#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৭১_সারপ্রাইজ_পার্ট
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
৪৫ দিন পর...
নাসিফ ছেলেদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতে মসজিদে যায়।আফিয়া উঠে আগে মেয়েকে পরখ করে দেখে নিলো পটি,হিসু করেছে কি-না! ডায়পার বদলে দিলো। তারপর একটু খাইয়ে দিলো। ডায়াপার বদলানোর পর থেকেই কান্না করছিলো সে। খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়লো ঐ অবস্থাতেই।আফিয়া আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলো এই ভেবে যে এই বয়সেও বাচ্চাটাকে দুনিয়ায় আনার পরেও যথেষ্ট পরিমাণ খাবার দিতে পারে।তাইফেরও সময়ও তার বুকের খাবারে সমস্যা হয়েছিল।যদিও পরে কেন জানি তা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।ছোট মেয়েকে কোল থেকে তুলতেই দেখলো দরজায় আরেক জোড়া কোমল পায়ের আর্বিভাব।
“ তুলতুল!"
“ আসসালামু আলাইকুম আম্মু!
_ শুভ সকাল।"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম আম্মা।আসো।"
নাবীহা নামাজ পড়ে এক পাড়া কোরআন তেলাওয়াত করেই মায়ের কাছে ছুটে এসেছে।সে শুনেছে তার বোন কান্না করছে।মা নিশ্চয়ই নামাজে বসেছে তাই হয়তো বোন কান্না করছে ভেবেই সে দৌড়ে এসেছে কিন্তু এসে দেখলো বোন মায়ের কোলে ঘুম।
“ ঘুমিয়ে পড়েছে বোন?"
“ হুম।
_ তুমি কিছু খাবে?ফ্রিজে দই চিড়া মাখানো আছে, একটু কলা দিয়ে কচলে দেবো আম্মু?"
“ আমি এখন খাবো না।"
“ একটু কিছু খাও? আচ্ছা এক কাজ করো গিয়ে দেখো রুকাইয়া আন্টির নামাজ শেষ কি-না? যদি শেষ হয় তাহলে বলো তোমাকে একটু ইসুব গুল,তোমকা দানা,মেথি গুঁড়া আর অ্যালোভেরা দিয়ে শরবত বানিয়ে দিতে।
খালি পেটে খেলে পেটটা নরমও থাকবে আর গ্যাসের সমস্যাও হবে না। চুলগুলো আরো সুন্দর হবে।"
“ মেথি আমার ভালো লাগে না!"
“ একটু খেতে হয় আম্মা।খেলে চুলগুলো আরো সুন্দর হবে।ত্বকে ব্রণও উঠবে না।দেখো আম্মু তোমার ভালোর জন্যই তো বলি, বলো!"
“ তুমিও খাবে?"
“ হ্যাঁ খাবো তো।"
“ আচ্ছা ঠিক আছে!"
বলেই নাবীহা বেরিয়ে গেলো। এদিকে ছোট জনকে খাওয়াতে খাওয়াতে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। আফিয়া। চমকে উঠলো তার এখনও সালাত আদায় করা হয়নি। দ্রুত মেয়েকে দোলনায় রেখে বাথরুমে ঢুকে পড়লো। প্রাত্যহিক কাজ সম্পন্ন করে রাতের কাপড় ছেড়ে ওযু করে বেরিয়ে আসলো।
নাবীহা বাবা মায়ের বিছানায় শুয়ে শুয়ে একটা বই নাড়াচাড়া করছে।
