সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৮৮

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_৮৮



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


শ্যাওলা সবুজ টি শার্ট উপরে সাদা শার্ট চাপিয়ে শ্যাওলা রঙের জিন্স পরে হাতে চামড়ার সাধারণ একটি ঘড়ি, গলায় রোদ চশমা ঝুলানো, কাঁধে ভার্সিটির কালো ব্যাগটা ঝুলিয়ে বাবা মায়ের দুয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে দরজায় টোকা দিয়ে মায়ের দৃষ্টি কাড়লো,বাবা বোধহয় ওয়াশ রুমে।তার আটটায় ক্লাস আছে,এখন বাজে ছয়টা চল্লিশ, চুলগুলো উল্টো আঁচড়ে জেল দিয়ে সেট করা।

হাসি হাসি মুখে দাঁড়ানো সুদর্শন ছেলেকে দেখে প্রাণবন্ত হাসি দিলো আফিয়া।নিজ মনেই বিরবির করে বললো,


“ মাশাআল্লাহ, কারো নজর না লাগে।"


শব্দ করেই জিজ্ঞেস করলো,


“ বের হচ্ছো?"


“ জ্বী আম্মু!"


ছেলের মুখ দেখেই বুঝে নিলো কিছু বলবে,


“ কিছু লাগবে?"


নাইফ ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকে বাথরুমের দরজায় তাকালো একবার। বিছানার কোনায় বাবার পোশাক, মানে বাবাও বের হবে কিছু সময়ের মধ্যেই।তাই দ্রুত এবং নিচু কন্ঠে মায়ের পেছন থেকে গলা জড়িয়ে বললো,


“ আম্মু আমার কিছু টাকা লাগবে!"


টাকা লাগবে শুনে আফিয়া ছেলের দিকে ফিরে তাকালো,


“ কত লাগবে?"


“ বেশী না মাত্র ৫০০০!"


” পাঁচ হাজার মাত্র! তা দিয়ে কি হবে?"


“ ইয়ে মানে লাগবে।আমার পকেট মানি শেষ।"


“ এত তাড়াতাড়ি শেষ?"


আফিয়া বড় বড় চোখে চেয়ে জিজ্ঞেস করলো,নাইফ অসহায় একটি লুক দিয়ে মায়ের দিকে চেয়ে আছে যেই লুক দেখার পর আফিয়ার আর ছেলেকে প্রশ্ন করার মন চাইলো না।

বললো,


“ দাঁড়াও দিচ্ছি!"


বলেই সে নিজের সামলে রাখা সিন্দুকের কাছে গেলো, সেখানটা হাঁতড়ে হাজার টাকার পাঁচটা নোট বের করে হাতে মুড়িয়ে দিয়ে বাথরুমের দরজায় চোখ রাখলো।নাইফ টাকা হাতে পেয়ে মায়ের গালে টকাস করে একটা চুমু দিয়ে বললো,


“ লাভ ইয়্যু আম্মু, আমার গুড বাচ্চাটা!"


“ লাভ ইয়্যু বাচ্চা, সাবধানে যাও।আর বাজে খরচ করো না।"


“ কি বাজে খরচ করছে?"


নাসিফ বাথরুমের দরজা খুলে মা ছেলের গদগদ ভাব আর শেষ শব্দ শুনেই প্রশ্নটা করলো, এদিকে মা ছেলে সতর্ক হয়ে একে অপরের চোখে চোখ রেখে বললো,


“ ধরা খেলাম বোধহয়।"

কিন্তু বাবাকে শুনিয়ে বললো,


“ আসি আম্মু,বাবা আল্লাহ হাফেজ!"


বলেই নাইফ ব্যাগটা চেপে ধরে বেরিয়ে গেলো বাবা মায়ের ঘর থেকে।


নাসিফ ছেলের গমন পথে চেয়ে একটা শ্বাস ছাড়লো নিঃশব্দে। ছেলে মেয়ে বড় হলে বোধহয় এভাবেই বাবাদের থেকে দূরত্ব বেড়ে যায়।নাইফটা যত বড় হচ্ছে তত তাদের কথায়,কাজে, সিদ্ধান্তে ভিন্নতা আসছে,দ্বিমত সৃষ্টি হচ্ছে।যার দরুন ছেলের সাথে দিনদিনই দুরত্ব বেড়ে যাচ্ছে, ছেলেটা যতটা মায়ের নিকটবর্তী ততটাই তার থেকে দুরের।কত সহজে মা'কে জড়িয়ে ধরে, মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে, মা'কে এটা ওটা নিয়ে গল্প বলে শোনায়, অথচ তাকে দেখলেই পালাই পালাই করে,কি অদ্ভুত না জীবনের এই সময়গুলো! 

