চড়ুইভাতি । পর্ব_০৫

 #চড়ুইভাতি

#রিমা_আক্তার

#পর্ব_০৫



[নকল/চুরি করা নিষেধ। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন অথবা শেয়ার করতে পারেন।]


মধ্যাহ্ন ভোজ শেষ করেই তৌকির দ্রুত কদমে নিজ কর্মস্থলে পৌঁছায়, এদিকে লিলি সারাদিনের তড়িঘড়ি কাজে ক্লান্ত দেহ নিয়ে বিছানায় বসতেই গা ছেড়ে দেয়।বেশ সময় নিরিবিলি থাকলো নির্জনে।পাশের ঘরের বাচ্চাটা উঁকিঝুঁকি মারছে একটু পর পর,লিলি দৃশ্যটা দেখে মুচকি হাসলো।তার নিজের‌ও দুটো ভাগ্নে আর তিনটা ভাগ্নি আছে, তৌকিরের বাসায়‌ও বাচ্চাকাচ্চা দিয়ে ভরা।তার সকল ভাই বোনের ঘরেই তিন চারটা করে বাচ্চা। লিলির শ্বশুর বাড়ির সকলেই বাচ্চাদের বেশ স্নেহ করে।

লিলি ইশারা করে বাচ্চাটাকে নিজের কাছে ডাক দিলো।বেশ কিছু সময় বিছানায় বাবু হয়ে বসেই বাচ্চাটাকে নিয়ে দুষ্টুমি করলো। অতঃপর

ক্লান্তি খানিকটা কমতেই লিলি উঠে দাঁড়ালো,ঘরের এদিকে ওদিকে তাকিয়ে মনে মনে গুছিয়ে নিলো কোনটা কোথায় কিভাবে রাখবে। তৌকির জিনিসপত্র কিনে কোনভাবে রেখেই যে চলে গিয়েছিল তা বেশ বোঝা যাচ্ছে কিন্তু লিলি একজন নারী,তার ঘর সাজানোর পরিকল্পনা আর তৌকির একজন পুরুষ তার সাজানোর পরিকল্পনা এক হবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু লিলির পক্ষে তো সব সরানো সম্ভব নয় তাই সে শুধু ভেবে রাখলো, এরপর তৌকিরের নিয়ে আসা প্লাস্টিকের ড্রাম গুলোতে সবকিছু ঢেলে রাখলো, খুব সুন্দর করে ঘরটা পরিষ্কার করে নিজেও গা গোসল দিয়ে একদম ঝরঝরা হয়ে আবারও বিছানায় গা এলিয়ে দিলো।তার যে ঘুম হচ্ছে না বিগত রাত গুলোয় তা তার এভাবে বারবার ক্লান্ত হয়ে পড়াতেই জানান দেয়।


সেই ঘুম ভাঙল মাগরিবের আজানের খানিকটা আগে তাও পাশের ঘরের ভাবীর জন্য,তিনি‌ই বারবার দরজায় হাঁক পাড়ছেন।


“ ভাবী,ও ভাবী,উঠেন আজান পড়লো তো! উঠেন একটু!"


গভীর ঘুমে তলিয়ে থাকা লিলি ধরফড়িয়ে উঠলো,বুকের উপর মনে হলো ধিরিম ধিরিম আওয়াজ হচ্ছে,মিনিট খানেক মাথা ধরে চোখ খিচেঁ বসে র‌ইলো, ঐদিকে দরজায় কড়াঘাত থামছে না। কোনভাবে মাথাটা চেপে ধরে খাট থেকে পা ফেললো নিচে। লাফিয়ে উঠায় মাথা ঘুরছে তখন‌ও। ঘুরে পড়ে যেতে নিয়েও খাটের উপর হাত ঠেকিয়ে স্থির হলো,ধীম আওয়াজে বললো,


“ আসছি!"


বাইরের শব্দ থামলো।লিলি গায়ের ওড়না ভালো মতো এঁটে নিয়ে দরজা খুললো,ভাবী বিস্মিত বড় বড় অক্ষিগোলক মেলে বললো,


“ ওহ, আল্লাহ এত গভীর ঘুম! পুরো বাড়ি সজাগ হয়ে উঠলো কিন্তু আপনার খবর নেই!"


