সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৮৫

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_৮৫



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


ভর দুপুর, তপ্ত গা জ্বলসে দেওয়া রোদের ঝিলিক বারান্দার শিক ছুঁয়ে আঁছড়ে পড়েছে ভেতরে।তার মধ্যেই দাঁড়িয়ে গাছের মরা পাতাগুলো সরিয়ে ফেলছিলো আফিয়া,কাল রাতে বাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে মধ্য রাত কভার! সাভার থেকে আসতে তো আর কম সময় লাগে না! এর মধ্যে আবার মুনমুনকে তার বাড়িতে ছেড়ে দিয়েছে।অত রাতে একা মেয়ে মানুষ ছাড়া যায়? 


তার মধ্যে যেই জ্যাম! এ দেশের সব কমবে,শেষ হয়ে বিলিন হয়ে যাবে হয়তো শুধু রয়ে যাবে যানজট।নয়তো অত রাতেও যানজটের কারণে গন্তব্যে যেতে দেরি হয়!এক গুলিস্তান পেরিয়ে এদিকে আসতেই সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয় মানুষের।

রাতে এসে বাচ্চাদের গুছিয়ে নিজেরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে হতেই ফজরের আযান পড়ে গিয়েছিল।নামাজ না পড়ে তো আর শোয়া যাবেনা! তারাও শোয় নি। অবশ্য বড় ছেলেটাও সজাগ ছিলো।

নামাজ পড়ে কোরআন শরীফ দু এক পাতা তেলাওয়াত তারপর তারা বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছিলো।এত কিছুর মাঝে ভুলেই গিয়েছিল তাহমিনার বলা কথা।

রাত জেগে থাকায় ঘুম থেকে উঠতে ঢের দেরি হলো।গা ম্যাজ ম্যাজ করছে।তাও তো, নারীদের কি রেস্ট আছে! তাদের ম্যাজ ম্যাজ করুক আর যাই করুক,সংসারের হাল তাকে ধরে রাখতেই হবে।


ঘুম থেকে উঠে সংসারের টুকটাক কাজ করে যখন‌ই একটু অবসর মিললো ঠিক তখনই মনে পড়লো তাহমিনার বলা কথাটা। দৌড়ে নিজের ফোনটা খুঁজতে গেলো,খেয়াল করলো রাতে তার ব্যাগ থেকে বের‌ই করা হয়নি।তাই ব্যাগ হাতড়ে ফোন বের করে পাওয়ারে এক চাপ দিয়ে ফ্ল্যাশ জ্বেলে নিলো। অতঃপর লক খুলে মেসেজিং অপশনে ঢুকলো।


একটা ছবি; সঙ্গে ছোট করে লেখা, ‘ তাজিম এবং মিসেস তাজিম ' আফিয়ার ভ্রু কুঁচকে এলো।হাত পা কাঁপছে,কি সব কথা এটা? এটা কেমন করে! আফিয়া ভাবলো না আর।উপরের দিকে তাকিয়ে কল চিহ্নিত অংশে চাপ দিতেই অপর দিকে ডাক চলে গেলো। সেকেন্ডের মধ্যেই গ্রহীত হলে অপরদিক থেকে ভেসে আসলো,


“ হ্যালো!"


আফিয়াও উত্তরে বললো,


“ হ্যাঁ আসসালামু আলাইকুম,এ্যাই এইসব কি?"


“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম,কোনসব কি?"


“ তুই এই ফটো আর কি সব লিখছিস এগুলো? এইটা ওর ব‌উ কি করে হয়?"


“ এটাই ওর ব‌উ!"


“ মানে যা-তা, না! আমি ওর ব‌উ দেখিনি? ও নিজেই গদগদ হয়ে নিজের অপ্সরাকে দেখিয়ে গিয়েছিল।সেই মুহুর্ত কোনদিন ভুলিনি।ভুলবো‌ও না।

_তবে হ্যাঁ ওর ব‌উ আসলেই অপ্সরা ছিলো।"


“ ছিলো তো বাবা,এখন নাই।এখন এটাই ওর ব‌উ!"


