#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১০৭
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
নাবীহা একটা ফাইলে থাকা সিভির দিকে তাকিয়ে আছে।আফিয়া নিজের হাতে থাকা ফটো'টা মেয়ের দিকে বাড়িয়ে ধরে বললো,
“ আমরা তোমার মতামতের বাইরে যাবো না। তোমার সিদ্ধান্ত'ই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। শুধু বলবো বাবা মা সবসময় তোমার ভালো চায়।"
মায়ের দিকে স্বলজ্জ চোখে তাকিয়েও নিরব রইলো।মেয়ের চুলে হাত বুলাতে বুলাতে আফিয়া নরম গলায় বললো,
“ সবাইকে যেতে হয় আম্মা। মেয়েদের জীবনের উদ্দেশ্যই এটা।মেয়েরা হয়'ই অন্যের ঘরে আলো দেওয়ার জন্য।
আজ না হোক কাল,বিয়ে'তো একদিন করতেই হবে। তোমার বাবা, আমার, তোমার দাদা দাদুর সবার এই ছেলের বায়ো পছন্দ হয়েছে।তাই তোমাকে একবার দেখতে বলছি।এখন তোমার পছন্দ হলেই আমরা কথা আগাবো।"
নাবীহা ডান দিকে মাথা কাত করে মা'কে খুশি করলো।আফিয়া মেয়ের কপালে ডান পাশে ঠোঁট ছুঁয়ে বললো,
“ আল্লাহ তোমাকে খুশি রাখুক।এটাই আমার চাওয়া!
মা বাবা অপেক্ষা করবো তোমার মতামতের!"
নাবীহা প্রত্যুত্তর করলো না।আফিয়া মেয়েকে আরো একটু আদর দিয়ে চলে গেলো।তেইশ বছর বয়সী মেয়ের কাছে এর চেয়ে খোলাসা করে বলার কিছু নেই।মেয়ের এখন বিয়ের উপযুক্ত বয়স। তাছাড়াও
ঘর থেকে বড় মেয়েকে বিদায় না দিয়ে বড় ছেলের বউ আনতে চায় না আফিয়া।এমনটা না যে মেয়েকে তাড়িয়ে'ই ছেলের বউ আনতে হয়। বিষয়টি হচ্ছে বিবাহযোগ্যা কন্যাকে ঘরে রেখে পুত্রের বিয়ে দিয়ে বউ আনাতে তার ব্যক্তিগত অনিচ্ছা কাজ করে। ছেলেকে বিয়ে না দিয়ে মরে গেলে তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে না কিন্তু যোগ্যা এবং সমর্থ-বান হয়েও মেয়ের বিয়ে না দেওয়ায় অবশ্যই আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।তারাও স্বামী স্ত্রী দু'জনেই মেয়েদের দায়িত্ব ছেলেদের কাঁধে অথবা অন্য কারো কাঁধে চাপিয়ে দিতে চায় না।
“ সবই ঠিক আছে বুঝলাম কিন্তু তোমাদের মনে হয় না লোকটার বয়স খানিকটা বেশি? আমাদের তুলতুলে'র মাত্র তো তেইশে পড়লো বাবা! আর উনার প্রায় বত্রিশ!"
