সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১৩৮

 #সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১৩৮



[কপি করা/চুরি করা, নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ! দয়া করে এগুলো কেউ করবেন না। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন। ধন্যবাদ সবাইকে।]


{ সাত বছর পরের ইতিহাস}


ভাইয়া,ভাবী বলছে মাছের কার্টুন'টা বড় মেয়ের বাড়িতে এখন‌ই পাঠিয়ে দিতে।"


“ হ্যাঁ, সে তো সব‌ই এখন করতে বলছে!তার ছেলে আসছে তাই এখন‌ই দ‌ই লাগবে,মাছ এখন‌ই মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে! খেয়ে আর কাজ নেই। কোমরের ব্যথায় বাঁচি না‌ তার উপর উনার তান্ডব!"


“ কি হয়েছে? কি বলেরে?"


আফিয়া রান্না ঘর থেকে চেঁচিয়ে বললো।নাসিফ থতমত খেয়ে বললো,


“ ব্যবস্থা করছি।দেখি কাকে পাঠানো যায়।"


নাফিসা ঠোঁট টিপে হাসলো ভাইয়ের অবস্থা দেখে।

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নাফিসা স্বপরিবারে দেশে চলে এসেছে একেবারেই। তবে বড় ছেলেকে ঐখানেই রেখে এসেছে তার উচ্চ শিক্ষার জন্য। শুধু থাকার জন্য‌ই নয়, মেয়ের বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সম্পন্ন করতেই এসেছে।


তাইফ নিজের দীর্ঘ আড়াই বছরের মিশন শেষ করে বাড়ি ফিরছে।তাই বাড়িতে এত তোরজোর চলছে। তাছাড়াও আজ তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন।


সময়....সময় এমন একটা সম্পদ যার মূল্য কোনভাবেই পরিশোধিত নয়।না কারো জন্য স্থির মান।এ অবিরত চলতে থাকে। চলতে চলতে জীবনের প্রেক্ষাপট পুরো উল্টে দেয়। ঠিক তেমনি সাতটা বছর..

গাজী পরিবারের সবার জীবন থেকে কেটে গিয়েছে সাতটা বছর।সাত বছরে কত উত্থান পতন এই পরিবারের উপর দিয়ে ঘটছে,ঘটে গিয়েছে।তার ইয়ত্তা নাই। রাখাও সম্ভব নয়।সবার জীবনেই এমনটা ঘটে,ঘটতেই থাকবে।


সুলতানা আযিযাহ আল্লাহর প্রিয় হয়েছেন।নাইফের আলাদা সংসার হয়েছে।তার ঘর আলো করে জমজ চাঁদ উঠেছে।সে এখন বুয়েটের শিক্ষক।মু'য়ায নাবীহাকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও নিজের বাবা মায়ের কাছে হার মেনে অবশেষে দেশেই রয়েছে।নাবীহা এখন পুরোদমে চিকিৎসক এবং গৃহিণী।তার ঘর আলো করে একজন কন্যা সন্তান এসেছে। সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন ঘটছে তুহির জীবনে।যেটা ছিলো পুরোটাই অপ্রত্যাশিত এবং আশ্চর্যজনক।নাফিসার স্বপরিবারে দেশে প্রত্যাবর্তন এবং এখানেই কর্ম করা।ফেরার বিয়ে হয়ে যাওয়া। রিফার ক্যাডেটে ভর্তি, সালাহ সামিকে ইঞ্জিনিয়ার স্কুলে ভর্তি করিয়েছে ঐদিকে দিবাকে একটি মাদ্রাসায় দিয়েছে।তার নিজের‌ও প্রমোশন হয়েছে।দোয়াও উত্তরোত্তর উন্নতি করছে।


সবার আলাদা জীবনের মাঝে এখন একদম একাকী জীবন কাটাচ্ছে নাসিফ আফিয়া দম্পতি। তাদের একাকী সময়ের বন্ধু হয় উপর তলায় বাস করা নাতী নাতনি এবং অদূরে দেশের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকা ছোট ছেলেকে নিয়ে করা দুশ্চিন্তা।