লিলি ইতস্তত বোধ করছে,এই সময়ে এত গভীর ঘুমের কারণ বিগত রাত জাগা ছাড়া আর কিছুই খুঁজে পেলো না।নয়তো লিলির ঘুম এত গভীর নয়।সে ভীষণ কান পাতলা মানুষ,তার মা বোন বলতো, ‘ গাছ থেকে একটা পাতা পড়লেও লিলি সজাগ হয়ে পারবে,ওর ঘুম এত পাতলা।' সেই লিলি'ই নাকি দেশে ভূমিকম্প তুলে ঘুমাচ্ছে! মনে মনে বিব্রত হলেও মুখে তা স্পষ্ট হলো না। বরঞ্চ ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কনুই চুলকাতে চুলকাতে জিজ্ঞেস করলো,


“ ভাবী কি জরুরী কিছু.."


“ এ্যাই নেন,ভাই কথা বলবে! সেই কখন ফোন দিয়েছে বেচারা!"


বলেই লিলির হাতের মুঠোয় ফোনটা গুঁজে দিয়ে চলে গেলো।লিলি হাতের মুঠোয় থাকা ফোনটা আর ভদ্র মহিলার কথা বোঝার চেষ্টা করলো কয়েক সেকেন্ড অতঃপর ফোনটা তুলে কানে নিয়ে চেপে ধরতেই অপরপ্রান্ত থেকে ভেসে আসলো ভীষণ গম্ভীর একটা পুরুষালী স্বর,লিলি এই কন্ঠস্বর চিনলেও খানিকটা সময় নিলো বোঝার কারণ আগে কখনো এই কন্ঠমালিকের সঙ্গে ফোনালাপ হয়নি। চিরায়িত নিয়মানুযায়ী‌ই ফোনের কন্ঠস্বর আর বাস্তবের কন্ঠস্বরে খানিকটা এদিক ওদিক থাকে।লিলির নিরবতায় যেন অপর পাশের ব্যক্তিটা আরো বেশি বিরক্ত হলো, মৃদু চেঁচানো স্বরে ভারী গলায় বলতে থাকলো,


“ কি ব্যাপার কি? গুম হয়ে গেলে কেন? নাকি এখনও দাঁড়িয়েই ঘুমিয়ে পড়লা?"


“ না মানে..''


ক্রোধিত কন্ঠস্বরে লিলির বুকটা ধক্ করে উঠলো‌।অপর পাশের পুরুষটার নারাজী স্পষ্ট হলো তার কথায়।লিলি কিছু বলার আগেই তৌকির বলে উঠলো,


“ আছরের নামাজ পড়েছিলে?"


লিলি তো আছরের আজান‌ই টের পায়নি,নামাজ পড়বে কিভাবে? তাই নিরবতা পালন করে নিজের ভুলকে মেনে নিলো। তৌকির এবার খানিকটা বাজখাঁই গলায় বললো,


“ এভাবে পড়ে পড়ে ঘুমালে সংসার উজানে ভাসবে,আর ইবাদত তো...এটা ঘুমানোর সময়? তাছাড়াও এত ডাকেও কেউ কিভাবে উঠে না?"


লিলি এবারও চুপ থাকলো, তৌকির মিনিট এক চুপ থেকে কন্ঠকে শীতল করে বললো,


“ যাই হোক মাগরিবের আজান পড়ে যাবে।নামাজ পড়ে নেও,আর হ্যাঁ....আমার আসতে দেরি হবে।দশটা পার হতে পারে।খেয়ে দেয়ে পড়তে বসো। আবার ঘুমিয়ে পড়ো না।বেশি ঘুমালে সংসারের আয় বরকত কমে যায়।"


“ জি,আপনি ...."


“ অন্যের ফোনে কল করেছি লিলি, কতক্ষন তাকে খাটানো যায়? ভদ্রমহিলা কখন থেকে ডাকছে তোমায়, কিন্তু...যাই হোক রাখছি।কাজ আছে আমার!"


লিলিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই কলটা কেটে দিলো। কানের কাছে চিপকে থাকা যন্ত্র খানির টুটটুট শব্দে লিলি কান থেকে ঐটাকে সরিয়ে নিলো। অপরাধীর ন্যায় মাথাটা নুইয়ে রেখে কিছু সময় কি ভাবলো কে জানে।এর মধ্যেই ভাবী সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন, মুখভঙ্গি প্রতিক্রিয়াহীন, মৃদু গলায় শুধোয়,


“ কথা বলা শেষ?"


লিলি হাত বাড়িয়ে ফোনটা দিলো,তিনিও নিলেন। এর মধ্যেই আজান পড়ে গেলো। দ্রুত পায়ে লিলি বাথরুমে ঢুকে ওযু সেরে নামাজের জন্য তৈরি হলো,সে তার বাড়ি থেকে নামাজের হিজাব, জায়নামাজ নিয়ে এসেছে।তাই বিছিয়ে বসে পড়লো আল্লাহর কাছে হাজিরা দিতে। ওয়াক্তের আগে কাযা সেরে নিলো। অতঃপর নামাজ শেষে জায়নামাজের উপর বসেই দোয়া দরুদ করতে থাকলো।

প্রায় পনেরো মিনিট ইবাদতে পাড় করে নিজের ব্যাগ থেকে হিসাব বিজ্ঞানের ব‌ইটা বের করে হাতে নিলো। ভীষণ অনিচ্ছা সত্ত্বেও ব‌ইটা নিয়েই তাকে বসতে হলো।লিলি বুঝে পায় না চাকরি করতে দিবে না ,বিয়ে হয়ে গিয়েছে তারপরেও কেন তাকে পড়াশোনা করতেই হবে।এই অনুত্তীর্ণ বিষয়ে পাশ করতে‌ই হবে নয়তো যেন তৌকির সাহেবের জাত মান কুল সব যাবে।যদি তাই হয় তবে কেন তার মতো ফেলটুসকে বিয়ে করলো? লিলি অবশ্য এই কথা তাকে শুধিয়েছিলো, সাহেব তার প্রশ্নের বিনিময়ে অদ্ভুত এক হাসি ফিরিয়ে দিয়েছিল যার অর্থ লিলি আজ অবধি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়নি।

ঘন্টা পাড় হলো, ঘন্টার কাঁটা যখন আটে'র ঘরে তখন লিলি ব‌ইটা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো, রাতের জন্য ভাত চড়াতে হবে ভেবেই উঠে দাঁড়ালো,তরকারি সব আছে,তাই ভাত চড়িয়ে সকালের জলখাবার আর তৌকিরের দুপুরের জন্য কি করবে ভেবে নিয়ে তা-ও গুছিয়ে রাখলো কারণ তৌকিরের অফিস টাইম সকাল আট'টা, অর্থাৎ তাকে সাত'টার মধ্যে‌ই ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। সুতরাং লিলিকে অবশ্যই পাঁচটায় রান্না চড়িয়ে সাতটার মধ্যে তৈরি করতে হবে সব। নয়তো প্যাঁচে পড়ে যাবে। লিলি ভাবনা চিন্তার মাঝেই চিকন চিকন করে আলু কুঁচি কুঁচি করে নিলো।

এরপর ভাত নামিয়ে নিয়ে দুপুরের তরকারি গরম করে নিলো। রান্নার পাঠ চুকিয়ে এশারের সালাত আদায় করতে বসে পড়লো,সালাত শেষে দোয়া দরুদ পাঠ করছে এহেন পর্যায়ে বাইরে একাধিক কন্ঠের আওয়াজ শুনে একটু থমকালো।এ ফ্ল্যাটে আপাতত মানুষ বলতে তারা চারজন, তিনজন তারা বড়রা একজন ঐ বাচ্চাটা।লিলির ভাবনার মাঝেই দরজায় কড়া ঘাত হলো,


“ ভাবী, ঘুমিয়েছেন নাকি আবার?"


“ নতুন ব‌উ মানুষ এমন টাইমে ঘুমায়?"


