সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৯৯

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_৯৯



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


নামাজ পড়ে কোরআন তেলাওয়াত করে একটু সময় নিজেদের একাডেমিক পড়াশোনা করে আবারো ঘন্টাখানেক ঘুমানোর অভ্যাস নাবীহার নবম শ্রেণিতে উঠার পরই হয়েছে।আফিয়াও খুব কিছু বলে না।কারণ স্বভাবতই নাবীহা অনেকটা নিশাচর।রাত জেগে ক্যালিগ্রাফি, চিত্রাংকন করা তার বদ্যাভাস।সে বলে,


“ রাতে কালার করলে সকাল হতে হতে ঐটা শুকিয়ে যায় আম্মু।সকালে উঠে একটু রোদে দিলেই হয়‌।"


যেহেতু ভালো কাজ করে তাই শাসন‌ও করা যায় না।অবশ্য করাও উচিত নয়।কারণ মেয়েদের সব অভ্যাস থাকা জরুরি।নয়তো সন্ধ্যার পর ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাসের জন্য শ্বশুর বাড়িতে কথা না শুনতে হয়।আবার দিনেও মেয়েটা খুব একটা বিশ্রামের সুযোগ পায় না।


তবে বাকী দিনের থেকে যেহেতু আজকের দিনটা একটু আলাদা তাই একটু আলতো ভাবেই মেয়েকে সামলাচ্ছে।সকালে উঠে নামাজ পড়ার পড়েও বেশ সময় ঝিম মেরে বসেছিলো নাবীহা।আফিয়া নামাজ পড়ে দোয়া দরুদ পড়ে বারবার মেয়েদের শরীরে ফু দিয়ে দিয়েছে।নাসিফ‌ও নামাজ পড়ে এসে এক‌ই কাজ করেছে।

কাল যখন ওরা বাড়ি ফিরেছিলো তখন সালমা ফাওযিয়া প্রতিবেশী এক বাড়িতে গিয়েছিলো তাবলীগে শরীক হতে।

সেখান থেকে আসার পর ঝাঁপসা ঝাঁপসা ঘটনা কানে যেতেই ছেলের ব‌উয়ের পেট চেপে ধরে পুরো ঘটনাটা শোনার পর বেশ কেঁদেছেন। নাতী নাতনিকে জড়িয়ে অজস্র আদরে সিক্ত করেছেন। তিনিও রাতভর নাতী নাতনির কল্যাণে দোয়ায় মশগুল ছিলেন।

নাযির আহমাদ আজ বিকেলে হয়তো বাড়ির উদ্দেশ্যে র‌ওনা দিবেন।


ফেরা হাঁটু মাথা এক ঘরে কুঁকড়ে ঘুমিয়ে আছে,তার পাশেই হাত পা দুই দিকে ছড়িয়ে ঘুমাচ্ছে তার বড় বোন নাবীহা।সকালে নামাজের পর নিয়মমাফিক কোরআন তেলাওয়াত এবং কিছু ছোট ছোট আমল করে সেভাবেই নামাজের হিজাব মাথায় রেখেই বিছানায় গাঁ এলিয়েছিলো এবং সেভাবেই ঘুমে তলিয়ে যায়।

তুহি উঠে পুরো বাড়িময় ঘুরঘুর করছে।


সকালের নাস্তা তৈরি করে আফিয়া মেয়েদের ডাকতে যায়।নাসিফ আজ নিজের সকল কাজকারবার থেকে ছুটি নিয়েছে।আজ দিনটা সে তার বাচ্চাদের দিবে।


“ তুলতুল,উঠো আম্মু! 

_ দেখো নয়টা বাজে! বাবা টেবিলে অপেক্ষা করছে তোমাদের সাথে নাস্তা করবে বলে। তাড়াতাড়ি উঠো,নাবু!"


“ আম্মু আরেকটু ঘুমাই না, প্লিজ!"


“ না এখন না।আবার খাওয়া দাওয়া করে দুপুরের পর ঘুমিও।

_ এখন উঠো আম্মা! বাবা,দাদি,খালামনি অপেক্ষা করছে তোমাদের জন্য!"


