#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১৪৫
[কপি করা/চুরি করা,নিজ ফিডে শেয়ার করাও নিষেধ।দয়া করে এগুলো করবেন না কেউ। আপনার ভালো লাগলে আপনার উপন্যাস প্রেমী বন্ধুদের মেনশন দিন। ধন্যবাদ সবাইকে।]
তুহির বিয়ের আনুষ্ঠানিক পর্বের আগে আগেই নাইফ নূরের বাচ্চারা দুনিয়ার আলো দেখে। ঠিক তখন থেকেই নূর শ্বাশুড়ির সাথে আবারও এক ছাদের নিচে থাকার জন্য ভীষণ চেষ্টা করে।ইনিয়ে বিনিয়ে নানা উপায়ে সে বোঝানোর চেষ্টা করে,একাকী শ্বশুর শাশুড়িকে রাখতে চাচ্ছে না।সে একজন দায়িত্ববান বউমার মতো শ্বশুর শাশুড়ির দেখভাল করবে। কিন্তু আফিয়া যেন মনস্থির করেই রেখেছিল সে আর কোনভাবেই ছেলে বউ নিয়ে এক ছাদে সংসার করবে না।তাই সে বুঝেও না বোঝার মতোই থাকলো এবং স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলো,খুব শিগগিরই তাইফের বিয়ে দিয়ে উপরের তলায় তাইফের সংসার সাজিয়ে দিবে। এর জন্য মাঝে মাঝে টুকটাক জিনিসপত্র কিনে সেই তলা সাজায়।নাইফ তো মা'কে বুঝে।চার ভাইবোনের মাঝে তার চেয়ে উত্তম মা'কে কে বুঝে? তবুও চুপ থাকে।কারণ সে জানে তার মায়ের মনে নূর যেই দাগ দিয়েছে তা ইহ জন্মে আর মুছবে না। অবশ্য এখন নাইফও চায় না নূর তার মায়ের সঙ্গে থাকুক। নূরের শিক্ষা হওয়া উচিত। শুধুমাত্র নূরের খামখেয়ালিপনার জন্য তার মা'কে লোকের সামনে কৈফিয়ত দিতে হয়েছে,জনে জনে বোঝাতে হয়েছে কেন বউ ঘর ছেড়েছে।
শুধুমাত্র নূরের জন্য তার মা বাবা এই বয়সে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে সমাজের।
বাচ্চা হবার আগ অবধি নূরের উপলব্ধি হয়নি।এখন যখন নিজের দুটো বাচ্চার দায়িত্ব নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তখন মনে হচ্ছে শ্বাশুড়ির দরকার!
তার মা তার সন্তানের দাদি হয়, তাদের বাবার জননী। সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী, গুরুজন, অভিভাবক। লালনপালনের জন্য কোন দাসী কিংবা আয়া নয়।যখন তোমার একাকী সংসার করার শখ জেগেছিল তখন মনে হয়নি একা একা বাচ্চা লালন পালন করা আদৌও সহজ কি-না? সে পারবে কিনা? সে নিজের শখ মেটাতে একা একা স্বামী নিয়ে সংসার করবে যখন, তখন করুক।এখন কেন তার মায়ের দরকার পড়লো।
নাইফ কোনভাবেই তার বাচ্চাদের লালনপালনের মতো ভারী দায়িত্ব তার বৃদ্ধ মায়ের উপর চাপাতে দিবে না সে তাতে তার বাচ্চাদের যতই কষ্ট হয়, হোক।নূরের ইহজীবনের শিক্ষা সে পাইয়েই ছাড়বে।সে বুঝিয়ে দিবে কেন মায়েরা শেষ বয়সে সন্তানকে আঁকড়ে ধরতে চায়।কেন মায়েরা ছেলে বউদের সঙ্গে নিজের সন্তান নিয়ে এমন পাগলামী করে।
