেওয়ার পরেও তুহি দরজা না খোলায় নাবীহা এভাবেই বোনকে শাসাচ্ছে।ওর চেঁচামেচি শুনে রান্না ঘর থেকে দ্রুত কদমে বেরিয়ে এলো নূর।নাবীহার পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ কি হয়েছে নাবীহা?"
“ বুঝতেছি না। ক্ষুধা লেগেছে বলে মাথা খারাপ করে দিচ্ছিলো,একাই হাত দিয়ে খাবে।কারো অপেক্ষা করবে না। অথচ এখন ঘরে খিল এঁটে বসে আছে। বললো মাছ খাবে না,ডিম ভেঁজে দিতে।দিলাম তো, তাহলে কি হলো?"
“ কিছুই হয়নি। অতিরিক্ত আহ্লাদে মাথায় উঠে যাচ্ছে, তোমরাও তাকে নিয়ে বেশি তুলুতুলু করতে করতে বিগড়ে দিচ্ছো! আম্মার এই একটা কথার সাথে আমি একমত!"
ভাবীর কথার ভঙ্গি আর শব্দচয়ন কোনটাই নাবীহার পছন্দ হলো না। অবশ্য অনেক দিন আগের থেকেই এই অপছন্দের তালিকায় নূরের অবস্থান। কিন্তু মুখচোরা নাবীহা কোন প্রত্যুত্তর করলো না।সে দ্বিতীয়বার বোনকে ডাক দিতেই তাইফ এসে দাঁড়ালো।
“ কি হয়েছে?"
নাবীহা পিছু ফিরে ভাইয়ের দিকে করুন চোখে চেয়ে বললো,
“ জানি না। হঠাৎ করেই এমন করছে?"
“ মানে কি? কেউ কিছু বলছে?"
তাইফের আগমনে নূর লম্বা ঘোমটা টেনে দ্রুত পায়ে নিজের ঘরে দৌড় দিলো।দেবর যে মৃত্যুর সমতূল্য!তাইফ নিজেও এইদিকে আসার পূর্বে কাঁশি দিয়ে নিজের আগমন জানান দেয়।ভাবী মনির সাথে তার রসকসের সম্পর্ক নয়। বরং পর্দার এপার ওপারের সম্পর্ক।কথাও খুব একটা হয় না। তিনদিনের মধ্যে মাত্র দু'টো কি তিনটা শব্দ উচ্চারিত হয়েছে দুজনের মাঝে। এমনকি এখন নূর খায়'ও তাইফের খাওয়ার পর।তাইফ বড় বোনকে পাশ কাটিয়ে দরজায় জোরে চাপড় মেরে ভারী কন্ঠে ডাক দিলো,
“ তুহি দরজা খোল,বুড়ি দেখো বুবুন ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছি তো!"
“ তুহি আপু কাঁদছে মনে হয়!"
পিছন থেকে রিফা বললো।সে এঁটো হাতেই এখানে উঠে এসেছে।তাইফ,নাবীহা দু'জনেই অবাক চোখে তাকালো, হাসিখুশি মেয়েকে রেখে গেলো,সে এখন কাঁদছে? কেন?
“ তুহি? কি হয়েছে? বাচ্চা,বুবুনকে বলো কি হয়েছে? কোথায় কষ্ট হচ্ছে?"
“ তুহি ভাই ডাকছি তো,দরজা খোল!"
বারবার ভাইয়া,বুবুনের ডাক শুনে অবশেষে তুহি দরজা খোলে।এর মধ্যেই তার নাকমুখ লাল হয়ে গিয়েছে।কান্নার দমকে দমকে তার ঠোঁট গাল কাঁপছে। নাকের ডগায় সিঁদুরের মতো রক্ত জমাট হয়ে আছে।তাইফের মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে বোনের বেহাল অবস্থা দেখে।নাবীহার নিজেরই হাত পা কাঁপতে থাকলো।কেন তার বোন কাঁদছে?
