#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১৩৬
[কপি করা/চুরি করা, নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ। দয়া করে এসব কেউ করবেন না। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন। ধন্যবাদ সবাইকে।]
অনেক কথাকাটাকাটির সমাপ্ত নাইফের কথায় সারলেও সুবর্ণা সুলতানার ছেলে তেতে উঠল তাইফের কথায়,গলা উঁচিয়ে বললো,
“ সে আর বলতে,তোমার মতো পুরুষের সঙ্গে আর যাই হোক কোন ভালো ফ্যামিলির মেয়ে থাকবে না।বস্তি থেকে কোন অবলা তুলে আনলে যদি টেকে। তুমি যেমন লো মেন্টালিটির তোমার জন্য তেমনি কেউ!"
সালাহ্ রুখে দাঁড়ালো, উপস্থিত বড় বোন জামাইয়ের তোয়াক্কা করলো না। কঠোর চোখে তাকিয়ে বললো,
“ অন্যের দিকে আঙুল না তুলে সেই আঙ্গুল গুটিয়ে নিজের বাড়ির মেয়েদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া দিন। শ্বশুর বাড়িতে কিভাবে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা যায় সেটা ঠিক করে শিখানো দরকার। আমার বোনের সঙ্গে যদি মিলে থাকতে না পারে তবে দুনিয়ার কারো সাথে মিলে থাকতে পারবে না
আর আমার ভাগ্নের মেন্টালিটি নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করার আগে তার ব্যাকগ্রাউন্ড ঘাটবেন, অহেতুক কথা আর যাই হোক আপনার মতো একজন পেশাজীবীর মুখে শোভা পায় না।"
“ তার মানে আপনি বলতে চাইছেন আপনার ভাগ্নে যেসব শব্দ ইউস করে এগুলো শুদ্ধ?"
“ আমি কিছুই বলতে চাইছিলাম না যদি না আপনি আমার ভাগ্নেকে তার বাবা মামার সামনে দাঁড়িয়ে কটু শোনানোর দুঃসাহস করতেন।
যাই হোক আপনার সাথে আমি কথা বাড়াতে চাইছি না।যেটার সমাধান করতে বসছি সেটার সমাধান আমার বড় ভাগ্নে মানে আপনাদের জামাই দিয়ে দিয়েছে, সুতরাং এরপর আমাদের আর কোন কথা নেই।
কি বলেন ভাইয়া?"
খালেকুজ্জামান এই কথার প্রত্যুত্তরে প্রতিবাদ করে বললেন,
“ এটা কেমন কথা হলো? এসব তুচ্ছ বিষয়েই একদম তালাক!
_ এগুলো সাধারণ ঘটনা, প্রত্যেক পরিবারেই ঘটে। তাই বলে বউ ছেড়ে দেয় কয়জনে? এগুলো তো বউ বেচারির উপর জুলুম করা হয়! তাছাড়াও তুমি মিয়া কথা বলো কেন? বিষয় তোমার বড় ভাই আর তার ওয়াইফের! এখানে তুমি কেন নাক গলাতে যাও!"
তাইফ দাঁত শক্ত করে দাঁড়িয়ে রইলো।নাইফ চলে গিয়েছিল কিন্তু আবারও ফিরে আসে এবং বললো,
“ কারণ বিষয়টা ওর ভাইয়ের জীবনের।মায়ের সম্মানের।আর ওর পারিবারিক শিক্ষা বলে পৃথিবীতে সবকিছুর আগে বাবা মা। তাদের সম্মানের আগে আর কিছু নয়।
ব্যস্ কথা শেষ,দয়া করে এখানে আর কোন কথা তুলবেন না।আমি ধৈর্য্য হারা হচ্ছি।
রুমে যা!"
