#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৯৬
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
নাবীহা যখন ভাইয়া ভাইয়া বলে চিৎকার করে কাদছিলো তখন লোকটা বারবার নাবীহার দিকে ঢুলে ঢুলে আসছিলো,তার মুখ থেকে আসা বাজে গন্ধে নাবীহার পেট মোচড়ানো শুরু হয়ে গেলো।
রিফা বিরক্ত করেছিলো দেখেই সাফিয়া তাকে নিয়ে পিছিয়ে ছিলো, তার থেকে বেশ সামনে ছিলো নাবীহা, কিন্তু যখনই ঐ খাঁচার সামনে গিয়ে নাবীহাকে পেলো না তখন সে ভেবেছে হয়তো ভাইদের সাথে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এদিকে নাবীহা ফাঁকা জায়গা খুঁজছিলো কোথায় দিয়ে খাঁচার কাছাকাছি যাওয়া যায়,এত এত পুরুষ মানুষ তার মধ্যে সবাই কেমন একজনের সাথে আরেকজন লেগে দাঁড়িয়েছে।এসব নাবীহার দ্বারা সম্ভব নয় তাই সে এক কোনায় গিয়ে দাঁড়িয়েই রইলো সবার ফিরে আসার অপেক্ষায়।রিফাকে নিয়ে এক পাশ দিয়ে ফাঁক পেয়ে সাফিয়াও ঢুকলো,সে রিফাকে উট পাখি দেখানোর জন্য এদিক ওদিক তাকিয়েই দেখলো তাইফ উট পাখির ছবি তুলছে,ফেরা নিজের চিপস থেকে পাখিকে দিচ্ছে,নাইফ তুহিনকে কোলে নিয়ে তুহির হাত উঁচিয়ে উঁচিয়ে পাখির সাথে কথা বলার ভঙ্গি করছে কিন্তু দেখলো না নাবীহাকে।
মানুষের কথা আর মাইকের শব্দে শোনা যাচ্ছে না খুব কাছ থেকে বলা কথাটাও। তারপরেও পরপর তিনবার বললো,
“ নাইফ নাবীহা কোথায়?"
দুইবার না শুনলেও তৃতীয়বারের সময় ঠিকই শুনেছে, নাইফের টনক নড়লো ,চকিতে তাকিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রশ্ন করে বললো,
“ তোমার সাথে ছিলো না,আমি তো সামনে ছিলাম।"
" আমার সাথেই তো ছিলো, দৃষ্টি ঘুরালাম আর দেখি নেই,আমি ভাবলাম তোমাদের সাথেই আছে,ইয়া আল্লাহ কই গেলো মেয়েটা!"
বলেই সাফিয়া সেই ভীর ঠেলেই বেরিয়ে আসার জন্য পা বাড়ায়।নাইফও তুহিকে নিয়ে তাইফকে বললো,
“ তাইফ ফেরার হাত ধরে বের হ,বুবুনকে পাচ্ছি না।"
তাইফ ক্যামেরা বন্ধ করে ভাইয়ের দিকে তাকালো ভয়ার্ত চোখে,ফেরার হাত মুঠোয় নিয়ে ভাইয়ের হাত ধরলো,নাইফ ওভাবেই তিনটা বাচ্চাকে সামলে ঐ ভীর ঠেলে বেরিয়ে আসতে দেখলো জটলা, যেখান থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে।পা বাড়াতে বাড়াতেই তার শরীর শীতল হয়ে গেলো ভয়ে,কান গরম হয়ে যাচ্ছে বোনের চিৎকারে।
লোকটা হাত ধরেছিলো কিন্তু নাবীহার ছোটাছুটিতে ফসকে গিয়েছে। লোকটার পাশে ঐ লোকটার সঙ্গেরই আরো দুইজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছে।এত মানুষ কিন্তু সবাই নিজ কাজে ব্যস্ত,কেউ কেউ যাওয়া আসার পথে ভ্রু কুঁচকে বোঝার চেষ্টা করছে এখানে সিনেমা হচ্ছে কিনা? মেয়েটা বেশ সুন্দর,তাই হয়তো তাদের কাছে সিনেমার নায়িকাই লাগছে।নাইফ এগিয়ে এসে বোনকে কিছু বদমাইশের বদমাইশির ফাঁদে দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না।তুহিকে নামিয়ে দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো ঐ লোকটাকে।মধ্যবয়সী মাদকাসক্ত লোকটা ছিটকে পড়লো কয়েক হাত দূরে।