এদিকে সময়ের কাঁটা ঘুরতে ঘুরতে অনেক দূরে এগিয়ে যায়।তুহি সংসার জীবন আসলেই বুঝলো না। শ্বশুর বাড়ি বাপের বাড়ি দুটোই তার এক কাটছে।
অতি আহ্লাদি ন্যাকু তুহি সবসময় যেমন ছিলো বাপের বাড়িতে তেমনই আছে শ্বশুর বাড়িতে।ফাহাদ নিজের বউকে যেন পারলে কোলে নিয়ে ঘুরে।জমিনে পা পড়তেই দিতে চায় না। ঐদিকে তুহি শ্বশুর বাড়িতে সবচেয়ে বেশি প্রিয় শ্বশুরের কাছে। কন্যার অভাব ফরহাদ সিদ্দিকী চৌধুরী পুত্র বধূদের দিয়ে মেটায় তাই পুত্র বধূ্দের প্রতি তার দুর্বলতা কন্যার প্রতি বাবার মতোই।
এদিকেও বিশেষ গুরুত্ব পায় তুহি।তার স্বভাবসুলভ গা ঘেষা আচরণ,আহ্লাদি চরিত্র আর বাচ্চামোতে চৌধুরী পরিবারের সবাই বিমোহিত।যদিও সবাইকে নিয়ে এক ছাদে থাকার সৌভাগ্য তার হচ্ছে না।
মিসেস সুদর্শনা সিদ্দিকী চৌধুরী বড় পুত্রের সঙ্গে থাকেন মাসের অধিকাংশ সময় কারণ ঐখানে তার দুজন খেলার সাথি আছেন যার সঙ্গে সময় কাটাতে হয়, এরপর নিজের স্বামীর সঙ্গে নিজেদের আবাসনে।আর তুহি থাকে নিজের স্বামীর জন্য নির্ধারিত অফিসার্স কোয়ার্টারে।
তাদের জন্য যথেষ্ট গৃহকর্মী,মালি সহ সবরকম সহকারী সবসময় থাকে। তাছাড়াও সুদর্শনা সিদ্দিকী চৌধুরী পুত্র বধূর বিশেষ দেখভালের জন্য বলাবাহুল্য সময় কাটানোর জন্য, গল্প করার জন্য একটি মেয়েকে নিয়োগ দিয়েছে যাতে পুত্র বধূ একা অনুভব না করতে পারে।
সুতরাং বলাই যায়,বিয়ের পর তুহির জীবনে সুখেরা ঢেউ খেলছে যেটা তাকে সুখের স্রোতে ভাসিয়ে রাখে।
ফাহাদ বউ পাগল পুরুষ।তুহিকে দু'চোখে হারায়।তাই অল্প বয়সেই যেন বউ তার গর্ভধারণ করতে না পারে তাই বোকাসোকা বউকে সে নিজেই গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের দাম্পত্য জীবন অব্যাহত রাখছে।
এসব দেখে খুশিতে নাসিফ সাহেব আড়ালে আবডালে কাঁদে। তার মন প্রস্ফুটিত হয় এই ভেবে যে তার কুড়ি দুটো ফুল হয়ে কারো ঘরের সৌন্দর্যের সঙ্গে সুগন্ধি বিলাচ্ছে তো ঠিক আছে কিন্তু তার কৃতিত্ব ঐ ঘরের মানুষগুলোর যারা ফুলকে ফুলের মতোই যতনে রাখে। দু'টো মেয়েকে সে পেরেছে যথোপযুক্ত পাত্রের অধিনস্ত করতে। তার পিতৃ জনম সার্থক।
সাত বছরের অজানা গল্পে এখানে সমাপ্তি দিয়ে ফিরে আসি বর্তমানে...
মু'য়ায নাবীহার দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলো,
“ মেয়ে কোথায়?"
“আর কই? তার ছোট মামার কাছে!"
“ ওহ,তা তোমার ছোট ভাইয়ের আবার কি হলো? দেখলাম বেশ বোম হয়ে আছে!"
“ কিছু একটা তো তার মর্জি মতো হচ্ছে না। কিন্তু কি তাই তো.... আচ্ছা ফুফু কি নাজিফার বিয়ে নিয়ে...ওরে আল্লাহ।তাহলে তো আজ ঘরে একটা তান্ডব উঠবে!"
“ কোন বিষয়ে বুবুন?"
