সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১৪০

 #সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১৪০



[কপি করা/চুরি করা, নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ।দয়া করে এগুলো করবেন না কেউ। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন। ধন্যবাদ সবাইকে।]


নাইফ নিজের পায়ের জুতো জোড়া খুললো,মোজা খুলে পাশে রাখলো,প্যান্ট ভাঁজ করে উপরে তুলে নিলো এরপর চালককে বললো,


“ ছাতাটা দিন তো!"


“ স্যার কিছু লাগবে? আমি এনে দেই!"


“ আমার‌ই বের হতে হবে!"


“এখানে নামবেন?ময়লা পানি তো নিচে!"


“ সমস্যা নাই,আপনি দিন।"


খানিকটা ঝাঁঝালো‌ই শোনালো তার বাক্য। ড্রাইভার রাসেল ভড়কালো,তৎপর হাতে ছাতাটা বের করে তুলে ধরতেই নাইফ ছোঁ মেরে নিয়ে বাম দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো।ছোৎ আওয়াজ তুলে এক ছলাৎ পানি নাইফের ফর্সা হাঁটু ছুঁয়ে গেলো সঙ্গে সঙ্গে ভাঁজ করে রাখা প্যান্টের অংশখানি।


তুহির ডান হাতে তখন একটা গাঁদা ফুলের মালা মোড়ানো। বৃষ্টিতে ভিজে জবজবে হয়ে হাতের উপর নেতিয়ে আছে।অন্য হাত দিয়ে ব্যাগ ধরে রেখে বান্ধবীদের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে ঠিক ঐ মুহুর্তে কাউকে সামনে পড়তে দেখেই ভ্রু কুঁচকে নিজের দৃষ্টি উঁচু করতেই থমকে গেলো দৃষ্টি, হাস্যোজ্জ্বল মুখটা ভয়ে ছেয়ে ছিলো।নাইফ মাথার উপর ছাতা ধরে গম্ভীর কন্ঠে শুধু বললো,


“ গাড়িতে গিয়ে ওঠ!"


তুহি ভীত চোখে ভাইকে দেখে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বান্ধবীদের দেখলো। নাইফ সময় দিলো না।ডান হাতের কব্জি ধরে টান দিয়ে বললো,


“ চুপচাপ গিয়ে গাড়িতে বসবে।"


বলেই নিজের গায়ের কোর্ট খুলে তুহির গায়ের উপর ছড়িয়ে দিলো।তুহি বড় ভাইকে সহজে রাগতে দেখে না। ছোট ভাইয়ের হাতে দু চারটা ছোট থেকেই খেয়ে অভ্যস্ত।আর সেখান থেকে বাঁচায় তো সবসময় বড় ভাইয়াই! কিন্তু আজ তো বড় ভাইয়াই রেগে গেলো।


ঐ ভেজা অবস্থাতেই গাড়িতে উঠিয়ে বসালো। ড্রাইভার দেখেই ভাঁজ করে একটা পাতলা প্লাস্টিক তুহির বসার জায়গায় বিছিয়ে দিলো।সেটার উপর বসে পড়লো।নাইফ পাশে উঠে বসে।রাগে ভেতরে ফোঁস ফোঁস আওয়াজ হচ্ছে।


তুহি সাফাই দেওয়ার ভঙ্গিতে বলতে চেষ্টা করলো,


“ ভাইয়া আমি!"


” হিস্,নো সাউন্ড!"


এরপর চুপ হয়ে গেলো।মাথা নত করে বসে থেকে,একটু পর‌ই ফোপানো আরম্ভ করলো।



“ ভাইয়া প্লিজ আর করবো না। আম্মুকে বলো না।প্লিজ মাফ করে দাও।আর করবো না প্রমিজ! ভাইয়া!"


নাইফ ফিরেও তাকালো না। উল্টো কঠোর চাহনিতে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।


বারবার দরজার বেল বাজাতে ভীষণ বিরক্ত হলো রুকাইয়াহ। ত্যক্ত কন্ঠে,


“ আরে একটু থামো না।কি হচ্ছে কি!"


