#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৮৪
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
তাজিম গেলো না।ঐখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। কিন্তু মানুষ যা না চায় তার সাথে তাই ঘটবে,এটাই হচ্ছে প্রকৃতি অখন্ডিত নিয়ম।তাজিমের ক্ষেত্রেও তার ব্যাঘাত ঘটলো না।
যখন সব বন্ধুরা মিলে একত্রে ডিনারের জন্য বসলো ঠিক তখনই মুখোমুখি হয়ে গেলো আফিয়া আর তাজিম।তাজিম লজ্জিত আর বিব্রত আর আফিয়া!
তার অনুভূতি না বুঝেছিলো তাজিম আর নাসিফ।
হ্যাঁ নাসিফ চিনতে পেরেছিলো লোকটাকে।তার একটা ছবি আফিয়ার ডায়েরিতে ছিলো।যেটা সে খুব মন ভরে দেখেছিলো। নির্ঘাত ভদ্রলোক বেশ সুদর্শন, এবং এখনো তাই আছে।
নাসিফ মনে মনে তাজিমকে লক্ষ বার ধন্যবাদ জানায়, সহস্রাধিক কৃতজ্ঞতা জানায় কারণ আফিয়াকে তাজিম না ছাড়লে তো সে পেতো না!
তাহমিনা নিজেও বেশ বিব্রতকর অবস্থায় আছে,দুজনই বন্ধু আর দুজনেই তার একসময়ের খুব কাছের মানুষ। হ্যাঁ হয়তো পরিস্থিতির শিকার কিংবা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে আজ দুজন দু প্রান্তে। তাকেও যে কোন একজনকে বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে, নিঃসন্দেহে সেই গুরুত্বটা শুধু আফিয়াই পাচ্ছে। তাজিম আফিয়ার সাথে যা করেছে তা কোনভাবেই মানবিক কাজ নয়, না কোন প্রকৃত প্রেমিকের কাজ। প্রেমিকার বিপদের সময় কিংবা খারাপ মুহূর্তে যে হাত ছেড়ে দেয় সে আর যাই হোক প্রকৃত প্রেমিক নয়।
তবে তাহমিনাও বিশ্বাস করে আফিয়ার জন্য তাজিমের চাইতে হাজার গুণ বেশি ভালো জীবন সঙ্গী হচ্ছে নাসিফ। এক্ষেত্রে মনে মনে তাহমিনা নিজেও তাজিম কে শুকরিয়া জানায়, সে হাতটা ছেড়েছিল বলেই তো আফিয়ার মত হতভাগী আজ এত সুখী, এত বেশি স্বামী সোহাগী। জীবনের একটা লম্বা সময় দুঃখ এবং যন্ত্রণা সহ্য করার পর এই সুখ টুকু পাওয়ার যোগ্য, আফিয়া এর চাইতে বেশি সুখ পাওনা। নিশ্চয়ই আল্লাহর জন্য অনেক ভালো কিছু রেখেছে ভবিষ্যতে।
তাহমিনা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে যাতে তাজিম ও আফিয়ার মুখোমুখি হওয়াতে কোন রকমের কোন বন্ধু রসালো কোন কথায় ওদেরকে বিব্রত না করতে পারে। তাহমিনা চায় না আফিয়া স্বামী সন্তানের সামনে লজ্জাকর অবস্থায় পড়ুক আর না তাজিম স্ব-স্ত্রীর সামনে বিব্রত হোক।
মুনমুনও যথেষ্ট চেষ্টা করেছে আফিয়াকে আগলে আগলে রাখতে এবং সে নিজেও তাজিমের থেকে দূরত্ব বজায় করে চলেছে।
সরাসরি মুখদর্শন কিংবা মুখোমুখি বাতচিত খুব একটা হয়নি তবে বন্ধুদের কথার ফাঁকফোকরে দু চারটা কথার উত্তর-প্রত্ত্যুতর দূর তরফ থেকেই হয়েছে এবং সেটা খুব সাবলীলভাবে দুজন বুঝে চলেছে। কিন্তু পার্টির শেষ মুহূর্তে গিয়ে তাজিম নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে আফিয়ার দিকে এগিয়ে যায়। হয়তো না বলা কিছু কথা বলা রয়েছিল তার।
“ তো আফিয়া চলে যাচ্ছো?"
