সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১৪৮_বর্ধিতাংশ

 #সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১৪৮_বর্ধিতাংশ



[কপি করা/চুরি করা,নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ। দয়া করে এগুলো করবেন না কেউ। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন। ধন্যবাদ সবাইকে।]


রাত যখন আটটায় পেরিয়ে যায় তখন নাসিফ আফিয়াকে নিয়ে ঘরে ফিরলো।এর মধ্যেই খালপাড়ের মসজিদে সালাত আদায় করে নেয়।তখন আফিয়ার সঙ্গী হয় কিছু তরুনী মেয়ে যারা বান্ধবীদের নিয়ে আড্ডা দিতে এখানে এসেছে।


বাড়ির দোড়গোড়ায় পা রাখতেই কেমন যেন ঠেকলো। ভেতরে অনেক মানুষের কন্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে।তারা তাড়াহুড়োয় খেয়াল‌ই করেনি গ্যারেজের বাইরে খালি উঠানে অনেকগুলো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।


দরজার পাল্লায় ধাক্কা দিয়ে পা দিতে দিতেই এক সাথে সবাই বলে উঠলো,


“ হ্যাপী এনিভার্সারি দাদা দাদী।"


আফিয়ার চোখটা ছলছল করে উঠলো,নাসিফের চোখ‌ও ভরে উঠলো। একসাথে সেই ইদে সবাই তাদের কাছে এসেছিলো এরপর তো অনেক দিন, অনেকগুলো মাস কেটে গেলো। কিন্তু কারো সময়‌ই হলো না তাদের কাছে এভাবে আসার!


ফুল,পপাটস পেপার দিয়ে মুহূর্তে ঘরটা ভরে গেলো। বেলুন দিয়ে সাজিয়েছে।তাও ফুটাচ্ছে।


নাইফের নূহা,চাঁদ,তাইফের তাজ,জাদ,তুহির সহি,ফাতহি, নাবীহার ত্বোহা আর মাহা। নেই শুধু তাইব।সেও অনলাইনে দাদা দাদী কে দেখছে আর চেঁচাচ্ছে।


সবাই এসে হুমড়ি খেয়ে পড়লো আফিয়ার কোলে। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তুলে নিলো।দুরে মা বাবা আর বাচ্চাদের খুশি দেখছে তাইফ, নাইফ সহ তাদের সহধর্মিণীর আর বোনেরা ও তাদের স্বামীরা।


মিনিট কয়েক পেরুতেই তাইফ এগিয়ে এসে বাচ্চাদের থেকে মা বাবাকে ছাড়িয়ে নিয়ে ভেতরে ঢুকতে সহযোগিতা করলো।পরণে তার ইউনিফর্ম। নিশ্চিত ডিউটি টাইমে কিছু সময় চেয়ে নিয়েছে উধ্বর্তন অফিসারের থেকে।


পঁয়তাল্লিশ পেরুনো তাইফের কানের গোড়ায় কাঁচাপাকা চুল উঁকি দেয়।কপালের সামনের‌ চুলগুলো‌ও অনেকখানি সাদা হয়ে উঠেছে।আফিয়া নয়ন ভরে দেখে ছেলেকে।মন ভরে আদর দিয়ে কাঁদলো ছেলেকে জড়িয়ে।আজকের দিনেই তো এই ছেলের জন্য বেশি কান্না পায় তার। আজকের দিনটা এসেছিলো বলেই তো এই ছেলের মুখটা দেখতে পেরেছে সে।তাইফ‌ও বৃদ্ধ,বয়সের ভারে নুয়ে পড়া জননীর গলায় মুখ লাগিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। শুভেচ্ছা জানায়,


“ শুভ বিবাহ বার্ষিকী আম্মা। আজকের দিনটা ছিলো বলেই আমি তোমাকে, আব্বাকে পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ,আমরা খুবই খুশি তোমাদের মতো মানুষের সন্তান হয়ে।"


তাইফের পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বোনেরাও মা'কে জড়িয়ে ধরে কাঁদল, আদর দিলো। অতঃপর সবাই বাবার দিকে ছুটলো,নাসিফ চোখ মুছছে।


তাইফ বাবার গলা জড়িয়ে বুকে বুক মিলিয়ে বললো,


” শুভ বিবাহ বার্ষিকী বাবা। আপনাদের একশো বছর বিবাহ বার্ষিকী সেলিব্রেট করবো ইনশাআল্লাহ!"


