#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১৪৭
[কপি করা/চুরি করা,নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ।দয়া করে এগুলো করবেন না কেউ। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন। ধন্যবাদ সবাইকে।]
কলেজ কম্পাউন্ডে একে অপরের উপর উবু হয়ে শুয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করছে। চারদিকে ছেলেরা ভীড় জমিয়ে কেউ দেখছে তো কেউ থামানোর চেষ্টা করছে।দূরে দাঁড়িয়ে আবার কেউ কেউ গসিপ করছে।এর মধ্যেই একদল দৌড় দিলো টিচার্স রুমের দিকে।
“ এ্যাই কি করছিস বদগুলো। ইস্, কিসব ছেলেপেলে এরা! সারাক্ষণ মারামারি করছে!"
দুজন শিক্ষক টেনে হিচড়ে দু'টো ছেলেকে আলাদা করে নিলো। তারপরও রাগে ফোঁস ফোঁস আওয়াজ তুলে একে অপরের দিকে ক্রোধিত চোখে চেয়ে আছে।
“ এ্যাই! এ্যাই তোমাদের সমস্যা কি? এর আগেও একদিন মারামারি করেছো,আজ আবার?কি নিয়ে এত দ্বন্দ্ব তোমাদের দুজনের মাঝে? চলো সব প্রিন্সিপালের রুমে চলো! আর আজ তোমাদের বাপেদের কাছে এই খবর পাঠাতেই হবে,নয়তো তোমরা শুধরাবে না।"
দুটোর কলার ধরে একরকম টেনেই নিয়ে গেলেন উনি।
সালাহ্ বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে রিক্সা খুঁজছে। পলাশীর মোড়ে দাঁড়িয়ে এদিকে ওদিকে চেয়ে নিচ্ছিলো যানযট কেমন আছে। ঠিক তখনই তার ফোনে কল ঢুকে।
কলে কথা শেষ করে রিক্সার জন্য আরো উদগ্রীব হয়ে উঠে। ঠিক তখনই নাইফের গাড়ি সামনে এসে দাঁড়ায়,নাইফ মাথা বের করে মামার দিকে চেয়ে প্রশ্ন করলো,
“ মামু? কি খুজছো এখানে দাঁড়িয়ে?"
“ আরেহ বাবু যে,আরে বাবা আমি একটু উদয়নে যাবো সামির কলেজে! এদিকে জরুরী হয়ে পড়েছে এলিফ্যান্ট রোডে যাওয়া কিন্তু রিক্সারই পাত্তা পাচ্ছি না।"
“ গাড়ির কোথায় তোমার? আর সামির কলেজে এখন কেন? ওর তো ছুটি হতে তো ঢের দেরি!"
“ এখান থেকে এখানে গাড়ি নিবো না। তাছাড়াও জ্যামে পড়লে আর উদ্ধার থাকে না রিক্সা তাও ছেড়ে দেওয়া যায়।
আর সামির কলেজে যাবো কারণ প্রিন্সিপাল ফোন দিয়েছেন, যেতে বললেন!উনার কন্ঠ খুব একটা মিষ্টি লাগলো না।"
নাইফ নিজের হাত ঘড়ির দিকে তাকালো। অতঃপর কিছু একটা হিসাব কষে মামার দিকে চেয়ে বললো,
“ তুমি তোমার কাজে যাও।আমি যাচ্ছি সামির কলেজে। টেনশন নিও না।"
“ আ্যা ইয়্যু শিওর!সময় হবে তোমার?"
“ খুব হবে। তুমি যাও।"
সালাহ্ নিজের কাজে চলে গেলো এদিকে নাইফ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
পরনের ইউনিফর্ম আর চেহারার হাল দেখে নাইফের ভ্রু কুঁচকে এলো। প্রিন্সিপালের উদ্দেশ্য সালাম দিয়ে ভেতরে ঢুকার অনুমতি চাইতেই প্রিন্সিপাল আকবর খলিল দ্বিধা ভরা চোখে অনুমিত দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“ জি আপনার পরিচয়?"
নাইফ খুব অমায়িক ভাবে নিজের পরিচয় দিলো। পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রিন্সিপালের মাথা যেন হট হয়ে গেলো।তিনি সামির দিকে চেয়ে রাগান্বিত স্বরে বললেন,
“ তোমার বাবা একজন অধ্যাপক, মা একজন সম্মানিত শিক্ষিকা,তোমার বড় ভাইও একজন শিক্ষক! আর তুমি বেয়াদব ছোড়া, গুন্ডাদের মতো মারামারি করো!"