নাইফ নিজের কথা শেষ করে ছোট ভাইকে আদেশ করতেই তাইফ চলে গেলো।নাইফ নিজেও নিজের রুমে গেল।এখানে উপস্থিত মুরব্বিদের মাঝে এখন নিরবতা বজায় চলছে। মিনিট তিন অপেক্ষা করার পর সুবর্ণা সুলতানা বললেন,
“ আমি আসলে কি বলবো? নামিরা তুমি বলো কি করা যায়?"
“ আফিয়া কোথায়? সব ঝামেলা তো দেখছি ওকে নিয়েই? তাহলে ও এখন কোথায়?ও কি বলে?"
নাসিফ নড়েচড়ে বসল, অতঃপর নিজের গম্ভীর গলায় বললো,
“ আপনি কি ভুলে গিয়েছেন আফিয়া এভাবে পুরুষদের মাঝে বসে না! তাছাড়াও বিষয়টা আফিয়াকে নিয়ে নয়। বিষয়টা আপনার ভাগ্নির যৌথ পরিবার নিয়ে সংসার করা নিয়ে।এখন সেটা নিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে বারবার অন্যের নিকট হেনস্থা হতে দিবো না। অসম্ভব।কাল যথেষ্ট অপমান আপনার ভাগ্নি আমার ওয়াইফকে করেছে। এরপরেও অসম্ভব তার সঙ্গে আমার স্ত্রীর বোঝাপড়া। আমার ছেলে সংসার করলেও আমি তার সঙ্গে আমার স্ত্রীর কোন বোঝাপড়া করতে দিবো না।"
“ এখন তোমরাও যদি বড়রা এমন গোঁ ধরো তাহলে কিভাবে হবে? সবাই অবুঝ হলে সংসার..!"
“ আচ্ছা এতো কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।নূরের বাবাও বলেছে তার মেয়ে নিয়ে যেতে, আপনারাও তাই চাইছেন। তাহলে আর কথা বাড়িয়ে লাভ কি। নূরকে নিয়ে যাচ্ছি। বাকি কথা নয় নূরের বাবা মেইবি খুব শিগগিরই আসছে। কথা তখনই বলা হোক।"
কথাটা সুবর্না সুলতানা বললেন,উনার কথার পরিপ্রেক্ষিতে নূরের মামী বললেন
“মেয়ে নিয়ে যাওয়া তো সমাধান নয়। সমাধান হতে হবে।যদি মেয়ে অন্যায় করেই থাকে, আপনাদের কথাই বিশ্বাস করলাম। আমাদের মেয়েই অপরাধী। কিন্তু তাই বলে ঘরের বউ বের করে দিলেই সমাধান হয়ে যাবে?"
নূরের মামীর কথার মাঝে নম্রতা।তিনি যে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সমাধান চাইছে তাই বোঝা গেলো।নাসিফ উনার দিকে চেয়ে শান্ত কন্ঠে বুঝিয়ে বললো,
“ অবশ্যই বেয়াইন।আপনি উত্তম কথা বলেছেন। আমার নিজেরও মেয়ে আছে, বিয়ে দিয়েছি।তার সঙ্গে এমন কোন ঘটনা ঘটলে আমিও আপনার মতোই বলতাম। এখানে আপনার যুক্তি ফেলে দিচ্ছি না। তবে বলছি আপনি যেমনটা ভাবছেন তেমনটা নয়।আজ বউমাকে নিয়ে যান।ছেলেদের মাথা ঠান্ডা হোক,ঘরের পরিবেশ একটু স্বাভাবিক হোক।আমি একদিন গিয়ে বউমাকে নিয়ে আসবো নে।
কিন্তু সেটা ছেলে যদি চায় আর আপনার মেয়ের যদি সুমতি হয় তবেই।"
নূরকে ডাকা হলো।তার চোখমুখ শক্ত হয়ে আছে।লাল হয়ে আছে নাকের ডগা। কান্না করেছে তার বহিঃপ্রকাশ এটাই।
নূরের মামী বললেন,
“ নিজের ব্যাগপ্যাক করো।মামা বাড়ি বেড়িয়ে আসবে।"
নূর এক পলক পাশেই বসে থাকা শ্বশুরের দিকে তাকালো।নাসিফ শক্ত চোয়ালে অন্যত্র চেয়ে আছে। পর্দার পাশ থেকে আফিয়া সব কথাই শুনেছে।নূর যেতেই সে বেরিয়ে আসলো।পা থেকে মাথা অব্দি খিমারে বদ্ধ।সে বেরিয়ে স্বামীর পাশাপাশি দাঁড়ালো।নাসিফ স্ত্রীর দিকে চেয়ে শুধালো,
“ একি তুমি বেরিয়েছো কেন? শরীরের কি খবর?"
