#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৫৫
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
একটা লুঙ্গি আর সেন্টু গেঞ্জি গায়ে পড়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো নাসিফ।আফিয়াও রাতের পোশাক গায়ে দিয়ে চুলের গোড়ায় তেল মাখতে মাখতে বিছানায় বসলো হাঁটু ভাঁজ করে।নাসিফ হাতের মুঠোফোনটা নিয়ে একটু নজর বুলাতে থাকলো। আফিয়া চুলের গোড়ায় তেল মাখা শেষ করে একটু উঁচু করে হাত খোঁপা করলো। এরপর একটি কাপড়ের খোঁপা দিয়ে এই খোঁপা আটকে নিলো।পাশ থেকে লোশনের বোতলটা নিয়ে নিজের হাতে পায়ে লোশন মেখে নিতে নিতে আড় চোখে নাসিফকে দেখছে।নাসিফ বালিশটা খাটের হেডের সাথে ঠেকিয়ে রেখে আধ শোয়া মোবাইলে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছে। লোশন মাখানো শেষ করে মাথার বালিশ ঠিক করে টেবিল ল্যাম্প বন্ধ করলো।
নাসিফের মুঠোফোনটা কেড়ে নিয়ে সেটা টেবিলের উপর রাখলো।নাসিফ বালিশ ঠিক করে সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো।আফিয়া মাথার বালিশ দেখে নিয়ে মাথা পাততেই নাসিফ নিজের বাম হাতটা মেলে দিলো।আফিয়ার মাথা নাসিফের বাহুতে পড়লো।আফিয়া মুচকি হাসলো।নাসিফ আরো এগিয়ে এলো।আফিয়ার সাথে একদম মিশে গিয়ে ডান হাতে আফিয়াকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো।
সারাদিনের সাংসারিক ক্লান্তি দূর করতে দুজনের একান্ত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের শুরুটা এভাবেই হলো।নাসিফ যখন নিজ সঙ্গিনীর মোহে মাতোয়ারা হচ্ছে ঠিক তখনই আফিয়া বললো,
“ কি বলেন এগুলা সারাদিন বাচ্চাদের?"
আফিয়ার গ্রীবার নরম অংশ থেকে নিজের শুষ্ক ঠোঁট তুলে ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ঐ ক্লান্ত ডাগর হরিণী আঁখির উপর নিজের উচ্ছল কিন্তু শান্ত নজর ফেললো নাসিফ।আফিয়া নিজের উত্তর পাওয়ার জন্য চুপ রয়ে তাকে সময় দিলো। দুজনের ভারী নিঃশ্বাসের ছন্দ তাল মিলিয়ে চলছে। ঠোঁটের থেকে ঠোঁটের দুরত্ব কেবল ইঞ্চি দুয়েক বাকী সবার অবস্থা এখনও স্থায়ী।নাসিফ আফিয়ার বাম বাহুতে আদুরে ভঙ্গিতে নিজের ডান হাত বুলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো
“ কি বলেছি?"
“ একটু আগেই তো মেয়েকে বললেন, দুপুরেও ছেলেকে নিয়ে বাইরে থেকে ঘুরে এসেই কি সব বললেন। তাছাড়াও দেখছি তিন চারদিন ধরে আপনি কেমন কেমন জানি করছেন।আমাকে সকালে পিল খাওয়ার বিষয়েও কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গিয়েছিলেন! কি চলছে কি আপনার মনে?"
নাসিফ আফিয়ার কথার উত্তর দিলো না।উল্টো আফিয়ার বিউটি বোনে নিজের ওষ্ঠের চাপ দিয়ে হাতটাকে ছুটালো নরম দেহের ভাঁজে ভাঁজে।আফিয়া স্বামীর সোহাগে মাততে গিয়েও মাতলো না।তার তো উত্তর চাই!নাসিফ যখন গভীর ভাবে আফিয়ার কন্ঠনালীতে বিচরণ করছে তার ঠোঁটের লেহনে ঠিক তখনই আফিয়া স্বামীর দু চারটা সাদা এবং অজস্র কালো চুলের মুঠি ধরে আস্তে করে বললো,
“ উত্তর দিন!"
নাসিফ বোধহয় বিরক্ত হলো।এমন মুহূর্তে বাঁধা দেওয়া তার একদম পছন্দ নয়।তা আফিয়া জানে। তাও কেন?