মু'য়ায কিছুটা জানলেও ফাহাদ একদমই অনাবগত!তাই সে খানিকটা কৌতুহল নিয়েই প্রশ্ন করলো।নাবীহা উঠে দাঁড়িয়ে তাড়াহুড়ো ভঙ্গিতে বললো,
“ সে যখন উঠবে তখন টের পাবে। আল্লাহ আল্লাহ করো যেন সবটা এমনই শান্ত থাকে।"
ফাহাদ অনুভূতিশূন্য হয়ে তাকিয়ে রইলো। ঠিকঠাক প্রতিক্রিয়া আসলো তৎক্ষণাৎ। ঐদিকে নাবীহা খুব তৎপর গতিতে ছোট ভাইয়ের ঘরের দিকে ছুটলো। তাইফ তখন বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে একমাত্র ভাগ্নিকে পেটের উপর বসিয়ে আহ্লাদ করছে।তার দুই পাশে অন্য দুই সৈনিক, ভাইয়ের জমজ।
তাকিয়া ওয়াসিহা নূহা এবং তার পাঁচ মিনিটের বড় ভাই ফাত্তাহ ওয়াসীত্ব তাইব ।
কার্ডিওলজিস্ট সৈয়দ মেহবুব মু'য়ায তালিব এবং নিউরোলজিস্ট নাবীহা উসরাত গাজীর প্রায় পৌনে তিন বছরের কন্যা সৈয়দা মেহবুবা বিনতে মু'য়ায যার ডাক নাম ত্বোহা!
“ মামু,বাবু আবো?!"
ত্বোহা তার ভারি ভারি অক্ষিপল্লবে ঝাপটা দিচ্ছে আর ছোট মামুকে প্রশ্ন করছে।তার প্রশ্নের অর্থ হলো,
“ বাবু আসবো?"
তার খালামনি কোলে নিতে চেয়েছিল যেটা তার মা দেয়নি।কেন দেয়নি এটা জানার জন্য মামুকে প্রশ্ন করলে মামু জানায় খালামনির কোলে একটা বাবু আছে।যদি সে এখন খালামনির কোলে উঠে তাহলে বাবু আসবে না।তখন থেকেই সে একই প্রশ্ন করছে বারবার,
“ বাবু আসবো?"
তাইফও শান্ত গলায় উত্তর দিচ্ছে যদিও তার অন্তরে আপাতত শান্তি কাজ করছে না।ভাইয়া বলেছিলো বাবার সাথে আলাপ করবে কিন্তু করছে না কেন তাই তো বুঝতে পারছে না। ঐদিকে নাজিফার বাচ্চাটা ফোন তুলছে না। নিশ্চিত বাবা মায়ের পছন্দের পাত্রকে নিয়ে স্বপ্নে মধুচন্দ্রিমায় চলে গিয়েছে।তাইফও মনে মনে সিদ্ধান্ত স্থির করে ফেলেছে,যদি এমন কিছু করার দুঃসাহস নাজিফা করেও থাকে তবে সে নির্ঘাত ক্রসফায়ারে মারবে। একদম নিশানা ভুল হবে না।কোন ভুল নয়।
“ চাচু!"
নূহা চাচার পাশে শুয়ে শুয়ে কি কি যেন বিরবির করে বলে।কি মনে করে হঠাৎ ঘাড় তুলে চাচার দিকে চেয়ে ডাক দিলো,তাইফ ভাতিজীর ডাকে সাড়া দিয়ে,
“ আম্মা কি হয়েছে?"
“ চাচু, তুমি কি বল বন্দুক আনতে পালবে?"
“ বড় বন্দুক? তা দিয়ে কি হবে আম্মা?"
তাইফের চোখে কৌতুক,নূহা ঠোঁট টিপে দু হাত ভাঁজ করে তার উপর বাম গাল ঠেকিয়ে কাত হয়ে শুয়ে পড়লো, এরপর বেশ গম্ভীর চোখমুখে বললো,
“ ঐ যে মুতু আছে না? ঐতা ভাইয়াকে পঁচা কতা বলে।ওকে সুত করে দিবো!"
“ মুটু কে? ইয়া আল্লাহ আম্মা কাউকে এসব বলতে হয় না। তুমি এদিকে আসো।"
তাইফ ভাগ্নিকে পাশে নামিয়ে দিয়ে ভাতিজীকে টেনে নিলো।তার মনে হচ্ছে সে বোধহয় ভাতিজীটাকে একটু দূরে দূরেই রাখছে।অথচ এই বাচ্চাটাই তার কাছে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান লাগছে।ত্বোহাকে নামিয়ে দিতেই ত্বোহা ফ্যালফ্যাল চোখে মামার দিকে তাকিয়ে রইল। ঐদিকে নূহা চাচার পেটের উপর বসতে পেরে বেজায় খুশি।ফোকলা দাঁতে হেঁসে দিলো, দোলনায় উঠার মতো আনন্দ হচ্ছে তার।সে দু হাতে তালি বাজিয়ে দুলে উঠলো।তাইফ ভাতিজীর দুগাল দুদিকে টেনে দিয়ে বললো,
“ আমার পাকা আম্মা। খালি পাকা পাকা কথা বলে।"
“ তাইফ!"
