#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১১০
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
নাবীহার বিয়ের পাকা কথার আজ পনেরো দিন পেরুলো।মু'য়ায খুব শিগগিরই সিঙ্গাপুর যাবে নিজের এমডি কোর্স সম্পন্ন করার জন্য।ভিসা প্রসেসিং চলছে।তার আগেই মার্জিয়া খানম ছেলেকে পিছু টানে বাঁধতে চাইছিলেন যাতে বিদেশে থেকে যাওয়ার মতিভ্রম না হয়।তাই খুব তাড়াহুড়ো করেই অন্তত আকদ হলেও করিয়ে রাখতে চেয়েছেন। কিন্তু নাসিফ আফিয়ার কথা আকদ নয়, পুরোপুরি আনুষ্ঠানিক বিয়েই হোক।
মার্জিয়া খানম আর মেহবুব সাহেবে'রও কোন সমস্যা নেই।সম্মতি দিয়ে দিলেন।
সেই থেকেই চলছে থেমে থেমে শপিং করা।
নাইফ নাবীহার আপন খালামনি'ও তার পরিবার নিয়ে এসেছে বোন'জির বিয়েতে অংশগ্রহণ করতে।
নামিরা একমাত্র বোনের রেখে যাওয়া একমাত্র মেয়ের বিয়েতে অংশগ্রহণ করার জন্য দেশে এসেছে।তার বাবা মা দুজনই পরলোকগমন করেছে।তাই তার আর দেশের প্রতি বিশেষ টান নেই। যতটুকু যোগাযোগ সবটাই কেবল পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার্থে। যদি-ওবা সওদাগর সাহেব মৃত্যুর আগেই সবটা ভাগবাটোয়ারা করে দিয়ে গিয়েছেন।নাইফ,নাবীহাকেও তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি। ছোট মেয়ের অংশের সবটাই তার রেখে যাওয়া দুই সন্তানের নামে সম-ভাগে লিখিত করে দিয়েছেন যাতে কেউ গোলযোগ না পাকায়।
নামিরা নিজের ব্যস্ততার মাঝেও নাইফ,নাবীহার বিশেষ দিনে খোঁজ নিতে ভুলে না।নাইফ, নাবীহাও তার খালামনির সাথে সুসম্পর্ক রেখেই চলেছে। যদিও দেখা সাক্ষাৎ এত বছরের মধ্যে কেবল তিন বার হয়েছে মা মারা যাওয়ার পর।তবুও নাড়ীর টানে খুব একটা বিচ্ছিন্নতা আসেনি।এমনকি তারা এর মধ্যেই একবার তার খালামনির কানাডার বাসায় গিয়েও বেরিয়ে এসেছে।তাদের সঙ্গে তাইফও গিয়েছিল। নামিরা তাইফ'কেও অনেক যত্ন আদর দিয়েছে।যেটা তাইফ নিজেই এসে তার মায়ের সঙ্গে খুব গর্ব করে বলেছিল।
নাইফের জাপানে স্টাডি-কালীন সময়টাও সহজ হয়েছে অনেকটাই নামিরার কারণে।জাপানে নামিরার এক ননদে'র আবাস,তার মাধ্যমে'ই নিজ ভাগ্নের টুকটাক প্রয়োজন, সমস্যার সমাধান করেছিল সে।
মেয়ের বিয়ে নিয়ে আলোচনা ওঠার পরই আফিয়া নামিরা'কে জানায়।সেও সম্মতি দেয় বিয়েতে।
সেই তথ্যানুযায়ী'ই আজ সে দেশে। অবশ্য দেশে এসেছে আজ তিনদিন হল। উঠেছে গাজী বাড়িতেই।
যদিও তার বাবার বাসায়'ই উঠতে চেয়েছিল কিন্তু নাসিফ নিজেই বারণ করেছে,এত বছর পর মৃত স্ত্রীর একমাত্র জীবিত আপন বোন,আত্নীয় দেশের মাটিতে এসেছে তাও একা একটা শূন্য ঘরে থাকবে সেটা সে মানতে পারেনি।আবার আফিয়াও বলেছে যাতে তাকে এই বাড়িতেই থাকতে বলে।সবার অনুরোধেই নামিরা গাজী বাড়িতেই থাকছে।
“ তুমি এটা দেখতে পারো মাম্মা!