“ আরে কিভাবে,ধুর এইটা ওর আপন মামাতো ভাইয়ের ব‌উ,আমি খুব ভালো করেই চিনি, এবং সেও আমাকে চিনে!"


“ হ্যাঁ সেই জন্য‌ই কাল তোমার মুখোমুখি হয়নি। পাছে লজ্জা না পায়,যদিও তোমার কাছে তার লজ্জার কারণ নেই কারণ সে তো আর কোন অন্যায় করেনি,সে পরিস্থিতির শিকার?"


“ মানে? কি হয়েছে? একটু খুলে বলবি? আমার তো মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে!"


“ যা হ‌ওয়ার তাই হয়েছে,পাপের শাস্তি সবাই পায়,পেতেই হয়। এখানেও ব্যতিক্রম ঘটার সুযোগ নাই।"


“ তোর তাত্ত্বিক কথা বাদ দিয়ে আসল কথা বল!"


“ তাজিম ঠিক যেই কারণ দেখিয়ে তোকে ছেড়েছিল ঠিক সেটাই তার সঙ্গে ঘটেছে!"


“ মানে ওর ব‌উ.!"


“ উহুম,ও নিজেই।"


“ মানেহ!ও !"


“ হ্যাঁ,ও নিজেই অক্ষম! "


আফিয়ার যেন গা জমে গেল,কি শুনছে এসব! তাজিম! না না ও ভুল শুনছে।এটা কিভাবে! আর তাহলে বাচ্চা দুটো!

আফিয়ার নিরবতায় বিরক্ত হয়ে তাহমিনা বললো,


“ এত শোক পালনের কি হলো,হতেই পারে।তোর সাথে হয়নি?"


“ তাই বলে ওর সাথে.."


“ শোন ওর মা'কে তো চিনিস‌ই, ভদ্র মহিলা মারা গিয়েছেন, আল্লাহ বেহেশত নসিব করুক,দোয়া করি। কিন্তু মনে হয় না করবে! যেই বজ্জাত ছিলো।"


“ আহ্ তাহমিনা, এভাবে বলতে হয় না মৃত মানুষকে নিয়ে। তাছাড়াও উনি যা করেছেন মায়েরা তাই করে। মায়েদের তো সবার আগে নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হয়,ভালো থাকা নিয়ে ভাবতে হয়, সেখানে অন্যের কষ্ট দেখার সময় হয় না।নিজেরা মা হ‌ওয়ার পর তো এটা খুব ভালো করেই বুঝি! তাই আমি এখন আর উনাকে দোষারোপ করি না।উনার জায়গায় আমি থাকলে হয়তো আমিও এক‌ই কাজ করতাম!"


“ তা ঠিক কিন্তু তারপরেও।একটু বেশি বেশিই!"


“ তুই আমাকে একটু খুলে বল তো সবটা, আমার কেমন উদ্ভট লাগছে ব্যাপারগুলো!"


