#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৮১
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
গা কাঁপানো জ্বর আর গুটি বসন্ত নিয়ে নিজ গৃহে ফিরেছে তাইফ। এমনিতেই লাল টুকটুকে ফর্সা শরীর যা এখন গুটি বসন্তের কারণে আরও রক্তিম হয়ে উঠেছে।
মাদ্রাসার বড় হুজুর যখন ফোন করে নাসিফকে জানালো কথাটা,নাসিফের তখন হাত পা জমে যাওয়ার মতো অবস্থা। এমনিতেই ছেলেটাকে বাড়ির বাইরে রাখায় সে বেশ দুশ্চিন্তায় থাকে। চারদিকে নানা দুঃসংবাদ শোনা যায়।এইতো কিছুদিন আগেই খবরের কাগজে পড়লো,
‘রাঙ্গুনিয়ায় একটি মাদ্রাসায় চার শিশু বলাৎকার।’
আবার একদিন ফেসবুকের নীল পাতায় দেখলো দীর্ঘদিন দৈহিক হেনস্থা এবং বলাৎকারের শিকার শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি অভিমান নিয়ে আত্মহত্যা । যার অভিমানের কারণ বলে তার পরিবারের দাবী হলো,‘ ছেলে আমাদের বলেছিলো কিন্তু আমরা তার কথা বিশ্বাস করিনি।'
এসব খবর নাসিফকে বেশ চিন্তিত রাখে।বড্ড আদরের সন্তান তার এটা।কেউ যদি চার ছেলে মেয়ের মাঝে কখনো তাকে ভাগ করে একজনকে নিতে বলে, নিঃসন্দেহে সে তার তাইফকে নিবে। মানুষের ধারণা বাবা মা সব সন্তানকে এক চোখে দেখে, একরকম ভালোবাসে। কিন্তু না।এটা একটু খানি হলেও কোথাও না কোথাও মিথ্যা প্রমাণ হয়।নাসিফ এটা বিশ্বাস করে,সে তার চার সন্তানের মাঝে তাইফকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।তাইফের জন্য নাসিফের বুক বেশি পুড়ে।তাইফের অনুপস্থিতিতে তার অন্তর খা খা করে।সেই আদরের ধনের এমন কাহিল অবস্থা দেখে নিজের চোখের বাঁধ আটকে রাখতে পারলো না। অতটুকু,ঐ দশ বছরের ছেলের সামনেই হুহু করে কেঁদে দিলো।গুটি বসন্ত যে ছোঁয়াচে রোগ তা সে বেমালুম ভুলেই বাচ্চাটে কোলের মধ্যে টেনে নিলো।জ্বর আর বসন্তের কারণে লাল হয়ে ফুলে যাওয়া গালে কপালে একের পর এক চুমু দিলো যার সঙ্গে তার নয়ন গড়িয়ে টপ-টপ করে বর্ষন হতে থাকলো।
তাইফও এতদিন পর বাবাকে এই সময়ে কাছে পেয়ে ঠোঁট ভেঙে কাঁদতে আরম্ভ করলো।তার সারা শরীর বেদনায় ছেয়ে যাচ্ছে। পুরো শরীর জুড়ে থাকা লাল লাল দানাগুলো তাকে ভীষণ পীড়া দিচ্ছে।তার সঙ্গে বন্ধুদের দুরত্ব।এই অসুখের কারণে হুজুর তাকে আলাদা একা ঘরে শুইয়েছে।সে একা ঘুমাতে ভয় পায়।একা তো কখনো ঘুমায় না।তাও আবার বাতি বন্ধ করে।
