সুখ_ফড়িং_সিজন_২ | পর্বসংখ্যা_১১

 #সুখ_ফড়িং 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_১১ 



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


“ আপু!"


এক প্যাকেট এনার্জি প্লাস বিস্কুট নিয়ে দৌড়ে এসেছে নাফিদ, বাচ্চাদের বসার জন্য বিছানো পাটির উপর প্যাকেটটা রেখে পারীর দৃষ্টি কাড়তেই ডাক দিলো।পারী তখন থ্রির একটা বাচ্চাকে পড়াচ্ছিলো।নাফিদের ডাকে ফিরে তাকালো,হাসি হাসি মুখে বললো,


“ জ্বী ভাইয়া!"


“ ওদের টিফিন!"


“ ধন্যবাদ!"


“ আসি তাহলে!"


“ জ্বী আচ্ছা!"


বলেই পারীর কিছু একটা মনে পড়তেই ডাকলো,


“ নাফিদ ভাইয়া শুনেন!"


নাফিদ ফিরে এলো,হাপাচ্ছে সে। হাঁটুর উপর হালকা ভর দিয়ে বললো,


“ জ্বী আপু বলেন!"


“ আচ্ছা উনি.. মানে সম্রাট ভাইয়া, বাপ্পী ভাইয়া এখন আর আসে না‌ কেন?"


নাফিদ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানে না তাও অনুমান করেই বলে দিলো,


“ ভাইয়ার তো সামনে পরীক্ষা,তাই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত আছে!"


“ ওহ্! কিন্তু উনার তো মাস্টার্স শেষ তারপরেও!"


“ বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছে!"


“ উনি বিসিএস দিচ্ছে?"


“ হ্যাঁ ,ভাই তো আগেও একবার দিয়েছিলো! কিন্তু হয়নি তাই এবার দ্বিতীয় বারের মতো চান্স নিলো।"


“ আচ্ছা, জানতাম না। থ্যাংকিউ!"


“ ইটস্ ওখে,যেকোন প্রয়োজনে আমাকে নক করিয়েন। সমস্যা নাই!"


“ ফি আমানিল্লাহ্!"


নাফিদ চলে গেলো।পারী চেয়ে র‌ইলো নিচে পড়ে থাকা প্যাকেটটার দিকে। এখানে স্কুল খোলার প্রথম দিন সম্রাট, বাপ্পী, তাহসিন,সিয়াম এসেছিলো। বাচ্চাদের জন্য অনেক খাবার দাবার নিয়ে। এবং সবসময়‌ই এদের মধ্যে থেকে কেউ না কেউ এসে বাচ্চাদের পড়াতে সাহায্য করতো। সম্রাট নিজেই সেদিন বলেছিলো,


“ এখানে বাচ্চাদের জন্য টিফিন আমি প্রোভাইড করতে চাই, প্লিজ না বলো না!"


পারী প্রথমে রাজী না হলেও পরে রাজী হয়ে গেলো‌।কারণ তার একার পক্ষে তো সম্ভব নয় রোজ রোজ বাচ্চাদের নাস্তার ব্যবস্থা করা, সুতরাং তাকে ডোনেশন কালেক্ট করতেই হবে। এক্ষেত্রে যদি সম্রাট সেধে রোজ দেয় তাহলে সমস্যা কোথায়।এটা তো ও আর নিজের জন্য নিচ্ছে না।

কিছু সুবিধাবঞ্চিত অসহায় কিংবা পথ শিশুদের জন্য নিচ্ছে।এখানে সবার অধিকার আছে হস্তক্ষেপ করার।


সব ভেবে পারী সম্রাটের প্রস্তাবে রাজী হয়ে যায়।গত এক মাসের বেশি সময় ধরে এভাবেই সম্রাটের মাধ্যমে বাচ্চাদের টিফিনের বন্দোবস্ত হয়ে যায়। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে সম্রাট আসছে না।প্রথম দুই দিন পারীর কাছে সবটা স্বাভাবিক ঠেকলেও তার পর থেকেই কেমন শূন্যতা বিরাজ করছে তার চারপাশে, খাঁ খাঁ করছে। কিন্তু মুখ ফুটে তো জিজ্ঞেস‌ও করা যায় না।কে কি ভাবে?

