সুখ_ফড়িং_সিজন_২ | পর্বসংখ্যা_১০

 #সুখ_ফড়িং_সিজন_২

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১০



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


“. Hey bro what's up? long time after..!


“ yap,My all is good,say about you?"


“ nowadays passing like bakwas!"


“ why?"


“ nothing much serious but... সিঙ্গেল লাইফ আর কত কাটাবো?"


“ কেন ? তোমার না একটা টুনটুনি ছিলো?"


“ হাহ্ সেই টুনটুনি এক সরকারি পেটুয়া বুইড়া চান্দিছিলা টুনার সাথে ভাগছে! সাথে আমার মনটাকে ভাঙ্গছে!"


“ সিরিয়াসলি!"


“ হুম; সেই শোকে আমি এখন শোকাবাসী,তাইতো এত লেমন জুস ভালোবাসি!"


বলেই আবার জুসের গ্লাসে চুমুক দিতে আরম্ভ করলো নিশিথ নামের এই সুদর্শন পুরুষ। মুক্ত মঞ্চের সন্নিকটে আসতে দেখেই দৌড়ে এসেছিলো সে কুশলাদি বিনিময় করে সাদর সম্ভাষণ জানাতে,কারণ জন্মদিনের পার্টি তার বন্ধুর হলেও সমস্ত দায়িত্ব তার কাঁধে অর্পন করে বন্ধু তার লায়লাকে ম্যানেজ করতে গিয়েছে। এদিকে পরিচিত, বন্ধুমহল সবাই আসা শুরু করে দিয়েছে পার্টিতে কিন্তু যার বার্থডে তার‌ই খবর নেই।


নিশিথের কদমে কদম মিলিয়ে বাকী ছেলেদের সঙ্গে আলাপে জমে গেলো মাত্র আগত দলটা।চার জনের একটা দল,সবার পরনে মেরুন রেড শার্টের উপর ব্ল্যাক ব্লেজার।আর মেয়েরা সবাই পরেছে মেরুন রেড, ব্ল্যাক কম্বিনেশনের পোশাক। বাহারী আধুনিক আউটফিটে একেকজন হলিউড হিরোইন সেজে আজকের এই পার্টি আরো জমকালো করে তুলেছে।সদ্য আগত দলের কয়েকটি ছেলের সাথে আগেই সবাই পরিচিত কিন্তু কিন্তু দুই একজন নতুন মুখ তাই পরিচয় পর্ব সেড়ে নিলো।


“ হ্যালো আ'ম বাপ্পী ,বাপ্পী খন্দকার।এন্ড মিট মাই ফ্রেন্ডস!"


নিশিথের পাশে দাঁড়ানো হেব্বি ওজনধারী ইন্তেখাব বিশ্বাস,বার্থডে বয়ের কলিগ।তাকেই নিজের পরিচয় দিলো বাপ্পী। বাপ্পীর সঙ্গে মোসাফা করে দৃষ্টি ফেললো বাপ্পীর পাশে দাঁড়ানো সুদর্শন উহুম, ভয়ংকর সুদর্শন পুরুষের পানে।এক‌ইভাবে নিজের হাত এগিয়ে দিতেই সেই পুরুষ নিজের গম্ভীর তবে সরস কন্ঠে নিজেকে উপস্থাপন করলো,


“ সম্রাট মাহমুদ তালুকদার,সবাই স..


“ স্যাম বলেই ডাকে!"


ইন্তেখাব বিশ্বাস হেসে নিজেএ শেষ কথাটা বললো, সম্রাট আশ্চর্যিত চোখে তাকিয়ে শুধালো,


“ কি করে জানলেন?"


“ মিউচুয়াল ফ্রেন্ড লিস্টে আছি তাই জানি, ফেমাস পার্সন, ক্রেজি এন্ড এ্যাটরাকটিভ ইভেন বহু নারীর রাতের ঘুম উড়ার কারণ, ক্রাশড বয়! জুনিয়র বয়'স আইকন! স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয় মেধাবী মুখ,অলসো ফ্রেন্ড সার্কেলের ফেমাস সিঙ্গার, হেল্পফুল ফ্রেন্ড, পার্সন!"