“ বোনকে দেখো আমি নামাজে দাঁড়াই।"
মায়ের কথায় উঠে বসে, বোনের দোলনার পাশে গিয়ে বসলো।দোলনায় থুতনি ঠেকিয়ে এক হাত দিয়ে বোনের মাথা বুলাতে বুলাতে দোলনাটা হালকা দুলাতে থাকলো।আফিয়া নামাজ পড়লো, অনেক সময় নিয়ে মোনাজাতে কান্নাকাটি করলো, বাচ্চাদের জন্য দোয়া করলো, আল্লাহর কাছে বাচ্চাদের জন্য সুন্দর এবং উত্তম আগামী চাইলো,স্বামীর সুস্থতা, কর্মে সফলতা, দীর্ঘায়ুসহ পরিবারের সবার জন্য দোয়া করলো।মৃত বাবার জন্য মাফ চাইলো, উত্তম উপহারের জন্য দোয়া করলো। অতঃপর নিজের জন্য আখিরাতের মাফ,আযাবমুক্ত কবর জীবন,দাজ্জালের কুটিলতা থেকে রক্ষা,সহজ মৃত্যু, সুস্থ জীবন চাইলো। প্রতিবেশী , দেশের জন্য দোয়া করলো। মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করলো।
অবশেষে মোনাজাত শেষ করে লম্বা সময় নিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করলো।এর মধ্যেই রুকাইয়া এসে নাবীহাকে শরবত দিয়ে গিয়েছে। সে বোনের পাশে বসেই সেই শরবত একটু একটু করে পান করে শেষ করলো। অতঃপর গ্লাসটা পাশেই থাকা সেন্টার টেবিলের রেখে আবারও আগের মতোই গাল ঠেকিয়ে বসলো।তারও ঝিমুনি আসতে শুরু করলো।
আফিয়া দীর্ঘ সময়ের প্রার্থনা পর্ব শেষ করে জায়নামাজ ভাঁজ করে হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েই দেখতে পেলো ছোট বোনের দোলনার উপর গাল ঠেকিয়ে বড় বোন ঘুমুচ্ছে।
সে মৃদু হাসলো অতঃপর জায়নামাজ নির্ধারিত স্থানে রেখে বড় মেয়েকে আগলে কোলে নিতে চেষ্টা করলো।নাবীহার ঘুম ছুটে গেলো।মা তার বাহু ধরে উঠানোর চেষ্টা করছে,তাই তার মুখটা মায়ের কোলে গিয়ে ঠেকছে।সে বললো,
“ আমি উঠতে পারবো।"
“ হ্যা আসো মায়ের কাছে।"
নাবীহা মায়ের হাত ধরে উঠে বাবা মায়ের বিছানায়ই গা গড়িয়ে দিলো। আফিয়াও মেয়েকে সুন্দর করে শুইয়ে দিয়ে গায়ের উপর পাতলা কাঁথা মেলে দিয়ে এসির তাপমাত্রা আরো কমিয়ে দিলো। তারপর ছোট মেয়েকে আরেকবার দেখে নিয়ে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে।
কিছু সময়ের মধ্যেই ঘরে ফিরলো নাইফ।সে এখন নিজের পড়াশোনা করবে।নাসিফ তার ছোট ছেলেকে নিয়ে মসজিদেই রয়ে গেলো।
“ আসসালামু আলাইকুম,বড় হুজুর আছেন?"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম।জ্বী উনি ভেতরেই আছেন।"
“ ভেতর কি এখনো বাচ্চা পড়াচ্ছে? আমার একটু জরুরী কথা ছিলো উনার সাথে! একটু বলবেন কষ্ট করে?"
“ আপনি গিয়ে ভেতরে বসেন, আমি উনাকে বলছি।"
“ জ্বী আচ্ছা!"