তাছাড়াও পারী খেয়াল করেছে সম্রাট ওর আশেপাশে থাকলে সবার চোখ ওদের দিকেই থাকে,কেউ কেউ মিটিমিটি হাসে।যার কারণ পারীর অজানা।


________________


“ কিরে তুই মেয়ে মানুষের মতো পর্দা শুরু করলি ক্যান?"


ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বন্ধুর দিকে নিক্ষেপ করলো প্রশ্নটা।অবিরত বাস্কেটে বলটা ছুঁড়ে মারতে মারতে ঘেমে তার গায়ের গ্রে টি শার্ট ব্ল্যাক হয়ে গিয়েছে।কালো ট্রাউজার কোমর থেকে নেমে এসেছে। পিছন থেকে ছুঁড়ে আসা প্রশ্নের প্রত্যুত্তর করার প্রয়োজন মনে করলো না।তার মতোই সে খেলছে।যেন এটাই ধ্যানজ্ঞান। বিরক্ত হয়ে তেতে আসলো বাপ্পী। বন্ধুর কাঁধে ধাক্কা দিয়ে লক্ষ‌্যচুত্ত করে নিজেই বলটা কব্জির দুর্দান্ত কৌশলে স্বহস্তে ধারন করলো। হঠাৎ ধাক্কায় কয়েক কদম বিপরীতে গিয়ে পড়লো ফ্লোর বেডে।তাও থামলো না‌।পড়তে পড়তেই ঘাড় উঁচিয়ে বন্ধুকে দেখে সোজা হয়েই ধপ করে শুয়ে পড়লো।দুই হাত দুই দিকে ছড়িয়ে পা জোড়াও মেলে দিলো। ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,


“ কি করবো? কিভাবে ভুলবো? ঐদিকে গেলেই চোখের সামনে পড়বে!"


“ না গেলে বুঝি পড়ে না! রাত ভরে কাকে ভেবে জাগিস? মোবাইলের স্ক্রিনে কার ছবি ভাসে?"


“ ওকে সামনে দেখলে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না দোস্ত,অযথাই ওর উপর চড়াও হবো। অনর্থক ঘটিয়ে ছাড়বো।দেখা গেলো খামোখাই মেয়েটা আমার দুর্ব্যবহারের শিকার হলো, দেখলি তো সেদিন কিভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলাম নয়তো!"


বলটাকে শেষ বার ছুঁড়ে মারলো ঝুড়িতে,যা হোল  দিয়ে গড়িয়ে পড়ে গড়াতে গড়াতে দরজার সামনে গিয়ে বারি খেলো দরজার কপাটে।


“ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অন্তত কিছু পেতে হলে কিছু তো ছাড়তে হবেই।তবে... তোর জন্য টাটকা খবর আছে! আই থিংক তোর জন্য টার্ম কার্ড হবে এটা!"


“ কি?"


বন্ধুর কথায় বাঁকা হেসে বন্ধুর পাশে বসে,দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাখা গিটারটা তুলে নিলো, বৃদ্ধাঙ্গুলি,শাহাদাত আঙ্গুল আর মধ্যমার সাহায্যে টুং টাং করে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করে গেয়ে উঠলো,


যদি বারে বারে একই সুরে প্রেম তোমায় কাঁদায়

তবে প্রেমিকা কোথায় আর প্রেমই বা কোথায়?

যদি দিশেহারা ইশারাতে প্রেমই ডেকে যায়

তবে ইশারা কোথায় আর আশারা কোথায়?


যদি মিথ্যে মনে হয় সব পুরোনো কথা,

যদি চায়ের কাপেতে জমে নীরবতা,,

যদি মিথ্যে মনে হয় সব পুরোনো কথা,

যদি চায়ের কাপেতে জমে নীরবতা,,

তবে বুঝে নিও চাঁদের আলো কত নিরুপায়!


যদি প্রতিদিন সেই রঙিন হাসি ব্যথা দেয়

যদি সত্যগুলো স্বপ্ন হয়ে শুধু কথা দেয়

যদি প্রতিদিন সেই রঙিন হাসি ব্যথা দেয়

যদি সত্যগুলো স্বপ্ন হয়ে শুধু কথা দেয়।

তবে শুনে দেখো প্রেমিকের গানও অসহায়


যদি অভিযোগ কেড়ে নেয় সব অধিকার

তবে অভিনয় হয় সবগুলো অভিসার

যদি ঝিলমিল নীল আলোকে ঢেকে দেয় আঁধার

তবে কী থাকে তোমার, বলো কী থাকে আমার?