বাবারা যাদের জন্য দিনরাত এক করে খেটে যায়,তাদের কাছেই বাবা নামক প্রাণীটি থাকে প্রায় অচেনা,অজানা কেউ। যাদের জন্য নিজেকে একটু একটু করে বিলিন করে তাদের সাথেই বাবাদের কখনো প্রকৃত সম্পর্ক গড়ে উঠে না।

কথাগুলো ভেবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো, অতঃপর বিছানায় চাদর বদলাতে ব্যস্ত থাকা তার সন্তানদের জননীর পানে চাইলো, এবং বললো,


“ চাইলেই বের করে দিয়ে দেও, কখনো খোঁজ নিয়ে দেখেছো কি করে এত পয়সা দিয়ে? কোথায় খরচ করছে!"


আফিয়া ময়লা চাদরটা মুড়িয়ে খাটের পায়ার নিচে রেখে বললো,


“ বড় হচ্ছে,কথা জায়গায় লাগে। বন্ধু বান্ধবীদের সাথে কোথাও খেতে বসলেই তো পাঁচ ছয় হাজার ভ্যানিশ, এসব বুঝেও জিজ্ঞেস কিভাবে করি?"


“ তাই বলে এভাবে!

_ কত নিলো এখন?"


“ পাঁচ দিয়েছি!"


শব্দ উচ্চারণ করেই ভীত চোখে তাকালো স্বামীর দিকে, ছোট করে হলেও ব্লাস্টের ভয় আছে এবং তা ফলেই গেলো।নাসিফ মৃদু চিৎকার করে বললো,


“ কিহ! পাঁচ হাজার! এত কেন?"


আফিয়া স্বামীর ঘাড় থেকে তোয়ালে টেনে নিয়ে হাতে শার্ট ধরিয়ে দিয়ে বললো,


“ পকেট মানি শেষ,বাকী মাসটা চলবে কি দিয়ে ছেলেটা? রোজ রোজ কি মায়ের কাছে হাত পাততে ইচ্ছা করবে? তাছাড়াও এত বড় ছেলেকে এসব বিষয়ে জেরা করতেও আমার আন‌ইজি লাগে,আমি তো আর আপনি ন‌ই!"


“ হ্যাঁ তাতো অবশ্যই, আপনি তো আর আমি নন যে ছেলে মেয়েদের মাথায় উঠে বসে আছে সে কি আর এসব ছিলি প্রশ্ন করে হুট করেই অপছন্দের তালিকায় আসতে চাইবে?"


“ মানে কি?"


“ মানে তো খুব সহজ,আপনি চার ছেলের মেয়ের চোখের মনি। তাদের বাবা আজীবনেও ঘরে না আসলেও সমস্যা নাই, ঐদিকে মা পাশের বাড়ি গেলেও তারা অন্ধকার দেখে দুনিয়া।মায়ের চরিত্র‌ও তো হুবুহু!"


“ মানে কি? কোথাকার কথা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? ছেলে মেয়ে আপনাকেও ভালোবাসে,অযথা হিংসাহিংসি করবেন না!"


“ সে তো ভালেবাসে আমিও জানি, শুধু পছন্দ করে না।করবে কেন? মায়ের মতো তো সব বিষয়ে ছাড় দিয়ে দিতে পারি না।মা তো দুনিয়া উল্টে আসলেও বলবে,এত বড় ছেলে,সেয়ানা ছেলে, বিবাহযোগ্য ছেলে,ঐ টুকুনি বাচ্চা,কি বুঝে তাকে কিভাবে জেরা করবো,এত বড় উপযুক্ত ছেলেকে জেরা করা যায়নি,জেরা করলে কেমন দেখায়,ছেলের ইগোতে লাগে, ব্যক্তিত্ব ক্ষুন্ন হয়! এগুলো তো আর আমি ভাবি না।আমার কাছে যেটা ঠিক সেটাই বলবো, এবং শাসন‌ও করবো দরকার হলে,সে যত‌ই বড় হোক আর যত‌ই ছোট হোক।"


“ এই জন্যই ছেলে আপনাকে এভাবে কাটিয়ে থাকে,যদিও এটা আপনার ধারণা আমার না।তারপরেও বলতে বাধ্য হলাম,দিনদিন বয়স বাড়ছে আর আপনার এমন অন্যায্য শাসনের প্যানপ্যানানি বাড়ছে, 

মানে টাকাই তো চেয়েছে, তাছাড়াও আমি জানি আমার বাচ্চারা অনর্থক কিছু করবে না যাতে আমাদের সম্মান ক্ষুন্ন হয়, তবে কেন আমি এত কথা ছেলেদের বলবো! অযথা এমন প্রশ্নের মানেই তো নেই, একটু আধটু খরচ করে এই বয়সে, বন্ধু বান্ধবীদের কাছে নিজেকে একটু বড় ,খোলা দিলের বানাতে এই বয়সী ছেলেরা করে এমন।

আর আপনি এত এমন করেন কেন? আমি তো শুনেছি আপনিও এই বয়সে এর চেয়েও বেশি খরুচে ছিলেন,তো ওরা তো আপনার‌ই রক্ত, আপনার চেয়ে কম হবে কিভাবে?"


