#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১০৫
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
“ নাইফকে কেন আপনার সাথে লাগিয়ে দিচ্ছেন না।"
“ আরেকটু বড় হোক, পড়াশোনা নিয়ে এমনিতেই এত বিজি থাকে তার উপর যদি ব্যাবসায়িক প্রেসার দিয়ে দেই বাচ্চাটা নিতে পারবে না তো!"
“ সে ঠিক আছে কিন্তু আপনারও তো এই বয়সে এত চাপ নেওয়া ঠিক হচ্ছে না তাছাড়াও আপনি এখন না শিখিয়ে দিলে তো ভবিষ্যতে ওকে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।"
“ ভাবছি, মাস্টার্স হোক তারপর বলবো।"
“ আমার মতামতে এখনই নেওয়া উচিত।এতে আপনাকে সাহায্য করাও হবে আর ওর ও অবসরটা ভালো কাজে লাগানো হবে।নয়তো আজেবাজে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে।"
নাসিফ বুদ্ধিমান লোক,এত বছর ধরে সফলভাবে ব্যাবসা করে যাচ্ছে। তার বুঝতে খুব একটা কষ্ট হলো না শ্যালক ঠিক কোন সুরে কথা বলছে।
সোফায় হেলে বসে কথা বলছিল,এখন সোজা হয়ে
বসে মুখটাকে গম্ভীর করে শুধালো,
“ তুমি ঠিক কি মিন করতে চাইছো? উলটা পালটা কিছু কি দেখেছো?"
“ না উল্টাপাল্টা তেমন কিছু না। তারপরেও বড় হয়েছে। ফ্রেন্ড সার্কেল বাড়ছে।আর যতটুকু নিশ্চিত হচ্ছি তাতে বলা যায় আল্লাহর রহমতে এবারের শিক্ষক নিয়োগ তালিকায় তার নাম আছে। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ চাইলে হয়ে যাবে।"
“ ফি আমানিল্লাহ্!"
“ তবে মাস্টার্সের এই সময়টা খুব একটা চাপ থাকে না যদিও কিছুদিন পর চাপ একটা পড়বে কিন্তু পরিশ্রমী আর অধ্যাবসয়ে অভ্যস্ত ছেলেরা এই সময়টাকে জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ধরে অনেক কাজে লাগায়।আমি চাই আমাদের নাইফ,তাইফও তাই করুক।
_ ভাইয়া বয়সটা ম্যাচিউরিটি আসার কিন্তু ম্যাচিউরিটি আসলে তাদেরই আসে যাদের জীবনে অনেক ফাইট করতে হয় যা আপনার সন্তানদের হচ্ছে না। অর্থাৎ এখন ঘুরবে ফিরবে অতঃপর বন্ধুদের নিয়ে মাস্তি করবে, কে জানে এর মধ্যেই ভুল কারো মায়ায় জড়িয়ে না পড়ে!"
“ তোমার কথায় যুক্তি আছে।আমি অস্বীকার করতে পারবো না। কিন্তু তোমার আপাই প্যাঁচ লাগিয়ে বলবে কেন তার বাচ্চাদের আনন্দ করার সময়টা নষ্ট করতে চাইছি!"
নাসিফের কথায় হাসলো সালাহ্।ঘাড় ঘুরিয়ে টেবিলের উপর বসিয়ে অতি স্নেহে তার বাচ্চাদের খাওয়ানোয় ব্যস্ত বোনকে দেখছে। বাচ্চাদের প্রতি তার কি যত্ন। মুচকি হাসলো আবারও। দুলাভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
“ চিন্তা করবেন না।আমি বুঝিয়ে যাচ্ছি!"
“ পুপু,দিবা!"
সামি তার ফুফুকে ডেকে নিজের বোনের দিকে আঙ্গুল তাক করে দেখাচ্ছে।দিবা গালের ভেতরের খাবার ফেলে তা হাতের মুঠোয় নিয়ে নিজের জামার উপর রাখছে।সামি নাক ছিটকে বললো,
“ ইয়া ছিহ্, গন্ধ!"
