#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১১৩
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
বিকেল বেলা......
বাগানের সেই দোলনায় পাশাপাশি বসে আছে মু'য়ায,নাবীহা। দুপুরে খাওয়ার পর খানিক সময় ভাত ঘুম দিয়েছিল দুজনে।স্থান পরিবর্তনের কারণে মু'য়াযের একটু সমস্যা হচ্ছে।যদিও কিছু করার নেই,এটাতে অভ্যস্ত হতে হবে। যেভাবে হবে নাবীহাও।
পাশাপাশি বসে দুজন টুকটাক আলাপ করছে। বিশেষত্ব প্রেমালাপ না। একজন হার্টের ডাক্তার আরেকজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থী।যার আপাতত বায়োকেমিস্ট্রি কোর্স চলছে।মু'য়ায সহধর্মিণীর পড়াশোনা নিয়ে ভীষণ সিরিয়াস, এবং তার জন্য তাকে যথেষ্ট সম্ভব পরামর্শ দিচ্ছে।নাবীহাও দারুন চমৎকার শ্রোতা হয়ে অধ্যক্ষ স্বামীর উপদেশ শ্রবণ করে ব্রেইনের স্মৃতি চ্যানেলে জমা করছে।
“ যখন দেখবে পেসেন্ট হার মানছে তখন থেকেই শুরু হবে তোমার মেইন কাজ।আর সেটা হচ্ছে পেসেন্টকে ইনকোয়ারেজ করা।মনে রাখবে বাঁচার ইচ্ছা আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে। হৃদয়ে চাপ বাড়াবে তবে সেটা বাঁচার জন্য কিন্তু আদারস প্রেসার যেন পেসেন্টকে এ্যাটাক করতে না পারে এটা হবে তোমার সর্বোচ্চ লক্ষ্য রাখার ইস্যু।
আর.. আমাদের সার্জন মাইনুল হাসানকে তো চিনো? তোমাদের সম্ভবত একটা লেকচার দিয়েছিল! উনি কিন্তু হেব্বি প্রোফাইলড! আমার এক ব্যাচ সিনিয়র। আমাকে যথেষ্ট স্নেহ করতো,ইভেন পড়াশোনার জন্য আমি অনেক হেল্প পেতাম উনার কাছ থেকে।উনি কিন্তু সুইডেনের শ্যালগ্রেনেস্কা ইউনিভার্সিটি হসপিটালে দু বছর প্র্যাকটিস করেছিলেন, তারপর সেখান থেকে চীনের পেকিং ইউনিয়ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছিলেন আড়াই বছর। তারপর কেন জানি হঠাৎ করেই দেশে ফিরে এলেন। কৌতুহলী দেখে বলেছিলেন,নিজ দেশ ছাড়া নাকি ভালো লাগে না। তাছাড়াও.... উনি তো স্কলারশীপে ছিল আমাদের মেডিক্যালে আর মোটামুটি নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান দেখে একাডেমিক খরচ বেয়ার করতে পারতো না তাই আমাদের তখনকার শিক্ষকদের সহায়তা আর ডিনের মানবিকতায় অনেক দিক থেকে ছাড় পেতো। বলাবাহুল্য সেটা অবশ্যই প্রশাসনের মাধ্যমে পেতো।তো উনার কথা ছিল যেই দেশের আলো বাতাসে বড় হয়েছি,যেই দেশের মানুষের সহায়তা নিয়ে এতদূর এসেছি তাদের জন্য অন্তত কিছু তো দিতে পারি।যা আছে, যতটুকু আছে তাই নিয়েই না হয় চেষ্টা করলাম।
জানো উনি কিন্তু প্রতিমাসে দু'টো মেডিকেল ক্যাম্পিং করেন এবং দশজন রোগীকে ফ্রি সার্ভিস দেন। অপারেশনের জন্য ডোনেশন তুলে নিজে ফ্রি ট্রিটমেন্ট করে।আমাকে বলেছিলেন যেন একটা দিন সময় দেই!"
এতখানি বলে মু'য়ায থামলো।নাবীহা কৌতুহলী চোখে চেয়ে আছে।মু'যায় দূর দেওয়াল ঘেঁষে বেড়ে উঠা বাগান বিলাসের লতায় চোখ রেখেও বুঝলো সহধর্মিণীর মনোঃচিন্তা।সেই উত্তর করলো,
“ ভাবছি একদিন সময় দিবো।কি বলো?"
