#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৮৯
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা,
মাগরিবের আজান পড়েছে।সবাই যার যার ঘরে,তাইফ অসুস্থ বলে ঘরেই সালাত আদায়ের নির্দেশ পেয়েছে।দরজায় বেল বাজার শব্দে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো তাইফ, নাবীহাও বাইরে বসার ঘরে বসে নিজের বই নিয়ে পড়ছে।
তুহি তার বিড়াল ছানাকে নিয়ে ব্যস্ত।মায়ের বকুনি,চোখ রাঙানিকে থোরাই কেয়ার না করে, বোনের দেওয়া দুধের বাটি নিয়ে নিজের ঘরের বারান্দায় হাত পা ছড়িয়ে বিড়ালকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে।তাকে বিড়াল রাখার জন্য তার বড় বোন বড় ভাইয়ার জুতার বাক্স কেটে তাতে পুরানো একটা সাদা তোয়ালে ভাঁজ করে মোটা একটা নরম বিছানা তৈরি করে বিছিয়ে দিয়েছে বাক্সের ভেতরে।তার উপর শোয়ানো হবে রাতে।সেই বাক্স আবার ঢেকে দিয়েছে আরো বড় একটা বাক্স দিয়ে,তার চারদিকে আবার হেক্সো ব্লেড দিয়ে কেটে জানালা তৈরি করা হয়েছে যাতে রাতে বিড়াল ছানা অন্ধকারে ভয় না পায়!
এই মিস্ত্রীগিরি করেছে নাফিস ওয়াসীত্ব গাজী ওরফে তাইফ। অতঃপর বোনকে ধমকে বলেছে ,
“ বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করবি না তাহলে মরে যাবে বাচ্চাটা!"
তুহি মুখে না বললেও বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মাথা কাত করে বুঝিয়েছে সে বেশি ঘাটবে না কিন্তু তা কি আদৌ সে মানতে পারবে?
এইতো গত আধ ঘন্টা ধরে সে বিড়াল নিয়ে ব্যস্ত, ভীষণ ব্যস্ত।এত চেষ্টা করছে দুধটা খাওয়ানোর কিন্তু পাজী বিড়াল খাচ্ছেই না।তাই সে দিলো এক কিল বসিয়ে বিড়ালের পিঠ বরাবর,আর বললো,
“ খাচ্ছিস না কেন?খা! পাজী বিড়াল একটা! খালি জেদ করো, না?"
মায়ের কপি, হুবহু মায়ের ডায়লগ মারলো।যা তার মা তাকে সবসময় বলে, এবং করে।
দরজা খুলেই তাইফ উচ্ছসিত স্বরে চেঁচিয়ে উঠলো,
“ খালামনি; রিফা!"
বলেই তাইফ বোনকে নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই রিফাও লাফ দিয়ে ভাইয়ের কোলে চলে এলো।গলুমলু বাচ্চা রিফা। ভাইদের ভালোই চিনে।
নাবীহাও ছুটে দরজার সামনে এসে খালাকে দেখে খুশিতে তিন লাফ দিয়ে ডেকে উঠলো,
“ খালামনি! আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছো তুমি?"
“ আলহামদুলিল্লাহ মা, অনেক ভালো আছি। কেমন আছে আমার আম্মুটা?“
“ আলহামদুলিল্লাহ খালামনি! ফেরা কোথায় খালা মনি?"
“আসছে সে পেছনেই আছে।"
“ বুবুন!"
বলেই ফেরা দৌড়ে ভেতরে ঢুকলো, একরকম বড় বোনের গায়ের উপরে ঢলে পড়লো!
নাবীহাও খুশি হয়ে বোনকে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে খুশিতে লাফাতে লাগলো।
বাচ্চাদের হইচই শুনে ঘর থেকে তজবিহ হাতেই বেরিয়ে আসলো আফিয়া ও সালমা ফাওযিয়া।
“ আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছো সবাই?"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম মাওইমা।আপনি কেমন আছেন?"
“ এইতো মা ভালোই,তো আসতে সমস্যা হয়নি তো?"