তার ভাইয়াও তো বাতি জ্বললে ঘুমাতে পারে না কিন্তু তারপরেও তার জন্য সারারাত ডিম লাইট জ্বালিয়ে রাখে। মসজিদেও সবার যেখানে একত্রে শোয়া হয় সেখানে একটা ডিম লাইট জ্বালিয়ে রাখে সারারাত কিন্তু তাকে যেই ঘরে একা রাখা হয়েছিল সেখানে তো ডিম লাইট নেই।সে ভেবেছে বাবাকে বলবে ঐখানে একটা লাইট লাগিয়ে দিতে। একটা ভালো ফ্যানও নেই, ছোট্ট একটি জালি ফ্যান,তা দিয়ে যত না বাতাস বের হয় তার চেয়েও বেশি ক্যাটর ক্যাটর শব্দ করে যা তাকে একটুও ঘুমাতে দেয় না।
তারপর অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সব বন্ধুদের দুরে রাখছে হুজুরেরা।তাইফের সাথে কেউ খেলতেও আসেনি।খাবারও দিচ্ছে যা তা।তাইফ শুনেছে সেদিন গোরুর গোস্ত রান্না করা হয়েছিল কিন্তু তাইফকে দেয়নি। উল্টো তাইফকে দিয়েছিলো করলা সিদ্ধ, তাদের মসজিদের পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা মোটা নিম গাছের ডাল থেকে নিম পাতা ছিঁড়ে এনে সিদ্ধ করে সেটা খেতে দিয়েছিলো।তাইফ নিজ চোখে দেখেছিলো সে পাতা ছেঁড়ার কাহিনীটা।
জ্বর,ব্যথা, বন্ধুদের থেকে দুরত্ব, হুজুরদের একা করে দেওয়া সবকিছু মিলিয়ে বেদনায় ছেয়ে গেছে তাইফের অন্তর। ঠোঁটের কাছে যেথায় একটা কুচকুচে কালো তিল সেথায় তার পাশেই লাল সাদাটে হালকা পুচ বের করে মাথা উঁচিয়ে তাকিয়ে আছে ইয়া বড় একটা বসন্তের দানা। ঠোঁট ভেঙে কাঁদার কারণে সেখানে টান লাগছে।যা বেশ যন্ত্রনাদায়ক তার সঙ্গে ময়লা বেরিয়ে আসলো।নাসিফ নিজেকে সামলে ছেলের মাথাটা নিজের বুকে ঠেকিয়ে পাঞ্জাবির পকেট হাতড়ে টিস্যু বের করে পরম আদরে ধীরে ধীরে তা মুছে দিলো।মাথার চুলের উপর ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো,
“ বাবা চলে এসেছি,এখনই তুমি নিজ বাড়িতে যাবে। ইনশাল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে।"
তাইফ কোন প্রত্যুত্তর করেনি।কেবল শক্ত করে দু হাতের বেষ্টনীতে বাবার শক্তপোক্ত ভারী কোমরটা চেপে ধরে রেখেছে।নাসিফও ছেলেকে ওভাবেই রেখে সামনে দাঁড়ানো লম্বা সাদা দাড়ী ওয়ালা জুব্বা পরিহীত বড় হুজুরের উদ্দেশ্য বললো,
“ আসি আজ তাহলে। দোয়া করবেন আল্লাহ যেন দ্রুত সুস্থ করে দেয়।"
“ ফি আমানিল্লাহ্। আল্লাহ মালিক ভরসা ইনশাআল্লাহ দ্রুতই হাফেজ সাহেব সুস্থ হয়ে উঠবেন।"
“ আল্লাহ ভরসা।
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম!
_ বাবা হুজুরকে সালাম দিবে না?"
“ হুম!"