নাবীহা নড়াচড়া করে কাঁত ঘুরিয়ে ঘুমালো।আফিয়া মেয়ের মাত্রায় চুলের গোড়ায় আঙ্গুল গলিয়ে আলতো করে টানতে টানতে বললো,


“ আচ্ছা শোন তুমি আজ পিকনিক কেন করছো না? কাল তো তুমি পিকনিক করতে চেয়েছিলে? তাহলে আজ করো। তোমার খালা তো কাল চলে যাবে কিন্তু সঙ্গে করে এক রাশ গিল্টি আর মন খারাপ নিয়ে যাবে!"


নাবীহা মায়ের কথায় ঘুরে মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমু-ঘুমু কন্ঠে বলতে লাগলো,


“ কিন্তু কিভাবে পিকনিক করবো?"


“ কেন, ছাদের উপর করো। তোমাদের ছাদের মতো এত সুন্দর আর গোছালো, পরিচ্ছন্ন ছাঁদ আর কার আছে আশেপাশে!

তাছাড়াও এত এত গাছ তুমি লাগিয়েছো,ফুল ফল ভরা গাছে।তার পাশে একটা সুন্দর করে টেন্ট বানিয়ে ভাই বোনরা মিলে মজা করবে। রান্নাবান্না করবে।"


“ সত্যিই?"


“ হুম,যাও উঠো।

_বাবা বসে আছে।দাদী আবার কান্না জুড়ে বসবে!"


“ ওকে।

_এই ফেরা উঠ!"


মায়ের কথাতে সম্মতি দিয়েই ছোট বোনকে ঠেলতে লাগলো।ফেরাও নড়েচড়ে আবারও ঘুমিয়ে পড়ে। এভাবে ফেরাকে ডেকে তুলতে সক্ষম না হয়ে নিজের কৌশল অবলম্বন করলো।বেড সাইড টেবিলের উপর থাকা পানির জার থেকে পানি নিয়ে ফেরার মুখের উপর ঢেলে দিতেই ফেরা লাফিয়ে উঠে বসলো, চোখমুখ কুঁচকে বড় বোনকে বললো,


“ ভিজিয়ে দিয়েছো! এ্যাঁ হ্যাঁ.."


“ চল , তাড়াতাড়ি উঠ। অনেক কাজ করতে হবে আজ!"


“ অনেক কাজ!কিন্তু কেন! কি কাজ করবো?"


“ এত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না। শুধু বলছি আজকে পিকনিক পিকনিক খেলবো! তাড়াতাড়ি চটপট করে উঠ বলছি।"


নাবীহা উঠে বসতেই আফিয়া চলে গিয়েছিল তাই নাবীহাও এই অসৎ পথে অবলম্বন করে ফেরাকে ঘুম থেকে তুলে, নিজের পায়ে চটি গলাতে গলাতে কথাই বলছিলো ফেরাকে।


____________________


 পাঁচ তলা অবধি অনুমোদিত ভূমির উপর মাত্র এক তলা বিল্ডিং,নাযির আহমাদের পিতার আমলে তৈরি এই ভবনটি তৎকালীন অন্যতম আধুনিক ধাঁচে গড়া। এই ভবনের চারদিক গাছগাছালি দিয়ে ডেকে রাখা। সৌখিন থেকে প্রয়োজনীয় সবরকম ফল,ফুল, ঔষধি গাছের আবাস এই বাড়ির চতুর্দিকে।বাড়ির পিছনের ছোট্ট একটি মুরগির খোয়ার। সেখানে মূলত খাওয়ার জন্য মুরগি পালিত হচ্ছে।কখনো গ্রাম থেকে খাওয়ার জন্য আনা খাসিও এখানেই রাখা হয়।বাদ বাকী অংশ নাসিফ ,নাফিসা নিজেদের শৈশব কাটিয়ে এখন তাদের বাচ্চাদের সময় খেলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।তবে মেয়েদের যেহেতু পর্দায় রাখে তাই খুব একটা বাড়ির বাইরের এই সীমান্ত আসার অনুমতি তারা পায় না।নাফিসার সময়েও এই নিয়ম ছিলো,নাফিসার একমাত্র ফুফুর সময়েও এমনকি নাফিসার দুই মাত্র ভাতিজিদের সময়েও।

