সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১০১

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_১০১



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️  


 

নাইফ ছোট ভাইকে ভালো করে গোসল করিয়ে দিয়ে নিজেও গোসল সেরে মাত্র বাথরুম থেকে বের হলো।পরনে তার হালকা গোলাপী তোয়ালে। কাঁধে সাদা আরেকটা তোয়ালে ঝুলছে যেটা দিয়ে সে পিঠ মুছছে।

তাইফ‌ তোয়ালে পরা অবস্থায়ই সোফায় বসে গেইমস খেলছে।আফিয়া ঘরে ঢুকে দেখেই একচোট ঝাড়লো ছোটটাকে।


“ কি ব্যাপার তুমি এখনো তৈরি হ‌ওনি কেন? কত বড় সাহস দেখো বসে বসে গেমস খেলছে!"


মায়ের ধমকে তড়াক করে হাতের রিমোর্টটা রেখে দিলো টি টেবিলের উপর, বিছানায় মেলে রাখা পাজামা পাঞ্জাবি হাতে তুলে নিলো।নাইফ মায়ের দিকে তাকিয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বললো,


“ কি রান্না হয়েছে আম্মু আজকে?"


“ খেতে বসলেই দেখবে,তার আগে বলো তোমার ফোনে কি হয়েছে? তোমার মামু ফোন দিচ্ছে তুলছো না কেন?"


মায়ের কথায় নাইফ বিছানার উপর পড়ে থাকা ফোনের দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বললো,


“ আমি তো শাওয়ারে ছিলাম।"


“ এই নাও কথা বলো।

_ তাড়াতাড়ি সব করো!"


নাইফ কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা হাতে নিলো, অতঃপর কানে লাগিয়ে আদবের সাথে খুবই নিচু কন্ঠে ,


“ আসসালামু আলাইকুম মামু!"


“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম, তোমার ফোনে কি হয়েছে? আমি সেই দুপুর থেকে ফোন করছি।"


ঢোঁক গিলে ধীরে ধীরে বললো,


“ ইয়ে মানে মামু আসলে!"


“ তোমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে যাও, মায়ের ফোন মা'কে দিয়ে দাও!"


“ হুম!"


বলেই নাইফ ফোনটা কেটে মায়ের দিকে বাড়িয়ে ধরে বললো,


“ তোমার ফোন থাকুক আমারটা দিয়ে ব্যাক করছি!"


“ কি বলছে মামু?"


“ জানি না,আমার ফোনে কথা বলতে বলছে!"


“ ওহ, আচ্ছা যাই করো তাড়াতাড়ি করো!"


বলেই আফিয়া বেরিয়ে গেলো,নাইফ মায়ের চলে যাওয়ার দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে আনমনে কিছুক্ষণ বারান্দা দিয়ে আসা পড়ন্ত বিকেলের 

শেষ কিরণের রশ্মি দেখলো, তাদের বারান্দায় এখন ভীঙ্গরাজ আর পর্তুলিকার রাজ্যে,মাঝে মাঝে মাথা উঁচিয়ে উঁকি দেয় দুই একটা কালো গোলাপ।এই কালো গোলাপের গাছটা তার মা কাশ্মীর থেকে এনেছিলো বছর ছয়েক আগে।তখন তারা কত ছোট্ট ছিলো।খুব একটা ফুল না হলেও মায়ের অসম্ভব যত্ন আর ভালোবাসার জোরেই বোধহয় মাঝে মাঝে কয়েকটি হয়,তবে বেশ বড় বড় হয়।আর তখন তার মায়ের খুশি কে দেখে! একদম উপচেপড়া আনন্দে তখন মা'কে কিশোরী মেয়ে মনে হয়, যখন ফুলটা নিয়ে বাবার সাথে খুনসুটিতে মেতে উঠে তখন কোন সদ্য নববিবাহিতা বধূর মতোই উচ্ছল চঞ্চল ষৌড়সী লাগে।

ভাবতে ভাবতেই নাইফ নিজের মুঠোফোনটা তুলে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকলো,মামুর কন্ট্রাক্ট লিস্টে ইন করতেই তার গা জমে গেলো। ইস্! এভাবে, কিভাবে এখন সে মামুকে এক্সপ্লেইন  করবে?