এক হাঁটু ভাঁজ করে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে,অন্য হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাবার পাশেই।নাসিফ বাড়ির পিছনের অংশে কিছু লাল শাকের বীজ বপন করেছিল যাতে এখন নতুন ডগা গজিয়েছে।তাতে পানি দিচ্ছিলো।আফিয়া আগাছা পরিষ্কার করছে বসে বসে।কাল রাতে ছেলের সাথে আলাপ করতেই ছেলের তরফ থেকে উক্ত মন্তব্য আসলো আজ।
প্রায় ঊনত্রিশ ছুঁই ছুঁই সামর্থ্য-বান এবং সুপুরুষ নাইফ ওয়াসীত্ব গাজী এখন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন খন্ডকালীন শিক্ষক। পাশাপাশি একটি ফার্মের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। মূলত সেখানে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেটায় সে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখছে।
বুয়েট শিক্ষক নিয়োগের গত নিয়োগে তার নাম থাকলেও বাংলাদেশের তথাকথিত হিংস্র নোংরা রাজনৈতিক প্যাঁচের কারণেই বিতর্কিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় নাম থাকায় বাদ পড়ে যায়। এছাড়াও নিয়োগ পরীক্ষার সময় তাকে একজন সিনিয়র অধ্যাপকের ভাগ্নে হওয়ার অযুহাতে বাতিল করা হয়েছিল।এর মধ্যেই মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করে নিজের সিভিকে আরো মজবুত করার উদ্দেশ্যে এবং ডাবল মাস্টার্সের জন্য সেও পারি জমায় বিদেশে।জাপানিজ বিশ্ববিদ্যালয় ইউটোকিও অথবা ইউনিভার্সিটি অফ টোকিওতে পচাঁনব্বই শতাংশ স্কলারশিপে চলে যায় দু বছরের মাস্টার্স করতে এবং তার পরেই পিএইচডির সুযোগ পায়।সেটাও সে সম্পন্ন করে মাত্র দেশে ফিরেছে মাস তিন হলো।
দেশে ফেরার আগেই পাবলিক সহ নানা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভি ড্রপ করেছিল।বেশ কয়েকটি থেকে ডাক আসলেও সে পছন্দ করে নর্থ সাউথ।যদিও তার চুড়ান্ত লক্ষ্য বুয়েট। শুধুমাত্র বুয়েটের জন্যই সে কুয়েটের প্রস্তাব নাকোচ করেছে। তাছাড়াও সে সদ্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ল নিয়ে ভর্তি হয়েছে,যেটায় তাকে শুক্রবার স্বশরীরে এবং শনিবার অনলাইনে ক্লাস করতে হচ্ছে।
পাশাপাশি বাবার ব্যাবসায় থাকার চেষ্টা করছে।
চার বছর আগে বাবা মায়ের সিদ্ধান্তকে সম্মান করে বাবার ব্যাবসায় নিজেকে সামিল করলেও এখন স্বেচ্ছায় হস্তক্ষেপ করছে।যা তার বাবা মা'কে ভীষণ খুশি দিচ্ছে।
এই সদ্য পরিণত যুবকে পরিবর্তিত ছেলেকে দেখে গর্বে আফিয়ার বুক ভরে উঠে। এতটুকু বয়সেই ছেলেটা তার চারদিক থেকে সফলতা কুড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে যদিও অনেক চাপ পড়ে যায় তবুও কোথাও গিয়ে মনে হয় এটাই বোধহয় জীবন।
নারী ঘটিত যেই ভয় তার ভাই তার মনে ঢুকিয়ে ছিলো সেই ভয় ছেলে তার বিদেশে যাওয়ার আগেই কাটিয়ে দিয়েছে।তাই তো এত নিশ্চিত মনে এতদূরে পড়তে পাঠাতে পেরেছিলো যদিও ঐ জাপানেও সে ছেলেকে একরকম নিজ চোখে চোখে রেখেছিল অদৃশ্য শক্তি বলে তাও মায়ের মন তো! ছটফটানি কি আর কম করেছে।সে তার পছন্দ চাপিয়ে দিবে না কিন্তু ছেলে যদি কোন বিধর্মী, সমাজ ছাড়া মেয়েকে পছন্দ করে বলে,
“ আম্মু আমি একেই বিয়ে করবো!"