কেউ একজন বলে উঠলো,লিলি দোয়া পাঠ খতম করে জায়নামাজ ভাঁজ করে পাশেই রাখলো খাটের কোনার। ত্রস্ত পায়ে দরজার খিল তুলে ফাঁক করতেই দেখতে পেলো কিছু সংখ্যক মধ্য বয়সী নারীদের হ‌ইচ‌ই।


“ আসেন ভাবী,আপনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।"


লিলি ঘোমটা লম্বা করে নাক অবধি টেনে নিলো। তার হাতের কব্জি অবধি ওড়নার আড়ালে।


“ আসসালামু আলাইকুম!"


উপস্থিত মহিলাগনদের উদ্দেশ্য সালাম দিলো,

তারাও সমস্বরে উত্তর দিলো। অতঃপর একজন মুরব্বি গোছের মহিলা লিলিকে নিজের পাশে বসিয়ে লিলির মুখটা তুলে দেখতে লাগলো,তাতে লিলির ওড়নাটা মাথা থেকে ঘাড়ের উপর এসে পড়লো।


“ ওমা ব‌উ তো ম্যালা সুন্দর‌ই, কিন্তু জামাইটা মনে হয় কালা না?"


কথাটা প্রতিবেশী ভাবীর দিকে চেয়েই জিজ্ঞেস করলো,লিলি আড়ষ্ট হয়ে গেলো। এভাবে থুতনি উঁচিয়ে ধরায় তার প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে গেলো,যেদিন তৌকিরের আম্মা ও ভাবী আর বড় ননদ লিলিকে দেখতে গিয়েছিল, ঠিক এভাবেই নেড়েচেড়ে দেখেছিলো। কিন্তু মনটা খারাপ হলো তার স্বামীকে কালা বলায়। আরেকজন পাশ থেকে বললো,


“ এইডা তো খালা আজীবনের স‌ইত্য কথা,কালো বেডার ব‌উ ধলা হয়।আজকে আরেকবার না হয় প্রমাণ‌ই পাইলেন!"


উনার কথায় মহিলাদের মাঝে হাসির রোল পড়লো,লিলির অপরপাশের মহিলাটা জিজ্ঞেস করলো,


“ তা ব‌উ তোমার বাপের বাড়ি কনে? হ‌উর বাড়ির লগেই নাকি অন্য জিলায়!"


লিলি আড়ষ্ট অবস্থাতেই ধিম গলায়‌ই নত মস্তকে উত্তর করলো,


“ পাশের জিলায়?"


“ বিয়া কেমনে হ‌ইলো? তোমাগো ভাব আছিলো নাকি বাড়ির লোকেই!"


প্রথম মহিলাই জিজ্ঞেস করলো,লিলিও ঐভাবেই উত্তর করলো। আরেকজন বললো,


“ ওহ, শ্বশুর বাড়িতে লোকজন কেমন? বাপের বাড়ি থেকে জিনিসপত্র চাইছে নাকি?"


এত সময়ে লিলি চোখ তুলে চাইলো।ওর ভাসা ভাসা বড় বড় চোখ।চ্যাপ্টা পরিষ্কার কপাল, বিন্দুমাত্র বাড়তি চামড়া নেই কোথাও।গালটাও টলটলা পরিষ্কার। একদম টান টান। ছোট একজোড়া ঠোঁট,হালকা গোলাপি। গোলগাল চেহারার মাঝে ছোট ভোঁতা নাক,তবে খানিকটা চৌখা।সব মিলিয়ে দারুন একটা গড়নে আল্লাহ তায়ালা ওকে সৃষ্টি করেছে। মোটামুটি গড়নের দেহাবয়ব।প্রায় ছয় ফুটের নিকটবর্তী তৌকিরের পাশে পাঁচ ফুটের লিলিকে দারুন মানানোর কথা থাকলেও লিলির উচ্চতা আর তৌকিরের গাত্র বর্ণ লোকের চোখে বিঁধে থাকে।তবে তাতে এই দম্পতির কোন যাতনা আছে বলে এখন‌ও বোঝা যাচ্ছে না।লিলি নিজের দৃষ্টি উপরে রেখে কিয়ৎকাল দেখলো সামনে উপস্থিত মানুষগুলোকে অতঃপর আবার‌ও চোখ জোড়া নামিয়ে নম্রতা বজায় রেখেই বললো,


“ আলহামদুলিল্লাহ সকলেই আছে,আমার শ্বাশুড়ির ভরা সংসার।

আর উনারা কিছু চায়নি, নেয়‌ওনি।"


“ ওহ তাইলে তো আলহামদুলিল্লাহ, অবশ্য মাইয়া সুন্দর হ‌ইলে আর কিছু লাগে না।"


“ হ্যাঁ,অমন কালা ব্যাডা এমন সুন্দর ব‌উ পাইছে এর চাইতে বেশি কিছু আর লাগে?"