এক তলা এই একান্ত আবাস ভূমির সীমানা শেষ করেই আরেকটা পাঁচ তলা বিল্ডিং, যেটা সম্পুর্ণটা ভাড়া দেওয়া।বিশাল এড়িয়া জুড়ে গড়া পাঁচ তলাটা নাযির আহমাদ নিজের যৌবনের প্রথম দিকে গড়েছিলেন।যার একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী এবং তার পরবর্তী এই সম্পত্তির মালকিন হবেন নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজীর দ্বিতীয় এবং একমাত্র জীবিত স্ত্রী সামিহা তাসনিম আফিয়া।


 ঐ বাড়ির প্রধান ফটকের সাথে তাদের বাড়ির 

প্রধান ফটক মিলিত, অর্থাৎ দুই বাড়ির একটাই প্রধান ফটক এবং দুই বাড়ির ভেতরে ঢোকার জন্য আলাদা ছোট পকেট গেইট আছে।আর গ্যারেজ‌ও একটাই।


সালমা ফাওযিয়া ছাঁদে খুব একটা উঠতেন না।উনার শ্বাশুড়ির সময় ছাঁদ কৃষির অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনিও ছাদের কোন সৌন্দর্য নিয়ে চিন্তা করতেন না বোধহয়,নয়তো খোলামেলা ছাঁদ‌ই তাদের পছন্দের ছিলো। অবশ্য ঘটনা আরো একটা আছে।

তাদের পরবর্তী প্রজন্মের নাফিসা,আমিরাও এমন‌ই নিজস্ব কাজে ব্যস্ত থাকায় কোনদিকে আর তাকানোর সময় পায়নি বোধহয়। কিন্তু সামিহা তাসনিম আফিয়া আসার পর এই বাড়ির অনেক চিত্রপট বদলেছে।নিজ হাতে ফলের গাছ থেকে প্রয়োজনীয় শাক-সবজি সে চাষ করা শুরু করে দেয়,যদিও পর্যাপ্ত সময় তার‌ও হয়না। কিন্তু তার দেখাদেখি তার‌ই মেয়ে নাবীহা বেশ সময় কাটায় এই সৌখিন চাষাবাদ করে।


নাবীহার অনেকগুলো ভালো গুণ আর শখের মধ্যে অন্যতয় শখ হচ্ছে ছাঁদ কৃষি করা এবং তার তাতে গুণ‌ও অশেষ।যা'ই লাগায় আল্লাহ তার দুই হাতে বরকত ঢেলে দেয়।

আফিয়া মেয়ের কৃষি কাজকে আরো আগ্রহ দিতে আর ছাঁদকে বাচ্চাদের খেলার উপযোগী করতে খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে।

চারদিকে প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু দেওয়াল টানা ছাঁদটার মাঝ বরাবরই একটা ছাউনি তোলা।চতু্র্ভূজ আকৃতির ছনের ছাদের এই ছাউনির চারদিক দুই ফুট উঁচু থাই দিয়ে দেওয়াল টেনে দিয়েছে যাতে বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতর না ঢুকতে পারে।জমিনে লম্বা শীতল পাটি বিছানো,এক পাশে অনেকগুলো কুশন পাতা।এক পাশে মাঝারি আকারের ব‌ইয়ের সোকেস,যাতে ঠাসা আছে অনেক পুরানো ধর্মীয়, ইতিহাস, ফিলোসফি, সাহিত্য,জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক ব‌ই।

 অবসরে বাচ্চারা এইখানে এসে নিজেদের সময় কাটায়। তাছাড়াও গাছের পরিচর্যা করার পর ক্লান্ত হয়ে এখানে এসে বিশ্রাম নেয় তারা।নাইফ কখনো সখনো এখানে এসে পড়তে বসে,তুহির‌ও খেলার জায়গা এটা।তবে খুব একটা অনুমতি সে পায় না। কারণ ছাঁদে উঠার সিঁড়িটা বাড়ির বাইরে।


