#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৯৪
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
নাবীহা স্বভাবতই শান্ত শিষ্ঠ একটা মেয়ে। তার মধ্যে বাবা মায়ের অতিরিক্ত যতন আর নজরদারির কারণে বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা খানিকটা কমই।ঘরের বাইরের কঠিন রুপ থেকে নাসিফ মেয়েকে আগলে আগলে রাখছে।যতটা না হলে চলে না ততটাই ছাড় পায় সে।
তাছাড়াও আফিয়া মেয়ের ভীতই গড়েছে এমন যে মেয়ের কাছে দুনিয়া মানেই পরিবার। ছোট ভাই বোনকে নিয়েই তার পৃথিবী।স্কুল কলেজের বান্ধবীদের সাথেও তার মাখো মাখো ভাব কম।যেই দুই চার জনের সাথে তার একটু আধটু ওঠাবসা তাদেরকেও বাড়ি নিয়ে এসে আনন্দ করে। বলাবাহুল্য তারাও তারই ক্যাটাগরির।
ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা, তাকে পুরো সমর্থন করবে তার পরিবার। তবে শর্ত একটাই, আজেবাজে ছেলে মেয়ের সাথে কোন সম্পর্ক নয়।সত্যি বলতে নাবীহা মানেও বাবা মায়ের কথা।কখনো কোন বিষয়ে তার অতিরিক্ত জেদ নেই,রাগ নেই।চাইলেই দিতে হবে এমন জোরালো কন্ঠনালী নেই।মুখ ফুটে চাওয়ার অভ্যাসও কম।
একদম শীতল পানির ন্যায় টলটলে আর শান্ত। যদিও মেয়েকে এমন করে বড় করার পিছনে আফিয়ার হাত তবে ইদানিং সে মেয়েকে নিয়ে চিন্তাও করে ভীষণ। এত নরম আর শান্ত মেয়েটা তার কোন সংসারে গিয়ে পড়বে আল্লাহ জানে! সেই সংসারের মানুষগুলোও কি তাদের মতো করেই মেয়ের মনের কথা বুঝবে? তার চাপা স্বভাবের শান্ত মেয়েটা,কি করে স্বামীর সংসার করবে?
বোরকা পড়ে যখন মায়ের কাছে এসে বললো,
“ আম্মু আমি বের হচ্ছি!"
মা বাবাকে ছাড়া এই প্রথম নাবীহা কোথাও যাচ্ছে, যদিও সঙ্গে খালা আর বড় ভাই আছে!
আফিয়া যাচ্ছে না বাচ্চাদের সাথে। শ্বাশুড়ি অসুস্থ মানুষ,ঘরে একা থাকবে? তাছাড়াও তার নিজেরও ভীষণ কোমর ব্যথা তাই সিদ্ধান্ত হলো সাফিয়া একাই যাবে বাচ্চাদের সাথে। যেহেতু প্রথমবারের মতো মেয়েকে নিজের হাত ছাড়া করলো তাই খুব করে সাবধানীবার্তা দিতে থাকলো,
“ ভাইয়া খালামনির পাশে পাশে থাকবে, একদম এদিক ওদিক করবেনা। খবরদার কোন বদমাশ ছেলে পিলের কাছে ঘেষবে না।
আর বাইরের খাবার বেশি খেয়ো না আম্মা, তোমার শরীর নিতে পারবে না।"
“ ওকে আম্মু, তুমি চিন্তা করোনা।আমি ভাইয়ার হাত ধরেই থাকবো।"
মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে দায়িত্ব সহকারে ভাই বোনদের খেয়াল রাখার ওয়াদা দিয়ে নাইফ বের হলো।তার কোলে রিফা আর হাতের মুঠোয় তুহির হাত।তাইফ আজকে ঢিলেঢালা একটা লাল টি শার্ট আর থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরে মাথায় একটা হ্যাট দিয়ে চোখে চশমা, হাতে ঘড়ি।ফুল বাবু সেজে কাঁধে তার একটা ছোট ট্রাভেল ব্যাগ আছে সেটার মধ্যে পানির বোতল, কয়েকটি চকোলেট,তার ভাইয়ার ক্যামেরা সহ হাবিজাবি আর কি যেন আছে সব ঢুকিয়ে নিয়ে কাঁধে তুলে নিয়ে গটগট করে হেঁটে গাড়ীর একদম ব্যাক সিটে গিয়ে বসলো।
তুহি সুতির পাতলা লাল ফ্রক পরেছে,দু হাতে দুটো সোনার বয়লা, মাথায় দুটো জুটি বেঁধে তাতে লাল চেরিওয়ালা ব্যান্ড দেওয়া। ফর্সা চেহারা লালে লাল হয়ে ফুটে উঠেছে যেন মানব চেরি একটা। নাইফ খালা আর বোনকে মাঝের সিটে বসিয়ে,খালার কোলে রিফাকে দিয়ে নিজে সামনে গিয়ে বসলো,তার কোলে তার বোন তুহি।
সেও আজ লাল টি শার্ট আর সাদা জিন্স পরে চোখে রোদ চশমা লাগিয়ে,কালো বেল্টের ঘড়িতে,মাথায় ক্যাপ চেপে ফুলটু বাবু সেজেছে।