মসজিদের খাদেম, নতুন! তাই নাসিফকে চিনে না।নাসিফ আর নাযির আহমাদ তাইফকে নিয়ে ভেতরে গিয়ে বসলো।এখান থেকে বাচ্চাদের পড়ার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।কি মধুর সেই ধ্বনি। উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াতের এই শব্দ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর একটি শব্দ গুচ্ছ। তাইফ বাবার হাঁটুর উপর বসেছে।এটা তার পরিচিত জায়গা।সে নিয়মিতভাবে এখানে আসে এবং আরবী পড়ে। আরেকটু পরেই তার ক্লাস শুরু হবে।এখন যারা পড়ছে তারা এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।এতিম বাচ্চা।প্রায় পঞ্চাশটার মতো এতিম বাচ্চা এখানে থাকে।তাদের ভরণপোষণ এর দায়িত্ব স্থানীয় কিছু বিত্তবানদের হাতে। আল্লাহ হয়তো এই দায়িত্ব দিয়েই তাদের বিত্তবান বানিয়েছে।এর মধ্যে তাদের পরিবারেরও অংশ আছে। মসজিদের স্থান অন্য কারো হলেও মসজিদ নির্মাণের অর্থ সবটাই নাযির আহমাদ দিয়েছেন।
এবং এখনও এতিম বাচ্চা থেকে হুজুরের বেতনের কিছু অংশ তিনি দিয়ে যান।নাযির আহমাদ বিশ্বাস করেন এই জীবনে আখেরাতের জন্য উনার এতটুকুই কামাই।এটাই রোজ হাশরে উনার সাথে যাবে। আল্লাহ যদি উনার কোন গুনাহ মাফ করে হয়তো এটা দিয়েই করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব জানেন এবং বুঝেন।
তবে মসজিদ কমিটির কোন পদে তিনি থাকেননি।তিনি সংসার আর আল্লাহর কাছে ব্যস্ত, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি ততটা আগ্রহী নয়। কিন্তু বিচার শালিসে উনাকে সবার চাই।নাযির আহমাদ সুবিবেচ্য মানুষ বলেই খ্যাত মহল্লায়।তাই উনার রায়ে সবার বিশ্বাস থাকে।
নাযির আহমাদ নাতীর দিকে চেয়ে রইল অপলক,কি দারুন গড়নে আল্লাহ তার এই নাতীটাকে গড়েছেন।যেমন দিয়েছেন গাঁয়ের রঙ তেমনি গাঠনিকতা।তার সঙ্গে দুর্দান্ত মেধা।এই অল্প সময়ের মধ্যেই আম পাড়া নিয়ে নিয়েছে। আল্লাহর রহমতে নামাজ সহ গাড়ীতে যাতায়াতের দোয়াটাও দারুন পাঠ করে।মসজিদে ঢুকতে গিয়ে কি সুন্দর করে পড়লো, ‘ আল্লাহুমাফতাহ লি আবওয়াবা রাহমাতিকা'
[হজরত আবু উসাইদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন যেন সে বলে ‘আল্লাহুম্মাফতাহ লি আবওয়াবা রাহমাতিকা’
অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন’ আর যখন বের হবে তখন যেন বলে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।’ (নাসায়ি ৭২৯)
কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে রাসুল সা. এ দোয়া পড়েছেন,
أَعُوذُ بِاللَّهِ العَظِيمِ، وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ، وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ، مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
উচ্চারণ : আউজুবিল্লাহিল আজিম, ওয়া বি ওয়াজহিহিল কারিম, ওয়া সুলতানিহিল কাদিম, মিনাশ শয়তানির রাজিম।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘আল্লাহুম্মাফতাহ লি আবওয়াবা রহমাতিক। অর্থ : আমি বিতারিত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি মহান আল্লাহর এবং তার সম্মানিত সত্ত্বার এবং সুদৃঢ় শক্তিমত্তার।
মসজিদে প্রবেশ করার সময় প্রথমে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। প্রবেশের সময় দরুদ পড়াও সুন্নাত। দরুদসহ এক সঙ্গে দোয়াটি এভাবে পাঠ করা যায়-
بِسْمِ اللَّهِ وَالصّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللهُمَّ افْتَحْ لِى أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রসুলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফতাহ লি আবওয়াবা রহমাতিক।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, দরুদ ও শান্তি আল্লাহর রসুলের ওপর বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।
মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া
بِسْمِ اللَّهِ وَالصّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِك، اللَّهُمَّ اعْصِمْنِي مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিক, আল্লাহুম্মা সিমনি মিনাশ শয়তানির রাজিম।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, দরুদ ও শান্তি আল্লাহর রাসুলের ওপর বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, আমি আপনার অনুগ্রহ প্রত্যাশী। হে আল্লাহ, আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করুন।
অথবা শুধু এতটুকু পড়লেও যথেষ্ট اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِك
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিক।
অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার অনুগ্রহ প্রত্যাশী।
হজরত আবু হুমাইদ আল-সায়িদি রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সা. বলেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে সে যেন নবী করিম সা.-এর ওপর দরুদ পড়ে।
প্রবেশের সময় ও বের হওয়ার সময় নিম্নের দোয়াটি পাঠ করে। (মুসলিম ৭১৩, ইবনে মাজাহ ৭৭২)
অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ বিন উমর রা. বর্ণনা করেছেন, রাসুল সা. মসজিদে প্রবেশের সময় উল্লিখিত দোয়াটি পড়তেন। বান্দা যখন তা বলবে তখন শয়তান বলে সে সারাবেলা আমার থেকে সুরক্ষিত অর্থাৎ শয়তানের অনিষ্ঠতা থেকে সে মুক্ত। (আবু দাউদ ৪৬৬)]
নাযির আহমাদ নিজের ছেলে এবং বউমার প্রতি সন্তুষ্ট।তারা আধুনিক চিন্তার পিতা মাতা হয়েও ছেলে মেয়েকে উচ্ছন্নে পাঠায়নি। যথেষ্ট সুশিক্ষিত করতে এবং ধর্মীয়ভাবে গড়ে তুলতে অনেক পরিশ্রম করছে। শিক্ষা তো সব বাবা মা'ই দেয় কিন্তু সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে পারে কয়জনে? আল্লাহর কাছে উনি নিজের বংশধরের জন্য কল্যাণকর দোয়া করেন।
“ আসসালামু আলাইকুম গাজী সাহেব,কেমন আছেন সবাই বলেন?"