দ্রুত কদমে পা বাড়িয়ে ভেতরে ঢুকে বোনকে জড়িয়ে ধরে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“ তুহি কি হয়েছে বনু? কেন কাঁদছো? কোথাও ব্যথা পেয়েছো? বুবুনকে বলো!"
“ তুহি! কি হয়েছে বুড়ি? এত কষ্ট কিসে? ভাইকে বলো সোনা!"
তুহি ভাইয়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো।অতি আহ্লাদি তুহি বুবুন, ভাইয়ের আদরে আরো বেশি গলে গেলো। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেই দিলো সত্যি কথা।তার ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে বলা প্রতিটি কথাই তার বড় ভাই বোনদের কলিজায় লাগলো।যাকে কেউ মজার ছলেও কোনদিন একটা চকোলেট নিয়ে কথা শোনায়'নি।কেউ বলেনি এটা তোমার না আমার। তাকে'ই কেউ খাবার নিয়ে খোঁটা দেয়? তাও সে কে? যার কাছে সংসারের দায়িত্ব।যার অবস্থান এই সংসারে তার মায়ের পরেই।নাবীহার চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো, ঠিক তাইফের চোয়াল নম্রতায় ডেবে গেলো।তার চোখে প্রশ্ন
কিন্তু নাবীহার চোখে ফুলকি ছুটলো। পরক্ষনেই তা দমিয়ে নিলো।মা যে রাগ করে কোন কাজ করতে নিষেধ করেছে।কার সাথে সে মুখ লাগাবে? মানুষটা তার পিতৃতুল্য বড় ভাইয়ের জীবনসঙ্গী।তার ভাইয়ের অর্ধেকাংশ,তার ভাইয়ের সুখ দুখের সাথী। মায়ের পরে এই সংসারের দায়িত্ব যার কাঁধে উঠবে। কিন্তু সে কি এসবের যোগ্য? এখনি যে খাবার নিয়ে খোঁটা দেয় ভবিষ্যতে সে কি করবে?
এগুলো ভাবতেই নাবীহা নিজেই নিজের মনে মনে উত্তর দিলো,
“ যতদিন বাবা আম্মু আছে ততদিন এই সংসারে আমাদের সবার সমান অধিকার। হঠাৎ কারো আগমনে তা পরিবর্তন হবে না।সে যেই হোক।"
“ আচ্ছা কেঁদো না।হয়তো ভাবী কোন কারণে ডিস্টার্ব! তাই এমন করে বলে ফেলছে। কিন্তু তুহি.."
তাইফ বোনকে বুক থেকে টেনে সামনে সোজা করে দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ এত ছিঁচকাদুনে কেন তুই? এই সামান্য কথায় কেউ কাঁদে? মনে রাখতে হবে ঘরে এখন শুধু তোমার একার রাজত্ব নয়! এখানে রাজত্ব করতে এখন রাজকুমারী নয়,রাজরাণীর আগমন হয়েছে, আমাদের বাড়ির বড় শাহজাদার বেগম সাহেবা এসেছে। এখানে এখন মায়ের পর তারই রাজত্ব চলবে।সো...নিজের ছিঁচকাদুনে স্বভাব বদলে একটু শক্ত পোক্ত হও।কেউ কথায় কষ্ট দিলে তাকে পাল্টা উত্তর না দিলেও অন্তত কান্না করে এভাবে চেহারাকে টমেটো বানানো যাবে না তাও আবার পঁচা টমেটো।"
“ পঁচা টমেটো বলবা না। তাহলে ভাইয়াকে বলে দিবো।"
তুহি ফ্যাচ ফ্যাচ করে আবার কাঁদতে কাঁদতেই ভাইয়ের বুকে চাপড় মেরে বললো,তাইফ আবারও বুকে জড়িয়ে নিয়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো,
“ আচ্ছা এখন থামো।আর আমার নামে বিচার দাও সমস্যা নেই। কিন্তু ভাবীর নামে দিও না। তাহলে ভাইয়া ভাবীকে বকবে যেটা খুবই বাজে দেখাবে।"
“ আচ্ছা দিবো না।"
তুহি নিজেকে সামলে নিয়ে বললো।নাবীহা নিজের রাগকে উড়িয়ে দিলো। ছোট্ট ভাইয়ের বুদ্ধি আর ন্যাকা বোনকে সামলানো দেখে মুচকি হাসলো।হাত উঁচিয়ে ভাইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।তাইফ বুবুনের দিকে মুচকি হাসলো।তার বুবুনের হাত তার মাথায় নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল সেটা সে বুঝে।তাই বুবুনকেও টেনে নিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো।দুই বোনের মাথায় টপাটপ চুমু খেলো।নাবীহা ভাইয়ের কাঁদে মাথা ঠেকিয়ে বললো,
“ এখন তুমিও আমার বড় ভাই!"