আফিয়া তুহির ফ্রক ঝেড়ে দিচ্ছিলো।মেয়েটা এত খাবারের মাঝে শুধু একটু চিকন পাকোড়া খেয়েছে তারই কিছু একটা ফেলে দিয়ে জামাটা নষ্ট করে ফেলেছে।নাসিফ বড় বাচ্চাদের নিয়ে আগেই বেরিয়ে গিয়েছে,গাড়ি বের করতে গ্যারেজ থেকে।আফিয়া ছোট মেয়েকে নিয়ে পিছিয়ে পড়েছে।তখনই তাজিম সুযোগটা কাজে লাগায়।
হঠাৎ করেই পরিচিত কন্ঠে স্বনামে ডাক শুনে চমকে যায় আফিয়া,উঠে দাঁড়ালো। বিস্ময় তার চোখে মুখে।তাজিম যে তার সঙ্গে কথা বলবে তা সে বুঝতেই পারেনি। কিন্তু তার এখন বিস্ময়ে বিহ্বল হওয়ার সময় নেই।নাসিফ যেকোন মুহূর্তে এদিকে আসতে পারে,সে কোন বিশ্রী ঘটনার শিকার হতে চায় না। মানুষের মন! কখন কি ঘটে যায় বলাতো যায় না! কে কি দেখে, কি ভেবে নিলো তাও বলা যায় না। সবচেয়ে বড় কথা স্বামীর অগোচরে পুরনো প্রেমিকের সাথে এরকম কথা বলাটা, সামাজিকভাবেও ভালো দেখায় না।
তাজিম হয়তো বুঝলো আফিয়ার মনের অবস্থাটা, তাই নিজে থেকেই সতর্ক হয়ে সবার আগে জিজ্ঞেস করলো,
“ তোমার হাজব্যান্ডের সাথেও পরিচয় করালে না? আর কিছু না হোক বন্ধু তো আমরা!"
“ হ্যালো! আ'ম নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী; এন্ড ইয়্যু?"
ঠিক নাসিফ এসে পড়ে, এবং শেষ বাক্যের উত্তরে নিজের পরিচয় নিজেই দিলো,আফিয়া আড়ষ্ট নজরে নাসিফের দিকে চাইলো,ও কেন জানি এই মুহূর্তে নাসিফকে একদমই আশা করেনি। কিন্তু চলেই তো এলো।কেমন অস্বস্তি আর বাজে অনুভূতি হচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই তাকে আরো বাজেভাবে ফাঁসাতে এলো তার বড় পুত্র,
“ আম্মু; বুড়ি কোথায়?"
আফিয়ার এখন মাথা ঘুরছে চিন্তায়, অস্থির লাগতে শুরু করলো,হাসফাস করে বুকের উপর হাত রেখে লুকিয়েই একটা শ্বাস ছাড়লো।নাইফ মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে গোল গোল চোখে দেখা সুন্দর আংকেলকে দেখা তুহিকে দেখে বললো,
“ তুহি! আসো ভাইয়া আসো।"
বলেই বোনকে কোলে তুলে নিলো।আফিয়াকে এত বড় ছেলে আম্মু বলায় তাজিম আশ্চর্যিত চোখে তাকিয়ে আফিয়াকে বললো,
“ তোমার ছেলে?"
এই কথায় নাইফও দাঁড়িয়ে পড়লো মায়ের ঘা ঘেষে।তুহি তখনও তাজিমকে দেখছে।
তাজিম নাসিফের হাতে হাত মিলিয়ে নিজের পরিচয়ে বললো,
“ আমি তাজিম, আফিয়ার ব্যাচমেট এবং ক্লাসমেট,এন্ড অলসো গুড ফ্রেন্ড!"
