সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১৩৫

 #সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১৩৫



[কপি করা/চুরি করা, নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ দয়া করে এগুলো করবেন না কেউ। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন। ধন্যবাদ সবাইকে।]


নাসিফ হাত দিয়ে ছেলেকে থামিয়ে দিলো।


“ শান্ত হ‌ও,কথা বলছি আমি‌।"


নাইফ বাবার কথায় থেমে গেলো। খালেকুজ্জামান নাইফের কথার জেরে নাসিফকেই জিজ্ঞেস করলো,


“ আমি ঠিক বুঝলাম না বেয়াই আপনার ছেলে কি বলতে চাইছে!"


“ সব‌ই বুঝবেন,আমি একটু বলি।আমাকে একটা বিষয়ে একটু পরিষ্কার করেন তো বেয়াই সাহেব!"


“ কোন বিষয়ে?"


“ একটু সময় দিন,নাইফ তোমার বড় খালামনিকে একটা কল দাও তো‌।সেও থাকুক লাইনে ন‌ইলে তো পরে বলবে তাকে অবগত কেন করলাম না!"


নামিরাকে পরপর কয়েকবার কল করার পর রিসিভ হলো‌। যেহেতু এখন রাতের সময় ঐ দিকে তাই ঘুমু-ঘুমু চোখে ক্যামেরার সামনে ভিডিয়ো কলে নামিরা বললো,


“ কি হয়েছে নাইফ,এত রাতে হঠাৎ ভিডিয়ো কল! নূর কি আবার‌ও কোন কিছু বলেছে? আমি তো বললাম‌'ই ওর বাবার সাথে কথা বলবো!"


নামিরার কথায় সুবর্ণা খানিকটা নড়েচড়ে বসলেন, গলার স্বর একটু উঁচিয়ে বললেন,


“ নামিরা তুমি লাইনেই থাকো।আমরা আজ এখানে এই বিষয়ে‌ই কথা বলতে এসেছি। তুমি একটু কষ্ট করে থাকো।"


“ ওহ! সালিশ বসছে না-কি?"


নামিরা একটু কৌতুক করেই বললো,নাইফ কাটকাট গলায় প্রত্যুত্তর করলো,


“ না খালা মনি। কাটছাঁট হতে বসেছে।হয় এসপার নয় ওসপার।"


নামিরাকে লাইনে রেখে কথা শুরু হলো।নাসিফ বললো,


“ হ্যাঁ বলুন,আমার তো মনে হয় আপনারা সবকিছুই জানেন তাই আপনারাই আগে বলুন, তারপর আমি,আমার ছেলে বলবো নে!"


নাসিফের কথার পরিপ্রেক্ষিতে খালেকুজ্জামান বলা আরম্ভ করলেন,


“ এ্যা কি বলবো সেটাই ভাবছি। দেখুন আমাদের কিন্তু অনেক বয়স হয়ে গিয়েছে। সংসার জীবনের অভিজ্ঞতা‌ও অনেক বছরের। আমার আপনার, আমাদের সকলের চুলে পাক ধরেছে। এখন সময়টা বাচ্চাদের। আল্লাহর রহমতে আমাদের ছেলেদের, মেয়েদের‌ও কিন্তু ছেলে মেয়ে হয়ে গিয়েছে।তারাও সংসার নামক আজব খেলায় অংশগ্রহণ করেছে,করছে। সুতরাং এত বছরের অভিজ্ঞতা, ধারণা থেকে অন্তত এটা কিন্তু আমরা সহজেই বুঝি সংসার একেবারেই সহজ কোন বিষয় না।এটা ভীষণ জটিল এবং ভীষণ ভীষণ রকমের বৈচিত্র্যময় প্লেস।এখানে টিকতে হলে, সফলতা অর্জন করতে হলে,ভালো থাকতে হলে সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে।

সংসার আদৌওতে কোন ছেলে খেলা নয়।যে যেভাবে খুশি খেললাম।আরে খেলাতেও তো কিছু নিয়মনীতি থাকে, ফর্মালিটিজ থাকে,কী বলেন তাই না?"