তাইফ তুহিকে নিজের সাথে চেপে ধরে রাখলো,তুহি ভয় ভয় চোখে ঠোঁট ভেঙে ছোট ভাইয়ের পেট পেঁচিয়ে ধরে দাঁড়িয়ে রইলো। পিটপিট করে ঐ লোক,বুবুন আর ভাইয়াকে দেখছে, তাইফ ইসপিস করছে যাওয়ার জন্য কিন্তু বুদ্ধিমান তাইফ ফেরা, তুহিকে রেখে গেলো না।
এদিকে নাইফ লোকটাকে ধাক্কা দেওয়ায় ওর সাথের দুইজন ক্ষেপে গিয়ে নাইফের উপর চড়াও হলো,ভাইকে দেখে নাবীহা ভাইয়ের বুকে পড়ে কাঁদতে আরম্ভ করলো আর বলতে চাইলো লোকটা তাকে কিভাবে...
“ কুত্তার বাচ্চা তোর সাহস কি করে হয় আমার বোনকে টিজ করার!শু** বাচ্চা,তোকে তো জিন্দা দাফন করে দিবো,বা***দ!"
গালি শুনে ইভটিজিটারদের একজন নাইফের মাথায় পিছন দিক থেকে একটা চড় মারে।নাইফ পিছলিয়ে কয়েক কদম এগিয়ে যায়,নাবীহা পড়ে যেতে যেতেও ভাইকে ধরে বেঁচে যায় পড়া থেকে।সাফিয়া এসে এখানে উপস্থিত হতেই দেখলো নাইফের সাথে কিছু ছেলেদের ধস্তাধস্তি চলছে,মধ্যবয়সী তিনজন পুরুষ আর নাইফ একা।সাফিয়া দৌড়ে গিয়ে নাইফকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই ঐ ধস্তাধস্তির মাঝেই পড়ে গেলো,সে লোকগুলোর হাত ধরে ধরে থামানোর চেষ্টা করছে আর বলছে,
“ আরে আমার ছেলেকে এভাবে মারছেন কেন ছাড়ুন!কি হচ্ছে এখানে?"
নাবীহাও ভাইকে ছাড়ানোর জন্য এবার নিজেকে সাহসী করে তুললো, ধস্তাধস্তির মাঝে সেও ঢুকে তার ভাইকে টানছে আর বলছে ভাইয়াকে ছাড়ো বলছি। কিন্তু হলো উল্টা, ধস্তাধস্তিতে কোন একজনের কনুইয়ের ধাক্কায় আবার তার স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত লাগে,ব্যথা আর লজ্জায় সে সরে পড়ে , এদিকে তাইফ ছটফট করে দৌড়ে বুবুনের কাছে যায়,বুবুনকে ধরে বললো,
“ ব্যথা পেয়েছো বুবুন?"
ছোট ভাইকে দেখে নাবীহা আবারও কেঁদে উঠলো,ফেরা বড় বোনের পেট ধরে দাঁড়িয়ে শান্তনা দিতে থাকলো। তিনজন পুরুষের সাথে সাফিয়া পারছে না,আর না নাইফ নিজের থেকে ছুটছে, না তাকে ছাড়ানো যাচ্ছে,সেও আক্রমণাত্মক আচরণ করছে,সাফিয়া আশেপাশে মানুষের থেকে সাহায্য চাইছে,কেউ কেউ এগিয়ে এসে সাহায্য করার জন্য দু'পক্ষকেই শান্ত হতে বলছে, টেনে ছাড়িয়ে নিতেই পর মুহূর্তে একে অপরের দিকে তেড়ে যাচ্ছে ,কেউ কেউ দোষারোপ করায় ব্যস্ত। এর মধ্যেই তাইফ ঢুকে গেলো জটলার মধ্যে।নাইফকে নিচে ফেলে দুজন পা দিয়ে লাথি দিচ্ছে তা দেখার সাথে সাথে তাইফ জটলার ভেতরে ঢুকে,
“ ছাড়ো আমার ভাইয়াকে,বদমাশ লোক,বাজে ছেলে ছাড়ো আমার ভাইয়াকে,আমার বাবা তোমাকে পুলিশ দিবে দেখো।
_ আমার ভাইয়াকে ছাড়ো বলছি,নয়তো আমি তোমাকে কামড়াবো!"