বড় হুজুর আহমাদুল্লাহ বিন আহসানুল্লাহ ইখতাব।তিনি একজন খতিব, মাওলানা এবং পবিত্র গ্রন্থ কোরআন এর উপর পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন। সম্পূর্ণ ধর্মীয় পথে চলতে এবং মানবসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতেই সাধারণ জীবনযাপন করছেন।তিন পুত্র এবং এক পুত্রি নিয়ে পাশেই ছোটখাটো একটা ফ্ল্যাটে কোনভাবে দিনগুজার করতেন। তবে বেশ কয়েক বছর হলো ধীরে ধীরে পুত্ররা বিয়ে করে অন্যত্র আবাস গড়েছেন এবং একমাত্র পুত্রিকে শ্রীঘ্রই বিবাহ দেওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছেন।
উনার তিন পুত্রের দুজন ঈমাম, একজন তাফাসসিরে মাওলানা এবং আলেম এবং একমাত্র কন্যা আল্লাহর রহমতে আলেমা।পুত্রদের ঘর ভরা এখন কচিকাঁচা। অর্থাৎ মাওলান সাহেব আল্লাহর দুনিয়ার সুখী মানুষদের মধ্যে অন্যতম একজন।
শোনা যাচ্ছে কন্যার বিয়েও যার সাথে ঠিক করেছেন তিনিও একজন ঈমাম।
নাযির আহমাদের সাথে সম্পর্ক বহুদিনের হলো।এখানে এসে চাকরি নেওয়ার পর থেকেই নাযির আহমাদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। উনার জীবনের যেকোন সমস্যায় নাযির আহমাদ চেষ্টা করেছেন বিনা স্বার্থে সহযোগিতা করতে।তিনিও নাযির আহমাদের যেকোন সমস্যার সমাধান আল্লাহর পুস্তকানুসারে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন।
নাযির আহমাদ উঠে সালামের প্রত্যুত্তর করে নিজেদের মোসাফা করলো, অতঃপর কোলাকুলি করে আরো কিছু কুশলাদি বার্তা বিনিময়ে নিজেদের আলাপ শেষ করলো।নাযির আহমাদের পর নাসিফও একই কাজ করলো। এবং মাওলানা সাহেব ঝুঁকে জুনিয়র গাজীকেও বললেন,
“ আসসালামু আলাইকুম ছোট গাজী। কেমন আছেন? আপনার পড়াশোনা কতদূর?"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম, আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি কেমন আছেন বড় হুজুর?"
“ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর মেহেরবানী, রহমত করে আল্লাহ'ই ভালো রেখেছেন।"
“ আপনার সাথে জরুরী কিছু কথা ছিলো হুজুর!"
“ হ্যাঁ অবশ্যই বলো!"
নাসিফকে বললেন কথাটা হুজুর।নাযির আহমাদ বললেন,
“ এখানে বসেন; তারপর বলছি!"