অতি মাত্রায় সুচি বায়ু ধারী সামি নাক ছিটকে আবারও নিজের বড় ফুপুর দিকে তাকিয়ে নাক খিচে মুখটাকে বিকৃতি করে বলছে,
“ দেখো পুপু,দিবা জামায় ময়লা ফেলে!দাত্তি গাল দিবা!"
শেষ লাইনটা বোনের দিকে ফিরেই বললো।আফিয়া নিজের এই চার রত্তি ভাইপোর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।দিবা ছলছল চোখে বড় ভাইয়ের দিকে তাকালো। মাত্র চার মিনিটের বড় ভাই তার, কিন্তু তাকে চার মিনিট'ও সহ্য করতে পারে না। সবসময় বকে।
এই যে তার গালে খাবারের ঝাল লেগে গেলো বলেই তো সে খাবারটা ফেলে দিচ্ছে,কই ভাইয়া তো জিজ্ঞেসই করলো না বরং বকছে! ঠোঁট ফুলিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে আরম্ভ করতেই প্রিয় কন্ঠস্বরে ভেসে আসলো অন্যতম সুন্দর শব্দটা।
“ দিবু! আরে... আমার পরীটা কখন আসছে?"
নাইফ টেবিলে হাত পা জড়িয়ে বসা নিজের একমাত্র মামাতো বোনকে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের সাথে আঁকড়ে রেখেই কথাটা বললো।
সে এতক্ষন ঘুমিয়ে ছিলো। ভার্সিটি থেকে এসেই ফ্রেশ হয়ে মায়ের হাতে খেয়ে ঘুম দিয়েছিলো।
দিবা সবার বড় ভাইয়াকে নিজের কাছে পেয়ে নিঃশব্দে চোখের পানি ছেড়ে দিলো।দু হাতে ভাইয়ের গলা জড়িয়ে শব্দহীন চোখের পানি ছাড়তে ছাড়তে নাক টানছে।নাইফ অনুমান করেই চোখ ছোট ছোট করে সামির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ কিরে তুই ওকে মারছিস?"
সামি বড় ভাইকে দেখে ভ্রুটা আরো কুঁচকে নিলো। ভাইয়ের গলা জড়িয়ে কাঁদতে থাকা তার চার মিনিটের ছোট বোনটাকে দেখে বিনা উত্তরে মুখটাকে ঘুরিয়ে ফুফুর দিকে ফিরে বসলো। একটু এগিয়ে গিয়ে ফুফুর গাঁ ঘেঁষে বসে বললো,
“ পুপু!"
“ হ্যাঁ আব্বা?"
আফিয়া আহ্লাদ করে ডাকলো।সামি যেন আরো একটু আহ্লাদি হয়ে কন্ঠে গদগদ ভাব নিয়েই ফুফুর কোলে চড়ার জন্য দাঁড়িয়ে গিয়ে গলা জড়িয়ে ধরলো।
“ খাওয়াটা শেষ করো, তারপর ফুফু কোলে নেই।"
এঁটো হাতটা উঁচিয়ে ধরে অত্যাধিক জেদি আর একরোখা ভাইপোকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছে কিন্তু ভাইয়ার কোলে বোনকে দেখে তারও এখন কোলে চড়তে হবে। এই হিংসায় সে ঠোঁট ভেটকিয়ে গাল ফুলিয়ে তাকালো।
“ ওরে হিংসা রে! এত হিংসা কোথায় থেকে আসে।এত হিংসা তো আমার আব্বারও ছিলো না তার আব্বারও নাই।"
ফুফুর কোলে উঠে বড় ভাই আর বোনের দিকে সরু চোখে তাকিয়ে রইল সামি।
“ তুমি না অনার্স শেষ করলেই ছেলেকে বিয়ে দাও! তো তোমার সেই পাত্রী কি এখনো আছে না বিয়ে টিয়ে হয়ে গিয়েছে?"
