#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৮০
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
তাজিমের সাথে বিচ্ছেদের পাঁচ বছর পর আফিয়া তাজিমের একটা ছোট খবর পায়। ততদিন আফিয়া ইচ্ছা করেই তাজিমের থেকে সবরকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এমনকি দুজনের পরিচিত বন্ধুমহল থেকেও দুরত্ব তৈরি করে নেয়।যার কারণে আফিয়ার দুনিয়াটা ছোট হয়ে যায়। এমনকি তাহমিনা, মুনমুন থেকেও নিজেকে সরিয়ে ফেলে। বিশেষ কারণই ছিলো তাজিম। যেহেতু দুজনের ক্লোজ বন্ধু বলতেই এই দুইজন ছিলো তাই। তাছাড়া অন্য বন্ধুদের সাথে আফিয়া খুব একটা মাখো মাখো সম্পর্কে না থাকলেও বরাবরই স্কুল কলেজের পরিচিত আর জনপ্রিয় মুখ ছিলো আফিয়া। বিভিন্ন কৃষ্টি কালচারে অংশগ্রহণ থেকে পড়াশোনায় অত্যাধিক মেধাবী হওয়ার দরুন সবার কাছেই খুব আপনজনা ছিলো আফিয়া।
তাজিমের সাথে বন্ধুত্বটা অনেকের চোখেই বিধতো কিন্তু কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারতো না এটা ঠিক কতদূর গড়িয়েছে। স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পর্যায়ে যখন দুজনের জীবন ঠিক তখনই তাজিম আফিয়ার হাত ছেড়ে দেয়।
আফিয়ার পারিবারিক কারণেই পড়াশোনার মাঝে বিরতি টানতে হয়, কিন্তু তাজিম এগিয়ে যাচ্ছিল নিজের মতোই।তাই আফিয়ার আগেই তাজিম গ্রাজুয়েট হয়ে নিজ যোগ্যতা বলে ভালো চাকরি যোগার করে ফেলে। এরপর চিরায়িত বাঙালি পরিবারে মতোই তার পরিবারের থেকেও আসে বিয়ের জন্য চাপ।তাজিম আফিয়াকে বিয়ের জন্য তাড়া দেয়।আফিয়া দোনামোনায় ভুগতে ভুগতে কখন যে রোগ একটা বাঁধিয়ে ফেলে দেহে তার হদিস মেলে না। ভীষণ জ্বর গা ব্যথা নিয়ে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়ে নিজের দৈনন্দিন জীবনের বর্ণণা দিতে দিতেই বলে দেয় তার দীর্ঘ মেয়াদকালীন জ্বর,মাথা ও শরীর ব্যথা,নিঃশক্তি, অনিয়মিত মাসিক এবং ওজন বাড়ার সমস্যা।এতে করে ডাক্তার পরামর্শ দেয় ভালো গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতে,তেমনটা চিকিৎসা নিতে।
সুলতানা আযিযাহ মেয়ের এত জটিলতা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পিজি হাসপাতাল নিয়ে নানা টেস্ট করান। অতঃপর ধরা পড়ে 'থাইরয়েড কিংবা হাইপোথাইরয়েডিজম '! যার কারণে আফিয়ার এত জটিলতা।
দুই মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মিত থাইরয়েডের অবস্থা কিংবা ব্লাডে টিএইচএস৩ ও ৪ এর পরিমাণ নির্ণয় করা, হরমোনের মাত্রা জানা,সহ অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ নির্ণয় করার মাধ্যমেই থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসা নিতে হয়।আফিয়াকেও তাই করতে হতো।
সবকিছু মোটামুটি নিয়মিতভাবে চললেও আফিয়ার অনিয়মিত মাসিকের সমাধান তখনও জটিল হয়েই থাকলো।
