সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৯০

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_৯০ 



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


নাইফ নিজের ঘরে আর যাওয়ার সুযোগ পেলো না।তার ছোট দুই বোন তাকে ঘিরে বসে হাত নাচিয়ে নাচিয়ে নানা ভঙ্গিমায় নানা গল্প বলে যাচ্ছে। নাইফ‌‌ও বোনদের ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলা মিষ্টি মিষ্টি গল্প শুনছে।

আসন পেতে বসে রিফাকে নিজের হাঁটুর উপর বসিয়ে রিফার ছোট ছোট আঙ্গুল নিয়ে খেলছে আর রিফার ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দ মন দিয়ে শুনছে।তুহি গাল হাতে ঠেক দিয়ে ঘাড় কাত করে ভাইয়ার গা ঘেঁষে বসে শুনছে সেই বাক্যগুলো। এদিকে তার বিড়াল থেমে থেমে মিঞাও মিঞাও করছে।


আফিয়া দুর থেকেই ছেলের ঘাড়ে থাকা আঁচড়ের দাগ,কপালের ডান পাশে রক্তিম চিহ্ন পরখ করলো। চুলগুলো‌ও এলোমেলো, যার শার্টে ভাঁজ পড়তে পারে না তার শার্টের চারদিকে সহস্রাধিক কুঁচকানো।পিলে চমকালো আফিয়ার।তার ছেলে কারো সাথে মারামারি! অসম্ভব! যেই ছেলে কারো সাথে উঁচু কন্ঠে কথা বলে না।যাকে সে সবসময় হাসিমুখে সমঝোতার পথ চিনিয়েছে,নরম থেকে সমস্যার সমাধান খুঁজতে শিখিয়েছে সেই ছেলে করবে মারামারি? অসম্ভব; এটা তো আফিয়াকে কেউ বিষ খেয়ে বললেও বিশ্বাস করবে না।

কিন্তু হয়েছে'টা কি? ফোনেও ছেলের কন্ঠ স্বাভাবিক লাগছিলো না, আশেপাশেও অনেক শোরগোল শোনা গিয়েছে।ইয়া আল্লাহ! বিরবির করে বললো আফিয়া।

এমনিতেই ইউনিভার্সিটিতে নানা রকম কেচ্ছা শোনা যায় বিভিন্ন ইস্যুতে।তার ছেলেও নাকি এবার ডিবেট ক্লাবের কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে,যদিও এটা ভালো খবর। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক নানা কর্মকান্ডের সাথে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে জড়িত থাকা উচিত।সে তার ছেলে মেয়েকে সেভাবেই বড় করছে,নাইফ আগেও দুর্দান্ত উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিজের জন্য সুনাম কুড়িয়েছে। স্কুল, কলেজের অনেক পুরষ্কার তার ঝুলিতে,সোকেশ ভর্তি এদের তিন ভাই-বোনের নানা কারিকুলামে পাওয়া প্রশংসা সনদ, ক্রেস্ট,মেডেল।নাইফ স্কলারশীপ পাওয়া ছাত্র,নাবীহাও আল্লাহর রহমতে জিপিএ ফাইভ/গোল্ডেন নিয়েই উত্তীর্ণ হয়েছে।

তাছাড়াও বিজ্ঞান মেলা,গনিত কম্পিটিশন, আর্ট ও ক্যালিগ্রাফি সহ নানা প্রোজেক্টে তাদের দুই ভাই বোন অতূল্য, প্রশংসনীয় ও ঈর্ষনীয় সফলতা অর্জন করছে।

দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হতেই সে বায়না ধরেছিল একটা ক্যামেরার, ফটোগ্রাফী শিখবে,তার বাবা রাজী না হলেও মামা ঠিক‌ই ইয়ার ফাইনালের দুর্দান্ত ফলাফল উপলক্ষে একটা দামী ব্র্যান্ডের ক্যামেরা কিনে দিয়েছে।তাও করছে টুকটাক।