“ হ্যাঁ দিবো তো বলেছিলাম। কিন্তু ছেলের পড়াশোনার মাঝেই... চাপ পড়ে যাবে না?"
“ চাপ তো থাকবেই! এখন পড়াশোনার,আগামীতে চাকরির! চাপ ছাড়া তুমি কাউকে পাবে?"
“ তাও ঠিক তবে ভালো বাড়ির মেয়ে আনতে হলে অবশ্যই ছেলের রোজগার দেখে।আর আমার ছেলে তো এখনো ঠিকঠাক রুজিরোজগার করছে না?"
“ কেন করছে না? বলো করতে!"
“ কি করতে বলবো? এখন মাত্র মাস্টার্সে.. একাডেমিক পড়াশোনার ইতি না আসা অব্দি কি চাকরিবাকরি পাবে? তাছাড়াও টার্গেট যেখানে বুয়েট, রুয়েট কিংবা চুয়েটের শিক্ষকতা সেখানে আমি ছেলেকে কি করতে বলবো?"
“ এক কাজ করো ভাইয়ার সাথে ব্যাবসায় বসিয়ে দাও!"
“ মানে কি?কি সব বলছিস তুই?"
“ শোন অর্ধেক বেলা পড়াশোনা করে বাকী অর্ধেক-বেলা টিউশন , কোচিং সামলায়! আমি বলি কি তুমি ওকে বোঝাও যাতে নিজের পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে নিজের বাবাকে সময় দেয়।"
“ কিন্তু?"
“ আপা শোন, কোচিং হ্যান্ডেল করার জন্য ওকে সবসময় থাকতেই হবে এমন না? আমার কাছে আমার ভাগ্নের সুন্দর ভবিষ্যতের আগে কিছু না। কোচিংয়ের সময়টা ওর বিকেলে থাকে। কিন্তু আমি চাইছি ও যাতে পড়াশোনার পাশাপাশি ভাইয়াকে ব্যাবসায় সহযোগিতা করে। দরকার হলে কোচিংয়ের জন্য একজন সৎ ম্যানেজার রাখবো,ওর সহকারী শিক্ষক আছে আর সঙ্গে ও না হয় ঘন্টা খানেক বসলো,কোন একটা ক্লাস নিলো।"
“কিন্তু হঠাৎ তোর এই ভাবনা কেন?"
“ আপা কি সমস্যা তোমার? চোখে দেখো না ভাইয়ার উপর কত প্রেসার যাচ্ছে?
_ এই বয়সে,প্রায় পঞ্চাশ পেরুনো মানুষটার উপর কত চাপ যাচ্ছে? শক্ত সামর্থ্য ছেলে থাকতেও যদি বাবাকে এত চাপ নিতে হয় তাহলে ছেলে থেকে লাভ কি? তাছাড়াও তোমার উচিত অন্তত সংসারের খুঁটিনাটি কিছু দায়িত্ব ছেলের কাঁধে দেওয়া।নয়তো ভবিষ্যতে পস্তাবে।
_ স্নেহ ভালো কিন্তু অতিরিক্ত নয়।"
“ করে তো। আল্লাহর রহমতে বাজার তো এখন ঐ করে।মাঝে মাঝে নাবীহাকেও মেডিক্যাল নিয়ে যাওয়া আসা করে।আর ওর দাদার মেডিক্যাল চেকাপ তো ওরা দুই ভাই বোন মিলেই হ্যান্ডেল করে।
কতটুকুই আর বয়স? আর কি দায়িত্ব'ই বা দিবো? ওর কি আমাদের মতো অভাবের জীবন? তুই আমি যেই জীবন কাটিয়ে এসেছি সেটা কি ওর জীবনের সাথে যায়? তাছাড়াও তোর ভাইয়াও চায় না ছেলে মেয়েকে এই বয়সেই দায়িত্বের ফাঁদে ফেলতে।নাইফটা ট্যুর দিতে খুব পছন্দ করে,বড়ও হয়েছে আল্লাহর রহমতে। তাই আজকাল তোর ভাইয়াও অনুমতি দিয়ে দেয়।সেদিনই তো তোর ভাইয়াকে বললো তাইফ আসলে ওকে নিয়েই বন্ধুদের সাথে খাগড়াছড়ি ট্যুর দিবে।ছোট ভাইয়ের ছুটির জন্য অপেক্ষা করছে।ছোট বেলায় তো বখে যাবে, নষ্ট হবে, পড়াশোনার ক্ষতি হবে ভেবে কোথাও একা ছাড়িনি,যেতেও দেইনি,আর নিজেরাও সময় করে নিতে পারতাম না।এখন এই বয়সে এসেও যদি পায়ে শিকল দিয়ে রাখি এত বড় ছেলেকে তাহলে কেমন দেখায় না ব্যাপারটা?
