সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১৩০_শেষাংশ

 #সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১৩০_শেষাংশ



[কপি করা/চুরি করা,নিজ ফিডে শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকুন।দয়া করে কেউ এগুলো করবেন না। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন।]


তাইফ পর্দার সাথে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো, তার কন্ঠ কাঁপছে। বোঝাই যাচ্ছে রাগে এমন হচ্ছে।নূর এক‌‌ই। ভাবে ত্যাড়া উত্তর করলো,


“ এই যে আরেকজন এসে গেছেন। নিজেকেই কর্তা ভাবা শুরু করে দিয়েছে অথচ কোনদিন দেখলাম না একবেলার বাজারটাও করে আনে।অন্যের ঘাড়ে সব দায়দায়িত্ব চাপিয়ে নিজের জীবন স্মুথলি চালাচ্ছে। কিন্তু সহায় সম্পত্তি ভোগের বেলায় দেখা যাবে ষোল আনা ঠিকঠাক বুঝে।"


“ আপনি আমাকে যা বলছেন বলেন কিন্তু কাকে আপনি নিজের নখের যোগ্য‌‌ও মনে করেন না সেইটা আগে বলেন! এই বাড়িতে কে আছে যাকে আপনি নিজের নখের যোগ্য‌ও মনে করেন না!

আপনার ধারণা আছে আমার মায়ের যোগ্যতা সম্পর্কে!"


“ খুব আছে। দেখো তাইফ,তোমার মতো ছেলের সাথে তর্কে যেতে চাই না।অযথা গাঁয়ে পড়ে মেয়েলিপনা করবে না।আর তুমি নিজের সীমানায় থাকো, পর্দার কাছে কি করছো? মুখ না দেখলে ভালো লাগে না!"


“ আপনার মতো নোংরা মহিলার মুখ দেখার জন্য আমার ইয়ে...


“ ওর মতো ছেলে বলতে তুমি কি বুঝাতে চাইছো ব‌উ? আমার ছেলেকে তোমার কি মনে হয়?"


আফিয়া তাইফের উচ্চ শব্দে কথা বলা শুনে বেরিয়ে আসে।এসেই উক্ত কথাগুলো শুনে।নূর নিজের প্লেটটা টেবিলের উপর আঁছড়ে রেখে রুকাইয়াহর উপর চেঁচিয়ে বললো,


“ তুমি ইচ্ছা করে কথা তুলেছো না,যাতে আমার মেজাজ চেতে যায় আর আমি ....আমার তো এদের সাথে আর কথাই বলতে ইচ্ছে করছিলো না কিন্তু তোমার জন্য! আজকে নাইফ আসুক।আমি আর থাকবো না।যেখানে মেয়েদের সম্মান নেই, পর্দার বিধান মানার বালাই নেই সেখানে আমি থাকবো না।

হুটহাট পর্দার সীমান্তে ঢুকে পড়ে, নোংরা অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলে আর তারপরেও..."


এক কথায় দুই কথায় ঝগড়া বাড়লো।নাবীহা,তুহি ফ্যালফ্যাল চোখে দেখলো মা ভাই ভাবীর তর্ক।দেখলো কিভাবে তার শান্ত মা বায়াজ হয়ে যাচ্ছে, কিভাবে তার ভাইয়ের মুখ দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে।


“ আজকে ভাইয়া আসুক। অনেক হয়েছে,এবার আপনার লাগাম টানা জরুরী।আজকে আমি বিচার দিবো ই,আর ভাইয়া আপনার বিচার না করলে আমি‌ই করে নিবো বিচার। আপনি যা শুরু করেছেন ঘরের মধ্যে তার জন্য আপনাকে যা করা উচিত...."


“ কি?কি করবা তুমি?মারবা আমাকে? অবশ্য গুন্ডাপান্ডারা মারতেও পারে। তোমার ব্যবহার‌ই জাহির করে তুমি কি করতে পারো?"


“ আহ্ তাইফ থাম,আমি বলছি তো।যাও ভেতরে যাও।বাড়ির ব‌উ জি দের মাঝে ছেলেদের কি ?"


