সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৮৬

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_৮৬



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরলো ফোনের কর্কশ শব্দে।তড়াক উঠে দাঁড়ালো, কাঁধে ঝোলানো তোয়ালেটা হাতের মুঠোয় নিয়ে বারান্দায় গিয়ে মেলে দিলো।কিছু একটা মনে হতেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো,


“ আফিয়া!

_ নাইফের আম্মা!"


আফিয়া এই ডাকটার‌ই ভয় পাচ্ছিলো, রান্না ঘরে খাবার পরিবেশন করার জন্য বাটিতে বাটিতে তরকারি তুলে নিচ্ছে,আর মনে মনে দোয়া করছে।দশটা পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু বড় ছেলেটা এখনো ঘরে ঢুকেনি।এখন তো খেতে বসবে সবাইকে নিয়ে।বড় ছেলেকে না দেখলেই তো বাড়ি মাথায় তুলবে!


“ আম্মু বাবা ডাকে!"


নাবীহা রান্না ঘরের দোরে দাঁড়িয়ে বললো কথাটা। আফিয়া পিছু ফিরে মেয়েকে বললো,


“ এখানে আসো,এই বাটিটা নিয়ে টেবিলে রাখো!"


“ আচ্ছা!"


 

নাসিফ আফিয়াকে ডাকতে ডাকতে বসার ঘরের সোফায় এসে বসেছে।সালমা ফাওযিয়া আর নাযির আহমাদ ওখানেই আছেন।নাসিফ ছোট ছেলের পাশে বসে নিজের বাবা মা'কে সালাম দিলো, তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো।তাইফ বাবার পাশে বসেই মায়ের ট্যাবে গেইম খেলছে। তুহি অন্য পাশে শুয়ে গালে হাত ঠেকিয়ে সেই খেলা দেখছে।বড় মেয়ে তার মা'কে সাহায্য করছে,সবটা পর্যবেক্ষণ করার পর‌ই নাসিফ ছোট ছেলেকে জিজ্ঞেস করলো,


“ তোমার ভাইয়া কোথায় বাবা?"


তাইফ সেভাবে ট্যাবে তাকিয়ে থেকেই উত্তর দিলো,


“ ভাইয়া তো আসেনি!"


“ আসেনি মানে? কোথায় গিয়েছে?"


তাইফের দৃষ্টি তখনও ট্যাবে,বললো,


“ ভাইয়া যে বিকেলে গেলো আর আসেনি।"


“ পড়াতে গিয়েছে!"


“ হুম!"


মাথা উপর নিচ করে বুঝালো,নাসিফ ছেলের হাত থেকে ট্যাব টেনে নিয়ে বললো,


“ অত মোবাইল ঘাটলে চোখ দুটোই যাবে! তুমি এখন আর এটা পাবে না।"


“ বাবা!"


তাইফ বাবার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে মৃদু আওয়াজে ডাকলো,নাসিফ চোখ রাঙানি দিতেই তাইফ মাথা নুইয়ে নিলো।নাসিফ উচ্চ স্বরে চেঁচিয়ে বললো,


“ সারাদিন গেইম গেইম! অসুস্থ শরীরে একটু ঘুমায় না, ঠিক মতো খায় না। আজীবন ঘরে বসে থাকবে? সুস্থ হ‌ওয়া লাগবে না? মাদ্রাসার কথা কি ভুলে গেছো? সামনের মাসে পরীক্ষা!

_ আর এই যে তুমি তোমার পড়াশোনা নেই? সারাদিন ছুটোছুটি আর হ‌ইহ‌ই! পড়াশোনার বেলায় তো গা পাওয়া যায় না! মূর্খ থাকবে?"


তুহি শোয়া থেকে উঠে বাবু হয়ে বসে গাল ফুলিয়ে বসলো,মাথা নত করে,নাসিফের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দৌড়ে বেরিয়ে এলো রান্না ঘর থেকে,


“ কি হয়েছে? কি করেছে ওরা?"


“ তোমার বড় ছেলে কোথায়?"


“ ওহ এখনো তো আসলো না। একটা ফোন দিয়ে!"


“ দশটা বাজে,এত সময় কোন শিক্ষার্থীকে পড়ায়? কয়জনকে পড়ায় তোমার ছেলে? পড়ানোর নাম করে কোথায় গিয়ে আড্ডা বাজী চলে?"


“ এমন কিছু না।অযথা উল্টো পাল্টা বাচ্চাদের সামনে.."