তখন? তখন আফিয়ার কি হবে? সে তো ছেলেদের আলাদা সংসার দিবে না! সে যেভাবে শ্বশুর শাশুড়ি নিয়ে এক ছাঁদের নিচে সংসার করেছে, সেভাবেই সে দুই পুত্রবধূকে নিয়ে করতে চায়। হ্যাঁ ছেলেদের বিয়ে দিয়ে সে সংসারের চাবিকাঠি তাদের হাতে তুলে দিয়ে সেও তার শ্বাশুড়ির মতো অবসরে যাবে। বাচ্চারা যা খুশি করুক সে তাতে নাক গলাবে না।আর না কোনদিন তাদের যত্ন করা নিয়ে কিছু বলবে! যদি বউমারা তাঁদেরকে রান্না করে না খাওয়ায় তাতেও তার মাথা ব্যথা নেই,সে তার আর নিজের স্বামীর জন্য দু'টো চাল ফুটিয়ে এক পেয়ালা ডাল রান্না করে, অল্প তেলে একটা ডিম ভেজে খেয়েও জীবনের শেষ লগ্ন কাটিয়ে দিতে পারবে নিশ্চিত ভাবে।
বুড়ো বুড়ি নাতী নাতনি নিয়ে খেলবে আর কখনো সখনো মাঝ রাত্তিরে ঐ বৃদ্ধের হাতের মুঠোয় নিজের থুড়থুড়ে পাতলা মোটা খসখসে চর্মের হস্ত তার হস্তগত করে হাঁটবে অজানার পথে। একসাথে হজ্জে যাবে যদি আল্লাহ কবুল করে,শেষ বয়সের এই এতটুকুই তো চাওয়া তার কেবল।
তাও যদি ছেলে মেয়ে সুখে থাকেই তবেই না সম্ভব,আর এই সুখটাই দরকার।যদি বাচ্চাগুলো নিজেদের জীবনে সুখী না হতে পারে তবে বাবা মা হয়ে কি তারা সুখী হবে?
এই সুখের সন্ধানেই আফিয়া ছেলের মেয়ের জীবন সঙ্গী খোঁজায় এত হস্তক্ষেপ করছে।তবে করতো না যদি বাচ্চাগুলো অন্য বাচ্চাদের মতো জেদি আর স্বাধীনতা নামক অবাধ্যতার খেলায় মজে যেতো।তার বাচ্চাগুলো তো তারই অধীনস্থ, নির্ভরশীল।তাই সেও পারছে সবটা নিজের দখলে রেখে করতে।
আফিয়া আগাছা পরিষ্কার করতে করতেই এসব ভাবছিলো,তার সঙ্গে মনে পড়লো সালাহ্ সেই মেয়ের কথা বলার পর তার পাগলামী এবং ছেলেও মায়ের পাগলামির কারণ আঁচ পেয়ে কি বলেছিলো,
“ আম্মু, তুমি চিন্তা করো না।আমি এমন কিছু করবো না যেটা তোমাকে,বাবাকে ছোট করে।"
মায়ের হাত ধরে এই আশ্বাস যখন নাইফ দিচ্ছিল তখন মায়ের অবিশ্বাস ভরা করুন আর হতাশায় ডোবা মনির থইথই ভাস্যমানতায় লজ্জায় শির নত হয়ে গিয়েছিল নাইফের।নত মস্তকেই সে নিজের ভুল স্বীকার করে মা'কে আশ্বস্ত করেছিলো,
“ আমি আমার ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছি আম্মু।and I promised you that I will never do it again... তুমি যাকে পছন্দ করবে, যেখানেই চাইবে আমি তাকেই বিয়ে করবো। কখনো তোমার মতামতের বাইরে যাবো না।কোন প্রশ্ন করবো না।
আর কোনদিন ঐ মেয়ের সাথেও যোগাযোগ করবো না, প্রমিজ করছি।প্লিজ ট্রাস্ট মি!"
শেষ বাক্যটা মায়ের দিকে চেয়েই বলেছিলো,তখন তার চোখ ছিল ভাসা ভাসা, ছলছল।আফিয়া এত শক্তপোক্ত সেয়ানা ছেলের কান্নায় ভেতরে ভেতরে নরম হলেও বাইরে শক্ত থাকার ভান করে বেশ কিছু দিন বিমূখ ছিলো ছেলের থেকে।মেয়ে দেখার অভিনয়ও করেছিলো। কিন্তু যখন নাসিফ পাল্টা ধমকে বললো,
“ পাগল হয়ে গিয়েছো? ছেলে এখনো স্টাডি শেষ করেনি আর উনি বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।খালি ছেলের বাপের পয়সা থাকলেই চলে না? নিজের মেয়েকে দিবে না কোন বেকারের হাতে?