এ কথাটা শুনতে চেয়েছিল নাবীহা এবং সে শুনতেও পেল। ঠোঁট প্রসার করে হাসলো।গলায় বিনীত আবেগ ঠেলে অনুনয় করে বলল,
“ আমাকেও নিয়েন প্লিজ। অন্তত নার্সিং তো করতেই পারবো!"
মুখ ফিরিয়ে দেখলো অপূর্ব সুন্দরী এই নারীকে।লাইট পিচ কালার সুতি কামিজের উপর সাদা রেশমি সুতার হাতের কাজ করা,মাথায় সাদা ওড়না,তাতে পিচ কালার পাড় দেওয়া,নাকে জ্বলজ্বল করছে ছোট্ট ডায়মন্ড নোস পিন,গলায় চিকচিক করছে সোনার উপর ছোট ডায়মন্ড লকেট দেওয়া চিকন একটা চেইন, কানে এক জোড়া চাপা টপ তাতেও রয়েছে ছোট দুটো ডায়মন্ড,হাতে দু জোড়া চিকন চুরি। আগাগোড়া অলংকৃত নারীটি'কে দেখলেই বোঝা যায় সদ্য বিবাহিতা। অলংকার ছাড়া আর কিছুই নেই সারা অঙ্গে।নেই কোন নকল প্রসাধনীর ছাপ। একদম ঝকঝকে পরিষ্কার মুখশ্রী।ঘুম থেকে উঠার দরুন খানিকটা ঘুমুঘুমু ভাব রয়ে গিয়েছে। অপলক চাহনিতে দেখে নিল নিজের সদ্য হওয়া বিবিকে।প্রথম যেদিন দেখেছিল সেদিন তো শুধু এক জোড়া গ্লাসে আবদ্ধ আঁখি দেখেছিল আর এখন? এই নারীর এই রুপ, মাধুর্য, কামিনীর ন্যায় সুগন্ধি সবটাই তার।
প্রথম দেখায় মুগ্ধ হয়েছিল বটে তবে প্রথম প্রেমে পড়েছিল যেদিন তার সঙ্গে একঝাঁক শিক্ষার্থীদের নিয়ে পেসেন্ট ভিজিটে গিয়েছিল।তখন দেখেছিল রোগীর প্রতি এই নারীর দরদ, সহমর্মিতা আর সেবার তাগিদ।সেদিন'ই ভেবেছিল সঙ্গী হিসেবে একেই পছন্দ তার এবং করেই নিবে।তাই তো নিজের যোগাযোগের মাধ্যমে এই নারীর বায়ো খুঁজে বের করে,যখন জানতে পারলো তার বাবার এড়িয়ার ব্যাবসায়ির মেয়ে এবং পরিবারের অতিরিক্ত আদর আহ্লাদে বড় হওয়া বড় মেয়ে। ধার্মিক, শান্ত এবং সংসারি। তখনই তার বাবা মায়ের কাছে নিজের অভিব্যক্তি জাহির করলে তারাও ছেলের পছন্দের গুরুত্ব দিয়ে কন্যার বাড়ি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায়।
অতঃপর এখন তারা পাশাপাশি।
স্বামীর অপলক চাহনিতে লজ্জা পেয়ে নিজের দৃষ্টি নামিয়ে নিয়েছ নাবীহা।কিছু মুহূর্তের নিরবতা, শব্দহীন কিছুটা না বলা অনুভূতি ব্যক্ত করা। দৃষ্টির আড়ালে ভাব বিনিময়,না ছুঁয়েও ছোঁয়ার শিহরণ।
যখন একে অপরের প্রতি নিরব আবেশে মিশে যাচ্ছিল ঠিক তখনই কিছু একটা পড়ার শব্দে দুজনের কান খাড়া হয়ে গেল।একে অপরের দিকে ভ্রু কুঁচকে প্রশ্নাত্মক চাহনিতে চেয়ে দু'জনে এক সাথে উঠে দাড়িয়ে একই সঙ্গে বলল,
“ কি পড়লো?"
মু'য়ায নাবীহার দিকে চেয়ে রইল,আর নাবীহা পা বাড়িয়ে একটু এগিয়ে গিয়েই যা দেখলো তাতে সে হতভম্ব হয়ে গিয়েছে।তার বোনেরা সব একটার উপর আরেকটা পড়ে রয়েছে, আরেকজন তার দেখা মিলতে'ই দৌড়ে ভেতরে ঢুকছে যদিও সে খুব ভালো করেই বুঝলো ঐটা কে?