নাসিফ ছেলের পিঠ চাপড়ে বললো,


“আল্লাহ সেই অবধি সবাইকে আয়ু দিক।"


নাবীহার চুলে মেহেদি লাগায়।তাই তার সাদা চুলগুলো লাল হয়ে গেছে ঠিক তেমনি কালো চুলগুলো চকচক করছে

সে মায়ের হাত ধরে কেবল চেয়ে র‌ইলো আর নিরবে পানি ছাড়ছে। তুহি মায়ের গাঁয়ে গাঁ ঠেকিয়ে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।নাবীহা অনেক সময় পর বললো,


“ লোকে বলে সৎ মা! আমি আজ অবধি এই শব্দটার সাথে পরিচিত না।আমি শুধু বুঝি মা!তুমিই আমার মা।আমাকে কে জন্ম দিয়েছে তা জানি না,জানতেও চাই না।আমি শুধু জানি মা বলতে আমি একজনকেই এই পৃথিবীতে পেয়েছি এবং সে তুমি। আমার সকল রোগের মহাষৌধ তুমি মা। সেদিন যদি বাবা সাহস করে একটা নতুন ব‌উ না আনতো তবে হয়তো আজীবন আমাকে আর ভাইয়াকে মা ছাড়াই থাকতে হতো।আমি কৃতজ্ঞ সেইদিনটার প্রতি,আমি কৃতজ্ঞ আল্লাহর প্রতি যিনি আমার বাবাকে সুমতি দিয়ে আবার নতুন শুরু করার বুদ্ধি দিয়েছিলেন।আমি কৃতজ্ঞ আল্লাহর প্রতি, সহস্রাধিক বার কৃতজ্ঞ,অফুরান কৃতজ্ঞতা আল্লাহর প্রতি জানাই তোমাকে আমার মা করে পাঠানোর জন্য, তোমাকে আব্বাকে আমার, আমাদের জীবনে আনার জন্য।আমি আল্লাহর কাছে কোনদিন শুকরিয়া আদায় করে শেষ করতে পারবো না তোমাদের সন্তান হিসেবে আমাকে দুনিয়ায় পাঠানোর জন্য।

তুমি বহুবছর বেঁচে থাকো মা, আমার মা হয়ে বেঁচে থাকো, আমাদের আম্মা হয়ে থাকো। আমার আব্বার পাশে পাশে তোমাকে আজীবন আমৃত্যু দেখতে চাই।

অনেক অনেক অভিনন্দন আম্মু আমাদের জীবনে আসার জন্য।আজকের দিনটা( যেকোন বার্ষিকী) পালন করা বেদাত কিন্তু আজকের দিনটা মনে না রাখলেও আমি নিজেই নিজেকে অকৃতজ্ঞ বলে গালি দিবো।"


আফিয়া বড় মেয়ের দুই গালে ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো।তুহি মায়ের গালে গাল ঘষতে ঘষতে বললো,


“ বুবুন সব বলে দিয়েছে আম্মু; আমার জন্য কিছু রাখেনি।তাও একটু বানিয়ে বলছি,আমাকে এত কষ্ট করে দুনিয়ায় আনার জন্য তোমাকে অনেক ভালোবাসা,আমাকে এত কষ্ট করে মানুষ করার জন্যেও অনেক ভালোবাসা,বাবার আদরের চেয়ে বেশি আমি তোমার শাসনে বড় হয়েছি। শাসন করে দুনিয়ায় বাঁচা শিখিয়ে দেওয়ার জন্য ভালোবাসা, আমার আব্বুর জীবনসঙ্গী হয়ে আমাকে তিনটা চমৎকার বড় ভাই-বোন দেওয়ার জন্য ভালোবাসা।

তুমি কখনো আমার বাবাকে ছেড়ে যাবে না,আমরা তোমাকে ছাড়া বাঁচতে শিখলেও আমার বাবা কিন্তু শিখেনি।তাকে রেখে কখনো ফাঁকি দিও না কিন্তু। তুমি সবসময় সুস্থ থাকো এই দোয়া ছাড়া আল্লাহর কাছে তেমন চাওয়ার কিছু নাই। আল্লাহ তো জন্ম থেকেই সব দিয়েছে।"