“ ও মাই গুডনেস! হাও ম্যান! হাও ইজ পস্সিবল! আমি নিজেও তো নিজের এত গুণ সম্পর্কে জানি দেন হাও ইয়্যু?"


“ ঐ যে বললাম মিউচুয়াল আছি,তাই দেখছি,জানছি,শুনছি! অবশ্য ফ্রেন্ড সার্কেলে এমন একজন না থাকলে সার্কেলটা আসলে খুব একটা জমে না!"


“ নাথিং লাইক দ্যাট!"


বলেই সম্রাট লজ্জা মিশ্রিত হাসি দিয়ে নিজের বদন নত করে নিলো। তারপর , পরপর পরিচিত হলো,তাহসিন কাব্য,আখিল দাস।

বাপ্পীর টিমে ছিলো এরা,অতিথি হিসেবে এখন আগত।আর আগেই বার্থ ডে বয়ের সার্কেল থেকে উপস্থিত আছে, ইন্তেখাব বিশ্বাস,আভাস মৃধা,নিয়াজুল বিল্লাহ, সিদ্দিক তারিক,আল আমিন তরফদার,পিয়াস করিম,হাসিব মাহমুদ সহ আরো কয়েকজন। 

পুরুষ মহলের এই জটলা থেকে একটু দূরে রয়েছে দশ বারোজন নারীরা।যারা প্রত্যেকেই কোন না ভাবে ফ্রেন্ড সার্কেলের সাথে জড়িত। প্রতিজনেই বেশ ফেমাস নিজ নিজ অবস্থান আর পরিচয়ে।তবে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হচ্ছে মোনালিসা,ফ্যাশন ডিজাইনার এন্ড বিউটি ব্লগার। বার্থ ডে বয় হৃদয় সহ সম্রাট, বাপ্পী, তাহসিন কাব্য,আল আমিনের ক্লোজ ব্যাচমেট।তবে হৃদয়ের কলিগ‌ও বটে।

এখানে উপস্থিত সবচেয়ে সুন্দর নারীটি হচ্ছে হুরেরজান সিদ্দিক।

সম্পর্কে হৃদয়ের কাজিন, তাছাড়াও তার আরও একটি পরিচয় আছে যা সময় হলে সবাই জানতে পারবেন!


সম্রাটদের টিমকে দেখে এগিয়ে এলো মোনালিসা ওরফে মোনা।


“ সেই স্যাম, কেমন আছো?"


“ মোনা! গুড! তোমার অবস্থা কি? কেমন যাচ্ছে দিনকাল?"


“ সব‌ই ভালো,তো,এত লেইট কেন হ্যান্ডসাম?"


মোনার কথায় সম্রাট হালকা হাসলো অতঃপর কারণ বলে আলাপ এগুলো। নিজেদের মধ্যে বাতচিতের মধ্যেই সময় কেটে গেলো।ঘড়ি কাটায় যখন বরাবর নয় তখন উপস্থিত হলো বার্থ ডে বয় হৃদয় আহমেদ, সঙ্গে এলো তার সেই বন্ধুদের কথিত লায়লা।


জটলার মধ্যে সকলেই যখন নিজেদের মধ্যে খোশ গল্পে মশগুল তখন ভীড় ঠেলে উপস্থিত হলো হৃদয় ও তার কাঙ্খিত নারীটি। তাদেরকে দেখে সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো সবাই,


“ Happy birthday dear...

" Happy birthday bro..

“ Happy birthday dost..

“ Happy birthday Hridoy..

“ Many Many happy returns of the day in your life dear..