তাজিম জানলো আফিয়ার শারীরিক অবস্থা।তাতে সে দুশ্চিন্তিত হলো। আফিয়ার সাথে তাজিমের মোটামুটি একটা বিয়ের আলাপ পাড়া রয়েছে তাও তাজিমের পরিবারের ইচ্ছাতেই কিন্তু এই সময়ে! তাও পরিবারের বিয়ের চাপ দমাতেই বাবা মা'কে জানালো আফিয়ার কথা। কিন্তু হলো উল্টা। তার পরিবার আফিয়ার অনিয়মিত মাসিককেই বানিয়ে দিলো আফিয়ার দুর্বলতা।ইনিয়ে বিনিয়ে ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করলো,না পেরে সরাসরি আফিয়াকে কথার প্যাঁচে অক্ষমতা দেখিয়ে অপমান করলো। আফিয়া তাও নির্লজ্জ হয়ে তাজিমের সাথে যোগাযোগ রাখতে থাকলো।
এভাবেই কয়েকমাস চলে যাওয়ার পর একটা উড়ো খবরে আফিয়ার সব স্বপ্ন আশা নড়েচড়ে উঠলো।
তাজিমের এক বন্ধু বার্তা যোগে জানালো তাজিম তার মায়ের পছন্দানুযায়ী মেয়েকেই ঘরোয়াভাবে আকদ করেছে এবং খুব শিগগিরই তাদের আনুষ্ঠানিক বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
খবরটা নিজ বন্ধুকে বলতে তাজিমই নির্দেশ দিয়েছে,সেই বন্ধু এটাও বলেছে।তাজিমের বিয়ের খবরে আফিয়া মানসিক ভাবে ভীষণ ভেঙে পড়ে।একটা লম্বা সময় ধরে, মোটামুটি ফিক্সড একটা সম্পর্কে ছিলো তারা।অথচ কত সহজেই তাজিম বিনা নোটিশে তাকে ছেঁড়ে দিলো।আফিয়া মানসিক ভাবে যতই শক্ত থাকুক,এই বিষয়টি মানতে তার অনেক কষ্ট হয়েছে।
কিন্তু তাও মানতে হয়েছিল।বলা যায় এখানেও তাজিমই সহযোগিতা করেছিলো। কিভাবে?
তাজিম নিজের বিয়ের তিন মাস পর এক অপ্সরীকে নিয়ে হাজির হয় আফিয়ার সামনে।দুধ আলতা গায়ের বরন,মেঘকালো কেশ,ডাগর ডাগর আঁখিজোড়ায় চিকন কাজল টানা,নকল পাপড়িদ্বয়ের বারবার ঝাপটানিতে তাকে আসমান থেকে নেমে নির্ঘাত পরী মনে হচ্ছিল।শুভ্র রঙের সালোয়ার কামিজে মোড়ানো সেই নারীকে নিয়ে আফিয়ার সামনে উপস্থিত হয়ে খুব সাবলীলভাবে তাজিম বলেছিলো,
“ সি ইজ মাই বেটার হাফ! ইজে'ন্ট সি বিউটিফুল!"
না ছিলো তাতে জড়তা আর না ছিলো কোন দ্বিধা! দীর্ঘদিন ওয়াদাবদ্ধ থাকা নারীর সামাজিক দাঁড়িয়ে একদম নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে চমৎকার হাসি দিয়ে তৃপ্তির সহিত পরিচয় করিয়েছিলো নিজ পত্নীর সাথে।অথচ সে একবারে ভাবেও নি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নারীটার ভেতরে তখন কি বয়ে যাচ্ছে।
না ছেড়েছে নিজের বেটার হাফের হাতটা।যেই হাত ধরে আফিয়ার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলো ঠিক সেই হাত ধরেই আফিয়ার সামনে বসে আছে।আর সেই নারী লজ্জায় নিজের দৃষ্টি যে অবনমত করেছে তা আর তুলেনি।
তাজিম যেভাবে নিজের প্রাক্তনের কাছে নিজের বউকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো ঠিক সেভাবেই পরিচয় করিয়েছিলো নিজের প্রাক্তন কে।
“ মিট মাই বেস্ট ক্লাসমেট,সি ওয়াজ এ্যা ভেরি প্রিটি উইমেন!"
বলেই তাজিম হালকা হেসে ছিলো।কথার ফাঁকে ফাঁকে বেশ সময় যখন কেটে গেলো তখন তাজিম নিজ স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বললো,
“ তুমি একটু এখানে বসো। আমরা ফ্রেন্ডরা একটু আলাপ করে আসি,ফ্রেন্ডলি ইস্যু বোঝোই তো!"