বলেই তাইফ নিজের মাথাটা ঘুরিয়ে হুজুরের দিকে তাকিয়ে সালাম দিলো এরপর বিদায় নিলো।
চালক গাড়ী থেকে নেমে এর মধ্যেই তাইফের ব্যাগপত্তুর ব্যাক সাইডে রেখেছে। কতদিন থাকা লাগে তাতো নির্দিষ্ট নয়।তাই মোটামুটি নিজের সবই গুছিয়ে নিয়েছে তাইফ বন্ধুদের সাহায্যে।সে একটু মাথাটা তুলে বিল্ডিংয়ের ছয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধুদের দেখলো,তারাও হাত নাড়িয়ে অসুস্থ বন্ধুকে বিদায় জানালো।
এরপর বাবার গা ঘেঁষে হেঁটে গিয়ে উঠলো নিজের কালো পাজেরোতে।তার শরীরটা একটু টলছে।তাই নাসিফও ছেলেকে শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে।
লম্বায় দশ বছরের তাইফ এখনই বাবার কাঁধের নিচে পড়ে।নাসিফ একটু মুচকি হাসলো তা দেখে। সুদর্শন এই বুদ্ধিদীপ্ত এই বালক তার বাবা ভাইকেও হারাবে সব দিক থেকে।
দুপুরে খবর আসায় নাবীহা আজ স্কুলে যায়নি।তার অতি আদরের ছোট ভাইটার এত বড় একটা অসুখ বেঁধেছে তাই সে ভীষণ চিন্তিত।নামাজে বসে বেশ কান্নাকাটি করছে ভাইয়ের সুস্থতার জন্য। যদিও আফিয়া এর জন্য একটু বকাঝকা করেছে।মেয়েটা পড়াশোনা নিয়ে সিরিয়াস কিন্তু মাঝে মাঝে এমন হঠকারিতা করে যা তার একদমই সহ্য হয় না। এদিকে নাইফ মায়ের বকুনি হজম করেও একটা নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পড়াচ্ছে।এতে সাপোর্ট পেয়েছে মামুর।মামু মা আর বাবাকে বুঝিয়েছে টিউশনির সুবিধা। মোটামুটি ভালো একটা সম্মানি সে পায়।তা দিয়েই তার হাত খরচ চালাচ্ছে সে।এখন বড় হয়েছে, বাবা-মায়ের থেকে পকেটমানি নিতে ইগোতে বাঁধে।যদিও মাস শুরুতেই বাবা তার মোবাইল একাউন্টে মাঝারি একটা এমাউন্ট ঢুকিয়ে দেয়।কখনো সখনো মায়ের সাথে মার্কেট,বাজারে গেলেও দুই চার টাকা বখসিস হিসেবে পারিশ্রমিক মিলে। কখনো কখনো ফুফুও হুট করেই না বলেই তার মোবাইলে টাকা পাঠিয়ে চমকে দেয়।
এই টুকটাক আয় দিয়েই নাইফ নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন, বন্ধু মহলকে সামলানো,ছোট ভাইবোনদের জন্য এটা-ওটা কেনা সবই করে।দাদীর ইদানিং পানের প্রতি ভালোবাসা জমেছে,বাবা বকুনি দেয় তার জন্য কিন্তু নাইফ লুকিয়ে লুকিয়ে খিলি পান কিনে নিয়ে যায় দাদীর জন্য।
আজ নাইফও টিউশনে যায়নি। একমাত্র ছোট ভাইটার এমন অসুস্থতার কথা শুনেই সে জমে গেছে।তাইফটা এমনিতেই ঠান্ডা জ্বরে বেশি ভুগে তার মধ্যে হয়েছে গুটি বসন্ত।তার, নাবীহারও হয়েছিলো তাই ভালোই বুঝে ভাইটার এখন কেমন লাগছে।
দরজা খুলেই অসুস্থ ছেলেকে দেখে আফিয়া আঁতকে গেলো। গোলগাল ফর্সা মুখটা ফুলে একদম মিষ্টি কুমড়োর মতো বড় হয়ে গিয়েছে।বড় বড় ডাগর ডাগর চোখ তার ছেলের তা এখন ফুলে চারদিক চেপে একটু খানি হয়ে গিয়েছে।কান দুটোয় ফাঁকা জায়গা নেই,এত বড় বড় দানা হয়েছে।আফিয়া মাতৃসুলভ আচরণে ঝরঝর করে কেঁদে দিলো,তার সঙ্গে পা চালিয়ে দরজার বাইরে বেরিয়ে বললো,
“ আল্লাহ মাফ করো।আমার বাজানের এই কি অবস্থা হয়েছে আল্লাহ!"
তাইফ মায়ের ছোঁয়া পেয়ে ঠোঁট ভেঙে কেঁদে দিলো, কান্নাজড়িত কন্ঠেই ডাকলো,
“ আম্মা!"
“ হ্যা আম্মা।এইতো আম্মা আছি তোমার কাছেই।
আফিয়া ছেলেকে বুকের সাথে চেপে ধরে স্বামীর দিকে চেয়ে বললো,
“ এই অবস্থা হয়েছে ছেলেটার,উনারা এতদিন কেন বলেনি! কিসের জন্য অপেক্ষা করছিলো!"