কথাটা বলেই তাজিম আফিয়ার দিকে চাইলো, হয়তো তার কথায় আফিয়ার প্রতিক্রিয়া কি হয় তা দেখার ইচ্ছা হলো। কিন্তু আফিয়া ভেতরে যতটাই অস্বস্তি আর অস্থিরতায় ভুগুক বাইরে সে একদম নিশ্চল নিটল!তার যেন এহেন কথায় কিংবা তাজিমের উপস্থিতিতে কিছুই আসে যায় না।
তাজিমের সাথে টুকটাক আলাপে নাসিফ এই পর্ব শেষ করতে চাইলো কিন্তু তাজিম দিলো না।সে নাসিফের সাথে আলাপ সেড়ে ব্যস্ত হলো নাসিফের ছেলে মেয়ে নিয়ে।নাইফের দিকে তাকিয়ে হাসি দিয়ে বললো,
“ তো ইয়াং ম্যান কি করা হচ্ছে? নিশ্চয়ই স্টাডি রানিং, কোথায় আছো?"
“ এইতো মামা,বুয়েটে আছি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং , দ্বিতীয় বর্ষে!"
ওহ তাই নাকি,গ্রেট।ড্রিম কি? ইন্জিনিয়ার নাকি টিচিং?"
“ ইঞ্জিনিয়ার!"
“ অল দা বেস্ট।
_ তোমার ছোট বোন?"
বলেই তুহির গালে আলতো করে ছুঁয়ে দিলো।তুহি নিজের গালে কারো হাত দেওয়া পছন্দ করে না।সে ঝট করে হাত সরিয়ে নিজের গাল ইচ্ছা মতো হাতের তালু দিয়ে ঘষতে লাগলো।তা দেখে তাজিম হেসে বলে ফেললো,
“ বাহ্ তুমি দেখছি তোমার মায়ের স্বভাব পেয়েছো!"
কথাটা বলেই সে আবারও আফিয়ার দিকে চাইলো,আফিয়াও বিস্ফোরিত বড় বড় চোখে চাইলো,নাইফ তাজিমের কথায় হেসে দিলো।আর নাসিফ! সে এই মুহূর্তে স্থান ত্যাগ করা সমুচিত মনে করে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বললো,
“ নাইফ, তুমি বোনকে নিয়ে যাও,তুলতুল একা তো!"
“ জ্বী বাবা যাচ্ছি!
_ আসি আংকেল আসসালামু আলাইকুম। আসবেন আমাদের বাসায়! আম্মু খুব খুশি হবে, আম্মুর কোন ফ্রেন্ডকেই দেখি নাই কখনো আমাদের বাসায় যেতে!"
“ তোমার আম্মু বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘরে আড্ডা দেওয়া পছন্দ করে না!"
“ তাই নাকি? কই জানতাম না তো! আমাদের তো নিষেধ করে না কখনো!"
“ আম্মু!"
বলেই নাইফ মায়ের দিকে তাকাতেই তাজিম বললো,
“ বয়স আর পরিস্থিতি তোমার আম্মুকে অনেক কিছুই মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছে!"
“ আংকেল আপনি দেখছি আম্মুর সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন।
_ একদিন সময় করে আসবেন আমাদের বাসায়, আপনাদের ছোট বেলা,স্কুলের গল্প শুনবো!"
“ ইনশাআল্লাহ, তুমিও এসো আমার বাড়িতে!
আমি গাজীপুর আছি,একটা বায়িং হাউজে। গাজীপুরে কখনো যাওয়া হয়?"
“ জ্বী, আমার খালামনির বাসা ঐখানে।"
“ খালামনি মানে..সাফিয়ার? "
“ জ্বী! আমার তো ঐ একটাই খালা মনি।"
“ ওর শ্বশুর বাড়ি কি গাজীপুরে?"
