সুখ_ফড়িং_সিজন_২ | পর্বসংখ্যা_০৮

 #সুখ_ফড়িং_সিজন_২ 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_০৮



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


সকাল সাতটা,


রাস্তার পাশে থাকা একটা খালি ভ্যানের উপর শুয়ে আছে, পাশেই দাঁড় করানো আছে তার ইয়ামাহা আর ১৫ এম এর বাইকটি।মাথা সহ বুক অবধি ঢেকে আছে কালো ব্লেজারের কাপড়ে। হেলমেটটা পাশেই রাখা।কোন রকম সিকিউরিটি ছাড়া একদম নির্ভার হয়েই এখানে শুয়েছে।যেন এ পৃথিবীতে চোর,ডাকাত, ছিনতাইকারী অথবা হাইজ্যাকার কোনটাই নেই। অবশ্য যার কাছে নিজের জীবনের‌ই কোন মায়া নেই তার কাছে এগুলো আর কি।

জীবনের মায়া থাকলে কি আর এভাবে হাঁটু,কনুই ছিলে যাওয়ার পর‌ও কেউ বিনা চিকিৎসায় রাত পার করতে পারে? 

সে পারে কারণ তার কাছে বাঁচা মরা দুটোই সমান।


“ রিং রিং রিং "


ফোনের বিকট শব্দে ভ্যানের মাথায় হ্যান্ডেলে বসে থাকা ছোট্ট চড়ুইটা বুঝি ভয়‌ই পেলো।তড়াক উড়ে চলে পালিয়ে বাঁচলো বোধ হয়। যান্ত্রিক শহরে থেকে পরের ঘরে নিজ রাজ্য বুনে নিজেকে রাজা দাবী করা চড়ুই‌ও দিনশেষে ভয় পায়।কাকে? যাদের ছায়ায় নিজেকে মেলে রাজা দাবী করে তাদের‌কেই। অবশ্য ভয় না পেয়েও বা উপায় কোথায়! এই পৃথিবীতে রাব্বুল আলামীনের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি যেই মানব কুল তাদের কীর্তি তো নেহায়েত মানবেই নেই।তারা কখনো সখনো হিংস্র হায়ানাকেও হার মানায়। তাদের শকুনি নজরে পড়লে যে কারো জীবন জাহান্নাম তূল্য হয়ে যায়, বাঘের থাবা থেকে রেহাই পেলেও এই মনুষ্য কুলের থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।


চড়ুই উড়তে উড়তে গিয়ে বসলো বেশ খানিকটা দূরে এক সুউচ্চ ভবনের বিলাসবহুল ফটকের সৌন্দর্য বাড়াতে নিজেকে মেলে দেওয়া বাগান বিলাসের মগ ডালে।মগ ডাল যদিও বাগান বিলাসে থাকে না কারণ তাদের কান্ড শাখা ডগা যাই বলি ততটা মগ ডালের ন্যায় পোক্ত কিংবা সুঠাম নয়।তারা যত‌ই বৃদ্ধ হোক নর্মতা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি,হয়তোবা প্রভুর কাছে অবনত থাকাই তাদের ধর্ম। প্রভু বলতে এখানে তাদের ঠাই দেওয়া প্রকান্ড বৃক্ষ কিংবা কোন ইট সিমেন্টের দেহকেই জাহির করা যায়।সে যাই হোক চড়ুই উড়ে গেলো,ভ্যানের নিচে প্রগাঢ় ঘুমে বিভোর থাকা কুকুর মহাশয়‌ও বিরক্তিতে নাক ছিটকে ঘেউ ঘেউ সুর তুলে অভিশাপ দিতে দিতে স্থান পদত্যাগ করলো,তার স্বাদের ঘুমখানা ভাঙ্গার দায়ে এই দানবের ন্যায় পুরুষকে নির্ঘাত অনাহারি থাকার অভিশাপ দিয়ে গেলো।

এতকিছু ঘটে গেলো অথচ ঘুম ভাঙল না কেবল সেই ব্যক্তির। অবশ্য ঘুমালে ঘুম ভাঙ্গে কিন্তু যে ঘুমায় না তার কিভাবে ঘুম ভাঙ্গবে?