কোমরে হাত রেখে একটু রাগার চেষ্টা করে বলল,
“ কি হচ্ছিলো এখানে? অসভ্য মেয়েগুলো! দাঁড়াও, আড়িপাতা হচ্ছে না!আসুক ভাইয়া, আজই বলবো।তার বোনেরা যে সব হাঁড়ি পাকা হচ্ছে তাতো তাকে জানাতে হবে, তাই না?"
বড় বোনের রাগান্বিত হুমকিতে আসলেই ভয় পেল নাজিফা।সে এখানে আসতেই চায়নি।তাকে তো ফেরা আর তুহি টেনে এনেছে তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রিফা, জুঁই, হিমিও তাকে টেনে হিচড়ে নিয়ে এসেছে।সে তো জানে বড় ভাইয়া কিছু না বললেও যে বলার সে সবার সামনেই ওকে চড়াবে। তার মায়ের সামনেও তো ঐ রাগী লোকটা ধমকায়,হুমকি দেয়।মামু ছাড়া কাউকে তোয়াজ করে না ঐ লোকটা।ইস্ কি হলো এটা?নাজিফা মনে মনে আওড়ালো,
“ তুহির বাচ্চা ফাঁসিয়ে দিয়ে এখন নিজে গিয়ে খিল দিয়েছে। নিজের পিঠ বাঁচিয়েছে।
_ কি হবে এখন আমার? আগেই বলেছে যেন দুলাভাইয়ের আশেপাশে ঘুরঘুর করতে না দেখে। দুলাভাইয়ের থেকে একশো কদম দূরে থাকতে।অত কিসের জিজু জিজু? মুসলিম মেয়েদের জিজু,দেওর থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা আছে। তাদের আগেপিছে ঘোরা নয়!"
এর মধ্যেই পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মু'য়ায! সে ঠিক বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে এখানে তবে অনুমান করছে।চোখ দুটো ছোট ছোট করে সব শ্যালিকাদের দিকে চেয়ে একটু রসিকতা করে বলল,
“ কি ব্যাপার শালিক পাখিরা, আড়িপাতা হচ্ছিলো কেন? দিস ইজ ব্যাড ম্যানার্স,নট গুড থিং! ইয়্যু সুডেন্ট ডু ইট এগেইন!"
সবাই একটু অনুশোচিত হলো।এর মধ্যেই সবাই উঠে দাঁড়িয়ে নিজেদের গায়ে লাগা ধুলা ঝাড়তে ঝাড়তে থাকলো, তাদের মধ্যে সর্দার ভূমিকা পালন করা ফেরা বলল,
“ স্যরি জিজু,আসলে আমরা আড়ি পাতছিলাম না,আমরা তো একটা আবদার নিয়ে আসছিলাম এর মধ্যেই এই মুটিটা পড়ে গিয়ে আমাদের সবাইকে ফেলে দিল।"
বলতে বলতেই রিফার মাথায় চাটি মারলো।ব্যথা পেয়ে চোখ মুখ কুঁচকে রিফা চেঁচিয়ে বলল,
“ মাথায় মারবে না বলছি না।আমি ভাইয়াকে বলে দিবো!"
নাবীহা নিজের বোনদের ভালোই চিনে তাই সে গলা উঁচিয়ে ধমকে বলল,
“ এ্যাই থাম সব।কি হচ্ছে কি এগুলো? আর কিসের আবদার আবার হ্যাঁ? তোদের সব দাবী দাওয়া না পূরন করা হলো এখন আবার কিসের আবদার?"
“ আচ্ছা ঠিক আছে বলতে দাও! বলো কি চাই?"
“ আপনি এদের কথায় ধ্যান দিবেন না প্লিজ, এদের দাবীর শেষ থাকবে না। আল্লাহ জানে এখন আবার কোন বদ মতলব এঁটে বসে আছে!"
“ বদ মতলব না বদ মতলব না দুলাভাই; আমরা ভালো মতলবে এসেছি।এখন আপনার বউ অনুমতি দিলেই বলতে পারি!"
হিমি বলল।হিমি নাবীহার বছর খানেক ছোট।সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের আছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে।নাবীহা চোখ রাঙানি দিয়ে ছোট বোনদের দিকে চেয়ে রইলো।মু'য়ায অভয় দিয়ে বলতে বললে ফেরা বলল,
“ আমরা সবাই বেড়াতে যাবো। আমাদের বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে।"
“ কিহ! মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে সব কটার? উনার এত সময় আছে? কাল থেকে হসপিটালে যাবে আর তোমরা..."