“ বিষয়টা খরচের না বেকুব মহিলা। খরচটা কোথায় করে সেটার? এই বয়সী এমন সুদর্শন খরুচে ছেলেদেরকে পিছনে যত বাজে ছেলে মেয়েরা ঘুরঘুর করে,পরে দেখা গেলো বন্ধু বন্ধু বলে কে লুটে নিলো তোর হাধারাম ছেলেকে। এমনিতেই বানিয়েছিস জলজ্যান্ত বলদ,মায়ের আঁচল ধরে ঘুরে তাও ভালো কিন্তু যদি কোন অতি চালাক মেয়ের পাল্লায় পড়ে তখন বুঝবি নে!"


“ তুই তামারি করছেন কেন? বুড়ো বয়সে মাথায় পোকা ধরেছে?"


নাসিফ নিজেও বিব্রত হলো নিজের এহেন ব্যবহারে তবে দমলো না। ফিরতি উত্তরে বললো,


“ আমার কি? আমি পুরুষ মানুষ,ছেলে ব‌উদের সেবার আশা করি না।বেশি উক্তু উক্তু করবে চুপচাপ ঘর থেকে বেরিয়ে যেদিকে দু চোখ যায় সেদিকেই হাঁটা ধরবো, পুরুষ মানুষের জীবন আর কি! কিন্তু ঝামেলা সব তোমার‌ই হবে,একটা বেজাত ধরে নিয়ে আসলেই টের পাবে,অতি আহ্লাদে ছেলেরা কিভাবে বিগড়ে যায়,দেখা গেলো এক‌ই খাটালে বসে ছেলের ব‌উয়ের সাথে চুল ছেঁড়াছিড়ি শুরু করে দিলে।"


“ এমন কিছু করবে না আমার ছেলেরা,আমি দেখে শুনেই দুই ছেলের ব‌উ আনবো‌‌।আপনি অযথা আমাকে ভয় দেখাবেন না। আচ্ছা শুনেন না একটা কথা অনেকদিন থেকেই ভাবছি আপনাকে বলবো পরে মনে হয় আপনি আমার উপরে হাসবেন,তাই বলতেও দ্বিধা হচ্ছে!"


“ বাহ্ তের চৌদ্দ বছরের সংসার জীবন পার করেও তোমার এখনও আমাকে কিছু বলতে দ্বিধা হয়? দারুন কথা!"


ব্যঙ্গ করে বললো নাসিফ, আফিয়া ভোঁতা মুখে বললো,


“ আপনি তো শুনলেই হাসবেন তাহলে আমি কি করবো?"


“ বলো হাসবো না।"


“ বলছিলাম তাহমিনার মেয়েটাকে দেখছেন? কেমন লাগলো?"


“ কোন তাহমিনা? তোমার বান্ধবী!"


আফিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো,


“ হ্যাঁ তো কোন তাহমিনার কথা বলবো? আপনি কয়টা তাহমিনাকে চিনেন?"


“ আচ্ছা বলো ওর মেয়ে কি?"


“ মেয়েটা সুন্দর না, একদম একটা জলজ্যান্ত মানবী পুতুল!কি ভাসা ভাসা চোখ, গায়ের রঙ তো সিঁদুরে লাল,টসটসা! গলার স্বর‌ও মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ! সেদিন আমার নাইফের পাশে দাঁড়িয়ে যখন কথা বলছিলো বিশ্বাস করুন আমার চোখ আঁটকে গিয়েছিল। দুজনকে কি দারুন মানিয়েছে আপনি যদি দেখতেন!লম্বাও আমার নাইফের কাঁধ ছুঁইছুঁই,অথচ মেয়ের বয়স‌ই মাত্র ষোল!"


“ তোমার ছেলের বয়স‌ও মাত্র একুশ, এখনও তো উপযুক্ত হয়নি।নিজে কাজবাজ না করা অবদি আমি বিয়ে দিচ্ছি না।যেদিন ব‌উ নিজের আয়ে পালতে পারবে সেদিন বিয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ!"