আফিয়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই কলিংবেল বেজে উঠলো,আফিয়া সচকিত চোখে সতর্ক নজরে সেদিকে তাকালো,নাসিফ চোয়াল শক্ত করে আফিয়ার দিকে চেয়ে আছে,নাবীহা গুটিসুটি মেরে টেবিলের কোন আঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছে।তাইফ একবার বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে দাদীর কোল ঘেঁষে বসলো,নাযির আহমাদ ছেলেকে দেখছে কপালে ভাঁজ ফেলে। ছেলের এই শাসন উনার কাছে অতিরিক্ত লাগে। বিরবির করে বললো,


“ একটু বেশি বেশি করে!"


খালা দরজা খুলে দিতেই হনহন করে দ্রুত কদমে নাইফ ঘরে ঢুকলো ঠিক‌ই, কিন্তু বসার ঘরের নিরবতা তার পিলে চমকে দিলো তার সাথে খালার সতর্কবার্তা।


“ তাড়াতাড়ি যান,বোম হয়ে আছে। খালাম্মার উপরে ব্লাস্ট হইলো বলে!"


“ বাবা চলে এসেছে!"


“ ওমা, তা এখন? এক ঘন্টা হয়ে গিয়েছে!"


নাইফ ঢোঁক গিললো। ডান কাঁধে ঝুলানো কালো ভার্সিটি ব্যাগটা শক্ত করে ধরে বসার ঘরের সামনে গিয়ে শুকনো হাসি দিয়ে বললো,


“ আসসালামু আলাইকুম এভ্রিওয়ান! কেমন আছেন সবাই?"


“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম,কয়টা বাজে?"


নাসিফ জিজ্ঞেস করলো।নাইফ চোরা পায়ে এগিয়ে গিয়ে মায়ের পিছনে দাঁড়ালো। মায়ের আড়াল হয়ে বললো,


“ স্যরি বাবা। ইচ্ছা করে করিনি।টিউশন থেকে বেরুতেই স্কুলের এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যায়।ওকে নিয়ে একটু ফাস্টফুডে বসেছিলাম, গল্প করতে করতে সময়ের খেয়াল ছিলো না।আর হবে না।"


“ নাইফ মায়ের পিছনে দাঁড়িয়ে মাথা নত রেখেই কথাটা বললো,আফিয়া ভীত চোখে স্বামীকে দেখে ছেলের দিকে ফিরে বললো,


“ আচ্ছা এখন যাও, তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসো। অল্প কিছু হলেও খাও!

সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে!"


“ হুম, যাচ্ছি!"


বলেই নাইফ ওভাবেই চোরের মতো নিজের ঘরের দিকে গেলো। ছেলে যেতেই নাসিফ বললো,


“ ওকে যেতে কেন বললে? ওর সাথে আমার কথা শেষ হয়েছে?"


“ আশ্চর্য আপনি এখন এই বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়েদের সামনে এতো বড় সেয়ানা ছেলেকে শাসন করবেন? 

ছোট ভাই বোনদের সামনে বড় ভাইকে কেউ এভাবে ট্রিট করে?"


“ এভাবেই করতে হবে।যাতে তারাও বোঝে ঘরের রুলস সবার জন্য।"


ছেলের কথায় নিজের বিরক্তি আর ধরে রাখতে না পেরে নাযির আহমাদ বলেই দিলো একটা বেফাঁস কথা,


“ হ্যাঁ হয়েছে, এবার থামো তো।

 _ সারাক্ষণ বাচ্চাদের উপরে ছড়ি চালানো তোমার শুধু!"


স্বামীর কথায় যুক্তি দিয়ে বললেন সালমা ফাওযিয়া,


“ হয়েছে তো নরম ভদ্র, তাই তোমার ভালো ঠেকছে না।হতো নেশাখোর, বখাটে তাহলে বুঝতে শাসন করার ফল!"


“ আম্মা!"


“ কি আম্মা?একদম আম্মা আম্মা করবে না!

_ ওরা কি মিলিটারি স্কুলে পড়ে,যে তোমার এত রুলস মেনে চলবে? ওরা ওদের বাসায় থাকে, নিজের বাড়ি নিজের ঘর, এখানে যখন খুশি ওরা যাবে আসবে, সেখানে অন্য কেউ,কোন তৃতীয় ব্যক্তির আইনকানুন চলতে পারেনা!"


“ আম্মা!"


“ কথা বলো না। চুপ থাকো!

_ আমার সামনে দাঁড়িয়ে, আমাদের উপস্থিতি রেখে তুমি কিভাবে আমার নাতী নাতনিদের ঝাড়াঝাড়ি করতে পারো? কেন তুমি আমার ছোটাদাদাকে বকলে, বলো?এখন ওর খেলার বয়স ও খেলবে  না তো কি তুমি খেলবে?

ঘরের বাহিরে যেতে দাওনা একটা বাচ্চাকে, আবার ঘরে বসে গেজেট দিয়ে খেলবে তাও তোমাদের স্বামী স্ত্রীর সহ্য হয়না না। তাহলে বাচ্চারা করবে টা কি?"