“ আচ্ছা ঠিক আছে! কোথায় যেতে চাও, ঠিক করেছো কিছু?"
বোনের ধমকাধমকির তোয়াক্কা না করেই তারা দুলাভাইয়ের সাথে নিজেদের ইচ্ছা প্রকাশ করছে,
“ ইয়ে মানে তুহি বলছিল পদ্মার পাড়ে নাকি কোন রিসোর্ট আছে, সেখানে গিয়ে পিকনিক করবে। রান্না করবো না, শুধু মজা করবো।"
কোমরে হাত দিয়ে বোনদের এহেন আবদার হজম করছে নাবীহা। কোনরকম দোনামোনা ছাড়াই মু'য়ায রাজী হয়ে গেল।
“ আচ্ছা কাল তৈরি থেকো,আর যারা যারা যাবে তাদেরকেও বলো।"
“ ইয়েএএএ থ্যাংকু জিজু।ইয়্যু আ সোওওওওও কিউট।বাই বাই বেহনা।"
বলেই সব কটা বদ ভেতর দিকে দৌড় দিল। তাদের সঙ্গে দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ছায়াটাও সরে গেল।
এত সময় দরজার আড়ালে লুকিয়ে থেকেই সবটা শুনছিল তুহি।এই প্ল্যানের মাস্টার মাইন্ড সে নিজেই।সকালে এটারই বুদ্ধি আঁটা হচ্ছিল।নাবীহাও আর কিছু বললো না।একটা মাত্র দুলাভাই,যা খুশি করুক।
সন্ধ্যার চা নাস্তার পর্বে বাইরে বসার ঘরে বসে বড়রা গল্প করছিল, ঐদিকে ছাদের সুখ প্রান্তরে বসে ছোটরা আড্ডা দিচ্ছিল।নাইফ চেয়ার পেতে ছাদের কর্ণার ঘেঁষে বসে বইয়ে মুখ গুঁজে আছে। ছোট বোনটাকে দেখভালের জন্য সে ছাদে উঠেছে নয়তো ছোট বোন জামাইয়ের সাথে এভাবে আড্ডা দেওয়া তার শিক্ষক রুচিতে বাঁধে।আরো একটি বিশেষ কারণ হচ্ছে মু'য়ায বয়সে তার তিন বছরের বড়, ঐদিকে সম্পর্কে ছোট! দু'জন'ই সম্বোধনের বিষয়ে ভীষণ বিব্রত হয়।
দুজনই পজিশন অনুযায়ী যথেষ্ট স্টাবিলিসড।একে অপরকে ভাইয়াও ডাকা যাচ্ছে না আবার ডাকা ছাড়াও উপায় মিলছে না।তাই সে যথেষ্ট সরে সরে থাকছে, যদিও তার মনে হচ্ছে তাতে কোন সমস্যা নেই। বোনের স্বামী,সে তো আর তার বন্ধু নয়। আবার সম্পর্কটা খুবই স্পর্শকাতর,সে তো দেখেছে তার মামু কিভাবে তোয়াজ করে কথা বলতো তার বাবার সাথে। শুধুমাত্র বোনের সুখের জন্যই তো করতো।এখন সেই ভূমিকায় তার অবস্থান।
তুহি খিমার পরে ছোট ভাইয়ের কোল ঘেঁষে বসেছে,তাইফ বোনের সাথে লেগে বসে দৃষ্টি স্থির রেখেছে নাজিফার দিকে।বিরবির করে বলছে,
“ দাঁড়া আজকেই তোর এমন রঙ মাখার বন্দোবস্ত করছি। আজীবনের জন্য রঙ মাখা বন্ধ হয়ে যাবে!"
একটু সাজুগুজু করেছে আজও।তাই এমন বিরক্তি তার মধ্যে। ঐদিকে নাজিফা বেমালুম ভুলে গিয়েছে যেন তাইফের উপস্থিতি।সে দিব্যি তার স্কুলের কোন ছেলে তাকে কিভাবে ট্রিট করে তা নিয়ে গল্প মেলে বসেছে।যা শুনে সবাই হেঁসে গড়িয়ে পড়ছে এমন কি নতুন জামাইও।
বসার ঘরে.....