সে মুখটা তুলে কন্ঠটাকে একটু শক্ত করেই বললো,
“ সমস্যা কি? এমন করছো কেন?"
আফিয়া নাসিফের সেন্টু গেঞ্জি থেকে বেরিয়ে আসা লোমশ বুকের উপর নিজের আঙ্গুল দিয়ে আলতো করে ঠেকিয়ে রেখে গলায় মাদকতা ঢেলে বললো,
“ উত্তর দ্যান!"
নাসিফ আফিয়ার হাতটা বুক থেকে সরিয়ে নিজের হাতের ভাঁজে মিলিয়ে নিয়ে আঙ্গুলের মাঝে আঙ্গুল ঢুকিয়ে বালিশের সাথে চেপে ধরলো।দৃঢ় কন্ঠে বললো,
“ সকালে।"
অতঃপর আফিয়ার ঠোঁটও বন্ধ করে দিলো।পায়ের সাথে পা পেঁচিয়ে রাতটাকে আরো গভীর করে তুললো। উষ্ণ আদর আর হিমায়িত স্পর্শে হিম ধরিয়ে দিলো এক পঁয়ত্রিশ উর্ধ্ব রমনীর দেহের প্রতিটি লোমকূপকে।
ভোরের প্রথম প্রহর....
নাইফ আজানের শব্দে উঠে গেলো।যেহেতু সে প্রায় বছর এক ধরেই আলাদা ঘরে থাকে তাই তার সবকিছুই আলাদা।এখন সে অনেক বড় বাচ্চা।তাকে আর বাবা মায়ের যুদ্ধ করে উঠাতে হয় না। এলার্ম ঘড়িটাই জানিয়ে দেয় তার উঠার সময় হয়ে গিয়েছে যদিও মা একটু পর এসেই জিজ্ঞেস করবে বাবু উঠেছো?
খাটের পায়ের নিচে মকমলের পাপসের উপর পা রেখে নিজের ঘরের পড়া জুতো জোড়া খুঁজে পা গলিয়ে নিয়ে বাথরুমে ঢুকলো।এখন ওযু করবে, পোশাক পরিবর্তন করে নামাজ পড়তে মসজিদে যাবে সেখানেই নামাজ আদায় করবে অতঃপর দ্রুত বাড়ি ফিরে অন্তত এক ঘন্টা কোরআন তেলাওয়াত করবে।এটা তার রোজকার দায়িত্ব। করতেই হবে।নয়তো বাবা পিঠের ছাল তুলে দিবে; এটা অবশ্য আগের ঘটনা।এখন নাইফ নিজেই পড়ে এবং ছোট ভাইবোনকেও পড়ায়।এটাও তার বড় ভাই হওয়ার প্রথম দায়িত্ব।মা ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছে। নাইফ যা করবে তার ছোট ভাইবোনেরা তাই করবে! অর্থাৎ ছোট বোন ভাইয়ের আদর্শ হলো তার বড় বোন অথবা ভাই। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বড় ভাইবোনদের আদর্শবান থাকা একান্ত জরুরী।আর নাইফ চায় না তার ভাই-বোন খারাপ হোক, খারাপ লোকের সাথে মিশুক।তাই সে এখন যার-তার সাথে মিশে না। যে-কারো সাথেই খেলে না!