আফিয়া ছোট মেয়েকেও আদর দিলো। তুহি মায়ের পাশেই দাঁড়ানো বাবার দিকে ছলছল চোখে চেয়ে বাবার বুকের উপর মাথা রেখে বললো,


“ আমার বাবা সবসময় এমন‌ই চিরসবুজ থাকুক।আমি এটাই শুধু দোয়া করি আল্লাহর কাছে।"


নাইফ দূরে দাঁড়িয়ে আছে।আফিয়া বড় ছেলের সিক্ত হাসি দেখে হেসে দিলো কান্নার মধ্যেও।হাত বাড়িয়ে ইশারা করতে নাইফ এগিয়ে আসলো।বাবার মায়ের হাত ধরে সোফায় নিয়ে বসিয়ে দিলো

অতঃপর দুজনের সামনে মাটিতে আসন গেড়ে বসে বললো,


“ এভাবেই থেকো। সুস্থ সবল সতেজ! একসঙ্গে, পাশাপাশি।এই জোড়া আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সুখী জোড়া।আমি এই জোড়া এভাবেই দেখে অভ্যস্ত।আমি রোজ সকালে এই মুখ দুটো না‌ দেখে যাত্রা শুরু করতে পারি না এটা কখনো ভুলে যেয়ে আমাকে ফাঁকি দিও না!"


চুল তো ভালো কথা, দাঁড়ি গোঁফেও পাক ধরেছে নাইফের।চোখে ভারী গ্লাসের চশমা।তা ছাড়া সে এখন চোখেই দেখে না।আফিয়া বড় ছেলের মাথাটা টেনে নিয়ে চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিলো।নাইফের পুরো মুখটা ভিজে গেলো।তাও সে খুশিতে হাসছে।

নাসিফ ছেলের কাঁধে হাত রেখে চোখের পানি ছেড়ে দিলো।তার কান্না সবাইকে তো দেখায় না।তবে বড় ছেলে তার সব রকম রুপ চিনে।এই ছেলের সামনে নিজেকে মেলতে তার দ্বিধা নেই।নাইফ বাবার গলায় লেগে বাবাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,


“ থ্যাংকিউ বাবা, আমাদের জন্য একটা চমৎকার মা আনার জন্য। আমাদের জীবনটা তোমার ছায়াতলে রেখে নিরাপত্তা আর নির্ভয়তার ছায়ায় রাখার জন্য। আমাদের জন্য নিজেকে শেষ করার জন্য। আমাদের জন্য ন্যায় অন্যায়কে প্রতিহত করে লড়াই করার জন্য। আমাদের বাবা হবার জন্য থ্যাংকিউ। আমাদের মাথার ছাঁদ হ‌ওয়ার জন্য থ্যাংকিউ।

আল্লাহ তোমাদের উত্তম উপহার হিসেবে সবটুকু দিক যতটা তোমরা পাওনা।"


ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে বসে মা বাবার হাত ধরে বললো,


“ এই জোড়া আজীবন আমাদের মাথায় থাকুক।"


এদের কান্নাকাটিতে সমাপ্তি টানলো নাজিফা।সে এগিয়ে এসে বললো,


“ হয়েছে বাবা এবার সবাই থামো।আমরা এসেছি এখানে আনন্দ করতে।তা না করে বাবা আম্মুকে কাদাচ্ছো কেন?"


নাইফ মায়ের কোলে মাথা রেখে বললো,


“ আর কাদাবো না।শেষ।"


“ তোমরা একটু পাশাপাশি দাঁড়াবে প্লিজ! ছবি তুলবো!"


ত্বোহা বললো।তার কথায় সবাই সম্মতি দিয়ে ছবি তুলতে রাজী হলো।


আগে মা বাবার সাথে বসবে তার চার সন্তান। ঠিক সেভাবেই ছবি তোলা হলো।

এরপর মেয়ে জামাই আর ছেলের ব‌উদের নিয়ে। এরপর পুরো পরিবার মিলে, অর্থাৎ নাতি নাতনিরাও।


ছবি তোলা শেষ করে মাহা দেখলো তার দাদীর ছোট ব্যাগটাতে একটা ফুলের তোড়া।সে সেটা বের করে চেঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,


“ নানীকে নানা ফুল দিয়েছে!"