রান্না ঘরের জানালা দিয়ে ভেসে আসছে রাস্তায় বাজতে থাকা গাড়ির হর্ন। এলাকায় চোর ডাকাতের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ির বাইরের গেইটটা বিশাল বড় করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও নিরাপত্তা কঠোরের জন্য ঐ গেইটে সবসময় তালা মেরে রাখা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী খুলে যার যার কাজে যায়।

দরজার বেলের শব্দ কানে যেতেই আফিয়া হাতের খুন্তিটা ছুঁড়ে মেরে দৌড়ে বের হলো।


তাইফ দরজায় দাঁড়িয়ে নিজের ফুফুকে বুকে জড়িয়ে হাসছে।নাফিসা এত বছর পর ছোট্ট ভাইপোকে কাছে পেয়ে খুশিতে কাঁদছে।তাইফ পিঠে আলতো ছুঁয়ে বলছে,


“ দরজায়‌ই দাড় করিয়ে রাখবে?"


এই কথায় নাফিসা বুক ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকলো হুবহু তার ভাইয়ের জোয়ান কালের প্রতিচ্ছবি। লম্বায় তার ভাইকেও ছাড়িয়েছে।চ‌ওড়া সিনা,যেটা টানটান করে দাঁড়িয়ে আছে। কানের উপর ছুঁয়ে কাটা আর্মি কাট চুল।তার নিচে জ্বলজ্বল করা দু'টো আত্নবিশ্বাসী,তীক্ষ্ণ প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত চৌকস বড় বড় অক্ষু, ভাঙ্গা গাল ভর্তি কালো কুচকুচে চাপদাড়ি। লম্বা উঁচু নাক।ফর্সা চেহারায় কালসিটে পড়ার ছোপ ছোপ দাগ দেখা দিচ্ছে।লোমশ শক্ত বাহু।কালচে গোলাপি ঠোঁট,সবুজ সাদার তারকাখচিত টি শার্ট।মাথায় শ্যাওলা সবুজ একটা ক্যাপ যার একপাশে ওয়ান স্টারের নিচে একটা শাপলাকৃতি ফুলের প্রতিকৃতি।সদ্য মেজর পদে নিয়োগ পাওয়া এই সুদর্শন ঊনত্রিশের যুবক তার রক্তের অংশ, তার ভাইয়ের অংশ, তার আদরের অংশ।নাফিসার বুক ফুলেফেঁপে উঠলো নিজের পরিবারের বাচ্চাদের প্রতি গর্বে।


“ ফুফু দেখা হয়নি!"


তাইফ দুষ্টু হাসি দিয়ে ফুফুকে বললো।নাফিসা নিজের খুশির পানি ছেড়ে দিয়ে চোখ টিপে হেসে উঠলো।এর মধ্যেই আফিয়ার আক্রমণ।


মা ছেলের আবেগঘন মিলনের পর্ব চললো অনেকক্ষন।এর মধ্যেই আগমন হলো নাসিফ,নাইফ আর তার দুই মানিকের।


তাকিয়া ওয়াসিহা নূহা এবং তার পাঁচ মিনিট আগে ভাই ফাত্তাহ ওয়াসীত্ব তাইব এই দুনিয়ায় এসেছে।


তাইব,নূহা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে তাইফের দিকে।তাইফ বাবাকে সালাম দিলো।নাসিফ এতদিন পর ছেলেকে পেয়ে আবেগী হয়ে গেলো। ঝরঝর করে কেঁদে দিলো।তাইফ‌ও বাবাকে পেয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না। পুরুষের পছন্দের তালিকায় মা থাকলেও দূরে গেলেই বোধহয় অনুভব করতে পারে বাবার অভাব।তাইফের ক্ষেত্রেও তাই।সেও বাবার কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে নিজেকে ছেড়ে দিলো।


বাবার থেকে ভাইয়ের কাছে যেয়েও এক‌ই কায়দায় আবেগী হয়ে উঠলো।নাইফ ভাইকে শান্ত করতেই দুষ্টুমি করে বললো,


“ যাহ্, সর্দি লাগিয়ে দিলি শার্টে?"