সালাহ্ উঠে দাঁড়িয়ে নিজের আসন ছেড়ে বোনকে বললো,
“ আপা এখানে বসো।"
আফিয়া ভাইয়ের আসনে বসলো স্বামীর পাশে।স্বামীর উত্তরে ধীর কন্ঠে বললো,
“ আলহামদুলিল্লাহ,আগের চেয়ে উত্তম।
_ আপনাদের আলোচনা শেষ?"
“ আর আলোচনা,যা বলার তাই !"
নাসিফ উত্তর করলো। খালেকুজ্জামান আফিয়ার উদ্দেশ্যে কন্ঠ খাদে নামিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ বেয়াইনের নাকি শরীর ভীষণ দুর্বল এখন কি অবস্থা?"
আফিয়া মুখে সুক্ষ্ম হাসি বজায় রেখে উত্তর দিলো,
“ বয়সকালে কত কিছুই তো হয় বুঝেনই তো।তার জন্যই সংসারের হাল বউমার উপর ছেড়ে দিয়েছি।"
“ যাক, আপনার স্বাস্থ্যের জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন সুস্থ রাখেন।"
“ বেয়াইন, আপনি মেয়ে মানুষ। সংসারের প্রধান, আপনি ভালো করেই জানেন সংসার কিভাবে টিকিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু আপনি যখন সংসারের হাল ছেড়ে দিয়েও ধরে রাখেন তখনই কিন্তু ঝামেলা হয়।এটা আপনিও বুঝেন।তাই না?"
সুবর্না সুলতানা বললেন।আফিয়া উনার কথার প্রত্যুত্তরে কড়া কোন উত্তর করলো না। বরং নিজের স্বভাব সুলভ আচরণ বজায় রেখে মৃদু শব্দে বললো,
“ মানুষের বোঝার কি শেষ আছে বেয়াইন? বয়স হলেই কি সব বোঝা হয়ে যায়? আমি অন্তত মনে করি বোঝার,শেখার কোন শেষ নেই। তেমনি আমার নিজের ক্ষেত্রেও তাই।বুঝছি, শিখছি। ভুলত্রুটি হচ্ছে।সবটা মিলিয়েই আমি আছি। কিন্তু সংসারের হাল ধরে ছেড়ে ধরে রেখেছি অভিযোগটা সত্য হলেও সমস্যা নয়।
আমার শ্বাশুড়িও ধরে রেখেই ছেড়ে দিয়েছেন।তাতে কিন্তু সমস্যা হয়নি বরং ভালোই হয়েছে।তিনি আমার ভুলগুলো দেখিয়ে দিতেন, শিখিয়ে দিতেন বলেই আমি সংসারটা করতে পেরেছি।যদি নিজেকেই সর্বেসর্বা ভাবতাম তাহলে বোধহয় পারতাম না।যাই হোক কথায় কথা বাড়ে, মনমালিন্য হয়।তাই আমি কথা বাড়াতে চাইছি না। আপনাদের মেয়ে আমার ছেলের বউ।তার ভালো মন্দ সবটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।তাকে নিয়ে কেউ কটু বললেও আমার খারাপ লাগে যেমন লাগে আমার মেয়েদেরকে বললে।এখন সেটা আপনারা বিশ্বাস করলেও করতে পারেন না করলেও করতে পারেন। কিন্তু তাই বলে সত্য কখনোই মিথ্যা হয়ে যাবে না।
আপনাদের মেয়ে কার কথায়, কেন, কিসের জন্য আমার ঘরে বিভেদ সৃষ্টি করছে তা কেউ মুখে না বললেও আমাদের অনুমান একদম নিছক নয়