ছেলের জন্য মায়ের দুশ্চিন্তা অনুভব করে নাসিফ বললো,
“ শান্ত হও।উনারা নিজেদের মতো চেষ্টা করেছে সেবা করে সুস্থ করার।কাল রাতেই নাকি ছেলের জ্বর বেশি উঠেছিল তাই আজ ফোন করলো!"
“ হ্যাঁ যতসব গা ছাড়া কথাবার্তা। ছেলেটার দিকে তাকানো যাচ্ছে না।"
বলেই ঐ দশ বছরের ছেলেকে কোন ভাবে যেন কোলেই তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলো। এভাবেই ছেলেকে ঘরে ঢুকালো।নাইফ,নাবীহা আর ছোট্ট তুহিও ভাইয়ের দিকে ছলছল চোখে চেয়ে আছে।তুহি ছুটে এসে ভাইকে ধরার চেষ্টা করেই বললো,
“ছুট ভাইয়া!"
তুহিকে আসতে দেখেই আফিয়া তাইফকে আড়াল করে নিয়ে বললো,
“ তুলতুল বোনকে সরাও। নিজের কাছে আঁটকে রাখো।"
তুলতুল মায়ের কথায় অবাক চোখে তাকালো,কারণ অনুসন্ধান করতে চেষ্টা করতেই দেখলো নাইফ গিয়ে ছোট বোনকে কাঁধে তুলে নিয়ে বলছে,
“ ছোট ভাইয়া অসুস্থ, তুমি তাকে এখন ধরতে পারবে না।ব্যথা পাবে ভাইয়া।"
তুহিকে নাইফ আঁটকে নিলেও তাইফকে পারলো না।সে মায়ের কোমরের থেকে একটু খানি উঁকি দিয়ে ভাই-বোনের দিকে অসহায় চোখে চেয়ে রইলো, অতঃপর বললো,
“ আমার কাছে এসো না তুহি। তাহলে তোমারও হবে!"
তাইফের কথায় কি ছিলো কে জানে,তার বয়স্ক দাদীও ফুঁপিয়ে উঠলো।তিনি সোফার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন,
“ চিন্তা করো না দাদু ভাই। তুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে তারপর ভাই বোনদের সাথে খেলতে পারবে!"
“ ছেলেকে ঘরে নিয়ে গিয়ে পোশাক বদলে একটা পাতলা কাপড় দিয়ে রাখো গায়ে। কতক্ষন এগুলো পরে থাকবে?"
“ হ্যা যাচ্ছি!"
ছেলেকে আড়ালে রেখেই তার ঘরে নিয়ে গেলো। মায়ের পিছু পিছু গেলো নাবীহা,নাইফ,তুহি।একটা গেস্ট রুম গোছানো হয়েছে অসুস্থ ছেলের জন্য।বেশ রোদ আসে এই ঘরের জানালটা খুলে দিলে।
মা ভাইকে পরিষ্কার করে পাতলা একটা পুরানো সুতি ওড়না মা ভাইয়ের গায়ে ছড়িয়ে দিয়ে বললো,
“ মা এখনই আসছি, খাবারটা নিয়ে আসলেই খেয়ে নিবা। একদমই দুষ্টুমি করবে না। ঠিক আছে!"
তারিফ ভদ্র বাচ্চার মতো মাথা দুলালো।
আফিয়া দরজার দিকে ফিরতে দেখলো আটজোড়া চোখ এদিকেই করুন চোখে চেয়ে আছে।স একবার তাদের দিকে এবং একবার ছোট ছেলের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
“ ভাইয়া অনেক ব্যথা?"
তুহি জানতে চাইলো ভাইয়ের কাছে।তাইফ নিজের দুর্বল কিন্তু ভারী মস্তক উপর নিচ দুলিয়ে উত্তর করলো,
“ হুম!"
“ তাইফ কাদিস না।আমি তোর খেলনা সব এখানেই সেট করে দিয়ে যাবো। দাঁড়া আমি আসছি!"