হয়তো অনেকের কাছেই মনে হতে পারে এসব বিষয়ে বাবা মায়ের চেয়ে কি মামা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? মামুর রাইটস কি তোকে শাসন করার? কিন্তু নাইফ জানে,এই পৃথিবীতে বাবা মায়ের মতো করে তাদের চার ভাই-বোন'দেরকে নিয়ে যদি কেউ খুব যতন করে, খুব সময় করে ভাবে সে হচ্ছে তার মামা,যাকে সে এবং তারা সব ভাই বোন ভালোবেসে মামু ডাকে।


আর নাইফের জন্য মামুতো অনেক কিছু! মামু নাইফের আদর্শ, দিকনির্দেশক, অন্যতম অভিভাবক। নাইফের কত আব্দার বাবার আগেই মামু পূরন করে দেয়।এখন নয় শুধু,যখন মামু একদম সাদামাটা ছাত্র,যখন মামু মাত্র দু'টো টিউশনি করিয়ে নিজের খরচ,নানা নানীর খরচ কোনমতে চালাতো তখন থেকেই নাইফের সকল আবদারের দ্বিতীয় অপশন ছিলো মামু।বাবা অনেক সময় রাজী না হলেও মামু বাবা মায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে নাইফের জন্য সেটা করতো।

তাছাড়া... সত্যি বলতে নাইফ এটাও জানে তার বাবা তার মামুকে কতটা মান্য করে।বয়স, সম্পর্কে কত ছোট মামু বাবার থেকে তারপরও বাবা সবসময় মামুকে অন্যরকম সম্মান করে এসেছে।মামু যখন নাইফের জন্য কোন সিদ্ধান্ত নেয় তার উপর বাবা দ্বিতীয় শব্দ উচ্চারণ করে না। এমনকি বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াতেও সবার চেয়ে বেশি সাপোর্ট ছিলো মামুর। শুধুমাত্র নাইফের একাডেমিক পড়াশোনার উপর যাতে প্রভাব না পড়ে তাই মামা ভার্সিটিতে তাকে ভাগ্নে বলে পরিচয় দেয় না।পাছে কেউ নাইফকে বলে বসে,মামুর থেকে বিশেষ সুবিধা নিচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কোনরকম কন্ট্রোভার্সির সৃষ্টি হয়!


বিনিময়ে মামু শুধু চেয়েছে ভালো ফলাফল! কোনরকম বিতর্কিত কাজ নয়,কোন রাজনৈতিক ইস্যুতে জড়ানো চলবে না,কারো ডানে বামে নিজের উপস্থিতি নয়। শুধু পড়াশোনা আর একজন শিক্ষার্থীর যথার্থ ভূমিকা পালন।


মোবাইলে জ্বলজ্বল করছে তার আর খুশবুর কয়েকটি স্থিরচিত্র,তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মিটিং,মিছিলের চিত্র যেখানেও তার পাশে রয়েছে খুশবু। সর্বশেষে রয়েছে তার বিগত দিনের একাডেমিক পারফরম্যান্স এবং আজকের ফলাফলের ছবি।

শুকনো ঢোক গিলে নাইফ বারবার ছবিগুলো দেখছে এর মধ্যেই সালাহর ফোন আসলো, আলতো চাপে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরেই নাইফ বলতে আরম্ভ করলো,


“ মামু আই ক্যান এক্সপ্লেইন.. একচুয়া..


“ আই ডোন্ট নিড এনি এক্সপ্লেইনেশন... আই ওয়ান্ট টু টেল ইয়্যু দ্যাট ইয়্যু আর নট অনলি ডেস্ট্রয় ইয়্যর ওয়োন লাইফ,অলসো ডু দা সেইম থিং ইয়্যর ফ্যামিলি,ইয়্যর মাদার,ফাদার এন্ড ইয়্যর অল সিবিলিংস হু ফলোস ইয়্যু,হু থটস ইয়্যু দোস আইডল,দোস আইকন,দোস টিম ক্যাপ্টেন! নাও কম্পেয়ার বিটুইন দা নাওডেস ইয়্যর এন্ড বিফোর ইয়্যর!"