নাসিফ যত‌ই শাসন করুক দিনশেষে আড়ালে আবডালে ছেলের শখ ঠিক‌ই পূরন করে।

এইচএসসি পরীক্ষার সময় একটা বাইক চেয়েছিলো,নাসিফ দেয়নি। সম্পূর্ণ না বলেছিলো। এরপরে আর বায়না করেনি।এত অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা, বেশিরভাগই বাইকারদের,তারা তাদের ছেলেদের এমন মরণঘাতী যান দিবে না।বাবার মুখের উপর তর্ক নাইফ করতে পারে না।করেও নাই। কিন্তু কিছুদিন আগে নাসিফ নিজেই বলেছিলো এবার ছেলেকে একটা বাইক কিনেই দিবে।বড় হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় যাচ্ছে,যদিও গাড়ী আছে কিন্তু নিচ্ছে না। তাছাড়াও ছেলের বয়সী,ছেলের সমক্লাসের, ব্যাচের অনেকেই বাইকে যাতায়াত করে বিশ্ববিদ্যালয়,তখন নিশ্চয়ই তার ছেলের মন ছোট হয়ে যায়।গাড়ী নেয় না,রোজ রোজ রিক্সায় যায়।তার তো সামর্থ্য আছে, তাহলে কেন ছেলের এই ছোট্ট শখটা অপূর্ণ রাখবে!

তাই ঠিক করেছে বাইক দিবে কিন্তু শর্ত জুড়ে দিয়ে।


আফিয়া ছেলের গাঁয়ে আঘাতের চিহ্ন হজম করতে পারছে না। এদিকে বোনের পরিবারের সামনে, নিজের ছোট তিনজনের সামনে আফিয়া কোনদিন বড় ছেলেকে শাসন করে না পাছে ঐগুলো ভাইয়ের উপর হাসতে না পারে!


তাই ভাবলো পরে কথা বলবে এই বিষয়ে।তার সঙ্গে ভাবলো,তাকে আরো নজরদারি হতে হবে, অন্তত বড় ছেলের দিকে তাকে আবার আগের মতোই নজর ফেলে রাখতে হবে।নয়তো তার ছেলে.. না আফিয়া আর ভাবলো না।গমগমে কন্ঠে বললো,


“ নাইফ ওদেরকে রাখো,আগে গিয়ে ফ্রেশ হ‌ও।বাবা চলে আসবে!"


বাবার কথা কানে যেতেই নাইফ দ্রুত গতিতে উঠে বোনদের বললো,


“ তোমরা খেলো আমি আসছি।"


ছেলের কদম ফেলা দেখে আফিয়ার ভ্রু আবারও কুঁচকে গেলো।এমন করে কেন হাঁটছে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে!


আফিয়া আর ভাবতেই চাইলো না।এখন তো নিশ্চিত গন্ডগোল কিছু একটা হচ্ছে।


“ সাফিয়া রিফাকে খাইয়ে দে,কত রাত হলো। ঘুমিয়ে পড়বে তো মেয়েটা! আবার তোর ভাইয়া চলেই আসলো বোধহয়, আসলেই বলবে খাবার দিতে।তুই ওকে খাইয়ে ঘুম পাড়া,পরে নিজে শান্তি মতো বসে খেতে পারবি।

_আমি একটু আসি!"


বলেই সে নিজর ঘরের দিকে গেলো।


নাইফ গোসল করে ট্রাউজার পরে মাথা তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে ঘরময় হাঁটছে,এটা তার অভ্যাস।ঠিক তখনই আফিয়া ঘরে ঢুকলো একরকম দৌড়েই। মা'কে এভাবে তার ঘরে আসতে দেখেই নাইফ ঠোক গিললো।বাবা মায়ের চোখকে সে কখনো ফাঁকি দিতে পারেনি।

আফিয়া ছেলের গোসল সম্পন্ন দেখে বললো,


“ এখানে বসো।"


নিরুত্তর ভাবে নাইফ বসলো তার ঘরের সোফায়।আফিয়া ছেলের পাশে বসে হাতে করে আনা মলমের কৌটা খুলে কপালে,ঘাড়ের আঘাতে লাগিয়ে দিলো,আলতো হাতে মালিশ করতে করতে শান্ত গলায় বলতে আরম্ভ করলো,


“ জানো একটা কথা খুব প্রচলিত আছে, একটি পরিবার ধ্বংসের জন্য একজন মাদকাসক্ত সদস্য‌ই যথেষ্ট,ঠিক তেমনি একটা মিথ্যা কথাও একটা মানুষের জীবন নষ্টের জন্য শলাকার মাথায় থাকা বারুদের মতো কাজ করে।