এসময়েই শোনা গেলো নাবীহার গলার স্বর।তাইফ ঘাড়টা উঁচিয়ে দরজায় তাকালো।নাবীহা ভেতরে ঢুকে বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে বললো,
“ সবাই বাইরে যাও।"
নূহা পিছনে ফিরে ফুফুর দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো।ত্বোহাও একই কাজ করলো।নাবীহা দিলো হেঁসে।তার মেয়ে ছোট হলে কি হবে!ভীষণ হিংসুটে!এই মেয়ে মায়ের কোলে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারে না! যখনই সে কাউকে কোলে নিবে এই মেয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে চিৎকার করবে।নাবীহার হঠাৎ করেই মনে পড়লো কারো অতীতের কথা। ঠিক এই কাজটাই তো তার গুনধর ভাই নাফিস ওয়াসীত্ব গাজী ওরফে তাইফ সোনা করতো।
সে ফিক ফিক করে হাসতে হাসতে বিছানায় গড়িয়ে পড়লো। এদিকে তাইফ বুবুনের হাসির কারণ বুঝলো না কিন্তু মুগ্ধ চোখে সেই হাসি দেখতে থাকলো যার দরুন অজান্তেই তার ঠোঁটেও হাসির রেখা ছড়িয়ে পড়েছে।
“ ভাইরে ভাই, তুই তো ছিলি না।তাও তোর স্বভাব কি করে পেলো?"
নাবীহা পেটে হাত রেখে নিজের হাসি থামিয়ে জিজ্ঞেস করলো,তাইফ ভ্রু কুঁচকে অজ্ঞাতের জানান দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ কি বলছো? কার কথা বলছো?"
“ আর কে, আপনার ভাগ্নি। আপনার মতোই হিংসুটে। কাউকে কোলে নিতে দেয় না।তোর মনে নেই হয়তো, কিন্তু তুই যা করেছিলি ফেরা, জিফা,তুহি, রিফার বেলায় অবশ্য অতটা করিসনি। তবে তুহির সময় পুরো হসপিটাল মাথায় তুলেছিলি।এই জন্য বাবা দিয়েছিলো এক ধমক!"
কথাটা শুনতেই তাইফের হাসি মুখটা কালো হয়ে গেলো। শিশুদের মতো গাল ফুলিয়ে মুখচোখ আষাঢ়ে মেঘের ন্যায় কৃষ্ণাভ করে বললো,
“ সে তো দিবেই। বরাবরই আমার সব জিনিস সে অন্যকে দিয়ে দেয়।আমি তো তার প্রিয় পুত্র নই তাই!"
“ হাট!
এসব শুনলে বাবা কষ্ট পাবে।এ বয়সেও এগুলো মাথায় ঘোরে তোমার?"
নাবীহা ভাইকে গোটা তিনেক চাপড় মারতে মারতে কথাগুলো বললো।তাইফ নিরুত্তাপ, নির্বিবাদে নিশ্চুপ রইলো।
“ আচ্ছা এখন বলো বাবার সাথে আবার কি নিয়ে তোমার দ্বন্দ্ব হচ্ছে?"
“ কেন হবে না বলো!?"
এই সময়ে তাইফ নূহাকে কোল থেকে নামিয়ে বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে করে বললো,
“ আমার আম্মাজান আব্বাজান আপনারা বাইরে যান।চাচু, মামু একটু পরই আসছি মজা কিনতে যাবো।সবাই বসার ঘরে বসে অপেক্ষা করুন, দ্রুত যান।ফাস্ট, ফাস্ট!"