কথা কাটাকাটি করতে করতেই স্বামীকে তৈরি হতে সাহায্য করছিলো আফিয়া।নাসিফ‌‌ও ঝগড়া নামক তর্ক করতে করতেই স্ত্রীর সাহায্যে তৈরি হয়ে গলায় টাইয়ের নট টাইট দেওয়ার জন্য হাত উচাতেই আফিয়া স্বামীকে ঘুরিয়ে নিজেই টাই টাইট করে দিয়ে স্বামীর গলায় হাত রেখে একটু আদুরে গলায় গদগদ ভাব এনে বললো,


“ আল্লাহ আপনাকে যথেষ্ট দিয়েছে,এসব বলে ছেলেদের বিপদে ফেলবেন না।যদিও আমার বিশ্বাস আমাদের ছেলেরা আল্লাহর রহমতে অল্পতেই সফল হবে ইনশাআল্লাহ তাও বলছি,এসব জেদ চেপে গো ধরে বসে ছেলে মেয়ের নফস নষ্ট করার জন্য কাঁধে দায়ভার নিয়েন না।

ছেলে মেয়ের ঈমান রক্ষার্থে আমাদের‌ও অনেক দায়দায়িত্ব আছে, অল্প বয়সে বিয়ে দিলে জিনা থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ,চোখের হেফাজত করা সহজ, চরিত্র ধরে রাখতেও সুবিধা হয়।তাই বলছি.."


“ তো তুমি কি এখন‌ই ছেলেকেও বিয়ে দিয়ে দিতে চাইছো নাকি?"


“ না, এখন‌ই কেন দিবো।আগে স্নাতকোত্তর হোক, অতঃপর ইনশাআল্লাহ,আমি বলছি থার্ড ইয়ারে উঠলেই আপনি পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলেকে যেকোন একটা শো রুমের দায়িত্ব কাঁধে চাপিয়ে দেন।তাহলে দেখবেন কাজের ঠেলায় বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে আড্ডা দেওয়াও কমে যাবে, উল্টাপাল্টা ছেলে মেয়ের সাথে মেশা তো দূরের কথা। তারপর অনার্স শেষ হলেই দ্রুত আমরা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে দিয়ে দিবো,তবে আমার তাহমিনার মেয়েটা বেশ পছন্দ হয়েছে, আমার ছেলের পাশে দাঁড়ালে পুরো রাজযোটক লাগে।"


“ আল্লাহ তোমার  মনোবাসনা পূরন করুক তবে আমি সাজেস্ট করবো এত তাড়াতাড়ি এত কিছু ভেবো না। আল্লাহ কখন কি করে বলা যায় না, পরে দেখা গেলো তোমার মনের মতো না হলে কষ্ট পাবে। আমি আবার আমার ব‌উয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারি না!আর ছেলে মেয়েদের উপরেও এসব বিষয়ে জোর দেওয়ার মন মানসিকতা রাখি না।"


বলেই নাসিফ আফিয়ার কপালে নিজের শুষ্ক মরূর ন্যায় খরখরে ঠোঁটটা ছুঁয়ে দিলো। আফিয়া এই বয়সেও স্বামীর আদরে লজ্জায় সিক্ত হয়ে যায়।সে লজ্জায় অবনত মস্তকে বললো,


“ হ্যাঁ তাও ঠিক,তাই কাউকে কিছুই বলছি না।আগে বাচ্চারা বড় হোক। আমি ওদের বয়সের আনন্দ কেড়ে নিতে চাইনা।যা হবে হোক,হবে তো আল্লাহর ইচ্ছাতেই, আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী‌ই!"


“ আচ্ছা নাস্তা দেও তাহলে,আমাকে তাড়াতাড়ি বের হতে হবে!"


“ হুম চলেন!"


_______________________


নাবীহা ডাইনিং টেবিলে নিজের বায়োলজি ব‌ইটা রেখে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে পড়ছে,এক হাঁটু চেয়ারে ভাঁজ করে আরেক হাঁটু বিছিয়ে বসেছে, সামনে একটা খালি চায়ের কাপ,এক হাতে নোট করছে আরেক হাতে ব‌ই ধরে বিরবির করে পড়ছে।

 নাসিফ টেবিলের সামনে মেয়েকে দেখে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,


“ আমার আম্মা পড়ছে?"


“ জ্বী বাবা!"


অতঃপর নাসিফ মেয়ের পাশের চেয়ারেই বসে পড়লো,আফিয়া রুটি সবজি দিলো সামনে,নাসিফ সকালে খালি পেটে ইসুব গুলের ভূসি আর মেথি গুঁড়া খায়। তারপর নাস্তায় ফলমূল আর সব্জি দিয়ে পাতলা রুটি দু'টো খায়। একটা সিদ্ধ ডিম,ফলের জুস।

নাসিফ রুটির সাথে সব্জি নিয়ে মেয়ের মুখে তুলে দিতে থাকলো,নাবীহাও চুপচাপ খেতে থাকলো।জানে না বললেও বাবা শুনবে না।আর তার‌ও বাবা মায়ের হাত থেকে খাওয়ার লোভ কমে না কখনো। সুযোগ পেলেই সে বাবা মায়ের হাতে খায়। এমনকি দুপুরে তো মা'ই খাইয়ে দেয়।তুহিকে খাওয়ানোর পাশাপাশি তাকেও এখন তো তাইফ‌ও আছে।মোটা কথা মা বড় মেলামাইনের বাটিতে বা বোলে খাবার নিয়ে একবারে মাখে,আর চার ভাই বোনকেই একসাথে খাইয়ে দেয়।যদিও তাইফ সবসময় থাকে না বলে সে সবসময় ভাগে পায় না। ঠিক তেমনি ভাইয়া‌ও পায় না কিন্তু ভাইয়ার বিষয় আলাদা,সে আসলে ঠিক‌ই মা তাকে খাইয়ে দেয় আর মায়ের বুড়ো ছেলে বসে বসে মোবাইল গুতাঁয়।


“ বাবা!"