উনার কথায় সবাই মাথা দুলিয়ে সম্মতি দিলো।


“ সেসব মেনে যে খেলতে পারে,যে খেলে সেই কিন্তু ভালো প্লেয়ার হয়।সংসারটাও ঠিক তেমনি। এখানে ভালো একজন সদস্য হতে হলে অবশ্যই সবাইকেই ভালোবাসা দিয়ে থাকতে হবে, ধৈর্য্য থাকতে হবে, সহনশীলতা থাকতে হবে।নচেৎ নিজেও ভালো থাকবে না।অন্যকেও ভালো রাখতে পারবে না।এখন আবার এটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমন কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হয় যে সব... সব রকমের ভূমিকায় কেবলি একজনের থাকাটাই ভালো দেখায় না।একজন‌ই সব ত্যাগ করবে,সহ্য করবে, পরিশ্রম করবে আর বাকীরা শুধু তার সুবিধা নিবে তখন কিন্তু ভারসাম্য থাকবে না।যেকোন ময়দানে টিকতে হলে ভারসাম্য বজায় রাখা ভীষণ জরুরী। সবাইকে পার্টিসিপেট করতে হয়। এতে করে একে অপরের প্রতি আস্থা বিশ্বাস ভরসা টেকস‌ই হয়, সম্পর্ক মজবুত হয়।"


তিনি থামলেন, এরপর আবার‌‌ও বলতে আরম্ভ করলেন,


” এখন এটা তো জানি না আপনার ঘরে কি হয়? কিন্তু যখন আমার মা মরা ভাগ্নিটা ফোন করে কান্নাকাটি করে তখন খুব খারাপ লাগে।কাল ওর বাবা সেই জার্মান থেকে ফোন করে কান্নাকাটি করছে,বলছে তোমরাই চয়েস করে বিয়ে দিলে এখন আমার মেয়ে কান্নাকাটি করে কেন? কেমন পরিবারে আমার মেয়ে দিলে যে আমার মেয়ের সাথে দেবর শ্বশুর শাশুড়ি খারাপ ব্যবহার করে।আমি একটু শকড ই হয়েছিলাম এই ভেবে যে কি বলে? আমরা তো জানিই আপনি, জামাই-বাবা কেমন ভদ্রলোক কিন্তু আপনার পরিবারের কারো দ্বারা এমন কিছু কিভাবে সম্ভব! যদিও আমি এই বিষয়ে সরাসরি এহেন আলোচনা করতে চাই নি। মেয়ে বিয়ে দিয়েছি এটা একান্তই মেয়ের সংসারি বিষয় কিন্তু রাতে জামাই ফোন করে যখন আসতে বললো তখন মনে হলো হ্যা অন্তত একবার সরাসরি এই বিষয়ে কথা বলা দরকার। সঙ্গে আপনাদের সাথেও দেখা হয়ে যাবে।তাই আর কি.."


“ আপনার মেয়ে কান্নাকাটি করেছে, অভিযোগ করেছে কিন্তু কারণ বলেনি? কেন তার সাথে খারাপ আচরণ করেছে তার দেবর শ্বশুর শাশুড়ি?"


সালাহ পাশ থেকে জিজ্ঞেস করলো। সুবর্ণা সুলতানা পাশ থেকে উত্তর করলেন,


“ দেখুন,বয়স তো কম হয়নি। অনেক দেখেছি।আমার নিজের‌ও মেয়ে আছে।তাকেও বিয়ে দিতে হবে। আমাদের আরো বাচ্চা আছে যারা সংসার করছে।দেখে শুনে নিজের অভিজ্ঞতা থেকেও বুঝি যে এসব বিষয়ে আর যাই হোক কেউ নিজের দোষটা দেখে না।বলেও না। সুতরাং আমার ভাগ্নি বললেই আমি বিশ্বাস করে নিবো এমনটাও না আবার আপনি বললেই মেনে চলে যাবো তাও না।আমি অন্তত আমার তরফ থেকে বলতে পারি যা সত্য তাই বোঝার চেষ্টা করবো,যা সঠিক তাই বলার চেষ্টা করবো।আর সবটা সরাসরি শুনবো বলেই তো সেই চিটাগাং থেকে চলে আসছি।"


“ ভালো কথা বলছেন বেয়াইন।"