বলেই দরজা খুলেই থতমত খেলো।নাইফের হাতের মুঠোয় তুহির হাত এবং বোঝাই যাচ্ছে বেশ রেগে আছে। ঐদিকে তুহি এখন কাঁপছে ঠান্ডায়।


“ কি হয়েছে নাইফ বাবা?"


“ আম্মু ক‌ই?"


“ এখানে তো!"


আফিয়া হিজাবের গিট দিতে দিতে এদিকে আসছে আর বলছে।নাইফ তুহিকে টেনে নিয়ে মায়ের দিকে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে দিলো।তুহি এখন ভয়ে জমে গেছে। অনেকদিন পর নাইফ ঘরে ঢুকলো। সেদিকে বিশেষ ধ্যান নেই কারো।আফিয়া বিস্ফোরিত চাহনিতে বড় ছেলের দিকে একবার দেখছে তো ছোট মেয়েকে দেখলো, এবং জিজ্ঞেস করলো,


“ কি হয়েছে?আর ও এভাবে ..."


“ কাল থেকে আমি দিয়ে আসবো আমিই নিয়ে আসবো।যেদিন পারবো না, সেদিন ওর যাওয়ার দরকার নাই।দুই চার দিন কামাই দিলে ওর কিছু হবে না।"


“ সে না হয় বুঝলাম কিন্তু হয়েছে টা কি আর তোমরা ভাই বোন,দুইজন একসাথে, কিভাবে? তোমার বোন ভিজেছে কি করে?"


“ জিজ্ঞেস করো বেয়াদবটাকে!"


তুহিকে নাইফ কোনদিন বনু আর বুড়ি ছাড়া একটা বাড়তি শব্দে সম্বোধন করে না।সে বলছে বেয়াদব।তুহি মায়ের ভয়ে সব ভুলে যাচ্ছে।সারা রাস্তায় সে ভাইকে অনুরোধ করেছিলো, কিন্তু ভাই তো শুনলোই না।


“ আমি জিজ্ঞেস করা শুরু করলে তো তোমাদের ভাইদের ভালো লাগবে না বাবা।তখন আবার আমাকে শাসাবে।তার চেয়ে তুমি‌ই বলো কি হয়েছে? তাছাড়াও আজকাল তোমার বোনকে তো কিছু জিজ্ঞেস করা যায় না। তাহলেই মুখে মুখে তর্ক জুড়ে দেয়।"


নাইফ মায়ের অভিযোগ শুনলো, এরপর তুহির দিকে তাকিয়ে আবারও পর্যবেক্ষণ করে,


“ এখানে দাঁড়িয়ে তামশা দেখছো তুমি,যা ড্রেস চেঞ্জ কর গিয়ে।"


নাইফের ধমকে তুহি কেঁপে উঠলো।আফিয়া বিরক্তি নিয়ে মেয়েকে দেখলো এবং বললো,


“ কোন কাজ করতে গিয়ে এমন নেয়ে আসছেন? জ্বর আসুক, মেডিকেল নিয়ে ফেলে আসবো।দাসী বাঁদী হয়ে যাইনি সারাদিন তোমাদের নিয়েই রঙ্গ করবো।"


তুহি ফুপাতে ফুপাতে ঘরে গেলো।

ব্যাগটা টেবিল রাখলো খুব‌ই সাবধানে।এখন একটা অতিরিক্ত শব্দ উচ্চারণ হলে আজ মায়ের হাত থেকে রক্ষা নেই।ভাইয়াও করবে না।


“ কোথায় পেয়েছো?"