মানুষ ভাবে তার জীবন তার একার,নষ্ট হলে একার‌ই হবে, কিন্তু তা কি হয়? এমনটা কখনো হয় না। জীবন কখনো একার নয়।একটা জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকে আরো অনেকগুলো জীবন। একটা জীবনের ভালো মন্দ সবকিছুই থাকে অনেকগুলো জীবনের সাথে জড়িত। মানুষ পৃথিবীতে একা আসে, একা যায় ঠিকই কিন্তু এই আসা যাওয়ার মাঝে অনেক জীবনের সাথে তার জীবনের গল্প, উত্থান পতনের ঘটনা, স্বপ্ন, অনূভুতি ভালোবাসা ভালোলাগা মিশে থাকে। জড়িয়ে যায়। অর্থাৎ তার সাথে,তার জীবনে যাই ঘটুক,সে ভালো মন্দ যাই করুক সবটার প্রভাব তার সাথে জড়িয়ে যাওয়া জীবনগুলোর উপরেও পরে। এখানে এই সত্যকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না,কেউ অমান্য করতে পারবে না।কেউ বলতে পারবে না এই কথাতে এক ছটাক মিথ্যা আছে, বাস্তবতা নেই।

তুমি খুব ভালো করেই জানো তোমার আম্মু,বাবা আবেগে ভাসে না,তারা তোমাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখে কিন্তু তার জন্য তোমাদের ইচ্ছাকে নিপীড়ন করে না। হয়তো তোমাদের এমন অনেক শখ, ইচ্ছা আছে যেগুলো আমরা সেই মুহূর্তে পূরণ করতে দেইনি কিন্তু তার মানে এই নয় তোমাদের অনুভূতি ইচ্ছার কোন দাম ছিলো না।

অবশ্যই আছে, কিন্তু সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে,বয়স থাকে। তোমার বয়স ছাপিয়ে ইচ্ছে জাগতেই পারে, আকাঙ্ক্ষা আসতেই পারে কিন্তু তা বলে যে তখন সেটা করতে হবে তার তো কোন যৌক্তিকতা নেই। তুমি বয়স ভেদে কাজ করো,সময়ানুযায়ী চলো, দেখবে সব বয়সের প্রকৃত সৌন্দর্য্য, যথার্থ মাধুর্যতা ঠিক খুঁজে পাবে, অনুভব করতে পারবে।

তখন বাবা মায়ের উপর কোন অভিযোগ আসবে না, তাদের সিদ্ধান্ত নিয়েও দ্বিমুখী চিন্তা মাথায় ঢুকবে না।

বুঝেছো আমার কথা?"


নাইফ দ্রুত মাথা দুলালো,আফিয়া ছেলের চুলের গোড়ায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে ধীরে ধীরে মালিক করে দিতে দিতে জিজ্ঞেস করলো,


“ এখন কি বলবে, কিভাবে হয়েছে এগুলো?"


এটাই তো নাইফ এত সময় ভাবছিলো,মা এত সুন্দর করে এই বিষয় বোঝানোর মানেই হলো যাতে নাইফকে জিজ্ঞেস করার পর নাইফ ভুল করেও মিথ্যা বলার চেষ্টা না করে। কিন্তু নাইফ এখন কি বলবে? সত্যি বললে মা খুব কষ্ট পাবে,আর মিথ্যা বলতে মায়ের মুখের.. বাঁধছে খুব। কিন্তু উপায় কি?


“ না বলতে চাইলে বলো না। শুধু বলছি যাই হোক বাবা মায়ের কাছ থেকে লুকাতে হয় না।এই কথা আজীবন বলে আসছি, এখনও বলছি।"


“ বন্ধুদের সাথে?"


“ কি বন্ধুদের সাথে?"


“ ইয়ে মানে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিলো এই যার আর কি!"


“ কথা কাটাকাটি হলে কপাল ছুঁলে যায়,ঘাড়ে কেটে যায়,এটা তো আমি আমার বাপের জন্মেও দেখি নি বাপ! "

ধরা পড়ে যাওয়া থতমত খেলো।সে কি করে ভুলে যায় তার মা কত বুদ্ধিমতী! আফিয়া ছেলের মুখটা নিজের দিকে ফিরিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো,


“ চোখে চোখ রেখে কথা বলো।

_এরকম করে কথা বলতে আমি শেখাইনি। এরকম কথা মানুষ তখন‌ই বলে যখন সে অপরাধ করে, নিজেকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করে!"


নাইফ মায়ের চোখে চোখ রাখলো না।চোখ নামিয়ে নিচে মায়ের পায়ের আঙ্গুলের উপর নত শিরে তাকিয়ে র‌ইলো,আফিয়া পূর্বের মতোই শক্ত থেকে আবারও জিজ্ঞেস করলো,


“ কি হয়েছে সত্যি করে বলো নাইফ, মায়ের না চিন্তা হচ্ছে বোঝো না তুমি? তোমার বাবা দেখলে কি হবে বুঝতে পারছো?"