প্রশ্নটা আফিয়াকে করলো, এত সময়ের নিরবতাকে ছেদ করে আফিয়া শব্দ উচ্চারণ করলো,
“ না, ওর শ্বশুর বাড়ি চাঁদপুর। কিন্তু ওর হাজব্যান্ড গাজীপুরে ব্যাবসা করে! তাই!"
“ ওহ,ভালো। সালাহ্ কেমন আছে?"
“ আপনি নানা বাড়ির সবাইকে চিনেন?"
“ হ্যাঁ ইয়ে মানে আসলে?"
” আমিও কি বোকা, আপনারা ছোট বেলার ফ্রেন্ড। চিনতেই পারেন,তাই না বাবা!"
“ হুম!"
ছোট শব্দে নাসিফের উত্তর।আফিয়া বললো,
“ আচ্ছা তোমার বউকে নিয়ে আসলে শুনলাম,কথা হয়নি। বাচ্চারা কেমন আছে তোমার?"
স্বামী সন্তান এত কথা বলছে অথচ আফিয়া কিছু বলছে না।এটা নিশ্চয়ই ভালো দেখায় না। তাছাড়াও ছেলে,স্বামী কি ভেবে বসে তাই নিজের জড়তাকে পায়ে ঠেলে প্রশ্নটা করেই ফেললো,তাজিম উত্তরে বললো,
“ ভালো, এইতো আছে আশেপাশেই! হয়তো কারো সাথে গল্প করছে।বার বাচ্চাদের আনি নি। বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও যেতে ভালো লাগে না... বিশেষ করে এমন প্রোগ্রামে!"
“ মানে কি? বাচ্চাদের নিয়ে যেতে কেন ভালো লাগবে না।
আমরা তো বাচ্চাদের ছাড়া কোথাও যাই'ই না।
ওদের ছেঁড়ে যাওয়ার কথা আসলে আমরাই যাই'ই না।"
“ হ্যাঁ তাতো দেখেই বুঝতে পারছি কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আলাদা, বাচ্চাদের মা কমফোর্ট ফিল করেনা।তাই নেওয়া হয় না।
এনি ওয়ে তোমার চারজন তাই তো! তাহলে বাকী দুজন কোথায়?"
“ আছে,ছোট ছেলেকে মাদ্রাসায় দিয়েছি,সে সেখানেই আছে।আর বড় মেয়ে গাড়িতে গিয়ে বসেছে,আর ছোট মেয়ে আর বড় ছেলেকে তো দেখছোই।
_ ওহ্,কয়টা বাজে? নয়টা! ইস্ দেরি হয়ে যাচ্ছে।নাইফ তোমার সকালে ক্লাস নেই? "
আফিয়া তাজিমের উত্তর দিয়েই যাওয়ার তাড়া দেখালো।নিজেই সময় জিজ্ঞেস করে, নিজেই স্বামীর হাত টেনে ঘড়ি দেখলো এবং ছেলেকে তাড়া দিতে থাকলো।তাজিম আফিয়ার এই কুটকৌশষ সম্পর্কে ভালোই জানে,খুব অভিজ্ঞতা আছে।তাই সেও বুঝে নিলো দ্রুত।
“ আংকেল আসি তাহলে,ভালো থাকবেন আসসালামু আলাইকুম।আর আসবেন অবশ্যই আমাদের বাসায়!"
বলেই নাইফ তুহিকে কোলে নিয়ে এগিয়ে গেলো সদর দরজা পেরিয়ে।নাসিফ আফিয়াকে বললো,
“ তুমি সবার থেকে বিদায় নিয়ে আসো।আমি বাচ্চাদের কাছে যাই!"
“ জ্বী আচ্ছা।"
নাসিফও চলে গেলো,সে মূলত আফিয়াকে একটু সময় দিলো।তাজিম নাসিফের গমন পথে একপলক চেয়ে আফিয়ার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললো,
“ সুখে আছো তাই না?"
“ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ মেহেরবানীতে।"
“ হুম বোঝাই যাচ্ছে!"