_ ইটস্ লুক লাইক লিলি'স কালার'স! ইজেন্ট ইট?"
“ হুমম ঠিক আছে খালামনি কিন্তু!"
“ এত কি ভাবছো? এখন সবাই বিয়েতে লাইট কালারই পরে। তাছাড়াও তুমি ফর্সা, লম্বা। তোমার গায়ে এই রঙটা জাস্ট মাখনের মতোই ফুটে থাকবে। সঙ্গে যদি দাও একটু ডার্ক সাজ!আমি তো কল্পনা করেই চমকে যাচ্ছি কি দারুন লাগবে তোমায়!"
নিজের বড় খালার কথায় নাবীহা খিলখিল করে হেসে দিল।যদিও সে মুখের উপর বলতে পারছে না দেখে একটু কষ্ট হচ্ছে তবুও।সে শাড়ি নিবে অবশ্যই তার মায়ের পছন্দে।তার জন্য উপযুক্ত রঙ আর ধরণ তার মায়ের চেয়ে ভালো কে বুঝে। তাছাড়াও সে যেই রঙেরই নিক,সেটা তো পরে কাউকে দেখাবে না।তা থাকবে কালো রঙের বোরকার নিচে চাপা পড়ে।সো কি রঙ নিলো তাতে কি?
নারায়ণগঞ্জ জামদানি পল্লীতে এসেছে তারা আজ। উদ্দেশ্য ভালো জামদানি সিলেক্ট করা। যেহেতু সময় খুব একটা নেই।মোটে সময় মাত্র এক মাস।এর মধ্যেই পনেরো দিন শেষ।এখন শুধু ভালো একটা জামদানির দরকার।
পদ্মফুলের ছাঁচে ডিজাইন করা সুন্দর একটা জামদানী,যার রঙটাও পদ্মফুলের। দারুন চমৎকার এই জামদানিটা তুলে নিয়ে নামিরা ভাগ্নির গাঁয়ের উপর ফেলতেই সে যেন কল্পনায় নিজের বোনকে হাজির করল বোনের মেয়ের পাশে।মুখ ফুটে বলেই দিল,
“ ঠিক যেন তোমার মাম্মা!"
নাবীহা বুঝলো না খালামনি ঠিক কার কথা বলছে। সে শুধু খালামনির কথায় মুচকি হেসে নিজের মায়ের দিকে তাকালো।আফিয়া কিন্তু ঠিকই বুঝতে পেরেছে তবে কোন কথা বলছে না।
এখানে শপিংয়ের জন্য নাবীহার হবু শ্বাশুড়ি,তার একজন ভাতিজী,মু'য়াযের চাচাতো বোন,আফিয়া,নামিরা,নাবীহা আর জেসিকা এসেছে। সঙ্গে ছেলেদের মধ্যে আছে ড্রাইভার,আর নাইফ,নামিরার ছেলে নিদ্র!
আসার পর থেকেই প্রতি কথায় নামিরা সব কিছুর সাথেই নিজের মৃত বোনকে স্মরণ করে, পার্থক্য করে।
যদিও সে এটা স্বেচ্ছায় করছে কি-না,কিংবা আবেগে তা কেউ বুঝতে পারছে না তবে বিষয়টি যে একটু বেশি বেশিই হচ্ছে অন্তত বাচ্চা দুটোর জন্য। কারণ এই সময়ে নিজের মৃত মাকে স্মরণ করে কষ্ট পেলে নিশ্চয়ই কারো ভালো লাগবে না।
কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলাও যায় না।তাই চুপচাপ শুনেই যাচ্ছে।
নামিরার কথা শুনেই আফিয়া চোখ ঘুরিয়ে দোকানের দিকে ফেলতেই তারা চোখ আটকালো টকটকে লাল একটা জামদানির উপর,যার পুরোটায় হালকা চিকন তারের জড়ির কারুকাজ করা।চোখ ধাঁধানো রঙটা আফিয়াকে মুহূর্তে বশ করে ফেলল।সে টুল ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে দোকানিকে বলল,
“ ভাই ঐ লাল শাড়ীটা দেখি একটু!"