ফেরাও,লাল ফ্রক আর লম্বা চুলের বিনুনিতে লাল ফিতে বেঁধে চোখে কাজল টেনে ঠোঁটে লাল লিপস্টিক মেখে টুকটুকে পরী সেজে বেরিয়েছে ঘুরতে।সবার পায়ে কেইডস।তারা আগে যাবে জাতীয় জাদুঘর,সেখান থেকে চিড়িয়াখানা।
“ বাচ্চারা বেরিয়েছে?"
নাসিফ ফোন দিয়ে জানতে চাইলো,আফিয়া তখন রান্না ঘরের কাজ শেষ করে মাত্র একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বিছানায় গা'টা হেলালো এরমধ্যেই নাসিফের ফোন।
“ হ্যাঁ বের হয়েছে!"
“ তুমি গেলে না! ও একা পারবে অতগুলো বাচ্চাকে দেখে রাখতে?"
“ একা কোথায়? নাইফ আছে না! তাছাড়াও আমার তুলতুলও যথেষ্ট বুঝে!"সে একাই পারে তার ছোট ভাইবোনকে দেখে রাখতে!"
“ ঘরে দেখে রাখা আর বাইরে দেখে রাখা কে হলো!"
“ পারবে চিন্তা কইরেন না তো। ছেলের উপর ভরসা রাখেন!"
“ হুম, আল্লাহ ভরসা!
_ তোমার কি অবস্থা? কোমরের ব্যথা কমেছে?"
“ না,তাই তো একটু পিঠ লাগালাম আর আপনিও ফোন করলেন!"
“ ওহ আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে তাহলে রেস্ট নাও।"
প্ল্যান মাফিক জাদুঘর ঘুরতে আগে গেলো,
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর..
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত একটি জাদুঘর। এটি ২০ মার্চ, ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং ৭ আগস্ট, ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর তারিখে এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা দেয়া হয়।
জাদুঘরটি শাহবাগ মোড়ের সন্নিকটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক ও চারুকলা ইন্সটিটিউটের পাশে অবস্থিত। এখানে নৃতত্ত্ব, চারুকলা, ইতিহাস, প্রকৃতি এবং আধুনিক ও প্রাচীন বিশ্ব-সভ্যতা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি বিষয়ে আলাদা ৪৫টি প্রদর্শনশালা (গ্যালারি) রয়েছে। এছাড়া এখানে একটি সংরক্ষণাগার, গ্রন্থাগার, মিলনায়তন, সিনেপ্লেক্স এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনালয় রয়েছে।
১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর "দ্য ঢাকা নিউজ" পত্রিকায় প্রথম এদেশে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ তৎকালীন সচিবালয়ে (বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল)-এ দুই হাজার রুপি তহবিল নিয়ে জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু। বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেল তৎকালীন সচিবালয়ের একটি কক্ষে এই ঢাকা জাদুঘর উদ্বোধন করেন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ৭ আগস্ট ঢাকা জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ আগস্ট সর্বসাধারণের জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ঢাকা জাদুঘরের প্রথম অস্থায়ী তথা সূচনাকালীন কিউরেটর বা তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এন গুপ্ত। প্রথম কিউরেটর নলিনীকান্ত ভট্টশালী ১৯১৪ থেকে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ সরকার এদেশে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে। শাহবাগ এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জন্য একটি অত্যাধুনিক বৃহদায়তন ভবনের উদ্বোধন করা হয় ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বর।আট একর জমির ওপর নির্মিত চারতলা ভবনটির তিনটি তলা জুড়ে রয়েছে ৪৪টি গ্যালারি। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর স্থাপনার নকশা করেছেন দেশের প্রখ্যাত স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