আফিয়া নাসিফের থেকে শুনেছে তার অতিরিক্ত ধার্মিক দাদা শ্বশুর বাড়ির স্ত্রী কন্যাদের ছাঁদ ভ্রমণকে খুব একটা ভালো চোখে দেখতেন না। তাই তিনি নিজের তৈরি এই ভবনটির ছাঁদে উঠা যায় এমন কোন পদ্ধতি রাখতে ইচ্ছুক ছিলেন না দেখেই ছাদে উঠার একমাত্র উপায় সিঁড়ি বানাননি। কিন্তু নাসিফের পিতা মোহাম্মদ নাযির আহমাদ আবার ব‌উ মেয়েদের স্বাধীন চিন্তাকে কুর্নিশ জানিয়ে পিতার অবাধ্য হয়েই এই সিঁড়িটা বাড়ির বাইরের পিছনের দেওয়াল ছুঁয়ে বানান।অবশ্য তখন নাসিফের দাদা দাদী দুইজন‌'ই জীবিত ছিলেন।

বলে না নিজ স্ত্রী কন্যাকে বাঁধা গেলেও ‌পুত্রবধূকে বাঁধা যায় না, নাতনিকে আঁটকে রাখা যায় না। পুত্রবধূকে ধমকে বাঁধে অসভ্য আর কুশিক্ষিত লোকেরা,কারণ পরের বাড়ি থেকে আনা মেয়েদের উপর জুলুম করায় কোন পুরুষত্ব নাই। তাছাড়াও সম্পর্কে সে পুত্রবধূ,তার প্রতি যত যাই করুক সবটা অধিকার কেবল পুত্রের।


আর নাতনির প্রতি কঠোর হ‌ওয়ার ক্ষমতা পৃথিবীর কোন পুরুষের আদৌও আছে বলে মনে হয় না।তিনিও পারেননি।নাযির আহমাদ‌ও সেই সুযোগ নিয়ে ছাঁদের সিঁড়ি বানান যেই কারণে সিঁড়িটা বাড়ির বাইরের পিছনের দিকে।


মায়ের উৎসাহে নাবীহা পিকনিকের আয়োজন করেছে,তাকে সহযোগিতা করবে তার ভাইয়া আর ছোট ভাই বোনেরা। রান্নাবান্না করবে নাবীহা নিজেই।

আইটেম সিলেক্ট হয়েছে সাদা ভাত, বেগুন ভাঁজা,ইলিশ মাছ ভাঁজা,ইলিশ মাছের লেজ ভর্তা, মুরগির ঝাল কষা, মিক্সড সবজি তরকারি, ঘনঘন মুশুর ডাল।সবটা করবে নাবীহ নিজেই আর তাকে সহযোগিতা করবে তার বোন ফেরা আর ভাইয়া নাইফ।তাইফ এসবে নেই।সে একটু বিশ্রাম করবে কারণ বসন্ত সারতেই এসে কাল বাইরে গিয়েছিলো যার কারণে তার গাঁ'টা একটু গরম হয়ে আছে।

তবে মুরগির গোশত রান্না নাইফ করবে বলে জানিয়েছে।নাইফ মোটামুটি ভালো রান্না জানে,আফিয়া ছেলেকে মাঝে মধ্যেই হাত ধরে টেনে রান্না ঘরে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখে।


সেই যে ডিম ভাজতে গিয়ে নাবীহার হাত পুড়েছিলো তখন‌ই আফিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো ছেলে মেয়ে দু'টোকেই রান্নায় পারদর্শী করে তুলবে সে।বলা তো যায় না মানুষ কখন কোন অবস্থায় পড়ে, কিভাবে আবারও এমন বিপদে পড়ে যায়।তাই শিখিয়ে রাখলে অন্তত নিজেদের কাজে লাগাতে পারবে।


তাছাড়াও নাইফটা বিদেশে পড়তে গেলে রান্না করেই তো খেতে হবে, সুতরাং আগেই যদি জানা থাকে তাহলে একটু সহজ হবে জীবনটা। যদিও নাইফের এই বিষয়ে একদম আগ্রহ নেই।তাও মায়ের ঠেলাঠেলিতে মাঝে মাঝে রান্না ঘরে ঢু মারে।


বড় একটা আম গাছের নিচেই টেন্ট বানিয়েছে নাইফ,সেটার ভেতরে বাবু হয়ে বসে আছে রিফা আর তুহি।চোখ মুখ গম্ভীর করে,দুই হাঁটুর ভাঁজের উপর নিজেদের দুই হাতের তালু রেখে তাকিয়ে আছে বেশ দুরে তাদের ঠিক সামনে কিন্তু একদম ছাদের ঐ প্রান্তে চুলায় ফু দিতে ব্যস্ত থাকা বড় বোনের দিকে।