আফিয়া এতটাই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল যে প্রতিবাদ তো দুরের কথা সামান্য শব্দ উচ্চারণ করতেও ওর জিহবা বাঁধা দিচ্ছিলো।
দু'জন যখন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে খানিক টা দুরে তখন তাজিম আফিয়ার উদ্দেশ্য বলেছিলো,
“ স্যরি; আমি জানি তোমার খারাপ লাগছে কিন্তু আমিও অসহায়!কি করবো বলো? ওকে তো দেখছোই।আম্মা ওর ছবি দেখানোর পর কেন জানি আমি ওর থেকে দৃষ্টি সরাতে পারিনি।আর না পেরেছি রিজেক্ট করতে।আর কারণও তো ছিলো না বলো।কেন রিজেক্ট করবো! মেয়েটা সব দিক থেকেই আমাদের পরিবারের জন্য পারফেক্ট। ইভেন অলসো ফ মি! দ্যাটস হোয়াই আই কান্ট,টোটালি আই কান্ট! "
কথা বলার মাঝেও তাজিমের দৃষ্টি ছিলো নিজ স্ত্রীর পানে।অপলক, মুগ্ধতা ছিলো তাতে।আফিয়ার দিকে একবারের জন্যও তাকায়নি।
আফিয়াও কোন কথা বলছে না।কেবল নিষ্পলক চেয়ে আছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন, ভয়ানক সুদর্শন পুরুষের পানে, যেন কত জনমের তৃষ্ণা মিটিয়ে নিচ্ছে এক মুহুর্তে। চোখের চারিদিকে তার কালো আধারি থাকলেও মনি দুটো জ্বলজ্বল করছিলো।কিসের আশায় অমন উজ্জ্বলতা ছড়াচ্ছিলো তা আফিয়া জানে না। ঐ মুহুর্তে আফিয়া শুধু জানতো এই মুখটা শেষ বারের মতো দেখছে,আর দেখতে পারবে না।আফিয়া আর দেখবে না।
আফিয়ার ধ্যান ধ্যানই রয়ে গেলো, তাজিমই আবার বলতে শুরু করলো,
“ দেখো আফিয়া তোমার কাছে আমাকে এখন স্বার্থপর লাগতে পারে, তুমি ভাবছো আমি তোমাকেই ঠকিয়েছি।আমি তোমার অভিযোগ মানতে পারলাম না স্যরি।"
এত সময় পর তাজিম মুখ ফিরালো। দৃষ্টি স্থির করলো আফিয়ার বদনে, কিছু সময় থমকালো।হয়তো ঐ নারীর এমন দৃষ্টিই তাকে একটু সময়ের জন্য আটকের দিলো। কিন্তু তাও সে বলতে থাকলো,
“ দেখো।দোষ কারোই দিচ্ছি না।যা হচ্ছে সবটা সময়ের জন্য হচ্ছে! নয়তো কেনইবা তুমি এই বয়সে এত বড় একটা সমস্যায় পড়বে,আর কেনইবা আমার মায়ের পছন্দের তালিকা থেকে বাতিল হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ চেয়েছে আমাদের বিচ্ছেদ। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের জন্য অন্য সঙ্গী নির্ধারণ করেছে।
_দেখো আফিয়া সবারই বাবা ডাক শুনতে ইচ্ছে হয়,আমারও করে।আমি একজন সুস্থ সবল পুরুষ।আমার পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান।আমার হাত ধরেই তো আমার বংশ এগুবে,বিস্তার করবে। তাছাড়াও তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি বাচ্চাদের কত ভালোবাসি,আমার মা আমার বিয়ের জন্য যতটা না উৎসুক ছিলো তার চেয়েও বেশি চাইছিলো নাতী নাতনির মুখ দেখতে। কিন্তু সেটা কি তোমাকে বিয়ে করলে সম্ভব হতো বলো?