কিন্তু নামটা বলতে চাই না।কারণ আমি চাই আমার ছেলে বউ নিয়ে সুখী হোক।ভালো থাকুক। কিন্তু আমার পোড়া কপাল আমার ছেলের বউ তা চায় না।
_ সে আসলেই কি চায় বোধহয় সে নিজেই জানে না।তবে তার কারণে এই প্রথম আমার সংসারে সৎ আপনের শব্দ ঢুকেছে।তার কারণেই কাল আমার ছেলেরা একে অপরকে আঘাত করে কথা বলেছে,আহত হয়েছে।এটা আমি কখনোই ভুলবো না।যাই হোক....( দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে)ঐ যে বললাম কথায় কথা বাড়ে।তাই না বলাই উত্তম মনে করি।ছিলামও চুপ। ছেলে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই চুপ ছিলাম।আমার ছোট বোনের অপমান দেখেও চুপ ছিলাম, আমার ভাগ্নিদের অসহায়, থমথমে মুখ দেখেও চুপ ছিলাম,আমার ছোট মেয়ের কান্না, আমার ছোট ছেলের বিব্রত, লজ্জায়সীক্ত অবস্থা দেখেও চুপ ছিলাম।
আপনার মেয়ে মনে করে তার স্বামীর টাকায় আমার সংসার চলে,তাই সে আমার মেয়েকে খাবার দিতে ভাবে। আমার বোন, ভাই, ভাগ্নির আমার বাড়িতে আসায় তার সংসারে খরচ বাড়ে তাই সে তাদের আসাটা পছন্দ করে না।আমার ছোট ছেলের পাতে বেছে বেছে ছোট মাছ দেয়। যেই অংশ আমি আমার ছেলে তো ভালো কথা ঘরের গৃহকর্মীকেও দেই না সেটাই সে আমার অত বড় ছেলের জন্য তুলে রাখে।
আমার বড় মেয়ে তার নিজের বাপের বাড়িতে থাকছে তাতেও তার মাথা ব্যথা। আমার ছোট মেয়ে মাদ্রাসা থেকে এসে তার ভাইদের কাছে নানা দাবি করে সেটাও সে ভালো চোখে দেখে না। হ্যাঁ মানছি আমার ছোট মেয়েটা একটু বেশিই আহ্লাদি,সে এখনো বুঝতে পারছে না যে তার ভাইয়ের প্রতি এখন তার একটু কম দাবি রাখতে হবে।ভাইয়ের এখন অনেক দায়িত্ব। আচ্ছা না বুঝলেও তুমি তো ওর বড় ভাবী। সুন্দর করে পাশে বসিয়েও তো বুঝাতে পারতে।দুঃছাই ব্যবহার কার সঙ্গে করে? যার সঙ্গে করে সে কি এই বাড়ির পর? ভুলে যায় সে এই বাড়ির সকলের চোখের মনি।সে এই বাড়িরই একজন উত্তরাধিকারী!এই বাড়িরই মেয়ে।এই যে তার চোখে বিঁধে এগুলো সবটাই কেবল আমার দিক থেকে।নাইফের আপন খালাকে নিয়ে কিন্তু তার কোন সমস্যা হয় না। নাইফের আপন খালাতো ভাই বোনদের নিয়েও তার কোন সমস্যা নাই।নাইফের দাদা বাড়ির লোকজনকেও তার ভীষণ ভালো লাগে।তারা আসলে আর নূরকে কিছু বলতে হয় না। কিন্তু নাইফের সৎ মায়ের বাড়ির থেকে যেই আসুক নূরের পছন্দ হয় না।