যদি ভালোবাসা সরে গেলে মরে যেতে হয়

কেন সেই প্রেম ফিরে এলে হেরে যেতে ভয়?

যদি ভালোবাসা সরে গেলে মরে যেতে হয়

কেন সেই প্রেম ফিরে এলে হেরে যেতে ভয়?

শেষে কবিতারা দায়সারা গান হয়ে যায়।


যদি বারে বারে একই সুরে প্রেম তোমায় কাঁদায়

তবে প্রেমিকা কোথায় আর প্রেমই বা কোথায়?

যদি দিশেহারা ইশারাতে প্রেমই ডেকে যায়

তবে ইশারা কোথায় আর আশারা কোথায়?


যদি মিথ্যে মনে হয় সব পুরোনো কথা

যদি চায়ের কাপেতে জমে নীরবতা

যদি মিথ্যে মনে হয় সব পুরোনো কথা

যদি চায়ের কাপেতে জমে নীরবতা

তবে বুঝে নিও চাঁদের আলো কত নিরুপায়!


ঘন্টা লাগিয়ে স্নান সেড়ে ধবধবে এক তোয়ালে দিয়ে নিজের লজ্জাস্থান ডেকে বের হলো‌, কাঁধে তার আরো একটি গোলাপি তোয়ালে। মাত্র ক্লিন সেইভ বের হয়েছে।ঘাড় থেকে একটু নিচে নামা সিল্কি চুলগুলো ভিজে চিপকে আছে কানের আশেপাশে।

গোলাপি তোয়ালে দিয়ে ঘাড় মাথা মুছতে মুছতে গান গাইছে বিরবির করে,


“ চোখে যার কাজল নেই,এমনি‌ই কালো,

এক পলকে দেখলে যারে লাগে ভালো!

এমন একটি মেয়ে যদি এনে দাও কেউ,উহুম পেয়ে গেছি এবং তাকেই করবো আমি ব‌উ, তাকেই করবো আমি ব‌উ!"


বিরবির করে গান গাইতে গাইতেই নিজের পোশাক বের করে নিলো,ক্রীম একটা শর্ট হাতার শার্ট,কালো জিন্স , ড্রেসিং টেবিলের পাশেই হাংঙ্গারে রেখে নিজের লম্বা সুঠাম অর্ধ নগ্ন দেহখানা নিয়ে দাঁড়ালো দর্পণের সামনে।

 দর্পণে পড়া স্ব-প্রতিবিম্বে দৃশ্যিত সিক্স প্যাক বডির সৌন্দর্যে মোহিত হয় সে নিজেই, বারংবার!তবে কি সেই নারী হবে না!তবে সে শুধু দেহের সাজে নয়,মনের রঙে রাঙিয়ে দিয়েই ঐ নারীকে ডুবাবে,জম ডুবান ডুবাবে,তার মাঝে ডুবাবে,তার প্রেমের অথৈ সাগরে ডুববে সেই নারী,তার ভালোবাসার স্রোতে ভাসবে সেই নারী,তার আদরে ,কামুকতায় মজে মিশে যাবে তার অস্থি মজ্জায়, প্রতিটি প্রেমনামক শিরা উপশিরায়! তার রক্ত নালীতে বাহিত প্রেম,সম্রাটের বিষিয়ে দেওয়া প্রেম।


নিজের সৌন্দর্যে নিজেই মাতোয়ারা হয়ে বিরবির করে বললো,


“ সাইকোলজি বলে নারী পুরুষের প্রতি প্রথম আকর্ষন অনুভব করে তার  ব্যক্তিত্ব দেখে কিন্তু কমন সেন্স বলে নারী পুরুষের প্রতি প্রথম আকর্ষন অনুভব করে পুরুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে। অতঃপর দেখে ব্যক্তিত্ব।তবে কি পারীও!

না আমার পারীজাত শুদ্ধ মনের অধিকারীনি‌।ওর মনটা পবিত্র,ওর কাছে শারীরিক সৌন্দর্যের চেয়েও ঢের গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র মন।ও যার কাছে গুরুত্ব পাবে, নিরাপত্তা পাবে তাকেই আপন করে নেয়।যার কাছে ও নিজেকে নিজের মতোই তুলে দিতে পারবে তাকেই আপন করে নেয়।

_ আই সয়ার মাই লাভ,পুরোটা দখল করে নিবো,তোমার বলতে তুমি থাকবে না,তোমার পুরোটাই সম্রাটের হবে, তুমি হবে সম্রাটময়! প্রিয়তমা,ডোন্ট ওরি,আই উইল কনফার্মড ইট দ্যাট নো বোডি ক্যান রিচ ইয়্যু ,নো বোডি ক্যান লাভ ইয়্যু! ইয়্যু উইল বি মাইন,অনলি মাইন।ফরেভার,সম্রাটস কুইন!"