এতে সব বাচ্চারাই একসাথে উৎফুল্লিত হয়ে চেঁচামেচি করতে আরম্ভ করলো ফুলটা ছোঁয়ার জন্য কিন্তু মাহা কাউকে দিবে না। এদিকে চাঁদ চেতে গেলো কেন তাকে না নিয়ে দু'জন বেড়াতে গিয়েছিলো,যদি হারিয়ে যেতো।তখন কি হতো? আফিয়া নাতি নাতনির কান্ডে লজ্জা পাচ্ছে।এসব দেখে নাইফরা অন্য পাশে সরে বসেছে।তারা নিজেদের মতো গল্প করছে।নাজিফা,নূর সবার জন্য খাবার সাজাচ্ছে।নূর জানতো আজকের এই পরিকল্পনা,তাই সে নিজের ঘরে সবটা তৈরি করে রেখেছিলো।এখন শুধু নিচে নিয়ে আসছে।মাহার থেকে ফুলটা ছিনিয়ে নিলো সহি। নিয়ে আবার বড়াই করে বলছে,


“ নানীর ফুলে আমার ভাগ বেশি কারণ এটা নানা দিয়েছে!"


ফুলেও ভাগ।এসব নিয়ে হাসাহাসি চলছে গাজী পরিবারের মধ্যবয়স্ক সদস্যদের মধ্যে।নাসিফ উঠে দাঁড়িয়ে নাতির হাত থেকে ফুলটা ছিনিয়ে নিলো। অতঃপর আবারও আফিয়ার হাতে গুজে দিয়ে বললো,


“ এটাতে কারো ভাগ নেই।এটা শুধু আমার গিন্নির।

এখানে কারো অংশ নেই।আসছে, আজীবন সেবা করবে একজন আর আদরের ভাগ নিবে অন্যজন!"


এই নিয়েই নাতনিদের সঙ্গে তার খুনসুটি শুরু হয়।এসব থেকে রক্ষা পেতে আফিয়া উঠে দাঁড়িয়ে রান্না ঘরে গেলো।তাকে দেখে নূর বললো,


“ আম্মা কিছু লাগবে?আমি দেই,আপনি বলেন!"


“ না কিছু লাগবে না কিন্তু কি করছো এত তোমরা? আর আগে কেন বলেনি বলো তো! আমি রান্না বান্না করে রাখতাম।কি একটা ব্যাপার হলো এখন?"


“ সমস্যা নাই আম্মা।আমি সব তৈরি করেই রেখেছিলাম,এটি আপনার ছেলেদের ,মেয়েদের তরফ থেকে সারপ্রাইজ ছিলো। আমিও জানতাম তাই সব আগেই গুছিয়ে রাখছি।আপনি গিয়ে খিমার খুলে আরাম করেন আমি সব তৈরি করা ডাকছি।"


আফিয়া বড় ছেলের ব‌উয়ের কথার পিঠে আর কথা বললো না। সময়ের তোরণে সব স্বাভাবিক ভাবেই চলে।নূরের মাঝেও অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। আগের মতো হম্বিতম্বি এখন আর নেই। প্রায়ই রান্না করে আফিয়াদের জন্য পাঠিয়ে দেয়।সময় পেলেই খোঁজ নিতে নিচে নেমে আসে। ওষুধ পত্র গুছিয়ে দিয়ে যায়। কোনটা আছে কোনটা নেই তাও দেখে নেয়।কাজের লোককে ধমকে ধামকে ভালো করে ঘরদোর পরিষ্কার করতে বলে যায়।বেশ যত্নশীল হয়ে উঠেছে যদিও আগেও ছিলো তবে তা যেন এখন বেড়েছে।


আফিয়া পা ফিরিয়ে চলে যেতে গিয়েও পিছনে ফিরে নাজিফাকে ডাক দিলো,


“ ছোট ব‌উমা!"


