সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১৩৯

 #সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১৩৯



[কপি করা/চুরি করা, নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ।দয়া করে এগুলো করবেন না কেউ। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন। ধন্যবাদ সবাইকে।]


নাইফ বাবা, ফুফুর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো।তাইফের প্রশ্নে সচকিত হয়ে তাকালো,বুকের উপর বেঁধে রাখা হাত দুটো ছেঁড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো।নাসিফ নিজেও ছোট ছেলের প্রশ্নে অপ্রতিভ হয়ে গেলো।নাফিসা একটু দ্বিধান্বিত আড়চোখে ছোট ভাইপোকে দেখলো অতঃপর স্বাভাবিক গলায় বলার চেষ্টা করলো,


“ আর কার হবে,নাজিফার কথা বলছিলাম!"


“ মানে?কার সাথে?"


তাইফের মাথায় ছোটখাটো একটা বাজ পড়ার মতো উদ্বেগ সৃষ্টি হলো। তার প্রশ্নের ধরণে খানিকটা উচ্চ শব্দের আলোড়ন সৃষ্টি হয়।নাইফ বাবার দিকে চেয়ে তাইফের ডান হাতের কনুই ধরে টান দিয়ে বললো,


“ তুই আমার সাথে আয়!"


“ কোথায় যাবো?"


তাইফের দৃষ্টি বিস্মিত, বিহ্বলিত।নাইফ শান্ত কন্ঠে ধীর আওয়াজে বললো,


“ আয় বলছি।তোকে বুঝাচ্ছি সবটা!"


“ কি বুঝাবে? মানে কি হচ্ছে? হুট করেই...


“ আমার সাথে আয়,পরে হাইপার হ!"


টানতে টানতে নিয়ে গেলো তাইফের ঘরের দিকে।নাইফের তাইফকে এভাবে টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখলো বসার ঘরে বসে আসর জমানো দুই জামাই এবং এক মেয়ে, তাদের আন্ডাবাচ্চারা, এবং সামি,দিবা।


“ ভাই তুমি আমাকে এখানে নিয়ে আসলে কেন? আমি ঐখানে কথা বলছিলাম তো।"


“ কি বলবি তুই?"


“ আরেহ কি বলবো মানে কি?

_ হুট করেই আঁকদ মানে কি? আগে তো শুনিনি। তাছাড়াও!"


“ আশ্চর্য,তার মেয়ে সে বিয়ে দিবে তাতে তোর কি? এর আগেও অদ্ভুত ভাবে মেয়েটার দু'টো বিয়ে ভেঙ্গেছিস।এই বিষয় নিয়ে ফুফা ভীষণ অসন্তুষ্ট ফুফুর উপরে।আবার আজ শুরু করেছিস!"


নাইফ একটু বাজিয়ে দেখতে চাইছে ভাইকে। কিন্তু হট টেম্পার তাইফের ব্রেইন বোধহয় কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।সে তেতে উঠলো ভাইয়ের উপর,


চেঁচিয়ে বলতে লাগলো,


“ কেন ভেঙ্গেছি তুমি জানো না। তারপরও বলছো কেন করছি?"


“ আমি কি করে জানবো? আশ্চর্য! তুই আমাকে কখনো কিছু বলেছিস? "


নাইফ আশ্চর্য হ‌বার ভান ধরলো। প্রশ্নাত্মক বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকলো।তাইফের মনে পড়লো সে তো কাউকে কিছু বলেনি।ইভেন নাজিফাকেও কোনদিন সরাসরি কোন কমিটমেন্ট করেনি। সুতরাং তার জন্য... তাতে কি? সে ছোট থেকে ঐ মেয়েকে দেখভাল করে আসছে।দূরে ছিলো তো কি হয়েছে।সে তো এখান থেকেই ঐ সময় মেয়ের সব বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতো।করছে।তাতেও কি ফুফু ফুফা বুঝে না কেন করছে এগুলো? আশ্চর্য! বুঝবে না কেন? আর গান্ডু নাজিফাটাও কিছু বুঝে না।সব ধরে ধরে শেখাতে হয় উনাকে! মেয়েটাকে সামনে পেলে....দূরে থাকলে ইচ্ছা করে গাল দুটো লাল করে দেই থাপড়ে। কিন্তু যখন সামনে আসে তখন আপেলের মতো টসটসা লাল ফুলো ঐ গাল দু'টোকেই তার আপেলের মতোই কামড়ে কামড়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।ঐ চোখ,নাক দেখলে তাইফের কষ্ট হয় নিজেকে সামলাতে, তাও তো তাইফ সামলায়। কারণ তাইফ সুপুরুষ।তাই অপেক্ষা করছে সঠিক সময়ের।নাইফ ভাইয়ের ভাবুক চিবুক তুলে ধরে বললো,


“ কি নিয়ে এত দোনামোনা?"