“ না, আল্লাহর রহমতে ঠিকঠাক ভাবেই পৌঁছাতে পারলাম।"
“ এত দেরি কেন হলো? সেই দুটোয় বের হয়েছিস, তাহলে এত সময়!"
“ যে-ই জ্যাম আপা!"
“ বড় আম্মু!"
বলেই ফেরা তার বড় খালার কোমর জড়িয়ে ধরলো,আফিয়াও ভাগ্নিকে আগলে ধরে কপালে আদর দিয়ে বললো,
“ আমার মা'টা কেমন আছে? "
“ অনেক ভালো বড় আম্মু!
_ বড় ভাইয়া কোথায়?"
“ তোমার বড় ভাইয়া এখনো আসেনি।তবে চলে আসবে একটু পরেই!"
“ তুহি কোথায় আপা?"
“ আছে ঘরেই,আর বলিস না।সে মহা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে!
_ রিফা বড় আম্মুর কাছে আসো!"
বলেই তাইফের কোল থেকে রিফাকে নিজের কোলে নিলো।রিফা অনেকদিন পর চেনা মুখ দেখে দাঁতে বের করে হেসে দিলো।আফিয়া ভাগ্নিকে আদর দিতে দিতে বললো,
“ যা ঘরে গিয়ে একটু ফ্রেশ হ, ও এখানেই থাকুক আম্মার কাছে।"
“ হ্যাঁ ওকে আমার কাছে দাও একটু!"
সালমা ফাওযিয়া কোলে টেনে নিলো রিফাকে ।তাইফ পাশে দাঁড়িয়ে থেকেই বোনের সাথে খুনসুটি আরম্ভ করে দিলো।
নাবীহা ফেরাকে বললো,
“ ফেরা চল, তুই আমার সাথে থাকবি!"
“ ওকে বুবুন।"
বলে সে নিজের গলায় ঝুলানো ব্যাগটা নিয়ে ঘরের দিকে পা দিতেই তুহিকে দেখলো।মাথায় একটা ওড়না পেঁচানো তার,যেটা দিয়ে হয়তো সে নিজের চুল বানিয়েছে। কাঁধের উপর অর্ধেকটা ঝুলিয়ে এক হাতে ধরে দাঁড়িয়ে আছে, তার আরেক হাত দিয়ে কোলের সামনে ধরে রাখা একটা বিড়াল ছানা।
ফেরা ছোট বোনকে দেখে খুশিতে তিন কদম লাফিয়ে সামনে দাঁড়িয়েই বললো,
“ তুহি!"
“ আপুনি।"
তুহিও বোনকে জড়িয়ে ধরলো। তাদের এই জড়াজড়ির মাঝে চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়ার উপক্রম ছানাটার।সে তার নিচু ছোট কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো,
“ মিঞাও!"
নগদে দুই বোন দুই দিকে ছুটে গেলো।ফেরা অতি উৎসাহ নিয়ে বিড়াল ছানাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করতেই সে আবারও পূর্বের মতো মিঞাও বলে নাবীহার দিকে তাকিয়ে নিজের জিভ বের করে দেখালো।তা দেখে তুলতুল বললো,
“ কি, ক্ষুধা পেয়েছে তোমার? তোমার আম্মু তোমাকে খাওয়ায়নি?"
“ খায় না বুবুন! খালি দুষ্তুমি করে!"
“ ওহ, তোমার বাচ্চা খায় না। অবশ্য তোমার বাচ্চা তোর মতোই হবে,এটাই তো হয়।"
কথাটার অর্থ বুঝলো তুহি,তাকে অপমান করা হয়েছে।সেও তো মা'কে এভাবেই জ্বালাতন করে,বুবুনকে করে, ভাইয়া,বাবা,দাদুকে করে।তার মানে মা যা করে বাচ্চাও তাই করে।ওহ,বলেই তুমি মনে মনে সংকল্প করলো,সে আর খাওয়া নিয়ে মা'কে,কাউকেই জ্বালাবে না। চুপচাপ দুধও খেয়ে নিবে।তবেই তো তার বাচ্চাটাও তাকে জ্বালাবে না, দুষ্টুমি করবে না।
________
বোন আর ভাগ্নিদের আগমনে কিছু সময়ের জন্য আফিয়া ভুলে বসেছিলো সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামলেও তার বড় ছেলে এখনো ঘরে ফেরেনি। কিন্তু যখন সাফিয়া জিজ্ঞেস করলো,
“ নাইফ এখনো আসেনি আপা?"