নূরের ছায়াও তখন কোথাও দেখা যায় না। তখন আমার বউমাকে খুঁজে বের করতে হয়।তখন আমার বউমার শরীর খারাপ থাকে তাই সে দরজা এঁটে ঘর অন্ধকার করে শুয়ে থাকে। এগুলো ও কাকে বোঝায়? কার সঙ্গে করে? কিসের জন্য করে? এগুলো কি আমাকে বুঝিয়ে বলতে হবে? আমি বুঝি না? শিশু আমি? চুল কি এভাবেই সব পেকে যাচ্ছে?তার পরেও আমি চুপ ছিলাম আর এটারই অসৎ ব্যবহারই আপনাদের মেয়ে বারবার করে।শুনেন আমি আমার ছেলে মেয়েদের সৎ পর শেখাইনি। যেমনটা আমি কখনো শিখিনি। কিন্তু আপনাদের মেয়ের বদৌলতে আমার ছেলে মেয়েরা সেগুলো শিখেও নিয়েছে বুঝেও নিয়েছে।তার জন্য অবশ্যই আমি কৃতজ্ঞ আপনাদের মেয়ের প্রতি, সে নিজের কাজে সফল, এসব আমাকেও শিখাতে সফল হয়েছে।
কথা তো বলতেই চাইনি কিন্তু নামিরা আপার খোঁচায় না বলেও পারলাম না।তাকে যখন তার ভাগ্নির বিষয়ে জানালাম সে আমাকে বললো এতিম মানুষ পরিবার পায়নি তুমি নিজের মতো বুঝিয়ে নাও। এদিকে সে ঠিকই ভাগ্নিকে নিজেরটা বুঝে নিতে বলে।সে ঠিক কোনটা নিজের থেকে বুঝে নিতে বলেছে তা আমার বোধগম্য হয়নি।যাই হোক যার যেমন শিক্ষা সে তেমনটাই নিজের সন্তানদের শিখাবে এটাই সত্য।তবে আমি বলবো আমি আমার ছেলে মেয়েকে গড়ার শিক্ষা দিয়েছি,সেটা সম্পর্ক হোক কিংবা জিনিস। আমার ছেলের সংসার ভাঙ্গুক এটা আমি কখনোই চাইনি, এখনো চাই না। আপনাদের কাছে শুধু পেটে ধরলেই সন্তান হলেও আমার কাছে পেটে না ধরলেও ঐ নাইফই আমার প্রথম সন্তান,আমার প্রথম মেয়ে ঐ নাবীহাই।
এই যে আমার ঘরের এত এত কীর্তি ঘটছে কখনো কেউ বলতে পারবে,আমার স্বামী যে আমার পাশে শোয়, সে বলতে পারবে? কিন্তু আপনার মেয়ের প্রতিটি কথা জাপান কানাডা জার্মান, গাজীপুর লালমাটিয়া চিটাগাং কোথায় কোথায় ছড়িয়েছে, বলেন তো? কে বলে এসব কথা? এটা কি আসলে ভালো কোন কথা? নিজের ঘরের কথা এভাবে জনেজনে বলে কি প্রমান করতে চায় সে?আমি আজও বলতাম না যদি না আমার ছেলে মেয়ে এভাবে খুনোখুনি হতো। আপনার মেয়ের সুন্দর নাদান চেহারার মাঝে যেই কুৎসিত রুপ লুকিয়ে আমার সংসার ভাঙ্গলো সেটা না ঘটলে আমি কোনদিন এসব বলতাম না।আমি সেসব শ্বাশুড়ি নই যে পাড়া প্রতিবেশী নিয়ে ছেলে বউয়ের বদনাম করে।আমি সেসব শ্বাশুড়ি নই যে ছেলে বউয়ের দরজায় গিয়ে দাঁড়াবে।