দোকানি শাড়ীটা বের করে আফিয়ার হাতে দিতেই আফিয়া ভাঁজ খুলে হালকা করে নাড়াচাড়া দিয়ে মুখটা তুলে কিছু একটা ভাবলো, অতঃপর মেয়েকে বলল,
“ দেখি মা! এটা ধর তো গায়ে আমি একটু দেখি।"
আগাগোড়া কালো বোরকায় মোড়ানো মেয়েকে কিভাবে আফিয়া কল্পনা করে পোশাক কিনে তা কেবল আফিয়াই ভালো জানে।তবে প্রতিটি রঙ, ডিজাইনই থাকে মনোমুগ্ধকর।যার কারণে নাবীহা এত বড় হয়েও মায়ের পছন্দের উপর শতভাগ নিশ্চিত থাকে।
শাড়ীটা খুলে আঁচলটা মেয়ের কাঁধের উপর ফেলে, ঝটপট হাতে কয়েকটি কুঁচি বানিয়ে পেচ দিয়ে মেয়েকে আদো আদো শাড়ী পরিয়ে অপলক চোখে দেখতে থাকলো আফিয়া। ঠিক এমন সময়েই আফিয়ার শ্বাশুড়ি বলে উঠল,
“ কি অপূর্ব লাগছে শাড়ীটা,রঙটা তো দারুন চোখ ধাঁধানো!"
পাশে বাঁশের খুঁটিতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে থাকা নাইফ বলল,
“ ইটস্ রিয়েলি বিউটিফুল এন্ড এলিগ্যান্ট আম্মু! নাবু এটা দেখতে পারিস! তোকে এর চেয়ে সুন্দর আর কোন শাড়িতে লাগবে না আমি ড্যাম শিওর।"
আফিয়ার মুগ্ধতা কাটছে না।সে মেয়ের গায়ের পরে থাকা লাল ঐ জামদানির দিকে চেয়ে আছে অপলক।মার্জিয়া খানম বললেন,
“ এটাই নাও বউমা।আমার বেশ পছন্দ হয়েছে তাছাড়াও বিয়ের দিনে নতুন বউ লাল না পরলে কি বিয়ে বিয়ে লাগে?"
নাবীহা কথা বলছে না।সে নিজের মায়ের দিকে চেয়ে আছে।আফিয়া এত সময়ে চোখ তুলে তাকালো, অতঃপর মেয়ের চোখে মায়াময় চাহনিতে তাকিয়ে বলল,
“ অনেকের কাছেই বিয়ের লাল রঙটা ব্যাকডেটেড মা।এখন মানুষ আনকমন আর ভিন্ন থাকার তাগিদে বিভিন্ন রঙ পছন্দ করে। কিন্তু বাঙালী বিয়ে মানেই লাল।ঠিক যেন ঐতিহ্য।লাল ভালোবাসার রঙ। তুমি নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছো।যেখানে সবচেয়ে বেশি দরকার ভালোবাসা; ভালোবাসা বৈ তুমি কোন সম্পর্ক'ই সুন্দর ভাবে গুছাতে পারবে না,সাজাতে পারবে না। ঘর বাঁধার সবচেয়ে দামী আর গুরুত্বপূর্ণ জিনিস'টাই হচ্ছে ভালোবাসা,যেটায় ঘরটা টিকে থাকে।আর সে ভালোবাসার রঙ বলা হয় লালকে।
সবচেয়ে বড় কথা কি বল তো আম্মা, নতুন যতই আবেদনময়ী হোক,পুরাতনের সেই ঐতিহ্য,গৌরব কখনো মুছে যায় না।
তুমি দেখবে বিয়েতে যত দামিই পোশাক,যেই রঙেরই পরুক না কেন,লালে মোড়ানো বউ আর ভিন্ন রঙের বউদের এক লাগে না। তাদের দেখলেই কেমন বউ বউ লাগে!হাজার মানুষের মাঝেও তার উপরেই সবার দৃষ্টি সবার আগে পড়ে, অকল্পনীয় ভাবেই তাকে না বললেও সবাই বউ বুঝে নেয়।