আফিয়া ছেলেকে ধমক দিলো, কিন্তু তাইফ গেলো তো নাই,উল্টো মা'কে টপকে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলতে লাগলো,


“ আফসোস,আপনি আমার বড় ভাইয়ের ব‌উ।আমার হলে আপনার কপালে এই বাড়ির ভাত অনেক আগেই নিষিদ্ধ হয়ে যেতো। সারাদিন নামাজ রোজা পর্দা নিয়ে ফতোয়া দেন অথচ অন্তরে নর্দমা দিয়ে ভরে রাখছেন।কি পোড়া কপাল আমার ভাইটার,আফসোস আমার বড় ভাইয়ের মতো একটা নিরীহ পুরুষের জীবন আপনার মতো এক বাজারনির সাথে জুড়ছে।"


কথাটা শেষ হতেই হতেই তাইফের গালে একটা চড় পড়লো।চড়টা আফিয়াই দিয়েছে। রক্ত চক্ষু নিয়ে তীব্র ধমকে বললো,


“ নিজের ঘরে যাও।আর একটা শব্দ উচ্চারণ করবে না তুমি।আর যদি একটা বাক্য এখানে উচ্চারিত হয় তোমার মুখ দিয়ে আমার আল্লাহর কসম দূর্ঘটনা ঘটিয়ে ছাড়বো আমি।"


মায়ের চড় আর শেষ কথায় তাইফ নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে। ঐদিকে আফিয়া ছেলের ব‌উয়ের কাছে করজোড়ে মাফ চেয়ে বললো,


“ মাফ করো মা। আমাদের জন্য তোমাকে ভাবতে হবে না।আর কোন দায়দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের খুশিকেও যেন আর জবাই করতে না হয় এবার আমি সেই ব্যবস্থাই করতে বলবো।আসুক তোমার শ্বশুর আর স্বামী।একটু সময় অপেক্ষা করো।এহেন অশান্তির শিকার তোমাকে আর করবো না মা।"


মাগরিবের আজান আদায় করে মাত্র মসজিদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে নিজের জুতো পায়ে দিচ্ছিলো ঠিক সেই সময়েই ফোনটা বেজে উঠলো।পকেট হাতড়ে বের করে দেখলো ‘পাপা' লেখা।


“ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাহতু পাপা।"


****


“ জি, আলহামদুলিল্লাহ পাপা। আপনি কেমন আছেন? শরীরের অবস্থা কেমন এখন?"


****


“জি বলুন!"


******


“ স্যরি বুঝলাম না পাপা। কোন বিষয়ে?"


****


“ আমি তো অফিসে, বাসায় কি হয়েছে তা আমি কি করে জানবো? আর তাছাড়াও...!"


****


“ আপনি কিভাবে জানেন?"


****


“ কে বলেছে?"


****


“ আ্য..স্যরি পাপা।আমি আসলে ঘটনা না জেনে কিছু বলতে পারছি না। তাছাড়াও না বুঝেই শোনা কথায় কেবল..."


****


“ স্যরি পাপা, আপনার কথার অর্থ ঠিক বুঝলাম না।”


****"


“ আমার ভাই?"


****


“ অসম্ভব! আমার ভাই আর মেয়েদের সাথে তাও আমার মানে স্ত্রীর সাথে,ওর ভাবীর সাথে? অসম্ভব এটা! ও কোনদিন নূরের দিকে তাকিয়ে কথাই বলে না।বিয়ের পর থেকে যতদিন ওদের কথাবার্তা হয়েছে সবটাই পর্দার আড়ালে তাও কাজের। দুষ্টুমি করতেও দেখিনি কোনদিন।ইভেন নূর আসার পর থেকে আমার সাথে বসে খাওয়াও বন্ধ ওর। শুধুমাত্র নূরের জন্য আলাদা একা খায় ঘরে বসে।আর আমার সেই ভাই করবে খারাপ ব্যবহার!"


****


“ স্যরি পাপা, আপনার এই অভিযোগটা মেনে নিতে পারছি না। অন্তত আমার ছোট ভাইয়ের বিষয়ে তো নয়ই।সে নিজের চমৎকার ব্যবহার, ব্যক্তিত্বের জন্য ভীষণ পরিচিত,আমার দেখা ছেলেদের মধ্যে আমার ভাই অন্যরকম অসাধারণ ভালো একটা ছেলে।তাকে নিয়ে এমন অভিযোগ, অসম্ভব! তাছাড়াও ও ঘরে থাকলে নিজের মতো থাকে, ছোট থেকেই অযথা ঘরোয়া কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।সে করবে এমন নিচু কাজ? অসম্ভব! আমি কোনভাবেই আপনার অভিযোগটা আমলে নিতে পারছি না!"