“ ঘর সাজানো শেষ ব‌উ?"


চতুর্থ মহিলার প্রশ্ন,জিজ্ঞেস করে নিজেই পা বাড়িয়ে দিলো তৌকির লিলি দম্পতির ঘরের দিকে,তার সঙ্গে সঙ্গে আগ্রহ দেখিয়ে আরো দু'জন গেলো।লিলিও বাধ্য হয়ে তাদের পিছু পিছু নিজের ঘরে ঢুকে বসতে বললো,


“ টুকটাক ভালোই জিনিস কিনছে।"


“ নতুন সংসার, ধীরে ধীরে কিনবে নে।"


“ভাই কি করে?"


লিলির আগেই উত্তর দিলো ভাবী,


“ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারি ,না ভাবী?"


নিজেই উত্তর দিয়ে আবার লিলিকে জিজ্ঞেস করলো,লিলি মাথা দুলিয়ে বোঝালো 'হ্যাঁ!'


তৃতীয় মহিলা ফার্নিচারে হাত বুলিয়ে দেখতে দেখতে বললো,


“ সেগুন কাঠের না। এমনি,নরমাল কাঠ!"


প্রথম মহিলাই বললো,


“ নতুন নতুন সংসার,বোঝে কিছু এরা? তাছাড়াও ব‌উমা তো কিনেনি,কিনেছো তো একা। পুরুষ মানুষ,এসব বুঝে?"


“ কি বলেন খালাম্মা, ফার্নিচার তো বেডারাই বুঝে। বরং মহিলারাই চিনে না।তারা শুধু খুঁজে সুন্দর রং আর নকশা।কাঠ কোনটা কেমন তা তো বেডারাই বুঝে!"


লিলি বুঝতে পারছে না এখন তার কি বলা দরকার? তারা এখানে নতুন,ঘরে কিছু মানুষ এসেছে তাকে দেখতে, তাদের যে আপ্যায়ন করবে তাও তো কিছু নেই।লিলি এগুলো ভাবছে ঠিক তখনই ভাবী চা নাস্তার ট্রে নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে বললো,


“ ভাবী একটু ধরেন তো।পড়ে যাবে।"


ছয়টা চা'য়ের কাপ,একটাতে বিস্কুট আর অন্যটাতে মোয়া।লিলি তাই করলো, পরপর সবাইকে চা দিলো ভাবী।লিলি পাশেই দাঁড়িয়ে থাকলো,সময়ের কাঁটা ঘুরছে।চা মুখে দিয়ে একজন লিলিকে জিজ্ঞেস করলো,


“ ব‌উমার পড়াশোনা কতদূর?"


লিলি এই প্রশ্নে বিব্রত হলো,কি বলবে বুঝতে পারছে না।যদিও তৌকির বলেছে কেউ জিজ্ঞেস করলে বলতে,


” বলবা অসুস্থ থাকায় পরীক্ষা দেওয়া হয়নি,তাই এবার সেটা দিবে।ফেইল করেছো বলার দরকার নেই!"


লিলিও তাই বললো,


“ ইয়ে খালাম্মা, এইচএসসি পরীক্ষা দিবো!"


“ ওমা তুমি তো তাইলে একদম বাচ্চা! তোমার মতো বাচ্চার লগে ওমন দামড়া একটি বেডার লগে বিয়া দিছেন ক্যা তোমার বাপ-মা?"