যতই পুরানো হয়ে যাক না কেন লালে আজীবন নববধূই মনে হয়! তুমি কারো ঘরের পুত্র বধূ হচ্ছো,কারো স্ত্রী হচ্ছো। মানে তুমি বউ হচ্ছো। যদি তোমার স্বামীর পছন্দ হয় তবে অবশ্যই তুমি আজীবন তার জন্য নববধূর মতোই সেজে থাকবে।শোন মা যেকোন সম্পর্ক টিকাতে হলে অবশ্যই দু তরফ থেকেই এফোর্ড দিতে হয়,কেউ একটু বেশি কেউ একটু কম কিন্তু দিতেই হয়। তেমনি শত ব্যস্ততার মাঝেও একজন স্ত্রীর উচিত সবসময় স্বামীর পছন্দ অনুযায়ী সাজসজ্জায় থাকা,এতে পুরুষের মন বাইরে ছোটে কম। পুরুষ জাতীকে আল্লাহ তৈরিই করেছে নারীর প্রতি দূর্বলতা দিয়ে।সে তুমি হাজার যুক্তি দিয়েও মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবে না।তাই নিজের পুরুষকে নিজের করে রাখতে হলে অবশ্যই তোমাকে অনেক ছাড় দিতে হবে, অনেক নতুনত্ব গ্রহণ করতে হবে, অনেক ভাবে তাকে খুশি রাখার প্রয়াস সর্বদা চালিয়ে যেতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি তুমি নিজের সব দায়িত্ব সমানতালে পালন করতে পারবে।আর সবটা ভালোবেসেই করবে।এটা না হয় এখনই শুরু করে দাও। তোমার হবু আম্মাকে জিজ্ঞেস করে!"
মায়ের কথার অর্থ ধরতে খুব সময় নাবীহার লাগল না।সে নিজের মাথা হবু শ্বাশুড়ি মায়ের দিকে ঘুরিয়ে লজ্জায় সিক্ত আঁখি জোড়া নামিয়ে রাখলো।মার্জিয়া খানম মুগ্ধ চাহনিতে এত সময় আফিয়ার কথা শুনছিল, এবং এখন সে নিজে ভাবী পুত্র বধূর দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখের পলক ফেলে সম্মতি দিল,মুখ ফুটে বলল,
“ আমার মু'য়াযের ফেবারিট কালারই লাল।ও লাল রঙটাকে খুবই ভালোবাসে। তুমি লাল নিলে আমার ছেলেটা সত্যিই খুব খুশি হবে।"
মার্জিয়া খানম নাবীহার শ্বাশুড়ি,তিনি যখন সম্মতি দিয়েছেন তখন আর এই বিষয়ে কোন দ্বিধা কিংবা দ্বন্দ্ব থাকা চলে না।নামিরাও পারলো না।তাই এখন চুপই রইলো। অতঃপর রঙ সিলেক্ট হয়ে গেল।এখন বাকী ডিজাইন কনফার্ম করা।
কিন্তু ঝামেলা হল, শাড়ীর অর্ডার নেওয়া নিয়ে।
দোকানি দশ দিনের মধ্যে এত ভারী কাজের শাড়ী করতেই পারবে না। ঐদিকে নাবীহার বিয়ের তারিখ মাস শেষের একদিন আগে।
“ তাহলে এই শাড়ীটাই আমাদের দিয়ে দিন প্লিজ।"
“ এভাবে রিকুয়েস্ট করবেন না আপা।এটা সম্ভব নয়।
_এই শাড়ীর মেয়েটার বিয়ে এইতো আর আটদিন পরই! যেকোন সময় মেয়েটা শাড়ী নিতে আসবে। তাছাড়াও এগুলো কাস্টমাইজড শাড়ী।আপনি দেখতে চেয়েছেন তাই দিলাম। ডিজাইন কপি হলে খুব ঝক্কিতে পড়ে যাবো। আপনারা অন্য ডিজাইন দেখুন।আমি ক্যাটালগ দিচ্ছি দেখুন এই যে এটা একদম ফ্রেশ ডিজাইন, কাউকে এখন করে..