নাইফ মা'কে সব খুলে বললো।আফিয়া শুনেই চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তুলে নাসিফ এবং তার বড় তিন ছেলে মেয়েকে গালি দিতে আরম্ভ করলো। যেহেতু তারাই বেশি আহ্লাদ করে সুতরাং তাদের কারণেই এই উচ্ছন্নে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। অর্থাৎ তারাই মূল অপরাধী।


তুহিকে যখন বাড়ির ভেতরে টেনে ঢুকাচ্ছিলো,তখন নূর নিজের ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে দেখেছিলো। বৃষ্টি তখন বন্ধ।সেটা দেখার জন্য‌ই সে পর্দা তুলে বাইরে তাকাতেই অগ্নিশর্মা নাইফ আর তার হাতের মুঠোয় তার ভাষ্যমতে ঢঙ্গি তুহিকে দেখলো।


যেহেতু ঐ পরিবারের কারো সাথেই আর আগের মতো স্বাভাবিক সম্পর্ক নেই এবং নিচে গিয়ে নিশ্চয়ই সে এই বিষয়ে যে শুনতে আগ্রহী তা বলতে পারবে না। কারণ নাইফ চায় না নূর তার পরিবারের কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক।কথাটা ভাবলেই নূর ভীষণ অপমানিত বোধ করে।তাই সেও কখনো সেধে কিছু জিজ্ঞেস করে না।নাইফ বললে স‌ই,না বললে নাই।


নূর কৌতুহল দমাতে না পেরে ধীর পায়ে নিঃশব্দে নিচে নেমে দরজায় আড়িপাতে। কিন্তু তেমন বিশেষ কিছু শোনার সৌভাগ্য তার হলো না।নাইফ সোফায় বসলো।মাথা নত অবস্থাতেই মায়ের চেঁচামেচি,বকা হজম করছে।এটা তার মায়ের পূর্ব রোগ, সমস্যা যেটাই হোক।তার চৌদ্দ গুষ্টির ষষ্ঠী পূজার আয়োজন করে এবং তা চলবে ততক্ষন অবধি যতক্ষণ না বাবা এসে স্বীকার যাবে যে এটা তার‌ই ভুল!


“ সিমরান?"


সিমরান, নতুন কাজের মেয়ে।তাইফের চেয়ে বড় হবে।নাবীহার সমবয়সী। তালাকপ্রাপ্তা,এক বাচ্চার মা। গ্রাম থেকে আনা হয়েছে।রেশমিকে নূর নিজের সাথেই রাখে উপরে।তাই নাসিফ আফিয়ার জন্য এই মেয়েটাকে এনেছে।রুকাইয়াহর ‌ও বয়স হয়েছে,তার মধ্যে এখন নানা রোগ ধরা পড়ায় তাকে দিয়ে অনেক কাজ করাতে আফিয়ার বিবেকে বিঁধে।আবার নাও করতে পারে না,এত বছরের লোক দেখে। এদিকে থাকলে আফিয়ার‌‌ও কথা বলার মানুষ হয়।সালমা ফাওযিয়ার‌ও দেখভালে সহজ হয়।


সিমরান ছুটে আসে,


“ ভাইয়া!"


“ ডাকো তো তোমার আপামনিকে! গিয়ে বলো তাড়াতাড়ি আসতে!"


মিনিট দশ পর মাথায় তোয়ালে প্যাঁচানো অবস্থায় ধীর পায়ে মাথা নুইয়ে রেখেই আসছে।নাইফ চোয়াল শক্ত রেখেই বললো,


“ এখানে বসো!"


তুহি মা'কে দেখলো একবার, এরপর ভাইয়ের পাশে বসলো।আফিয়া মুখ ঘুরিয়ে বসলো ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে। ওষুধের বাটি খুলে তার ভেতর থেকে একটা ট্যাবলেট খুলে নিলো পাতার থেকে।সেটা মুখে পুড়তে পুড়তে শুনছে তার ছেলের বোনকে শাসন করার ধরন,


“ আজকের ঘটনা পরে,আগে বলো আম্মু কি বললো একটু আগে?"