ছেলেকে আগে স্টাবিলিসড হতে দাও, অন্তত মাস্টার্স শেষ করুক এরপর মেয়ে দেখা যাবে! আর এত দেখাদিখির কি আছে? তোমার তো মেয়ে পছন্দই করা আছে,সেই মেয়েও নিজের গ্রাজুয়েশন শেষ করুক, এরপর একদিন ছেলেকে নিয়ে গিয়ে ছেলের জন্য তাহমিনার কাছে উনার মেয়ের হাত চাইবো দুজন মিলে। ততদিন পাগলামি বন্ধ করে বাচ্চাদের শান্তি দাও।"
নাসিফ তো জানতো না আসল ঘটনা।আফিয়াই জানায়নি। নাইফ মা'কে ওয়াদা করায় কিছু বলতেও পারেনি।তবে মায়ের পাগলামিতে সেও পাগল পাগল হয়ে যাচ্ছিলো।যত যাই হোক তার তো আর তখন খুশবুর সাথে কোন সম্পর্ক ছিলো না।আর সে ঐ সময়ে বিয়ে নামক দায়িত্ব কাঁধে নিতেও প্রস্তুত নয়। কিন্তু মায়ের খুশিই যে তার কাছে সবার আগে। সবকিছু তাকে এলোমেলো করেই দিচ্ছিলো ঠিক সেই সময়েও বাবার এই কথাগুলো তার জন্য আল্লাহর রহমতে হয়ে ঝড়ে।
আফিয়াও ছেলেকে দিয়ে ওয়াদা করিয়ে নেয় যাতে কোন রকম এদিক ওদিক না করে। নাইফও বারবার মা'কে বোঝায়,সে ভুল একবার করেছে আর করবে না।
ভাগ্নের বিপদে এগিয়ে আসে মামু,সেও বোনকে বোঝায় যাতে যদি নাইফ প্রস্তুত না হয়, এবং ওয়াদা করে থাকে আর কখনো ভুল করবে না তবে তাকে সুযোগ দেওয়া হোক। সবার উপদেশে আফিয়ার পাগলামি বন্ধ হয়।
এরপর তো নাইফ আবারও আগের মতো পড়ালেখায় মনোযোগী হয়,ভাই বোন আর মা বাবাকে নিয়েই সময় কাটায়। অবসরে বাবার ব্যাবসায় নিজেকে সামিল করার পর পুরোপুরি ব্যাবসায়িক বনে যায়। পাকাপোক্ত ব্যাবসায়ী হওয়ার গুনগুলো রপ্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
“ সে ঠিক আছে, কিন্তু তোমাকে এটাও তো ভাবতে হবে বাবা স্টাবিলিসড ছেলে মানেই একটু বয়স্ক! তুমি সাতাশ আটাশ বয়সে এতটা সাকসেসফুল কয়জনকে পাবে? তুমি নিজেও তো আল্লাহর রহমতে এখন ঊনত্রিশে, তোমার জন্য মেয়ে দেখতে দেখতেই দেখবে তোমারও এমন তিরিশ একত্রিশ পার হয়ে যাচ্ছে।
এখন তুমিই বলো, আমাদের মতো ফ্যামিলি মেয়েকে কি আমরা যার যার হাতে তুলে দিতে পারি? তুমি দিবে তোমার বোনকে কোন ফাইটারে হাতে,যে মাত্র নিজেকে গড়ার, প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লড়াই করছে?"
“I Know Baba,but..!"