তাইফ ভাইয়ের নাটক বুঝলো।তাই ছাড়লো না। উল্টো কাঁধের উপর নাক ঘষা দিতে দিতে বললো,


“ লাগাবোই। তোমার কি,এটা আমার ভাইয়ার শার্ট!"


“ হ্যাঁ,যা তোর ভাইয়ের কাছেই যা আমাকে ছাড়।"


“ ভাইয়ার কাছেই আছি। তুমি যাও।"


খুনসুটিতেই তাইফ নিজের সত্বায় ফিরে আসলো। এদিকে তার দিকে বিস্মিত চোখে চেয়ে থাকা দু-জোড়া আঁখি গোল গোল করে পরখ করছে তাকে এবং তাদের বাবাকে।নাইফ ভাইকে ছাড়িয়ে কাঁধে চাপড় মেরে বললো,


“ অনেক শুকিয়ে গিয়েছিস!"


“ আম্মু খাইয়ে খাইয়ে মোটা করে দিবে নে!"


আফিয়া এই কথা শুনে ছেলের পিঠে চাপড় মেরে বললো,


“ দুষ্টুমি কমাও না এখন।"


“ আমি দুষ্টুমি কমিয়ে দিলে তুমি তো কেঁদে কেঁদে মরা বুড়িগঙ্গা জাগিয়ে ফেলবে আম্মু।"


“ দূর ফাজিল ছেলে,এত বড় অফিসার হয়েও একটুও শুধরালো না।"


“ যখন শুধরে যাবো তখন বলবে ইস্ আমার ঘর খালি!"


“ মোটেই না। তোমার অবর্তমানে এখন এই ঘরের এসব দায়দায়িত্ব তারা কাঁধে তুলে নিয়েছে।"


নাফিসা বললো,তাইফ বিস্মিত প্রশ্নাত্মক চাহনিতে জিজ্ঞেস করলো,


“ কারা?"


“ আর কারা,এরা! হাড়-মাংস জ্বালিয়ে দিচ্ছে!"


উত্তর নাইফের, আফিয়া ধমকে বললো,


“ আ্,এসব বলতে হয় না। কতবার বলেছি!"


” ওকে আম্মু বলবো না।যা খুশি করুক শুধু আমার কানে না গেলেই চলে!"


তাইফ ঠোঁটে স্মিত হাসি ধরে রেখে উচ্ছসিত চোখে দুটো বাবুকে দেখছে, দুষ্টুমি করে জিজ্ঞেস করলো,


“ এই পিচ্চি দু'টো কোথায় থেকে আমাদের বাসায় ঢুকে পড়েছে আম্মু!"


“ ইছ এতা আমাদেল বাছা। তুমি কে?"


তাইফ চোখ বড় বড় করে নূহার কথা শুনলো। নিজের মা বাবার দিকে তাকিয়ে দেখলো, তাদের চাহনি স্বাভাবিক।নাফিসা মিটমিট হাসছে।নাইফ ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে মেয়ের পানে। ঐদিকে তাইবের দৃষ্টি তাইফের ক্যাপে।সে হাত উঁচিয়ে কোমর ভেঙে তাদের দিকে ঝুঁকে বসা লোকটার ক্যাপ ছোঁয়ার চেষ্টা করে বললো,


“ তুমি কি আম্মি?"


আম্মি মানে আর্মি!তাইফ নিজেই বুঝে নিলো নিজের এই পুঁচকে ভাইপোর কথার সঠিক উচ্চারণ।সে নিজের চকচকে অক্ষু-জোড়া দিয়ে হাসি হাসি চোখে তাকিয়ে নরম গলায় জিজ্ঞেস করলো,


“ ডু ইয়্যু লাইক আর্মি?"


“ হুম!"