বলেই নাইফ নিজেদের ঘরের দিকে পা ফেরালো,তুহিন বড় বোনের হাতের মুঠোয় নিজের হাত দেখে সাহস করলো না ছোট ভাইয়ের কাছে যাওয়ার। এদিকে নাবীহা ছলছল চোখে ভাইকে দেখছে।তার গাল ভেজা। নিশ্চিত কেঁদেছে।তাইফ গুটুলি গুটলি চোখে চেয়ে বড় বোনকে বললো,
“ বুবুন তুমি কেঁদো না আমি তোমার জন্য ক্লে আনতে পারিনি তো কি হয়েছে,ভাইয়াকে বলবো যেন তোমাকে ক্লে এনে দেয়!"
“ আমার ক্লে লাগবে না তাইফ। তুমি তাড়াতাড়ি ভালো হয় যাও বুবুন সেটাই চায় খালি!"
“ আম্মু বলেছে আমি দুষ্টুমি না করলে তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবো!"
নাইফ আসলো, হাতে করে নিজের ট্যাব নিয়ে আসলো। নিজের কোমরে দিকে তাকিয়ে কোমর ছুঁই ছুঁই ছোট পিচ্চি বোনের দিকে চেয়ে বললো,
“ তুহি একদম এই ঘরে ঢুকবি না।"
বলেই সে পা বাড়িয়ে দ্রুত ভাইয়ের কাছে গিয়ে ট্যাবটা বিছানায় ভাইয়ের পায়ের পাশে রেখে বললো,
“ ভাইয়ার ট্যাব। তোমার সব ফেবারিট গেইম ডাউনলোড করাই আছে। এগুলো দিয়ে খেলতে পারবা।আর.."
বলেই নাইফ ভাইয়ের কপাল ছুঁয়ে দিলো,মাথা ঝুঁকিয়ে ঐ ফোলা, এবড়োখেবড়ো ঘাঁ ওয়ালা কপালেই নিজের গোলাপ মাখা গোলাপী সিক্ত নরম ঠোঁট ছুঁয়ে আদর দিয়ে বললো,
" ভাইয়া আছি আশেপাশেই। তোমার যা ইচ্ছা করবে ভাইয়াকে কল করলেই দৌড়ে আসবো। কিন্তু তাও তুমি বাইরে বেরিও না। অসুস্থ বেড়ে যাবে; বুঝেছো?"
” হুম!"
তাইফ সুবোধ বালকের ন্যায় মাথা দুলিয়ে সম্মত হলো। অতঃপর তাইফ বড় বড় চোখে বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
“ কিন্তু এটাতো তোমার ট্যাব, ধরলেই তো বকা দেও?"
ভাইয়ের কথায় নাইফ ঠোঁট এলিয়ে হাসলো,তাইফ ভাইয়ের হাসির কারন না বুঝলেও তার কথায় কেন হাসছে তাতে গাল ফুলিয়ে ভাইয়ের দিকে করুন চোখে তাকিয়ে থাকলো।নাইফ ছোট ভাইয়ের অভিমান ঠাওড় করে ঠোঁট চেপে নিজের হাসি থামিয়ে বললো,
“ হুম,আমারই।তবে অসুস্থকালীন তোমার। তুমি এটা দিয়ে এই কয়দিন খেলার অনুমতি পেলে!
_খুশি?"
“ হুম!"
বলেই তাইফ ভাইকেও জড়িয়ে ধরলো।নাইফ ছাড়ালো না। বরং অতি স্নেহে আরও নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।
“ কি হচ্ছে এখানে? নাইফ আমি বারন করেছি তারপরেও কেন?"
“ আম্মু প্লিজ!"
নাইফ জানে মা কেন এমন করছে তাও! সে মায়ের দিকে চেয়ে অনুরোধ করতেই আফিয়া থেমে গেলো।সে জানে তার বাচ্চাদের মধ্যে কতটা শক্তিশালী বন্ধন। কিন্তু সেও তো মা। তাকে সবার কথাই ভাবতে হবে, হচ্ছে! নয়তো এভাবে ভাই বোনকে দুরে দুরে কেউ রাখে?
চলমান....







0 মন্তব্যসমূহ