“ শোন,তাজিমের মায়ের ধারনা তাজিম বিয়ের পরেও তোর প্রতি দূর্বল ছিলো যদিও এটার কোন কারণ নেই কারণ সত্যি বলতে মায়ের চাপে বিয়েতে রাজী হয়নি তাজিম,সে রাজী হয়েছিল মেয়ের রুপ দেখেই।ঐ অপ্সরার রুপে তাজিম হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সব ভুলে গিয়েছিল,তার বিবেক লোপ পেয়ে বসেছিল তাই সে বিয়ে করেছিল কিন্তু তারপরেও মহিলার ভেতরে খচখচানি রয়ে গিয়েছিল তাই ব‌উকে চাপ দিতো তাড়াতাড়ি বাচ্চাকাচ্চা নিতে।বছর গড়ানোর আগেই বাচ্চার জন্য পাগল বানাচ্ছিলো কিন্তু বছর দুইয়ের মধ্যেই যখন কোন খবর পায়নি তখন তার মাথায় ঢুকে তোর কথা।তোর বাচ্চা হয়নি বলেই তো তোকে ছেলের জীবন থেকে সরালো। কিন্তু এখন তো তার পুত্রবধূর‌ও কোন খবর নাই,এমন তো নয় যে তার ছেলের ব‌উয়ের‌ও। ঘটেও তাই। নিয়মিত প্রচেষ্টার পরেও যখন সুখবর পাচ্ছিলো না,মায়ের চাপাচাপিতে তাজিম ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে বাধ্য হয় এবং মেডিক্যাল তথ্যানুযায়ী তার স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সন্তান ধারণে সক্ষম কিন্তু... মিস্টার তাজিম নিজেই অসুস্থ এবং তার সন্তান জন্ম নেওয়ার চান্স জিরো কারণ ? তার শারীরিক সমস্যা আছে, যদিও তা ফ্ল্যাশ করেনি তবে যতটা জানি মেডিকেল সাইন্সের হিসেবে পুরুষের স্পার্মের সংখ্যা এবং অস্বাভাবিক গতির কারনেই মূলত সমস্যার সৃষ্টি হয়,এতে অনেক সময় অন্ডকোষ বড় হয়ে যায় যেটাও পুরুষ বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী,কখনো হার্নিয়ার থলিতে সমস্যা হলে, কখনো অন্ডকোষ দেহের ভেতরে থেকে গেলে,এমন অনেক সমস্যার কারণেই হয়।এখন তাজিম সাহেবের আসল সমস্যা সম্পর্কে তো জানা যায়নি মানে আমি জানি না কিন্তু তার ফলাফল হয়েছিল ভয়াবহ। যেহেতু তার মা তার ব‌উকে বাচ্চার জন্য অনেক চাপ দিয়েছিলো এবং শেষে দেখা গেলো তার‌ই সমস্যা তাই তার ব‌উকে তার শ্বশুর বাড়ির লোক রাখেনি।

এবং তোর সাথে মোটামুটি বিয়ে ফিক্সড ছিলো, তুই অসুস্থ হয়ে যাওয়াতে বিয়ে ভেঙে অন্যত্র ছেলেকে বিয়ে করায়,সে অমানবিক, উন্মাদ এসব বলে সে ব‌উ চলে গিয়েছে।যদিও এখানেও বলবো এটাও একটা বাহনা। কেন সে একজন বাজা পুরুষের সঙ্গে জীবন শেষ করবে? তাই চলে গিয়েছে।

তারপর আর কি? তাজিমের মা একমাত্র পুত্রের এমন শোকে বিমূঢ় হয়ে শয্যা নেয়, কষ্টে না লজ্জায়।"


আফিয়া চুপ করে শুনলো।কোন কথা বললো না।কেমন জানি মাথা ঘুরতে থাকলো তার।কি শুনলো?আফিয়া নিরবতাকে তোয়াক্কা না করে তাহমিনাই আবার বলতে আরম্ভ করলো,


“ এর মধ্যেই ওর মামাতো ভাই মারা যায় বাইক এক্সিডেন্ট করে, যাওয়ার সময় আড়াই বছরের এক ছেলে সন্তান এবং স্ত্রীর গর্ভে তিন মাসের এক সন্তান রেখে যায় নিজের স্মৃতি হিসেবে।

ভাইপো শোকে কাতর হ‌ওয়ার চেয়েও বেশি কাতর হয়ে এই ভেবে বাচ্চাদের কি হবে? তখন‌ই ভদ্রমহিলার মাথায় খেলে যায় দুর্দান্ত খেলা।তার পুত্র আজীবনের জন্য সন্তানহীন থাকবে কেন,সে ভাইপোর রেখে যাওয়া বিধবা ব‌উ আর দুই সন্তানের দায়িত্ব নিতে তার ছেলের সাথেই বিয়ের প্রস্তাব দেয় তার ভাইকে।