“ হুম বলো!"


“ আমাদের কোচিংয়ের তানজিব স্যারের বার্থডে তাই সবাই ভেবেছে স্যারকে গিফট দিবে!"


“ আচ্ছা ভালো কথা!"


“ কিন্তু আমি কি দিবো?"


“ তোমার যা ইচ্ছা দাও!"


“ টাকা নাই তো আমার কাছে?"


“ কেন নেই, তোমার মা তোমাকে দেয় না ?"


“ আম্মু দেয় না তো,চাইলেই বলে তোমার তো বাইরে কোন কাজ নেই তাহলে টাকা দিয়ে কি করবে? কিন্তু ভাইয়া চাইলে ঠিক‌ই দেয়!"


মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে মায়ের নামে কমপ্লেইন করার সাহস কেবল বাবার সামনেই সম্ভব নয়তো মায়ের কিল একটাও মাটিতে পড়তো না।আফিয়া চোখ রাঙানি দিয়ে চেয়ে আছে।নাসিফ মেয়ের মাথায় শান্তনা সূচক ছুঁয়ে বললো,


“ আচ্ছা ঠিক আছে আজ দিবে নে,মন খারাপ করোনা। তোমাদের ভালোর জন্যই করে এমন!

_ টাকা না দেও নিজে গিয়ে কিছু কিনে দিও।"


আফিয়ার উদ্দেশ্যে শেষ বাক্যটা বলে,কথাটা বলেই নাসিফ টিস্যু দিয়ে হাত ঘষে মুখটাও মুছে নিলো, এবং সেই টিস্যু নিজের এঁটো প্লেটেই রাখলো,কথা বলার সময়েও আফিয়ার দিকে তাকায়নি। কারণটা সহজ, মেয়েদের মানুষ করায় সবচেয়ে বেশি অবদান থাকে মায়েদের, সুতরাং মেয়েদের বিষয়ে মায়েদের এমন কঠোর শাসনব্যবস্থা নিয়ে কোন কথা বলা উচিত নয়।মা যত মেয়ের প্রতি যত্নশীল হবে,যতটা খবরদারিত্ব করবে তত‌ই মেয়ে সঠিক লাইনে থাকবে।যেই মায়েরা নারী স্বাধীনতার বুলি আওড়িয়ে লাগামহীন ঘোড়ার মতো ছেঁড়ে দেয় মেয়ে সন্তানদের দেখা গেলো এককালে গিয়ে সেই মায়েদের‌ই চোখের পানি নাকের পানি এক হয়। তাছাড়াও মেয়েরা হচ্ছে ঘরের ইজ্জত,টাকা পয়সা দিয়ে ইজ্জত কেনা যায় না।ছেলেরা যাই করুক দিনশেষে মানুষ ঠিক‌ই ভুলে যায়, কিন্তু মেয়েদের গায়ে একবার দাগ লাগলে তা জীবনে মুছে না।


__________________


“ ভাইয়া, দেখো ঐখানে কি?"


তুহি তার বড় ভাইয়ের হাত ধরে মাদ্রাসা থেকে বাড়ির পথে হাঁটছে, পিছনে তাঁদের দাদা দাদীও, দুটো বিল্ডিংয়ের চিপায় একটি ছোট বিড়াল ছানা, কাচুমাচু মুখে চেয়ে আছে তাদের দিকেই।তুহি ভাইয়ের মুঠ থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড় দিলো সেদিকে,তাইফ চিৎকার করে বললো,


“ তুহি যাস না খামচি দিবে!

দাদা ভাই দেখো তুহি কি করছে?"