ঠিক তখনই তার মাথায় ছোটখাটো একটা বাজ পড়লো বোধহয়, তড়িৎ গতিতে ফোন তুলে কল দিলো ছেলের নাম্বারে।রিসিভ করার পর কন্ঠটা খুব কাঁপা কাঁপা শোনাচ্ছে,হয়তো হাপাচ্ছে,আফিয়ার মাতৃসত্ত্বা অস্থির হয়ে হালকা মৃদু চেঁচিয়ে বললো,
“ নাইফ কোথায় তুমি,কি করছো?এমন হাপাচ্ছো কেন?"
নাইফ মায়ের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই আগে নিজের দায়িত্ব সারলো,
“ আসসালামু আলাইকুম আম্মু?"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম,কি ব্যাপার কোথায় তুমি?"
“ আম্মু আসছি আমি, পথেই আছি।"
“ নাইফ যেখানেই আছো, তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরো বাবা।আটটা বেজে গেলো, তোমার বাবা বাড়ি চলে আসবে যে কোন সময়।"
“ আসছি আমি, চিন্তা করো না!"
“ সাবধানে দেখে দেখে পথে চলো।"
“ আল্লাহ হাফেজ।"
নাসিফ ফোন করে জানিয়ে দিলো তার আসতে একটু দেরি হবে,সাফিয়ারা বাড়ি এসেছে কিনা সেই খবরও নিলো। বাচ্চাদের খবরও নিলো। আফিয়া ভয়ে ভয়ে একটা ডাহা মিথ্যা বলেই দিলো যখন জিজ্ঞেস করেছিলো,
“ নাইফ টিউশনি থেকে ফিরেছে?"
“ হ্যা ফিরেছে।ঘরেই আছে, বোনদের নিয়ে খেলছে!"
“ আচ্ছা তোমার জন্য কিছু নিয়ে আসবো?"
এটা নাসিফের সবসময়ের প্রশ্ন,বাইরে থেকে আসার আগেই আফিয়াকে জিজ্ঞেস করবে তাঁর জন্য কিছু নিয়ে আসা লাগবে কিনা?
ছোট ছানাটাকে কচলাতে কচলাতে আদর নামক অত্যাচারে অতিষ্ঠ করে তুলছে দুই বোন তুহি আর রিফা।কেউ' ই বিড়ালকে ভয় পাচ্ছে না দেখে বড় বড় চোখে চেয়ে আছে আফিয়া সাফিয়া দুই বোন।
নাবীহা আবার তার ন্যাওটা ফেরাকে নিয়ে নিজেদের ঘরে আসন গেড়েছে।ফেরা তার বুবুনের চিত্রাংকন গুণে ফিদা তাছাড়াও তার আরো একটা স্বার্থ আছে তা হলো আপুর ঘরে অনেক সাজুগুজুর জিনিস থাকে,যদিও আপু এগুলি ব্যবহার করে না তাও কিনতে পছন্দ করে বলে তার ঘরে থাকে।সে গোসল করে পরিষ্কার কাপড় পরে ঝরঝরা মনে আপুর কাছে গিয়ে বসেছে।কত দিনের গল্প জমে আছে দুই বোনের।
নিজের চেয়ে নয় বছরের ছোট বোনও নাবীহার কাছে বান্ধবীর মতো। অবশ্য ফেরা বয়সের চেয়ে একটু বেশিই পরিপক্ক হচ্ছে।মেয়েটা সব সময় সাজগোজ করে পরিপাটি হয়ে থাকে দেখে একটু বেশিই চোখে লাগে।সাত বছরের মেয়েটাকে দেখলে কম করেও নয় নয় লাগে। বাচ্চা সে বয়সে কিন্তু আচার আচরণ তার ষৌড়সীর ন্যায়।তাই বোধহয় নাবীহা নিজের এই ছোট বোনের সাথেও কমফোর্ট ফিল করে।
“ বুবুন জিফাকে ফোন দাও না,ওকে কতদিন দেখি না।"
“ এখন ফুপুদের ঐখানে এখন ভোর।তাই একটু পরে দিবো।ফুফুই দিবে!"