_ শুনেছি তার ভাই নাকি রাজী হয়নি। কিন্তু কিভাবে কিভাবে পরে যেন রাজী করিয়ে,ঐ ব‌উয়ের বাবা মা'কে রাজী করিয়ে বিয়া করায়।একসাথে দুটো পাখি মারছে,এক ছেলের বাচ্চার অভাব মিটিয়েছে,দুই ভাইয়ের সম্পত্তির ভাগ নিজের ছেলের দিকে ভাগিয়ে আনছে।জাস্ট ভাব কি বুদ্ধিমান ছিলো মহিলা!"


“ কি সব বলছিস? আমার তো মাথা ঘুরাচ্ছে; তাজিম! তাজিম বাচ্চা সহ বিয়ে করেছে? ভাই তাজিম বাচ্চা দত্তক নিতেই রাজী ছিলো না।সে নিজের জন্ম দেওয়া ছাড়া যারতার বাচ্চা কেন মানুষ করবে? এটা তার লজিক! সেই তাজিম ভাইয়ের বিধবাকে কিন্তু! আসলে এখানে তো ব্যাপারটা ভাইয়ের, মানে সে সব জানেই।

যাক আল্লাহ মালুম প্রকৃত সত্য কি!"


“ হ্যাঁ আল্লাহ‌ই মালুম কিন্তু সত্যকে সত্য বলে মানতেই হবে। বাস্তব তো এটাই সোনা।"


“ আল্লাহ কি সব হয়েছে এগুলো। আমার ভীষণ খারাপ লাগছে শুনেই।আর ও তো সাফার করেছে, তাহলে ওর কেমন লেগেছিল!"


“ এ্যাই তোর জামাই ক‌‌ই? ঘরে নাই?"


“ হ্যাঁ ঘরেই , ঘুমাচ্ছে রে!"


“ তুই কোথায়?"


“ আমি বারান্দায়।"


“ বাহ্ বাহ্, স্বামীকে ঘরে শুইয়ে রেখে এসে উনি প্রাক্তনের কষ্টে কষ্টিত! কি সাহস মহিলার!

এ্যাই ভাইয়া শুনলে তোকে দিবে না কয়টা?"


“ উহুম,সে সব জানে।তার কাছে আমার লুকায়িত কিছু নেই।সবটাই ওপেন।"


“ কবে বলেছিস?"


“ বিয়ের সময়‌ই,সব জেনেই সে আমাকে আপন করেছে।সত্যি বলতে আমি এই মানুষটার প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ রে! কতটা ভালোবেসে,যতনে আদরে সে আমাকে রেখেছে তা কাউকে বলে বোঝাতে পারবো আর সত্যি বলতে আমি চাইও না।

আমার ভেতরের দগদগে ঘাঁ টা সে কতটা যত্ন দিয়ে সেড়েছে তা আমি বলে বোঝাতে পারবো না,তার কারণেই আমি জঘন্য অতীত থেকে বেরিয়ে সুন্দর একটা সংসার উপভোগ করছি। সত্যি বলতে আমি এখন মনেই করতে পারি না তার আগেও জীবনে কেউ ছিলো।সে আমাকে আমার অস্তিত্বের চারদিকে নিজের ভালোবাসার চাদর দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে,তার উষ্ণ ছোঁয়া, আলতো আদরে আমি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্য নারী মনে করি।একটা জীবনে এমন সঙ্গী পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের।আমার আল্লাহর কাছে জীবনে যত অভিযোগ ছিলো সব মুছে গিয়েছে এই মানুষটাকে আমার জীবন দেওয়ার জন্য।"


“ আলহামদুলিল্লাহ, শুনে খুব ভালো লাগছে। অবশ্য আমি কাল‌ই অনুমান করেছিলাম, ভাইয়া তোর প্রতি ভীষণ যত্নশীল।কতটা ভালোবাসলে পরে এত যতন করে রাখা যায় তা একটু হলেও বুঝি। আল্লাহ তোকে এভাবেই সবসময় সুখে রাখুক,ওসব আজাইরা স্বার্থপরদের কথা মনে রাখবি না।"


" অত সময় ক‌ই? সংসার,চার বাচ্চার যত্ন,বাবা মায়ের যত্ন,তার সেবা,তার আদর নামের অত্যাচার সহ্য করে নিজের জন্য একটু অবসর পাই না।আর কবেকার কি কথা মনে রাখবো? আমি তোর ভাইয়ার থেকে ফুরসৎ পেলে তো!