সালমা ফাওযিয়া এখন নাতনিকে মসজিদে দিয়ে যাওয়া আসা করার ফাঁকে স্বামীকে নিয়ে কুড়ার ঘাট হাসপাতাল মাঠে হাঁটাহাঁটি করে।নয়তো নাযির আহমাদ হাঁটতে চায় না।উনি, পুত্র বধূ চেঁচামেচি করে দেখে নাতনিকে মসজিদে দিয়ে যাওয়ার বাহানায় মসজিদে এসে বসে থাকে, কোরআন তেলাওয়াত যদিও করেন।তবুও উনার এখন সকালে নিয়মিত হাঁটার জন্য চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন।স্বামী স্ত্রী দুজন‌ই ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত।সালমা ফাওযিয়া খাওয়া দাওয়া থেকে সবকিছু মেনে চলেন বলে একটু সুস্থ থাকেন কিন্তু নাযির আহমাদ যেন কিরা কেটে বসে আছেন উনি কোন নিয়মে আবদ্ধ হবেন না। মনে মনে ভীষণ ক্ষেপেন সালমা ফাওযিয়া, বিরবির করে প্রায়‌ই বলেন,


“ ছেলের এত হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পয়সা একেবারে জলে দেয় বুড়োটা।ব‌উটা সারাদিন খাটে আমাদের বুড়ো বুড়ির পিছনে তাও তার হেলদোল নেই,যেন মরার জন্য উতলা হয়ে উঠেছে। অসভ্য ত্যাড়া জাতের মরদ। পেয়েছে তো ছেলে ছেলের বউ ভালো,হতো হাড়ে বজ্জাত; তাহলেই টের পেতো কত ধানে কত মন চাল হয়।" 


উনার এমন বকবকানিতেও নাযির আহমাদকে হেলানো যায় না। তিনি নিজের মতোই বাঁচে।নাতনিকে দৌড়াতে দেখে তিনি ছুটে যান পিছনে, আর বলতে থাকেন,


“ আপামনি ওটা হাত দিয়ে ধরো না,ওর গায়ে জার্মস আছে।মা কিন্তু পিটুনি দিবে!"


দাদার আগেই তাইফ গিয়ে বোনকে ধরে ফেললো, কিন্তু তাতেও লাভ হলো না।তুহি ভাইয়ের শক্ত বাঁধন থেকে ছোটার জন্য ছটফট করতে করতে বললো,


“ ওতা আমি নিবো!"


বলতে বলতেই সে ভ্যাঁ করে উঠলো,নাযির আহমাদ নাতনির মাথায় নিজের থরথরিয়ে কাঁপা হাতটা রেখে বললেন,


“ আচ্ছা নিও, কিন্তু আগে শান্ত হ‌ও।আর ঐটা তুমি নিতে পারবে না তো আপা মনি,ও তো বাচ্চা একটা বেড়াল,ওর মা আছে আশে পাশে হয়তো, তুমি নিলে ওর মা কাঁদবে না।"


“ না আমি ঐতা নিবো,উহুমমম!"


তাইফ শক্ত করে নিজের সাথে আটকে রেখেছে আর তুহি পা বাড়িয়ে সামনে যাওয়ার জন্য কসরত হচ্ছে। অতঃপর সালমা ফাওযিয়া এলেন,তিনি ধীরে ধীরে হাঁটেন, হার্টে সমস্যা দেখা দিয়েছে,দৌড় ঝাঁপ করা নিষেধ উনার।তাই দ্রুত হাঁটেন না। সবার পরে উপস্থিত হয়ে বললেন,


” আচ্ছা ঠিক আছে ওকে নিতে দাও।কাদাইও না।"


“ কিন্তু ওর হাতে যদি খামচে দেয় বিড়ালটা তখন?"


“ আহারে, দিবে না তোমার বোনকে খামচি, ও একটা বাচ্চা বিড়াল।ওর গায়ে অত শক্তি নেই!"


তাইফ বোনের জন্য চিন্তা করছে ঐদিকে তার বোন বিড়াল ছানাকে কোলে তুলে নিয়েছে,লাল সুতির হিজাব আর হাঁটু ছাড়িয়ে যাওয়া লম্বা লাল ফ্রক,কালো সালোয়ার পড়নে তার‌।এটা তার মসজিদের পোশাক,এটা পড়েই সে আরবী পড়তে মসজিদে আসে। কোথায় থেকে ভিজেছে আল্লাহ জানে,বিড়ালটার সারা গাঁয়ে কাঁদা মাখা।সেই কাঁদা মাখানো বিড়াল কোলে তুলে নেওয়ায় তার জামা,হিজাব‌ও কাঁদায় একাকার হয়ে গেলো,তা দেখে তাইফ কপালে চাপড় মারে,মাথায় হাত রেখে বললো,


“ দিলি তো সব নষ্ট করে,এখন দেখিস আম্মু কিভাবে তোর পিঠে বেত ভাঙ্গে,চল এখন!"