__হ্যা তুমি বলতে পারো যে আমরা চাইলেই বিয়ের পর বাচ্চা দত্তক নিতেই পারতাম।হয়তো অনেকেই তা করে কিন্তু আমি .. আমি অতটাও মহৎ নই আফিয়া।আমার পক্ষে সম্ভব নয় কারো নাজায়েজ,ফেলে দেওয়া সন্তানকে পরিচয় দেওয়া।
আর না আমার পরিবার মানবে। আমার বংশ এগুবে আমার রক্তের সম্পর্ক দিয়ে,আমার ঔরসজাত সন্তান দিয়ে।যেখানে আমার ভ্রুন থাকবে,আমার স্ত্রীর অংশ থাকবে। আমি সম্পূর্ণ সুস্থ তবে কেন আমি সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো সুখকে উপভোগ করবো না বলো? তাছাড়াও তোমার পিছুটান অনেক। তুমি না এই পিছুটান কোনদিন ছাড়তে পারবে আর না কোনদিন আমার সংসারে মনোযোগী হতে পারবে? আমি আর যাই করি, এভাবে সংসার করা মানতে পারবো না।
___তাই আমি..সবটা ভেবেই ওকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হ্যাঁ আমার উচিত ছিলো তোমাকে আগেই জানানো কিন্তু আমি চাইনি তুমি কোন মেলোড্রামা করে আমাকে আটকানোর চেষ্টাও করে।স্যরি টু সে আমি আসলেই আমার বৈবাহিক জীবনে সুখী আছি, ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই আমাদের পরিবার পরিকল্পনা করার ইচ্ছে আছে, দোয়া করো।
____আর তুমিও নিজের মনের মতো কাউকে চয়েস করে খুব শীঘ্রই নতুন জীবন শুরু করে দাও আমি এটাই সাজেস্ট করবো।আই উইশ ইয়্যু উইল গেট এ্যা বেটারা পার্সন দেন মি।!"
তাজিম নিজের লম্বা অধ্যায় শেষ করে আফিয়ার থেকে আবারও নজর সরিয়ে লেমন জুসের গ্লাসে একটু করে চুমুক দিয়ে জুস শুষে নেওয়া স্ত্রীর দিকে ফিরে তাকালো । মিনিট দুই পর আবারও আফিয়ার দিকে ফিরেও তাকাতেই দেখলো জায়গা শূন্য।
এরপর আফিয়া আর কোনদিন তাজিমের খোঁজ নেয়নি আর না তাজিমের তরফ থেকে কোন খবর এসেছে।
নাসিফের সাথে বিয়ের কিছুদিন আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারে তাজিম দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হচ্ছে।সে নাকি তাজিমকে হাসপাতালে মা ও শিশু বিভাগের সামনে চিন্তিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলো তখন তাজিমের কোলে প্রায় তিন বছরের একটা বাচ্চা।যদিও আফিয়া ভাবছিলো বিষয়টা নিয়ে,কারণ তিন বছরের বাচ্চা কিভাবে হয়! তখন তাজিমের বিয়ের বয়সই মাত্র তিন কি সাড়ে তিন।হয়তো বন্ধুটা বয়সের আন্দাজ ভুল করেছে।তাও.. তাজিম দুই সন্তানের পিতা হয়ে গিয়েছে।ভাবতেই কেমন করে তার বুকটা ভার হয়ে গিয়েছিল।তাই তো সে কোন দ্বিধা ছাড়াই সন্তান সহ বিপত্নীক পুরুষকে বিয়ের জন্য সম্মতি দিয়ে দেয়।
কিন্তু সেদিন তাহমিনার পার্টিতে যা শুনলো তাতে আফিয়া তাজিমের প্রতি রাগ কিংবা ঘৃণা জিইয়ে রাখতে পারেনি।অবশ্য আফিয়া দুটোর কোনটাই রাখেনি।যেদিন ঐ স্থানে তাজিম আর তার সুন্দরী বউকে ফেলে রেখে চলে এসেছিলো সেদিনই আফিয়া তাজিমের প্রতি নিজের সব রকম অনুভুতিকে কবর দিয়ে এসেছিলো।তবে ঐদিন পার্টিতে শোনার পর অনুভূতি হচ্ছে; আর সেটা ! করুনা! তাজিমকে দেখার পর তা সত্যতা জানার পর কেবল করুনাই হচ্ছে।
চলমান....
বন্যার মধ্যে মন মানসিকতা কারোরই ভালো না।তাই উপন্যাস/গল্প দিতেও কেমন দ্বিধা কাজ করে। তারপরেও আজ দিলাম। আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে।
আর হ্যাঁ বলে যাইয়েন কার কার বাড়ির অবস্থা কি? কে কোন অঞ্চলে আছেন,নিজ নিজ অঞ্চলের অবস্থা কি?
হয়তো কিছু দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবো না।আমি ছা পোষা মানুষ তাই দোয়াই আমার একমাত্র উপহার।
ভালোবাসা নিবেন ভালোবাসা দিবেন।😚❤️💚
হ্যাপি রিডিং 🥳
বাংলাদেশ আমাদের সবার হোক🇧🇩







0 মন্তব্যসমূহ