“ কেন থাকবো না।এমন চমৎকার একটা মানুষকে পেয়েছি স্বামী হিসেবে।এমন দারুন অভূতপূর্ব শ্বাশুড়ি শ্বাশুড়ি পেয়েছি।চার চারটা বাচ্চার কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে থাকে আমার চারদিক,সুখী হতে আর কি লাগে?"
“ হুম ঠিকই বলেছো।সুখী হতে এর চাইতে বেশি কিছু লাগে না, আসলেই লাগে না।সুখী পরিবার পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু আমি যতটুকু জানতাম তোমার স্বামীর আগের ঘরে দু'জন বাচ্চা তাহলে ছোট দু'জন!ইয়ে মানে দত্তক এনেছো? দরকার কি ছিলো?"
“ কে বললো দত্তক এনেছি! নয় মাস, জীবন মরনের যুদ্ধ করে আমার ছোট ছেলেকে দুনিয়ার আলো দেখিয়েছি,সাত মাস কষ্ট করে মেয়েটাকে আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে এনেছি। আল্লাহ মেহেরবাণ তাই আমাকে মাতৃসুখ দিয়েছে। তাহলে দত্তক কেন নিবো?"
“ মানে কি? তোমার তো!"
“ মানে আসলে এখন এসব নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করে না।এখন শুধু ভালো আর ভালো নিয়ে ভাবতে চাই। তাছাড়াও এখন অতীতের খারাপ সময়গুলো মনে করতেই চাই না,সময়ও হয় না। চারটা বাচ্চা মানুষ করা তো বুঝোই কত চাপের কাজ।যাই হোক আমার কথা তো অনেক হলো, তোমার কথা বলো!"
“ যা বললাম এত সময় তাই।এর বেশি আমার কিছু নাই।তবে তোমাকে সুখে দেখে ভালো লাগছে। সবসময় এভাবেই থেকো, সুখে আনন্দে!"
“ আমীন, আল্লাহ তোমার দোয়া কবুল করুক।আসি তাহলে আজ আর কারো সাথে দেখা করার সময় হবে না।
_আমি একটু তাহমিনা আর মুনমুনের সাথে কথা বলে বিদায় নিয়ে আসি।
__তুমি থাকো হ্যাঁ, আল্লাহ হাফেজ!"
আফিয়া তাজিমকে রেখেই চলে গেলো। তাহমিনা সবাইকে বিদায় দিচ্ছিলো সদর ফটকের পাশে দাঁড়িয়ে, মুনমুন নিজের হান্ডব্যাগটা নিয়ে বেরুবেই এমন সময় আফিয়াকে দেখে বললো,
“ কি রে তুই যাস নি? আমি তো তোকে খুঁজেও পেলাম না।তাই এখন বেরিয়ে যাচ্ছি!"
“ তোর বাসা কোথায়? তোকে কি লিফট দিবো?"
“ না রে এমনিতেই অনেক রাত হয়ে গেছে,আমাকে লিফট দিতে গেলে তোদের অনেক দেরি হয়ে যাবে!"
“ হবে না। তুই দাঁড়া তো এখানে!"
আফিয়া তাহমিনার থেকে বিদায় নেওয়ার সময় গলায় জড়িয়ে অনেক কথা বললো, তখন তাহমিনা বললো,
“ তোর মোবাইলে কিছু পাঠিয়েছি, বাসায় গিয়ে শান্ত ভাবে দেখিস। মনে রাখবি যে নিরহের উপর অন্যায়
করে তাকে শাস্তি আল্লাহ অবশ্যই দেয়।
আর আজকের এই বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্য স্যরি রে।আমি সত্যি জানতাম না ও আসবে!"
“ আসছে তো কি হয়েছে; সবাই ফ্রেন্ড, সবাই আসুক।আমি কিছু মনে করিনি,আর ভাবিওনি। আচ্ছা যাই হোক তোর মেয়েটা কই? ওকে বলবি তাকে আমার বেশ মনে ধরেছে!"
চলমান....







0 মন্তব্যসমূহ