বাঁকা হেসে সেন্ট ছড়িয়ে দিলো পুরো দেহে, অতঃপর পটাপট শার্ট চাপিয়ে প্যান্ট পরে নিলো। ফর্সা শরীরে ক্রীম শার্ট আর কালো জিন্স! অদ্ভুত রকমের সৌন্দর্য যাকে বলে। চুলগুলো উল্টো আঁচড়ে জেল দিয়ে সেট করে নিলো।আরো একবার আরশিতে তাকিয়ে অতঃপর বাইকের চাবি, মোবাইল,পাওয়ার ব্যাংক, ব্লু টুথ কানে লাগিয়ে নিয়ে মানিব্যাগ পকেটে পুরে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে।যেতে যেতেই বলতে আরম্ভ করলো,


“ হ্যাঁ ও এখন কোথায় আছে?"


****


“ নিউ মার্কেট?এত সকালে নিউ মার্কেট কেন?"


****


“ ওহ, আচ্ছা শোন সামনে যাবি না,ও অকোয়ার্ড ফিল করতে পারে।দুর থেকেই নজরে নজরে রাখ!"


****


“ আর শোন,নিউ মার্কেট থেকে বেরুলেই আমাকে জানাবি।আমি কাছাকাছি আছি!"


****


“ স্টে এওয়ে ফ্রম হিম!"


__________


নিউ সুপার মার্কেট থেকে কেনাকাটা শেষ করে পারী মাত্র‌ই বের হলো, আশেপাশে তাকিয়ে রিক্সার খোঁজ চালালো,রিক্সা তো অনেক কিন্তু যেতে চায়না কেউই।কেন যে কামরাঙ্গীরচর যেতে চায় না তা পারীর মাথায় ঢুকে না। যদিও কমন একটা সমস্যা সবার অবগত তা হচ্ছে বিডিআর যা বর্তমানে বিজিবি নামে পরিচিত তার দুই নাম্বার গেইট থেকে শুরু হ‌ওয়া ট্রাফিক জ্যাম রনি মার্কেট ব্রীজ অবধি থাকে,যার জন্য রিক্সা থেকে শুরু করে ছোট বড় সব যান‌ই আঁটকে থাকে জঘন্য ভাবে। তাই অনেকেই সেদিকে যেতে চায় না কিন্তু পারীর তো যেতেই হবে।তার বাড়িই তো ঐদিকে।না যেয়ে উপায় আছে আদৌও? কি করবে কি করবে ভাবতে ভাবতেই কদম ফেলে এগিয়ে গেলো নীলক্ষেত অভিমূখে। উদ্দেশ্য রিক্সা না মিললে হলারে উঠবে যদিও তাতেও পারীর সমস্যা। ভয়ানক মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায় দূর্গন্ধ আর গরমে।তার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে উঠা,চেপে চেপ বসা। ভীষণ কষ্টকর অস্বস্তিকর একটা ইস্যু। তা-ও কিছু করার নেই তো।গরীবের যান ঐগুলো। তাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ঐ যান গুলোই নির্ধারিত।


পারীর দুই হাত ভর্তি জিনিসপত্র, বেকিং সামগ্রী,কিছু ঘরোয়া তৈজসপত্র।কালো বোরকাটাও ভিজে জবজবে হয়ে গেছে।সুপার মার্কেটের ভেতরে এত গরম বলার বাইরে,তার মধ্যে ঘুরে ঘুরে জিনিস কেনাটাও একটা বড় চিন্তার বিষয়।দিন দিন জিনিসপত্রের দাম হুরহুর করে বাড়ছে,তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাকেও কেকের দাম বাড়াতে হচ্ছে। এতে করে মাঝে মাঝেই পুরানো ক্লাইন্টদের সাথে মনোমালিন্য ঘটে, যদিও সবাই এক না।কেউ কেউ পরিস্থিতি বুঝে নিজের থেকেই বাড়িয়ে দেয় মূল্য।


