সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১২৪

 #সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১২৪



[কপি করা/চুরি করা/নিজের ফিডে শেয়ার করা‌ও স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে!দয়া করে এগুলো করবেন না। আপনার ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন।]


গাজী বাড়িতে বহুদিন পর চাঁদের হাট বসেছে। মোল্লা পরিবার,গাজী বংশের সব বয়স্ক, মধ্যবয়সী, তরুণ,কিশোর কিশোরীদের আগমনে গমগম করছে। ছোট্ট ছেলের জীবনের সবচেয়ে বড় একটা ইচ্ছা পূরণ আর বাড়িতে আসায় নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী সবাইকে নিয়ে আনন্দ করতে চায়।তাই সে সবাইকে দাওয়াত করেছে।গাজী পরিবারের একমাত্র বীর পুত্র, একমাত্র ডিফেন্সের লোক নাফিস ওয়াসীত্ব গাজী ওরফে তাইফ বাবু।তাকে নিয়ে সবার মাতামাতি।বংশীয় ব্যাবসায়িক ট্যাগের বাইরে নিজেকে এভাবে পরিচিত করা এই বংশের একমাত্র পুত্র, একমাত্র পুরুষ।নাইফ যেন সবার চেয়ে বেশি খুশি। ছোট্ট ভাইয়ের সফলতা আর জীবনের অন্যতম শুরুতে তার খুশি আকাশ চুম্বী।

বাবার আদেশ পেতেই সে দৌড় ঝাঁপ করে মাত্র একদিনের মধ্যে হ‌ইহ‌ই করে বিশাল আয়োজন করেছে।


বরাবরের মতোই নাসিফ ছেলের এই খুশিতে গোরু জবাই করে নিজে উপস্থিত থেকে বিরিয়ানি রান্না করে অসহায় মানুষদের খাইয়েছে। মিষ্টি বানিয়ে মিলাদ দিয়েছে, এতিমদের মাঝে শীতের কাপড় বিলিয়েছে, অর্থ দিয়েছে এক বিধবাকে।

ছেলেকে নিজের পাশে পাশে রাখছে আর সবাইকে বড়াই করে বলছে,


“ এই দেখো আমার ঘরে এখন একজন লেফটেন্যান্ট রয়েছে। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই তার পদবিতে আরো উঁচু উঁচু শব্দ জুড়বে।"


নাফিস শুধু হাসে মিটিমিটি।বাবার খুশি তাকে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত করে। ছোট্ট থেকেই দেখেছে তার সব বিষয়ে তার বাবার খুশি সবচেয়ে বেশি। ছোট থেকে ছোট বিষয়ে তাকে নিয়ে বাবার আপ্লুত হয়ে উঠা তাকে আরো বেশি আত্নবিশ্বাসী করে তুলে।


“ বাবা, ওদেরকে বলে দিয়েছি সন্ধ্যায় মসজিদে মিলাদ হবে।বাদ মাগরিব।"


“ ঠিক করেছো। আচ্ছা তাহলে যাও ভেতরে যাও, গিয়ে একটু রেস্ট নাও। অনেক খাটুনি যাচ্ছে তোমার উপরে।"


“ খাটুনি কিসের? আমার ভাই আর্মিতে অফিসার পদে সিলেক্ট হয়েছে,এটা তো আমার জন্য গর্বের বিষয়।আর আমি এতটুকু.."


নাইফ এই অবধি বলেই ভাইকে টেনে গলায় লাগালো।নাফিস ভাইয়ের বুকে পড়ে চুপ করে র‌ইলেও মুচকি হাসছে। লম্বায় সে বাপ ভাইকে ছাড়িয়েছে।তাই তাকে বুকে নিতেও তাদের একটু কষ্ট হয়।


নিজ ঘরের বারান্দার শিক দিয়ে পিছনে রান্নার আয়োজনে ব্যস্ত থাকা তিন বাপ পুত্রকে দেখছে নূর।নাইফের হাসিটা তার কাছে ছ্যাবলামি বলেই মনে হচ্ছে।মনে মনে বললো,


“ কলুর বদল একটা।"


“ ভাবী মনি?"