বলা যায় নাইফের বন্ধুমহল এখন তার স্কুলেই সীমাবদ্ধ।তাও মোটামুটি সবই ভালো এবং ভদ্র ও সুশীল ছেলে।
স্কুলের পর তার যা আছে সব তার পরিবারের সাথে।আর অন্য যা দরকার সব মামার সাথে আলাপ করে।তার মামাই তার বড় বন্ধু।সালাহ যতই ব্যস্ত থাকুক উঠতি বয়সের ভাগ্নেকে নিয়ে তার বেশ ভাবনা।তাই সে সময় দিতে একটুও ভাবে না।
ছেলেটা তার বিশাল ভক্ত তা সে অনেক আগেই আন্দাজ করে নিয়েছে তাই সেও সুযোগটা ভালোই কাজে লাগায়। অবশ্য এটাও তার বোন দুলাভাইয়ের অনুরোধে করছে।নয়তো বাচ্চাদের আবেগ নিয়ে সে ফায়দা লুটে না।তবে এটাতে যেহেতু ভালো দিকই আছে তাই অন্যায় বলা যায় না।
ছোট দুজনের ঘরের এলার্ম বাজতেই চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলতে থাকলো তাইফ বাবু।তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটেছে যার খেসারত পুরো গাজী পরিবারকে দিতে হবে এখন।এটা রোজকার ঘটনা।তাই সবার মুখস্থ এবং অভ্যস্ত।
রাতে গোসল করে তাহাজ্জুদ আদায় করে এরপর বিছানায় গা এলাতেই চোখ লেগে যায়। চোখ খুললোই মাত্র ছোট ছেলের কান্নার শব্দে।
আফিয়া বিছানা হাতড়ে হাতড়ে কোনভাবে উঠে বসলো।কেন জানি আজ ভীষণ ঘুম পাচ্ছে।কয়দিন ধরে একটু বেশিই খাটুনি যাচ্ছে।চোখটা ডান হাতে ঢলে পরিষ্কার করে নিলো। যেহেতু সবগুলো পর্দা ফেলে রাখা তাই ঘরটা অন্ধকার হয়েই আছে।সে উঠে অন্ধকারেই পর্দা গুলো সরিয়ে নিলো।জানালা খুলে দিলো।বাদ ফজরের বাতাসে নাকি জান্নাতের হাওয়া থাকে! তাই বোধহয় এই হাওয়ায় এত প্রশান্তি, এত স্নিগ্ধতা মিশে থাকে যা মানবকুলের দেহমনে ছেয়ে দেয় স্বর্গীয় সুখ।
বাইরে এখনো ততটা আলো ফুটেনি।না ফুটারই কথা।আজান পড়েছেই হয়তো কিছু সময় আগে।আফিয়া অন্ধকার দুর করতে সুইচে চাপ দিয়ে একটা স্বল্প আলোর বাতি জ্বালালো
আলোটা সরাসরি নাসিফের চোখে গিয়ে পড়তেই নাসিফ চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো।
“ ছেলেকে থামাও আগে।সবাই উঠে যাবে। ওরা ঘুমিয়েছেই তো বোধহয় একটু আগে!"
নাসিফ কথাটা শেষ করেই পাশ ফিরে শুয়ে রইলো।
“ যাচ্ছি!"
বলেই পিছু ফিরে তাকালো,নাসিফ পাশ ফিরে শুতেই আফিয়া ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,
“ কি ব্যাপার আপনি উঠছেন না কেন? নামাজের সময় কি বসে থাকে! আশ্চর্য!"
“ হুম,উঠছি তো!"
“ কখন উঠবেন? নামাজের সময় শেষ হলে?"
“ একটু পর; চোখ জ্বলছে!"
“ নামাজ কাযা হলে রাতে আমার কাছে আসবেন না!"
কথাটা টনিকের মতো কাজ করলো।চট করে চোখ মেললো। ততক্ষণে আফিয়া বাচ্চাদের ঘরে চলে গেল।নাসিফ যেহেতু অর্ধ কাত হয়ে শুয়েছিলো তাই টের পায়নি।
গায়ের থেকে পাতলা চাদরটা সরাতেই বুঝতে পারলো তার লুঙ্গি হাঁটুর কাছে। যেহেতু ঘুমের সময় লুঙ্গি পড়ারটা এখনও রপ্ত হয়নি তাই একটু আধটু লজ্জার মুখোমুখি সে এখনও হয়।
আফিয়া ঘরে গিয়ে দেখলো তার ছোট চান বড় চানের কাঁধের উপর মাথা রেখে দিব্যি ঘুমাচ্ছে। নাইফ ঘরময় হাটছে আর ভাইয়ের পিঠে চাপড় মেরে হাত বুলাচ্ছিলো।আর বিরবির করে কিছু পড়ছে। নিশ্চয়ই দোয়া পড়ছে।আফিয়া ছেলের দিকে তাকিয়ে মনে মনে দোয়া পড়লো।
“ উয়িযুকুম বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।"
অর্থ - সকল শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদনজর হতে তোমাদেরকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমাসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি। -কানজুল উম্মাল।
[দোয়াটি এক সন্তানের জন্য পড়লে 'উয়িযুকা', দুইজনের জন্য 'উয়িযুকুমা' আর দুইয়ের অধিক হলে 'উয়িযুকুম' বলতে হবে।]
“ ভাইকে ঘুম পাড়াচ্ছো কেন? মাদ্রাসা নিয়ে যেতে হবে না?"