_আর এখন কিভাবে, কিভাবে আমি ছেলের এই আনন্দটা কেড়ে নেই? মা হয়ে কেউ পারে এটা করতে?"
সালাহ্ বুঝলো সন্তানে দূর্বল মা'কে এখন এভাবে বোঝানো যাবে না। তাছাড়াও সত্যটা জানা দরকার যাতে ছেলের প্রতি একটু নজরদারি ফিরে আসে।সে নিজের মুঠোফোনটা বের করে বড় বোনের দিকে বাড়িয়ে ধরে বললো,
“ দেখো তো!"
আফিয়া ভ্রু কুঁচকে ভাইয়ের দিকে একবার চাইলো, অতঃপর তার দিকে বাড়িয়ে ধরা ভাইয়ের হাতে থাকা মুঠোফোনটার দিকে চাইলো এবং বললো,
“ কি?"
“ দেখো না একবার!"
আফিয়া দেখলো, এবং তার কপাল টান টান শিথিল হয়ে গেলো। হতবাক মুখশ্রী এবং প্রশ্নাত্মক চোখে ভাইয়ের দিকে চেয়ে বললো,
“ কি এসব? কে এই মেয়ে? আর এর সাথে আমার ছেলের কি?"
“ পছন্দ হয়?"
“ পছন্দ হয় মানে কি? হেঁয়ালি বাদ দিয়ে খুলে বল!"
সালাহ্ এবার আসলেই হেঁয়ালি বাদ দিলো এবং ভীষণ গম্ভীর হয়ে মুখে সোজা হয়ে বসলো। অতঃপর বললো,
“ খুশবু রহমান। অনার্স তৃতীয় বর্ষের,সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রী,নাইফের জুনিয়র এক বছরের।
পারিবারিক স্ট্যাটাস বলতে সহজ বাংলায় বাবা কৃষক,বড় ভাই পল্লী বিদ্যুৎ এ কাজ করে। ছোট আরেকটি ভাই আছে সে গ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে আপাতত,আগামী বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।বড় ভাই বউ বাচ্চা নিয়ে শহরের দিকে আলাদা থাকে। দুর্দান্ত ফলাফল করায় এলাকার চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বুয়েট অবধি আসছে তবে অবশ্যই মেয়ে মেধাবী নয়তো বুয়েটে এত সহজে এই বিষয়ে চান্স পায় কেউ? কিন্তু সমস্যা হচ্ছে?"
“ কি?"
“ মেয়েটার গায়ে ঢাকার হাওয়া লাগতে না লাগতেই উড়তে শুরু করেছে। বুয়েটে যেহেতু রাজনীতি নিষিদ্ধ তাই সে বুয়েটের বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।তবে ভয়ানক কথা হচ্ছে মেয়েটা অপূর্ব সুন্দরী। তুমি ছবিতে যেমন দেখছো বাস্তবে তার সহস্রগুন সুন্দরী।আসলেই যাকে সুন্দর বলে। ইভেন আমাদের নাইফের পাশে ভালোই লাগে। কিন্তু ঐ যে ঝামেলা..!"