“ ফুফু সবসময় কল দেয়?"
“ হ্যাঁ একটু পরেই ফোন দিবে ভাইয়ার নাম্বারে।যদিও সবচেয়ে বেশি কথা তাইফের সাথে বলে!"
“ তোমার ফুফু কত ভালো,কত্ত আদর করে।আর আমার ফুফুরা!"
বলেই ফেরা চোখ নামিয়ে নিজের গায়ে থাকা গোলাপি টপে আঁকানো হলদে ফুলটাকে খোঁচাতে লাগলো।নাবীহা ছোট বোনের গাল টেনে দিয়ে বললো,
“ এবার কিন্তু অনেকদিন থাকবি! বাবা বলেছে আমাদেরকে নানীর কাছে নিয়ে যাবে। সামনে তো তাইফের পরীক্ষা, পরীক্ষার পরপরই নিয়ে যাবে!"
“ আমার তো পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে,আবার ক্লাসও শুরু করে দিবে!তাইপের কেন হয়নি।"
ফেরা ইচ্ছা করে তাইফের নাম ব্যঙ্গ করে,মূলত তারা একে অপরের চোক্ষুশূল।কেউ কাউকে দেখতে পারে না।তার কারণ আজও কেউ হদিস পায়নি। একসাথে পাঁচ মিনিট থাকলে নির্ঘাত মারামারি লেগে যায়। তুলতুল চোখ গরম করে বললো,
“ একদম নাম ভেঙ্গাবি না।নাম বিকৃতি করা গুণাহ।আর ও তোর বড় না! বড় ভাইয়ার নাম ধরে ডাকে কেউ?"
“ ওকে ভাইয়া ডাকবো না।ও সবসময় আমাকে মারে! ও কে তাইপই বলবো।"
“ হ্যাঁ ডাকো।পরে মার দিলে কেউ তোমাকে হেল্প করবে না!"
“ আমি ভাইয়াকে বলে দিবো! ভাইয়া ওর কান ধরে ছিঁড়ে দিবে!"
তাইফ বোনদের মাঝে না থেকে নিজের মতো সোফায় এলোমেলো ভাবে শুয়ে শুয়ে গেইমস খেলছে। সাফিয়া মেয়েদের দিকে চোখ রেখেই বোনকে প্রশ্ন করলো,
“ আপা বলো তো দোয়াটার জন্য কি করা যায়? মেয়েটা সবসময় কান্না করছে, সালাহ্ বিরক্ত হয়ে পড়ছে। গিয়েছে পিএইচডি করতে, মেয়েটাকে'ও চাপ দিচ্ছে এসব নিয়ে না ভেবে পড়াশোনায় মন দিতে কিন্তু কি করছে মেয়েটা? এভাবে জীবন চলে বলো?
_ আজ সকালে আমার কাছে ফোন দিয়ে সে কি কান্না, আপা! হাউমাউ করে কেঁদেছে। তোমাকে ফোন দেয় না তুমি লো প্রেসারের মানুষ। চিন্তা নিতে পারবে না তাই।তাহলে আমি কি করবো? আমি পারলে তো আমিই দিয়ে দিতাম। কিন্তু?"
“ ওকে কি দোষ দিবো? সালাহ্টাও আজকাল কেমন মনমরা হয়ে কথা বলে! বাচ্চা দুটোর মন ভেঙ্গে যাচ্ছে। আম্মুও কাল ফোন করে অনেক সময় কান্না করেছে।তার একটা মাত্র ছেলে,তার সাথেই কেন এটা হতে হলো? কিভাবে বুঝ দিবো,যেখানে আমিই মানতে পারছি না।"
“ ওখানে এত ভালো ভালো ডাক্তার,ঐ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এত উন্নত তাও ওরা বলতে পারছে না কেন দোয়ার এভাবে বারবার ফল হচ্ছে,কেন এমন সময়ে এসে এভাবে বাচ্চাগুলো নষ্ট হচ্ছে? মিসক্যারিজ হওয়ারও তো একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে? তাহলে কি সেটা?"