নাসিফ বললো, এরপর বললো,


“ দেখুন আমি আসলে ব্যাবসায়ী মানুষ।ব্যাবসা ছাড়া সংসারটা খুব একটা ভালো বুঝি না।আমার আসলে বোঝার দরকার‌ই পড়েনি কখনো!সত্যি বলতে আল্লাহর রহমতে আপনাদের সকলের দোয়ায় আপনাদের বেয়াইন একজন চমৎকার মানুষ। তাকে বিয়ে করে এ বাড়িতে আনা ছাড়া এই সংসারে তাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমাকে আর কোন কষ্ট করতে হয়নি।এই যে আমার বড় ছেলে,আমার নাইফ।তখন মাত্র সাত বছরের ছেলে, বাচ্চা ছিলো।সাত বছর! আমার কাছে বাচ্চা হলেও অনেকের কাছেই তখন সে অনেক বড়।এত বড় একটা ছেলের মা হয়েই সে এই বাড়ির ব‌উ হয়ে এসেছে।ঐ টুকু তিন বছরের নাবীহা।যাকে সে প্রথম রাত থেকে বুকের উপর শুয়ে ঘুম পাড়িয়েছে, নিজে না খেয়ে তাদের খাইয়েছে।আমার বলার আগেই কিভাবে যেন সবটা বুঝে নিয়েছে, সবকিছুতেই তার অধিকার ফলিয়েছে, দায়িত্ব পালন করেছে।কোনটাই কিন্তু আমার অথবা আমার পরিবারের কারো শিখিয়ে পড়িয়ে দিতে হয়নি।এখন এত বছর পর এসে কেউ যদি বলে তার যোগ্যতা নেই এই বাড়ির কর্তৃ হ‌ওয়ার তখন তাকে আপনি কিভাবে দেখবেন?

এত বছর লালন পালন করে মা হয়েছে এখন যদি আপনি আশা করেন তাকে মা ডাকবে না,তাকে মায়ের চোখে দেখবে না,তাকে সম্মান করবে না,তার গুরুত্ব থাকবে না তাহলে আপনি কোন বিবেচনায় উপস্থিত মানুষটাকে বিচার করবেন বলেন তো?"


সুবর্ণা আর খালেকুজ্জামান একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো,নামিরা ঘুমঘুম চোখে সব শুনছে,নাসিফ‌ই আবার শুরু করলো,


“ আচ্ছা একটা কথা আমাকে বলুন তো,আপনারা কি বিয়ের আগে আপনার মেয়েকে বলেন'নি আমার বড় সংসার।সে যেই ছেলের ব‌উ হচ্ছে তার পরিবারের সদস্য অনেক?

কি বড় আপা বলেন'নি আপনার ভাগ্নিকে?"


নামিরা নড়েচড়ে উঠলো,একটু ঠিকঠাক হয়ে বসে বললো,


“ হ্যাঁ, বলার কি আছে! ও তো সব জানেই।!"


“ সব জানে এটাতো ফ্যাক্ট না বড় আপা! ফ্যাক্ট হচ্ছে তাক বোঝানো উচিত ছিলো যে আমার সংসার বড়,সংসারের লোক সংখ্যা অনেক।এখানে চাইলেই কেউ একান্ত আমাতে মেতে থাকতে পারে না।আমার ছেলে মেয়েরাও পারে না।এমন পরিবেশে থাকতে হলে মন মানসিকতা বড় করতে হয়‌, ছোট্ট পরিসরে বড় হ‌ওয়া কেউ এমন পরিবারের সদস্য হয়ে বাঁচতে পারে না,এমন পরিবেশ‌ও তাদের সুট করে না।এখন এসে পড়ে অযথা মনমালিন্যের তো মানে নেই!"


“ কিন্তু হয়েছে টা নাসিফ তাই বলো?আমি কিন্তু আফিয়াকে কখনোই নাইফ নাবীহার সৎ মায়ের চোখে অথবা আমার বোনের সতীন হিসেবে দেখিনি। সুতরাং ওর কাছে ভালো থাকবে এই বিবেচনায়‌ই নূরকে আমাদের নাইফের ব‌উ হিসেবে তোমাদের হাতে তুলে দিয়েছি।এখন যদি দুই দিন পর পর নূর কান্নাকাটি করে আর বলে সে এখানে থাকতে পারছে না তাহলে কেমনটা লাগে বলো তো!

এমন তো না যে আমার নাইফটা খারাপ ছেলে হ্যাঁ একটু মা ন্যাওটা সেটা তো বোঝাই যায় কিন্তু তাকেও তো বুঝতে হবে যে এখন সময়টা আগের মতো নেই।আগে জীবনে মা বাবা ভাই বোন‌ সব ছিলো,এখন তো আরেকজন‌ও এসেছে তাকে নিয়েও ভাবতে হবে। সুতরাং কোনদিক থেকে একটু নিজেকে সরিয়ে ভাবতে হবে।আর আমার মনে হয় এতে তোমাদের‌ও ওকে সহযোগিতা করা উচিত।"


“ স্যরি খালামনি,ওর ডিমান্ড অনুযায়ী ওকে নিয়ে একা থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার বাবা মায়ের বয়স হচ্ছে। আমার ভাই এখানে থাকে না। সুতরাং তাদের ভালো মন্দের দেখভাল আমাকেই করতে হবে। তাদের..."