ছোট ছোট হাতে তাইফ অবিরত কিলঘুষি মারছে আর উক্ত কথাগুলো বলছে, কিন্তু ছাড়া তো দূরের কথা উল্টো তাইফকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো,তাইফ ব্যথা পেয়ে চিৎকার করে কান্না আরম্ভ করলো,ধস্তাধস্তিতে সাফিয়ার বোরকা খুলে গিয়েছে,নিকাব কখন সরে গিয়েছে তা সে বুঝতেই পারলো না।যখন নাইফের খেয়াল হলো তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার খালার পর্দা শেষ,তার খালাকে ঐ লোকগুলো ছুঁয়ে দিচ্ছে তখন করলো চুড়ান্ত ভুল কাজ,ভগ্ন সড়কের ইট সুরকি এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে,সেখান থেকে ঐ মার খাওয়া অবস্থায়ই অর্ধেক পুরানো ইট তুলে দিলো একটার মাথার মাঝ বরাবর বাড়ি, তৎক্ষণাৎ চিৎকার করে জমিনে গড়িয়ে পড়লো,কানের গোড়া , চোখের কার্নিশ বেয়ে রক্তের ফিনকি ছড়িয়ে গেলো লোকটার গলা দিয়ে জামায়!এটা দেখে অনেকেই সরে পড়ে , বখাটেদের অন্য দুইজনও,আর তখনই এসে উপস্থিত হয় চিড়িয়াখানার রক্ষীরা।
সিনেমাটিক হলেও সত্য, পুলিশ এসেই এই অবস্থা দেখে। মারামারির শুরুতেই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নিকট খবর যেতেই তাদের রক্ষীরা আসে,এসে অবস্থা দেখে এবং শুনে পুলিশকে আগেই ফোন করেছিলো। অতঃপর পুলিশ সেই আহত বখাটে সহ নাইফকে গাড়ীতে তুলে।সাফিয়া কান্নাকাটি করছে যাতে পুলিশ ওকে গাড়িতে না তুলে, বারবার অনুরোধ করে বলছে মানুষকে জিজ্ঞেস করতে যে তার ছেলের কোন দোষ নেই। কিন্তু পুলিশের একই কথা,
“ যা বলার থানায় এসে বলুন!"
উপস্থিত জনতার থেকে তথ্য নিয়ে জানতে পারে ঘটনার সুত্রপাত নাবীহাকে নিয়ে,তাই নাবীহাকেও তাদের সঙ্গে যেতে হবে বলে জানায়।তাইফ পুলিশকে দেখে কাঁদতে কাঁদতে ঐ লোকেদের নামে সালিশ দেয়, পুলিশ তাইফের মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত হতে বলে বললো,
“ থানায় এসে ভাইয়াকে নিয়ে যেও, তোমার বাবা মা'কে ফোন করে আসতে বলো!"