“ সারা দিন মোবাইলে ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকলে চোখ নষ্ট হয়ে যায় আম্মা!"


“ থামো!.


“ আম্মা,থাক থামেন।"


“ তুমি চুপ থাকো, সারাক্ষণ স্বামীর তরফদারি  করা ছাড়া তো কিছু পারো না! এখনও কথা বলবে না

একদমই!"


“ আব্বা আম্মাকে থামান, বাচ্চাদের সামনে কি সব বলে চলেছে!"


“ তোমার আব্বা কি বলবে? একটা দিন বাচ্চাটা দেরি করেছে বলে তুমি জেরা করতে বসে গেছো? কেন, তুমি ওর বয়স পার করে আসোনি!"


ছেলেকে শাসন করার ফাঁকেই আবার ছেলে ব‌উকে ধমকালেন,


" এই তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেন? খাবার দেও যাও,খেয়ে দেয়ে ঘুমাক,এইতো তোমাদের বাচ্চা মানুষ করার কৌশল! শুধু খাবে আর ঘুমাবে! আর কোন কাজ নেই!"


আফিয়া শ্বাশুড়ির ধমক খেয়ে দৌড়ে গেলো টেবিলের সামনে, মিনিট দশের মধ্যেই নাইফ আসলো, পড়নে তার গ্রে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট আর হোয়াইট টি শার্ট। চুল দিয়ে পানি পড়ে ঘাড়,গলা ভিজে জবজবে হয়ে আছে। নিঃশব্দে এসে নিজের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসলো,তার সামনে তার বাবা,আর পাশে তার দাদা,বাবার পাশে তার পিচ্চি ভাই বোন,নাবীহা মায়ের পাশে,মা বসেছে নাইফের আরেক পাশে,বাবার থমথমে মুখ দেখে চুপচাপ খেয়ে উঠলো চার ভাই বোন।

খাওয়া দাওয়া সেরে উঠতেই নাবীহা ডেকে বললো,


“ ভাইয়া!"


নাইফ টিস্যু দিয়ে হাত মুছে সেই টিস্যু মুড়িয়ে হাতের তালুতে বল বানিয়ে নিয়েছে। ছোট বোনের ডাকে ফিরে বললো,


“ জ্বী বলো!"


“ তুমি কি এখন ঘুমিয়ে পড়বে?"


“ না তো, কেন?"


নাবীহা মা'কে টেবিল গুছানোর কাজে সহযোগিতা করছিলো।নাবীহাকে নিয়ে আফিয়া এখন রান্নার কাজে সাহায্য করায়।

যাতে মেয়ে সংসারের টুকটাক কাজ‌ও শিখে নেয়।যদিও রান্নাবান্নার কাজে নাবীহার বেশ ঝোঁক,মা সুযোগ দেওয়ায় তা এখন প্রখর হয়েছে।

ভাইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বললো,


“ আমার ফিজিক্স প্র্যাকটিক্যালটা একটু একে দিবে প্লিজ?"


“ কিহ্! কি করবো? আরেকবার বল!"


নাবীহা বুঝলো তার ভাই শোনার পরেও এমন করছে,সে খানিকটা চেঁচিয়েই পূনরায় বললো,


“ আমার ফিজিক্স প্র্যাকটিক্যালটা একে দিতে হবে!"


“ পারবো না।"


“ কেন পারবে না?"


“ ইচ্ছা নাই তাই!"


দুই কাঁধ উপর উঁচিয়ে ঠোঁট উল্টে ব্যঙ্গ করে বললো,নাবীহাও এক‌ই ভাবে বললো,


“ কি হয় একটু এঁকে দিলে?"


“ আশ্চর্য আমি কেন আঁকবো তোরটা? তোর পরীক্ষা,তোর খাতা, তুই আকবি! তা না করে একজন ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রের থেকে এঁকে নিয়ে এ প্লাস আনবি! কি দুর্নীতিবাজরে তুই!"


“ এখানে দুর্নীতির কি আছে? আমাকে আরো চারটা খাতা আঁকতে হবে,লিখতে হবে!সময় আছে মাত্র দু'দিন,নয়তো কি আমি নিজেই আকতাম না?"


“ যত যাই হোক আমি পারবো না। নিজেরটা নিজে এঁকে নাও বাবা!"


বলেই নাইফ পা বাড়াতেই নাবীহা বলে উঠলো,


“ কেমন হয় বলো তো যদি বাবার কানে পৌঁছে যায় তার বড় পুত্রের মোবাইলে এক মেয়ের ছবি ভাসে!"


“ কোথায় কি ভাসে?"