“ সব‌ই ঠিক আছে কিন্তু বাবা তোমার তো আমাদের মেয়ের দিকটাও ভাবতে হবে।"


সুবর্ণা মাঝ থেকে বলতেই আবার‌ও নাইফ বলতে লাগলো,


“ কি‌ ভাববো খালা মনি?ধরেন আপনি আপনার ছেলেকে বিয়ে করালেন এখন আপনার ছেলে ব‌উ চাইছে সে আপনাকে আপনার পরিবারের সবাইকে ভুলে শুধু তাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকুক তখন আপনার কেমন লাগবে? আপনি ছেঁড়ে দিবেন সব?"


“ নূর এমনটা বলেছে? "


“ মুখে বলে না। কিন্তু কাজেকর্মে হাজারবার জাহির করে!"


“ সেটা কিভাবে?"


“ ওর আমার বোনদের থাকা নিয়ে সমস্যা,আমার কাজিনদের উপস্থিতি ওর অসহ্য লাগে,আমার একমাত্র ভাইকে তো ওর জাস্ট অতিরিক্ত বোঝা মনে হয়।এমনকি ও...আমার বোনের খাওয়া নিয়েও খোঁটা দেয়।"


“ এগুলো তুমি দেখেছো নাকি শুনেছো!"


“ আচ্ছা এসব তর্ক বাদ,নাইফ কাল কি হয়েছে তাই বলো তো!কাল তাইফ কেন নূরকে বাজারনি বলেছে? এটি কোন ধরনের ব্যবহার বড় ভাইয়ের বউয়ের সাথে?"


নামিরা মাঝ থেকে বলে উঠলো,নাইফ সেন্টার টেবিলের উপর রাখা মুঠোফোনের দিকে দৃষ্টি ফেলে একটু ঝুঁকে বললো,


“ তাইফ বাজারনি বলেছে সেটা তোমাকে বললেও তাইফের মায়ের যোগ্যতা যে সে নিজের পায়ের নখের সাথে করে সেটা বলেনি? "


“ মানে কি?"


“ মানে খুব স্পষ্ট খালামনি।তোমার নূরের সঙ্গে আমাদের কারো যায় না। তুমি খুব বাজে একটা কাজ করেছো ওমন যোগ্যতা সম্পন্ন মেয়েকে আমার মায়ের পুত্রবধূ করে।ওর কপাল ভালো কাল আমি বাড়িতে উপস্থিত ছিলাম না।থাকলে কাল ও আমার হাতে খুন হতো নিশ্চিত।কাল শুধুমাত্র ওর জন্য আমার মায়ের চোখের পানি পড়েছে।আমার মা হসপিটালে যেতে যেতে বেঁচে ফিরেছে।"


নাইফ উত্তেজিত হয়ে উঠেছে, সালাহ্ হাতে চাপড় দিয়ে শান্ত হতে বললো।নাসিফ ছেলের কাঁধে হাত রেখে বললো,


“ শান্ত হ‌ও।

আমার ছোট ছেলে বড় ভাইয়ের ব‌‌উয়ের সাথে মিসবিহেব করেছে তার জন্য আমি,আমরা ভীষণ লজ্জিত কিন্তু আপনাদের মনে রাখা উচিত আমার ছেলে কে? সে কিন্তু রাস্তায় বড় হ‌ওয়া কোন ছেলে নয়। কিন্তু এরপরেও যখন তার সাথে সেভাবে আচরণ করা হয় তখন কিভাবে তার উত্তর দিবে আপনারাই বলেন তো!"


“ কে করেছে নূর?"


“ মামা আপনি আপনার ভাগ্নিকে জিজ্ঞেস করুন তুহি তাইফ আমার আপন ভাই-বোন হোক কিংবা সৎ ভাই-বোন, তাতে যখন আমাদের কোন সমস্যা নাই তাহলে তার কিসে সমস্যা? সে কেন উঠতে বসতে এগুলোই মাথায় নিয়ে ঘুরে!"


“ দেখো তোমার আচরণের কারণেই করে। মানুষ আপনার মায়ের পেটের ভাই বোনদের জন্যেও এত ভাবে না যতটা ভাবো তুমি নিজের সৎ ভাই-বোনদের জন্য!তোমার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব ওরাই পায়, একজন স্ত্রী হিসেবে নূর‌ও তো কিছুটা ডিজার্ভ করে তাই না বাবা!"