ভাইয়ের কথা শুনছে আর মোবাইলে জ্বলজ্বল করা ছবিটার দিকে তাকাচ্ছে। মেয়েটা চোখ ধাঁধানো রুপসী, পাশাপাশি আসলেই রাজযোটক লাগছে, লম্বায় ৫.১১ ইঞ্চি নাইফের কাঁধ পেরিয়েছে।ভাসা ভাসা চোখ, ফুলো ফুলো গাল,স্বাস্থ্য বেশ মাশাআল্লাহ,কোমরের নিচে গড়িয়েছে লম্বা দুটো বিনুনি।আফিয়ার অজান্তেই বেরিয়ে এলো,
“ মাশাআল্লাহ!"
“ হ্যাঁ দেখতেই মাশাআল্লাহ,আর ঐ মাশাআল্লাহ মার্কা চেহারা দিয়েই তোমার নাদান ছেলেকে বশ করেছে?"
“ কিহ্! কিসব বলছিস বশ করেছে?"
“ বশই করেছে, তোমার ছেলের দ্বিতীয় বর্ষের ফলাফল খারাপ হওয়া পিছনে এরই হাত রয়েছে।"
“ মানে কী? কীভাবে?"
“ শোন এই মেয়ের রুপেই কাত হয়ে পড়েছে অনেক ছেলে।তাদের হাতিয়েই মেয়ে অনেক অর্থ কামাইয়ের পথ বের করছিলো।তেমনি শিক্ষক হতে হলে রাজনৈতিক দলের দোয়াও তার দরকার যার প্রয়োজনে ঢাবির ছাত্র রাজনীতির প্রধান হোতা, সভাপতির দৃষ্টি কাড়ার প্রয়াস চালায়।এখন মূল কথায় আসি!
_ মিথি জামান নামে নাইফের এক সহপাঠী আছে,যার দু'চোখের বিষ আমাদের নাইফ।সেই মেয়ে আবার রাজনৈতিক ঘরের মেয়ে। চৌদ্দ গুষ্টি ক্ষমতাসীন দলের নেতাপেতা।সেই সুবাদে এখানকার রাজনৈতিক ছত্রছায়াও সে পাচ্ছে যার কারণে ক্যাম্পাসে যেকোন অপরাধ ঘটিয়েও সে নিশ্চিত মনে ঘুরে বেড়ায়। ঠিক এই মেয়ের নির্দেশেই তোমার ছেলেকে মোহে ফেলেছে খুশবু নামের মেয়েটা।
সুন্দরী মেয়ে ইশারা করবে আর পুরুষ হয়ে সাড়া দিবে না এমন পুরুষ মানুষ আদৌও আছে তোমার মনে হয়? যাই হোক গরীব ঘরের সুন্দরী মেধাবী বলেই হয়তো আমাদের ছেলেটাও ফেঁসে গিয়েছে। পড়াশোনা থেকে পরীক্ষা সবকিছুতেই মেয়ে ব্যাগড়া দিতো,যার কারণে পড়াশোনা থেকে তোমার ছেলে ছিটকে পড়ে।এটা স্বাভাবিক! প্রেমের প্রথম সময়গুলো বড্ড অন্যরকম থাকে,তখন কোনদিকে হুশ জ্ঞান থাকে না কেবলি সেই মানুষটি ছাড়া।
মেয়েটার কাজই ছিলো এটা।মিথির অর্থে আর রাজনীতির ট্যাগ পাওয়ার লোভেই সে নাইফকে পড়াশোনার থেকে দূরে রাখতে থাকে।সত্যি বলতে মেয়েটাও আমাদের নাইফের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।এটাতে এক চিলতে পরিমাণও মিথ্যা নেই কিন্তু নিজের লোভ আর স্বপ্নকে ছাড়তে পারেনি।তাই হয়তো!"