“ সে তো আমি জন্মের পর থেকেই!"
বলেই সে ঠোঁট মেলে হাসলো।নাবীহাও হাসলো।পিঠে চাপড় মেরে বললো,
“ ওকে খাওয়াও।আমি খাবার দিয়ে যাই এখানে। ঐদিকেও তো দু'টো ন্যাকার ষষ্ঠী আছে!"
“ হুম!"
এদিকে ন্যাকা বলায় আবারও ভ্যাঁ করে উঠলো তুহি।সর্দি মুছতে তাইফের রোজ পিংক পাঞ্জাবিতেই নাক ঘষা দিলো।
“ ইয়াক ছিহ কি করছিস তুই? আমার এত শখের পাঞ্জাবি!"
বলেই তাইফ তুহিকে ছেড়ে দিয়ে পাঞ্জাবি ঝাড়তে লাগলো।আর ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া দেখে তুহি খিলখিল করে হেসে উঠলো।
_____________________________
“ আচ্ছা ফুপি আল্লাহ কবুল করলে ইনশাআল্লাহ দেখা হবে!"
ল্যাপটপের পর্দায় হাস্যোজ্জ্বল সুদর্শন পুরুষ মু'য়ায নিজ ফুফু শ্বাশুড়িকে ওয়াদা করলো কানাডা ক্যাম্পেইনের সময় অবশ্যই ফুফু শ্বাশুড়ির বাড়িতে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করবে।নাবীহা পাশেই বসেছিলো। বহুদিন পর ফুফুর আগমনে বাড়িতে খুশির ফোয়ারা ছুটছে। নাফিসা ভাইপোর আর্মি হওয়ার খুশিতে নিজ কন্যা পুত্রকে ছাড়াই ঢাকা চলে এসেছে। ঐদিকে তার স্বামীর প্রমোশন হয়েছে।তাই তারা আপাতত কানাডা ছাড়ছে না। কানাডায় বাংলাদেশি সংগঠনের সভাপতি হয়েছে নাফিসা। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ।তার মধ্যেও অসুস্থ মা আর শ্রদ্ধার বড় ভাইয়ের জন্য মন পুড়ে তার। ভাইয়ের চার বাচ্চা তার চোখের তারা। তাদের যেকোন খুশিতে সামিল হতে ভীষণ করে মন টানে।তাইতো সুযোগ পেলেই ছুটে আসে সেই সুদূর থেকে এই বঙ্গতে।
গতরাতে এসে পৌঁছায়,এখন বেলা প্রায় দুটো।নাবীহার ফোনে মু'য়ায ফোন দিয়ে সব খবর নেয়।ফুফু শ্বাশুড়ির আগমনের খবরও তার কানে গিয়েছে।তাই কথা বলার জন্য বউকে বলতেই বউ তার ল্যাপটপ নিয়ে ফুফুর সাথে কথা বলিয়ে দিলো।
“ আচ্ছা বউমা কোথায়?"
“ ভাবী ঘরেই আছে বোধহয়!"
“ খাবার টেবিলে দেখলাম না কেন?"
“ তাইফের জন্য ফুফু!তাইফ থাকলে কিভাবে আসবে?"