পরপর আটটা কল আসলো। এরপরও আসবে।সে নিশ্চিত যতক্ষণ না কল তুলবে ততক্ষণ অবধি আসতেই থাকবে।তাই নিজের ব্রত ভেঙে অবশেষে ফোনটা পকেট হাতড়ে বের‌ই করলো। চোখের সামনে থেকে কালো কাপড়ের ব্লেজারটা সরিয়ে মুখ বরাবর ফোনটা তুলে ধরলো।পাওয়ারে চাপ দিতেই ভেসে উঠলো।


“ ইয়্যু মিসড ফাইভ কলস ফ্রমস পুচকি।

ইয়্যু মিসড থ্রি কলস বাডী। "


আশ্চর্য হ‌ওয়ার কারণ নেই।কারণ এটা নিত্যকার ঘটনা।তাই তার মুখের অভিব্যক্তি কোন রুপ পরিবর্তন ঘটলো না। শুধু পিটপিট চোখে চেয়ে র‌ইলো।এই চেয়ে থাকাল মাঝেই আরও দুবার কল আসলো এবং কেটেও গেলো। এগারো তম কল ঢুকতেই তার হৃদয়ে বোধহয় কিছুটি অনুভূতি দোল খেলো।যার কারণে রিসিভ বাটনে টান দিয়েই নিজের ভারী কন্ঠে ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করলো,


“ বল!"


*****


“ আছি কোথাও। চিন্তার কারণ নেই। বেঁচে আছি!"


****


“ কেন?"


*****


“ ডাক্তার আছে,ডাক দে। দেখে ওষুধ দিয়ে গেলেই সুস্থ হয়ে যাবে।"


****


“ আমি কি ডাক্তার? আমার কি কাজ?"


*****


“ বহুবছর আগেই এই ট্রিকস ব্যবহার করা শেষ; উনাদেরকে নতুন কিছু ট্রাই করতে বল!"


*****


“ যা খুশি হোক।আমি আসছি না।"


*****


“ রাখ !"


শেষে একটি কঠিন ধমক দিয়ে ফোনটা কাটলো।ফোন কেটে ওভাবেই অনেকক্ষণ শুয়ে‌ রইলো। শক্ত অনুভূতিহীন অক্ষু জোড়ার কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো গরম নোনা জল। পৃথিবীর সব তিক্ততা কেন তার সাথেই ঘটলো।এত কেন বিষ ছেয়ে আছে তার সর্বত্র! কেন সব সম্পর্কের দাম কেবল তাকেই দিতে হবে?


নিজের ভুল হাঁতড়ে বেরিয়েও কাউকে প্রখর ভালোবাসা ছাড়া আর কোনটাই পেলো না।

মিনিট পাঁচেক অতিক্রম হতেই আবারও কল আসলো। নাম্বার না দেখেই কল রিসিভ করতেই ঐপার থেকে কি ভেসে আসলো শোনা না গেলেও তা্য উত্তরে ঠিক‌ই বোঝা যাচ্ছে,


****


“ আছি; আশেপাশেই তোর!"


***



 

গোল্ডেন রোজে!"


****


“ জানি না! 

শুধু জানি পেতেই হবে!"


***


“ আসছি!"


কল কেটে চট করে উঠে বসলো।এতে করে কোমরে চাপ লেগে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হলো। সঙ্গে হাঁটুর কাটায় জ্বালা আরম্ভ হলো। ককিয়ে উঠে কোমরে হাত রেখে অনেক সময় ঝুঁকে বসে র‌ইলো। সঙ্গে সঙ্গে কল্পনায় আর্বিভাব হলো এক অতি যত্নশীল নারীর প্রতিচ্ছবি।


“ কোমরে ব্যথা হচ্ছে?"


“ ভীষণ!"


“ একটানা বসে থাকলে এমন‌ই হয়!"


“ উফ্,হুম!"


নিজের কোমরে হাত রেখে কঁকিয়ে উঠলো এবং ব্যথাতুর আ‌ওয়াজ তুলে সম্মতি সূচক শব্দ বের করলো। সামনে থাকা নারীটির ভীষণ দরদ হলো,সে এগিয়ে এসে পুরুষটির বাম বাহুতে নিজের ডান হাত রেখে বাম হাতের আজলায় আঁকড়ে ধরলো পুরুষটার কোমরের ব্যথার জায়গায়।ব্যথার জায়গায় চাপ লাগায় আরো যন্ত্রনা অনুভত হতেই হাতটা সরিয়ে নিতে অনুরোধ করলো।


“ হাত সরাও,ব্যথা করছে!"