তাইব নিজের মাথা উপরনিচ দুলিয়ে সম্মতি দিলো।তার মাথা দুলানোর গতি খুব‌ই চমৎকার,ধীর।সে যে খুবই শান্ত একটি বাচ্চা তা তার চাহনিতে‌ই ভেসে উঠে।তাইফ ঠোঁট চ‌ওড়া করলো। প্রশস্ত হাসি দিয়ে নিজের ক্যাপটা খুলতে খুলতে জিজ্ঞাসা করলো,


“ এটা লাগবে তোমার?"


তাইব নিজের মাথা ঘুরিয়ে বাবাকে দেখলো,দাদীদের, দাদাকে দেখলো অবশেষে আবার‌ও চাচার দিকে চাইলো। ততক্ষণে তাইফ নিজের ক্যাপ খুলে হাতে নিয়েছে। ছোট তাইবের চোখ তখন চাচার হাতের মুঠোয় থাকা ক্যাপটার দিকে। দৃষ্টিতে তার অনুনয়।তাইফ খুব আদরে ভাতিজার মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দিয়ে বললো,


“ আল্লাহ কবুল করলে বাপ তোকে আমি নিজের কাছেই নিবো।সে তাতে কার অনুমতি থাকবে আর থাকবে না তা দেখবো না।তোর ইচ্ছাই সবার আগে।"


তাইব এই কথার মর্ম না বুঝলেও ক্যাপ পেয়েই সে খুশি। নিজের ছোট ছোট ইঁদুরের দাঁত বের করে হেঁসে দিলো।তাইফ ভাইপোকে কাছে টেনে জিজ্ঞেস করলো,


“ তুমি জানো আমি তোমার কে হ‌ই?"


তাইব চাচার কথায় বাবার দিকে তাকালো। দাদাকে,দাদীকে দেখলো। অতঃপর চোখজোড়া পিটপিট করে উত্তর করলো,


“ চাচু!"


তাইফ উত্তর পেয়ে খুশি হয়ে গেলো।তাও সে কাছে টেনে জিজ্ঞেস করলো,


“ কে বলেছে এই কথা?"


তাইব আবারও নিজের চোখজোড়া ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সবাইকে দেখলো এবং একে একে বললো,


“ বাবা,মা,দাদু, দাদি,ফুপি আল!"


“ আর কে?"


“ বল আম্মু!"


“ ওরে আমার বাপরে.!"


তাইফ খুশিতে ভাইপোকে কোলে তুলে নিলো। এদিকে এদের এই দহরমমহরম ভাবে আশ্চর্যিত চোখে চেয়ে আছে নূহা।তাইফ তাইবকে কোলে নিয়ে নূহার দিকে তাকিয়ে বললো,


“ বুঝেছো আমি কে?"


নূহা ঠোঁট টিপে নিজের বাবার দিকে তাকিয়ে দাদার দিকে দৌড় দিয়ে দাদার কোলে উঠার জন্য হাত বাড়িয়ে বললো,


“ দাদু!"


নাসিফ নাতনির মনোভাব বুঝে কোলে তুলে নিলো,


নূহা দাদার কোলে উঠে আঙ্গুল উঁচিয়ে উঁচিয়ে ভাঙ্গা শব্দে বলতে থাকলো,


“দাদু আমাকে মজা কিনে দিবো তাই না, দাদু!!"


“ হুম হুম,দিবো!"


“ তোমাতে দিবো না!"


“ আচ্ছা না দিলে না দাও।আমি আমার ছেলেকে কিনে দিতে পারি।তোমার লোলমাখা মজা আমার ছেলের লাগবে না।এখন তুমি নিজের বাসায় যাও।"


আফিয়া কথাটা বলতেই নূহা ভ্রু কুঁচকে ফেললো।চোখ খিচে ভ্রু কুঁচকে নাক কুঁচকে বললো,


“ তুমি যাও।এইতা আমাল বাসা, না‌ দাদু!"