“ কিছুই দেখাচ্ছে না রিপোর্টে, শুধু মৌখিকভাবে বলছে দোয়ার জরায়ুর বাচ্চা ধারণ ক্ষমতা কম। এই যা! এটা উনাদের আনুমানিক ধারণা আর কি!"
“ আপা আমাদের সালাহ্টা বাচ্চা কত পছন্দ করে! শেষ অবধি ও কি নিসন্তান থেকে যাবে?"
সাফিয়া বড় বোনের হাতের উপর হাত রেখে প্রশ্নটা করলো।আফিয়া ছোট বোনের এমন আশংকায় চিন্তা-গ্রস্থ বিষাদ-মাখা শ্রীতে চেয়ে বললো,
“ আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। নিশ্চয়ই ওদের জন্য যা কল্যাণকর তাই করবেন।আমরা দোয়া ছাড়া আর কি-ই-বা করতে পারি!"
“ হুম!"
কলিং বেলের শব্দে আফিয়া সতর্ক হলো।মনে মনে দোয়া পাঠ করে বিরবির করে বললো,
“ আল্লাহ আর যাই হোক নাইফের বাবা না আসুক।ছেলেটা এখনও!.."
বলতে বলতেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো আটটা উনি পঞ্চাশ বাজে।সাফিয়া জিজ্ঞেস করলো,
“ নাইফ কি সব এমন দেরিতে ঘরে ফিরে?"
“ আরে নাহ। ইদানিং এমন করছে।তোর ভাইয়া যে কি ক্ষেপে আমার উপর,বলে বোঝানো যায় না।আর এই ছেলেকেও!"
“ আপা একটু শাসন করো ছেলেকে।ছেলে বলে ছাড় দিয়ে দিও না।এমন লেইট কেন হবে ঘরে ফিরতে? আল্লাহর জানে কোথায় ক করে বেড়াচ্ছে,ভাইয়া তোমাকে কাঁচা গিলে খেয়ে ফেলবে উনিশ বিশ কোন কেচ্ছা ঘটলে!"
“ তা আর বলতে! কিন্তু এই বাছুর গুলো বুঝলে তো!"
কলিং বেলের শব্দ শুনে ফেরা লাফিয়ে উঠে বললো,
“ নিশ্চয়ই ভাইয়া এসেছে।"
“ বাবাও আসতে পারে!"
“ না ভাইয়াই এসেছে,দেখো তুমি!"
দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে বসার ঘরের দিকে এলো ফেরা,ওর পিছু পিছু নাবীহা। এদিকে খালার অপেক্ষায় না থেকে বাড়ির অঘোষিত দাড়ওয়ান নাফিস ওয়াসীত্ব গাজী ওরফে তাইফ সাহেব দরজা খুলে বড় ভাইকে শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সালাম দিলো,নাইফ নিচু কন্ঠে গলা নামিয়ে সালামের উত্তর দিয়ে ভাইকে ছোট করে জিজ্ঞেস করলো,
“ বাবা ফিরেছে?"
বড় ভাইকে হুবহু কপি করে তাইফও একইভাবে উত্তর দিলো,
“ না! তবে খালামনি এসেছে!"
“ সত্যিই! ওফ্ তবে বেঁচে গিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ!"
“ হাহ্! বাচোনি! আম্মু তোমার ছাল তোলার জন্য বসে আছে বেত নিয়ে!"
বলেই তাইফ ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসলো,নাইফ নিজের এই সর্দিওয়ালা বাচ্চা ভাইয়ের দুঃসাহস দেখে দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
“ তোর সাহস কত বড় তুই আমাকে ভয় দেখাস! কত বড় আমি তোর আর তুই!"
“ আমার বড়, আম্মুর তো না।
আম্মু তো ছাল তুললেও ঘরে ঢুকাবে। কিন্তু আমি বড় হলে!"