তুহি ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে আঁকিবুঁকি করছে নিরবে। নাইফ গলার আওয়াজ আরেকটু উঁচিয়ে বললো,


“ উত্তর দিচ্ছো না কেন? সাহস করে যখন ভুল করো তখন সাহস করে সেটার পক্ষে যুক্তি কেন দিতে পারো না?"


“ স্যরি আর করবো না।ভুল হয়ে গিয়েছে!"


“ আম্মুকে স‌্যরি বলবে। এবং তুমি স্বীকৃতি দিবে এহেন গোস্তাকি ইহ জীবনে আর হবে না। তুমি কখনো দেখেছো তোমার বড় তিন ভাইবোনকে বাবা মায়ের মুখের উপর তর্ক করতে? কোন সাহসে তুমি আম্মুর মুখে মুখে উত্তর দাও।কি ভাবো তোমাকে আদর দেই বলে শাসন করতে পারবো না?

একদম মাথায় তুলে এক আছাড়ে নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলে দিবো।এমন বেয়াদব, বেলাল্লাপনা আমাদের ঘরে চলবে না। বুঝেছো তুমি!"


শেষ কথাটা ধমকে দিলো, এবং এতটাই জোরে ছিলো যে তুহি কেঁপে উঠলো।নাইফ সেটা দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বললো,


“ আম্মুকে গিয়ে স্যরি বলবি এখন। দরকার হলে পায়ে পড়বি। এরপর তো.... আজকের ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটাবে কি-না সেটা তুমি ভালো করে বুঝে নিও। একদম ছাড় পাবে না ছোট বোন বলে।এসব অসভ্যতামি এই বংশে চলবে না। তোমার মতো বোন দিয়ে বংশের নাক কাটাতে পারবো না দরকার হলে....যাও। গিয়ে আম্মুকে বলো মাফ করে দাও ভুল হয়ে গিয়েছে।"


“ হুম!"


তুহি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়েই মায়ের কাছে গেলো।ধীর গলায় চোখ না তুলেই বললো,


“ আম্মু মাফ করে দাও।ভুল হয়ে গিয়েছে।আর করবো না।"


থেমে থেমে বললো।আফিয়া মুখ ফিরিয়ে নেয়।হাত দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার মতোই বললো,“ যাও এখান থেকে। তোমার মতো মেয়ের সাথে কোন কথা নেই।এসব ফাজিল মেয়ে ছেলে আমি দেখতে পারি না।"


তুহি চোখ তুলে বড় ভাইয়ের দিকে তাকালো।নাইফ উঠে এসে মায়ের পিছনে দাঁড়িয়ে খানিকটা অনুনয় করে,


“ আম্মু এবারের মতো মাফ করে দাও।

আর করবে না।"


আফিয়া বড় ছেলের দিকে চোখ রাঙানি দিয়ে তাকালো। নাইফ মায়ের দৃষ্টি দেখে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে ঝাঁঝালো শব্দেই বললো


“ যাও ঘরে যাও। গিয়ে মাথা মুছে খাও।"


তুহি তাই করলো।


এদিকে এসব পুরোটা না শুনলেও যতটা শুনতে পেলো তা শুনেই নূর মনে মনে বললো,


“ আরো দাও বেশি আহ্লাদ। আহ্লাদে বাদর বানিয়ে এখন সব মিলে নাচো।যেদিন নাক কাটবে আমি মিসকিন খাওয়াবো।বেশি বড় বড় কথা না!"



এই ঘটনার পর তুহির জীবনে একাকীত্ব ছেয়ে গেলো। মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় কেউ না কেউ থাকেই। বাড়িতে পড়াশোনার পর টুকটাক ঘরের কাজ তাকে করতেই হয়। একদম ছাড় দিয়ে রাখে না আফিয়া।তার কথা তুমি মেয়ে,জজ ব্যারিস্টার পুলিশ ডাক্তার যাই হ‌ও,চুলার আঁচ তোমাকে নিতেই হবে। সুতরাং মায়ের ঘর থেকেই এসব হজম করে যাও। ঐদিকে দেখতে শুনতে সুন্দরী হ‌ওয়ায় বেশ প্রস্তাব আসা শুরু হলো। যদিও এই বাড়ির মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রচলন নেই।তাও কেন জানি অল্প বয়সেই গাঠনিক নারীত্বে তুহির বয়স বাড়তি দেখাচ্ছে।যেটা অনেক মানুষের‌ই চোখে বিঁধে। সর্বপ্রথম প্রস্তাব আসে নাবীহার এক চাচী শ্বাশুড়ির ছেলের জন্য।মু'য়ায নিজেই তা নাকোচ করে দেয়।