অতঃপর সবাই বসলো।
“ আসলে আপনাকে তো আগেও বলেছি আমি আমার ছোট ছেলেটাকে হাফেজ হিসেবে দেখতে চাই।এখন ও খুবই ছোট,তাই এত তাড়াতাড়ি তো আর মাদ্রাসায় দিতে পারছি না। এদিকে সে বাসায় সারাক্ষণ দুষ্টুমি করতে থাকে।একটা সেকেন্ড তার মধ্যে স্থিরতা নেই।কিছু না কিছু সে করবেই!"
“ ছোট মানুষ। পরিবারের ছোট হলে এরকম একটু আধটু করবেই।এখন বকছো ভবিষ্যতে এগুলোই মনে পড়বে দেখো!"
“ হ্যাঁ তাতো বুঝতেই পারছি। কিন্তু আমি চাইছিলাম অন্যকিছুর ব্যবস্থা করতে!"
“ সেটা কেমন?"
“ বলছিলাম হঠাৎ করেই মাদ্রাসায় রেখে আসলে থাকতে পারবে না।আর আমি ওর জন্য ভেবেছি হয়তো এই বছরের শুরুতেই দিয়ে দিবো। কিন্তু তার আগে আমাদের ছেড়ে থাকার অভ্যাস করতে হবে।"
“ হ্যাঁ চিন্তা তো ঠিক এবং উত্তম সিদ্ধান্তও বলা যায়। তাহলে কিভাবে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি বলো?"
হুজুর বয়স্ক,বিজ্ঞ। অবশ্যই নাসিফের এখনকার আলাপের কারণ বুঝতে সময় লাগেনি।তাই সহজেই প্রশ্নটা করে ফেললো,
“ আমি বলছিলাম এখন কিছুদিন আপনার অধীনে ও নিজের পাঠ শুরু করুক।এখানে সারাদিন থাকুক, দুপুর আমরা কেউ এসে খাইয়ে যাবো অতঃপর বাদ এশা নিয়ে যাবো।
মানে আমি বলছিলাম সকাল তো ও পড়েই । সারাদিনও পড়ুক।আমি আসলে ওকে কারো হাতে ছাড়তে ভয় পাই। আমার বাচ্চাটা মাত্রাধিক দুষ্টু আর অবুঝও।আসলে আদরে আদরে এক রোখা হয়ে যাচ্ছে।তাই চাই না ওর জন্য সমস্যা হোক কারো।আবার আপনার এখানেও ঐ বাচ্চাদের ছাড়া তো বাইরের শিক্ষার্থী সকাল-সন্ধ্যার নেই।তাই অফিসিয়াল ভাবে বলতে পারলাম না। কিন্তু আপনি ছাড়া তো কাউকে ভরসাও করতে ভয় হয়।
আমার বাচ্চার জন্য না, তার জন্য।"
বলেই নাসিফ হেঁসে দিলো।তার সঙ্গে হাসলো নাযির আহমাদ এবং হুজুর। হুজুর তাইফের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
“ ফি আমানিল্লাহ্,সব কিছুর মালিক আল্লাহ। তিনিই জানেন কেবল কার জন্য কিসে কল্যান।রেখে যাও ইনশাআল্লাহ যা হবে উত্তমই হবে।আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো তোমার আমানতকে রক্ষা করতে।"
“ আলহামদুলিল্লাহ, আপনি অনেক বড় দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করলেন।তাহলে কাল থেকে নিয়ে আসি একেবারে তৈরি করেই।
_ আজ দিনটা এখন পড়ে যাক।কাল আল্লাহর রহমতে আসবে।"
“ হ্যাঁ এটাই উত্তম।করো এমনি।"
এরপর টুকটাক জাগতিক আলাপে মশগুল হয়ে রইলো তিনজন মাঝে নাসিফ ছেলেকে ভেতরে পাঠিয়ে দিলো যেখানে সকালের বাচ্চারা পড়তে আসে। ছেলের পড়া শেষ হলে একেবারে নিয়েই বাড়ি ফিরবে।
চলমান.....
অবশ্যই সারপ্রাইজ পাওয়ার খুশিতে বেশি বেশি কমেন্ট করবেন!!!







0 মন্তব্যসমূহ