পারী চার নাম্বার গেইট দিয়ে প্রধান সড়কে বেরিয়ে ছিলো, উদ্দেশ্য চন্দ্রিমা মার্কেটের সামনে থেকে রিক্সা নিবে,ঐখানে দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সা মামারা অনেক ভালো।তারা সব জায়গাতেই যেতে তৈরি থাকে, কিন্তু পারীর ভাগ্য আজ বড়‌ই খারাপ তাই কেউ রাজী হলো না।খাঁ খাঁ রোদের মাঝে খুব একটা রিক্সা ছিলোও না।যা কয়েকটি ছিলো তা সব এদিকে ভিআইপি রোড অভিমূখে অর্থাৎ তারা ধানমন্ডি কলাবাগানে,কিংবা তার থেকেও দূরে যাবার জন্য বসে ছিলো।মূলত তারা সেই এলাকার‌ই রিক্সাচালক।তাই তাদের আজ পারীর প্রতি দয়া হলো না।তারা পারীর হাতে ভারী ব্যাগ থেকেও নরম হলো না, তাঁদের মনে দয়া হলো না বাচ্চা মেয়েটার জন্য।


“ সবাই নিষ্ঠুর,কেউ একটু মায়া করে না।"


বলেই ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো, হাঁটতে হাঁটতে যখন নিউ মার্কেট চার নাম্বার গেইট পেরিয়ে দুই নাম্বারের সন্নিকটে পৌঁছালো ঠিক তখনই তার সামনে থেকে একটা বাইক দ্রুত গতিতে এসে হঠাৎ করেই তার সামনে ব্রেক কষলো।

ভয়ে আঁতকে উঠে কয়েক কদম পিছিয়ে গেলো পারী।বাম হাতের ব্যাগগুলো হাতের মুঠ ঢিলে হ‌ওয়ায় ধপ করে নিচে পড়ে গেলো,ডান হাতে ভারী ব্যাগ সহ হাতটা তুলে বুকের উপর রেখে বিরবির করে বললো,


“ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ!

আল্লাহ, আসতাফিরুল্লাহ!"


পারীকে বিরবির করে কিছু পড়তে দেখে মুচকি হাসলো হৃদয়, বললো,


“ পারী ভয় পেয়েছো? ও মাই গুডনেস মিস পারীজাত আবরার চৌধুরী ওরফে বাঘিনী রানীও ভয় পায় আজকাল?"


“ এভাবে কেউ সামনে এসে বাইক কষে হৃদয়? আমার পিলে চমকে গিয়েছে! মানে তুমি এত লাপার বা কেন !"


“ সিরিয়াসলি ভয় পেয়েছো? আম সো স্যরি ডিয়ার,আকচুয়ালি আমি জাস্ট.. ওহ সিট! প্লিজ বি রিল্যাক্স পারী!"


বলেই হৃদয় পারীর কাঁধে হাত রেখে পারীকে শান্ত করার জন্য ওর হাতের ব্যাগগুলো নেওয়ার চেষ্টা করলো,যাতে পারী একটু হালকা হয়ে নিজেকে স্থির করতে পারে।আসলেই পারী ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল যার কারণে ওর হাত পা কাঁপছে।


পারীর কাঁধে হাত,পারী হৃদয় অনেকটা কাছাকাছি, বিষয়টি কারো ঠিক কোথায় গিয়ে লাগলো যা হয়তো কাউকে কোনদিন বোঝানো যাবে না, দেখানো যাবে না।তবে কালো হেলমেটের আড়ালে থাকা রক্ত চক্ষু অনেক কিছুর হিসাব জমিয়ে রাখলো,হয়তো নতুন শুরু হবে নয়তো শেষ।


চলমান....


এই উপন্যাসের অনেক পাঠক, সম্রাট পারী জুটির অনেক ভালোবাসার মানুষ আছে। আমি জানি তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এই জুটিকে পড়ার জন্য কিন্তু এই উপন্যাস লিখতে আমাকে অনেক ভাবতে হয়,তাই সময় বেশি লাগে।তাই সুখ প্রান্তর শেষ না করে আমি এটাতে নিয়মিত হতে পারছি না। শুরু করার সময়‌ই বলেছিলাম এটাতে নিয়মিত হতে পারবো না।সুখ প্রান্তর শেষ হলে এটাই থাকবে একা রাজ্য চালাতে।

ধন্যবাদ সবাইকে এই জুটিকে এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