বড় ভাইদের পর একমাত্র দুলাভাইয়ের কাছেও তুহি বোন সমতূল্য স্নেহ পায়।তাই অধিকার থেকেই এই কাজটি করে। কিন্তু তারপরেও সেই প্রস্তাব নিয়ে তার চাচার পরিবার এই বাড়িতে অর্থাৎ গাজী বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়।নাসিফ এক কথায় নাকোচ করে দেয়। মাত্র সতোরোর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো পুঁচকে মেয়েটিকে সে এত তাড়াতাড়ি কাছ ছাড়া করবে না।

এরপর আসে নাইফের এক কলিগের থেকে।তার কোন সিনিয়র কলিগের ছেলে মাত্র ব্র্যাকের শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছে।তার জন্য।নাইফ স্পষ্ট না করে দেয়।সালাহর শ্বশুর বাড়ি থেকেও প্রস্তাব আসে।


এসবের মাঝেই খবর আসে নূর গর্ভবতী। ছেলের প্রথম বাবা হবার খুশিতে আফিয়া ভুলে গেলো তার অপমানের কথা।সে সব ছেড়ে ছুড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো পোয়াতি ছেলের ব‌উকে নিয়ে। কিন্তু কপালে মন্দ সময় লেখা থাকলে যা হয়।তাই হলো আফিয়ার সাথেও।


নূরের প্রথম গর্ভপাত ঘটে তার ছয় মাসের সময়। কোন কারণে আল্লাহ জানে, ছয় মাসের সময় নূরের গর্ভপাত ঘটে।এতে করে নূর খানিকটা মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে যায়।তখন‌ও আফিয়ার পুরো ধ্যান নূরের দিকে। এভাবে চলতে চলতে সময় কেটে গেলো আর‌‌ও এক বছর।


এত কিছুর মাঝেও নূর আর এই পরিবারের মাঝের ফাটল খুব একটা সাড়েনি।

নূরকে যখন নাইফ তার মামার বাড়ি পাঠিয়ে দিলো তখন থেকেই প্রায় দেড় মাস নূর সেখানেই ছিলো।নাসিফ,আফিয়া অনেক বুঝিয়েও ছেলেকে দিয়ে ব‌উকে আনাতে পারেনি। দেড় মাসের মাথায় আব্বাস সাহেব আসেন।তখন পারিবারিক বৈঠকের মাঝে নূরের ভুল এবং পারিবারিক নানা জটিলতার কথা বলতে যখন বিস্তৃতি করা হয় তখন জ্ঞানী এবং বিচক্ষণ আব্বাস সাহেব দারুন ভাবে যেন সবটায় সমঝোতা আনলেন।তিনি বুঝলেন তার মেয়ে কারো প্ররোচনায় পড়ে এসব করেছেন কিন্তু যত‌ই তিনি প্ররোচনা বলে মেয়ের দোষ ঢাকার চেষ্টা করেন,তাতে তার মেয়ের দোষ আসলেই কমে যায় না। একজন শিক্ষিত, প্রাপ্ত সুস্থ মানুষ কেন অন্যের প্ররোচনায় নিজের সংসারে আগুন লাগাবে?যদি লাগিয়েই থাকে তবে নিশ্চয়ই তাতে তার মত আছে

সেক্ষেত্রে সে নিজ কন্যাকে নির্দোষ দাবী করতে পারে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