নাইফ অফিসারকে অনুরোধ করে যাতে তার খালা আর ভাই বোনদের অন্তত তাদের গাড়ি অবদি পৌঁছে দেয়,নয়তো ওরা চিনবে না। পুলিশ নিজের একজন হাবিলদারকে আদেশ দিলে সে সেই অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে।
ফেরা, তুহি,তাইফ,রিফাকে নিয়ে পুলিশের গাড়ির পিছন পিছন সাফিয়া আসে গাড়ী করে। এর মধ্যেই গাড়ির ড্রাইভার নাসিফকে ফোন দিয়ে জানাতে চাইলে সাফিয়া বারণ করে,সে ভেবেছিল থানায় এসে সে বুঝিয়েছে বললেই হয়তো অফিসাররা বুঝবে কিন্তু তাতো সম্ভব নয়।
নাইফের নামে মামলা করেনি,চেহারা দেখেই ভদ্র বাড়ির ছেলে আর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই দোষী কে নিশ্চিত করতে পেরে অযথা কাউকে হয়রানি করতে চায়না। তাছাড়াও নাইফের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডও তার মনোযোগ কারতে সক্ষম হয়েছিলো।সাফিয়ার বয়ান,নাবীহার বয়ান,নাবীহার উপস্থিত মানসিক অস্থিরতা আর ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকা, আতংকিত চোখমুখ,সব দেখেই উনি হয়তো বিবেক দিয়ে বিবেচনা করেই নাইফের বিরুদ্ধে কঠোর কোন ব্যবস্থা নেননি। শুধু ভয় দেখানোর জন্য লকাবে ঢুকিয়ে রেখেছিলো।
বাচ্চাদের কান্না থামানোর অনুরোধ করে সাফিয়াকে বাইরে পাঠিয়ে তাইফ আর নাবীহাকে নিজের সামনে বসিয়ে রাখে।
বলতে হবে অফিসার বেশ ভালো লোক।নয়তো নাইফের পারিবারিক স্টাটাস দেখেই এমন খাতির করেছে।যাই হোক নাসিফকে ডেকে মুচলেকা আদায় করে সতর্ক করে দিয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোন কারণেই আইন হাতে তুলে না নেয়।আর নাসিফকে নিশ্চিত করেছে ঐ লোকগুলো স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় লালিত মাদকাসক্ত কিছু কর্মী।তাই এমন দুঃসাহস করেছে, এত বড় ঘটনা ঘটানোর দুঃসাহস করেছে।
বখাটেদের থেকে পাওয়া বয়ান মোতাবেক চিড়িয়াখানায় ঢোকার পথেই ওরা নাবীহাকে দেখেছে, অনুসরণ করেই ঐ অবদি গিয়েছিল। এদিকে নাবীহা বলছে নাবীহা ভাই বোনদের সাথে যখন লেকপাড় দিয়ে হাঁটছিল তখন ওরা ঐখানে বসে মাদক নিচ্ছিলো এটা নাবীহা দেখেছিলো, এবং সরাসরি দেখেছে। তারপর থেকেই ওরা নাবীহার পিছু পিছু হাটছিলো আর বাজে বাজে কথা বলছিলো, বিভিন্ন ভাবে অঙ্গভঙ্গি করে নাবীহাকে উত্যক্ত করার চেষ্টা করছিলো।
নাইফ ছোট ভাই বোনদের আবদার পূরণে এতটাই ব্যস্ত ছিলো যে বড় বোনটার দিকে খেয়াল দিতেই পারেনি।হয়তো সে নিশ্চিত ছিলো বড় হয়েছে তার খেয়াল সে রাখতে পারবে, কিন্তু তার জানার বাইরে ছিলো বোন বড় হয়েছে বলেই তাকে বেশি সময় দেওয়া দরকার।তার খেয়াল বেশি বেশি রাখা জরুরি।
অবিরত বেল বাজার শব্দে আফিয়া ক্ষেপে উঠলো,
“ এত অধৈর্য কেন ভাই?"