ফেরা দরজা ঠেলে ভেতরের ঢুকতে ঢুকতে নূরকে ডাক দিলো। নূর বিরক্ত হয়ে কপাল কুঁচকে পিছনে ফিরে জিজ্ঞেস করলো,


“ কি চাই?"


নূরের শব্দগুলো যথেষ্ট ঝাঁঝালো ছিলো। অষ্টাদশী ফেরার বুঝতে খুব কষ্ট হলো না। তাও সে নিজের স্বভাব সুলভ হাসি বজায় রেখে জিজ্ঞেস করলো,


“ ভাইয়া কোথায়?"


“ কেন ভাইয়ার কাছে কি চাই?"


এবার‌ও আগের মতো করেই জিজ্ঞেস করলো। ফেরা একটু থমকালো, অতঃপর স্বাভাবিক ভাবে বলার চেষ্টা করলো,


“ ইয়ে মানে আসলে বিকালে তো আমরা সবাই মিলে একটা প্রোগ্রাম সেট করছিলাম সেখানে ভাইয়ার...


“ কেন ভাইয়ার কি আর কোন কাজ নেই তোমাদের ফুটফরমায়েশ খাটা ছাড়া?ও কি এই বাড়ির কেয়ারটেকার যে সবার সব দরকার ওকেই দেখতে হবে?"


“ কি সব বলছো ভাবি,স্যরি আমি আসলে বুঝতে পারি নাই তোমার যে মন খারাপ!"


ফেরা কথা বাড়াতে না চেয়ে এড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বাসী।বড় হয়েছে,তেমনি মানুষের কথার অর্থ বুঝতেও শিখেছে।নূর যে তাকে বিশেষ পছন্দ করে

না সেটা নূরের ব্যবহারে বহু আগেই বুঝতে পেরেছিলো।তাই নূরের এমন ব্যবহারকে মুড সুঁইংয়ের কাতারে ফেলে বেরিয়ে গেলো।যাওয়ার পথে নূরের বিরবির করে বলা কথাটা শুনতে পেলো,


“ যতসব উটকো ঝামেলা।নিজের ঘর বাড়ি ছেড়ে সারাদিন আরেকজনের বাসায় পড়ে থাকে।"




_______________________


“ আমি বলে দিবো ছুটু ভাইয়াকে যে তুমি ক্যাপ পরেছো!"


দিবা,ফর্সা হাতে এক মুঠো লাল চুড়ি,গলায় লাল পুঁতির মালা,লাল ফ্রকে সে লাল পুতুল সেজে বাঁশিওয়ালা জুতো পায়ে গলিয়ে পুরো গাজি বাড়িতে প্যা পু বাঁশি বাজিয়ে হাঁটছে। ঠিক তখনই তার চোখে পড়লো তার মাত্র চার মিনিটের বড় ভাই সামি তার ছোটু ভাইয়া তাইফের ক্যাপ পড়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দুই শিনা উঁচিয়ে গাল ফুলিয়ে বড়দের মতো চোখকে কপালে তুলে কিছু একটা সাজার চেষ্টা করছে।সে প্যা পু বাঁশি বাজিয়ে ঘরে ঢুকতেই সামি পিছনে ফিরে বললো,


“ দিবু এখানে কি করিস? যা এই ঘর থেকে।এটা ছোট ভাইয়ার ঘর।বকা দিবো তোকে!"


নিজে ঘরের মধ্যে সব এলোমেলোভাবে করে ফেলে রেখে দিবাকে শাসাচ্ছে,যেটা দিবার পছন্দ হলো না।

সে কোমরে হাত রেখে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে উক্ত কথাটা বললো।সামি চোখ কুঁচকে বললো,


“ কেন বলবি? তোকে তখন চকোলেট দিয়েছি না?"