জাতীয় জাদুঘরের নিদর্শনাদির বিভাগগুলো হচ্ছে:
১/ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা
২/জাতিতত্ত্ব ও অলঙ্করণ শিল্পকলা
৩/সমকালীন শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা
৪/প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ
৪/সংরক্ষণ গবেষণাগার
৫/এছাড়া রয়েছে জনশিক্ষা বিভাগ।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংগৃহীত নিদর্শনের সংখ্যা প্রায় ৯৪ হাজার। প্রতিটি নিদর্শনের একটি একসেশন নম্বর আছে। নিদর্শনের নাম, সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও ফটো নিয়ে কম্পিউটার ডেটাবেইস প্রণয়ন করা হয়েছে। এবং ৭৫০০ নিদর্শনের বর্ণনামূলক ক্যাটালগ প্রণয়ন ও প্রকাশ করা হয়েছে।
সংগৃহীত নিদর্শনসমূহের প্রায় ৫ হাজার নিদর্শন ৪৫টি প্রদর্শন কক্ষে জনসাধারণের দর্শনের জন্য সাজিয়ে রাখা আছে। ৩৮ নম্বর প্রদর্শন কক্ষে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রদর্শনী প্রকোষ্ঠ করা হয়েছে। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংক ও দৃকের সহায়তায় ৩৫ নম্বর গ্যালারিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন চিত্রশালা স্থাপন করা হয়েছে। ২৬ নম্বর কক্ষটি “সাহিত্য গ্যালারী” হলেও এতে দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন নাগরিক সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান যা আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও একটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের নিয়ন্ত্রণাধীন। তবে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন মহাপরিচালক এই জাদুঘরের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সামগ্রিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে বর্তমানে ৩৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। বাৎসরিক ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জাদুঘরগুলো পরিচালিত হচ্ছে। সেগুলো হলো:
১/আহসান মঞ্জিল জাদুঘর, ঢাকা।
২/শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা, ময়মনসিংহ।
৩/ওসমানী জাদুঘর, সিলেট।
৪/জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, চট্টগ্রাম।
৪/স্বাধীনতা জাদুঘর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা।
৫/পল্লী কবি জসীম উদ্দীন সংগ্রহশালা ফরিদপুর, ফরিদপুর।
৬/সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর, কুষ্টিয়া।
৭/জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, গণভবন, ঢাকা।
৮/জাতীয় চার নেতা স্মৃতি জাদুঘর, কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা।
৯/এছাড়া সেগুনবাগিচায় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
জাতীয় জাদুঘরে তারা বেশিক্ষণ রইলো না কারণ বদ্ধ রুমে তুহি মজা পাচ্ছে না।সে বারংবার বাইরের দিকে ছুটে চলে আসছে।তাই কোনরকম দেখেই বেরিয়ে এলো চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্যে।
চিড়িয়াখানা পৌছালো প্রায় দুটোর পর,তাই ঠিক করলো আগে খেয়ে এরপর ভেতরে ঢুকে আনন্দ করবে।
“ এক কাজ করো ভেতরে ঢুকে ভেতরের কোন দোকান থেকেই কিছু খেয়ে নিও।"
“ ভেতরে শুধু ফাস্টফুড খালা মনি।"
“ হ্যা আমি জানি কিন্তু এখন তুমি এই বাচ্চাদের নিয়ে কোন রেস্টুরেন্টে বসা মানেই আজকের প্রোগ্রাম এখানেই শেষ।"
“ তাও ঠিক বলেছো। আচ্ছা চলো!"