নারীটি করুন চোখে তাকিয়ে র‌ইলো কিছু সময়। মিনিট অতিবাহিত হতেই চমকিত ভঙ্গিতে বললো,


“ এক কাজ করো এখানে উপুড় হয়ে টান টান হয়ে শুয়ে পড়ো।"


“ কেন? কি করবে?"


“ শোও না দেখছি আমি।"


বলেই সে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে।কিছু সময় পর আবার ফিরে এলো সঙ্গে নিয়ে এসেছে গরম গরম রসুন ছ্যাচার সাথে সরিষার তেল। ততক্ষণে পুরুষটা নিজের ফ্লোর বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েছে।তার পড়নে কেবলি একটা ট্রাউজার।ঘন লোমশ বুকটা নরম জাজিমের চাপে নেতিয়ে পড়েছে।উপুড় হয়ে শুয়ে কোমরে হাত রেখে চোখ বুজে আছে।নারীটি এসেই তার নরম কোমল হাতে সেই ব্যথার জায়গায় আলতো করে চাপ দিতে থাকলো।গরম কিছুর সাথে নরম ছোঁয়া পেয়ে চোখ মেলে তাকালো,চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,


“ কি করছো?"


“ কিছু না।শুয়ে থাক। দেখবে কিছু সময়ের মধ্যেই ব্যথা গায়েব হয়ে যাবে একদম ইনশাআল্লাহ।"


“ তোমাকে এত কষ্ট করতে হবে না পাখি,আমি একটা পেইন কিলার নিলেই ঠিক হয়ে যাবো।"


“ আচ্ছা সে দেখা যাবে।এখন একটু চুপচাপ শোও তো!"


তারপর আর কোন কথা হয়নি‌।সে নির্দেশ মোতাবেক শুয়ে র‌ইলো আর ঐ নারী! আদুরে আদুরে ছোঁয়ায় পুরো শরীর আলতো ভাবে চেপে চেপে মালিশ করে দিলো তার সাথে একদম পেশাদার থেরাপিস্টের মতো করে ব্যথার জায়গায় ম্যাসেজ করলো।কোমর থেকে শুরু করে মাথা,পায়ের পাতা অবধি এই মালিশের আদর চলেছিলো সেদিন।এত আদুরে ছোয়া আর ভালোবাসার যতনে গভীর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছিল।


সেই ঘুম ভেঙ্গেছিলো সেদিন সন্ধ্যায়।চোখ মেলে নিজের সামনেই দেখতে পায় ভালোবাসার সেই নারী,সেই মায়াবতীর মুখটা।তেল চিটচিটে নাকের উপর এক গুচ্ছ অবাধ্য চুল এসে উড়োউড়ি করছে

চোঁখের পাতায় আছড়ে পড়ে আছে আরো এক গুচ্ছ কেশ-লতা। 

সে নিজের ভাঁজ করে রাখা হাতটা উচিয়ে নাকের উপর থেকে চুলগুচ্ছকে সরিয়ে ঘুমন্ত পরীর নাকের উপরেই একটি চুমু দিলো। অতঃপর এক‌ই কাজ করলো চোখের পাতায়‌ও।

তার শুষ্ক খরখরে ঠোটের উষ্ণ ছোঁয়ায় ঘুম ভেঙ্গে গেল ঘুম পরীর।চোখ মেলে নিজের একদম সন্নিকটে নিজ পুরুষকে দেখে একটু চমকালো কিন্তু পরক্ষনেই সব স্বাভাবিক করে ফেললো।ঐ ভাবে শুয়ে থেকেই পুরুষের কপালে,গালে হাত ছুঁয়ে মায়াময় চোখে চেয়ে চিন্তিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,


“ ব্যথা কমেছে?"


“ বোধ হয়,না কমলেও কমে যাবে।

_ এত কষ্ট করার কি দরকার ছিলো সোনা!"


“ তো আপনের অসুস্থতায় আমি সেবা করবো না তো কে করবে?

_ আরেকজন আছে না কি কোথাও?"


এহেন মুহূর্তে এহেন কথা কেবলি তার পক্ষেই সমূহ।তা এই পুরুষের ভালোই জানা।তাই সে তর্কে না গিয়ে স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বললো,


“ এমন কিছু বলিনি।

_ তাছাড়াও!"


এতটুকু বলে থামলো। অতঃপর ঘোর লাগা গভীর চাহনিতে নারীটির তৈলাক্ত বদনে চেয়ে ওষ্ঠের খাঁজে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে বললো,


“ এ জীবন একজনের নামে লেখা। আমৃত্যু আমি তার‌ই!"