বলেই বোনের কনুই ধরে টেনে নিয়ে যায়।নাক কুঁচকে চোখ খিচিয়ে বোনকে দেখছে আড় চোখে আর বোনের কোলে থাকা সাদা কিন্তু কাঁদায় মাখানো বাচ্চাটাকে দেখছে,যেটা তার দিকে পিটপিট করে চেয়ে আছে।

তুহি বিড়াল নিয়ে বেজায় খুশি।সে বিড়ালের মাথায় হাত বুলাচ্ছে আর নিজের ছোট ছোট দাঁত বের করে হাসছে। নাযির আহমাদ আর সালমা ফাওযিয়া নাতী নাতনির পিছনে পিছনে হাঁটছেন।


দরজা খুলে আফিয়া মেয়েকে দেখেই চোখ কপালে তুলে ফেললো,পুরো কাঁদায় একাকার হয়ে আছে।গালে,কপালে কোথায় নেই কাঁদা! পাশেই তার সুবোধ বালক তাইফ গাল নাক ফুলিয়ে মায়ের দিকে চেয়ে আছে,ফোস করে আওয়াজ করে বললো,


“ আমি বারণ করেছিলাম শুনেনি।আমার কোন দোষ নেই!"


“ একি, কোথায় থেকে এনেছো?"


তুহি মায়ের দিকে ভীত ভীত নজরে চেয়ে আছে, আস্তে ভেঙে ভেঙে বললো,


“ ঐখান থেকে!"


“ কোনখান থেকে?"


“ ঐ যে ঐখান থেকে!"


“ সে তুমি যেখানে থেকেই এনে থাকো,এখন আবার সেখানেই রেখে আসো।এসব এ ঘরে ঢুকবে না।

_ আর তোমার দাদা দাদী কোথায়?"


“ আসছে নিচে,ভাড়াটিয়ার সাথে কথা বলে!"


মেয়েকে বলেই ছেলেকে প্রশ্ন করলো,তাইফ উত্তর‌ও 

দিলো। ঐদিকে তুহি বিড়ালটাকে আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে,আফিয়া মেয়েকে ধমকেই বললো,


“ কি বলছি শোনোনি আমার কথা?যাও যেখানকার জিনিস সেখানেই রেখে আসো,আর খবরদার এই নোংরা পোশাকে তুমি ঘরে ঢুকবে না।আমি যেমন পরিষ্কার পোশাক পড়িয়ে দিয়েছি সেভাবেই আসবে নয়তো না ,আর আসার দরকার নাই।"


তুহি মায়ের ধমকে কেঁপে উঠলো, ঠোঁট ভেঙে কাঁদো কাঁদো চোখে তাকিয়ে বিড়ালটাকে শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে,তাইফ ঘরে ঢুকে মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বোনকে দেখছে, মায়ের চিৎকার শুনে বসার ঘর থেকে ছুটে এসেছে তুলতুল,বিড়াল দেখে খুশি হলেও সে সাহস করলো আগানোর কারণ মা বিড়াল আনতে নিষেধ তার জন্য‌ই করছে,বিড়াল তার‌ও পছন্দ কিন্তু একবার খামচি খাওয়ার পর তার হাত দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল,সেই রক্ত দেখার পর থেকেই আফিয়ার মাথায় চেপে বসে এই সব পেটস তার ঘরে আসবে না। তাছাড়াও বিড়ালের লোমে নাবীহার এলার্জি বাঁধে,তাই সে ভয় পায়।

সালমা ফাওযিয়া নাতনিকে বাইরে দাঁড় করিয়ে ধমকাধমকির সময়েই চলে আসে, এবং তিনিও এক‌ই ভঙ্গিতে ব‌উকে ধমকে বললেন,


“ কি হচ্ছে কি? ছোট মানুষ ওর কি শখ আহ্লাদ নেই। একটা বিড়াল‌ই তো এনেছে, অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে জামাই তো নিয়ে আসেনি।তবে তোমাদের সমস্যা কোথায়?"


“ আম্মা কি সব বলেন,আপনি জানেন না তুলতুলের বিড়ালের লোমে এলার্জি হয়, তাছাড়াও কত ভয় পায় মেয়েটা!"


“ সে তোমার বুড়ো ঢেংগি মেয়ে'তো তেলাপোকা দেখলেও ভয় পায়, বাঁদরের মতো লাফায়,বিড়ালের আর কি দোষ!"


“ দাদী একদম আমাকে ইনসাল্ট করে কথা বলবে না বলে দিচ্ছি!"


“ হাহ্! আসছে হুমকি‌ওয়ালী, ইনসাল্টের কি আছে? সত্যি বলেছি, মিথ্যা তো না!"


দাদী নাতনির মাঝে না ঢুকে পুত্র বধূকে অনুরোধ করে নাযির আহমাদ বললেন,


“ ব‌উ মা তুমি এক কাজ করো,আমার আপা মনিকে নিয়ে পরিষ্কার করে দাও,আমি আমার আপা মনির বিড়ালকে পরিষ্কার করে বাইরেই ওর থাকার জায়গা করছি, তুমি চিন্তা করো না।বিড়ালের কারণে কারো অসুবিধা হবে না।"


“ বাবা আপনারা আনতে দিলেন কেন? কত ছোট্ট একটি বাচ্চা,ওর মা আছে না? কাঁদবে না বাচ্চাটা?"