“ ভাই!"


“ হুম!"


তাইফের গলা কাঁপছে,হয়তো সে যা বলতে চাচ্ছে তা বলতে পারছে না।হয় লজ্জা নয় ভয়।যত‌ই বন্ধুসূলভ হোক আসলে তো বড় ভাই।তার কাছে এসব বলতে একটু তো বাঁধে! কিন্তু ভাই ছাড়া কেউ নাই তো এসব বিষয়ে শোনার যোগ্য।বুবুনের সামনে সে মরে গেলেও বলতে পারবে না।এতটা ঠোঁট কাটা সে নয়।


নাইফ ভাইয়ের কাঁধ চেপে ধরে নিজের কাছে টেনে মিলিয়ে নিলো কাঁধে কাঁধ। অতঃপর খুব শান্ত কন্ঠে বললো,


“ মন থেকে চাও?"


“ মরে যাবো!"


“ হিস্!এভাবে বলতে হয় না।"


নাইফ জানে প্রেম হারানোর দুঃখ।তাই তো এতটা সতর্কতা।যদিও তার প্রেম খাঁটি হলেও প্রেমিকা খাঁটি ছিলো না। কিন্তু এইখানে দুটোই তার কোলেপিঠে চড়ে বড় হ‌ওয়া। এদের দুজনের বিষয়টাই নাজুক।

কোন সমস্যা‌ই ছিলো না যদি না ফুফা বেঁকে বসতেন।কি যে এক চিন্তা লালন করছেন তিনি।

নাইফ ভাইকে আশ্বস্ত করে বললো,


“ আমি বাবার সাথে কথা বলবো।আর ফুফু... চিন্তা করিস না। আল্লাহ আছেন।ভাইয়ের উপর ভরসা রাখ।"


ছোট ভাইকে আশ্বস্ত করে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে। এদিকে তাইফ মুঠোফোন বের করে একটি নাম্বার দেখে ডায়াল করলো।



মু'য়ায ফাহাদের সাথে বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে আলাপ করছে।ফাহাদ খুব‌ই বিজ্ঞের ন্যায় নিজের যুক্তি পেশ করছে বড় ভায়রার সামনে। ঠিক তখনই পাশে এসে দাঁড়ালো নাবীহা।মুখটা তার লম্বা হিজাব দিয়ে ঢাকা।ফাহাদ বড় জেডাসকে দেখে নিজে উঠে দাঁড়িয়ে ভায়রার পাশে বসার জায়গা করতে করতে বললো,


“ বুবুন এখানে বসেন!"


“ ধন্যবাদ ভাই!"


বয়সে বড় ফাহাদ কিন্তু তারপরেও সম্পর্কে বড় দেখেই সবসময়‌ই নাবীহাকে খুব সম্মান করে কথা বলে।


সিদ্দিক ফাহাদ চৌধুরী, তেত্রিশ বছর বয়সী তাগড়া যুবক।বিমানসেনার ,ওয়ারেন্ট অফিসার। সুদর্শন,সুঠাম, স্বচ্ছ সৎ চরিত্রের অধিকারী।

মেজর জেনারেল ফরহাদ সিদ্দিকী চৌধুরীর দ্বিতীয় সন্তান।তার বড় সন্তান নেভি ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিকী ফারজাদ চৌধুরী।


সময়টা ঠিক ছয় বছর পিছিয়ে যায়...