“ ওহ হ্যাঁ ভুলেই গিয়েছিলাম।যাই হোক মেয়েটা মাশাআল্লাহ বেশ পরহেজগার। আল্লাহ কবুল করুক তার সকল ত্যাগকে।এই বয়সে মেয়েদের কত কিছু করতে ইচ্ছে করে। সেখানে সে একদম পৃথিবী থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছে।তোর মা তো ফোন করলেই শুধু বউয়ের প্রশংসা করে। আমার বউমা এই করে,আমার বউমা সেই করে।তার মুখে বউমার গুণগানের ফ্যানা উঠে যায়।"
“ তুমি তো জানোই ফুফু,আম্মু অমনই।তাকে কেউ সামান্য হেসে কথা বললেও গলে যায়!"
“ হ্যা'রে তোর মায়ের ঐ সহজ-সরলতাই তাকে সবচেয়ে আলাদা করে। ঐরকম বলেই তো কোনদিন মনে হয় নি এটা এখন আমার বাপ মায়ের না,ভাই ভাবীর সংসার। আল্লাহ করুক এই রকম জীবন তোমরাও পাও।"
ফুফুর কথায় নাবীহা মুচকি হাসলো।তাতে বিশেষ প্রাণ ছিলোনা।নাফিসা ভাইঝির ডান হাত নিজের দু হাতের মুঠোয় নিয়ে উপদেশ দিতে আরম্ভ করলো,
“ শোন আম্মা,এক জায়গায় থাকলে ঘটি বাটিতে শব্দ হয়, দু'টো পাখি একত্রে থাকলে তাদের মধ্যেও ক্যাচরম্যাচর চলতে থাকে।আর এখানে তো কিছু মানুষের এক সাথে একটা জীবন কাটানোর বিষয়ে,লাগবেই।সবটা কখনোই পারফেক্ট হয় না। কিছু না কিছু খুঁত থাকবেই। কোথাও না কোথাও অমিল হবেই।এটাই জীবন।মেনে নিয়ে মানিয়ে চলতে পারলেই সবটা সহজ এবং সুন্দর।"
নাবীহা এবারও হাসলো।সে অবশ্য সংসারের জাঁতাকলে এখনো পড়েনি।যতই বিয়ে হোক, হয়েছে তো এক মাত্র পুত্রের মায়ের ঘরে।যেখানে রাণীও সে,চাকরাণীও সে। শ্বাশুড়ির চোখের তারা। শ্বশুরের ভরসাস্থল। স্বামীর সবটা জুড়ে তার রাজত্ব। ভাগবাটোয়ারা কিছুতেই নেই । না ভালোবাসা,না অধিকার,না দায়িত্ব আর না সহায় সম্পত্তিতে।তাই বোধহয় তার আর নূরের সংসার জীবনের অভিজ্ঞতা এক নয়।
_________________________________
“ জানি না মামী মনি।আসলে আপনার ভাগ্নের সাথেই কথা বলিয়েন।আমি এসব বিষয়ে বললেও লাভ নেই। কথা গিয়ে সেই আম্মুর টাই টিকবে।"
গলায় তার ঝাঁঝ। বিরক্ত আর রাগ নিংড়ে নিংড়ে ঝড়ছে।নামিরা ননাস ঝির কন্ঠ অনুধাবন করতে পারলো, বললো,
“ তুমি কি কিছু নিয়ে খুব ডিস্টার্ব ফাতিমা?"
“ না !"
“ কিন্তু তোমার কথায় তো মনে হচ্ছে অন্যটা? কি হয়েছে বলো তো? ও বাড়ির কেউ কিছু বলেছে?আমি যতটা বুঝি অন্তত তোমার শ্বাশুড়ি বউ জ্বালানো মানুষ নয়, তারপরেও মানুষ বদলাতে সময় লাগে না। তুমি মামী মনিকে নিশ্চিন্তে বলতে পারো সোনামনি!"
“ কি বলবো?
কিছুই বলার নেই মামী মনি।এটাকে আমি..আমার ভাগ্য বলেই মেনে নিয়েছি।"
“ মানে কি হয়েছে? কি ভাগ্য বলে মানলে? ঠিক বুঝলাম না! খুলে বলো!"






0 মন্তব্যসমূহ