“ তাতে কি হয়েছে চকোলেট দিয়েছো তো? তুমি ছোট ভাইয়ার ব্যাগ খুলেছো সবাইকে বলে দিবো।"


বলেই সে দৌড়ে ঘর থেকে বের গেলো।সামি ঠোঁট চেপে একবার পুরো ঘর দেখলো।তাইফের ব্যাগপ্যাক অবহেলায় খাটের নিচেই পড়ে ছিলো।তাইফ তার ঘরে ঢোকায় রেস্ট্রিকশন দিয়ে দিয়েছে।তাই সকাল বিকাল পরিষ্কার করা ছাড়া কেউ এ ঘরে এখন ঢুকে না।সেই ঘরে ঢুকে সব এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে,এটা যদি তাইফ ভাইয়ার কানে যায় তবে নিশ্চয়ই তাকে ঐ বড় রাইফেলটা দিয়ে....সামি পিছনে ফিরে দেওয়ালে আঁটকে রাখা তার ছোট বেলার সেই রাইফেলটা দেখলো। ঠোঁট চেপে চোখের পাতায় ঘনঘন পলক ফেলে ভাবুক ভঙ্গিতে নিচু হয়ে ছোট হাতে তুলতে আরম্ভ করলো সব জিনিসপত্র।মাথায় দেওয়া ক্যাপের কথা বেমালুম ভুলেই গেছে।


____________________________


“ ব‌উমা কোথায় বড় আপা ?"


“ আছে, ঘরেই হয়তো!"


“ আসলো না তো এদিকে।বিবাহীত ছেলের ঘরে যেতে কেমন লাগে?"


“ নাইফ তো ঘরে নেই, যেতে পারো।"


“ না থাক, নিশ্চয়ই কাজ করছে কিছু!"


“ আসলে ও তো এত মানুষের মাঝে বড় হয়নি।তাই একটু আন‌ইজি ফিল করে মেয়েটা। ছোট্ট থেকে একা থাকতে থাকতে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে।এত গ্যাদারিংয়ের সাথে অভ্যস্ত হতে একটু সময়তো অবশ্যই লাগবে ।"


নিজ পুত্র বধূ্র সাফাইয়ে আফিয়া বললো কথাটা।আফিয়ার চাচাতো মেজো জা বললো,


“ বছর ঘনিয়ে আসছে এখনো অভ্যাস হয়নি বলছো? কবে অভ্যাস হবে গো আফিয়া?

আমি তো এর আগেও দু'বার এসেছিলাম,তখন‌ও কিন্তু খাবারের ঘর ছাড়া তোমার ব‌উকে আর কোথাও দেখিনি।তখন কিন্তু এত লোক ছিলো না।"


“ বাচ্চা মানুষ ভাবী।কি বলবো? আপনারা না আসলেও...মানে সারাদিন যখন দুজন থাকি তখন‌ও সে ঘরেই থাকে।কিতাব পড়ে, হাদিস নিয়ে চর্চা করে।বুঝেন‌ই তো পর্দা মেইনটেইন করে, আল্লাহর রহমতে নামাজ কালাম ঠিকঠাক করে।তাই বোধহয় এইসব মহিলা মজলিস মেয়েটাকে টানে না। অবশ্য এটাই তো ভালো‌ বলেন। মহিলাদের আড্ডা মানেই হলো পরচর্চা,গীবত; এগুলো এড়িয়ে যদি জীবনে চলা যায় তাহলে সেটাই তো উত্তম।তাই না?"


“ বুঝলাম তোমার ব‌উমা কামেলদার মানুষ। কিন্তু তাকে এটাও তো বুঝতে হবে শ্বশুর বাড়ির আত্নীয় স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাটাও একরকম দ্বীনি দায়িত্ব?"


“ রাখে তো ভাবি।এই যে আপনাদের জন্য নাস্তা পানির সব ব্যবস্থা সে নিজেই একা হাতে করেছে।এখন যতটুকু পারে করে,মা ছাড়া বড় হয়েছে, অনেক কিছুই বোঝে না হয়তো। ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে বুঝবে!"