তুহি তখন মাত্র তরুণী হলো। কৈশোরের শেষ গন্ডিতে, যৌবনের প্রথম বন্দরে পৌঁছায়। ভীষণ আহ্লাদি আর ন্যাকু তুহি সবসময় ভরা সংসারে বড় হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই জীবনে পরিবর্তন আসতে আরম্ভ করলো।বড় ভাইয়ের অমতেই তাকে আলাদা করে দেওয়া হলো।যেই কারণে ভাই মা বাবার উপর অভিমান করে র‌ইলো। ঠিকঠাক কথাও বলে না কারো সাথে।যখন বাড়িতে ঢুকে দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে দাঁড়িয়েই সারাদিনের খোঁজ নেয়। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে মা, দাদীর সাথে কথা বলে।তাকে এটা ওটা দেয়। এরপর চুপচাপ নত মস্তকে মুখটা কালো করে উপরে চলে যায়।বড় ভাবীর উপর তুহির ভীষণ রাগ,তার চেয়েও বেশি রাগ ছোট ভাইয়ার। ছোট ভাইয়া স্পষ্ট নিষেধ করেছে তুহি যেন যেচে ঐ মহিলার সাথে কথা না বলে। ইভেন সেধে বলতে আসলেও তুহি যেন না বলে। যদি শোনে তুহি ঐ মহিলার সাথে কোন কথা বলছে তাহলে এসেই সবার আগে তার চাপা ভাঙ্গবে।আর ছোট ভাইয়া যা বলে তাই তো করে। এদিকে এমনিতেই তুহির হুটহাট ঘরের দরজা পেরিয়ে বাইরে যাওয়ার আদেশ নাই।তাই চাইলেও যেতে পারে না।তাহলে তো বড় ভাইয়াও বকবে।


অপরদিকে, বড় বোনকে তার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুলাভাই আদেশ করলো অতঃপর সেও চলে গেলো। এদিকে ছোট ভাই তার ডিউটিতে চলে গেলো। বাড়িতে পড়ে র‌ইলো কেবল মা আর দাদী,সে। কিন্তু তাতে কি? মা তো মা'ই।তুহি আহ্লাদ, জেদ যাই করুক সবটা তো ভাই বোনদের সাথেই করতো। মা'কে সে ভালোবাসে,মাও তাকে ভালোবাসে কিন্তু মায়ের শাসনের সুর তাকে সবসময়ই ভীত করে রাখে।যদিও মা তাকে অনেক সময় দেয় তবুও।মায়ের‌ও তো বয়স হয়েছে।এই বয়সে দাদীর সেবা করে, সংসারের সব কাজ করে।বাবার সেবা।নিজেই অসুস্থ তা নিয়েও কত ভুগান্তিতে থাকে।এত কিছুর মাঝে তুহি নিজেকে একা পায়।এখন আর মাদ্রাসায় রেখে তাকে পড়ায় না।কারণ নাইফ,তাইফের কথা, “মা এখন বাসায় একা,তুহি‌ও না থাকলে অসুস্থ মায়ের দেখভাল, কিভাবে কি হবে? ”


নাসিফটাও ব্যাবসায়ে আবার ডুবে গেলো।কারণ হিসেবে সে অনুধাবন করলো,তার চার সন্তানের অংশ তার সকল সহায় সম্পত্তিতে। কিন্তু সেই সম্পতি নিয়ে গাধার খাটুনি খাটছে কেবলি একজন।বাকীরা হয়তো অন্য দিকে ব্যস্ত। তাদের এসব নিয়ে ভাবনা নেই।তাতে কি? কথা উঠতে কতক্ষন? এমনিতেই তার ব‌ড় ব‌উমার ভাবনা তার স্বামী একা খেটে পুরো পরিবার টানে।যদিও অভিযোগটা সত্য নয়।তবুও, মানুষের মুখ। চামড়ার পাতলা খোসার হলেও ভেতরের পদার্থ ভীষণ দাহ্য।সব জ্বালিয়ে দেয়।সে চায় না তার কোন ছেলে মেয়ে অন্যের কটু বাক্যের শিকার হোক কিংবা আড় চোখের মাঝে পড়ুক। যেহেতু সে হাতে পায়ে সুস্থ এবং সবল আছে,তাই যতদিন পারবে গা গতরে খেটে সবারটা পুষিয়ে দিবে। নিশ্চয়ই এতে কথার সৃষ্টি হবে না। অবশ্য আফিয়া অনেক চেঁচামেচি করে, বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় তার হার্ট দূর্বল,সে উচ্চ রক্তচাপের মানুষ।


সব দিক বিবেচনায় রেখে তুহিকে বাড়িতে রেখেই মাদ্রাসায় নেওয়া আসা করে পড়ানো হলো।এতে করে তুহির যেন পাখা মেলে গেলো। হঠাৎ করেই শাসন আর গন্ডির সীমানা অতিক্রম করতে পেরেই তুহি বাইরের রঙিন দুনিয়ায় চমকিত হতে থাকলো।যার ফলাফলে তার বেয়ারাপনা বেড়ে গেলো। বোকাসোকা তুহি বড় ভাইয়ের থেকে পাওয়া ফোনে মাদ্রাসার বান্ধবীদের সাথে নানা গ্রুপিং করতে থাকলো।