লিলি এবারও চুপ র‌ইলো,এসবে কি বলবে? তাও মুরব্বিদের সাথে! তৃতীয় জন বললেন,


“ কত কারণ থাকে! বাপ মা তো আর গর্তে ফালায় দিতে পারে না।"


“ তা তো অবশ্যই। কিন্তু এই যে পরীক্ষাটা না দিতে দিয়াই মাইয়াডারে বিয়া দিয়া দিলো তা কি ভালো বাপ মায়ের কাম? তা-ও যদি দিতো কোন সরকারি চাকরিওয়ালা দেখে তা-ও বলা যেতো সরকারি চাকরি দেখে পটে গেছে,সেই তো দিছে বেসরকারি চাকরিওয়ালার কাছে তাও ওমন বুম্বা দেখে!"


কথা শেষ করে নিজেরাই হাসতে থাকলো।লিলির ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিল এসব কথায়, কিন্তু কিছু বলতেও পারছে না এমন অযৌক্তিক, অহেতুকভাবে অনাধিকার চর্চায়। তাছাড়াও সে নতুন ব‌উ, নতুন পরিবেশ নতুন মানুষের সামনে বেফাঁস কিছু বলে শুরুতেই তিক্ততার সম্পর্কে জড়াতে চাইছে না।সে চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করলো।


এরকম নানা কথায় লিলিকে তারা নিজেদের কাছেই আঁটকে রাখলো, লিলিও তাদের পাশে বসেই একের পর এক অহেতুক প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকলো।


কখন যে ঘড়ির কাঁটা দশটা পেরিয়ে এগারোটা ছুঁই ছুঁই হলো তা কেউ বুঝলোই না। কলিং বেল বাজার শব্দে এই আসরে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলো।


ভাবী গিয়ে দরজা খুলতেই তৌকিরের ক্লান্ত শ্রান্ত মুখটা সামনে দেখলো,তিনি হাস্যোজ্জ্বল মুখে দরজা থেকে সরে লিলির দিকে চেয়ে বললো,


“ ভাবী আপনার সাহেব চলে আসছে!"


লিলি চট করে উঠে দাঁড়ালো, তৌকির সাহেব আগেই বলেছিলো তার মহিলাদের এমন আড্ডাবাজি পছন্দ নয়। এগুলো মূলত অন্যের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করার কারখানা।এদের প্রধান কাজ‌ই হচ্ছে কার ঘরে কি চলে তা নিয়ে কীর্তন গাওয়া, অহেতুক বিষয় নিয়ে গীবত চর্চা করা।লিলি উঠে দাঁড়ালো,তা দেখে অন্যরাও দাঁড়িয়ে পড়লো। ততক্ষণে তৌকির নিজের ঘরে ঢুকে পড়েছে।ঘরে এত মহিলা মানুষ দেখে ভরকে গেলো। পরক্ষনেই তার নিজের মহিলাকে দেখতে পেয়ে স্বস্তির সঙ্গে অস্বস্তিতে পড়লো। কারণ তার ভেতরে অজানা কিছু খচখচ করলো, মন জিজ্ঞেস করলো,


“ ঠিক আছে লিলি?"


লিলি নিজ ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তৌকিরের হাত থেকে পলিথিনের ভারী ব্যাগটা নিলো। মহিলাদের দিকে তাকিয়ে মৃদূ হাসলো, অতঃপর নিজের মতো করেই ঘরের ভেতর গিয়ে খাটের নিচে এক কোনায় রাখলো তা।


“ আসসালামু আলাইকুম।"


তৌকির সবার উদ্দেশ্যে দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে সালাম দিলো।সে ভেতর ঢুকার জন্য অভিপ্রায় দেখালেও ঢুকতে পারছে না অস্বস্তিতে।মহিলারা একেক জন উঠে দরজার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললো,


“ আচ্ছা ব‌উ‌মা আসি গো হ্যাঁ, আরেকদিন আসবো তুমিও যাইও আমাদের ঘরে।এই যে সামনের ফ্ল্যাট‌ই আমাগো।"


সবাই নিজের ফ্ল্যাটের কথা‌ বললো। তৌকির ভদ্রতার সহিত উনাদের উদ্দেশ্য বললো,


“ আরে যাচ্ছেন কেন বসেন বসেন।লিলি নাস্তা পানি তো দিতে পারোনি তাই না, উনাদের বসাও আমি আসছি।"


“ এ্যাই না না‌ বাবা,আজকে না।এই যে এই ঘরের ব‌উমা খাইয়েছে।"


“ তাতে কি ,আপনি আমাদের ঘরে তো...