শেষের শব্দটুকু নাসিফ শুনে ফেললো।বাবাকে দেখেই দুই ভাই বোন সোজা হয়ে গেলো।নাবীহা ইশারায় দুষ্টু হাসি দিয়ে ভয় দেখাতে থাকলো,নাইফ দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করছে ছোট্ট বোনের এমন দুঃসাহস।নাসিফ মেয়ের মাথায় হাত রেখে আদর দিয়ে বললো,


“ এত কাজ করতে হবে না। গিয়ে পড়তে বসো!"


" আমি তো পড়তেই চাই কিন্তু!"


“ কিন্তু কি আম্মা!"


“ বাবা আমার ভাইয়ার হেল্প লাগবে, ফিজিক্স প্র্যাকটিক্যাল এঁকে দিতে হবে,নয়তো আমি পাঁচটা শেষ করতে পারবো না!

আঁকার পর লিখতে গেলে আমার হাত ভীষণ ব্যথা করে বাবা! চামড়া উঠে যায়!"


“ আল্লাহ ,তা ভাইয়া করবে হেল্প, সেখানে সমস্যা কোথায়?"


“ ভাইয়া হেল্প করবে না বলছে।বলছে আমাকেই করে নিতে,আমি নাকি দুর্নীতিবাজ!"


“ এটা কেমন কথা নাইফ, ছোট ভাই বোনকে তুমি শিখিয়ে না‌ দিলে ওরা কোথায় পাবে এগুলো?

_ আর তুমি এখন কোথায় যাচ্ছো?"


বাবাকে দেখে বোনের ভোল পাল্টানোর সময়‌ই নাইফ ভাগতে চেয়েছিলো কিন্তু ধরা খেয়ে যায়, কাচুমাচু করে দাঁড়িয়ে র‌ইলো,নাসিফ ছেলেকে ব্যঙ্গ করে বললো,


“ সারাদিন বাইরে অন্যের ছেলে মেয়েকে পড়িয়ে আসো, অথচ নিজের ছোট বোনকে একটু সহযোগিতা করতে চাও না।এ কেমন আচরণ তোমার?

_ ওরা পয়সা দেয়, বোনকে পড়ালে পয়সা পাবে না সেই জন্য?

__ আচ্ছা যাও আমিও তোমাকে পয়সা দিবো। হিসেবে মতোই দিবো। একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির পড়াশোনা শুরু করে দিতে হবে,আমাকে তো এমনিতেই আমার মেয়ের জন্য শিক্ষক রাখতে হতো,সে না হয় তোমাকেই রেখে দিলাম। তুমি নিজেই ফিক্সড করে বলো মাসে কত নিবে! কিন্তু আমাকে গ্যারান্টি দিতে হবে যে আমার মেয়ের মানসম্মত কলেজে চান্স পাবে!"


“ পড়াশোনা নিজেকে করতে হয়,কেউ করিয়ে দেয় না।

আপনার মেয়ের মাথায় রান্না আর ক্যালিগ্রাফি ছাড়া কিছু ঢোকে না।ওকে আমি পড়াতে পারবো না!"


“ কি বলছো?"


“ বাবা আমি!

_ আয় ঘরে আয়, নিজের সবকিছু নিয়ে আসবি।আমার কিছুতে হাত দিবি না।"


বলেই নাইফ আগে আগে হেঁটে গেলো‌।নাসিফ ছেলের মুখের বিকৃতি করা দেখে হেসে দিলো।নাবীহা বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললো,


“ থ্যাংকু বাবা!"


“ যাও,ভাইকে জ্বালাবে ‌না। যা বলবে তাই করবে।"


“ ওকে বাবা!"


ঘরে গিয়ে দেখলো তুহি উল্টো হয়ে শুয়ে আছে,নাসিফ মেয়ের উপর উবু হয়ে বললো,


“ আমার ছোট আম্মা ঘুমায়?"


তুহি বাবার গলার স্বর পেয়ে ঘুরে শুয়ে বললো,


“ বাবা, গল্প বলো।"


“ গল্প শুনবেন?"


“ হুম!!"


নাসিফ মেয়েকে কোলে টেনে নিয়ে বারান্দার দিকে গেলো।


তাইফ নিজেদের ঘরে শুয়ে আছে, গেস্ট রুমে থাকার দিন শেষ তার।এখন সে আবারও নিজের ঘরে ফিরে এসেছে। কিন্তু তার মন তাও খারাপ। সুস্থ হয়ে গেলেই তো আবারও মাদ্রাসায় ফিরে যেতে 

হবে। আবার সবাইকে ছেড়ে একা একা! 


নাইফ ঘরময় পায়চারী করছে আর ফোন টিপছে,ফোনের দিকে চেয়ে চেয়ে মিটিমিটি হাসছে।


চলমান...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