“ এটা রাখুন।আমি যেটা বলছি তাই হলে দিন।নয়তো আমরা অন্যত্র দেখছি। কারিগরের তো অভাব নেই।"
লোকটার বাড়িয়ে ধরা ক্যাটালগের বইটা ঠেলে সরিয়ে দিয়ে উপরোক্ত কথাগুলো বলল আফিয়া।মার্জিয়া খানম একটু গম্ভীর কণ্ঠে তেজালো স্বরেই বললেন,
“ এমন তো নয় যে আপনারা এটা এক পিস 'ই করবেন তাহলে? আমি খুব ভালো করেই জানি এই ডিজাইন আপনি কয়েক শ না হলে ছাড়বেন না।তাহলে এত কাহিনী করছেন কেন?"
“ আচ্ছা ঠিক আছে,এত তর্ক বিতর্কের দরকার নেই। আংকেল আপনি একবার শাড়ীটা মেলুন তো!
_ ভয় নেই,আমি শুধু আরেকবার দেখবো তারপর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি!"
মা শ্বাশুড়ি'কে থামিয়ে নাবীহাই বলল শেষ কথা'টা। দোকানি খানিকটা বিরক্তি নিয়ে আবারও শাড়ীটা মেলে ধরল।নাবীহা অনেকটা সময় ভালো করে দৃষ্টি বুলিয়ে বলল,
“ আম্মু আমরা চাইলে এটাকে একটু মডিফাই করতে পারি।আমি তো বোরকার নিচেই পরবো তাহলে অযথা এত ভারী কাজের কেন নিবো আম্মু।আই হোপ কাজ কমিয়ে দিলে উনি নিশ্চিতভাবে কাজটা করতে পারবে সময়ের মধ্যে।আর এতে কিন্তু ডিজাইন কপি হওয়ার ভয়ও নেই উল্টো নতুন একটি ডিজাইন হবে।"
দোকানির নাবীহার কথাট আমি পছন্দ হল,সে মাথা দুলিয়ে সম্মতি সুচক শব্দে বলল,
“ হ্যাঁ হ্যাঁ এটা ভালো কথা,তয় মা ভারী কইরেন না তাহলে এত তাড়াতাড়ি দেওন যাইবো না।"
“ আপনি এক কাজ করুন এই যে গোল্ডেন কালারের পাড়টা আছে এটা এত চওড়া না, একটু ধরেন এক ইঞ্চি সমান চওড়া দিবেন তাতে পদ্মের ডিজাইন থাকবে।আর সারা বডিতে পদ্মের নকশায় হালকা গোল্ডেন জড়ির কাজ থাকুক। আঁচলের অংশে একটু ঘন হবে বাকী বডি পুরোটা হালকা কাজে হবে।
_ আম্মু ঠিক আছে না?"
“ দারুন হবে।
_ আপনি এক কাজ করবেন ফুলের সাইজ খুবই ছোট দিবেন।যাতে দূর থেকে বোঝা না যায় তবে কাছে এলে স্পষ্ট যে হয় এটা পদ্ম, অবশ্যই ফুলের শেইপ ঠিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
পাড়ের কাজে বিশেষ ধ্যান দিবেন।এক ইঞ্চির ঐ জায়গা টুকু যেন সব সৌন্দর্যের বাহক হয়।আর গোল্ডেন লাইট দিবেন মানে বেনসন গোল্ডেন যেটা ঐটা। অবশ্যই সলিড জামদানির জড়ি দিবেন।আবার রেডিমেড কারচুপির ঐ মোটা তার নয় কিন্তু!"