ছেলেদের কাছাকাছি এসে কথাটা বললো আফিয়া।নাইফ মা'কে দেখে মিষ্টি করে হেসে সকাল শুরু করলো মায়ের উপর শান্তি বর্ষিত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করে,
“ আসসালামু আলাইকুম আম্মু!"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম বাবা!"
“ আজ তো হুজুর দেশের বাড়ি যাবে। কিছুদিন অন্য হুজুর পড়াবে।আর ঐ হুজুর অনেক মারে। খুবই ভয়ানক উনি।"
“ তো এমনিতে তো মারে না।
নিশ্চয়ই দুষ্টু বাচ্চাদেরকেই মারে!"
“ আমাদের বাবুও তো অনেক দুষ্টুমি করে,যদি ওকে মারে!"
“ মারবে বলে ভাইকে মাদ্রাসায় নিয়ে যাবে না। স্কুলে দিবে না। তাহলে ভাইকে আলমারিতে তুলে রাখো!
তোমার ভাইতো অতিশয় ভদ্র লোক হচ্ছে তাকে মানুষ অযথাই মারে!"
“ কয়দিন না গেলে কিছু হবে না।আমি পড়াবো ঘরে বসে!"
আফিয়া ভাবলো কিছু সময় ছেলেদের দিকে চেয়ে।নাইফের কথাটা ভালো লেগেছে। এমনিতেই ছোটজন মাদ্রাসা গিয়ে পড়ার চেয়ে বেশি বদমাইশি'ই করে। রোজ কিছু না কিছুর জন্য তাকে কথা শুনতে হয় হুজুরের থেকে।ঐ হুজুর তাও তো একটু আধটু বুঝিয়ে সুঝিয়ে পড়ায় কিন্তু এই হুজুর নাকি ভীষণ হাত চালায়।তার অতটুকু বাচ্চাকে মারবে! তার চেয়ে বরং নাইফ যদি নিজেই তার ছোট ভাইকে পড়ায় এতে করে ভালোই হয়।এতে করে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। নাইফের পড়ার প্রতি মনোযোগ বাড়বে কারণ বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে আর ছোট ভাই বোনকে পড়িয়ে নিজের পড়াশোনার ঝালাইও করিয়ে নিতে পারবে।
বড় ছেলের কথাটা মনে ধরলেও সে নিজেকে গম্ভীর আর কঠোর রেখেই বললো,
“ যা খুশি করো।আমি শুধু তোমার পড়াশোনা দেখতে চাই।"
“ পড়বো আম্মু মনোযোগ দিয়েই পড়বো।"
নাবীহা ওযু করে বেরিয়ে মা আর ভাইয়ের কথোপকথন দেখছে।আফিয়া মেয়ের দিকে তাকিয়ে রাশভারী গলায় বললো,
“ তাড়াতাড়ি নামাজে দাড়াও। আর হ্যা কোরআন শরীফ পড়ার সময় তোমার কন্ঠ জানি আমি ঘর থেকে পাই।"
“ হুম!"
নামাজ, ইবাদাতের সময় মা ভীষণ কঠোর হয়ে যায়।তা তারা জানে।তাই সবাই চুপচাপ মায়ের কথা শোনে। এদিকে তাইফ ভাইয়ের কাঁধেই ঘুমে বিভোর।নাইফ ভাইকে একটু দেখে বললো,
“ এখনই ঘুমাও শান্তি মতো।কয়দিন পর তোমারেও দিবে নে এভাবে!"
“ ভাইয়া ছোটুকে নাকি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিবে একেবারের জন্য!"
নাবীহা নিজের নামাজের হিজাবের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে নিয়ে বড় ভাইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে কথাটা বললো।নাইফ বোনের কথায় একটু কপাল কুঁচকে বললো,
“ সে দেখা যাবে যখনকার টা তখন।এখন তাড়াতাড়ি নামাজে দাঁড়া।সময় নাই!"
“ হুম!"