ত্বোহা পেট খাটের সাথে আটকে বহু কসরতের পর নিচে নামলো টেনে টেনে।একই কায়দায় বাকীরাও।এতে করে তাইফের গোছানো বিছানার চাদরের অর্ধেক অংশ এখন জমিনে গড়াগড়ি খাচ্ছে।সে সেটা দেখলো করুন চোখে। এদিকে তার চাহনি আর মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বুঝে নাবীহা আবারও হাসিতে ফেটে পড়লো।
তাইফ গালে হাত ঠেকিয়ে বুবুনের হাসি দেখলো অপলক।সে কখনো কোন কারণেই বোনদের হাসি থামায় না।তার কথা, কারণ যেটাই হোক তার বোন তো হাসছে।এটাই সবচেয়ে বড় পাওনা তার, তাদের কাছে।এটা সে এবং তার ভাইয়া দুজনই বাবার থেকে শিখেছে,মামুর থেকে শিখেছে।
নাবীহা ঠোঁটে আঙুল ঠেকিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে আবারও জিজ্ঞেস করলো,
“ বলো কি হয়েছে?"
তাইফ আবারও গাল ফুলিয়ে রাখলো,হাত দিয়ে বালিশের কোনা খুচাতে থাকলো।
“ আহ্,না বললে বুঝবো কি করে?"
“ বাবা জিফার বিয়ে ঠিক করে নিয়েছে,অথচ একবারও আমার কথা ভাবলো না? মাঝে মধ্যে মনে হয় সত্যিই আমাকে কুড়িয়ে এনেছে!"
বলেই মাথার নিচে হাত রেখে সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো।নাবীহা আবারও হাসিতে মেতে উঠেছে।তাইফ অভিমান জারি রেখে বললো,
“ হ্যা হ্যা হাসো।তোমাদেরই দিন।"
“ আচ্ছা,হাসবো না কিন্তু একটা কথা বুঝতে পারছি না।জিফার বিয়ে হলে তোমার কি? তুমি কেন রিএ্যাক্ট করছো?"
“ বুবুন প্লিজ,বুঝেও না বুঝ হয়ে আমাকে লজ্জা দিও না!"
“ ইয়া আল্লাহ লজ্জা পাচ্ছো? কিন্তু কেন?"
“ ধ্যাত! ভাইয়া কখন গিয়েছে বাবার সাথে কথা বলতে! এতক্ষণ লাগে?দেখো আমি নির্ঘাত একটা ঝামেলা বাঁধিয়ে ছাড়বো বলে দিলাম। তাও আমার জিনিস আমি কাউকে দিবো না!"
“ ওরে বাব্বাহ! এত পজেসিভনেস! জিফাটা কত্ত ভাগ্যবতী, আমার এই পাগলা ভাইটার নজরে আটকেছে!"
নাবীহা তাইফের থুতনি ধরে ঝুলিয়ে বললো কথাটা।তাইফ লজ্জায় লাল টমেটোর মতো রঙিন হয়ে থুতনি সরিয়ে নিয়ে বললো,“ যাও, লজ্জা পাচ্ছি আমি!"
“ ওওওওও!
থাক বেশি লজ্জা পেয়ে ভ্যানিশ হওয়ার আগেই বলি, শোন, কানে কানে!"
“ কি !"
“ এদিকে আসো!"
তাইফ একটু এগিয়ে গেলো,নাবীহাও খানিকটা এগিয়ে এলো, অতঃপর কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,
“ জিফার কোন বিয়েটিয়ে ঠিক হয়নি।ঐটা শুধু তোমার মন চেইক করার জন্য বলা হচ্ছে।আর বাবা আম্মু খুব তাড়াতাড়ি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নিয়ে ফুফার সাথে সাক্ষাৎ করবে,বাবা আম্মু চাচ্ছে তোমার এই ছুটিতেই জিফাকে আমাদের বাড়ির ছোট বউ করে ঘরে তুলতে।বুঝছো? মন শান্ত হয়েছে?"
তাইফ সবটা শোনার পর মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় তাকালো বোনের দিকে।খুশিতে যে সে বাকহারা তা তার চোখের কোনে জমা মুক্তকনা জানিয়ে দিলো।লজ্জায় পুরো ফর্সা বদন একদম রেড চেরি হয়ে আছে।সে মুখটা ঘুরিয়ে এদিকে ওদিকে তাকিয়ে ফের বুবুনের ঘাড়ের উপর মুখ গুজে দিয়ে ছোট্ট তবে শব্দ করে শ্বাস ছাড়লো যেটার সাথে বেরিয়ে আসলো তার সব হতাশার অবসান ঘটার প্রমাণ।
তখনই ঘরে ঢুকলো তুহি,সে ওড়না দিয়ে মুখটা মুছতে মুছতে ডাক দিলো,
“ ভাইয়া, কি করছো তোমরা?"






0 মন্তব্যসমূহ