“ স্যরি মামু,নেক্সট পরীক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো পজিশনে ব্যাক যেতে!"


“ তাতে ফলাফল চেঞ্জ হবে না। তুমি তোমার লক্ষ্য থেকে সরে গিয়েছো বাবা। তুমি হয়তো এখনও বুঝতেও পারছো না তোমার আজকের এই ফল্ট তোমাকে কতদূর পিছনে ছিটকে ফেলেছে।

তোমাকে আমি ওয়ার্ন করেছিলাম যাতে এসবে না জড়াও, বারবার কি আক্সড ই্যয়ু,এন্ড অলসো ইয়্যু লায়িং! 

এনি ওয়ে... তোমার ফলাফলের চেয়েও বেশি হতাশ করেছো তুমি আমায় তোমার রাজনীতির সাথে জড়ানোতে!এটা কেন করলে বাবা? আমি এত বছর ঐ ক্যাম্পাসে! কেউ বলতে পারবে না আমি কোন নেতার পিছনে টাইম ওয়েস্ট করেছি।আর সেই আমাকেই কি না শুনতে হচ্ছে আমার ভাগ্নে,আমার সবচেয়ে আদরের,অতি প্রত্যাশিত ট্যালেন্টেড ভাগ্নে কিছু পাতি নেতার পিছনে ঘুরঘুর করছে,তার নিজের পকেটের নিজের বাবার কষ্টের অর্থ সে খরচ করছে কিছু জংলির পিছনে! 

রাজনীতির রঙিন ফ্যাস্টুন তোমাদের জন্য নয় বাবা! তোমাদের মতো পরিবারের, সারাজীবন দুধ মাখন খেয়ে বড় হ‌ওয়া ছেলে মেয়েদের জন্য আমাদের দেশের নোংরা পলিটিক্স নয়।এখন‌ও মা মাখিয়ে না দিলে তুমি খেতে পারো না। ঠিকঠাক নিজের একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারছো না,সেই তুমি কি করে? তোমাকে তো কেউ চড় দিলেও তুমি ঘুরিয়ে দুটো দেওয়ার শিক্ষায় দীক্ষিত হ‌ওনি, তবে?

কিভাবে তুমি ছাত্র রাজনীতি নামক মরন ফাঁদে পা দিলে? কেন‌ইবা দিলে? একবারও কি ভাবোনি এই কথা তোমার বাবা মায়ের কানে গেলে তাদের প্রতিক্রিয়া কি হবে? তোমার মা বিছানায় পড়তে সময় লাগবে না, তোমার বাবা হার্ট পেসেন্ট, নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ,সে কোনমতেই এটা মানতে পারবে না তার ছেলে রাজনীতির সাথে এই বয়সেই জড়িয়ে পড়েছে! কোনভাবেই না,শোনার সাথে সাথেই হসপিটালে নিতে হবে তাকে। তুমি তো এগুলো খুব ভালো করেই জানো তারপরও..


নাইফ চুপচাপ শুনছে কেবল, একটা কথাও মামু যুক্তি ছাড়া বলছে না আর তার বলার‌ই'বা কি আছে?

সালাহ্ ভাগ্নের নিরবতায় হতাশ হলো। তারপর‌ও নিজের শেষ বাক্যগুলো আওড়ালো,


“ শোন বাবা,আমি জানি তোমার এই বয়সটা রঙিন স্বপ্ন সাজানোর,পৃথিবীটা এখন সবসময় অদ্ভুত রকমের সৌন্দর্যে মুগ্ধ করবে তোমাকে,যা দেখবে, যাকেই দেখবে তাতেই তুমি মুগ্ধ হবে।এই বয়সটা তো আমিও পার করে এসেছি বাবা! আমি জানি এই বয়সের অনুভূতিগুলো কতটা প্রখর হয়। কাউকে চাইলে সেই চাহিদায় কতটা তীব্রতা মিশে থাকে। কিন্তু....তার সঙ্গে সঠিক মানুষ চয়েজ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত‌ও অতি সতর্কতার সহিত গ্রহন করতে হবে।ভালো লাগলেই যে কাউকেই কাছে টানা যাবে না। ক্ষণিকের ভালো লাগা আজীবনের জন্য অভিশাপ না হয়।