নাইফ টিকিট কেটে এনে সবাইকে নিয়ে ভেতরের ঢুকলো, ভেতরে ঢুকতেই তুহি চঞ্চল হয়ে উঠলো,
সে যাই দেখছে তাতেই খুশি হয়ে হাতে তালি দিচ্ছে।নাইফ ভাবলো বোনদের হাতির পিঠে চড়াবে।তাইফ ভাইকে অনুরোধ করলো তাকে যেন ঘোড়ায় চড়ানো হয়!
“ ভাইয়া প্লিজ!"
“ তাইফ জেদ করবি না,ঘোড়ার পিঠে উঠলে পরে পড়ে গেলো ব্যথা কে পাবে, তুই না আমি? তাছাড়াও ঘোড়া অনেক দ্রুত ছোটে,কোথায় না কোথায় নিয়ে থামামে।"
কিন্তু ভাইয়ের কথা কানেই নিলো না তাইফ,সে ভাইকে ছেড়ে খালার কাছে ঘ্যানঘ্যান করতে থাকলো।
“ বাবা আগে খাওয়া দাওয়া করো, এরপর যেটায় খুশি চড়ো!"
ওকে খালামনি।বলেই তাইফ লাফিয়ে লাফিয়ে আগাতে লাগলো,ভেতরে ঢুকে একদম পেছনের দিকে গিয়ে নাইফ ভালো দোকান দেখে ভাই বোনকে নিয়ে বসলো।
বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানা ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত একটি চিড়িয়াখানা। এটি বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৫০ সালে হাইকোর্ট চত্বরে জীবজন্তুর প্রদর্শনশালা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় চিড়িয়াখানাটি। পরবর্তীকালে ১৯৭৪ সালে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয় এটি। চিড়িয়াখানাটি উদ্বোধন ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন। বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ দর্শনার্থী ঢাকা চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে থাকেন। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নাম পরিবর্তন করে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা নামকরণ করা হয়।ঢাকা চিড়িয়াখানার বার্ষিক বাজেট ৩৭.৫ মিলিয়ন টাকা, যার মধ্যে ২৫ মিলিয়ন টাকা পশুদের খাওয়ানোর জন্য ব্যয় করা হয়।
১৯৫০ সালের ২৬ ডিসেম্বর, কৃষি, সমবায় ও সাহায্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় একটি চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। তাই চিড়িয়াখানাটি ঢাকা হাইকোর্টের কাছে বেশ কয়েকটি দাগযুক্ত হরিণ, বানর এবং হাতি নিয়ে সে সময় শুরু হয়েছিল। পরে চিড়িয়াখানাটি আরও পশু নিয়ে বর্তমান ঈদগাহ ময়দানে স্থানান্তরিত হয়। পরে ১৯৬১ সালে চিড়িয়াখানার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য একটি বোর্ড তৈরি করা হয়। পরে, অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশ থেকে প্রাণী সংগ্রহের পর, চিড়িয়াখানাটি ২৩ জুন ১৯৭৪ সালের বর্তমান অবস্থানে উদ্বোধন করা হয়।
ঢাকা চিড়িয়াখানার আয়তন প্রায় ৭৫ হেক্টর। চিড়িয়াখানার চত্বরে ১৩ হেক্টরের দুটি দৃষ্টিনন্দন প্রশস্ত লেক আছে।
এই চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৩৪ প্রজাতির ২,১৫০টি প্রাণী রয়েছে।
চিড়িয়াখানায় ৫৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হাতি, চিতা, গণ্ডার, জেব্রা, ওয়াটারবাক, ভোঁদড়, হায়েনা, হরিণ, জিরাফ, ইম্পালা, কালো ভাল্লুক, টাপির, জলহস্তী, সিংহ, অনেক প্রজাতির বানর, শিম্পাঞ্জী, বেবুন, এবং বেঙ্গল টাইগার।
চিড়িয়াখানার ১৫০০ টিরও বেশি পাখি ৯১ প্রজাতির প্রতিনিধিত্ব করে, যার মধ্যে ময়ূর, রিয়া, আফ্রিকান গ্রে প্যারোট, কেসোয়ারি, উটপাখি, এমু, টিলস, ফিঞ্চ, ছাতারে, প্যাঁচা, শকুন, এবং ঈগল চিড়িয়াখানার দুটি হ্রদও প্রতি শীতে পরিযায়ী জলের পাখিদের আমন্ত্রণ জানায়।
দর্শনার্থীরা সাপ ও কুমিরসহ ১৩ প্রজাতির সরীসৃপ এবং মাছ ২৮ প্রজাতি দেখতে পারেন।
খাওয়া দাওয়া শেষে একটা করে শীতল পানীয়র বোতল হাতে নিয়ে সবাই বেরিয়ে পড়লো,রিফা মায়ের কাঁধে মাথা রেখে ঝিমুচ্ছে।তুহি তার ভাইয়ের কাঁধে চড়ে সব দেখছে।সে অতিরিক্ত ছোটাছুটি করছে বলে ভাই তাকে উপরে তুলে দেখানোর ছলে আঁটকে দিয়েছে।তাইফ একটা ভালুকের খাঁচার সামনে গিয়ে নিজের মুখ দিয়ে ভালুকের মতো শব্দ করে হাসতে লাগলো।তুলতুল বড় ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললো,
“ ভাইয়া চলো পাখির খাঁচার সামনে যাই!"