এতটুকু বলেই থামলো, ঠোঁটে তার এখনও হাসি।নাইফ একইভাবে জিজ্ঞেস করলো,
“ কী? কি করতি?"
“ ঘরেই ঢুকতে দিতাম না।কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে ঐ যে ঐখানে বেঁধে রাখতাম!"
বাড়ির সদর দরজার সামনে একটা বড় বাঁশ গেঁড়ে রাখা, যেটাতে তারা এই বছর স্বাধীনতা দিবসে পতাকা টানিয়েছিলো।সেটাই তাইফ ভাইকে বাঁধার জন্য পছন্দ করে দেখালো।নাইফ রাগে বোম হয়ে দিলো এক দৌড়ানি আর তাইফও নিজের কথা শেষ করেই ভোঁ দৌড়!
“ কি বললি!তাইফের বাচ্চা আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন!"
ভাইকে দৌড়ানি দিলেও নাইফ ভীত চোখে নিঃশব্দে কদম ফেলে ঘরে ঢুকলো। মায়ের রক্ত চক্ষুই আগে চোখে পড়লো। দ্রুত নজর সরিয়ে তার দিকেই আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকা খালামনিকে দেখে দ্রুত কদম ফেলে পিছন থেকে খালার গলা জড়িয়ে বললো,
“ খালামনি আসসালাম আলাইকুম, কেমন আছো?"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম, আছি তো আলহামদুলিল্লাহ কিন্তু বাবা এসব কি? তুমি এত রাতে কেন ঘরে ফিরো?"
“ ভাইয়া!"
খালার উত্তর দেওয়ার আগেই ফেরার চিৎকার।সে দৌড়ে ভাইয়ার কোমর জড়িয়ে ধরে লাফাচ্ছে খুশিতে।নাইফও পিছনে ফিরে বোনের মাথায় হাত দিয়ে গুছানো চুলগুলো এলোমেলো করে গাল টেনে দিয়ে বললো,
“ কি রে বুড়ি? কেমন আছিস?"
“ আমি অনেএএএএক ভালো তুমি!"
ফেরা নিজের দুই হাত যথা সম্ভব প্রসারিত করে দেখালো তার ভালো থাকার নমুনা। নাইফ বোনের এমন ছটফটানি দেখে হেসে দিয়ে চুল গুলো আবার গুছিয়ে দিয়ে বললো,
“ রিফা কোথায়?"
রিফার নাম নিতেই দেখলো খানিকটা দূরে রিফা আর তুহি কিছু একটা নিয়ে খেলছে,এর মধ্যেই কানে ভেসে এলো মিঞাও মিঞাও।
“ কি রে ঐটা?"
“ ভাইয়া তুহি একটা বিড়াল এনেছে!"
“ কিহ্! সত্যি?"
কাঁধের ব্যাগটা সোফায় ফেলে দিয়ে তুহির সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে বললো,
“ এটা কি? কোথায় পেলি বুড়ি?"
“ ভাইয়া এটা আমার! আমি এনেছি!"
বলেই তুহি নিজের উচ্ছাস জাহির করলো বড় ভাইয়ের কাছে।নাইফ খুবই আলতোভাবে বিড়াল ছানাকে নিজের হাতের তালুতে তুলে নিয়ে বুকের কাছে চেপে ধরে ভালো করে পরখ করতে লাগলো।
চলমান....
লিখতেই ইচ্ছা করছিলো না, অনেক ঠেলেঠুলে এই এতটুকু লিখছি, কি লিখছি নিজেও বুঝতেছি না।
মনে হয় না ঠিকঠাক ভালো লাগবে কারো! আজকের পর্বটা একটা আজাইরা পর্ব বলেই মেনে নিয়েন।
ভুলচুক ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
বানান ভুল হলেও দেখিয়ে দিবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে, ভালোবাসা নিবেন প্রিয় পাঠক-পাঠিক।
মরিয়মের গল্প কুঠির এ প্রতিযোগিতা চলছে।সবাই অংশগ্রহন করে নিজেদের উপহার বুঝে নিন।







0 মন্তব্যসমূহ