ব্যস! আর কিছু দরকার নেই। এতটুকুই যথেষ্ট ছিলো তাকে বদ করতে। মুহুর্তে সে বুকের উপর আঁছড়ে পড়লো।দুই হাতে শক্ত করে আকড়ে ধরলো নিজের সাথে।বিরবির করে বললো,


“ তুমি ছাড়া আমার কেউ নাই।আমাকে বাদ দিয়ে আর কাউকে তোমার ভাবনায় আনলেও আমি নিঃস্ব হয়ে যাবো।বিলিন হয়ে যাবে তোমার পারী।

কোথাও তার চিহ্ন‌ও খুঁজে পাবে না।বলে দিচ্ছি আমি!"


কথা শেষ হতেই নিজের ঢিলে হাতের বাঁধন শক্ত করলো।বুকের সাথে চেপে ধরলো।এতটই কঠিন হয়েছে এই বাধন যে মনে হচ্ছে বুকের সাথে বুকের চাপে পাঁজর ভেঙে খানখান হয়ে যাবে।সে নিজ নারীর ঘাড়ে মুখ গুজে দাঁত দিয়ে কামড় বসিয়ে বললো,


“ উল্টাপাল্টা বকতে নিষেধ করেছি না? তারপরও সাহস হয় কি করে?"


নারীটির তরফ থেকে উত্তর নেই। পুরুষ তার মতোই বললো,


“ না আমি তোমাকে ছাড়ছি আর তোমাকে ছাড়তে 

দিচ্ছি।

আমার নিঃশ্বাস শেষ হয়ে যাক, কিন্তু তুমি আমার। আমি আমার বিধবা করে রেখে যাবো।তাও আমি বিনা এই পৃথিবীতে তোমার প্রতি দ্বিতীয় কারো অধিকার আমি বরদাস্ত করবো না।তার জন্য যদি পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয় আমি তাই করবো! তবুও তুই আমার, শুধুই আমার!"


তার কথা শেষ হতেই নারীটি নিজের মুখ তুলে তাকালো। সর্বক্ষণ কঠোর আভায় আঁটকে থাকা এই পুরুষের নয়ন জোড়ায় তার বেলাতেই কেবল শীতলতায় ছেয়ে থাকে।সবার সামনে যেই চোখে কেবল‌ই কঠোর আর হেয়ালিপনায় পূর্ণ তার বেলাতেই কেন তা ভালোবাসা আর ভালোবাসায় ট‌ইটুম্বুর থাকে! এত এত আদর থাকে! থাকে কামুকতা! মাদকীয় চাহনি! নারীটির এভাবে তাকিয়ে থাকায় ঘোর লেগে গেলো সেই পুরুষের পুরুষ সত্ত্বায়।একে অপরের সাথে এমনিতেই লেপ্টে আছে।উদাম গায়ের সাথে খোলামেলা হয়ে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছে তাকে, মুহূর্তে সব ব্যথা,সব উচাটন কেটে গেলো। নিজেদের ভেতরে আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হলো।

শক্ত হাত জোড় নরম দেহের ভাঁজে ভাঁজে খেলতে আরম্ভ করলো।এহেন ছোঁয়ায় বরাবরই নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া নারীটির নিত্যাভাস। এখনও তাই করলো।সে লজ্জায় আড়ষ্ট করে দেওয়া পুরুষের বুকে‌ই মুখ গুজলো লজ্জা লুকাতে।অথচ তাতে এই পুরুষের আনন্দের শেষ নেই।সে অতি আলতো স্বরে ডাক দিলো,


“ ব‌উ!"


তাতেও লাভ হলো না।এতে করে সে দুষ্টু হাসি দিলো। নিজের হাতের কারিশমায় নারীটিকে আরো লজ্জায় ডুবিয়ে দিয়ে চুলের গোড়ায় আঙ্গুল গলিয়ে মুখটা উপরে তুলে চোখে চোখ রাখলো। ঠোঁটের কোনে এটে রাখা দুষ্টু হাসিকে প্রশমিত করে ঠোঁটের ভাঁজে ঠোঁট চেপে ধরলো। সঙ্গে সঙ্গে হাতের বাঁধনে চেপে ধরে নিজের আশি কেজী ওজনের দেহের নিচে চাপা দিলো তেপান্ন কেজীর ছোট কোমল লতার ন্যায় দেহখানাকে।


চলমান.....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