“ সেই ভালো আফিয়া।বুঝলেই ভালো। তুমি শ্বাশুড়ি হিসেবে কেমন তাতো জানি না,তবে সত্যি বলতে মা আর ‌ব‌উমা হিসেবে তুমি যে চমৎকার একজন মানুষ তা কিন্তু আমরা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করি। সুতরাং তোমার কপালে কোন হ্যাসেল জুটলে আমাদের খারাপ‌ই লাগবে।তাই বলছি শাক দিয়ে মাছ না ঢেকে মাছকে সুন্দর করে গুছিয়ে রান্না করে ভিন্ন ভাবে পরিবেশন করো।"


সম্পর্কে মেজো জা,তাই আফিয়া বেশি কথা বাড়ালো না। এদের কাজ‌ই হচ্ছে অন্যের হাঁড়ির খবর নিয়ে পড়ে থাকা।নিজ পুত্র বধূর সমালোচনা করতে করতে এরা অন্যের ব‌উকে নিয়েও মাথা ঘামায় যা আফিয়ার স্বভাব বর্হিভূত।


“ এ্যাই রিফা যাও তো গিয়ে ভাবি মনিকে ডেকে আনো। গিয়ে বলবে বড় আম্মু ডাকছে!"


সাফিয়া নিজের ছোট মেয়েকে আদেশ করলো।রিফা পাশে বসেই মোবাইলে গেইমস খেলেছিলো। মায়েদের আদেশ পেতেই সে দৌড় দিলো তা পালন করতে। কিন্তু পথিমধ্যে তার সাক্ষাৎ হলো তার দুই ভাইয়ের সাথে।


“ রিফু আস্তে,পরে যাবি তো!"


নাইফের গায়ের সাথে ধাক্কা লাগলো।তাইফ আগলে ধরে কথাটা বললো।


“ এভাবে হম্বিতম্বি করে কোথায় যাচ্ছিস? আর এই তোর হাতে মোবাইল কেন?"


তাইফ হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিলো।রিফা ফোন ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই তাইফ নিজের হাত উঁচিয়ে চোখ রাঙানি দিলো,বললো,


“ একেবারে কানের উপর দিবো দুটো! সাহস কত বড়, আমার হাত থেকে ফোন নেয়!"


রিফা গাল ফুলিয়ে ছলছল চোখে বড় ভাইয়ের দিকে তাকালো।নাইফ বিশেষ পাত্তা না দিয়ে উল্টো উপদেশের ভঙ্গিতে বললো,


“ ছোট ছোট বাচ্চাদের মোবাইল ফোন টিপতে হয় না।"


“ আমি ছোট বাচ্চা না।আমি এখন থ্রিতে পড়ি!"


বলেই সে হাত বুকের উপর বাঁধলো।তাইফ বোনের এহেন পাকামো দেখে হেসে দিলো।বললো,


“ তাহলে তো খালামনি'কে বলতে হয় ফেরার আগে তোমাকে বিদায় করতে।আফটার অল তুমি এখন বড় হয়ে গিয়েছো!"


ভাইদের সাথে খুনসুটির মধ্যে রিফা ভুলেই গিয়েছে সে কোন কাজে যাচ্ছিলো। ঐদিকে সিনিয়র মহিলাগন...


“ আরে বলো না, ঐ যে মিল্লাত ভাইয়ের বড় মেয়েটা আছে না? ঐ যে সুন্দর করে রোগা পাতলা একটা মেয়ে আমাদের পিছনের বাড়ির?"


ফুফাতো ননাস রুমকির কথায় সম্মতি সূচক মাথা নাচিয়ে আফিয়া বললো,


“ হুম, দেখেছিলাম একদিন আপনাদের বাসায় এসেছিল নুজাইরের বিয়েতে।"


“ হ্যাঁ,ঐ মেয়েটাই।ঐ যে তোমাকে বলেছিলো আন্টি আপনি তো বুটিকস দিতে পারেন।সেই মেয়েটা..."


“ হ্যাঁ কি করেছে?"


“ আর বলো না।বিবাহীত ছিলো,তারপরেও এক প্রতিবেশীর সাথে পরোকিয়ায় জড়িয়ে পড়েছে।"


“ হাহ্ কি বলেন আপা?"