নাবীহা নামাজে দাঁড়ালো।নাইফ ভাইকে ভাইয়ের বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো।তাইফ যখন আড়াই বছরে পড়েছে তখনই তাকে এই ঘর ছাড়তে হয়েছে অবশ্য তার বিনিময়ে সে ঐ বড় সুন্দর গোছানো ঘরটা পেয়েছে যেটা এখন তার ব্যক্তিগত কামরা।যেটায় ঢুকতে গেলে তার বাবা মাও অনুমতি নেয়।
নামাজ শেষ করে নাসিফ কোরআন তেলাওয়াত করলো কিছু সময়। জায়নামাজ ভাঁজ করে নির্ধারিত স্থানে রাখলো অতঃপর বড় ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখলো আঙুলের কড়া গুনে গুনে কিছু পড়ছে।নাইফ প্রচুর আমল করে।এটাও সে নিজের মামার থেকে শিখছে।সালাহ্ সবসময় চেষ্টা করে ছোট ছোট আমল পালন করার।কারণ বিন্দু বিন্দু থেকেই সিন্দু হয়।
“ ছোট নাতী কই গাজী সাহেব?"
জিজ্ঞেস করলেন হুজুর বরকতুল্লাহ বারী হক।নাযীর আহমাদ নিজের কোরআন তেলাওয়াত থামিয়ে, পবিত্র গ্রন্থখানি বন্ধ করে বরকতুল্লাহ বারী হক হুজুরকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“ এইতো ঘুমাচ্ছে।বোঝেনই তো ছোট মানুষ!"
“ হ্যা।তাতো অবশ্যই। এতটুকু বাচ্চা পড়তে আসে তাই অনেক!"
“ হুজুর জানি আমার নাতীটা ভীষণ দুষ্টু। আপনাদের অনেক জ্বালায় তাই.. ।তাও বলছি,ও তো ছোট মানুষ! একটু বুঝিয়ে সুঝিয়ে পড়াবেন কষ্ট করে।
_আপনারা বিচার দেন,আমার বউমা মনে ভীষন কষ্ট পায় তার পর বাচ্চাটাকে মারে।!"
“ এমা কি বলেন! ও ছোট মানুষ।মারবে কেন?"
“ হুজুর আমরা ওকে মাদ্রাসায় ভর্তি করার আগেই ওর ব্যাসিক নলেজটা গড়ে তুলতে চাই তার জন্যেই মসজিদ আনি।তাই আমি বলছিলাম ওকে পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করার দরকার নেই।ওকে স্বাভাবিক সাধারণ ধারণা টুকু দিয়ে দেন যা দিয়ে নামাজ আদায় করতে পারে, আদবকায়দা জানে,দোয়া কিছু কিছু পাঠ করতে পারে!"
“ জ্বী আচ্ছা তেমন করেই করা হবে ইনশাআল্লাহ!"
নাসিফের কথায় হুজুর উত্তর করলো।
সকালের ইবাদত শেষ করতে করতে বেলা হয়ে যায়। অসুস্থ শ্বাশুড়ির জন্য নাস্তা তৈরি করতে হবে তাই দ্রুত রান্না ঘরে ঢুকে এতে করে ভুলে বসে নিজের ওষুধ খাওয়ার কথা।
নাসিফ ঘরে ঢুকে টুপি খুলে ওয়ারড্রবের উপরে রাখলো।আফিয়াও ঠিক তখনই ওয়ারড্রবের উপরে রাখা নিজের ওষুধের বক্স খুলে থারনরের প্যাকেট ছিঁড়ে ওষুধ বের করে মুখে দিতেই চোখ আটকালো জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিলে গিয়ে।পিলের পাতাট হাতে ধরে ভাবতে থাকলো কি করবে? নাসিফের রাতের বলা কথাটাও ভাবলো,ভাবতে ভাবতেই চোখ পড়লো তারই দিকে তাকিয়ে থাকা কাঙ্ক্ষিত পুরুষের দিকে।
নাসিফ স্বাভাবিক ভাবেই বললো,
“ খাও।আমি বাচ্চা চেয়েছি তার মানে এই না তাকে তোমাকেই জন্ম দিতে হবে। জন্ম দেওয়া ছাড়াও বাচ্চার মা বাবা হওয়া যায়।"
চলমান....







0 মন্তব্যসমূহ