“ যাবো, এগুলো দেখতে দেখতেই চল।"
“ আচ্ছা ভাইয়া ময়ূরকে খাবার দেওয়া যাবে?"
“ না ,বাইরের খাবার জীবজন্তুকে দেওয়া নিষেধ আছে!"
ভাই বোন কথা বলছে আর হাঁটছে,ফেরা তার হাতের চিপস থেকে একটা করে তুলছে আর চিবুচ্ছে,সে শুধু স্পাইসি চিকেন ফ্রাই খেয়েছে, তারপর আইসক্রিম নিয়েছে আর চিপস। তাকে ঠান্ডা পানীয় দেওয়া হয়নি।
“ আপুনি দেখো ঐ যে ঐখানে একটা বড় বক!"
ফেরার চিৎকার শুনে তাইফ নিজের এলোমেলো গতিপথ বদলে ফিরে এসে ভাই বোনদের সাথে যোগ দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো কোনটাকে ফেরা বক বলছে।নাইফ বোনের কথায় সেটা ভালো করে দেখে বললো,
“ ঐটা বক না ফেরা, ঐটা উট-পাখি!"
“ উটপাখি! এত ছোট!"
“ ঐটা বাচ্চা,পাখির ছানা বনু!"
“ ওহ,ভাইয়া চলো সামনে গিয়ে দেখবো।"
“ আচ্ছা চলো!"
“ আমার হাত ধরে হাটো তাইফ,একা একা হারিয়ে যাবে তো!"
বলেই নাবীহা ছোট ভাইয়ের হাতটা মুঠিতে নিয়ে কদম মিলিয়ে দ্রুত হাঁটছে আর পিছনে আড় চোখে তাকাচ্ছে।নাইফ সামনে,তার পাশাপাশি হাঁটছে ফেরা,তুহি ভাইয়ের কাঁধে চড়েই উপভোগ করছে,যেটা ভালো লাগছে সেটা দেখেই হাতে তালি দিচ্ছে।রিফা ঘুমিয়ে পড়েছে তপ্ত গরমের মাঝে গাছের শীতলতায়।সাফিয়া বাচ্চাদের একদম পিছনে পিছনে হাঁটছে!
উট পাখির খাঁচার সামনে বেশ ভীর, বিশেষ করে ছেলেদের।সেই ভীর ঠেলে ভেতরে গিয়ে মেয়েরা কোনভাবেই দেখতে পারছে না কেউ কেউ যাও যাচ্ছে তাও বেরিয়ে আসছে বিরক্ত হয়ে।কারণ এত মানুষ যে দাঁড়ানো উপক্রমও হচ্ছে না। উল্টো একে অপরের শরীরের সাথে বাজেভাবে ছোঁয়া লাগছে।নাইফ ফেরাকে নিয়ে কোনভাবে ঠেলে ভেতরে ঢুকিয়ে নিজে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে দেখাতে লাগলো,তাইফও ভাইয়ের সাথে দাঁড়িয়ে আছে,
“ এইটা অনেক বড় না রে ফেরা?"
“ তাইফ ভাইয়া তুমি জানো জিওগ্রাফিতে এর চেয়েও বড় বড় উট পাখি আছে।"
“ হ্যাঁ কিন্তু সেটা তো আমাদেরই দেশের না। আমাদের এখানেও এটাই পাবে!