“ বন্ধুদের মধ্যে একটা মেয়ে নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল তখন ছাড়াতে গিয়ে আমি ওদের মাঝে পড়ে যাই,ঐ মুহুর্তে হাতাহাতি শুরু হয় তাই ... সবাই একটু আধটু ইনজুরড হয়েছে আম্মু।আমি একা না।পু.পু..পুলিশ‌ও এসেছিলো। ওদের ধরে নিয়ে গিয়েছে!"


এবার খুব আত্নবিশ্বাস নিয়েই উগড়ে দিলো বাক্যগুলো। কিন্তু তাও শেষে গিয়ে তার কন্ঠনালী কাঁপছে,আফিয়া আঁতকে উঠে বুকে হাত রেখে দুই কদম পিছিয়ে গিয়ে বললো,


“ হায় আল্লাহ! কি বলো?তোমাকে থানায় নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ?"


“ না না আম্মু আমাকে নেয়নি। শুধু ওদেরকে নিয়ে গিয়েছে।আর আমি  শুধু ঐ মেয়েটিকে তার বাড়ি অবধি পৌঁছে দিয়ে এসেছি তার জন্য‌ই আমার দেরি হয়েছে, সত্যি বলছি আম্মু!"


বিশ্বাস করলো আফিয়া। আবারও এগিয়ে গিয়ে ছেলের অর্ধনগ্ন শরীরটা খুঁটে খুঁটে দেখলো, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুরো শরীর হাঁতড়ে বেড়ালো আর কোন আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা?নাইফ মায়ের এই বিচলিত চোখ মুখ দেখে লজ্জিত হচ্ছে,নত মস্তকে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,চোখ বন্ধ করে রেখেছে।পাছে মা চোখ দেখেই তার মিথ্যাটা পড়ে ফেললো। কিন্তু নাইফ বুঝলো না তার এই মিথ্যা বোঝার মতো অবস্থা আপাতত তার মায়ের নেই, বরং সে এই মিথ্যাকেই সত্য ভেবে ছেলের চিন্তায় দিকবেদিক হীন হয়ে পড়েছে।


 


খাবারের টেবিলে.....


নাসির এসেছে ঘন্টা পেরুতেই  খাবারের জন্য হম্বিতম্বি শুরু হয়ে গেলো।আফিয়া স্বামী, শ্বশুর শাশুড়ির প্লেটে খাবার বেড়ে দিয়ে নিজে বড় একটা বোলে খাবার বেড়ে নিলো। একসাথে চারটা বাচ্চাকে খাইয়ে দিতে হবে।নাইফ তো এই বিষয়ে সবার ছোট।তাকে অবশ্যই খাইয়ে দিতে হবে।একে একে নাইফ,নাবীহা,তাইফ,ফেরাকে খাওয়াচ্ছে।তুহিকে আগেই খাইয়ে দিয়েছে।তুহিকে রাতে ভারী খাওয়ায় না।রাতে একটু হালকা আর কম ঝাল মশলাদার খাবার তুহির জন্য করে। এড়িয়ে সেটা সবার আগেই তাকে খাইয়ে দেয়।কারণ তাদের রাতের খাবার খাওয়ার সময় হ‌ওয়ার আগেই অনেক সময় তুহি ঘুমিয়ে পড়ে।আর যদি সজাগ থাকেও তাহলে বাবা মায়ের পাত থেকে টুকটাক,যা মুখে দেয় তাই খায়। কিন্তু আজ আর সজাগ থাকেনি।রিফাকে খাইয়ে ঘুম পাড়ানোর পরপরই সে ঘুমানোর জন্য জ্বালাতে শুরু করে অতঃপর নাবীহা বোনকে খাইয়ে দেয়।


মেয়েটা খাওয়ার সময় ভীষণ জ্বালায়, পুরো ঘর দৌড়িয়ে তাকে খাওয়াতে হয়,আ এই কাজটা বেশিভাগ সময় তার বড় বোন‌ই করে থাকে।


“ আহা এটা আমাকে দিও না।ফেরাকে দেও,মেয়েটা কতদিন আসলো।"


আফিয়া নাসিফের পাতে মুরগির কলিজা দিচ্ছিলো যেটা নাসিফ ফেরাকে দিতে বলছে।ফেরাকে দিতে বললেও সেটা নিয়ে টুপ করে নিজের মুখে পুরে দিলো তাইফ।মুখে পুরেই সে ঠোঁট চেপে হেসে দিলো যেটাকে বলে বিটলা হাসি।ফেরা কপাল কুঁচকে মুখটা ছোট করে তাকিয়ে বললো,


“ তুমি পেটুক তাইপ, আমার ভাগেরটা খেয়ে নিলে কেন?"