সঠিক লাইফ পার্টনার চুজ করতে পারা জীবনের সবচেয়ে বড় সাক্সেস। তুমি যদি নিজের জন্য সঠিক জীবনসঙ্গী সিলেক্ট করতে না পারো তাহলে আজীবন পস্তালেও তার খেসারত দেওয়া ফুরাবে না।লাইফ হেল হয়ে যাবে বাবা।

_আর সঠিক জীবন সঙ্গী কখনো স্বপ্নের পথে বাঁধা হতে পারে না।যে তোমাকে প্রকৃত ভালোবাসবে,যে তোমার প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী হবে সে সবকিছুর উর্ধ্বে তোমার স্বপ্নকে ভালোবাসবে,তার কাছে তোমার স্বপ্ন‌ই তার স্বপ্ন হয়ে ধরা দিবে। প্রকৃত জীবন সঙ্গী কখনোই কারো জীবনের সফলতার পাথেয় হতে পারে না। তোমার জীবনসঙ্গী হ‌ওয়া উচিত তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী!

তাই মামু অনুরোধ করে বলছি যার তার সাথে নিজের নাম জড়িও না।যাকে তাকে নিজের পাশে দাঁড়ানোর অধিকার দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ প্রকৃত জীবনসঙ্গীর অধিকার হরণ করো না বাবা।জীবন একটাই কিন্তু এক জীবনের গুরুত্ব অনেক।

আর এসব শুধু ব্যক্তিগত লাইফে নয়, প্রফেশনাল লাইফেও ফ্যাক্ট বাবা। মেইনটেনেন্স ক্যারেক্টার ইজ মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট ফ বিয়িং ইউনিভার্সিটি'স টিচার্স। তুমি এখন যাদের সিনিয়র কাল তুমি তাদের‌ই শিক্ষক সিলেক্ট হবে,আজ যারা তোমার শিক্ষক তাদের ভোটেই তুমি তাদের সহকর্মী হিসেবে বাছাই হবে। সুতরাং তোমাকে অবশ্যই নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মজবুত করতে হবে।কারণ তার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে তোমার ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। তোমার আদারস থিং।আই হোপ তুমি বুঝতে পেরেছো?

যেই মেয়ে তোমার স্বপ্নের পথে বাঁধা হয়,যেই মেয়ে তোমাকে ভুল পথে টেনে নিয়ে যায় সে আর যাই হোক কোনভাবেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পারফেক্ট নয়।হতেই পারে না।

আমি বলছি না তোমার পছন্দের মেয়েটা খারাপ কিন্তু তোমাকে বুঝতে হবে সে তোমার জগতের সাথে যাচ্ছে কি-না,সে তোমার জন্য কতটা ঠিক?

আমি চাই না তুমি হোঁচট খাও, তুমি নিজের রঙিন দুনিয়ার বাইরে যাও। কোন খারাপ অভিজ্ঞতা হোক।...


“ আমাকে একুট দেন তো.."


পাশ থেকে বললো দোয়া।সালাহর পাশেই বসেছিল সে। নাইফের কানেও আসলো মামীমনির কন্ঠটা।সেও আগ্রহ নিয়ে কান পেতে র‌ইলো,সালাহর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে দোয়াই প্রথমে বললো,


“ আসসালামু আলাইকুম বাপজান?"


“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম মামী মনি, কেমন আছো?"


“ আর থাকা, এতদূর তোমাদের ছেড়ে আছি আর কেমন থাকবো তাও বলতে হয় আলহামদুলিল্লাহ আছি।ভালো আছি! কিন্তু বাবা তুমি.....


“ স্যরি মামী মনি!"