সাফিয়া চমকে গেলো এমনভাবে জিজ্ঞেস করলো।এই আলাপ গড়ালো আফিয়ার পুত্র ব‌উ অবধি...


“ দেখো খবরদারিতে রাখবে।যত‌ই পর্দা করুক আর নামাজ কালাম করুক, ফেরেস্তা তো নয়।

নিজের হাতে একটু একটু করে গড়া সংসার তোমার,এমন কারো হাতে রেখে দিও না যে মর্যাদা দিতে পারবে না।"


আফিয়া কোন উত্তর দেওয়ার আগেই ফোন আসলো নাফিসার।


“ আসসালামু আলাইকুম নাফিসা, কেমন আছো তোমরা?"


******


“ ওহ ,কবে আসবা ?"


*****


“ ফি আমানিল্লাহ্ আসো।আছে তোমার বাপ , অন্তত তিন মাস তো থাকবেই।"


*****


“ হ্যাঁ, ফোন দাও ওর নাম্বারে!"


___________________________


ছাদে সুখ প্রান্তরে'র জমিনে ঢালাও চাদর বিছিয়ে দস্তরখানা বানিয়ে সেখানে সবাই একসাথে রাতের খাবার খেতে বসেছে। নিচে রয়েছে শুধু নূর আর নাবীহা,তুহি,ফেরা,রিফা আর নাবীহার চাচাতো দুই বোন। তারা সবাই বসার ঘরে টেবিলেই বসেছে। তাদের খাবার পরিবেশন করছে নূর।নাবীহা ভাইয়ের ব‌‌উকে সহযোগিতা করছে।


“ আমাকে মাছ দিও না ভাবি।"


তুহি হাত দিয়ে চামচ ঠেকালো।নূর বললো,


“ কেন? তুমি তো এই মাছ খাও!"


“ হ্যাঁ খাই তবে এখন ইচ্ছা করছে না।"


“ ডিম ভেঁজে দিবো তোকে?"


নাবীহা বোনকে জিজ্ঞেস করলো।


“ আমিও ডিম খাবো!"


রিফার আবদার। সে নিজের পাত থেকে ভাত লেগে থাকা মাছের টুকরাটা তুলে মাছের বাটিতে রাখলো। বিষয়টা নূরের খারাপ লাগলো,সে চোখ কুচকে টুকরাটা অন্য একটা বাটিতে রাখতে রাখতে বললো,


“ আশ্চর্য,মাছ রান্না করা হয়েছে সেটা বাদ দিয়ে যখন ডিম‌‌ই খাবে তখন আগেই বলতে। অযথা রান্না করে ফেলে দেওয়াও কেন তোমরা? কিনতে পয়সা লাগে না? খামোখা অপচয়! অপচয়কারী শয়তানের দোসর, আল্লাহ‌ও পছন্দ করেন না এদের।"


বলেই নূর মাছের বাটি নিয়ে ভেতরে চলে গেলো। নাবীহা তো বোনের আবদার শুনে আগেই রান্না ঘরে চলে গিয়েছিল।তাই সে এগুলো শুনতে পায়নি। এদিকে ভাইয়ের ব‌উয়ের ঝাঁঝালো কথা তুহির সহ্য হলো না।সে এগুলোয় অভ্যস্ত নয়। তাও আবার টেবিল ভর্তি কাজিনদের সামনে এভাবে কথা শোনানোয় বেশি খারাপ লাগলো।রাতে সে মাছ খায় না যদি সামনে বাবা অথবা মা না থাকে।কারণ কাঁটা বাছতে তার সমস্যা হয়। এভাবে টাকার খোঁটা সে এ জীবনে শোনেনি।সে তো ঘরের একমাত্র আহ্লাদি।যাকে সবাই মাথায় তুলে রাখে।রাগে,দুঃখে ঐভাবেই খাবার ফেলে নিজের ঘরে চলে গেলো।যেতে যেতে তার চোখের বারিধারা বর্ষন শুরু করলো।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