আমি বিয়ের পর থেকেই এই সংসার তার হাতে তুলে দিয়েছি আর এটাই হয়েছে আমার সবচেয়ে বড় ভুল।না তাকে এই দায়িত্ব দিতাম আর না সে এভাবে আমার ছেলে মেয়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারতো।তাকে শুরু থেকেই যদি বোঝাতাম সংসারটা আমার এবং এখানে কোন তৃতীয় পক্ষের কাজ নেই তবে এসব... এগুলো করার দুঃসাহস কোনদিনই পেতো না।
যাই হোক যা ঘটিয়েছে ঘটিয়েছে এখন এসব নিয়ে কথা বললেও লাভ নেই। ছেলে প্রেম করে তো বিয়ে করেনি। বিয়ে করেছে আমার মতে,আমার পছন্দে।এখন দায়ভার আমারই।আর আমি কোনভাবেই আমার ছেলের মনে দাগ লাগতে দিতে পারি না তার জন্য আমাকে যত কঠিন সিদ্ধান্তই নিতে হয় আমি নিবো।ইভেন আমরা নিয়েছিও।"
আফিয়া লম্বা বক্তব্যের পর এই কথায় থামলো।ওর কথায় সবাই একে অপরের দিকে তাকালো নাসিফ, সালাহ্ বাদে। আফিয়াই আবার বললো,
“ এখন যেমন পরিস্থিতি তাতে করে আমিও বলবো আপনারা বউমাকে নিয়ে কিছুদিন আপনাদের কাছে রাখুন।আমার ছেলের মাথা ঠান্ডা হোক। এরপর আমিই পাঠাবো ছেলেকে। ততদিনে অন্য ব্যবস্থাও করে ফেলবো যাতে করে আপনাদের মেয়ের আর কোন অসুবিধা না হয় বিশেষ করে আমার ছোট ছেলে মেয়ের জন্য।"
কথা এরপরও অনেক হলো।কথা কাটাকাটির সমাপ্তি নাবীহা খাবারের প্রস্তাব দিয়ে টানতে চাইলেও কেউ খেতে আগ্রহী নয়। অনেক জোরাজুরির পর হালকা খেয়ে সবাই উঠে যায়। ঐদিকে নূর...
নাইফ বারান্দায় চেয়ারে গা এলিয়ে বসে আছে। নূর নিজের বোরকার নিকাবে গিঁট দিয়ে স্বামীর পাশে এসে দাঁড়িয়ে নিচু কন্ঠে বললো,
“ আমি যাই!"
নাইফ মুখটা ঘুরিয়ে ফেললো।নূর নাইফের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। কিন্তু তাতে নাইফের বিশেষ ভাবাবেগ দেখা গেলো না।সে নিজের মতোই রইলো।নূর ধীর গতিতে হেঁটে ব্যাগ কাঁধে তুলে বেরিয়ে আসলো।নূরকে দেখে আফিয়া উঠে দাঁড়িয়ে সবাইকে সালাম দিয়ে চলে গেল ভেতরে। বিষয়টা সকলের চোখেই বিঁধলো।নূর যখন তার মামার সাথে বেরিয়ে যায় তখন শুধু তার সামনে নাসিফ ছিলো।নাসিফকে উদ্দেশ্য করে নূর সালাম দিয়ে বললো,
“ বাবা, আসসালামু আলাইকুম।ভালো থাকবেন নিজের যত্ন .....!"
“ হুম হুম নিবো। তুমিও নিজের খেয়াল রেখো।সবার সাথে মিলেমিশে থেকো।"
ব্যস্ এরপর একে একে বেরিয়ে গেল সবাই।
সময় কাটলো আরো দেড় সপ্তাহ....
নাইফ






0 মন্তব্যসমূহ