“ কি করবো, কাদছিলো তো। এখন যদি রাস্তায় গড়াগড়ি দেওয়া শুরু করে তাই আর আঁটকে দিলাম না।"


“ কান্না করে দুনিয়া চাইলে তাই দিতে হবে বাবা?"


“ আচ্ছা রাগ করো না। সমস্যা নাই‌,এটার আশেপাশে কেউই ছিলো না, বোধহয় ওর মা‌ও নেই।"


“ জানি না, আপনাদের যা খুশি করেন।"


বলেই আফিয়া মেয়ের ডান হাতের কনুই ধরে টানতে টানতে ভেতরে নিয়ে গেলো,আর বিড়ালটা নাযির আহমাদ নিজের হাতে ধরে রাখলেন, বাচ্চা বিড়াল তাই তার হম্বিতম্বি‌ও কম।সেও নিশ্চুপ হয়ে নাযির আহমাদের হাতের মুঠোয় পড়ে র‌ইলো গা এলিয়ে।মা বোনকে নিয়ে যেতেই তাইফ বললো,


“ আমি সাবান আর বালতি নিয়ে আসি দাদাভাই!"


“ হ্যাঁ যাও, তাড়াতাড়ি যাও,নয়তো তোমার আম্মা আবার‌ও ক্ষেপে যাবে।"


“তুই থাক,আমি‌ই সব এনে দিচ্ছি!"


বলে নাবীহাও নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো, অতঃপর নিজের সাবান,শ্যাম্পু সহ পানি ভর্তি একটা বড় প্লাস্টিকের বোল নিয়ে আসলো। ঐখানেই টুলে বসে নাযির আহমাদ বেশ ভালো করে গোসল করিয়ে পরিষ্কার করে দিলো বিড়ালটা।নাবীহা খুঁজে খুঁজে নিজের একটা পুরানো সুতি ওড়না বের করলো, সেটা দিলে নাযির আহমাদ সেটাকে পেঁচিয়ে কোলে নিতেই ছুটে এলো তুহি,


“ আমার বিড়াল এটা, আমাকে দাও।"


বলেই সে হাত বাড়িয়ে দিলো,তাকে গোসল করিয়ে তার মা  তোয়ালে পেঁচিয়ে হয়তো মাত্র‌ই গোসলখানা থেকে বের করেছে আর সে সেভাবে দৌড়ে চলে আসছে,এখন যেহেতু বিড়ালটা পরিষ্কার তাই আর কোন সমস্যা নাই।নাযির আহমাদ নাতনির কোলে দিতেই সে নিজের ঝিরিঝিরি দাঁত দেখিয়ে হেসে দিলো।নাবীহাও বোনের খুশি দেখে বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,


“ হ্যাঁ , এটা তোমার বাচ্চা?"


তুহি মাথা উপর নিচ দুলিয়ে সম্মতি বোঝালো হ্যাঁ।নাবীহা খুশি হ‌ওয়ার মতো করে বললো,


“ আরে বাহ্ তাহলে তো আমি খালামুনি হয়ে গেলাম,আর তাইফ,ভাইয়া মামা!"


“ হ্যাঁ আমার বিড়ালের মামা হতে বয়েই গেছে!"


বলেই তাইফ দম্ভ দেখিয়ে নিজেদের ঘরের দিকে গেলো।সালমা ফাওযিয়া নাতি নাতনির খুনসুটি দেখে হাসতে হাসতে ভেতরে গিয়ে নিজের ঘে চলে গেলেন।নাযির আহমাদ স্ত্রীকে অনুসরণ করলেন।


“ চল তোর বাচ্চার জন্য খাবার রেডি করি!"


“ চলো!"


তুহি বিড়ালটাকে কোলে নিয়েই বড় বোনকে অনুসরণ করে রান্না ঘরের দিকে গেলো।


চলমান..


একটা কথা বলতে চাই আপনাদের,এই উপন্যাসটা আমি যেই প্লট মাথায় রেখে লিখা আরম্ভ করেছিলাম, অর্থাৎ যেই দৃশ্যকে কল্পনা করে লিখতে শুরু করেছিলাম সেটা এখনো আসেনি।তার জন্য এখনো অনেক দূর লিখতে হবে, মানে এখনো অনেক পর্ব বাকী,তাই কেউ ভাববেন না এটা শেষ হয়ে যাচ্ছে,যদি কারো বোরিং লাগে সেটা আলাদা বিষয়,সবার তো এক পছন্দ না। কিন্তু আমি ঐ অবধিই লিখে সমাপ্ত দিবো।এতে আপনারা পড়লেও না পড়লেও।

ধন্যবাদ সবাইকে ❤️☺️

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