“ আমাকে স্যরি বলার কিছু নেই বাবা,এটা তোমার লাইফ, ডিসিশন নেওয়ার সর্বোচ্চ অধিকার আছে তোমার। আমরা তো মাঝে মাঝে একটু আধটু পরামর্শ দিতে পারি।এই যা।

কিন্তু এখন আমি তোমাকে পরামর্শ দিচ্ছি না শুধু একটা সত্যি বলছি,সেটা হলো তোমার মামা আর  আমি পাশাপাশি থাকার পরেও কেউ কোনদিন জানতে পারেনি আমাদের বিষয়টি।আমরা কিন্তু কেউ কারো ক্যারিয়ার থেকে ফোকাস হারাইনি।কেউ কাউকে কোনভাবেই প্রেসারাইজড করিনি কিছু করতে অথবা না করতে। যথেষ্ট স্পেস এবং টাইমিং ছিলো আমাদের রিলেশনশিপে।আমরা কিন্তু কেউ শেষ অবধি নিশ্চিত ছিলাম না আমাদের পরিণতি নিয়ে তবে আমরা এতটুকু নিশ্চিত ছিলাম যদি পরিণত ভয়াবহ কিছু হয় তবে যেন দুজনের কারো মনেই কোন তিক্ততা না থাকে।তেমনি কেউ কারো ভবিষ্যৎ নষ্টের জন্য দায়ী না হ‌ই।

অর্থাৎ আমরা সম্পর্কটাকে এজজুয়াল গফ-বফ টাইপস বানাইনি।আমরা স্বাভাবিক বন্ধুত্ব বয়ে নিয়ে একটা চুড়ান্ত মুহূর্তে এসে নিজেদের পরিবারের মাধ্যমে পূর্ণতা দেওয়ার ইচ্ছায় ছিলাম কিন্তু আল্লাহর রহমতে তোমার বাবা একদিন আমাদের স্বাভাবিক হাত ধরে রাস্তা পার হতে দেখাতেই পিছু পড়ে গেলো তোমার মামার অবশ্যই সে ভালোর জন্য করেছিলো সেদিন এবং তার বদৌলতেই আমরা পারিবারিক ভাবে খুবই তাড়াতাড়ি একদম অল্প বয়সেই বলাবাহুল্য তোমার মামার ফিক্সড ইনকাম সোর্সের আগেই আমাদের গাঁটছড়া বেঁধে যায়।

আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালোও আছি।তবে তার জন্য কি করতে হয়েছিল বলো তো? সঠিক জীবন সঙ্গী খোঁজার প্রয়াস।হয়তো তোমার মনে হচ্ছে এখন আমরা সুখী বলে বলছি সঠিক জীবন সঙ্গী পেয়েছি না হলে কি বলতাম? বাবা আমরাও জানতাম না আমরা আসলেই এক হবো,আমরা সুখে থাকার শব্দগুলো উচ্চারণ করতে পারবো! আর তাই আমরা একে অপরের জীবনে কোন কাজেই বাঁধা হ‌ইনি, কোন কাজে আমরা একজন আরেকজনের জন্য হুমকিস্বরূপ দাঁড়াইনি। আমরা যেমনি জানতাম না ভবিষ্যৎ তেমনি মানতাম না তথাকথিত ভালোবাসার রুলস।সবার আগে গুরুত্ব দিয়েছি নিজেদের ক্যারিয়ার, একাডেমিক স্টাডি,হবিস,ফ্যামিলিস ডিমান্ডে! এর বাইরে যদি সময় মিলতো তবেই একজন আরেকজনকে নিয়ে ভেবেছি এবং ভাবতে সহযোগিতা করেছি।

আমাদের এই কথা শোনার পর আশাকরি তুমি একটু হলেও নিজের অবস্থান নিয়ে ভাববে! যার পিছনে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করছো, যার পিছনে নিজের কষ্টের অর্থ,বাবার অর্থ খরচ করছো সে কি আসলেই তোমার জন্য সঠিক? তুমি এই যে ইনভেস্ট করছো এটার কি কোন প্রফিট তুমি পাবে?

আর আমি বলতে না চেয়েও বলতে বাধ্য হচ্ছি কারণ কাউকে না কাউকে তো তোমাকে সাবধান করতেই হতো!"


“ কোন বিষয়ে মামী!"


“ এখন বলো না , ছেলেটা নিতে পারবে না!"