“ আরেকদিন খাবো ইনশাআল্লাহ, তুমি বাবা রেস্ট নাও।এত খাটাখাটুনি পরের কাজে...আসি গো ব‌উ।যাইয়ো আমাদের বাড়ি।"


বলেই সবাই চলে গেলো।

তৌকির ঘরে ঢুকে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বললো,


“ কি করছিলে?"


লিলি তৌকিরের শার্টের শেষ বোতাম খুলে দিয়ে শার্টটা নিজের হাতে রেখে বললো,


“ কিছু না,উনারা আসলো গল্প করতে তাই!"


“ আচ্ছা, পড়াশোনা করছো?"


“ জ্বী!"


“ ঘুম হয়েছে, শরীর ভালো?"


“ জ্বী আলহামদুলিল্লাহ!"


“ আচ্ছা, লুঙ্গি দাও।আর...ব্যাগে দেখো ছোলা বুট আছে,ঐটা ভিজিয়ে রাখো সকালে খালি পেটে খাবো!"


লিলি তৌকিরের দিকে কৌতুহলী চোখে চাইলো,তার চোখের প্রশ্ন তৌকির বুঝলো,


“ সুন্দরী ব‌উয়ের পাশে ভুঁড়ি নিয়ে চলতে লজ্জা করে। কোনদিন যেন ব‌উ বলেই দেয় ভুঁড়িওয়ালা জামাই তার পছন্দ হচ্ছে না।"


লিলি তৌকিরের কথায় ফিক করে হেসে দিলো। এরপর একটু এগিয়ে এসে বললো,


“ কথাটা মন্দ বলেননি।"


বলেই অর্ধ উলঙ্গ তৌকিরের পুটুলির ন্যায় ভুঁড়ির উপর হাত বুলিয়ে দিলো। তৌকির ফ্যাকাশে চোখে তাকিয়ে রইল। অতঃপর লিলির পাতলা পেটানো পেটটা নিজের ভুঁড়ির সাথে চেপে ধরে কোমরের নিম্নাঙ্গে দুষ্টু হাত বুলিয়ে বললো,


“ চলো তোমাকেও আমার মতো ভুঁড়ি বানিয়ে দেই।শুনেছি পেটে পেটে ঘষাঘষিতে নাকি পেট বাড়ে?"


কথার অর্থ বুঝে লিলির বদন রক্তিম বর্ণ হয়ে উঠলো।ওর কান গাল গরম আভায় রাঙা বধূর ন্যায় উষ্ণতায় জড়িয়ে ধরলো। তৌকির আরো গভীর ভাবে ছুঁয়ে লিলির কানে ফিসফিস করে বললো,


“ ছোলা খেলে শুধু ভুড়িই কমে না, সঙ্গে পুরুষত্ব‌ও বাড়ায়।তাই রোজ নিয়ম করে খাওয়াইও,যেন কখনো তোমার দেহের সঙ্গে তাল মেলাতে ভাটা না পড়ে।"


লিলির সারা অঙ্গে দুলুনি খেয়ে গেলো। অস্থিরতা চেপে ধরলো। তৌকির লিলিকে চেপে মিশিয়ে নিয়ে বললো,


“ এশারের নামাজ পড়ছো?"


লিলি লজ্জায় শব্দ তুলতে পারলো না তবে মাথা উপর নিচ করে বুঝিয়ে দিলো। তৌকির উত্তর বুঝতে পেরে বললো,


“ তবে লেইট হলে সমস্যা হবে না।চলো একসাথে গোসল করবো।"


বলেই লিলিকে কোলে তুলে নিলো।পাতলা দেহখানি শক্ত পোক্ত সুঠাম সৈষ্ঠবের তলে গুটিয়ে গেলো। তৌকির ধৈর্য্য হারা হয়ে লিলির ঠোঁটে ঠোঁট চুবিয়েই গোসলে ঢুকলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