নাজিফা কিছু একটা নাড়ছে,সে তড়াক করে চোখ ফিরিয়ে সাড়া দিলো,


“ জি মা!"


“ এ্যাই তোমার মায়ের খবর কি বলো তো? ফোন দিলে ধরে না কেন?"


“ সে আপনি গিয়ে আপনার ননদকে জিজ্ঞেস করেন। আমার সাথে তার কথা হয় না।"


“ মানে কি?"


“ মানে কি আপনার ছেলে ভালো করে বুঝিয়ে বলতে পারবে! তার সাথেই শেষ কথা হয়েছে।আমি আর ফোন দিবো না।"


কারণ আফিয়া জানে।নাজিফা চায় নাফিসা নিজের প্র্যাকটিস বন্ধ করুক কিন্তু নাফিসার কথা তার এখন বাঁচার একমাত্র উৎস হচ্ছে তার কাজ করা।স্বামী বিয়োগের পর নাফিসা মানসিক ভাবে এতটাই বিধ্বস্ত যে কখন কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তাই সে তালগোল পাকিয়ে পেলে। অতঃপর মেজাজ দেখায়। ছেলে ব‌উর সাথে মানসিক টানাপোড়েন,তাই নাজিফা তাইফ চেয়েছিলো নাফিসা যেন তাদের সাথেই থাকে কিন্তু তাতেও তার সমস্যা।সে শ্বশুরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে উঠেছে, সেখানে একা থাকে আর পাশের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।মাসে দু'বার ফ্রি সেবা দেয় নিজ বাড়িতেই।

এমনকি যেই বড় ভাই ভাবীর কথার উপর কখনো ফিরতি কথা বলতো না তাদের কথায়‌ও নিজের সিদ্ধান্ত বদলায়নি।বোনের এহেন বিধ্বস্ত হালে নাসিফের বুকটা হাহাকার করে।মাকেও হারিয়েছে আজ বহুবছর হলো। মায়ের পরপরই বোন জামাতাকে হারায়।এরপর বোনটার এ করুন অবস্থা।


এসব ভাবনার মাঝেই তাইফ মুঠোফোন এগিয়ে নিয়ে এদিক আসলো। মায়ের কানের সামনে ধরে বললো,


“ নাও,সবাই গ্রুপ কলে আছে।"


মোল্লা বাড়ির সকলের এবং সাফিয়া ও তার কন্যাদের কথা বলছে।সবাই আফিয়াকে শুভেচ্ছা জানালো।


আফিয়া ফোনে কথা বলতে বলতে সোফায় গিয়ে বসলো। অতঃপর সবার সাথে আলাদা আলাদা করে কথা বলে ফোনটা কাটলো।তাইফ পাশ জিজ্ঞেস করলো,


“ কিন্তু তোমরা গিয়েছিলে কোথায়?"


নাসিফ‌ সব খুলে বললো। খাওয়া দাওয়ার পর্ব চুকিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো নিজের বাড়ি ফেরার জন্য।আফিয়া ছেলে মেয়েদের অনুরোধ করলো আজকে রাতটা থেকে যাওয়ার জন্য কিন্তু তার কথার উত্তরে সবার একটাই কথা,


“ আম্মু সকালে ডিউটি আছে, বাচ্চাদের স্কুল কলেজ। তুমি ভুলে গেছো নাকি।"


আফিয়া তাইফের দিকে চাইলো। ছেলের পরণের এই ইউনিফর্ম তাকে অনেক কিছু বলতেই বাঁধা দেয়।তাও যেন তাইফ মায়ের মনোভাব বুঝে ফেললো, মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বললো,


“ আম্মু, জরুরী মিটিং আছে,কয়েক ঘন্টার ছুটি নিয়ে এসেছি তাও অনেকেই জানে না। তোমার ছেলে একটা জেনারেল এখন! আমার পক্ষে কি এভাবে..."


“ ঠিক আছে যাও। আল্লাহ তোমাকে নিরাপদে রাখুক। আল্লাহ আল্লাহ.."


আর বলতে দিলো না আফিয়া।যতটা খুশি নিয়ে এসেছিল সবাই ঠিক তার দ্বিগুণ বিষাদে ছেয়ে দিয়ে গেলো তাদের।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