“ একদম আমাকে পেটুক বলবি না ফেরা! আর আমাকে তাইপ‌ও বলবি না। আমি তোর বড় ! ভুলে যাস কেন?"


“ সে ও মনে রাখবেনে ,আগে তুমি বলো তুমি এটা কেন করলে?"


আফিয়া চোখ রাঙানি দিয়ে ছেলের দিকে তাকাল,নাসিফ ধমকে বললো,


“ এটা কেমন ব্যবহার তাইফ, ছোট বোনের সাথে কেউ এমন করে?"


কারো বকা তাইফের কানে গেলো না।সে ফেরার দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসলো,সাফিয়া ভাগ্নের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো, এবং বলল,


“ আচ্ছা বাদ দেন।কলিজাই খেতেই হবে যার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। গোস্ত খাচ্ছে তাই খাক।

_ তুমি খাও বাবা!"


ছেলের বদমাইশিতে আফিয়া ভীষণ বিরক্ত হলো,এটা কেমন কথা? কি ভাবলো তার বোনটা!


খাওয়া দাওয়া শেষ করে নাইফ মাত্র‌ই উঠতে চলেছিলো তখন‌ই নাসিম বললো,


“ নাইফ তোমার কপালে কিসের দাগ ওটা? ফুলেছে বোধহয়?"


অনুসন্ধানী চোখে চেয়ে র‌ইলো ছেলের দিকে,নাইফ ঠোক গিলে মায়ের দিকে তাকালো।

আফিয়া ছেলের ভয়ার্ত চাহনি দেখেও নিজেও একটু রাগ করলো, তারপরও ছেলের গা বাঁচাতে নিজেই আরেকটি মিথ্যা বলে দিলো অবলিলায়,


“ রিক্সা থেকে পড়ে গিয়েছিল!"


“ কিহ! কি বলছো আপা? কখন?"


সাফিয়া আঁতকে উঠে প্রশ্ন করলো,আফিয়া সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্বামীর দিকে চেয়ে র‌ইলো নাইফ ভ্রু কুঁচকে কপালে ভাঁজ ফেলে শুধালো,


“ রিক্সা থেকে পড়ে গিয়ে এভাবে ব্যথা? রিক্সা থাকে পড়লে হাত পা ছুঁলে যায়,নয়তো মাথা ফেটে যায় কিন্তু এভাবে ঐ জায়গায়!"


“ আশ্চর্য, ছেলে সুস্থ সবল ফিরে আসছে তাতে আপনার ভালো লাগছেনা? এখন ছেলের মাথা কেন ফাটেনি হাত পা কেন ভাঙ্গেনি,সেটা নিয়ে আপনার চিন্তা হচ্ছে?

_ এ্যাই নাইফ যাও তো, ঘরে যাও! এই লোকের সামনে থাকলেই পুলিশের মতো জেরা শুরু করে দেয়!"


কথা যাতে না বাড়াতে পারে তাই উল্টো মেজাজ দেখিয়ে পরিবেশ ঘোলা করে ছেলেকে সরিয়ে দিলো।নাইফ‌ও দম ফেলে দ্রুত নিজের ঘরের দিকে পা চালালো।


চলমান....


পিরিয়ডের সময় যতটা না যন্ত্রনা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি যন্ত্রণা হয় প্রি পিরিয়ডে! আমি অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় শুরু থেকেই ভুগছি,আমার সমস্যা তো আরো জটিল, এমনিতেই হেলদি মানুষ তার মধ্যে হাইপোথাইরোয়েডিজম/থাইরয়েড যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আমার রজচক্র! কি যে বিরক্ত করে, তারিখের পনেরো বিশ দিন আগের থেকেই পেট/গাঁট ব্যথা, সাদা স্রাব,মাথা ব্যথা, অস্বস্তি,আর হুটহাট মুড অফ! উফ্! কি যে অশান্তি! 


রাতে পারলে আরেকপর্ব দিবো,যদি পারে। শরীর আর মনের উপর নির্ভর করছে সবটা। আল্লাহ ভরসা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