এইখানে জোড়া মাটির চুলা বানিয়েছে আফিয়া।বাড়ির বাইরের ঐ ফাঁকা জায়গায় তো তার‌ও যাওয়ার অনুমতি নেই,কারণ প্রধান ফটক দিয়ে যেই যাওয়া আসা করবে তাদের দেখা যাবে।তাই সে নিজের জন্য এই সৌখিন চুলাটা ছাঁদেই পেতেছে।প্রায়‌ই এখানে টুকটাক রান্না করে।

নাবীহাও মায়ের চুলায় রান্না বসালো।ভাত বসিয়েছে একটু আগেই।এখন সে বেগুন কাটবে,তাকে পানি এনে সহযোগিতা করছে তার বোন ফেরা।তাইফ সেই ছাউনির বিছানায় গাঁ এলিয়ে ট্যাব টিপছে।


নাবীহা পুরানো একটা চেয়ার ভাঙ্গা কাঠ দিয়ে রান্না বসিয়েছে,নাইফ কিছু শুকিয়ে রাখা পুরানো বাঁশ আর গাছের ডাল জোগাড় করে এনে বোনের সামনে ফেললো।বললো,


“ এতে হয়ে যাবে।সবার শেষে মুরগি করবো।তুই ভাত হলে আমাকে ডাক দিস, খবরদার পাকামো করে পায়ের উপর মাড় ফেলেছিস তো!"


“ আচ্ছা! তুমি কি নিচে চলে যাবে!"


“ না। আমি সুখ প্রান্তরে আছি।তোর কিছু লাগলে আমাকে ডাকিস।

_ বুড়ি সাবধানে কাজ করো,হাত কেটে ফেলো না আবার বনু!"


 ফেরা বেগুন কাটতে বসছে,তাকে তার বড় বোন শিখাচ্ছে।‘ সুখ প্রান্তর ' তাদের সেই ছাউনি ঘরের নাম।

এর মধ্যেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো সাফিয়া আর তার পিছু পিছু বোরকা পরিহিত দুইজন।নাইফ প্রশ্নাত্মক চোখে তাকিয়ে থাকতেই নাবীহা দৌড়ে তাদের কাছে জড়িয়ে ধরে খুশিতে লাফাতে লাফাতে বলতে লাগলো,


“ সিঁথি আর পিয়াশা! তোরা এখন? কিভাবে? ওমা আমাকে তো বললাই না।"


তাদের মধ্যে থেকে একজন উত্তর দিলো,


“ আম্মুকে ফোন দিয়েছিলো আন্টি,বলেছে আজ নাকি বাসায় পিকনিক করবি।তাই আমাদের দাওয়াত,আমরা যেন অবশ্যই আসি।

ভাইয়া ছেড়ে দিয়ে গিয়েছে।"


নাইফ বুঝলো এরা তার বোনের সখী।তাই বিশেষ ভাবাবেগ না দেখিয়ে ছাউনির দিকে গেলো। বোনদের সখীদের বিষয়ে তার কি? যদি‌ও এদেরকে নাইফ চিনে না।অবশ্য চেনার‌ই বা কি দরকার!তারা তো বোনের সখী।

শুনেছে নাইফ এরা প্রায়‌ই বাসায় এসে তার বোনের সাথে অনেক সময় কাটিয়ে যায় কিন্তু দেখলো কেবল এবার‌ই প্রথম।

মনে মনে খুশিও হলো আর মায়ের বুদ্ধির তারিফ‌ও করলো।মা আজকে এই আয়োজন করতে বলেছেই কেবল কালকের ঐ ট্রমা থেকে নাবীহাকে বের করার জন্য। আশাকরি মায়ের এই বুদ্ধির ফলাফল উত্তম‌'ই হবে।


চলমান....


লেইট নাইট গিফট 😬

প্লিজ বেশি বেশি কমেন্ট করবেন, আপনাদের মজার মজার কমেন্ট পড়তে উৎসুক হয়ে বসে থাকি।😞

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