“ তারমানে এটা অন্যায়? আমার মায়ের পেটের ভাই বোন নয় দেখে আমি তাদের নিয়ে ভাববো না?"


“ ভাববে না কেন? অবশ্যই ভাববে! মায়ের পেটের হোক আর না হোক,বাবার সন্তান তো! কিন্তু তারপরেও.."


“ স্যরি টু সে মামী,আমি আর এই বিষয়ে কোন কথা বলতে চাই না। আমার বোঝা হয়ে গিয়েছে জল কোথা থেকে এই অব্দি এসেছে।"


নূরের মামীর কথার মাঝে কথাটা বললো নাইফ। নাইফ উঠে দাঁড়ালো।নাসিফ ছেলের উঠে যাওয়াতে সেদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,


“ কোথায় যাচ্ছো!"


“ স্যরি বাবা।আমার আর কিছু বলার নেই।আমি আমার সিদ্ধান্ত তোমাদের জানিয়ে দিয়েছি।এখন তুমি উনাদের সঙ্গে কথা শেষ করো।"


কথা কাটাকাটি এরপরেও অনেক হলো।নাইফ উঠে গিয়েছে,তাকে আর এই সভায় আনা সম্ভব হয়নি। এদিকে নাসিফ ছোট ছেলেকে ডাকিয়ে সবার সামনে স্যরি বলিয়েছে যদিও তাইফ কথা বলতে বাধ রাখেনি।সেও খুব সুন্দর করে কালকের এবং বিগত দিনে নূরের করা নানা আচরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজের পক্ষে যুক্তি রেখেছে। কিন্তু সব কথার সমাপ্তি ঘটায় আবার‌ও নাইফ এসে,


“ আমি ভেবেছিলাম আর কথাই বলবো না কিন্তু যখন প্রসঙ্গ আপনাদের মেয়ের ভিকটিম সাজা নিয়ে তখন কথা না বলে পারছি না।

আপনাদের মেয়ের প্রধান সমস্যা আমার মা। আমার সৎ মা হ‌ওয়া সত্ত্বেও কেন আমি মায়ের দিকে বেশি ভাবি! তবে শুনুন,মা যদি আমার গর্ভধারিনী‌ও হতো তবেও আপনাদের মেয়ের এই সমস্যা থাকতোই।এটা তার নৈতিক শিক্ষার অভাবে হয়েছে।মা‌ মা'ই হয়।সে জন্ম দিক আর না দিক।আর আমার পরিবারের প্রতি দুর্বলতার বিষয়ে! আমি আজীবন এমন‌ই থাকবো।যদি এটা মেনে আমার সঙ্গে সংসার করতে চায় তবে ইটস ওকে।থাকুক।নয়তো প্লিজ আজ‌ই সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন।আর হ্যাঁ আজ যদি থেকে যেতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই সবার সামনে আমার মায়ের পা ধরে ক্ষমা চাইতে হবে,তাকে স্বীকার করতে হবে সে এতদিন যত খারাপ আচরণ আমার মায়ের সাথে করেছে তার সব কিছুর জন্য সে লজ্জিত।তাকে আমার বোনদেরকেও স্যরি বলতে হবে,আমার ভাইকেও স্যরি বলতে হবে এই মর্মে যে সে অযথাই তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে যেখানে কেউ তাকে কোনভাবেই কষ্ট দেয়নি। এবং ভবিষ্যতেও সে কারো সাথে অযথা বাড়াবাড়ি করবে না।

যদি এসবে সম্মতি থাকে তো এখানে থাকুক নয়তো নিয়ে যান আমি সময় করে তালাকনামা পাঠিয়ে দিবো।আর এ বিষয়ে আমার আর কোন কথা বলার নেই কারোটা শোনার‌ও নেই। জীবন আমার,সেই জীবনে কাকে রাখবো আর কাকে রাখবো না তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার‌ও আমার।"


ব্যস্! কথার শেষ হলো‌।নাসিফ‌ও চুপ হয়ে গেল।সালাহ একবার ভাগ্নেকে ডাক দিতেই নাইফ অনুনয় করে বললো,


“ মামা প্লিজ।অযথা গর্তে ফেলো না।"


সালাহ‌ও চুপ হয়ে গেল।তাইফ পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো,সে শুধু বললো,


“ মন-মানসিকতা না বদলালে আমার ভাই কেন পৃথিবীর কোন পুরুষের‌'ই ভাত খাওয়া লাগবে না। আমার ব‌উ হলে তো অনেক আগেই এই বাড়ির ভাত উঠে যেতো কপাল থেকে।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