সবার চেঁচামেচিতে মুহূর্তেই কলকলিয়ে উঠলো নিরবতার চাদরে আচ্ছাদিত এই ঘন বনরাজির মাঝের ফাঁকা অংশটুকু।হৃদয়‌ও বন্ধুদের উল্লাসে মেতে এক‌‌ইভাবে নিজেকে উইশ করলো, হট্টগোল কমতেই নিজেদের মাঝে যখন একটু দুরত্ব টানলো ঠিক তখনই সবার নজর পড়লো,মেরুন লালের মাঝে কালো জিরো স্টোনের ছিটানো কাজ করা গ্রাউন আর মেরুন শেঠের কালো হিজাবে আবৃত শ্যামপরীর দিকে। ছোট এক জোড়া কমলার কোয়ার ন্যায় ঠোঁটে আজ মেরুন লিপস্টিক মাখা,ডাগর ডাগর আঁখিতে চিকন কাজল টেনে হালকা করে মেকাপের প্রলেপে আজ এই নারী নিজেকে সাজিয়েছে।তুলির আঁচরে নিজেকে করে তুলেছে অন্যন্য, মোহনীয়। মেরুন লিপস্টিক মাখানো ঠোঁটের নিচের ঠোঁটের কোনায় জ্বলজ্বল করছে কুচকুচে কালো তিল। ঘনঘন পলক ফেলে ঝাপটা মারছে ঘন বড় বড় পাপড়িদ্বয়ের সাহায্যে!

বাম হাতে একটা ঘড়ি,ডান হাত ফাঁকা।ডান পাশে হিজাবের ব্রুজ যেটা জ্বলজ্বল করছে।

পায়ে এক জোড়া প্লেন হিল। সবকিছু মিলিয়ে সবার চোখে ধাঁধা লাগিয়ে ছেড়েছে এই নারী।

এক ঝাঁক পুরুষালী কঠোর কর্ণিয়া তাকে ড্যাবড্যাব করে দেখতে থাকলো। হুর এগিয়ে এসে বললো,


“ পারী আপু? ফাইনালি তুমি এলে?"


বলেই সে পারীকে জড়িয়ে ধরলো,পারীও এক‌ইভাবে জড়িয়ে ধরে বললো,


“ আলহামদুলিল্লাহ হুর, তুমি কেমন আছো বলো?"


“ আলহামদুলিল্লাহ আপু।যাক এতক্ষণ কেমন জানি লাগছিলো,এখন বেশ লাগছে। কিন্তু লেইট কেন করলে?"


“ লেইট বলছো? ম্যাম তো আসবেই না।তার কথা আমার ফ্রেন্ডদের মাঝে সে এসে কি করবে? কি আজব কথা না, বল হুর!তুই বল!"


“ একদম ভাইয়া।

_ এটা ঠিক না পারী আপু! তুমি ভালো করেই জানো হৃদয় ভাইয়া তোমাকে ছাড়া এখন কেক কাটবে না।

গত বার‌ও,আগে তোমার সাথে কেটে এসেছে এরপর আমাদের সাথে! এনি ওয়ে এবারের কেকটাও নিশ্চয়ই তুমি মেইক করেছো?"


হুর আর পারীর কথার মাঝেই হৃদয় এগিয়ে এসে উক্ত কথাটি বললে হুর প্রথমে হৃদয়কে উত্তর দিয়ে পরের কথা গুলো পারীকে বললো।

পারী হুরের এমন আন্তরিকতা দেখে বিমোহিত হয়ে পলকহীন চোখে মেয়েটাকে দেখতে থাকলো আর মনে মনে ভাবলো,


“ এই মেয়েকে কেউ কিভাবে ইগনোর করতে পারে? এত আদুরে আর সহজ! আল্লাহ তুমি ওর মনের ইচ্ছা পূরণ করিয়ে দিও!"