****


“ আচ্ছা আমি তো বাসায় যাচ্ছি এখন, পথিমধ্যে আজান পড়ে যাওয়ায় সালাত আদায় করে নিলাম।বের হচ্ছি এখন মসজিদ থেকে।বাড়ি গিয়ে সব দেখে আমি কথা বলছি আপনার সাথে।”


****


“ আমার বাবা মা যথেষ্ট সুশিক্ষা দিয়েছেন। তাদের শিক্ষায় ঘাটতি নেই। কিন্তু অপরপক্ষে থাকা মানুষটা যখন সেই শিক্ষার অপব্যবহার করে তখন বায়াজ হ‌ওয়া, নিয়ন্ত্রণ হারানো স্বাভাবিক ব্যাপার!"


****


“ স্যরি পাপা।আমি এই বিষয়ে আগেই কথা বলতে চাচ্ছি না।আপনি যখন আমার বাবা মায়ের শিক্ষা নিয়ে অভিযোগ করেছেন তখন পুরোটা আগে জানবো অতঃপর বলবো শিক্ষা অশিক্ষার দৌরাত্ম।"


***


“ সৎ অসৎ আবার কি? আমরা এক‌ই বাপের সন্তান।এক‌ই রক্তের, এক‌ই স্পার্মের। এখানে আপনপরের উদাহরণ আসবে কেন?

আমি মা বলতে যাকে চিনি তিনি‌ই আমার মা।তার গর্ভে আসা সকল‌ই আমার ভাই-বোন।এখানে সৎ অসৎ শব্দের কোন স্থান নেই।"


*****


“ স্যরি পাপা,আমি কোন অভিযোগ রাখছি না।করতেও চাইছি না।আমি শুধু বলছি আপনি যেই অভিযোগ করেছেন আগে তা খতিয়ে দেখবো অতঃপর কথা বলবো এই বিষয়ে।যদি আমার ভাই অপরাধী হয় তবে তার জন্য যথার্থ ব্যবস্থা নেওয়া হবে আমি আপনাকে এই বিষয়ে আশ্বস্ত করছি। নিশ্চিত থাকুন।"


****


“ জি আচ্ছা রাখছি। দোয়া করবেন পাপা। নিজের খেয়াল রাখবেন।"


“ জি, আল্লাহ ভরসা।"


***


“ জি আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহ হাফেজ।"


দূর-বার্তার মাধ্যমে অপরপক্ষ থেকে ভেসে আসা ছোট ভাইয়ের নামের অভিযোগে নাইফের রক্ত গরম হয়ে গেলো। ঠিক কার উপর রাগটা জমলো নিজেই ঠাওর করতে পারলো না।তবে নূরের উপর ভীষণ ভাবে আক্রোশ জমলো, ঘরের কথা কেন এত দূর যাবে তাই তাকে বেশি ভাবাচ্ছে।তার মা বাবা ভাই বোন যদি নূরের সাথে অন্যায় জুলুম করে তাহলে সেটা সবার আগে তাকে জানাবে,তা না করে কেন আগেই বাপের বাড়ি পৌঁছাবে? তাও নাইফের অগোচরে! ঘরের কথা পরকে বলে বেড়ানো নাইফের মোটেই পছন্দ না।এসব নারী পুরুষদের‌ও পছন্দ না। কিন্তু কথা হচ্ছে বিষয়টি আসলে কি হলো? কি এমন ঘটনা যার পানি এই অবধি গড়ালো?


দুশ্চিন্তা আর তীব্র রাগ নিয়ে কলিং বেলে চাপ দিলো। মিনিট দুই লাগলো দরজা খুলতে। সন্ধ্যার এই সময় মানেই ছোট দুই ভাই বোনের হাঙ্গামা।অথচ আজ সব পিনপতন নিরবতায় ছেয়ে আছে। ঘরের নিরবতায় বোঝা গেল আজকের পরিস্থিতির জটিলতা।দরজায় পা রেখেই সালাম দিলো।


আফিয়া গা এলিয়ে শুয়ে আছে চোখ বন্ধ করে। সারাদিনের হ‌ইচ‌ইয়ে সে ভীষণ ক্লান্ত।তার মধ্যে মনের অসুখ।যা তাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে। ছোট ছেলে সেই যে বেরিয়েছে এখনো ফেরেনি। কোথায় গিয়েছে আল্লাহ মাবুদ জানে।মেয়ে দুটো সেই বিকালের পর আর ধারেকাছে আসেনি।

বড় ছেলের সালাম সে শুনেছে। কিন্তু ভেতর উত্তর দেওয়ার প্রয়াস আসছে না।কেন জানি উঠে গিয়ে দু'টো কথাও বলতে ইচ্ছে করছে না। দরজা খুলে ছেলে তো তার মুখ‌ই দেখতে চায়।তবে আজ বোধহয় হবে না।


আফিয়া কোন শব্দ করলো না। বরং চোখ বন্ধ করে শুয়েই র‌ইলো।দরজায় কারো পায়ের শব্দ শোনা গেলো।নাইফ পর্দার আড়ালে থেকেই আবারও সালাম দিলো,


“ আম্মু আসসালামু আলাইকুম,ঘরে আছো?"