“ আল্লাহ দিলে কাল তো চলে যাবো। তুমি তো কিছু বললে না আফিয়া। দেখো আমি জানি তুমি এখন ওদের আসল গার্ডিয়ানের একজন,যতই হোক আমার বোনের রেখে যাওয়া,আমার বোনের পেটের সন্তান কিন্তু লালন পালন তো করেছো তুমিও তাই তোমার ইচ্ছেই সব হবে,সে আমি যতই ভালো চাই না কেন?"
“ এভাবে কেন বলছেন আপা। অবশ্যই আপনার ভাগ্নে ভাগ্নির বিষয়ে মতামত দেওয়ার অধিকার আপনার আছে। কিন্তু মাত্রই তো মেয়েটার বিয়ে দিলাম,এখনই ছেলের জন্য ভাববো? একটু সময় চাইছিলাম আর কি!ভাবার জন্য না হোক, অন্তত ওর বাবাকেও তো বলতে হবে।
একটু সময় সুযোগ হলে না হয় পরে বলা যায় এমন গুরুত্বপূর্ণ কথা তাই না।"
“ আচ্ছা,বলো তোমার সময় করে।তবে যদি বলো তবে আমিই না হয় সরাসরি নাসিফের সাথে কথা বলি।
_ আসলে আমি চাইছিলাম যাওয়ার আগে একটা ফাইনাল কথা নিয়ে যেতে যাতে গিয়ে ঐদিক'টা সামলাতে পারি।বোঝ'ই তো এতিম মা মরা মেয়েটা।ননদের হলেও আমি কখনো নিজের মেয়ের চেয়ে কম দেখিনি।তাই একটু বেশিই চিন্তা হয় মেয়েটাকে নিয়ে।একটা ভালো পাত্র পেলে সব চিন্তা ঘুঁচতো।আর আমার কাছে আমার নাইফের চেয়ে ভালো ছেলে আর কোথায় থেকে আসবে?
তুমি শ্বাশুড়ি হিসেবে নেহায়েৎ মন্দ না,আমি একটা ভরা সংসারে মেয়েটাকে দিতে চাই। আজন্ম এতিম , মাতৃস্নেহ ছাড়া বড় হওয়া মেয়েটা যদি তোমার সংসারে এসে একটু মাতৃস্নেহ,মমতা ভালোবাসা পায়,ভরা সংসারের স্বাদ পায় সত্যি বলতে এতিমদের বোধহয় এতটুকু চাওয়া'ই থাকে!
আমি নিজের ভাগ্নি বলে বলছি না আফিয়া,মেয়ে হিসেবে আমার নূর ভীষণ সাংসারিক।একটু বাচ্চামো আছে,বোঝ'ই তো মা ছাড়া ঐ জাপানের মতো শহরে বড় হয়েছে।ওর মা মারা গেল ওর পাঁচ বছর বয়সে এরপর ওর বাবা ভদ্রলোক আর বিয়ে করলেন না।একাকী একটা জীবন প্রিয়তমা স্ত্রীকে ভালোবেসে উৎসর্গ করলেন,এক হাতে এত বড় একটা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং পোস্ট সামলালেন আরেক হাতে মেয়েকে করতে থাকলেন লালন পালন।হাহ্!
একেই বলে সত্যিকারের ভালোবাসা, কাউকে একবার ভালোবাসলে শত বছরেও তার জায়গায় অন্য কাউকে বসানো যায় না।কি ত্যাগ! বলো? যখন আমার ননদ মারা গেল,নূরের মা আর কি! তখন কতটুকুই আর বয়স ঐ ভদ্রলোকের? চাইলেই কিন্তু আরেকটা বিয়ে করতে পারতো,আমরা অনেক বুঝিয়েছি,মেয়ে দেখেছি কিন্তু তার সেই একই কথা আপনার ননদের জায়গায় কাউকে বসাতে পারবো না।এক হাতে মেয়ের দায়িত্ব অন্য হাতে কর্ম! থাকে তো জাপান,কত করে বললাম মেয়েটাকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন।তাও দিল না।বললো তার মেয়ে তা স্ত্রীর চিহ্ন,চোখের সামনে থাকলে তার শান্তি লাগবে।আমরাও আর জোর করিনি।কথা তো ভুল বলেনি তাই না! তবে জোর কেন করবো?
তুমি নাসিফের সাথে বলো সমস্যা নেই,তবে আমারও বোধহয় একবার বলা উচিত আফটার অল তো ওদের আপন বাবা!"
চলমান....







0 মন্তব্যসমূহ