সে যেভাবে আমাকে পেঁচিয়ে রাখে,ঘরে থাকলে আমি এখনো তাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকি, বাচ্চারা বড় হচ্ছে, কয়দিন পর ছেলে বিয়ে দিবো এল লোক তাও বুঝে না।তার কথা আমি তার চোখের সামনে থাকলেই তার শান্তি,আর কিছু করা লাগবে না।ভাব এবার!"


আফিয়ার কথায় তাহমিনা উচ্চ শব্দ হেঁসে উঠলো,হাসতে হাসতেই বললো,


“ বাহ্ ভাইয়া তো বেশ রোমান্টিক!"


“ হ্যা, রোমান্স তার এখন বেঁয়ে জল বেঁয়ে পড়ে, পঞ্চাশ বছর হয়ে গেলো তাও।"


“ এমন মানুষ আসলেই ভাগ্যে জোটে। মনের যতন কজন করে বল?"


“ হ্যা!আমার মন,দেহ সব‌ই তার দখলে, তাকে ছাড়া আমি কিছু না।

এই মনটা তার‌ই, সেখানে অন্য কাউকে মনে করে মন খারাপ করার সময়‌ও নেই আর ইচ্ছেতো নেই'ই।

আমার মনটা তার কাছেই যতনে আছে!"


“ আমি ছাড়া কার কথা মনে করে আপনি মন খারাপ করবেন বলে ভাবছেন?"


আফিয়া বারান্দার শিকে হাত রেখে বাইরের দিকে তাকিয়ে কথা বলছিলো,নাসিফ পেছন থেকা এসে পেটে হাত রেখে নিজের  সাথে চেপে ধরে রাখলো,আফিয়ার ঘাড়ে নাক ঘষে কথাটা বললো,

আফিয়া শিরশিরিয়ে উঠলো।মুখ ঘুরিয়ে নিতেই তার গাল গিয়ে ঠেকলো নাসিফের নরম শুষ্ক ঠোঁটে, পরপর নাসিফ টপাটপ কয়েকটি চুমু দিলো গাল চেপে ধরে। এদিকে ফোনে তাহমিনা,সে নাসিফের কথা শুনেছে,ঘুম থেকে উঠেই যে এখানে এসেছে তা অনুমেয়, কিন্তু বান্ধবী আর তা বরের রোমান্টিক মুহূর্ত উপভোগ করতে ফোন কাটলো না।এতে আফিয়া লজ্জায় সিক্ত হয়ে উঠলো,বিরবির করে বললো,


“ কি হচ্ছে কি ? ফোনে কথা বলছি না,মিনা লাইনে,কি ভাবছে ও?"


নাসিফ আফিয়ার ঘাড়ে ছোট ছোট চুমু দিতে দিতেই বিরবির করে বললো,


“ বলো তাতে কি? তোমার কাজ তুমি করো,আমার কাজ আমাকে করতে দেও!

ডিস্টার্ব করো না!"


“ এইটা কাজ? এমন করলে আমি কিভাবে, বারান্দা এইটা,বাচ্চারা চলে আসবে!"


“ আসুক!"


“ ছা...


বলতেই ফোনের অপরপ্রান্তে হাসির রোল পড়ে গেলো।আফিয়া চট করে ফোনটা কেটে দিলো, তখন‌ই আবার ঘরে এসে ঢুকলো নাবীহা,


“ আম্মু!"


চলমান.....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