আফিয়ার নিরুত্তর,নাইফ পর্দা সরিয়ে উঁকি দিলো। মা'কে ঘুমে দেখে আর আওয়াজ করলো না। নিজের ঘরে চলে গেলো।


নূর নাইফের আওয়াজ পেয়ে বিছানায় আঁটসাঁট হয়ে বসে র‌ইলো‌।তার চোখ দিয়ে অবিরত জল পড়ছে।থেমে থেমে নাক টানছে।নাইফ ঘরে ঢুকেই নূরকে কাঁদতে দেখলো।পিঠ দরজা মুখী হ‌ওয়ায় থেমে থেমে হিচকির কারণে বারবার শরীর হেলেদুলে উঠছে।স্ত্রীর কান্নায় নাইফের রাগে পানি পড়লো। চিন্তাগ্রস্ত মুখ নিয়ে কাঁধের ব্যাগ সেন্টার টেবিলের উপর রেখে দুই হাতে নূরের কাঁধ উঁচিয়ে কাছাকাছি মুখটা তুলে ধরে জিজ্ঞেস করলো,


“ কি হয়েছে? কাঁদছো কেন?"


স্বামীকে দেখে নূরের কান্নার জোর আরো বেড়ে গেলো। দীর্ঘ সময়ের কান্নার কারণে চেহারার অবস্থা বিধ্বস্ত।থেমে থেমে কাঁপছে ঠোঁট। চোখ নাক লাল হয়ে গেছে। বারবার নাক মুছার কারণে নাকের গোড়ার চামড়া উঠে উঠে লালচে দাগ বসে গেছে।নাইফের ভীষণ খারাপ লাগলো।স্বামী সত্ত্বায় আঘাত হানলো।তার হাত ধরে তার‌ই অংশের অধিকারীনি হয়ে এই বাড়িতে এসেছে।অথচ তার‌ই দায়িত্বে অবহেলার কারণে আজ এভাবে কাঁদতে হচ্ছে।নাইফের মনে হলো নূর তার বাবাকে জানিয়েছে কারণ নূর তার প্রতি বিশ্বাস আশ্বাস রাখতে পারেনি।সেই হয়তো সেই সুযোগ দেয়নি।সে সবকিছুতে সবার আগে নিজের পরিবার বলতে নিজের বাবা,মা,ভাই-বোনকে গুরুত্ব দিয়েছে।হয়তো নূর তাদের মাঝে নিজেকে খুঁজে পায়নি।নাইফ এক্ষেত্রে ব্যর্থ! স্বামিত্বের অধিকারে নূরের উপর ফলাও হলেও স্বামীর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।তার উচিত ছিলো নূরকে বুঝানো এই পরিবারের সদস্য‌ই নূর।এই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতোই নূরের গুরুত্ব‌ও নাইফের জীবনে অনেক।ব্যাপক! এক চুলও কম না।


নাইফের হাতের তারায় থাকা নূরের বিধ্বস্ত মুখটা,নূর চোখ বন্ধ করে নাইফের কোমর জড়িয়ে ধরলো।হিচকি তুলে কাঁদছে আর বিরবির করে বলছে,


“ আমাকে আমার পাপার কাছে দিয়ে আসো।আমি এখানে থাকবো না।আমি ভালো না।কারো সাথে আমি ...."


আর বলতে পারলো না।নাইফ অনেক অনুনয় বিনয় করে কান্না থামানোর প্রয়াস চালিয়ে যেতে থাকলো, সঙ্গে জিজ্ঞেস করলো,


“ কি হয়েছে? আমাকে বলো কে কি বলেছে?"


নাইফের কথায় কি ছিলো জানা নেই,তবে নূরের ভেতরে বোধহয় আশ্বাস জাগলো।সে বললো কিভাবে তাইফ তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে, কিভাবে তার মা সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও এই অনাচারের বিরুদ্ধে একটা কথাও বলেনি।তুহি কিভাবে সবসময় তার সাথে তর্ক করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