“এতটুকু বেশি বয়স কোন ফ্যাক্ট নয়। তাছাড়াও একেবারেই কমবয়সী ছেলেরা সংসারি হয় কম! তাদের মন উড়ু উড়ু থাকে।সংসার করতে দরকার হয় ধীরস্থির আর শান্ত স্রোতের মতো মন মস্তিষ্কের পুরুষ মানুষ।
তোমার বোন চাঁপা স্বভাবের।তার বুক ফেটে চৌচির হলেও মুখ ফুটে না,এমন চাঁপা স্বভাবের মেয়েদের জন্য দরকার এমন মানুষ যে তার মুখ দেখলেই বুঝতে পারবে।বয়সী পুরুষদের এই গুনটা থাকে। হ্যাঁ হাতে গোনা দুই একজন ভিন্ন হয় তবে অধিকাংশই বুঝদার আর জ্ঞানী হয়।
_ এখন তুমি বলো তোমার কি মনে হয় না এমন কাউকে তোমার বোনের জন্য দরকার?"
“ অবশ্যই।আমি তোমাদের এই পছন্দ নিয়ে প্রশ্ন করছি না আম্মু।আমি শুধু বলছি বয়সের ডিফারেন্টটা কি আসলেই ফ্যাক্ট নয়? উনি হয়তো বুঝদার,জ্ঞানী অবশ্যই।এত উঁচু পদে আছেন,ঢাকা মেডিকেল এর মতো স্থানে প্রফেসর,এত বড় একজন ডাক্তার , অবশ্যই জ্ঞানে, বিদ্যানে,উনি অনেক দূরে এগিয়েছেন কিন্তু তাই বলে কি আসলেই উনি আমার বোনের যোগ্য?"
ছেলের কথায় মুচকি হাসলো আফিয়া।নাসিফ ছেলের দিকে না তাকিয়েই হাসলো,তবুও নাইফ বুঝে নিলো তার বাবাও হাসছে।সে গাল ফুলিয়ে অভিমান করে জিজ্ঞেস করলো,
“ আশ্চর্য আমার কথায় তোমরা হাসছো কেন?"
“ আমরা এখনই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি না বাবা! আগে তোমার বোন মতামত দিক।দু-পরিবারের দেখা সাক্ষাৎ হোক, পছন্দের বিষয় আছে একটা সেটাও হোক। অতঃপর দেখা যাবে মেয়েটা দিচ্ছি কি-না?
যেহেতু তুমি বড় ভাই, তোমার তাকে নিয়ে চিন্তা আছে। যথেষ্ট পরিপক্ক আর বুদ্ধিমান তাই বলছি তুমিও সেই সুযোগে ছেলের আরো খোঁজখবর নাও।দেখো তোমার বোনের জন্য সুপাত্র কি-না? যদি না হয় তবে অন্যত্র পাত্র দেখবো। আল্লাহ মেয়ে যখন দিয়েছে বিয়ের জন্য পাত্রের যোগানও রেখেছে। ইনশাআল্লাহ হবেই একদিন,তবে অবশ্যই আমরা তার অভিভাবক হিসেবে সুপাত্রের খোঁজই করবো।"
নাইফ বাবার কথায় ফিরতি কোন কথা বললো না।নাসিফ ইশারায় ছেলেকে কাছে ডাকলে নাইফ এগিয়ে গিয়ে বাবার বরাবর দাঁড়াতেই নাসিফ নিজের বাম হাত দিয়ে ছেলের কাঁধ জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। মিটিমিটি হেঁসে বললো,
“ চিন্তা করো না,আমরা বড় পুত্র বধূ অবশ্যই পূত্রের বয়সের কাছাকাছি আনবো।খুব বেশি পার্থক্য যেন না থাকে সেই বিষয়ে ভীষণ সচেতন হবো। ইনশাআল্লাহ!"
বলেই আফিয়ার দিকে চেয়ে মুচকি হাসলো।আফিয়াও স্বামীর সাথে তাল মিলিয়ে ঠোঁট টিপে হাসছে।বাবা মায়ের কথার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে নাইফ নিজের মাথা নিচু করে নিলো লজ্জায়।
চলমান....







0 মন্তব্যসমূহ