“ ভয়ানক সব কথা বলছিস? আমার ছেলেটা এই.. এমন একটি মেয়ের প্রতি মানে কিভাবে কখন জড়িয়ে গেলো"
“ শান্ত হও।সেসব পুরানো কথা!
_ এখন যা বলছি সেটা মন দিয়ে শোন!"
“ আগে বল তুই এত খবর কবের থেকে জানিস!"
“ শুরু থেকেই জানি?"
“ তাহলে আমাদের কেন বলিসনি?"
“ বললে কি করতে? তুমি কান্নাকাটি করতে আর তোমার বর চিৎকার চেঁচামেচি, তো তাতে কি হতো?
_ তখন ছেলে সদ্য প্রেমে পড়েছে, রঙিন স্বপ্নে ভাসছে।এই সময়ে তাকে এই বিষয়ে কোনরকম বাঁধা দিলে,তার উপর চিৎকার চেঁচামেচি করলে উল্টো তোমরাই ভিলেন হয়ে যেতে।ছেলে ভাবতো বাবা মা তার পছন্দকে মেনে নিতে পারছে না।তখন তুমি যতই যুক্তি দিতে না কেন কোন কাজই হতো না।তাই আমি বলিনি।সত্যি বলতে মেয়েটা সৎ হলে আমি নিজেই তোমাকে অনুরোধ করতাম নাইফের জন্য চয়েস করতে। কিন্তু অনেক অবজার্ভ করার পরে আমি নিশ্চিত হয়েই বলছি এই মেয়ে কোন মতেই তোমার ছেলের যোগ্য নয়। তোমার বাড়ির পুত্রবধূ হওয়ার যোগ্য নয়।আর চিন্তা করো না এই বিষয়টি এখন তোমার ছেলেও ভালো করে জেনে গিয়েছে,বুঝে গিয়েছে।"
“ কিভাবে?"
“ আমি যতটুকু খোঁজখবর নিয়েছি ঠিক ততটুকুই তোমার ছেলের কান অবধি পৌঁছিয়েছি এবং বাকীটা সে নিজেই খতিয়ে বের করেছে।এখন তারা অবশ্য দূরে দূরেই থাকে । অর্থাৎ পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার পরেই ব্রেকাপ।মানে মেয়েটার কাজও শেষ হয়েছে আর শেষ করেই যখন অনুভব করেছিলো নিজের পছন্দের মানুষটির সাথে সে অন্যায় করছে তখন আমাদের নাইফই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছে।তাকে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগটাও দেয়নি। অবশ্য যদি দিতো তবে তোমার ছেলে আমার হাতে মার খেতো নিশ্চিত।
যাই হোক এখন কথা হচ্ছে, সময় গড়াচ্ছে,বয়স বাড়ছে।তার সাথে সম্পর্কের গুরুত্ব বুঝতে শিখেছে। এগুলো যেমন ভালোকথা তেমনি মেয়েলি ইস্যুতে আবেগও বাড়ছে। সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে আমার মনে হলো বাবা মা হিসেবে তোমাদের জানা দরকার, সতর্ক থাকা দরকার তাই আমি জানালাম।এখন কিভাবে ছেলেকে হ্যান্ডেল করবে অবশ্যই সেটা তোমাদের বুঝতে হবে। কিন্তু আমি বলবো আপাতত কাজকর্মে ব্যস্ত করে দাও।মাথায় পারিবারিক, ব্যাবসায়িক চিন্তা ঢুকলেই এসব মেয়েদের থেকে দূরে থাকা হবে,আর যদি সম্ভব হয় তবে দেখো মেয়ে-টেয়ে দেখে আপাতত আকদ করিয়ে রাখলে। মাস্টার্সের পর না হয়!"
চলমান..
খুবই তাড়াহুড়ো করেই পোস্ট করেছি,চেইক দেওয়ার সময় পাইনি,ভুল ত্রুটি যাই দেখেন কমেন্ট করে জানাবেন প্লিজ।







0 মন্তব্যসমূহ