সমবয়সী মেয়েদের মাঝে থাকলে যা‌ হয় আর কি!ক্লাস শেষে যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে ফুচকা,এটা ওটা খাওয়া।খেতে খেতে,বান্ধবীদের হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে হা হা হি হি করা। এভাবেই রাস্তা মাতিয়ে হাসতে হাসতে গাঁয়ের উপর ঢলে পড়া। প্রতিদিন দেরি করে বাড়ি ফেরা।আফিয়ার শাসনে প্রথম প্রথম ভয় পেলেও পরবর্তীতে মুখে মুখে উত্তর দেওয়া।যদিও দুই একবার‌ই এই সাহস করেছিলো। দিনের বেশিরভাগ সময়‌ই মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকতো। এভাবেই কাটছিলো তার দিন। কিন্তু এতেও পরিবর্তন ঘটলো যেদিন নাইফের সামনে পড়লো।


গাজী পরিবার... যাদের অত্র এলাকায় সবাই এক নামে চিনলেও আজ অবধি এই বাড়ির কোন মেয়ের মুখ তো ভালো কথা ছায়াও কেউ দেখেনি অযথা কারণে।সেই বাড়ির ছোট কন্যা, বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হাঁটু সমান কাদা পানি পা দিয়ে ঠেলে,বলা যায় ছিটাতে ছিটাতে বান্ধবীদের সাথে একরকম অসভ্যদের মতো হাসতে হাসতে গাঁয়ের উপর ঢলে পড়ছিল ঠিক এভাবেই প্রধান সড়কের মাঝ দিয়ে হাঁটছে। বলাবাহুল্য হাঁটছে কম,সে হাসছে আর পা হাত দিয়ে ময়লা পানি ছিটাচ্ছে বেশি।তার গায়ের ঐ কালো আবায়া বৃষ্টির পানিতে ভিজে তার অঙ্গে এঁটে গেছে। লম্বা, সুসজ্জিত দেহ ভাঁজ এত কুচকুচে কালো, কব্জি সমান লম্বা নিকাব স্কার্ফের নিচে একাধিক পাটের বোরকাও তার ঐ নারীত্ব ঢাকতে ব্যর্থ হলো।নাইফের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো, মুখ হা হয়ে গেল।তার বোন এত বড় করে হয়ে গেছে।ঐ তো সেদিন‌ই তো মাত্র দুনিয়ায় আসলো।আজ সকালেও তো যখন টাকার জন্য বায়না করছিলো তার কাছে,তার মনে হলো প্রথম মাদ্রাসা যাওয়ার দিনের মতোই ছোট এখনো তার পুচকি বোনটা। অথচ এখন তো মনে হচ্ছে বোন তার অনেক বড় হয়ে গেছে।এত বড় যে বাড়ির গাড়ী অবধি সে নিতে চায় না। রিকশায় চড়বে।

সব‌ই ঠিক কিন্তু এখন কি দেখছে? এসব কি? এ কোনভাবেই তাদের বাড়ির মেয়ে নয়।তবে নাইফ কি তার আপন বোনকে চিন্তে ভুল করছে? অসম্ভব! কোনভাবেই না।আজ সকালে এই বোরকা পরেই তার আগে আগে গেইট পেরিয়েছে।সে নিজেই রিক্সায় তুলে দিয়েছে।ঐ কাঁধের ব্যাগ তার কিনে দেওয়া। কোনভাবেই নাইফ ভুল দেখছে না।


নাইফ এই এলাকায় এসেছিল একটা বাড়ির ডিজাইন কনফার্ম করতে। যদিও সে ডিজাইনার না, তবুও ভদ্রলোক চায় নাইফ যেহেতু ঠিকা নিচ্ছে সেহেতু নাইফ ডিজাইনটা কনফার্ম করুক।

বৃষ্টির কারণে রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে গিয়েও, কোথায় কোথায় খাদ, গর্ত আল্লাহ জানে।তাই সব গাড়ির চালক খুবই সাবধানে গাড়ি চালাচ্ছিল যার ফলে সৃষ্টি হয় বিশাল জ্যাম।সেই জ্যামেই আঁটকে পড়ে তার গাড়ি।সে বৃষ্টির তোপ কমতেই জানালা একটু নামিয়ে দিলো। উঁকি দিয়ে রাস্তার অবস্থা পরখ করতেই সামনে থেকে এদিকে আসা এক দল বোরকা পরিহিত অসভ্য মেয়েদের চোখে পড়লো।

এবং মিনিট দুইয়ের মধ্যে‌ই তার মাথায় ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