নাইফ নিজের বিস্ফোরিত দৃষ্টি ঘুরিয়ে সামির দিকে ফেললো। মাথাটা নুইয়ে দুই হাত পিছনে নিয়ে একটার মুষ্টি দিয়ে অন্যটা বেঁধে রেখেছে।সে বড় ভাইকে দেখে একটু লজ্জা পেলেও ভয় কমেছে। আঁটকে রাখা দম ছেড়ে শ্বাস নিলো। তারপরও খানিকটা ভয় তো জিইয়েই আছে।
নাইফ খুব নরম গলায় জিজ্ঞেস করলো,
“ সামি কি নিয়ে মারামারি করেছো?"
সামির তরফ থেকে উত্তর এলো না।এলো না পাশে থাকা ছেলেটার তরফ থেকেও। দুজনই মনোব্রত পালন করছে। ঐদিকে প্রিন্সিপাল দু'টোকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে।ঐ ছেলের মা বাবা কর্মজীবী,তাই এখনও এসে পৌঁছাতে পারেনি। এদিকে নাইফ আড়চোখে ভাইয়ের লজ্জিত ভীত নজর দেখে নিজেকে শান্ত রাখছে। বহুবার জিজ্ঞেস করার পরেও কোন উত্তর পেলো না। এরপর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সাক্ষীদের অন্দরে নিয়ে আসা হলো। তাদের মধ্যে থেকে একজনকে দিয়ে আরম্ভ করা হলো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব...
“ সামিকে নান্নামুন্না বলেছিলো মিরান। তারপর সামি মিরানকে জিরান বলে ক্ষেপিয়েছে। এরপর আবারও সামিকে মায়ের পুটলি বলায় সামি ওকে হুমকি দেয় মার দেবার,এতেই মিরান ক্ষেপে সামিকে মারে তারপর দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়।"
ঠিক এভাবেই ঘটনার বর্ণণা করা হয়।যদিও তা ঠিক বিশ্বাস হলো না কারোই।এই সামান্য বিষয় নিয়ে এত বড় ছেলেদের মাঝে এমন গন্ডগোল! কিন্তু পরপর দু সাক্ষীর বক্তব্য একই হওয়াতে এবারের মতো দু'জনকে শেষ সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো। সঙ্গে অভিভাবকদের সতর্ক করে দেওয়া হলো ছেলেদের ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জন্য।
নাইফ প্রিন্সিপালকে নিশ্চিত করলো যে সামির দ্বারা ভবিষ্যতে এমন অন্যায় কাজ আর ঘটবে না। এরপর স্যারের অনুমতি নিয়ে সামির হাত ধরে বেরিয়ে এলো।
সামি বড় ভাইয়ের মুখের দিকে চেয়ে অসহায়ত্ব বজায় রেখে কৃতজ্ঞতা জাহির করলো।বললো,
“ থ্যাংকস ভাইয়া তুমি আসছো। বাবা আসলে তো আমার পিঠের ছাল তুলে নিতো!"
“ তাই করা উচিত নয় কি,তুমিই বলো?"
“ আমি নির্দোষ ভাইয়া!ঐ সবসময় আমাকে ক্ষেপায়!"
“ এখনো মিথ্যা বলবে?"
নাইফ দাঁড়িয়ে পড়লো সামির মুখোমুখি।সামি চোখ তুলে একবার বড় ভাইকে দেখে আবারও নজর নামিয়ে নিলো। পেছনে হাত বেধে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো,একটু পর ডান হাত দিয়ে নাক চুলকে এদিকে ওদিকে তাকালো। পরক্ষনেই আবারও নিজের নজর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বড় ভাইয়ের পেটের দিকে নিবদ্ধ করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো ঐ একইভাবে হাত বেঁধে।নাইফ সামির ডান কাঁধে নিজের ডান হাত রেখে গম্ভীর হয়ে বললো,
“ মামাকে কি বলবি?"
সামি চোখ তুলে তাকিয়ে রইল। অতঃপর আবারও নামিয়ে নিলো।নাইফ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো অতঃপর বললো,
“ কে আগে শুরু করেছে?"
“ ঐ!"
“ তোমার দোষ কতটুকু?"
“ সমান সমান!"
“ এরপরেও এমন কিছু করলে নির্ঘাত রাস্টিকেট। সুতরাং!"
“ হবে না প্রমিজ!"
“ হুম,দেখা যাক।চল!"
” বাবাকে কি বলবে তুমি ভাইয়া?"
“ আমি কেন বলবো? তোর সমস্যা তুই বলবি!"
“ না,না,তুমিই বলবে।প্লিজ ভাইয়া প্লিজ!"