অন্যমনস্ক পারীকে হালকা ধাক্কা দিয়ে হুর স্বাভাবিক করে বললো,


“ হয়েছে কল্পনা পরে করো,চলো সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।"


বলেই হুর পারীর হাত ধরে বাকী মেয়েদের মাঝে টেনে নিয়ে গেলো,যা একদম ভালো লাগলো না মোনালিসার।সে কপাল কুঁচকে একবার দেখলো হৃদয়কে আরেকবার দেখলো পারীকে।

আর‌ও ছয় জোড়া চোখ বিস্ময় আর বিস্ফোরিত চাহনিতে চেয়ে দেখতে থাকলো একবার পারীর দিকে তো আরেকবার হৃদয়ের দিকে।

নিজের হাতের মুঠোয় থাকা টিস্যুটাকে দেহের সর্বশক্তি দিয়ে চেটে ধরে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে সম্রাট,ওর কানে হাত দিয়ে শান্ত থাকতে অনুরোধ করছে বাপ্পী।


“ এই মেয়েটা ঐ মেয়েটা না? ঐ যে ক্লাবে এসেছিল ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে বিচার চাইতে!

_ ও এখানে! ও কি হৃদয়ের সেই গার্লফ্রেন্ড,যার জন্য নিজের কাজিনকে রিজেক্ট করে যাচ্ছে?"


“ আল্লাহ নো'স!"


“ হা!"

 মেয়েদের আড্ডায় পারীর সাথে সবার পরিচয় পর্ব সারতেই হৃদয় এগিয়ে এসে বললো,


“ পারী!

_ কাম উইথ মি! চলো ওদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই!"


“ ওকে!

_ আমি আসছি হ্যাঁ!"


বলেই পারী হৃদয়কে অনুসরণ করে এগিয়ে গেলো পিছু পিছু।


“ হেই‌‌ বয়েস; মিট মাই এনোদার ফ্রেন্ড পারীজাত আবরার চৌধুরী!"


“ আসসালামু আ..


বলেই পারী থেমে গেলো। সামনে দাঁড়ানো রক্তিম চোখে তাকিয়ে থাকা পুরুষটাকে দেখে। সম্রাটের কঠোর দৃষ্টি দেখে থমকালো যতটা না চমকে গেলো এই জায়গায় এই তিনজনকে দেখে। অস্ফুট স্বরে বলেই ফেললো,


“ ভাইয়া আপনি এখানে?"


পারী যত‌ই  নিচু কন্ঠে বলুক, হৃদয় ঠিক‌ই শুনে ফেললো। এবং সে কৌতুহলী চিত্তে জিজ্ঞেস করেই ফেললো,


“ তোমরা কি একে অপরকে চিনো?"


পারীর উত্তর দেওয়া আগেই সবটা বললো তাহসিন। সবটা শোনার পর হৃদয় পারীকে একটু রাগের সাথে অধিকার প্রকাশ করে জিজ্ঞেস করলো,


“ এত কিছু হয়ে গেলো তুমি আমাকে কেন বলো নি পারী?

_আর এত সাহস কে দেখাতে বলছে তোমাকে? তুমি এত ছেলের মাঝে ক্লাবে কেন যাবে? আমি কেন আছি তাহলে?"


পারীকে এত অধিকার দেখিয়ে শাসন করাটা সম্রাটের কোনভাবেই হজম হচ্ছে না।সে দাঁতে দাঁত চেপে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে পারীর দিকে।

সেদিন ভার্সিটির গেইটে দাঁড়িয়ে যখন বোঝার চেষ্টা করেছিলো পারীকে ছেড়ে দেওয়া সঙ্গে থাকা পুরুষটা কে তখন কানের কাছে চেপে ধরে রাখা ফোন থেকে মায়ের কন্ঠে ভেসে আসে,


“ তোমার বাবা পড়ে গিয়ে কোমরে ভীষণ চোট পেয়েছে। আমি কি করবো?তুমি তাড়াতাড়ি বাড়ি আসো!"


বাবার দুর্ঘটনার কথা কানে যেতেই আর কোন দিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় সম্রাটের ছিলো না।সে দৌড়ে নিজের গন্তব্যের দিকে পা বাড়ায়।


চলমান.....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