“ না না আমার কাছে কোন ধান্দালি পাবেন না।এই যে দেখুন একদম সলিড জিনিস নিয়ে বসে থাকি যাতে ক্রেতাকে বুঝাতে পারি।"
লোকটা জড়ি সুতার শ্যাম্পল বের করে আফিয়ার হাতে দিল,আফিয়া নেড়েচেড়ে বলল,
“ হ্যাঁ ঠিক আছে।এটাই দিবেন। আর লাল এটাই থাকবে।ব্লাউজের হাতে,কোমরে পাড়ের কাজ আর বডিতে অলঅভার ডিজাইন যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই হবে।জড়ির পরিমাণ অবশ্যই কম থাকবে কিন্তু যেখানে থাকবে তার ফিনিশিং যেন সুন্দর হয়।
_ আচ্ছা আপনি আমাকে ব্লাউজের পিস কবে দিবেন?"
“ অন্তত ছয়দিন তো লাগবেই!"
“ কি বলেন ছয়দিন লাগবে? তাহলে ব্লাউজ সিলাবো কবে?আপনি চার দিনের মধ্যেই ব্লাউজ দিন,আর ডিজাইনের একটা ছোট ট্রেসিং করে আমাকে দিয়েন।আমি ওড়নার জন্য দিবো।"
“ ওড়না তো আমাদের থেকেই নিতে পারেন।আমরাই ওড়না করি।"
“ মসলিন, আপনারা?"
“ না,না জামদানি!"
“ না আমরা জামদানি নিবো না।জামদানি ওড়না অনেক ভারী হয়ে যায়। রাজশাহীর মসলিন কাপড় নিয়ে তাতে শাড়ীর হুবহু কাজটাই করবো।আপনি ট্রেসিংটা রেডি রাখবেন আমার ছেলে চারদিন পর এসে ব্লাউজের পিস আর ট্রেসিং পেপারটা নিয়ে যাবে।"
“ আচ্ছা ঠিক আছে! তাহলে মানি রিসিট কাটি?"
“ কাটেন তবে আমি আপাতত ফিফটি দিচ্ছি। বাকীটা শাড়ী দেখার পর!"
“ সমস্যা নাই।দেইখাই নিয়েন!"
অবশেষে দেড় লাখ টাকায় মেয়ের জন্য বিয়ের শাড়ী অর্ডার কনফার্ম করতে সক্ষম হল আফিয়া।পুরোট সময় বাকীরা নিরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল।
আজকের কাজ ছিল শাড়ী অর্ডার যেটা ডান করে এখন সবাই বাড়ির পথে হাঁটা ধরলো।
_________________________________
বসার ঘরে বসে একটা কুশি কাটার টুপি বানানোর চেষ্টা করছে আফিয়া, ঠিক তখনই পাশে এসে বসল নামিরা।
“ কি বানাচ্ছো এটা?"
“ তেমন কিছু না। একটা টুপি বানানোর চেষ্টা আর কি!"
“ তুমি তো মাশাআল্লাহ অনেক গুণী।বলতেই হয়,নাবীহা এই গুণগুলো তোমার থেকে রপ্ত করেছে নয়তো ওর মা ছিল একটা আমড়া কাঠের ঢেঁকি।সে আজীবন পড়াশোনা ছাড়া কিছু শেখার আগ্রহ দেখায়নি।"
এই প্রত্যুত্তরে আফিয়া কেবল শুকনো হাসি দিল।নামিরা একটু গলা পরিষ্কার করল হালকা কাশি দিয়ে অতঃপর বলল,
“ বলছিলাম মেয়ে বিয়ে দিচ্ছো,ছেলে দিবে না?"
চলমান...







0 মন্তব্যসমূহ