বলেই হোল দিয়া চেহারা দেখে দরজা খুলে এই সময়ে স্বামীকে বাড়ি দেখে চমকালো,আবার স্বামীর অসম্ভব রাগী চাহনি,হাতের মুঠোয় ছেলের হাত,ছেলের নত মাথা, পিছনে তার পুরো পরিবার যাদের সবাইকে বিধ্বস্ত লাগছে।
চিন্তায় আফিয়ার কপালে ভাঁজ পড়লো। কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য মুখ খুলবে তখনই তাকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে ছেলের হাত ধরে ছেলেকে টানতে টানতে ছেলেদের ঘরের ভেতর নিয়ে গেলো নাসিফ।আফিয়া জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বোন আর বড় মেয়ের দিকে তাকাতেই নাবীহা মায়ের বুকের উপর পরে কাঁদতে থাকলো,সাফিয়া একে একে সব বললো।তুহি মায়ের কোলে উঠার জন্য কাঁদছে,সে এক হাতে ছোট মেয়েকে কোলে তুলে নিলো। আরেক হাতে বড় মেয়েকে বুকের সাথে চেপে ধরে রেখেছে।
তাইফ দৌড়ে নিজেদের ঘরের দিকে গেলো ,তার চিন্তা হচ্ছে। বাবা কি ভাইয়াকে মারবে? কিন্তু ভাইয়া তো কোন দোষ করেনি।সব দোষ তো ঐ বাজে লোকগুলোর।
“ খুব প্রতিবাদী হয়ে গিয়েছো তাই না? পাঁচটা ছোট ছোট ভাই বোনকে সঙ্গে রেখে,খালাকে সঙ্গে নিয়ে কতগুলো সন্ত্রাসীর সাথে লেগেছিলে? যদি ওদের হাতে অস্ত্র থাকতো,যদি একটা ছুরি দিয়ে গলায়, পেটে টান দিয়েই দিতো! তাহলে,কি হতো তাহলে?
তোমার বোনকে হেনস্থা করেছে তার জন্য আইন আছে,আমরা আইনের মাধ্যমে ওদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারতাম, কিন্তু!
যদি ঐ ছেলে মরে যেতো তাহলে কি হতো? সারাজীবন খুনের আসামি হয়ে কেরানীগঞ্জ না হলে কাশেমপুর পড়ে থাকতে।
__ তুমি যদি ওদের সাথে এতটা না হাঙ্গামা করতে তাহলে কি ওরা তোমার খালার গাঁয়ে হাত দিতো? তোমার বোনকে আবার ধরার সাহস পেতো? যখন দেখলে ওরা এভাবে প্রকাশ্যে একটা মেয়েকে হেনস্থা করেছে, তোমার উচিত ছিলো নিজের বোনকে ওদের থেকে ছাড়িয়ে দ্রুত ঐ ঐলাকা ছাড়া। ওদের দেখলেই তো বোঝা যায় এরা কতটা ভয়ংকর।
তা না করে বড় আমার বীরপুরুষ সাজতে গিয়েছিলে,প্রতিবাদ করতে গিয়ে থানা অবধি চৌদ্দ গুষ্টি নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, তোমার বোন বড় হচ্ছে,তাকে বিয়ে দিতে হবে দুদিন পর।তাই তোমাকে প্রতি কদম ভেবে চিন্তে ফেলতে হবে।চাইলেই করে ফেলা যায় না সব কাজ।
এই মাথা নিয়ে ভার্সিটিতে পড়াবে? নাম পড়ে গেলো তো থানার কাগজে,কি হতো যদি মার্ডার কেইসে ফাঁসিয়ে দিতো? আজীবনের জন্য ক্যারিয়ারটা শেষ হয়ে যেতো।"
বলেই থামলো, এরপর আবার বললো,
“ তোমার কদম ফেলার আগে ভাববে তুমি কে কোথা থেকে বিলং করছো, ভবিষ্যতে কি হবে! "
বলেই বেরিয়ে গেলো।
ঐদিকে আফিয়া মেয়েকে সামলাবে না কি স্বামীর মাথা ঠান্ডা করতে যাবে, ছেলেকে দেখবে একটু।তার মধ্যে মেয়ের কথা শুনে থরথরিয়ে কাঁপছে সে নিজেও। আল্লাহ আজ তাঁদের ইজ্জতে মানে, প্রাণে রক্ষা করেছেন। আফিয়া মনে মনে ভাবছে তাকে শুকরিয়া নামাজ আদায় করতে হবে।
চলমান....







0 মন্তব্যসমূহ