নাইফ মামীকে প্রশ্ন করে চুপ করে গেলো, উৎকণ্ঠা জেঁকে বসেছে তার মস্তিষ্কে। ঐদিকে শোনা যাচ্ছে তার মামা কিছু একটা বলতে নিষেধ করছে তার মামীকে। কিন্তু মামী বলার আগ্রহ দেখিয়ে বললো,


“ এখন না‌ বললে ছেলে এমন ইমোশনাল ভুল করতেই থাকবে,তাই তার জেনে রাখা উচিত।

আপনাদের ভাই বোনদের সারপ্রাইজ বাচ্চাটার উপরে পাহাড় না হয়ে চড়ে।"


“ কিন্তু এই সময়ে হুট করেই..


“ নাইফ শুনছো বাবা?"


“ জ্বী মামীমনি শুনছি!"


“ শোন নাইফ তোমার একটা কথা জানা উচিত বোধহয়,যদিও এটা তোমাকে বলেছি শুনলে তোমার মা হয়তো আমাকে বকবে কিন্তু আমি ..আমার মনে হচ্ছে এখন জানলে তুমি তোমার জীবনের অনেক বড় একটা বিষয় সম্পর্কে অবগত র‌ইবে।তাই বলছি.."


“ জ্বী!"


“ দেখো বাবা আমাদের সবার ধারণা কিন্তু নিছক নয়, তোমার মায়ের কথাতেই স্পষ্ট হয়, এবং সম্ভবত এটাতে তোমার বাবার‌ও সম্মতি আছে।"


নাইফ চুপচাপ শুনছে খালি,দোয়া আবারও বললো,


“ নাইফ আমাদের সবার ধারণা তোমার মা তোমার জন্য হয়তো মেয়ে পছন্দ করে রেখেছে, অর্থাৎ সে তার বড় পুত্র বধূ ইতিমধ্যেই সিলেক্ট করে ফেলছে। এবং সে তার জন্য খুবই উৎসাহিত,খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে তোমার গ্রাজুয়েশন শেষ হ‌ওয়ার। তোমার বাবা মা দুজনেরই ইচ্ছা গ্রাজুয়েশন শেষ হতেই তোমাকে বিয়ে করানোর।বাকী পড়াশোনা না হয় এরপরেই করলে। এবং তোমার মা প্রায়ই তার কোন বান্ধবীর মেয়ের ভীষণ তারিফ করে,এতেই বোঝা যাচ্ছে হয়তো সে নিজের সেই বান্ধবীর সাথে কোনভাবে কথাও ফেলে রাখছে।নাইফ তুমি বুঝতে পারছো? তোমার মায়ের স্বপ্ন কতদূর এগিয়েছে! সে সবসময় বলে তার ছেলের ব‌উ টুকটুকে পরী,সে একটা পরী চোখে চোখ রাখছে, শুধু অপেক্ষা ছেলেটার আরেকটু বড় হ‌ওয়ার। কিন্তু তোমার মা কি ক্ষুনাক্ষরেও অনুমান করতে পারছে তার ছেলে ঠিক কতটা বড় হয়ে গিয়েছে?

_ বাবা হয়তো তোমার মা বাবা তোমার সিদ্ধান্তের উপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিবে না, কিন্তু তারপরেও.."


“ আমি তো কিছুই জানি না এই বিষয়ে মামী মনি!"


“ হ্যাঁ,তোমাকে জানানো হয়নি যাতে তোমার পড়াশোনার ফোকাসড অন্যদিকে টার্ণ না নেয়। কিন্তু তাতে লাভটা ক‌ই হলো? সেই তুমি তো সরেই যাচ্ছো নিজের স্বপ্ন থেকে!"


“ এমন কিছু হবে না মামীমনি।আমি ওয়াদা করছি আমি তোমাদের কাউকে হতাশ করবো না।"


“ ইনশাআল্লাহ, তুমি আমাদের অনেক বুঝদার বাচ্চা, জ্ঞানী বাচ্চা। আমাদের বিশ্বাস তুমি সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে, আর যদি সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয় তবে অবশ্যই নিজের অভিভাবকদের সহযোগিতা নিবে।তাও আবেগের বশে কোন ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিবে না।

দয়া করে মামীমনির কথায় কষ্ট নিও না,মামার কথায় আপসেট হ‌‌ইয়ো না।আমরা তোমাদের কল্যাণ ছাড়া কিছুই চাই না।"


“ আই নো মামী মনি।প্লিজ এভাবে বলো না।"


চলমান......

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