_ ভাইয়া একটা ছবি তুলি?"
তাইফ ঘাড় ঘুরিয়ে ভাইকে জিজ্ঞেস করলো,নাইফ মাথা দুলিয়ে মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে বললো,
“ হ্যাঁ তুলো।"
ঐ ভীরকে ঠেলেই তাইফ কোনভাবে দাঁড়িয়ে উট পাখির ছবি তুললো।ছবি তোলাটা তাকে তার ভাইয়াই শিখিয়েছে এবং সে তাতে বেশ পটু।
এদিকে নাবীহা ভীরের জন্য ভেতরে ঢুকতে না পেরে অসহায় আর আতংকিত চোখে তাকিয়ে রইলো,খালামনিকেও আশেপাশে পেলো না।হয়তো সেও কোন পাশ দিয়ে ঢুকে পড়েছে ভেতরে।
“ আহ্ কি করছেন, অসভ্যদের মতো।"
বলেই চিৎকার করে উঠলো নাবীহা।পাশ দিয়ে ভীরকে ঠেলে ভেতরে ঢুকতে গিয়ে এক লোক নাবীহার মেয়েলী কোমল স্পর্শকাতর স্থান ছুঁয়ে দিলো। আঁতকে উঠে চিৎকার করতেই লোকটা উল্টো আগ্রাসী রুপে ফিরে এসে বললো,
“ ছোঁয়া খাওয়ার জন্য দাঁড়ালে খাবা না? দাড়াইছো ক্যান এমনে? ব্যাডারা ছুইবো দেইখাই তো এইহানে দাড়াইছো?"
লোকটা কথাগুলো একদম কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়ে বললো,নাবীহা নিজের মাথাটা দূরে নিয়ে বললো,
“ দূরে যান, এভাবে কাছে কেন আসছেন,অসভ্য বদমাশ লোক। মেয়েদের দেখলেই বদমাইশি করেন না, পুলিশ ডাকবো আমি?"
“ কি ডাকবা? পুলিশ! ডাকো! তো পুলিশ ডাইকা কি বলবা? আমি তোমারে ছুইছি? কুনহানে ছুইছি? এইহানে দু* এর উপর?"
এমন অশ্লীল কথা আর দৃষ্টি নাবীহা তার ইহজীবনে দেখেওনি, শোনেওনি।চোখ মুখে মুহূর্তে ছেয়ে গেলো অসহায়ত্ব আর ভয়।লোকটা যেন তারই সুযোগ নিলো,খপ করে হাতটা ধরে ফেললো,বললো,
“ তোমগো মতো মা* রাই বোরকার আড়ালে শরীর ব্যাচে! তোমগো নখরামি ভালো কইরাই বুঝি।এহোন এইহানে দাড়াইছো কোন নাগরের লইগা? পুলিশ আইলে আমিও কমু, তুমি আমার ভাড়ায় আইছো তুমি মা*!"
" আমার হাত ছাড়ুন আমি ভাইয়াকে ডাকবো,ভাইয়া.. এ্যাঁ এ্যাঁ...."
নাবীহা নিজের নরম স্বভাবের নিচু কন্ঠের উর্ধ্বে গিয়ে চিৎকার করে বড় ভাইকে ডাকতে থাকলো, কিন্তু অনেক সময় ধরেই কারো বাচ্চা পাওয়ার এবং হারানোর ঘোষনা চলছে,সেই মাইকের উচ্চ আওয়াজ আর লোকেদের কোলাহলে নাবীহার চিৎকার ভীর ঠেলে তার ভাইদের কানে গেলো না।
চলমান....
যেহেতু আমাদের পাশ্ববর্তী দেশের অনেকেই আমার লেখা পড়ে তাই চেষ্টা করি আমার দেশ সম্পর্কে কিছু লিখলে বিস্তারিত লিখতে, তাছাড়াও ঢাকার বাইরে যারা আছে তারাও ঢাকায় অবস্থিত দেশীয় অনেক দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে খুব একটা ধারণা রাখে না,তাই উল্লেখ করলে পুরোটাই করি,যথা-স্বাধ্য!







0 মন্তব্যসমূহ