সামি নাইফের গাঁয়ে নাক ঘষতে ঘষতে আহ্লাদ করছে।নাইফ সামির ঘাড় নিজের বগলে চেপে ধরে নিয়ে যেতে যেতে বললো,
“ মিথ্যা বলতে পারবো না।"
“ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ!"
নাইফ এভাবেই নিয়ে গাড়িতে গিয়ে উঠলো।সামিও উঠলো।গাড়িতে উঠে নাইফ মনোযোগ দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে এদিকে সামি মনে মনে ভাবছে,
“ ভাগ্যিস বলে দেয় নাই সত্যিটা। নয়তো যদি ভাইয়া জানতো একটা মেয়ের জন্য দুজন ছেলের মারামারি, ইস্। ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যেতো।
আরো ভালো হয়েছে বাবা আসেনি।নয়তো সত্যি উগড়েই ছাড়তো। উফ্!
_ ফুফু কেমন আছে?"
নিজের ভাবনাকে পাশে রেখে ফুফুর খবর নিলো।নাইফ সড়কে দৃষ্টি রেখেই উত্তর করলো,
“ আগের মতোই।তুই যাস না কেন? মা খুব মিস করে তোদের!"
“ কিভাবে যাবো বলো? তোমার মামু মামীর খালি সারাদিন পড়ো পড়ো পড়ো।এই ছাড়া যেন তারা শব্দই জানে না।দম ফেলতেও কষ্ট হয় কখনো সখনো!"
নাইফ হাসলো।সামির অতিরিক্ত বাহ্যিক নেশা,যার কারণে মামা মামী এত কঠোর তার প্রতি। সুযোগ পেলেই বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। আল্লাহ জানে কোথায় কি করে বেড়ায়!"
সামি এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে। ক্যাডেটে ইচ্ছা থাকলেও চান্স পায়নি। এটা নিয়ে ছেলের প্রতি সালাহর ভীষণ রাগ।তার ভাষ্যমতে ছেলেটা তার বখে গিয়েছে। যদিও খানিকটা সত্য।
নয়তো কি এই বয়সেই প্রেম পিরিতি নিয়ে পড়ে থাকে।সামি ভেবেছে নাইফ সত্যিটা জানে না, কিন্তু নাইফ জানে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নাইফের অতিরিক্ত আদরের কারণেই ছেলেটা তাকে ভয় তো পায়ই না উল্টো তার সাথে বন্ধুর মতো সব ভাগ করে। যেটা নাইফকে অনেক সময় অস্বস্তিতে ফেলে।এত পার্থক্য বয়সের অথচ এই কিশোর ভাইয়ের কাছে সে তার সমবয়সী। ঐদিকে তাইফের কথা শুনলেই সব কয়টা সোজা হয়ে যায়।কথাটা ভাবতেই নাইফ মুচকি হাসলো, সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে গেলো হাসিটা।
🤍🤍🤍🤍🤍🤍🤍🤍🤍🤍🤍🤍🤍🤍🤍
বছরের পর বছর যায়, সঙ্গে মানুষের জীবনের নানা বাঁকের পরিবর্তন ঘটে। তেমনি অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গিয়েছে সেদিন সামির স্কুল থেকেও আসার পর থেকে.... দীর্ঘ বছর! সামির ঘটনা তাইফের বিয়ের ছয় বছর! এরপরেও কেটে গিয়েছে আরো দশ বছর।মোট আঠারো বছর কাটলো নাজিফা তাইফের বৈবাহিক জীবন থেকে।তাইফ এখন দুই পুত্রের পিতা।বড় ছেলের বয়স পনেরো এবং ছোটটার বয়স বারো। দুজনেই মাদ্রাসায় পড়ছে হাফেজী।
নাজিফা তাইফের সংসার তাইফের জন্য নির্ধারিত অফিসার্স কোয়ার্টারেই সাজলো। পারিবারিক আয়োজন,ইদ উৎসবে কেবল তারা এখানে আসে। কর্মজীবনে ব্যস্ত তাইফ পরিবারের থেকে কখন যেন অনেকটা দূরে চলে গেলো অজান্তেই।তুহিও নিজের সংসার নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত।পরপর দু'টো বাচ্চা হয়,প্রথম বাচ্চাটা মেয়ে এবং তার দেড় বছরের ছোট ছেলে।
নাবীহার ঘরে দুই কন্যা সন্তান।ত্বোহার নয় বছর পর আরেকটি মেয়ে হয়।
এদিকে নাইফের ঘরে তিনজন।জমজ সন্তানের পর আবার নূর সন্তান জন্ম দেয়।তাইব নূহার ছয় বছরের ছোট নাজিব ওয়াসীত্ব গাজী ওরফে চাঁদ!