বলেই দাদার গলা পেঁচিয়ে ধরলো। ঠোঁট টিপে চেয়ে আছে আফিয়ার দিকে।নাইফ মুচকি মুচকি হাসছে মা ,মেয়ের ঝগড়া দেখে। আফিয়া তেড়ে আসতে আসতে বললো,


“ এ্যাই ছাড়ো। এভাবে পেঁচিয়ে ধরবে না।শরম-টরম নাই না কি কোন? আরেকজনের জামাইকে পেঁচিয়ে ধরে, খচ্চর মহিলা!"


“ ইহ্ এইতা আমাল দাদু। তুমি খচর!"


“ কিহ্ আমি খচ্চর। নামো বলছি আমার স্বামীর কোল থেকে।এ্যাই..এখন‌ই নামো!"


আফিয়া নাসিফের কোল থেকে নামানোর জন্য টানাটানি করতেই নূহা চেঁচামেচি করতে করতে বললো,


“ আহ্,বাচাও দাদু।পলে যাবো। বাঁচাও!

_ বাবা বাঁচাও।এ্যাই আম্মি বাচাও!"


তাইফকে আর্মি বলে সাহায্য চাইতেই সব ফিক করে হেসে দিলো।

তাইফ চেহারা করুন করে বললো,


“ তুমি তো আমাকে তোমার বাসায় থাকতেই দিচ্ছো না। আমি তোমাকে হেল্প কেন করবো?"


বিপদে পড়ে সাহায্য চাইলো আর সে বলে এই কথা! নূহা অসহায় চোখে চেয়ে রইল কিছু সময় এরপর বললো,


“ তুমাকে মজা দিবো।"


তাইফ একটু এগিয়ে এসে জানার আগ্রহ দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলো,


“ কি মজা দিবে?"


“ চক্কেত! এতগুলো আছে!"


নিজের দুই হাত প্রসারিত করে দেখালো।তাইফ তা দেখে নিজের পকেট থেকে দু'টো বড় চকোলেট বের করে দেখিয়ে বললো,


“ আমার কাছেও চকোলেট আছে। তোমার থেকে নেওয়া লাগবে না।"


“ তাহলে তোমাকে টয় দিবো!"


বলে সে মাথা দুদিকেই দুলালো।তাইফ তাতেও অসম্মতি জানিয়ে বললো,


“ থাকার‌ই জায়গা নাই টয় দিয়ে কি হবে?"


নূহার মাথায় ঢুকলো তাইফের জন্য থাকার জায়গা দরকার।সে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে বললো,


“ আমাল বাসায় থাকবা তুমি?"


তাইফ একটু ভাব দেখিয়ে বললো,


“ নাহ, তুমি তো একটু আগেই বললে তোমাদের বাসা থেকে চলে যেতে!"


“ না,যেও না তুমি।আমি তোমাতে বকবো না আর!"


“ সত্যি!"


“ হুম।"


নিজের দু চোখ টিপ দিয়ে দ্রুত গতিতে মাথা দুলিয়ে সম্মতি দিলো।তাইফ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভুললো না।সে এগিয়ে গিয়ে বললো,


“ বিশ্বাস করবো যদি তুমি আমার গালে আদর দাও।"


নূহা কিছু মুহূর্ত ভাবলো অতঃপর দাদার কোল থেকে ঝুঁকে চাচার গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো। খুশিতে বাকবাকুম হয়ে তাইফ ভাতিজীকে কোলে নিয়ে নাকে নাক ঘষা দিয়ে কাতুকুতু দিতেই নূহা খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।


“ যা যা ভেতরে যা।আগে ফ্রেশ হ,রেস্ট নে। খাওয়া দাওয়া করতে হবে ভাই।"


তাইফ ভাতিজীকে এক কোলে,অন্য কোলে ভাতিজাকে নিয়েই ভেতরে ঢুকলো।নাইফ মায়ের কাঁধে হাত রেখে মা'কে জড়িয়ে ধরে হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করলো,


“ তুহি আসবে?"


“ সে জানো তোমরা! আমি কি জানি?"


“ আমি তো বলেছিলাম আসতে।বললো জানাবে।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