চাঁদ নামটা রেখেছে আফিয়া।সবার ছোট নাতি তার ভীষণ সুন্দর হয়েছে। শ্যামবর্ণ রঙটার মাঝে ঠিক চন্দ্রিমার ন্যায় গোলাগাল মুখটা। রক্তজবার ন্যায় ঠোঁট জোড়া।
সব অতিরিক্ত ফর্সার মাঝে এই একটা নাতি তার গায়ের রঙ পেয়েছে যেটা তাকে ভীষণ উৎফুল্ল করেছে।সে এই শ্যামবর্ণের সদ্য পুরুষের নামটা রাখে চাঁদ!
সবার জীবন চলছে এভাবেই হাসি আনন্দে খেলে। আঁটকে রয়েছে শুধু নাসিফ আফিয়ার জীবন।তারা এখনো সেই চল্লিশ বছর পিছিয়ে রয়েছে।যেখানে ছয় বছরের তাইফ অভিমান করে গাল ফুলিয়ে রয়েছে তার আম্মুর কোলে নতুন একটি বাবু দেখে।নাইফ, নাবীহা উৎসুক চোখে অপেক্ষা করছে নতুন বাবুকে কোলে নেওয়ার জন্য।নাসিফ ছেলে মেয়েকে ধমকাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ি নাতি নাতনির পক্ষ নিয়ে ছেলে বউকে বকছে।ঘর ভর্তি কাজের লোক,ছুটে ছুটে কাজ করছে।আফিয়া লজ্জিত, ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে শ্বাশুড়ির অগোচরে এটাওটা দিয়ে কাজের লোকদের মন জয় করছে। কখনো কখনো ভুল করেও সেটাকে লুকিয়ে রেখে শ্বাশুড়ি মায়ের নিকট নিজেকে রক্ষা করে চলছে।ধরা পড়ে গিয়েও মা মা বলে মুখে ফ্যানা তুলে নিজের জন্য সাফাই দিচ্ছে। হটাৎ করেই দৃশ্যপট বদলে গিয়ে সেখানে উপস্থিত হলো যুবক নাইফ, তরুণী নাবীহা,কিশোর তাইফ আর শিশু তুহি।
বিছানায় বার্ধক্যের জোরে শুয়ে থাকা আফিয়ার বুকটা ছলকে উঠলো। শুরু থেকেই শুরু করলো! ঐ তো সেদিনই কেবল বিয়ে হয়েছিল তাদের।সে রক্তিম জামদানি জড়িয়ে স্বামীর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার জন্য অপেক্ষমাণ। ভীষণ গম্ভীর মুখে শিশু এক কন্যাকে কোলে নিয়ে ঘরে ঢুকলো ফর্সা লম্বা,চওড়া দেহের অধিকারী নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজি।তার পাঞ্জাবির কোন মুঠোয় পুরে পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ভীত ভীত নজরের ছোট্ট এক বালক,নাইফ ওয়াসীত্ব গাজী।
“ তোমার আম্মা কেমন আছে এখন?"
বাইরে থেকে ক্ষীণ কিন্তু ভীষণ পরিচিত এক কন্ঠস্বরে নিজ জগতে ফিরে এলো আফিয়া। ঘোলাটে স্যাঁতস্যাঁতে চোখের পর্দা থেকে সরে গেল অতীতের কল্পনারা।উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু পারলো না। দৈহিক ভাবে ভেঙ্গে পড়া আফিয়া যেন মানতেই নারাজ সময়টা এখন সেই প্রায় পঞ্চাশে আঁটকে নেই। প্রায় পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গিয়েছে তার বিয়ের সেইদিন পর থেকে।এখন সে শেষ মুহূর্তে এসে অবস্থান নিয়েছে।তাকেও ছাড়তে হবে নিজের অবস্থান।
অথচ তার অবচেতন মন এখনো চায় আগের মতোই ছুটে ছুটে বলতে,
“ তাইফ ঐটা ফেলো না বাবা!
নাইফ কি করছো তুমি বাবা? একটু পড়াশোনায় মন দাও।
নাবীহা তেল আর চিরুনি নিয়ে এদিক আসো।চুলটা বেঁধে দেই। উফ্ আল্লাহ একটা ছেলে মেয়েও আমার কষ্ট বোঝে না।
_এ্যাই তুমি আবার কি করছো? বারবার কাপড়েই কেন তোমাকে প্রসাব করতে হয় মা? এতবার ডায়পার পরাই তখন তো করো না। আমাকে না জ্বালালে বুঝি তুমি তোমার ভাইবোনদের গোত্র থেকে বেরিয়ে যাবে?"
তার প্রশ্ন শুনে কয়েক মাসের তুহি তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল।আর সে?






0 মন্তব্যসমূহ